ভোটের দিনে সারা দেশে পাঁচ ধরনের যান চলাচল বন্ধ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৪:০৮:৫০
ভোটের দিনে সারা দেশে পাঁচ ধরনের যান চলাচল বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে পাঁচ ধরনের যানবাহনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস এবং ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ভোট গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। ইসির মতে, ভোটের দিন যানজট, অননুমোদিত চলাচল ও নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ভোট গ্রহণের পরদিন শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

ইসি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন যেমন ওষুধ পরিবহন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা এবং সংবাদপত্র পরিবহনের যান চলাচল অব্যাহত রাখতে পারবে।

এছাড়া বিমানযাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। বৈধ বিমান টিকিট বা সংশ্লিষ্ট ভ্রমণপ্রমাণ দেখাতে পারলে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। একইভাবে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন এবং দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

নির্বাচনী কাজে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একটি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের জন্য পৃথকভাবে একটি করে গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এসব যানবাহনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন নিতে হবে এবং গাড়িতে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত স্টিকার দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেলও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন থাকলে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্যান্য ব্যক্তির মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে জরুরি সেবার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এবং আন্তজেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতেও যান চলাচলে সীমিত পরিসরে ছাড় থাকবে।

এদিকে ভোটারদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে গণপরিবহন ব্যবস্থায় স্বস্তির খবর দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি ভোটারদের চাপ সামাল দিতে ওইদিন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এই সমন্বিত যানবাহন নীতিমালা ভোটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ ভোটারদের চলাচল সহজ রাখতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


শূন্য পদে রিজভী নাকি অন্য কেউ: বিএনপিতে আলোচনার ঝড়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১০ ২১:৪৭:৩৬
শূন্য পদে রিজভী নাকি অন্য কেউ: বিএনপিতে আলোচনার ঝড়
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। দলটির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবিধান ও আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে দলীয় পদ ছাড়তে হতে পারে, যার ফলে শূন্য হতে যাওয়া মহাসচিব পদে আসার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হবেন—তা নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে জোর আলোচনা চলছে। এই পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে দলের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুঃসময়েও দলের মুখপাত্র হিসেবে অবিচল ভূমিকা পালনের কারণে হাইকমান্ডের আস্থায় রয়েছেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের ভাবনায় রিজভী আহমেদকে এই দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে এই পদের দৌড়ে সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির মতো হেভিওয়েট নেতাদের নামও শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী জানান যে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বিষয়ে তার কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই এবং কেউ এখনো তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেননি। দল তাকে যেভাবে মূল্যায়ন করবে, শীর্ষ নেতৃত্বের সেই সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন বলে জানান।

বিএনপির সবশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার নিয়ম থাকলেও নানা কারণে তা গত ১০ বছর ধরে স্থগিত রয়েছে। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দলের পরবর্তী কাউন্সিল আয়োজনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ওই কাউন্সিলেই দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হতে পারে। ততদিন পর্যন্ত সাংগঠনিক গতিশীলতা রক্ষায় কাউকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

/আশিক


এসএসসি পরীক্ষার খাতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে: শিক্ষা উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১০ ১৮:৩৬:০০
এসএসসি পরীক্ষার খাতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে: শিক্ষা উপদেষ্টা
ছবি: বাসস

সদ্য প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলাফল সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলের কৃত্রিমভাবে পাসের হার বা জিপিএ-৫ বাড়ানোর যে সংস্কৃতি ছিল, বর্তমান সরকার তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার গঠনের মাত্র দুই মাস পর গত ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। এবারই প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রে সিসিটিভি ও বডি-ওন ক্যামেরার মাধ্যমে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছিল। খাতার মূল্যায়ন হয়েছে শতভাগ নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে। তাই এই ফলাফলই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অর্জনের প্রতিফলন। বিগত ১৬ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থার যে ক্ষতি হয়েছে তা রাতারাতি মেরামত সম্ভব না হলেও, আত্মনির্ভরশীলতা ও কর্মসংস্থানমুখী আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যক্রমে পরিমার্জনের অংশ হিসেবে নতুন চারটি বই যুক্ত করার তথ্যও তিনি নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা উপদেষ্টা ভালো ফলাফল অর্জনকারীদের পাশাপাশি ঘাটতি থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

/আশিক


বিগত ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর বড় ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১০ ১৮:২৫:৩৭
বিগত ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১৮ বছরের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রাম, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা বীরের মর্যাদা পাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তিনি জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বিগত ১৮ বছরে নির্যাতিত সকলেই সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত হবেন, স্বীকৃতি পাবেন এবং ভাতা সুবিধা লাভ করবেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইনজীবীদের ওপর নির্যাতন’ শীর্ষক এক প্রামাণ্যচিত্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্থগিত হয়ে যাওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’ গেজেট প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পুনরায় আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল ৩৬ দিনের ফসল নয়, বরং এটি দীর্ঘ ১৮ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন, রাজপথের ত্যাগ, হামলা-মামলা ও গুম-খুনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চূড়ান্ত পরিণতি।

সরকারের সংস্কারমূলক কার্যক্রম প্রসঙ্গে আহমেদ আযম খান বলেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিএনপির তারেক রহমানের নির্দেশে দলটি প্রথম দল হিসেবে ঐতিহাসিক 'জুলাই সনদে' স্বাক্ষর করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলেও বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় পিপি ওমর ফারুক ফারুকীসহ আইনজীবী সমিতির শীর্ষ ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


শেখ হাসিনা ও হাদি হত্যাকারীদের দ্রুত প্রত্যর্পণের তাগিদ দিল বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১০ ১৮:০৭:১১
শেখ হাসিনা ও হাদি হত্যাকারীদের দ্রুত প্রত্যর্পণের তাগিদ দিল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

দায়িত্ব গ্রহণের দেড় মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিভিন্ন দিক ও আলোচনার বিষয়বস্তু গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার দাবি জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে, এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় ভারত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাবে। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারত সরকার যেসব নথিপত্র চেয়েছিল তা আগেই হস্তান্তর করা হয়েছে। হাদি ইস্যুটিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে অভিহিত করে গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন খুনিদের দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের কাছে সোপর্দ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার দেওয়া ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যের কড়া জবাব ও প্রতিবাদ প্রসঙ্গেও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি মন্তব্য করেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া ছিল বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি সরাসরি অবমাননা। ভারত সরকার যাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করতে পেরেছে বলে আশ্বস্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সর্বোপরি, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে নিতে একটি সহায়ক ও শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ২২:০৬:২৬
বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত কিছুদিন ধরে একটি পক্ষ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। তিনি জানান, বিএনপি সরকার শিগগিরই জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করবে। এ সময় বিরুদ্ধ মতাদর্শীদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দিয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পার হওয়ায় এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই; বরং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী সরকারের নানা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে জানান, চলতি আগস্ট মাসের ১৬ তারিখ থেকে 'ফ্যামিলি কার্ড'-এর মূল কাজ শুরু হবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ নারী এই সুবিধা পাবেন, যার মধ্যে কেবল বাঁশখালীতেই ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার অন্তর্ভুক্ত হবে। পাশাপাশি সাধারণ কৃষক ও লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে লবণ চাষীদের জন্য 'কৃষক কার্ড' চালুর সুবিধাও শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, মহেশখালী, মাতারবাড়ী ও মীরসরাইকে ঘিরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানা হচ্ছে এবং চিনের জন্য নির্ধারিত বিশেষ অঞ্চলে শত শত কারখানা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তিনি বিগত সরকারের সময়ের বিদ্যুৎ খাতের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত সংস্কার করে আগামী ১০ বছরের জ্বালানি রূপরেখা সংসদে তোলার ঘোষণা দেন এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সকল ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম থেকে অর্থ ও স্বরাষ্ট্রের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় অধিবাসীদের দেশের উন্নয়ন যাত্রায় সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বিএনপির মূল শক্তি জনগণ উল্লেখ করে বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শক্তিশালী কর্মশক্তিতে রূপান্তর করা, যেন প্রত্যেকে নিজ পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী, মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন এবং তাদের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণ করেন।

/আশিক


দেশ পরিচালনায় পূর্ণ সততা নিশ্চিতে হেফাজত আমিরের দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৮:৪১:৪৫
দেশ পরিচালনায় পূর্ণ সততা নিশ্চিতে হেফাজত আমিরের দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সোয়া চারটায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী মাদরাসায় পৌঁছালে হেফাজতে ইসলামের আমির এবং তাঁর ছেলে ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সাক্ষাতের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী হেফাজত আমিরকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর তিনি প্রবীণ এই আলেম ও ধর্মীয় নেতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

বৈঠকে দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ অধিকার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে, তবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে ইসলামকে তার নিজস্ব মহিমায় এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা অতীতে দেশকে ভিন্ন আদর্শ ও নেতিবাচক অভিমুখে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তারা গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মহলে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশের এই ক্রান্তিকালে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ পরিচালনার এই গুরুদায়িত্ব যেন পূর্ণ সততা ও ঈমানের সঙ্গে পালন করতে পারেন, সে জন্য তিনি হেফাজত আমিরের দোয়া ও পরামর্শ কামনা করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


৪১ লাখ মা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, বাঁশখালীতে গৃহহীনদের ঘর দিল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৭:৫৯:০৩
৪১ লাখ মা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, বাঁশখালীতে গৃহহীনদের ঘর দিল সরকার
ছবি : কালের কণ্ঠ

চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই ফ্যামিলি কার্ড পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং গৃহহীন ১০০টি পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই এই ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং মায়েদের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথা উল্লেখ করে জানান, বাঁশখালীর লবণ চাষিরাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন। ইতিমধ্যে লবণের সুনির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আসবে। এছাড়া বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করারও ঘোষণা দেন তিনি।

সামুদ্রিক সম্পদকে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী থেকে মীরসরাই পর্যন্ত শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনকে দেওয়া জায়গায় শত শত শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এতে করে বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং বেকারত্ব দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নে আগামী ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দ্রুতই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এই খাত নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারও গঠনমূলক বা বিকল্প কোনো চিন্তা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, এখন আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই; কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

উক্ত মতবিনিময় ও চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারার সংসদ সদস্য সাওয়াব জামান নিজাম ও বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরিসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়েছে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার: সালাহউদ্দিন আহমদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ১৯:২৬:২৫
রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়েছে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বয়ান তৈরি করে চলেছেন, তার দায় নয়াদিল্লি এড়াতে পারে না।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাব-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শেখ হাসিনার নির্দেশে জুলাই অভ্যুত্থানে নারী ও শিশুসহ ১৪ শতাধিক মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে গণহত্যা চালানোর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দণ্ডিত হয়ে ও ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেলেও তাঁর মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা কাজ করছে না। বরং অভ্যুত্থানকারীদের ঢালাওভাবে ‘জঙ্গি’ হিসেবে চিত্রায়িত করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। একজন দণ্ডিত অপরাধীকে ভারতে বসে বারবার বিশ্ব গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভারতের সাথে সম্পর্কের নীতি স্পষ্ট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুভাবাপন্ন প্রতিবেশী সম্পর্ক এবং পারস্পরিক মর্যাদায় বিশ্বাসী। তবে নিজস্ব ভূখণ্ড ও জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো অসৌহার্দ্যপূর্ণ কিংবা দাসত্বসুলভ সম্পর্ক ধরে রাখার পক্ষপাতী বিএনপি নয়। নিজ স্বার্থ বিকিয়ে কোনো সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

/আশিক


টিএফআই সেলে সালাহউদ্দিনকে নির্যাতন: চূড়ান্ত চার্জশিটের পথে ট্রাইব্যুনাল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ১৯:১৯:১৫
টিএফআই সেলে সালাহউদ্দিনকে নির্যাতন: চূড়ান্ত চার্জশিটের পথে ট্রাইব্যুনাল
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে গুম ও নির্যাতনের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সেনাকর্তা জিয়াউল আহসানসহ তৎকালীন র‍্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তদন্ত শেষ করে আসামীদের বিচারে সোপর্দ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ইতোমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং খুব শিগগিরই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি নেওয়া হবে। তদন্ত চলাকালে র‍্যাবের গোপন বন্দিশালা ‘টিএফআই সেল’-এ তাঁকে দুই মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সাথে গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা ও আইনজীবী সোহেলের জবানবন্দিতেও সালাহউদ্দিন আহমেদকে গুম করে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ জুন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, বরখাস্তকৃত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি আবাসিক এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমেদকে তুলে নেওয়া হয়। এর দীর্ঘ দুই মাস পর, অর্থাৎ ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলং থেকে উদ্ধারের কথা জানায় স্থানীয় পুলিশ। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে এবং ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগেও সালাহউদ্দিন আহমেদ ওই মামলা থেকে নির্দোষ খালাস পান। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ট্রাভেল পাস পেয়ে ১১ আগস্ট তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: