অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে এবারের ভোট? বড় সম্ভাবনার কথা শোনালেন ইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২১:৩১:১৪
অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে এবারের ভোট? বড় সম্ভাবনার কথা শোনালেন ইসি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ডের আশা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের অভূতপূর্ব সাড়ায় এবার ভোটের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এই ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি, যার মধ্যে প্রায় ৪ কোটিই তরুণ ভোটার। এই বিশাল সংখ্যক তরুণ প্রজন্মকে ভোটকেন্দ্রে টানতে কমিশন বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এমনকি তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে নিবন্ধনের সময়সীমা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তিনি মনে করেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এবার ভোট দেওয়ার যে স্পৃহা দেখা যাচ্ছে, তা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। যদি এই তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়, তবে ভোট কাস্টিংয়ের হারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

তরুণদের পাশাপাশি নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়েও আশাবাদী কমিশন। দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী এবং বিগত নির্বাচনগুলোতেও তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এবার নারী ভোটারদের উদ্দীপনা আরও বেড়েছে। অনুকূল পরিবেশ এবং ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা কঠিন, তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার ভোটের হার অতীতের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি ব্যক্তিগত ধারণা ব্যক্ত করেন।


বিজয়ীদের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়েই বিদায় নেব; পরবর্তী গন্তব্য জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২০:৫৩:৫৭
বিজয়ীদের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়েই বিদায় নেব; পরবর্তী গন্তব্য জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এক ঐতিহাসিক বার্তা দিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনের পরপরই বিজয়ী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনিসহ উপদেষ্টারা নিজ নিজ পেশায় ফিরে যাবেন।

আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিশেষ ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।” নবনির্বাচিত সরকারের সাফল্য কামনা করে তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ব অর্পণের প্রতিশ্রুতি দেন।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা একটি ‘চিহ্নিত মহলের’ অপপ্রচার ও গুজবের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়িয়ে নাগরিকদের মনে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে, যার মূল লক্ষ্য নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা। বর্তমান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না—এমন গুঞ্জনকে ‘ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

জনগণকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, গুজবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সত্য। সঠিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য তিনি সরকারি হটলাইন ৩৩৩-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে বিগত মাসগুলোতে সংশয় তৈরি করেছিল, তারা আজ ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণ নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনে বিশেষ আস্থা জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


প্রকাশিত হলো প্রধান উপদেষ্টাসহ সকল উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২০:৪০:৩৯
প্রকাশিত হলো প্রধান উপদেষ্টাসহ সকল উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব
ছবি : সংগৃহীত

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, অন্য উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জনসমক্ষে আনা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপদেষ্টাদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী ও স্বামীদের সম্পদের হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের ৩০ জুন এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁদের অর্জিত সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। মূলত ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন এবং শুরুতেই সরকারের নীতিনির্ধারকদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে আসা জরুরি। উপদেষ্টাদের পর পর্যায়ক্রমে সকল সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে বলে তখন জানিয়েছিলেন তিনি। সরকারের এই উদ্যোগকে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার পথে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণীর বিস্তারিত জানতে পারবেনএখান থেকে


ব্যালট পেপার পৌঁছাবে আগামীকাল: ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৯:৩১:২৫
ব্যালট পেপার পৌঁছাবে আগামীকাল: ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি 
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যালট পেপার ইতিমধ্যে জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং আগামীকাল বুধবারের মধ্যেই তা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসি সানাউল্লাহ জানান, আগামীকাল সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার বিতরণের কাজ শুরু হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮১ জন। দেশের মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশীয় ৪৫ হাজার ৩১৩ জন এবং ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য নিবন্ধন করেছেন। আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষায় পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য সারা দেশে মোতায়েন থাকবে।


নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ: নজরে পুরো দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৭:২০:৫১
নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ: নজরে পুরো দেশ
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং 'জুলাই জাতীয় সনদ' বিষয়ক গণভোটকে সামনে রেখে তিনি এই ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।

প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে আজ এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ড. ইউনূসের এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ ছাড়া দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ভাষণটি একযোগে প্রচার করা হবে।

আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি জাতিকে ভোট প্রদান এবং নির্বাচন পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেবেন।

এর আগে সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছিলেন যে, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ওই দিন প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি পর্যালোচনা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম এই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আজ ভাষণের সময়সূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে জল্পনার অবসান ঘটল।


ভোটের দিনে সারা দেশে পাঁচ ধরনের যান চলাচল বন্ধ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৪:০৮:৫০
ভোটের দিনে সারা দেশে পাঁচ ধরনের যান চলাচল বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে পাঁচ ধরনের যানবাহনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস এবং ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ভোট গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। ইসির মতে, ভোটের দিন যানজট, অননুমোদিত চলাচল ও নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ভোট গ্রহণের পরদিন শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

ইসি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন যেমন ওষুধ পরিবহন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা এবং সংবাদপত্র পরিবহনের যান চলাচল অব্যাহত রাখতে পারবে।

এছাড়া বিমানযাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। বৈধ বিমান টিকিট বা সংশ্লিষ্ট ভ্রমণপ্রমাণ দেখাতে পারলে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। একইভাবে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন এবং দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

নির্বাচনী কাজে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একটি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের জন্য পৃথকভাবে একটি করে গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এসব যানবাহনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন নিতে হবে এবং গাড়িতে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত স্টিকার দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেলও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন থাকলে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্যান্য ব্যক্তির মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে জরুরি সেবার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এবং আন্তজেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতেও যান চলাচলে সীমিত পরিসরে ছাড় থাকবে।

এদিকে ভোটারদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে গণপরিবহন ব্যবস্থায় স্বস্তির খবর দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি ভোটারদের চাপ সামাল দিতে ওইদিন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এই সমন্বিত যানবাহন নীতিমালা ভোটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ ভোটারদের চলাচল সহজ রাখতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


এমপিও শিক্ষকদের অবসরে যুগান্তকারী আইন সংশোধন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৩:৫৮:৪৭
এমপিও শিক্ষকদের অবসরে যুগান্তকারী আইন সংশোধন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লাখ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনে গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী সংশোধনী এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অবসর সুবিধা প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও তহবিল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই নতুন অধ্যাদেশকে শিক্ষা খাতে একটি কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গতকাল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অধ্যাদেশটি প্রকাশের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে ২০০২ সালের মূল আইনের সংজ্ঞা ও আওতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সংশোধিত আইনের ২ ধারায় ‘প্রতিষ্ঠান’ শব্দের সঙ্গে স্পষ্টভাবে ‘এমপিওভুক্ত’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে আইনটির প্রযোজ্যতা নিয়ে যে দ্ব্যর্থতা ছিল, তা দূর হয়েছে। এর পাশাপাশি কলেজ, দাখিল ও তদূর্ধ্ব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসাকেও প্রথমবারের মতো এই অবসর সুবিধা কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন বঞ্চিত একটি বড় অংশের শিক্ষক-কর্মচারী আইনি সুরক্ষা পেলেন।

অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালনা কাঠামোতেও আনা হয়েছে মৌলিক পরিবর্তন। সংশোধিত আইনে বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ–এর সচিবকে চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর–এর মহাপরিচালককে ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করার চেষ্টা করা হয়েছে।

পরিচালনা পরিষদে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে আইনের ৬(১)(ড) ধারায়। এতে একজন পরিচালক রাখার বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যিনি পদাধিকারবলে বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার মনোনীত ১১ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারীকেও বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে, যাদের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর।

শিক্ষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় অধ্যাদেশে যুক্ত হয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবধর্মী বিধান। এতে বলা হয়েছে, কোনো প্রশাসনিক বা আইনি কারণে যদি অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন করা সম্ভব না হয়, তবে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের পাওনা অবসর সুবিধা প্রদান করা যাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি অবসর সুবিধা নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা কমাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন।

আইনগত ভাষায় আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশে অবসর সুবিধা ‘প্রদান’ শব্দের পরিবর্তে ‘অনুমোদন’ শব্দের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অর্থ ছাড়ের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশ্লেষকেরা।

তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অধ্যাদেশে কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বোর্ডের স্থায়ী তহবিল সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া অন্য কোথাও বিনিয়োগ করা যাবে না। এই অর্থ কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, সরকারি বন্ড অথবা ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করা যাবে এবং বোর্ডের অন্য কোনো কার্যক্রমে এই তহবিল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তহবিল পরিচালনার বিস্তারিত পদ্ধতি পৃথক প্রবিধানের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

সংশোধিত আইনের ১২(২) ধারায় বোর্ডের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রে একজন পরিচালকের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার কর্তৃক প্রেষণে নিযুক্ত এই পরিচালক বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তহবিল ব্যবস্থাপনার প্রধান দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে সরকার অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিধানও রাখা হয়েছে।

-রাফসান


১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে যা জানা জরুরি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৩:৪৭:২৯
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে যা জানা জরুরি
ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে এখন নির্বাচনী উত্তেজনা চরমে। শহর থেকে গ্রাম, অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সবখানেই চোখে পড়ছে প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ডিজিটাল প্রচারণা। কোথাও লিফলেট বিতরণ, কোথাও পথসভা, আবার কোথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার। কে কত প্রতিশ্রুতি দিতে পারে এবং কে কতটা দৃশ্যমান হতে পারে—এ নিয়ে চলছে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা। এই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

নির্বাচনের আর মাত্র এক দিন বাকি। কিন্তু ভোটের আগের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনেক ভোটারের মধ্যেই একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়ে গেছে—নিজের ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর কি জানা আছে? বাস্তবতা হলো, অনেকেই মনে করেন জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরই ভোটার নম্বর। অথচ এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। এনআইডি নম্বর ও ভোটার নম্বর এক নয়; দুটি আলাদা পরিচিতি। ভোটার নম্বর জানা না থাকলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নাম খুঁজে পেতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে, যা শেষ মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

এই সমস্যা এড়াতে ভোটারদের জন্য সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর কয়েকটি ব্যবস্থা চালু রেখেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ভালো খবর হলো, ভোটার নম্বর বা ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে কাউকে আর অফিসে যেতে হবে না। ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে চারটি নির্ভরযোগ্য উপায়ে এসব তথ্য জানা সম্ভব।

প্রথমত, ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা খুব সহজেই নিজেদের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা প্লে স্টোর এবং আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপস স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে পারবেন। অ্যাপে প্রবেশ করে ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ নির্বাচন করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিলে পর্দায় ভেসে উঠবে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের পূর্ণ ঠিকানা।

দ্বিতীয় উপায় হিসেবে রয়েছে হটলাইন সেবা। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ভোটাররা ১০৫ নম্বরে কল করে ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ ক্ষেত্রেও ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রয়োজন হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই হটলাইন সেবা চালু থাকবে।

তৃতীয় পদ্ধতিটি আরও সহজ এসএমএসের মাধ্যমে। মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC লিখে একটি স্পেস দিয়ে এনআইডি নম্বর লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।

চতুর্থ এবং সবচেয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার মাধ্যম হলো নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট। যেকোনো ব্রাউজার থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করলে দুটি পদ্ধতিতে তথ্য খোঁজা যাবে। একদিকে নির্বাচনি এলাকা ও উপজেলা বা থানা নির্বাচন করে কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে, অন্যদিকে এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে সরাসরি অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর ও নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যাবে। চাইলে গুগল ম্যাপে কেন্দ্রের অবস্থানও দেখে নেওয়া সম্ভব।

সব মিলিয়ে, ভোটের দিন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আগেভাগেই ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্র জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের এই ডিজিটাল ও হটলাইনভিত্তিক উদ্যোগ ভোটারদের সময় বাঁচাবে, ভোগান্তি কমাবে এবং নির্বাচনকে আরও সুশৃঙ্খল করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


১২ কোটি ভোটারের মহোৎসব: এক নজরে নির্বাচনের নিয়ম ও প্রস্তুতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১১:১০:৩৯
১২ কোটি ভোটারের মহোৎসব: এক নজরে নির্বাচনের নিয়ম ও প্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোটাররা যেন কোনো জটিলতা ছাড়াই তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী ও তথ্য নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

ভোটের সময়সূচি

আগামী বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানার উপায়

ভোট দিতে যাওয়ার আগে সঠিক ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর জেনে নেওয়া জরুরি। এটি জানার তিনটি সহজ মাধ্যম রয়েছে

১. স্মার্ট অ্যাপ: গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপল স্টোর থেকে ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে সহজেই তথ্য পাওয়া যাবে।

২. হটলাইন ১০৫: ১০৫ নম্বরে কল করে এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রদান করলে অপারেটর আপনার কেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেবেন।

৩. এসএমএস পদ্ধতি: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC NID লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে কেন্দ্রের নাম ও ক্রমিক নম্বর পাওয়া যাবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

ভোট দিতে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখা ভালো, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। ভোটার তালিকায় আপনার নাম ও ছবি থাকলে এবং পোলিং অফিসার পরিচয় নিশ্চিত হতে পারলে আপনি ভোট দিতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে, দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ভোট দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি

১. পরিচয় নিশ্চিত: কেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার নাম ও ক্রমিক নম্বর মিলিয়ে দেখবেন এবং আপনার আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন।

২. ব্যালট সংগ্রহ: প্রিসাইডিং অফিসার আপনাকে দুটি আলাদা ব্যালট পেপার দেবেন (একটি সংসদ নির্বাচনের এবং অন্যটি গণভোটের)। ব্যালটের পেছনে অফিশিয়াল সিল ও স্বাক্ষর আছে কি না তা অবশ্যই দেখে নিন।

৩. সিল প্রদান: গোপন কক্ষে গিয়ে ব্যালটে আপনার পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বক্সে রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্ট করে সিল দিন।

৪. ব্যালট ভাঁজ: সিল দেওয়ার পর ব্যালটটি এমনভাবে লম্বালম্বি ভাঁজ করুন যেন সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকে না লাগে।

৫. বাক্সে নিক্ষেপ: ভাঁজ করা ব্যালট দুটি নির্ধারিত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করুন।

এবারের নির্বাচনের বিশেষ তথ্য

এবারের নির্বাচনে কোনো ইভিএম (EVM) ব্যবহার করা হচ্ছে না; ভোট হবে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে। সারা দেশে ২৯৯টি আসনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে তাদের রায় দেবেন। মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে এই ভোটে।


ভোটের দুই দিন আগে বড় চমক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ০৯:৫৭:১৩
ভোটের দুই দিন আগে বড় চমক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দুই দেশের মধ্যে পালটা শুল্কহার কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এখন থেকে আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু (সিন্থেটিক ফাইবার) দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘রেসিপ্রোকল’ বা পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০টায় এই যুগান্তকারী চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ঢাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে চুক্তিতে সই করেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার। ওয়াশিংটনে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে এই ভার্চুয়াল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আরও যুক্ত ছিলেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্কহার ছিল অন্যতম প্রধান বাধা। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও তন্তুর ওপর বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামো নিয়েও ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। নতুন এই চুক্তির ফলে এখন থেকে বাংলাদেশ যদি মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করে, তবে তা সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমেরিকার বাজারে রপ্তানি করা যাবে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পালটা শুল্কহার ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং নির্দিষ্ট কাঁচামালের তৈরি পোশাকে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাওয়া বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এটি কেবল রপ্তানি আয় বাড়াবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই চুক্তিকে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ২০২৬ সালের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পাঠকের মতামত: