ভোটের দিনে সারা দেশে পাঁচ ধরনের যান চলাচল বন্ধ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৪:০৮:৫০
ভোটের দিনে সারা দেশে পাঁচ ধরনের যান চলাচল বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে পাঁচ ধরনের যানবাহনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস এবং ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ভোট গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। ইসির মতে, ভোটের দিন যানজট, অননুমোদিত চলাচল ও নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ভোট গ্রহণের পরদিন শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

ইসি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন যেমন ওষুধ পরিবহন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা এবং সংবাদপত্র পরিবহনের যান চলাচল অব্যাহত রাখতে পারবে।

এছাড়া বিমানযাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। বৈধ বিমান টিকিট বা সংশ্লিষ্ট ভ্রমণপ্রমাণ দেখাতে পারলে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। একইভাবে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন এবং দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

নির্বাচনী কাজে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একটি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের জন্য পৃথকভাবে একটি করে গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এসব যানবাহনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন নিতে হবে এবং গাড়িতে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত স্টিকার দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেলও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন থাকলে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্যান্য ব্যক্তির মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে জরুরি সেবার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এবং আন্তজেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতেও যান চলাচলে সীমিত পরিসরে ছাড় থাকবে।

এদিকে ভোটারদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে গণপরিবহন ব্যবস্থায় স্বস্তির খবর দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি ভোটারদের চাপ সামাল দিতে ওইদিন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এই সমন্বিত যানবাহন নীতিমালা ভোটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ ভোটারদের চলাচল সহজ রাখতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


এমপিও শিক্ষকদের অবসরে যুগান্তকারী আইন সংশোধন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৩:৫৮:৪৭
এমপিও শিক্ষকদের অবসরে যুগান্তকারী আইন সংশোধন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লাখ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনে গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী সংশোধনী এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অবসর সুবিধা প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও তহবিল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই নতুন অধ্যাদেশকে শিক্ষা খাতে একটি কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গতকাল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অধ্যাদেশটি প্রকাশের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে ২০০২ সালের মূল আইনের সংজ্ঞা ও আওতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সংশোধিত আইনের ২ ধারায় ‘প্রতিষ্ঠান’ শব্দের সঙ্গে স্পষ্টভাবে ‘এমপিওভুক্ত’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে আইনটির প্রযোজ্যতা নিয়ে যে দ্ব্যর্থতা ছিল, তা দূর হয়েছে। এর পাশাপাশি কলেজ, দাখিল ও তদূর্ধ্ব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসাকেও প্রথমবারের মতো এই অবসর সুবিধা কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন বঞ্চিত একটি বড় অংশের শিক্ষক-কর্মচারী আইনি সুরক্ষা পেলেন।

অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালনা কাঠামোতেও আনা হয়েছে মৌলিক পরিবর্তন। সংশোধিত আইনে বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ–এর সচিবকে চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর–এর মহাপরিচালককে ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করার চেষ্টা করা হয়েছে।

পরিচালনা পরিষদে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে আইনের ৬(১)(ড) ধারায়। এতে একজন পরিচালক রাখার বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যিনি পদাধিকারবলে বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার মনোনীত ১১ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারীকেও বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে, যাদের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর।

শিক্ষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় অধ্যাদেশে যুক্ত হয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবধর্মী বিধান। এতে বলা হয়েছে, কোনো প্রশাসনিক বা আইনি কারণে যদি অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন করা সম্ভব না হয়, তবে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের পাওনা অবসর সুবিধা প্রদান করা যাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি অবসর সুবিধা নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা কমাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন।

আইনগত ভাষায় আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশে অবসর সুবিধা ‘প্রদান’ শব্দের পরিবর্তে ‘অনুমোদন’ শব্দের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অর্থ ছাড়ের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশ্লেষকেরা।

তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অধ্যাদেশে কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বোর্ডের স্থায়ী তহবিল সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া অন্য কোথাও বিনিয়োগ করা যাবে না। এই অর্থ কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, সরকারি বন্ড অথবা ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করা যাবে এবং বোর্ডের অন্য কোনো কার্যক্রমে এই তহবিল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তহবিল পরিচালনার বিস্তারিত পদ্ধতি পৃথক প্রবিধানের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

সংশোধিত আইনের ১২(২) ধারায় বোর্ডের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রে একজন পরিচালকের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার কর্তৃক প্রেষণে নিযুক্ত এই পরিচালক বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তহবিল ব্যবস্থাপনার প্রধান দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে সরকার অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিধানও রাখা হয়েছে।

-রাফসান


১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে যা জানা জরুরি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৩:৪৭:২৯
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে যা জানা জরুরি
ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে এখন নির্বাচনী উত্তেজনা চরমে। শহর থেকে গ্রাম, অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সবখানেই চোখে পড়ছে প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ডিজিটাল প্রচারণা। কোথাও লিফলেট বিতরণ, কোথাও পথসভা, আবার কোথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার। কে কত প্রতিশ্রুতি দিতে পারে এবং কে কতটা দৃশ্যমান হতে পারে—এ নিয়ে চলছে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা। এই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

নির্বাচনের আর মাত্র এক দিন বাকি। কিন্তু ভোটের আগের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনেক ভোটারের মধ্যেই একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়ে গেছে—নিজের ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর কি জানা আছে? বাস্তবতা হলো, অনেকেই মনে করেন জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরই ভোটার নম্বর। অথচ এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। এনআইডি নম্বর ও ভোটার নম্বর এক নয়; দুটি আলাদা পরিচিতি। ভোটার নম্বর জানা না থাকলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নাম খুঁজে পেতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে, যা শেষ মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

এই সমস্যা এড়াতে ভোটারদের জন্য সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর কয়েকটি ব্যবস্থা চালু রেখেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ভালো খবর হলো, ভোটার নম্বর বা ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে কাউকে আর অফিসে যেতে হবে না। ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে চারটি নির্ভরযোগ্য উপায়ে এসব তথ্য জানা সম্ভব।

প্রথমত, ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা খুব সহজেই নিজেদের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা প্লে স্টোর এবং আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপস স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে পারবেন। অ্যাপে প্রবেশ করে ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ নির্বাচন করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিলে পর্দায় ভেসে উঠবে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের পূর্ণ ঠিকানা।

দ্বিতীয় উপায় হিসেবে রয়েছে হটলাইন সেবা। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ভোটাররা ১০৫ নম্বরে কল করে ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ ক্ষেত্রেও ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রয়োজন হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই হটলাইন সেবা চালু থাকবে।

তৃতীয় পদ্ধতিটি আরও সহজ এসএমএসের মাধ্যমে। মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC লিখে একটি স্পেস দিয়ে এনআইডি নম্বর লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।

চতুর্থ এবং সবচেয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার মাধ্যম হলো নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট। যেকোনো ব্রাউজার থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করলে দুটি পদ্ধতিতে তথ্য খোঁজা যাবে। একদিকে নির্বাচনি এলাকা ও উপজেলা বা থানা নির্বাচন করে কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে, অন্যদিকে এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে সরাসরি অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর ও নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যাবে। চাইলে গুগল ম্যাপে কেন্দ্রের অবস্থানও দেখে নেওয়া সম্ভব।

সব মিলিয়ে, ভোটের দিন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আগেভাগেই ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্র জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের এই ডিজিটাল ও হটলাইনভিত্তিক উদ্যোগ ভোটারদের সময় বাঁচাবে, ভোগান্তি কমাবে এবং নির্বাচনকে আরও সুশৃঙ্খল করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


১২ কোটি ভোটারের মহোৎসব: এক নজরে নির্বাচনের নিয়ম ও প্রস্তুতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১১:১০:৩৯
১২ কোটি ভোটারের মহোৎসব: এক নজরে নির্বাচনের নিয়ম ও প্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোটাররা যেন কোনো জটিলতা ছাড়াই তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী ও তথ্য নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

ভোটের সময়সূচি

আগামী বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানার উপায়

ভোট দিতে যাওয়ার আগে সঠিক ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর জেনে নেওয়া জরুরি। এটি জানার তিনটি সহজ মাধ্যম রয়েছে

১. স্মার্ট অ্যাপ: গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপল স্টোর থেকে ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে সহজেই তথ্য পাওয়া যাবে।

২. হটলাইন ১০৫: ১০৫ নম্বরে কল করে এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রদান করলে অপারেটর আপনার কেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেবেন।

৩. এসএমএস পদ্ধতি: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC NID লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে কেন্দ্রের নাম ও ক্রমিক নম্বর পাওয়া যাবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

ভোট দিতে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখা ভালো, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। ভোটার তালিকায় আপনার নাম ও ছবি থাকলে এবং পোলিং অফিসার পরিচয় নিশ্চিত হতে পারলে আপনি ভোট দিতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে, দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ভোট দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি

১. পরিচয় নিশ্চিত: কেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার নাম ও ক্রমিক নম্বর মিলিয়ে দেখবেন এবং আপনার আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন।

২. ব্যালট সংগ্রহ: প্রিসাইডিং অফিসার আপনাকে দুটি আলাদা ব্যালট পেপার দেবেন (একটি সংসদ নির্বাচনের এবং অন্যটি গণভোটের)। ব্যালটের পেছনে অফিশিয়াল সিল ও স্বাক্ষর আছে কি না তা অবশ্যই দেখে নিন।

৩. সিল প্রদান: গোপন কক্ষে গিয়ে ব্যালটে আপনার পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বক্সে রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্ট করে সিল দিন।

৪. ব্যালট ভাঁজ: সিল দেওয়ার পর ব্যালটটি এমনভাবে লম্বালম্বি ভাঁজ করুন যেন সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকে না লাগে।

৫. বাক্সে নিক্ষেপ: ভাঁজ করা ব্যালট দুটি নির্ধারিত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করুন।

এবারের নির্বাচনের বিশেষ তথ্য

এবারের নির্বাচনে কোনো ইভিএম (EVM) ব্যবহার করা হচ্ছে না; ভোট হবে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে। সারা দেশে ২৯৯টি আসনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে তাদের রায় দেবেন। মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে এই ভোটে।


ভোটের দুই দিন আগে বড় চমক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ০৯:৫৭:১৩
ভোটের দুই দিন আগে বড় চমক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দুই দেশের মধ্যে পালটা শুল্কহার কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এখন থেকে আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু (সিন্থেটিক ফাইবার) দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘রেসিপ্রোকল’ বা পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০টায় এই যুগান্তকারী চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ঢাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে চুক্তিতে সই করেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার। ওয়াশিংটনে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে এই ভার্চুয়াল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আরও যুক্ত ছিলেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্কহার ছিল অন্যতম প্রধান বাধা। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও তন্তুর ওপর বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামো নিয়েও ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। নতুন এই চুক্তির ফলে এখন থেকে বাংলাদেশ যদি মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করে, তবে তা সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমেরিকার বাজারে রপ্তানি করা যাবে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পালটা শুল্কহার ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং নির্দিষ্ট কাঁচামালের তৈরি পোশাকে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাওয়া বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এটি কেবল রপ্তানি আয় বাড়াবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই চুক্তিকে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ২০২৬ সালের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


ব্যয়ের ভারে ভারী নির্বাচন: বিগত সব রেকর্ড ভাঙল এবারের বাজেট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ০৯:৫০:০৬
ব্যয়ের ভারে ভারী নির্বাচন: বিগত সব রেকর্ড ভাঙল এবারের বাজেট
ছবি : সংগৃহীত

এক দিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এবারের নির্বাচন পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যা দুই বছর আগের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের চেয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকা বেশি। ধাপে ধাপে এই অর্থ ছাড় করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশাল অঙ্কের এই বাজেট নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গণভোটের জন্য ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর যথাযথ প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দাবি, আয়োজনের ব্যাপ্তি ও ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় এই ব্যয় খুব বেশি নয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা পৌনে ১৩ কোটি। তাঁদের ভোট গ্রহণের জন্য সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার কেন্দ্রে ২ লাখ ৫০ হাজার ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার প্রবর্তনও বাজেটে প্রভাব ফেলেছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজেটের সিংহভাগ অর্থাৎ ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের জন্য ২৫ হাজার ৭০০ বডি ওর্ন ক্যামেরা কেনা হয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৮ হাজার কেন্দ্রে নজরদারি করা সম্ভব হবে। এছাড়া ১২৩টি দেশে অবস্থানরত ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন প্রবাসী ভোটারের জন্য পোস্টাল ব্যালট বাবদ মাথাপিছু ৭০০ টাকা করে খরচ ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে ভোটারপ্রতি গড় মাথাপিছু ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২৬৪ টাকা।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, গণভোট, সংসদ নির্বাচন এবং নতুন আইটি সাপোর্টের কারণে আয়োজনের পরিধি অনেক বড়, তাই কমিশন ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ব্যয়ই করছে। তবে বিশ্লেষকরা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, প্রার্থী ও গণভোটের বিষয় একই ব্যালটে রাখা গেলে খরচ অনেকাংশে কমানো যেত। গত ২৫ বছরে দেশে নির্বাচনী ব্যয় ৪৩ গুণ বাড়লেও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে ব্যয় কমানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইসির জনসংযোগ পরিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে এবং মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৯৪ জন। পাবনা-১, পাবনা-২ এবং শেরপুর-৩—এই তিনটি আসনে ভোট স্থগিত থাকলেও বাকি ২৯৭টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের মাঠ পর্যবেক্ষণে থাকছেন প্রায় ৫৫ হাজার দেশি এবং ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকছেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন আরও সাড়ে ৯ লাখ সদস্য।


শেষ হলো ভোটযুদ্ধ: প্রচার শেষে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ মেলাচ্ছেন প্রার্থীরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ০৯:৩৫:৫২
শেষ হলো ভোটযুদ্ধ: প্রচার শেষে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ মেলাচ্ছেন প্রার্থীরা
ছবি : সংগৃহীত

ভোটার ও প্রার্থীদের বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং পাল্টাপাল্টি নানা অভিযোগের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। প্রচার শেষে এখন প্রার্থীরা জয়-পরাজয়ের শেষ সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার নির্বাচনপূর্ব জরিপ ও মাঠের চিত্র অনুযায়ী, অধিকাংশ আসনেই প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নানা অভিযোগ নিয়ে হাজির হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল সোমবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অতিরিক্ত ফোর্স হিসেবে বিএনসিসি মোতায়েনের প্রস্তাব দেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও ইসিতে বিভিন্ন অভিযোগ দাখিল করেছেন। অন্যদিকে, ইসিও আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সারা দেশে ৪৬১টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ২৫৯টি মামলা দায়ের এবং ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু করতে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে ইসি। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার বা বাসিন্দা ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ওই এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। একই সঙ্গে এই সময়ে কোনো প্রকার মিছিল, শোডাউন বা জনসভা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভোটের দিন তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে ইসি। শুরুতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন এবং এতে কোনো সমস্যা হবে না।

এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির বিশেষ ব্যবহার হিসেবে বিমান বাহিনীর ড্রোনের মাধ্যমে সারা দেশের ভোটের পরিস্থিতি লাইভ পর্যবেক্ষণ করবে ইসি এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি ও র‍্যাব তাদের নিজস্ব ড্রোন মোতায়েন করবে। এছাড়া ভোটগ্রহণের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর প্রদত্ত ভোটের হার আপলোড করার জন্য রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই সময়ে দেশজুড়ে টেলিযোগাযোগ সেবা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


আজই শেষ ব্রিফিং হতে পারে: শফিকুল আলম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৭:৫০:৪৫
আজই শেষ ব্রিফিং হতে পারে: শফিকুল আলম
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক শেষে গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিং করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম মন্তব্য করেছেন যে সম্ভবত এটিই তাঁদের শেষ ব্রিফিং।

শফিকুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন যে গত ১৮ মাসে সরকার সব সময়ই প্রতিটি খবর যত দ্রুত সম্ভব সংবাদকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে সরকারের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি কী ছিল তা সময়মতো গণমাধ্যমকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তথ্য প্রচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রেস সচিব জানান যে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে সরকারের সব ধরনের তথ্য অত্যন্ত নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে এমন কোনো খবর নেই যা প্রেস উইং শেয়ার করেনি। তিনি আরও দাবি করেন যে সব মিলিয়ে এই ফেসবুক পেজটি অন্তত ২০ কোটি বার ভিউ হয়েছে যা সরকারের তথ্য প্রচারের ব্যাপকতাকে ফুটিয়ে তোলে।

প্রেস ব্রিফিংগুলোতে সাংবাদিকদের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন যে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনগুলোতে সাংবাদিকদের যত জিজ্ঞাসা ছিল তার সবটুকুই তাঁরা গ্রহণ করেছেন এবং উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

একই ব্রিফিংয়ে প্রেস উইংয়ের আরেক সদস্য আজাদ মজুমদার সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে তাঁরা সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন এবং বিনিময়ে সাংবাদিকদের থেকেও পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে আগামী সপ্তাহে তাঁরা হয়তো টেবিলের ওপাড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গেই থাকবেন।

প্রেস উইংয়ের অন্য সদস্য ফয়েজ আহমদ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন যে বিগত দিনগুলোতে তাঁরা এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন এবং সর্বদা সাংবাদিকদের খুব কাছ থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন যে তাঁদের কোনো আচরণে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে তাঁরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন।


নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ইসি: সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সুখবর 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৭:৩৩:০১
নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ইসি: সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সুখবর 
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.)। আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে সাংবাদিকদের নির্বাচনী বুথ পরিদর্শনকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ইসি সানাউল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন যে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বেন না। তাঁর এই বক্তব্য সাংবাদিক মহলের মনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল যে কেবল প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এবং নির্দিষ্ট দুইজন আনসার সদস্য (অ্যাপ ব্যবহারের জন্য) মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।

এই কঠোর নির্দেশনার ফলে প্রার্থী ও বিশেষ করে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে সাংবাদিক মহলের ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।

উপস্থিত সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে ইসি সানাউল্লাহ আরও জানান যে মোবাইল ফোন বহনে যে নিষেধাজ্ঞার কথা আগে বলা হয়েছিল, তা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে শিথিল করা হবে। দ্রুতই এই বিষয়ে একটি নতুন ও সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


নির্বাচন ও গণভোট: ফল প্রকাশের দিন জানাল নির্বাচন কমিশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১২:২১:৫৭
নির্বাচন ও গণভোট: ফল প্রকাশের দিন জানাল নির্বাচন কমিশন
ফাইল ছবি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ফলাফল প্রকাশের সময় নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য হলো—এবার ফল ঘোষণা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা হবে না এবং নির্বাচনের পরদিন শুক্রবারের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি, প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, শুরুতে নির্বাচনকে ঘিরে যেসব শঙ্কা, প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা ছিল, তা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা গেছে। কমিশন এখন আত্মবিশ্বাসী যে নির্ধারিত দিনে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।

একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফলাফল প্রকাশে তিন দিন বা তার বেশি সময় লাগতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ধারণার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থা, একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং কেন্দ্র থেকে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতার কারণে ফলাফল দ্রুত সমন্বয় ও ঘোষণা করা যাবে। তবে দেশের কিছু দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কয়েকটি কেন্দ্রের ফল পেতে সামান্য বিলম্ব হতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেন। কিন্তু সেটি সামগ্রিক ফল ঘোষণায় বড় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার জানান, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মাঠে থাকবে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং নির্বাচন কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমন্বিতভাবে পুরো নির্বাচন পরিচালিত হবে।

নির্বাচনের দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রতিটি আসনে একাধিক মনিটরিং টিম কাজ করবে বলে জানান তিনি। এসব টিম প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে পরিস্থিতির আপডেট পাঠাবে। যেসব ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে যেকোনো অভিযোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়।

এ ছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ঠেকাতে একটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল’ সক্রিয় থাকবে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার। এই সেল অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই করে দ্রুত সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: