প্রকাশিত হলো প্রধান উপদেষ্টাসহ সকল উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২০:৪০:৩৯
প্রকাশিত হলো প্রধান উপদেষ্টাসহ সকল উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব
ছবি : সংগৃহীত

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, অন্য উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জনসমক্ষে আনা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপদেষ্টাদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী ও স্বামীদের সম্পদের হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের ৩০ জুন এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁদের অর্জিত সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। মূলত ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন এবং শুরুতেই সরকারের নীতিনির্ধারকদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে আসা জরুরি। উপদেষ্টাদের পর পর্যায়ক্রমে সকল সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে বলে তখন জানিয়েছিলেন তিনি। সরকারের এই উদ্যোগকে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার পথে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণীর বিস্তারিত জানতে পারবেনএখান থেকে


৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় কী ঘটতে পারে, জানুন বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১০:০৮:২৯
৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় কী ঘটতে পারে, জানুন বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিপাইন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশে সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্প নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়, তবে বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান বিবেচনায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ এমন একটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং বার্মা টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক চাপ দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই প্লেটগুলোর নড়াচড়ার কারণেই দেশের আশপাশে কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইনে শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রাজধানী ঢাকা বা এর আশপাশে যদি ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এসব সংখ্যা সম্ভাব্য ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে করা বিভিন্ন গবেষণার পূর্বাভাস; প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করবে ভূমিকম্পের কেন্দ্র, গভীরতা, সময় এবং ভবনগুলোর নির্মাণমানের ওপর।

প্রকৌশলবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বলে আসছেন— "ভূমিকম্প মানুষকে হত্যা করে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে হত্যা করে।" অর্থাৎ ভূমিকম্পের চেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ না করা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এছাড়া বৈশ্বিক ভূমিকম্প তথ্যভান্ডার কমপ্রিহেনসিভ আর্থকোয়েক ক্যাটালগ (ComCat) অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে ১৫ থেকে ২০টি ৭ বা তার বেশি মাত্রার বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ফলে ভূমিকম্প পৃথিবীর স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও ব্যাখ্যা করেন, ভূমিকম্পের ম্যাগনিটিউড (মাত্রা) এবং ইনটেনসিটি (তীব্রতা) এক বিষয় নয়। ম্যাগনিটিউড দিয়ে ভূমিকম্পে নির্গত শক্তি বোঝানো হয়, আর ইনটেনসিটি বোঝায় নির্দিষ্ট স্থানে কম্পনের প্রভাব কতটা ছিল। কোনো ভূমিকম্পের মাত্রা বেশি হলেও কেন্দ্র থেকে দূরে ক্ষতি কম হতে পারে, আবার অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার ভূমিকম্পও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ১৭৬২ সালের আরাকান ভূমিকম্প এবং ১৮৯৭ সালের ডাউকি ফল্টের প্রায় ৮.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প এ অঞ্চলের অন্যতম বড় দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। গবেষকরা মনে করেন, ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি দীর্ঘ পুনরাবৃত্তি চক্র (Return Period) রয়েছে, যা সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর পরপর দেখা যায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে নির্দিষ্ট সময়েই ভূমিকম্প ঘটবে; বরং এমন ঘটনা কখন ঘটবে, তা এখনো নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আশপাশে বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে। এর মধ্যে ডাউকি ফল্ট, আরাকান প্লেট বাউন্ডারি, নোয়াখালী-সিলেট ফল্ট জোন এবং সিলেট-কাছাড় অঞ্চলের প্লেট সীমান্ত বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ভূতাত্ত্বিক কাঠামো ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের উৎস হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ১৮৬৯ সালের কাছাড়, ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল আর্থকোয়েক, ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল এবং ১৯৩০ সালের ধুবড়ি ভূমিকম্পের ইতিহাস বিবেচনায় নিলে ৭ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এটি কবে ঘটবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব নয়।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (JICA) এবং বাংলাদেশের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (CDMP) যৌথ গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঢাকায় ৭ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়তে পারে। তবে কোন কোন ভবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়নি।

বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় প্রায় ২১ লাখ বাসযোগ্য স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টিনশেড, ছোট ভবন বা বস্তিঘর, যেগুলো ধসে পড়লেও তুলনামূলক কম উচ্চতার কারণে ক্ষয়ক্ষতির ধরন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু উদ্বেগের বড় কারণ হলো প্রায় ৬ লাখ বহুতল পাকা ভবন, যেগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা ও নির্মাণমান নিশ্চিত করে তৈরি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এসব বহুতল ভবনের প্রায় ৪০ শতাংশ বিভিন্ন মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু ভূমিকম্পের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি বাড়ানো জরুরি। ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন, নিয়মিত মহড়া, উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।

-রফিক


বেইজিংয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন মোড়: শি জিনপিং-তারেক রহমান বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ০৯:২৫:২৭
বেইজিংয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন মোড়: শি জিনপিং-তারেক রহমান বৈঠক
বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশ ও গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন এবং ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। নতুন সরকার গঠনের পর নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সঙ্গে এক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের ঐতিহাসিক চীন সফরের শেষ দিনে দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ বেইজিং ও ঢাকার মধ্যকার ‘কৌশলগত সমবায় অংশীদারিত্ব’ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত ‘মনুমেন্ট টু দ্য পিপলস হিরোস’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। এরপর তিনি ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (NPC) স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই ব্যস্ত কর্মসূচির পরই প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ পৌঁছালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন উচ্চতা

বৈঠকে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (PMO) মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো রূপান্তর এবং ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে চীনের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে গ্রিন এনার্জি, বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV), মোংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ ও সংস্কার এবং তথ্যপ্রযুক্তির মতো উদীয়মান ও পরিবেশবান্ধব উচ্চ-মূল্যের খাতগুলোতে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি চীনের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ চীনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহ্যবাহী বন্ধু রাষ্ট্র। চীন বাংলাদেশের সঙ্গে তার ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) প্রকল্পের আওতায় উচ্চ-মানের সহযোগিতা বজায় রাখতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে বহুমাত্রিক উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈঠকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (GDI)-এ যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল্যায়ন:

"কৌশলগত সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে এই সফর একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই আলোচনা দুই দেশের অংশীদারিত্বকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে গেছে।"

বাণিজ্য, তিস্তা প্রকল্প ও সমঝোতা স্মারকের বহর

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।

এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের উত্তরের জীবনরেখা খ্যাত তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। তিস্তা নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীখনন এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় অর্থনৈতিক জোন ও আধুনিক টাউনশিপ গড়ে তোলার জন্য চীনের দেওয়া ‘তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (TRCMRP)-এর কারিগরি ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’ দ্রুত চালুর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশে প্রায় ১০০,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে।

একটি সফল বিদেশ সফরের সমাপ্তি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর এই প্রথম বিদেশ সফর শুরু করেছিলেন গত ২১ জুন মালয়েশিয়া ভ্রমণের মাধ্যমে। এরপর ২২ জুন রাতে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) বিখ্যাত ‘সামার ডাভোস’ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। সেখানে দুই দিনব্যাপী বৈশ্বিক ফোরামে অংশগ্রহণ শেষে বুধবার বিকেলে বেইজিংয়ে আসেন এবং তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন একটি উচ্চপর্যায়ের ২৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল, যার মধ্যে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় বেইজিংয়ের বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধি দলটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৫ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে তা একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিল।


ইসলামে বিভেদ ও হানাহানির কোনো স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ২০:৪৫:১৬
ইসলামে বিভেদ ও হানাহানির কোনো স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে কোনো ধরনের হানাহানি, সামাজিক বৈরিতা, বিভেদ কিংবা বিদ্বেষের বিন্দুমাত্র স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আশুরার মহান ও শাশ্বত শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সহনশীলতা আরও সুদৃঢ় করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সবাইকে আরও বেশি নিবেদিত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। বাণীতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পবিত্র আশুরা আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় যে ইসলামের মূল শিক্ষা সর্বদা শান্তি, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা এবং মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখে পবিত্র আশুরা পালিত হয়ে থাকে। ইসলামের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনন্য একটি দিন। এই দিনটি শুধু শোক প্রকাশ কিংবা স্মরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ এবং নৈতিক দৃঢ়তার এক চিরন্তন বার্তা ও শিক্ষা ধারণ করে। কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনাকে মানব ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঘটনা যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে অবিরাম অনুপ্রাণিত করে আসছে।

মানবিক মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার এবং সুমহান আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার যে অমূল্য শিক্ষা কারবালা আমাদের দিয়েছে, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম প্রধান প্রেরণার উৎস বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) তাঁর পরিবারের সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের নিয়ে জুলুম, অন্যায় এবং স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে শাহাদতের মহান মর্যাদা বরণ করেছিলেন। অন্যায়কারীদের সামনে মাথা নত না করার এই অনন্য আত্মত্যাগ কারবালাকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের এক অবিনাশী এবং শাশ্বত প্রতীকে পরিণত করেছে।

পবিত্র আশুরার এই বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে কারবালার নির্মম ও ঐতিহাসিক ঘটনায় শাহাদতবরণকারী তাঁর পরিবারের সদস্য এবং বিশ্বস্ত সঙ্গীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। এই শোকাবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনে তিনি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতিও নিজের গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

/আশিক


২৮ জুন থেকে দেশের ৫টি কেন্দ্রে নেওয়া হবে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:২৩:৪৩
২৮ জুন থেকে দেশের ৫টি কেন্দ্রে নেওয়া হবে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ট্যুরিস্ট বা পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে দেশের পাঁচটি নির্ধারিত ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রে (আইভ্যাক) সাধারণ পর্যটকরা তাদের ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রটি সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

ভারতীয় হাইকমিশনার স্পষ্ট জানান, আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা পর্যটন ভিসার জন্য নতুন করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের প্রধান পাঁচটি কেন্দ্র—ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা এবং চট্টগ্রাম থেকে এই পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে চিকিৎসা বা মেডিকেল ভিসার কার্যক্রম সফলভাবে চলমান রয়েছে এবং আগামী দিনে এর পরিধি ও সেবার মান আরও বৃদ্ধি করা হবে। এর আগে আজ সকালেই বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিজের আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

কূটনৈতিক এই শীর্ষ কর্মকর্তা গত শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দরে এসে পৌঁছালে শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় দূতাবাস ও বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার আগে গত ৫ জুন দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে নিজের নিয়োগপত্র বা ক্রেডেনসিয়াল গ্রহণ করেন তিনি।

ভারতের জাতীয় রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৫০ সালে নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠা মূলত কলকাতায়। ফলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের একটি নিবিড় ও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি কলকাতার বিখ্যাত সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় কংগ্রেস, জনতা দল ও তৃণমূল কংগ্রেসে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করার পর ২০২১ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তিনি একাধিকবার দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা এবং নিম্নকক্ষ লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এছাড়া ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে নয়াদিল্লি। তিনি বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন।

এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে লুণ্ঠিত এবং অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রধান শহরে অবস্থিত ভারতের পাঁচটি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারও (আইভ্যাক) অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার মুখে পড়ে। উদ্ভূত নিরাপত্তাজনিত তীব্র হুমকি এবং হাইকমিশনের নিজস্ব স্থাপনা ভাঙচুরের কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন সাময়িকভাবে তাদের নিয়মিত ভিসা কার্যক্রম অত্যন্ত সীমিত করতে বাধ্য হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতীয় ভিসার আবেদনকারীদের একটি বড় অংশই সাধারণত গুরুতর রোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে ভ্রমণ করে থাকেন। সেই সব সংকটাপন্ন রোগীদের মানবিক দিক বিবেচনা করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর ভিসা কেন্দ্রগুলোতে জরুরি চিকিৎসা ভিসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছিল। ভারত বর্তমানে প্রতিদিন ট্যুরিস্ট ভিসা বাদে অন্যান্য ক্যাটাগরিতে দেড় হাজারেরও বেশি ভিসা ইস্যু করে চলেছে।

/আশিক


অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায় আশুরা: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:১৬:৫১
অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায় আশুরা: রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র আশুরার শাশ্বত শিক্ষা মানুষকে সব ধরনের অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা যোগায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ নির্দেশ করে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় রাষ্ট্রপ্রধান ইসলামের সুমহান আদর্শ রক্ষায় কারবালা প্রান্তরে আত্মত্যাগকারী শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কারবালার ঐতিহাসিক প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সকল শহিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য পবিত্র আশুরা একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ দিন। ইসলামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে আশুরা বহু গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত হলেও, কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের মহান আত্মত্যাগ এই দিনটিকে একটি অনন্য মর্যাদা এবং গভীর মানবিক আবেদনে রূপ দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, পৃথিবীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের প্রকৃত সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাঁদের এই অনন্য আত্মদান মানবজাতির ইতিহাসে চিরকাল অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পবিত্র আশুরার এই মহান ও শাশ্বত শিক্ষা যেন সবার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে আলোকিত করে, বাণীতে তিনি সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন।

ইসলামের মূল মর্মবাণী তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম ইসলাম সর্বদা মানুষকে সত্য, ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানায়। এটি সমাজ থেকে সব ধরনের হানাহানি, হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর করে সর্বস্তরের মানুষকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হতে শেখায়। বাণীতে তিনি পবিত্র আশুরার পবিত্রতা ও চেতনাকে ধারণ করে একটি সাম্যবাদী, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সামগ্রিক মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি এবং অব্যাহত সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করেন।

/আশিক


সীমান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে: আশাবাদ নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:১০:৪৫
সীমান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে: আশাবাদ নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত এলাকার সাম্প্রতিক সমস্যাগুলো খুব দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে নিজের আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করার পর এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নতুন এই চিলিয় হাইকমিশনার। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই বিশেষ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বৈঠকের বিষয়ে জানান, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সমস্যাসহ সব ধরনের অমীমাংসিত বিষয়ের ইতিবাচক ও সম্মানজনক সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং বিজিবির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দুই দেশের সীমান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও নিয়মিত ও নিবিড় বৈঠক আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সীমান্ত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁর এই কার্যকাল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও বেশি সুদৃঢ়, ফলপ্রসূ এবং জনকল্যাণমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অংশগ্রহণের বিষয়টিও অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, নিকটতম প্রতিবেশী এবং অন্যতম প্রধান বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ সর্বদা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে থাকে।

রাষ্ট্রপতি আরও স্পষ্ট করেন যে, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে একটি সম্মানজনক ও ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্ব বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের জবাবে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে এবং আগামী দিনে সেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

/আশিক


বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: ১৫টি সমঝোতা স্মারকে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:০৬:৫৪
বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: ১৫টি সমঝোতা স্মারকে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়
ছবি : সংগৃহীত

চীন সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীনের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল ৫টায় বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ এই আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।

এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি আরও জানান, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকটি শেষ হওয়ার পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার কথা রয়েছে।

বেইজিংয়ের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত রয়েছেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর্বটি শেষ হওয়ার পর, গ্রেট হলে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নৈশভোজ বা ভোজসভার আয়োজন করা হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’ থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এসে পৌঁছালে তাঁকে সেখানে উষ্ণ ও আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।

/আশিক


তিস্তা নিয়ে চীনের সঙ্গে নতুন সমঝোতা, বৈঠকে তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৩:২৯:০৫
তিস্তা নিয়ে চীনের সঙ্গে নতুন সমঝোতা, বৈঠকে তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, তিস্তা নদী উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীন সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে দেশটির পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং-এর সঙ্গে বৈঠক করে এসব বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের নদীনির্ভর অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা, নদীভাঙন ও পলি জমার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকার দেশজুড়ে নদী খনন, পানি সংরক্ষণ এবং নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষভাবে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নদীভাঙন প্রতিরোধ, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগকে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক এবং গবেষণানির্ভর। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও গভীর করার ব্যাপারে বেইজিং আগ্রহী।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৫ সালে দুই দেশের মধ্যে পানি সম্পদ সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পাশাপাশি গত বছর চীনের বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশ সফর করে নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। এসব উদ্যোগ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লি গোওইং আরও বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী পুনরুদ্ধার, পানি সংরক্ষণ এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রকৌশলী, পানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশ আরও কার্যকর অংশীদার হতে পারে।

বৈঠকে নদীভিত্তিক উন্নয়ন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অভিযোজনমূলক উদ্যোগ নিয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকের একপর্যায়ে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে একটি স্মারক গ্রন্থ তুলে দেন, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

-রফিক


যেদিন থেকে শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১১:৪৫:০৮
যেদিন থেকে শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
ফাইল ছবি

আগামী ২৮ জুন (রোববার) দেশজুড়ে একযোগে শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম রাউন্ড। শিশুদের অপুষ্টি, ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমিয়ে আনতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই বৃহৎ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ২২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং নির্ধারিত স্থানে শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, বয়সভেদে শিশুদের জন্য আলাদা রঙের ক্যাপসুল নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এতে বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রার ভিটামিন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, কোনো শিশু যদি নির্ধারিত দিনে ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে না পারে, তাহলে তাকে পরদিন সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকবে। ফলে নির্ধারিত দিনে অনুপস্থিত থাকলেও শিশুদের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।

তিনি বলেন, দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের বিষয়েও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি, চরাঞ্চল ও অন্যান্য দুর্গম এলাকায় ২৮ জুনের পর টানা চার দিন বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরাও ভিটামিন ‘এ’ সেবার আওতায় আসে।

এবারের কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল, গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীসেবা কেন্দ্র এবং জনসমাগমস্থলে প্রায় ৫০০টি মোবাইল ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। এর ফলে চলাচলরত পরিবার ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও সহজে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ড. এম এ মুহিত জানান, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় রাউন্ড চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আয়োজন করা হবে। প্রতিবছর নিয়মিত দুই দফায় এই কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে শিশুদের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করা হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা, স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত নানা জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্র বা মোবাইল ক্যাম্পে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে। এর মাধ্যমে শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় পুষ্টি উন্নয়ন কর্মসূচিকেও আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ থাকবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবারও দেশের প্রায় প্রতিটি যোগ্য শিশুর কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: