হাসপাতালে ভর্তি রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তিনি স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন।
রুহুল কবির রিজভীর ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান গণমাধ্যমকে তাঁর হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে রিজভী জ্বর, ঠান্ডা এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। আজ বিকেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এদিকে, নিজের দ্রুত সুস্থতার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং অনেকেই হাসপাতালে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
নির্বাসন থেকে বীরের বেশে ফেরা: দেশের নয়া কাণ্ডারি হওয়ার পথে তারেক রহমান
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের রাজনীতির মূল স্রোতে চালকের আসনে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে নির্বাচনী উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে জনমত জরিপ ও মাঠের চিত্র বলছে—প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনি বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাঁর বিশাল জনসভাগুলো বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের শক্তির এক বিরাট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ দেড় দশক আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে চরম প্রতিকূল সময় পার করার পর, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তবে এই গগনচুম্বী জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্বের সামনে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জও দৃশ্যমান। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সাথে দলের একাংশের সমন্বয়হীনতা ফুটে উঠেছে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় অন্তত ৮০টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতিতে। এছাড়া নির্বাচনী সহিংসতায় দলীয় কর্মীদের জড়িয়ে পড়া এবং উচ্চাভিলাষী কিছু প্রতিশ্রুতি (যেমন—বিশাল অঙ্কের বেকার ভাতা বা বৃক্ষরোপণ প্রকল্প) নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
নির্বাচনী ইশতেহারে তারেক রহমান একগুচ্ছ যুগান্তকারী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো—একই ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ টানা দুই মেয়াদের বেশি না হওয়া এবং উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠন। এছাড়া তিনি দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান, মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর অঙ্গীকার করেছেন।
সমালোচক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন তারেক রহমানের জন্য এক বড় ‘অগ্নিপরীক্ষা’। এটি কেবল রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়, বরং গত ১৫ বছরের পুরনো ইমেজ কাটিয়ে উঠে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে একজন স্বচ্ছ ও আধুনিক নেতা হিসেবে নিজেকে কতটা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন, তারই চূড়ান্ত বিচার হবে এই ব্যালট যুদ্ধে। উত্তর-হাসিনা বাংলাদেশে তিনি কি পরিবর্তনের প্রকৃত রূপকার হতে পারবেন—এই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে সাধারণ মানুষ।
অচেনা মুখ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে: ডা. শফিকুর রহমানের নাটকীয় উত্থান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় পরিবর্তনের নাম ডা. শফিকুর রহমান। দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা ৬৭ বছর বয়সী এই চিকিৎসক ও জামায়াতে ইসলামীর আমির এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন তাঁর সরব উপস্থিতি। ‘সাদা পোশাক ও বিনয়ী’ ইমেজ নিয়ে তিনি ভোটারদের আহ্বান জানাচ্ছেন দেশের প্রথম ইসলামপন্থী সরকার গঠনের।
মৌলভীবাজারে জন্ম নেওয়া ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে। পরে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং ২০২০ সালে দলটির আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে জামায়াত যখন চরম দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছিল, তখন শফিকুর রহমানকেও ১৫ মাস কারাভোগ করতে হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দলটির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতাকে ডা. শফিকুর রহমান অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছেন। যখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা তারেক রহমান দেশের বাইরে ছিলেন, তখন শফিকুর রহমান দেশজুড়ে সফর করে এবং দাতব্য কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জেন-জি সমর্থিত ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’র (এনসিপি) সঙ্গে জোট গঠন এবং ‘গেম অব থ্রোনস’ অনুপ্রাণিত “দাদু আসছে” স্লোগান সম্বলিত পোস্টার তাঁর প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি জামায়াতকে একটি দুর্নীতিবিরোধী ও নৈতিক বিকল্প শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন। যদিও নারীদের কাজের সময়সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত তাঁর কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তবুও তিনি দাবি করছেন যে জামায়াত একটি ‘যৌক্তিক ও নমনীয়’ নীতিতে বিশ্বাসী। শফিকুর রহমানের উত্থান মূলত বিএনপির সাবেক মিত্র জামায়াতকে এখন বিএনপিরই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
পাতানো নির্বাচন হলে মেনে নেবে না জামায়াত
প্রশাসনের একটি অংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো ধরনের ‘পাতানো নির্বাচন’ হলে তা তাঁর দল কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
আজ সকাল ১১টার দিকে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল জামায়াত কার্যালয়ে আসে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকে প্রতিনিধিদলটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ভোটার ও প্রার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের হুমকি বা ‘থ্রেড’ আছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চায়।
বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, বর্তমানে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগের ঘাটতি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি অংশ এখনো নির্দিষ্ট একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছে। এই পক্ষপাতিত্ব থেকে প্রশাসন বের হয়ে না এলে জামায়াত কঠোর অবস্থান নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান জুবায়ের।
নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটের আতঙ্ক তৈরি না হয়। জুবায়ের অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত ১৫টি নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, ইইউ প্রতিনিধিদল ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও তুরস্কসহ আরও কয়েকটি বিদেশি পর্যবেক্ষক দল জামায়াত কার্যালয়ে আসার কথা রয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভার প্রস্তুতি, ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আসন্ন মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যবহারের জন্য আগাম ৫০টি সরকারি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক ও প্রোটোকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে যানবাহন প্রস্তুত রাখা একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যাতে শপথ গ্রহণের পরপরই মন্ত্রীরা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন শুরু করতে পারেন।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময় হিসেবে ১৭ অথবা ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এই সময়সূচি আরও এগিয়ে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অর্থাৎ নির্বাচন-পরবর্তী দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতিও বিবেচনায় রয়েছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যানবাহন, নিরাপত্তা, সচিবালয় ব্যবস্থাপনা এবং প্রটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতি আগেভাগেই সম্পন্ন করা হয়। এই প্রস্তুতির লক্ষ্য হলো শপথের পর কোনো ধরনের প্রশাসনিক বিঘ্ন যেন না ঘটে।
-রফিক
রয়টার্স: বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক প্রবাসজীবন শেষে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স–এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এখন কার্যত দেশের শাসনভার গ্রহণের একেবারে শেষ ধাপে অবস্থান করছেন। ২০০৮ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে গমন করার পর প্রায় ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরেন তিনি, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র পতনের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেখানে তারেক রহমানের দ্রুত উত্থান ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এই পরিবর্তন কেবল একটি সরকারের অবসান নয়, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ভারসাম্যের পুনর্বিন্যাস হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর কার্যকর নেতৃত্ব তার হাতেই। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের দুর্বলতা তার এই অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় তারেক রহমান নিজেকে অতীতের প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির ধারাবাহিকতা থেকে আলাদা করে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রদর্শনের প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের সাংবিধানিক সীমা নির্ধারণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদি স্বৈরতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব সরাসরি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকেই উৎসারিত।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও তারেক রহমান নতুন দিশার কথা বলছেন। তিনি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমন এবং একক খাতনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার অঙ্গীকার করেছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি খেলনা, চামড়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল শিল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা তার বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও তারেক রহমান তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এই নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে। কূটনৈতিক মহলে এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সম্ভাব্য পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল পারিবারিক উত্তরাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা নয়। একদিকে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন, অন্যদিকে নিজেকে নীতিনির্ধারক ও সংস্কারক হিসেবে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে তার বক্তব্য ও সংস্কারপ্রস্তাব ভিন্ন মাত্রার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাসন থেকে দেশের সম্ভাব্য শাসনভার গ্রহণ পর্যন্ত তারেক রহমানের যাত্রাপথ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, এই প্রত্যাবর্তন কেবল সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি সত্যিকার অর্থেই ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতা’-এই রাজনৈতিক রূপান্তর পূর্ণতা পাবে।
-রফিক
গণসংযোগকালে পান বিক্রেতাকে টাকা: তোপের মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির
ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার সময় এক পান বিক্রেতাকে টাকা দেওয়ার ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির। ২০০৮ সালের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে অনেক নেটিজেন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির মিরপুর এলাকায় গণসংযোগকালে এক বয়স্ক পান বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলছেন। দেশের পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি ওই ব্যক্তির হাতে এক হাজার টাকার একটি নোট গুঁজে দেন। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয় বিতর্ক। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে প্রচারণাকারী ব্যক্তি ওই এলাকায় কোনো প্রকার অনুদান বা অর্থ প্রদান করতে পারেন না।
সমালোচনার মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির তাঁর ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। ‘মানবিক আবেদন’ শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, মানবিক দিক বিবেচনা করেই তিনি ওই বিক্রেতাকে টাকা দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, একই স্থানে তিনি শিশুদের র্যাকেট কেনার জন্যও কিছু টাকা উপহার দিয়েছিলেন। মিডিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, এই মানবিক সাহায্যকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ নেই। সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরসহ কিছু গণমাধ্যম এই ঘটনাকে ভিন্নভাবে প্রচার করে তাঁর চরিত্রহননের চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ভিডিওতে শাহরিয়ার কবিরকে ওই বিক্রেতার কাছে ব্যবসা ও দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইতে দেখা যায়। বিক্রেতা যখন জানান যে মানুষ আতঙ্কে আছে, তখন শাহরিয়ার কবির রিজিকের মালিক আল্লাহ এবং আল্লাহর পথে দেশ চালানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন। পরিশেষে তিনি ওই টাকা দেন। এ ঘটনায় অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, প্রচারণার সময় এভাবে টাকা দেওয়া কি আদতে ভোটারকে প্রভাবিত করার কৌশল নয়?
তরুণদের হাতেই নতুন বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই: জামায়াত আমির
বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে এক ঐক্যবদ্ধ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে জামায়াতে ইসলামী এমন একটি দেশ গড়তে চায় যেখানে পারিবারিক পরিচয়ে কেউ ক্ষমতার আসনে বসতে পারবে না। তিনি তরুণদের প্রশংসা করে বলেন, “এই তরুণরা প্রযুক্তি বোঝে এবং তারা সত্য বলতে দ্বিধা করে না। তারাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে। আমরা তাদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ তুলে দিতে চাই।” তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আবরার ফাহাদের মতো শহীদদের হিম্মতকে ধারণ করে সাহসের সঙ্গে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।
বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, শাসক শ্রেণি নিজেদের দেশের মালিক মনে করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো লুণ্ঠনের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, অতীতে জামায়াতের কোনো জনপ্রতিনিধি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হননি, যা তাঁদের সততা ও দক্ষতার সাক্ষী।
আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারগুলো নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সংস্কার প্রক্রিয়াকে পূর্ণতা দিতে এবং সুশাসন ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে তিনি দেশবাসীর সমর্থন কামনা করেন। এছাড়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টর ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, করপোরেট জগৎ থেকে রাজনীতি—সবখানে মেধার ভিত্তিতে সগৌরবে নেতৃত্ব দেবেন।” তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কেউ হামলার শিকার হলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধের ঘোষণা দেন তিনি।
অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন তারেক রহমান, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া
অতীতের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে একটি নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন চেয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে প্রচারিত ৩৭ মিনিটের এক বিশেষ ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, “দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে। সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি।” তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে নিজস্ব নিয়মে এবং প্রশাসনকে পুরোপুরি দলীয়করণমুক্ত রাখা হবে।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন দেওয়া শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিএনপি ধর্মীয় চরমপন্থা ও উগ্রবাদে বিশ্বাস করে না। “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”—এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরেন। তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা, শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত ভাতা প্রদান এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া তরুণ ও নারী জনশক্তির মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা তাঁর পরিকল্পনার প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান।
দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন, ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবেন।” তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষের বিজয় মানেই স্বাধীন, সার্বভৌম ও তাবেদারমুক্ত বাংলাদেশের বিজয়।
স্বনির্ভর বাংলাদেশের লক্ষ্যে বিটিভিতে তারেক রহমানের বিশেষ ভাষণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন যে দেশের প্রতিটি সেক্টর এবং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে কেন্দ্র করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য বিএনপি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজিয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে দলের প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বিস্তারিত সুবিধার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সুরক্ষা দিতে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে।
শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষ সুসংবাদ দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান জানান যে তাঁর দল সরকার গঠন করলে শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের জন্য ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কিংবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা বা বেকার ভাতা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেকার সমস্যা নিরসনে তিনি বলেন যে ব্যাংক, বীমা ও পুঁজিবাজারসহ অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং শিল্প-বাণিজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিই হবে এই লক্ষ্য অর্জনের মূল পথ।
নাগরিকদের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ার’ কর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে এই নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী। স্বাস্থ্য ও সেবার এই নতুন মডেলে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন যে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ পাচার ঠেকানো সম্ভব হলে কৃষক কার্ডের সহায়তা প্রদানসহ অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থায়ন করা একেবারেই অসম্ভব নয়। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান যেন একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তাঁরা ধানের শীষকে জয়ী করে বিএনপিকে দেশ সেবার সুযোগ করে দেন।
পাঠকের মতামত:
- হাসপাতালে ভর্তি রুহুল কবির রিজভী
- প্রকাশিত হলো প্রধান উপদেষ্টাসহ সকল উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব
- কালিগঞ্জে উন্নয়নের নামে লুটপাট প্রশাসনিক অবহেলায় প্রশ্নবিদ্ধ সড়ক নির্মাণ
- ব্যালট পেপার পৌঁছাবে আগামীকাল: ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি
- ভোটের দ্বারপ্রান্তে কুমিল্লা, জমজমাট ১১ আসন
- সিলেটে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল নিয়ে আবহাওয়া অফিসের তথ্য
- গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান ড. মিজানুর রহমান আজহারীর
- নির্বাসন থেকে বীরের বেশে ফেরা: দেশের নয়া কাণ্ডারি হওয়ার পথে তারেক রহমান
- অচেনা মুখ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে: ডা. শফিকুর রহমানের নাটকীয় উত্থান
- পাতানো নির্বাচন হলে মেনে নেবে না জামায়াত
- নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ: নজরে পুরো দেশ
- ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- ভোটের দিনে সারা দেশে পাঁচ ধরনের যান চলাচল বন্ধ
- এমপিও শিক্ষকদের অবসরে যুগান্তকারী আইন সংশোধন
- নতুন মন্ত্রিসভার প্রস্তুতি, ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত
- ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে যা জানা জরুরি
- রয়টার্স: বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান
- স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে? বন্ধ করুন এই ৫টি ফিচার
- ভোটের দুই দিন আগে সুসংবাদ: বিএনপির ৩ প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা শেষ
- পাকিস্তানের অনড় অবস্থানে লাভবান বাংলাদেশ: মিলল বড় টুর্নামেন্টের দায়িত্ব
- ফলের রস না কি গোটা ফল: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কোনটি নিরাপদ?
- গণসংযোগকালে পান বিক্রেতাকে টাকা: তোপের মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির
- ১২ কোটি ভোটারের মহোৎসব: এক নজরে নির্বাচনের নিয়ম ও প্রস্তুতি
- তরুণদের হাতেই নতুন বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই: জামায়াত আমির
- অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন তারেক রহমান, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া
- ভোটের দুই দিন আগে বড় চমক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই
- ব্যয়ের ভারে ভারী নির্বাচন: বিগত সব রেকর্ড ভাঙল এবারের বাজেট
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- শেষ হলো ভোটযুদ্ধ: প্রচার শেষে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ মেলাচ্ছেন প্রার্থীরা
- ১০ ফেব্রুয়ারি: দেখে নিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ মঙ্গলবার: রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের ওয়াক্ত
- এক সপ্তাহে বড় লাফ! রিজার্ভে নতুন চমক দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
- আকাশে আসছে নতুন অতিথি: দেখা মিলবে ধূমকেতু ভিয়ারজোসের
- স্বনির্ভর বাংলাদেশের লক্ষ্যে বিটিভিতে তারেক রহমানের বিশেষ ভাষণ
- ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ লড়াই? লাহোরে আইসিসি ও বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- বাইরে থেকে কেউ দেশ গড়ে দেবে না, দায়িত্ব আমাদেরই: তারেক রহমান
- এপস্টেইন মারা যাননি, তিনি বেঁচে আছেন: সাবেক প্রেমিকার চাঞ্চল্যকর দাবি!
- দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় নেমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ডা. মিতু
- ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিনেই সংস্কার শুরু হবে: ডা. শফিকুর রহমান
- শেখ হাসিনার আসনে ধানের শীষ বনাম ঘোড়া: লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে
- স্কুলে রমজানের ছুটি নিয়ে সুখবর! মন্ত্রণালয়কে মাউশির চিঠি
- হারের ভয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে একটি পক্ষ: শফিকুর রহমান
- আজই শেষ ব্রিফিং হতে পারে: শফিকুল আলম
- নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ইসি: সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সুখবর
- ধর্মের নামে ভোট চাওয়া ইমান নষ্ট করার শামিল: মির্জা ফখরুল
- স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা, ভরি মিলবে ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকাতে
- বাজুসের নতুন রেকর্ড: ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম
- আবেগ নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতা: জামায়াতের নারী শ্রমনীতি কেন আত্মঘাতী
- আইনের রক্ষক পুলিশ কেন ভয়ের প্রতীকে পরিণত হয়?
- ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?
- পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে কে এগিয়ে? সোচ্চারের জরিপে চমক!
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন দাম
- আজ কোন কোন এলাকায় গ্যাস থাকবে না জেনে নিন
- কালিগঞ্জে ধানের শীষের জনসমুদ্র: সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দীনের হুঙ্কার
- শীত নিয়ে বদলাচ্ছে পূর্বাভাস, জেনে নিন বিস্তারিত
- আজ টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- আজ শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে








