ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ০৯:৪৩:৩৯
ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতির এক নতুন সমীকরণ। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষস্থান দখল করাকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় হিসেবে দেখছে বিশ্ব গণমাধ্যম।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার পতনের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক শূন্যতায় তারেক রহমান নিজেকে একজন আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর নির্বাচনি প্রচারের প্রধান আকর্ষণ হলো আমূল রাষ্ট্রীয় সংস্কার। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন রোধে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া জনকল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো নতুন শিল্প বিকাশের পরিকল্পনাও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি কোনো একক দেশের প্রতি ঝুঁকে না থেকে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতিতে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। রয়টার্স এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের (যেমন টাইম ম্যাগাজিন ও দ্য ইকোনমিস্ট) জরিপ বলছে, তারেক রহমান বর্তমানে জনপ্রিয়তায় সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাসিত জীবন থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসনে আরোহণের এই চ্যালেঞ্জে দেশের ৪ কোটি তরুণ বা ‘জেন-জি’ ভোটাররাই তাঁর মূল শক্তি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


নিরাপত্তা থেকে অর্থনীতি: ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানের সামনে কতটা কঠিন পথ?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২২:৫১:১২
নিরাপত্তা থেকে অর্থনীতি: ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানের সামনে কতটা কঠিন পথ?

বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা তারেক রহমান বলেছেন, চলতি সপ্তাহের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁর সামনে ‘অনেক বড়’ ও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাচ্যুত আগের সরকারের আমলে ‘লুটপাটে’ ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করেছেন।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে তাঁর প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর থেকে দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা নিরসনে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন,“আমাদের দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ বোধ করে।”তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশকে স্থিতিশীল পথে ফেরানো মোটেই সহজ হবে না।

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,“অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে।”তিনি আরও বলেন,“গত শাসনামলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে, জ্বালানি খাতকেও কার্যত ভেঙে ফেলা হয়েছে।”

নির্বাচনি সমীকরণ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোটের পক্ষ থেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে দলটিকে। তা সত্ত্বেও নিজের বিজয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান।

ঢাকায় নিজের কার্যালয়ে বসে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তাঁর পেছনে সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো ছবি শোভা পাচ্ছিল তাঁর প্রয়াত বাবা-মা—স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার।

তিনি বলেন,“আমরা আশা করছি জনগণের কাছ থেকে একটি বড় ও সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব।”বর্তমান দলীয় জোটের বাইরে নতুন কোনো জোট গঠনের প্রয়োজন দেখছেন না উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন,“নিজস্ব সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন আমরা পাব।”

নির্বাসন, উত্তরাধিকার ও নেতৃত্বের দায়

৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান শেখ হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটান। গত ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর মা খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করলে বিএনপির পূর্ণ নেতৃত্ব তাঁর হাতে ন্যস্ত হয়।

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“তাঁরা ছিলেন তাঁদের মতো, আমি আমার মতো।”তিনি জোর দিয়ে বলেন,“সারা জীবন আমিও রাজনীতি করেছি। আমি তাঁদের চেয়ে আরও ভালো করার চেষ্টা করব।”

অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ

নির্বাচিত হলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলাই হবে তাঁর প্রধান কাজগুলোর একটি বলে জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন,“আমাদের সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে—অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।”বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বিশেষভাবে নারীদের অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রনীতি

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন,“আমার জনগণের স্বার্থ এবং আমার দেশের স্বার্থই সবার আগে।”তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে“অন্তত একটি প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক”গড়ে তুলতে চায়।

বর্তমানে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে অবস্থান করছেন। গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অনুপস্থিতিতেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমন এবং বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন,“মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষকে অস্বাভাবিকভাবে ধনী করা হয়েছে, কিন্তু বাকি দেশ ও সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই রাখা হয়নি।”

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের প্রশ্নে অবস্থান

তবে রাজনৈতিক দলকে আইন করে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তারেক রহমান। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে।

এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন,“অবশ্যই, কেউ যদি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়া উচিত।”

-ইশরাত/২৬-২২৩


কার কেন্দ্র কোনটি? একনজরে এবি পার্টির ৫ শীর্ষ নেতার ভোটের তথ্য

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২১:০৯:১৬
কার কেন্দ্র কোনটি? একনজরে এবি পার্টির ৫ শীর্ষ নেতার ভোটের তথ্য
বাঁ থেকে মজিবুর রহমান ভূঁঞা মঞ্জু, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া ও সৈয়দ তালহা আলম। ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) নির্বাচনের দিন দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁঞা মঞ্জুসহ অন্যান্য প্রার্থীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান ভূঁঞা মঞ্জু বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ফেনীর শর্শদি উত্তর খানেবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মা ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেবেন। ভোট প্রদান শেষে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তিনি প্রশাসনের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, যেকোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। ভোটাধিকারে বাধা দেওয়া হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

এদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ) আসনে মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে স্ত্রীসহ ভোট দেবেন। পটুয়াখালী-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বিকেল ৩টায় নলদোয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

কুমিল্লা-৫ আসনে দলটির প্রার্থী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া সকাল ৮টায় শিকারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সপরিবারে ভোট দেবেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম সকাল ৮টায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পীরেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দলটির নেতারা আশা করছেন, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


হাসপাতালে ভর্তি রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২০:৪৬:৫৯
হাসপাতালে ভর্তি রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তিনি স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন।

রুহুল কবির রিজভীর ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান গণমাধ্যমকে তাঁর হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে রিজভী জ্বর, ঠান্ডা এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। আজ বিকেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এদিকে, নিজের দ্রুত সুস্থতার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং অনেকেই হাসপাতালে খোঁজখবর নিচ্ছেন।


নির্বাসন থেকে বীরের বেশে ফেরা: দেশের নয়া কাণ্ডারি হওয়ার পথে তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৭:৪২:৩৩
নির্বাসন থেকে বীরের বেশে ফেরা: দেশের নয়া কাণ্ডারি হওয়ার পথে তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের রাজনীতির মূল স্রোতে চালকের আসনে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে নির্বাচনী উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে জনমত জরিপ ও মাঠের চিত্র বলছে—প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনি বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাঁর বিশাল জনসভাগুলো বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের শক্তির এক বিরাট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ দেড় দশক আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে চরম প্রতিকূল সময় পার করার পর, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তবে এই গগনচুম্বী জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্বের সামনে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জও দৃশ্যমান। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সাথে দলের একাংশের সমন্বয়হীনতা ফুটে উঠেছে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় অন্তত ৮০টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতিতে। এছাড়া নির্বাচনী সহিংসতায় দলীয় কর্মীদের জড়িয়ে পড়া এবং উচ্চাভিলাষী কিছু প্রতিশ্রুতি (যেমন—বিশাল অঙ্কের বেকার ভাতা বা বৃক্ষরোপণ প্রকল্প) নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

নির্বাচনী ইশতেহারে তারেক রহমান একগুচ্ছ যুগান্তকারী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো—একই ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ টানা দুই মেয়াদের বেশি না হওয়া এবং উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠন। এছাড়া তিনি দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান, মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর অঙ্গীকার করেছেন।

সমালোচক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন তারেক রহমানের জন্য এক বড় ‘অগ্নিপরীক্ষা’। এটি কেবল রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়, বরং গত ১৫ বছরের পুরনো ইমেজ কাটিয়ে উঠে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে একজন স্বচ্ছ ও আধুনিক নেতা হিসেবে নিজেকে কতটা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন, তারই চূড়ান্ত বিচার হবে এই ব্যালট যুদ্ধে। উত্তর-হাসিনা বাংলাদেশে তিনি কি পরিবর্তনের প্রকৃত রূপকার হতে পারবেন—এই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে সাধারণ মানুষ।


অচেনা মুখ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে: ডা. শফিকুর রহমানের নাটকীয় উত্থান 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৭:৩৫:৪৯
অচেনা মুখ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে: ডা. শফিকুর রহমানের নাটকীয় উত্থান 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় পরিবর্তনের নাম ডা. শফিকুর রহমান। দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা ৬৭ বছর বয়সী এই চিকিৎসক ও জামায়াতে ইসলামীর আমির এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন তাঁর সরব উপস্থিতি। ‘সাদা পোশাক ও বিনয়ী’ ইমেজ নিয়ে তিনি ভোটারদের আহ্বান জানাচ্ছেন দেশের প্রথম ইসলামপন্থী সরকার গঠনের।

মৌলভীবাজারে জন্ম নেওয়া ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে। পরে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং ২০২০ সালে দলটির আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে জামায়াত যখন চরম দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছিল, তখন শফিকুর রহমানকেও ১৫ মাস কারাভোগ করতে হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দলটির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতাকে ডা. শফিকুর রহমান অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছেন। যখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা তারেক রহমান দেশের বাইরে ছিলেন, তখন শফিকুর রহমান দেশজুড়ে সফর করে এবং দাতব্য কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জেন-জি সমর্থিত ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’র (এনসিপি) সঙ্গে জোট গঠন এবং ‘গেম অব থ্রোনস’ অনুপ্রাণিত “দাদু আসছে” স্লোগান সম্বলিত পোস্টার তাঁর প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি জামায়াতকে একটি দুর্নীতিবিরোধী ও নৈতিক বিকল্প শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন। যদিও নারীদের কাজের সময়সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত তাঁর কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তবুও তিনি দাবি করছেন যে জামায়াত একটি ‘যৌক্তিক ও নমনীয়’ নীতিতে বিশ্বাসী। শফিকুর রহমানের উত্থান মূলত বিএনপির সাবেক মিত্র জামায়াতকে এখন বিএনপিরই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স


পাতানো নির্বাচন হলে মেনে নেবে না জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৭:২৭:১৮
পাতানো নির্বাচন হলে মেনে নেবে না জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

প্রশাসনের একটি অংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো ধরনের ‘পাতানো নির্বাচন’ হলে তা তাঁর দল কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আজ সকাল ১১টার দিকে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল জামায়াত কার্যালয়ে আসে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকে প্রতিনিধিদলটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ভোটার ও প্রার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের হুমকি বা ‘থ্রেড’ আছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চায়।

বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, বর্তমানে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগের ঘাটতি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি অংশ এখনো নির্দিষ্ট একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছে। এই পক্ষপাতিত্ব থেকে প্রশাসন বের হয়ে না এলে জামায়াত কঠোর অবস্থান নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান জুবায়ের।

নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটের আতঙ্ক তৈরি না হয়। জুবায়ের অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত ১৫টি নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, ইইউ প্রতিনিধিদল ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও তুরস্কসহ আরও কয়েকটি বিদেশি পর্যবেক্ষক দল জামায়াত কার্যালয়ে আসার কথা রয়েছে।


নতুন মন্ত্রিসভার প্রস্তুতি, ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৩:৫৩:৪০
নতুন মন্ত্রিসভার প্রস্তুতি, ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আসন্ন মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যবহারের জন্য আগাম ৫০টি সরকারি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক ও প্রোটোকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে যানবাহন প্রস্তুত রাখা একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যাতে শপথ গ্রহণের পরপরই মন্ত্রীরা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন শুরু করতে পারেন।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময় হিসেবে ১৭ অথবা ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এই সময়সূচি আরও এগিয়ে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অর্থাৎ নির্বাচন-পরবর্তী দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতিও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যানবাহন, নিরাপত্তা, সচিবালয় ব্যবস্থাপনা এবং প্রটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতি আগেভাগেই সম্পন্ন করা হয়। এই প্রস্তুতির লক্ষ্য হলো শপথের পর কোনো ধরনের প্রশাসনিক বিঘ্ন যেন না ঘটে।

-রফিক


রয়টার্স: বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৩:৩৭:৪৩
রয়টার্স: বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান
ছবি : BNP Media Cell

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক প্রবাসজীবন শেষে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স–এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এখন কার্যত দেশের শাসনভার গ্রহণের একেবারে শেষ ধাপে অবস্থান করছেন। ২০০৮ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে গমন করার পর প্রায় ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরেন তিনি, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র পতনের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেখানে তারেক রহমানের দ্রুত উত্থান ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এই পরিবর্তন কেবল একটি সরকারের অবসান নয়, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ভারসাম্যের পুনর্বিন্যাস হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।

বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর কার্যকর নেতৃত্ব তার হাতেই। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের দুর্বলতা তার এই অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় তারেক রহমান নিজেকে অতীতের প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির ধারাবাহিকতা থেকে আলাদা করে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রদর্শনের প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের সাংবিধানিক সীমা নির্ধারণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদি স্বৈরতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব সরাসরি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকেই উৎসারিত।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও তারেক রহমান নতুন দিশার কথা বলছেন। তিনি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমন এবং একক খাতনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার অঙ্গীকার করেছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি খেলনা, চামড়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল শিল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা তার বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও তারেক রহমান তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এই নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে। কূটনৈতিক মহলে এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সম্ভাব্য পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল পারিবারিক উত্তরাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা নয়। একদিকে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন, অন্যদিকে নিজেকে নীতিনির্ধারক ও সংস্কারক হিসেবে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে তার বক্তব্য ও সংস্কারপ্রস্তাব ভিন্ন মাত্রার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, নির্বাসন থেকে দেশের সম্ভাব্য শাসনভার গ্রহণ পর্যন্ত তারেক রহমানের যাত্রাপথ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, এই প্রত্যাবর্তন কেবল সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি সত্যিকার অর্থেই ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতা’-এই রাজনৈতিক রূপান্তর পূর্ণতা পাবে।

-রফিক


গণসংযোগকালে পান বিক্রেতাকে টাকা: তোপের মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১১:২১:০৭
গণসংযোগকালে পান বিক্রেতাকে টাকা: তোপের মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির
এক পান বিক্রেতার হাতে টাকা গুঁজে দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার সময় এক পান বিক্রেতাকে টাকা দেওয়ার ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির। ২০০৮ সালের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে অনেক নেটিজেন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির মিরপুর এলাকায় গণসংযোগকালে এক বয়স্ক পান বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলছেন। দেশের পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি ওই ব্যক্তির হাতে এক হাজার টাকার একটি নোট গুঁজে দেন। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয় বিতর্ক। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে প্রচারণাকারী ব্যক্তি ওই এলাকায় কোনো প্রকার অনুদান বা অর্থ প্রদান করতে পারেন না।

সমালোচনার মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির তাঁর ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। ‘মানবিক আবেদন’ শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, মানবিক দিক বিবেচনা করেই তিনি ওই বিক্রেতাকে টাকা দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, একই স্থানে তিনি শিশুদের র‍্যাকেট কেনার জন্যও কিছু টাকা উপহার দিয়েছিলেন। মিডিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, এই মানবিক সাহায্যকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ নেই। সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরসহ কিছু গণমাধ্যম এই ঘটনাকে ভিন্নভাবে প্রচার করে তাঁর চরিত্রহননের চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ভিডিওতে শাহরিয়ার কবিরকে ওই বিক্রেতার কাছে ব্যবসা ও দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইতে দেখা যায়। বিক্রেতা যখন জানান যে মানুষ আতঙ্কে আছে, তখন শাহরিয়ার কবির রিজিকের মালিক আল্লাহ এবং আল্লাহর পথে দেশ চালানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন। পরিশেষে তিনি ওই টাকা দেন। এ ঘটনায় অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, প্রচারণার সময় এভাবে টাকা দেওয়া কি আদতে ভোটারকে প্রভাবিত করার কৌশল নয়?

পাঠকের মতামত: