রক্তাক্ত কানাডা: টাম্বলার রিজ শহরের স্কুলে ভয়াবহ গুলি বর্ষণ

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের টাম্বলার রিজ শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরা ও সিবিসি নিউজসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই বর্বরোচিত হামলায় হামলাকারীসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে স্কুলের ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, হামলা চালানোর পর তিনি নিজেই নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলের ভেতর ৬ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যান। এ ছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এমন একটি বাড়ি থেকে আরও ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।
ভয়াবহ এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। পুলিশ জানিয়েছে, দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় একটি মেডিকেল সেন্টারে প্রায় ২৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও বিভিন্ন আঘাতের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। হামলার পরপরই স্কুল থেকে ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। এলাকায় জারি করা জরুরি অবস্থা বা শেল্টার-ইন-প্লেস আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে বর্তমানে আর কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই।
ইরানের হামলার শঙ্কায় অভিনব কৌশলে দেশে ফেরেন ট্রাম্প
ইরানের হামলার আশঙ্কায় গত জুলাইয়ে তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার সময় এক অভিনব ও গোপন কৌশল নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্ক থেকে রওনা দেওয়ার সময় ট্রাম্প সবার সামনেই এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠেন। কিন্তু বিমানে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই তাকে খুব সতর্কতার সাথে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে একটি খাবার সরবরাহের ট্রাকের (ক্যাটারিং ট্রাক) ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই ট্রাকের মাধ্যমে তাকে গোপন একটি ছোট সামরিক বিমানে তুলে নেওয়া হয়।
এদিকে যে বড় বিমানে ট্রাম্প প্রথমে উঠেছিলেন, সেটিকেই মূলত ‘ফাঁদ’ বা ‘ডেকয়’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সাংবাদিক এবং অনেক কর্মকর্তা জানতেন না যে ট্রাম্প আসল বিমান ছেড়ে অন্য বিমানে উঠে গেছেন; সবাই ভেবেছিলেন ট্রাম্প ওই বড় বিমানটিতেই আছেন। এমনকি যাত্রার সময় সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা পর্যন্ত নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল। পরে গোপন সেই সামরিক বিমানটি প্রথমে ব্রিটেনের একটি ঘাঁটিতে নামে এবং সেখান থেকে ট্রাম্প নিরাপদে ওয়াশিংটনে ফেরেন।
মূলত ইরানের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের সুনির্দিষ্ট হুমকি পাওয়ার কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় এমন নজিরবিহীন ও গোপন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
/আশিক
সৌদি যুবরাজকে ফোন জেলেনস্কির, ফোনালাপে যে চুক্তি আলোচনায়
ইউক্রেন ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সর্বশেষ যোগাযোগে। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় ‘ড্রোন ডিল’ বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি আলোচনাটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন ও সৌদি আরব এমন কয়েকটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারে, যেখানে দুই দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। বিশেষ করে আধুনিক ড্রোন ও ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তিতে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
ফোনালাপের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যে আলোচিত ড্রোন চুক্তি। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই সমঝোতা বাস্তবায়নে অদূর ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার একটি কাঠামো গড়ে ওঠে, যা ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের ভিত্তি তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
ইউক্রেনের জন্য এই অংশীদারত্বের গুরুত্ব শুধু অস্ত্র বা ড্রোন প্রযুক্তি রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কিয়েভ ড্রোন শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং কম খরচে আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সেই দক্ষতা ভাগ করে নেওয়ার বিনিময়ে ইউক্রেন অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার সুযোগ খুঁজছে। চলতি বছরের মার্চেই জেলেনস্কি এমন পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক সহযোগিতার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন।
সর্বশেষ ফোনালাপে সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে। জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ বিন সালমান তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে রিয়াদের সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং সেখান থেকে তৈরি হতে পারে এমন নতুন সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। এর ফলে সৌদি আরবের বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে ইউক্রেনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কীভাবে যুক্ত হতে পারে, সেটিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শস্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি ইউক্রেন। যুদ্ধের কারণে কৃষি উৎপাদন, বন্দর অবকাঠামো এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহে এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর দিয়ে নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখা বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও সক্রিয় হয়েছে। এপ্রিলে জেলেনস্কি সৌদি আরব সফর করে নিরাপত্তা, জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। তখন দুই দেশ আরও বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও সামনে আসে।
-রফিক
আরবের কাব্য থেকে বাস্তবে ফিরল মরুভূমির বিরল অনাগার
একসময় আরবের মরুভূমিতে অবাধে বিচরণ করত বন্য গাধার বিশেষ প্রজাতি ‘অনাগার’। প্রাচ্যের প্রাচীন কবিদের কবিতাতেও নানাভাবে উঠে এসেছিল এই প্রাণীর নাম। তবে অনিয়ন্ত্রিত শিকার ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের কারণে সৌদি আরবের বুক থেকে একসময় বিলুপ্ত হয়ে যায় প্রজাতিটি। প্রায় এক শতক পর সেই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটি কেবল সৌদিতে ফিরে এসেছে তা-ই নয়, সেখানে সফলভাবে একটি অনাগার শাবকেরও জন্ম হয়েছে।
সৌদি আরবের ঐতিহাসিক ‘প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভে’ জন্ম নেওয়া এই পুরুষ শাবকটিকে দেশের বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণের ইতিহাসে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, শাবকটির জন্ম হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। তবে অনাগার শাবকের জীবনের প্রথম বছরটি মারাত্মক ঝুঁকি ও সংবেদনশীলতায় ভরা থাকায় বিষয়টি এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল। সফলভাবে জীবনের প্রথম ১২ মাস পার করার পরই সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে তার জন্মের খবর জনসমক্ষে আনা হয়।
রিজার্ভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু জালুমিস জানান, হাজার বছর আগের আরবী কাব্যে যে বুনো প্রাণীর বন্দনা করা হতো, প্রায় ১০০ বছর পর সেই প্রাণী সৌদির বুকে ফিরে এল। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি প্রাণীর জন্ম নয়, বরং আরবের বিলুপ্ত প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
মরুভূমিতে অনাগার ফিরিয়ে আনার এই রূপরেখা তৈরি হয় ২০২৪ সালে। সেই সময়ে জর্ডানের শওমারি ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভ থেকে ৫টি স্ত্রী ও ২টি পুরুষসহ মোট ৭টি অনাগার সৌদি আরবে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রায় ৯৩৫ কিলোমিটার পথ সফলভাবে অতিক্রম করে এগুলোকে সৌদির সংরক্ষিত বনে আনা হয়েছিল।
সৌদিতে পৌঁছানোর পর একটি স্ত্রী অনাগার এই পুরুষ শাবকটির জন্ম দেয়। অবশ্য পরবর্তীতে আরও দুটি গর্ভধারণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং একটি স্ত্রী অনাগারের মৃত্যু ঘটে। বর্তমানে এই রিজার্ভে পূর্ণবয়স্ক ও নবজাতক মিলিয়ে ৫টি স্ত্রী এবং ৩টি পুরুষ অনাগার জীবিত রয়েছে। এছাড়া আরও দুটি স্ত্রী অনাগার বর্তমানে সম্ভবা রয়েছে, যাদের থেকে আগামী শীতে নতুন শাবকের জন্ম আশা করা হচ্ছে।
প্রকৃতিবিদদের মতে, নতুন জন্ম নেওয়া অনাগার শাবকের টিকে থাকা বেশ চ্যালেঞ্জিং। সাধারণত ১১ মাস গর্ভে থাকার পর জন্ম নেওয়ার মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শাবককে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয় এবং মায়ের দুধ পান শুরু করতে হয়। মায়ের প্রথম শালদুধই তার শরীরে প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
উল্লেখ্য, পারস্য অনাগার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তির চরম ঝুঁকিতে থাকা প্রাণীদের একটি। পুরো বিশ্বে প্রাকৃতির পরিবেশে এদের সংখ্যা ৬০০টিরও কম বলে ধারণা করা হয়। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) এই উপপ্রজাতিটিকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
তবে সৌদি আরবের এই উদ্যোগ কেবল অনাগারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির ‘রিওয়াইল্ড অ্যারাবিয়া’ প্রকল্পের আওতায় ওই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ২৩টি বিলুপ্তপ্রায় স্থানীয় প্রজাতিকে তাদের পুরনো প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪টি প্রজাতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, অনাগার রক্ষায় কেবল প্রাণীটি টিকিয়ে রাখাই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন বিস্তৃত মুক্ত মরুভূমি, সুনির্দিষ্ট স্থানীয় উদ্ভিদ এবং নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র। তাই অনাগারের এই বংশবৃদ্ধি সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র পুনরায় সুস্থ হয়ে ওঠার একটি ইতিবাচক সংকেত বহন করে।
প্রাচীন আরবে অনাগার ছিল বুনো স্বাধীনতা ও মুক্ত জীবনের প্রতীক। সেই ঐতিহ্যের রূপ ধরে প্রাণীটি আবার নতুন করে সৌদির মরুভূমি চষে বেড়াচ্ছে। আগামী কয়েক দশকের মধ্যে পরিবেশকে এমন অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই দেশটির মূল লক্ষ্য, যেখানে অনাগারের পাশাপাশি আরবীয় চিতাবাঘ, চিতা ও সিংহের মতো ঐতিহাসিক শিকারি প্রাণীরাও নিশ্চিন্তে বাস করতে পারবে।
/আশিক
শর্ত মানলেই কেবল খুলবে হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা ইরানের
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে কিনা, তা সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সামরিক ও কৌশলগত জলপথটি খোলার বিষয়ে তাদের নিজস্ব কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। একই সঙ্গে ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরানের সঙ্গে যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তার সঙ্গে হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে কোনো সম্পর্ক নেই বলেও ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাত দিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র সারদার মোহেবি জানান, হরমুজ কেবল কোনো সাধারণ অর্থনৈতিক নৌপথ নয়, বরং এটি ইরানের ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তির একটি বড় অংশ। মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তেহরান।
মোহেবি আরও উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক যোগাযোগপথটি খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের উত্থাপিত সব শর্ত পুরোপুরি মেনে নিতে হবে। পাশাপাশি অঞ্চলটিতে যেকোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। আইআরজিসির মতে, ওয়াশিংটন যদি এসব দাবি মেনে নেয়, তবেই কেবল প্রণালিটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সংকট সমাধানের মূল চাবিকাঠি এখন ওয়াশিংটনের হাতে। ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে যে গুঞ্জন ছিল, আইআরজিসির এই অবস্থান তা সরাসরি খারিজ করে দিল।
/আশিক
ইরান সরকারের নীতি নির্ধারণী পরিষদের শীর্ষ পদে নতুন মুখ
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই। রোববার (৯ আগস্ট) ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানায় এএফপি।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের মুখপাত্র মেহদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, পূর্বসূরি মোহাম্মদ বাঘের জুলঘাদর সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর রেজাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে। দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া জুলঘাদর এখন থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন বলে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় জানিয়েছে।
৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর আইআরজিসির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ঐতিহাসিক ইরান-ইরাক যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রত্যক্ষ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইরান সরকারের বেশ কিছু নীতি নির্ধারণী পদে কাজ করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনার আবহেই রেজাইয়ের এই পদে আগমন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তাকে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখেন। গত জুলাইয়ে এক বক্তব্যে রেজাই উল্লেখ করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা 'ডজনখানেক পারমাণবিক বোমার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ'।
/আশিক
কঠোর অবস্থান থেকে সরছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধ সমাপ্তিতে নতুন মেরুকরণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিজের বিজয় ঘোষণা করার পথ খুঁজছেন বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান যদি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেয়, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে নতুন কোনো কঠোর চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া থেকে সরে আসতে পারেন ট্রাম্প। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাকেই ট্রাম্প প্রশাসন সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রণালিটি উন্মুক্ত হলে মার্কিন সামরিক অভিযানের সাফল্য দাবি করে ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রাথমিক সামরিক লক্ষ্যগুলো ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে এবং এখন মূল মনোযোগ জলপথটি সচল করার ওপর। জানা গেছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জানিয়েছেন যে, কোনো আনুষ্ঠানিক পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই তিনি হয়তো এই সংঘাতময় অধ্যায়ের ইতি টানতে পারেন। কারণ, গত জুনে ইরানের প্রধান তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ার পর তাদের পক্ষে পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু করা বেশ কঠিন। তদুপরি, তেহরান নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পদক্ষেপ নিলে তা মার্কিন গোয়েন্দা জালে ধরা পড়বে এবং মার্কিন সামরিক অভিযানের ভয় ইরানকে নিবৃত্ত রাখবে বলেই ট্রাম্প মনে করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইরান যদি পারমাণবিক কার্যক্রমে নতুন কোনো অগ্রগতি না ঘটায় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়, তবে ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে পারেন এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধও তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে এসেছিলেন যে, যুদ্ধ শেষের চুক্তিতে এমন শক্ত শর্ত থাকতে হবে যাতে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন নমনীয় মনোভাব বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত এক বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।
সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল
ট্রাম্পের ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর
গাজা যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইসরায়েল এই ১৫ দফার নথিটি পুরোপুরি অস্বীকার করছে। নেতানিয়াহু জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, হামাসকে সত্যিকার অর্থে নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কোনো ধরনের সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। ইসরায়েল হামাসের কেবল কাল্পনিক বা লোকদেখানো বিলুপ্তি নয়, বরং প্রকৃত অবসান চায়।
তিনি আরও জানান, এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ওয়াশিংটনের সাথে তাঁদের আলোচনা চলছে। গাজা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হলেও তার মধ্যে কয়েকটি ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য, তবে সিংহভাগ বিষয়ই তাদের কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
সূত্র: আল-জাজিরা।
হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন শর্ত দিল ইরান
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একগুচ্ছ কঠোর শর্ত রেখেছে ইরান। তেহরান বলছে, ওয়াশিংটন তার বর্তমান সামরিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত কৌশলগত এই জলপথ স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার সুযোগ নেই। একই সময়ে ওমানের মধ্যস্থতায় প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা এগোলেও নতুন এসব শর্ত দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাগের জোলঘাদর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করার আগে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের চারপাশে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের শর্ত এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। চলমান সংঘাতে দেশটির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার কারণে বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টিও শর্তের তালিকায় রয়েছে। তেহরান আরও চাইছে, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক এবং দেশটির বিরুদ্ধে হুমকিমূলক অবস্থান থেকে সরে আসুক ওয়াশিংটন।
জোলঘাদরের ভাষ্য, এসব কেবল সরকারের দর-কষাকষির অবস্থান নয়; বরং ইরানের জনগণের দাবি। তিনি দাবি করেন, গত ১৬০ দিন ধরে ইরানিরা এসব বিষয় জোরালোভাবে তুলে ধরছেন। যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ইরানের এমন কঠোর অবস্থান সামনে এলো এমন সময়ে, যখন ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ সংকট নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অগ্রগতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার জানান, প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি রয়েছে তেহরান। তবে সম্ভাব্য সমঝোতা হলেই যে সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে, বিষয়টি এমন নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আরাগচির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রণালি পুনরায় খোলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত ওয়াশিংটন লঙ্ঘন করেছে বলে তেহরানের অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিস্থিতি সংশোধনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায় ইরান।
অন্যদিকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুটের সমন্বয় নিয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে প্রযুক্তিগত বা পরিচালনাগত কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি কাঠামোগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি ব্যবস্থার বিষয়ে সমর্থন তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও ঠিক কবে প্রণালিটি স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান অচলাবস্থা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের বিষয় নয়; এর সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাও সরাসরি যুক্ত। পারস্য উপসাগরের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান পথ এই সরু জলপথ। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে পরিবহন ব্যয় ও সামুদ্রিক বীমার খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ কারণে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার দিকে এখন শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরান নয়, জ্বালানি আমদানিনির্ভর এশীয় অর্থনীতি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোরও নজর রয়েছে। হরমুজে স্থায়ী সমাধান হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও শিপিং বাজারে অনিশ্চয়তা কমতে পারে। বিপরীতে আলোচনা ব্যর্থ হয়ে সামরিক উত্তেজনা আবার বাড়লে এর প্রভাব অপরিশোধিত তেলের দাম থেকে শুরু করে বৈশ্বিক পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হরমুজ সংকট সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ইরানের বিস্তৃত শর্ত নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, ওয়াশিংটন এসব দাবির কতটুকু বিবেচনায় নিতে প্রস্তুত এবং মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান কতটা কমাতে পারেন। সেই সমীকরণের ওপরই হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফেরার ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
-রফিক
ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ মার্কিন সামরিক প্রধানের
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক একাধিক ব্যক্তিগত বৈঠকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় ছয় মাস পার হলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তা আড়ালে আলোচনা করছেন যে, চলমান এই সংঘাত সমাপ্ত করার মতো কোনো সহজ সামরিক সমাধান যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। তিনি মার্কিন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে যুদ্ধ আরও তীব্র করার নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। অথচ অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের যুদ্ধ নীতি, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কারণে ইতোমধ্যে দেশে এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। দেশের বর্তমান অর্থনীতিকে ট্রাম্প 'ইতিহাসের সেরা' বলে দাবি করায় তা নিয়ে ব্যঙ্গ করে শুমার প্রশ্ন তোলেন, প্রেসিডেন্ট আসলে কোন গ্রহ থেকে এসে এমন মন্তব্য করছেন।
সূত্র: সিএনএন
পাঠকের মতামত:
- বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়া দিল্লির ইতিবাচক পদক্ষেপ
- ইন্টার মায়ামি ও বিশ্ব ফুটবলে মেসির ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা
- প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বন্ধ ৩ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর চুক্তি স্বাক্ষর
- মন খুলে কথা বললে টুইস্ট করা হয়: শিক্ষামন্ত্রী
- ইরানের হামলার শঙ্কায় অভিনব কৌশলে দেশে ফেরেন ট্রাম্প
- জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বেসরকারি বিনিয়োগের ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর
- লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৫ দিনের নতুন পূর্বাভাস
- সরাসরি সম্প্রচার ও সরাসরি গণনা: যেভাবে জানা যাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল
- তারেক রহমানের সঙ্গে ভিসা প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
- মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে হবে
- আজকের নামাজের সময়: ফজর থেকে ইশা একনজরে
- সৌদি যুবরাজকে ফোন জেলেনস্কির, ফোনালাপে যে চুক্তি আলোচনায়
- এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণ শুরু আজ, আবেদন করবেন যেভাবে
- স্বর্ণের বাজারে বড় লাফ, নতুন দাম জানাল বাজুস
- হাসিনা-কাদের-হাছানের নতুন কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে
- বাংলাদেশের ৪৬ ধাপ পেছনের দেশ খেলবে বিশ্বকাপে
- আজ শপিংয়ের পরিকল্পনা? এই মার্কেটগুলো থাকবে বন্ধ
- দুর্বল ৫ ব্যাংকের পুরোনো মালিকানা ফেরার সুযোগ বন্ধ করল সরকার
- শূন্য পদে রিজভী নাকি অন্য কেউ: বিএনপিতে আলোচনার ঝড়
- চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব কামরুল ইসলাম নির্বাচিত
- কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে বৃদ্ধের বাড়িতে চুরি, স্বর্ণালংকারসহ ৩ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ
- ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট? জেনে নিন এসএসসি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের নিয়ম
- আরবের কাব্য থেকে বাস্তবে ফিরল মরুভূমির বিরল অনাগার
- তানজিদ তামিমের অনন্য অর্জন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
- অধিকার কেড়ে নিলে পরিণতি ভালো হবে না: জামায়াত আমির
- শর্ত মানলেই কেবল খুলবে হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা ইরানের
- সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় কমলো স্বর্ণের দাম, বুধবার চোখ সিপিআই উপাত্তে
- ইরান সরকারের নীতি নির্ধারণী পরিষদের শীর্ষ পদে নতুন মুখ
- যশোর বোর্ডে ফেলের তালিকায় মানবিক বিভাগ, ছেলেদের টপকে শীর্ষে ছাত্রীরা
- এসএসসি পরীক্ষার খাতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে: শিক্ষা উপদেষ্টা
- বিগত ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর বড় ঘোষণা
- শেখ হাসিনা ও হাদি হত্যাকারীদের দ্রুত প্রত্যর্পণের তাগিদ দিল বাংলাদেশ
- আগারগাঁওয়ে পুলিশের অভিযান: গ্রেপ্তার হলেন সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত ব্যবসায়ী
- ফ্যাসিবাদের আচরণ করলে বিরোধী দল হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না: শফিকুর রহমান
- বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ
- দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির বড় সিদ্ধান্ত
- বিদেশ ভ্রমণকারীদের খরচ পরিশোধে এলো বড় সুখবর
- কঠোর অবস্থান থেকে সরছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধ সমাপ্তিতে নতুন মেরুকরণ
- সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে বড় অগ্রগতির খবর
- দেশ পরিচালনায় পূর্ণ সততা নিশ্চিতে হেফাজত আমিরের দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
- দিনেই নামবে আঁধার, মহাজাগতিক দৃশ্য ঘিরে বিজ্ঞানী মহলে তোলপাড়
- হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে ইট-পাথর নিক্ষেপ, প্রাণরক্ষার দাবি
- ট্রাম্পের ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর
- চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত অভিনেতা গ্রেপ্তার, পাঠানো হলো আদালতে
- জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না — ১১ দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণা
- ৪১ লাখ মা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, বাঁশখালীতে গৃহহীনদের ঘর দিল সরকার
- হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন শর্ত দিল ইরান
- ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নতুন সামুদ্রিক রুট চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান
- এটা সংস্কার নয়, হস্তান্তর: নতুন জ্বালানি নীতি নিয়ে জামায়াতের তোপ
- ইরানকে যে শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র, যেটা মানলেই ছাড়
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে নতুন তথ্য, কী বলছে সিএনএন
- গণমাধ্যম শক্ত হলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল
- তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি কি নতুন সামরিক জোট? যা বললেন এরদোগান
- স্বর্ণের দাম কমল, আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে ভরি
- আগস্টের শেষে চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ
- প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বিএনপিতে ব্যাপক প্রস্তুতি
- আজ টিভিতে যত খেলা: এলপিএল ফাইনালসহ জমজমাট সূচি
- প্রথম mRNA ফ্লু টিকা অনুমোদন, কারা নিতে পারবেন
- শনিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের সময়
- এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণ শুরু আজ, আবেদন করবেন যেভাবে
- ৫ আগস্ট বিজয়ের দিন, ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- মণিপুরের অমীমাংসিত সীমান্ত নিয়ে ভারত-মিয়ানমার আলোচনা








