বহিষ্কারের পর আবারও চাপে মঞ্জুরুল মুন্সী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৩:২৩:৩০
বহিষ্কারের পর আবারও চাপে মঞ্জুরুল মুন্সী
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী–কে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে হুমকির অভিযোগ ওঠার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার মধ্যে লিখিত বক্তব্যসহ কমিটির সামনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে তাকে।

কমিটির এই নির্দেশ জারি করেন কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ তাফরিমা তাবাসুম। গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্দেশ প্রদান করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য বিচারিক কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়, তার বক্তব্য নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থী এবং ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ভিডিও বক্তব্যকে ঘিরে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জেলাজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।

শুনানির পর নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করে। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। পরবর্তীতে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেও প্রার্থিতা পুনর্বহাল করতে পারেননি। ১ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তার আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে যায় তার।

বর্তমানে তিনি বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিনের (ট্রাক প্রতীক) পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগ ও বিচারিক কমিটির তলব নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নির্বাচনি আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন নির্বাচনকালীন পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

-রাফসান


নাহিদ থেকে সার্জিস-হাসনাত: জানুন এনসিপি নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১১:১৬:৩৯
নাহিদ থেকে সার্জিস-হাসনাত: জানুন এনসিপি নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন 
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। এরই মধ্যে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে এবং আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন। নির্বাচনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে দলটি। মঙ্গলবার রাতে এনসিপি মিডিয়া সেলের এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডা এলাকায় অবস্থিত একেএম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন ভোট দিতে যাবেন নিজ জেলা রংপুরে; তিনি কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের ভায়েরহাট কেন্দ্রে ভোট দেবেন। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে পরিচিত সার্জিস আলম পঞ্চগড়ের বামনকুমার রাখালদেবীহাট হাইস্কুল কেন্দ্রে এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লার গোপালনগর হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার সকাল সাড়ে ৭টায় নরসিংদীর ঘোড়াশাল পাইলট স্কুলে এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সকাল ৯টায় রাজধানীর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলে ভোট দেবেন। এ ছাড়া আব্দুল হান্নান মাসউদ হাতিয়ার বুড়িরচর শহীদ আলী আহমেদ মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ে এবং ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী জাভেদ রাসিন খিলগাঁওয়ের মারকাজুল উলুম মাদ্রাসায় ভোট দিতে যাবেন বলে জানা গেছে। এনসিপির এই তরুণ নেতাদের ভোটদান নিয়ে সাধারণ ভোটার এবং জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা না কি লাঙল? লালমনিরহাট-২ এ কার ভাগ্য খুলবে 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১১:০৪:২১
ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা না কি লাঙল? লালমনিরহাট-২ এ কার ভাগ্য খুলবে 
ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী ও কালীগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের অংশগ্রহণে লড়াই বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক উদ্দীপনা। প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকে প্রচার-প্রচারণা শেষ করে এখন ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য প্রহর গুনছেন।

লালমনিরহাট-২ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ রোকন উদ্দীন বাবুল।

তাঁর সাথে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর লালমনিরহাট জেলা সেক্রেটারি মোঃ ফিরোজ হায়দার, যিনি লড়ছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির হয়ে লাঙল প্রতীকে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোঃ এলাহান উদ্দিন।

এই তিন প্রার্থীর লড়াইকে কেন্দ্র করেই মূলত আদিতমারী ও কালীগঞ্জ এলাকায় নির্বাচনী সমীকরণ আবর্তিত হচ্ছে।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ মাহফুজুর রহমান হাতপাখা প্রতীক

সিপিবির নিমাই চন্দ্র রায় কাস্তে প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোঃ মমতাজ আলী মোটর সাইকেল প্রতীক

জনতার দলের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ শামীম কামাল কলম প্রতীক নিয়ে চমক দেখানোর চেষ্টা করছেন।

এই বিচিত্র ধারার প্রার্থীদের উপস্থিতি লালমনিরহাট-২ আসনের নির্বাচনকে একটি বহুমাত্রিক রূপ দিয়েছে। সাধারণ ভোটাররা এখন তাদের এলাকার উন্নয়ন এবং আগামীর নেতৃত্বের প্রশ্নে এই প্রার্থীদের মধ্য থেকেই যোগ্য একজনকে বেছে নিতে প্রস্তুত।


ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা না কি লাঙল? লালমনিরহাট-২ এ কার ভাগ্য খুলবে 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১১:০৪:২১
ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা না কি লাঙল? লালমনিরহাট-২ এ কার ভাগ্য খুলবে 
ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী ও কালীগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের অংশগ্রহণে লড়াই বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক উদ্দীপনা। প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকে প্রচার-প্রচারণা শেষ করে এখন ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য প্রহর গুনছেন।

লালমনিরহাট-২ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ রোকন উদ্দীন বাবুল।

তাঁর সাথে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর লালমনিরহাট জেলা সেক্রেটারি মোঃ ফিরোজ হায়দার, যিনি লড়ছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির হয়ে লাঙল প্রতীকে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোঃ এলাহান উদ্দিন।

এই তিন প্রার্থীর লড়াইকে কেন্দ্র করেই মূলত আদিতমারী ও কালীগঞ্জ এলাকায় নির্বাচনী সমীকরণ আবর্তিত হচ্ছে।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ মাহফুজুর রহমান হাতপাখা প্রতীক

সিপিবির নিমাই চন্দ্র রায় কাস্তে প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোঃ মমতাজ আলী মোটর সাইকেল প্রতীক

জনতার দলের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ শামীম কামাল কলম প্রতীক নিয়ে চমক দেখানোর চেষ্টা করছেন।

এই বিচিত্র ধারার প্রার্থীদের উপস্থিতি লালমনিরহাট-২ আসনের নির্বাচনকে একটি বহুমাত্রিক রূপ দিয়েছে। সাধারণ ভোটাররা এখন তাদের এলাকার উন্নয়ন এবং আগামীর নেতৃত্বের প্রশ্নে এই প্রার্থীদের মধ্য থেকেই যোগ্য একজনকে বেছে নিতে প্রস্তুত।


রংপুর-১ আসনে প্রার্থীদের জমজমাট লড়াই: কার দখলে যাবে আসনটি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১০:৫৭:৫৭
রংপুর-১ আসনে প্রার্থীদের জমজমাট লড়াই: কার দখলে যাবে আসনটি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এই আসনে একাধিক দল ও ভিন্ন মতাদর্শের প্রার্থীদের অংশগ্রহণে নির্বাচনী লড়াই বেশ জমে উঠেছে। ভোটারদের সামনে এবার অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে যা নির্বাচনী মাঠকে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলেছে।

এই আসনে জাতীয় পার্টির হয়ে লাঙল প্রতীকে লড়ছেন মোঃ মঞ্জুম আলী

বিএনপির হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোঃ মোকাররম হোসেন সুজন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ রায়হান সিরাজী লড়ছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এ টি এম গোলাম মোস্তফা হাতপাখা প্রতীক

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোঃ আনাস চেয়ার প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে আহসানুল আরেফিন কাঁচি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন।

সাধারণ ভোটাররা এখন এই প্রার্থীদের মধ্য থেকেই তাদের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

নির্বাচনী মাঠের সর্বশেষ চিত্র অনুযায়ী, বড় দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দলগুলোও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। রংপুর-১ আসনে মূলত জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়ন, বেকারত্ব দূর করা এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিটি ভোটারদের মুখে মুখে ফিরছে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে এখন নির্বাচনী আলাপ আর পছন্দের প্রার্থীর গুণগান নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশন এই আসনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রহর গুনছে। শেষ পর্যন্ত কে হাসবেন বিজয়ের হাসি, তা জানতে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো রংপুরবাসী।


ব্যালটে ভাগ্য পরীক্ষা বিএনপির ১১ শীর্ষ নেতার: জেনে নিন কার কেন্দ্র কোনটি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১০:৩১:৩৫
ব্যালটে ভাগ্য পরীক্ষা বিএনপির ১১ শীর্ষ নেতার: জেনে নিন কার কেন্দ্র কোনটি
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই মহালগ্নে সাধারণ ভোটারদের মনে যেমন উত্তেজনা বিরাজ করছে, তেমনি সবার নজর আটকে আছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের দিকে। বিএনপি মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, দলটির শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিতে ঢাকা থেকে তাঁর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন; তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লার দাউদকান্দিতে, মির্জা আব্বাস রাজধানীর শাহজাহানপুরে এবং বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেরানীগঞ্জে তাঁদের নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

নারায়ণগঞ্জের পলাশে ডক্টর আব্দুল মঈন খান এবং চট্টগ্রামে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁদের ভোট প্রদান করবেন। কক্সবাজারের পেকুয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সিরাজগঞ্জে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিজ নিজ এলাকার স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন। এ ছাড়াও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোলায় এবং অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট প্রদান শেষে শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানা গেছে।


সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১০:০০:২৩
সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রচার-প্রচারণা শেষ করে এখন চূড়ান্ত হিসাব মেলাতে ব্যস্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। ভোটের আগের দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ভোট হলে তারা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে নির্বাচনের পরিবেশ এবং বিশেষ কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।

১১-দলীয় জোটের হয়ে এবার ৩০০ আসনেই প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নিজে ২১৫টি আসনে এবং বাকি ৮৫টি আসনে এনসিপি, এলডিপি, খেলাফত মজলিসসহ শরিক দলগুলো লড়ছে। জোটের নেতারা দাবি করছেন, আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৪৮ জেলার ঝটিকা সফরে দেশজুড়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের অভূতপূর্ব সাড়া তাদের সরকার গঠনের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। তবে জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট একটি দলকে সুবিধা দিতে অনেক কেন্দ্রে রহস্যজনকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পুলিশের বডিওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা কারচুপির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের ১৫টি নির্বাচনি অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি প্রশাসনকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ যদি নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে তবে তারা ফলাফল মেনে নেবেন, কিন্তু কোনো ধরনের ‘পাতানো নির্বাচন’ বা ‘ভোট ডাকাতি’র চেষ্টা করা হলে জামায়াত তা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।


জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী বিএনপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ০৯:৫৪:৩৬
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী বিএনপি
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। দলের চেয়ারপারম্যান তারেক রহমান থেকে শুরু করে তৃণমূলের প্রতিটি নেতাকর্মীই মনে করছেন, সুষ্ঠু ভোট হলে তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবেন। রাজপথের এই প্রধান দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ দুই শতাধিক আসনে জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা ২৯২টি আসনে সরাসরি লড়াই করছেন এবং বাকি আসনগুলোতে জোটের শরিকরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারেক রহমান তাঁর প্রতিটি নির্বাচনি জনসভায় নেতাকর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, জনমত বিএনপির পক্ষে থাকলেও ফলাফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা হতে পারে। এই ষড়যন্ত্র ঠেকাতে তিনি ভোটারদের ফজরের নামাজের পরই কেন্দ্রে যাওয়ার এবং ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও একই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ভোট গণনা কেন্দ্রে না করে অন্য কোথাও নেওয়ার চেষ্টা হলে সেখানেই জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে জনমত জরিপগুলো বলছে, বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট। বিশেষ করে তরুণদের জেন-জি দল হিসেবে পরিচিত এনসিপি জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হওয়ায় রাজনীতির সমীকরণ কিছুটা জটিল হয়েছে। যদিও এনসিপির এই সিদ্ধান্ত অনেক তরুণ সদস্য মেনে নিতে পারেননি এবং ডা. তাসনিম জারার মতো অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। সব মিলিয়ে আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসনে বসায় কি না, তা নিয়ে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।


ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ০৯:৪৩:৩৯
ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতির এক নতুন সমীকরণ। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষস্থান দখল করাকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় হিসেবে দেখছে বিশ্ব গণমাধ্যম।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার পতনের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক শূন্যতায় তারেক রহমান নিজেকে একজন আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর নির্বাচনি প্রচারের প্রধান আকর্ষণ হলো আমূল রাষ্ট্রীয় সংস্কার। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন রোধে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া জনকল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো নতুন শিল্প বিকাশের পরিকল্পনাও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি কোনো একক দেশের প্রতি ঝুঁকে না থেকে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতিতে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। রয়টার্স এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের (যেমন টাইম ম্যাগাজিন ও দ্য ইকোনমিস্ট) জরিপ বলছে, তারেক রহমান বর্তমানে জনপ্রিয়তায় সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাসিত জীবন থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসনে আরোহণের এই চ্যালেঞ্জে দেশের ৪ কোটি তরুণ বা ‘জেন-জি’ ভোটাররাই তাঁর মূল শক্তি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


নিরাপত্তা থেকে অর্থনীতি: ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানের সামনে কতটা কঠিন পথ?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২২:৫১:১২
নিরাপত্তা থেকে অর্থনীতি: ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানের সামনে কতটা কঠিন পথ?

বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা তারেক রহমান বলেছেন, চলতি সপ্তাহের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁর সামনে ‘অনেক বড়’ ও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাচ্যুত আগের সরকারের আমলে ‘লুটপাটে’ ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করেছেন।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে তাঁর প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর থেকে দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা নিরসনে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন,“আমাদের দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ বোধ করে।”তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশকে স্থিতিশীল পথে ফেরানো মোটেই সহজ হবে না।

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,“অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে।”তিনি আরও বলেন,“গত শাসনামলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে, জ্বালানি খাতকেও কার্যত ভেঙে ফেলা হয়েছে।”

নির্বাচনি সমীকরণ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোটের পক্ষ থেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে দলটিকে। তা সত্ত্বেও নিজের বিজয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান।

ঢাকায় নিজের কার্যালয়ে বসে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তাঁর পেছনে সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো ছবি শোভা পাচ্ছিল তাঁর প্রয়াত বাবা-মা—স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার।

তিনি বলেন,“আমরা আশা করছি জনগণের কাছ থেকে একটি বড় ও সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব।”বর্তমান দলীয় জোটের বাইরে নতুন কোনো জোট গঠনের প্রয়োজন দেখছেন না উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন,“নিজস্ব সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন আমরা পাব।”

নির্বাসন, উত্তরাধিকার ও নেতৃত্বের দায়

৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান শেখ হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটান। গত ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর মা খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করলে বিএনপির পূর্ণ নেতৃত্ব তাঁর হাতে ন্যস্ত হয়।

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“তাঁরা ছিলেন তাঁদের মতো, আমি আমার মতো।”তিনি জোর দিয়ে বলেন,“সারা জীবন আমিও রাজনীতি করেছি। আমি তাঁদের চেয়ে আরও ভালো করার চেষ্টা করব।”

অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ

নির্বাচিত হলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলাই হবে তাঁর প্রধান কাজগুলোর একটি বলে জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন,“আমাদের সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে—অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।”বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বিশেষভাবে নারীদের অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রনীতি

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন,“আমার জনগণের স্বার্থ এবং আমার দেশের স্বার্থই সবার আগে।”তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে“অন্তত একটি প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক”গড়ে তুলতে চায়।

বর্তমানে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে অবস্থান করছেন। গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অনুপস্থিতিতেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমন এবং বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন,“মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষকে অস্বাভাবিকভাবে ধনী করা হয়েছে, কিন্তু বাকি দেশ ও সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই রাখা হয়নি।”

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের প্রশ্নে অবস্থান

তবে রাজনৈতিক দলকে আইন করে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তারেক রহমান। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে।

এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন,“অবশ্যই, কেউ যদি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়া উচিত।”

-ইশরাত/২৬-২২৩

পাঠকের মতামত: