১৮ মাসের ইউনূস সরকার: সাফল্য বনাম ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১০:১১:৪৫
 ১৮ মাসের ইউনূস সরকার: সাফল্য বনাম ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ 
ছবি : সংগৃহীত

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ১৮ মাসের দায়িত্বকাল শেষ করতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করা এই সরকারের পারফরম্যান্স নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সরকারের তিনটি প্রধান লক্ষ্য—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন আয়োজন—এই তিন ক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিতর্ক সমানতালে চলছে।

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ

অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। প্রথমে নির্বাচনের সময় নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলেও বিএনপি ও অন্যান্য দলের চাপে শেষ পর্যন্ত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ নির্ধারিত হয়। এই দিনেই অন্তত ৩০টি বিষয়ে দলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে চারটি প্রধান সংস্কার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মতে, দেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এত বেশি সংস্কার কার্যক্রম আগে কখনো হয়নি। তবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, সরকার কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের পথে এগোলেও অনেক ক্ষেত্রে 'পিক অ্যান্ড চুজ' বা পছন্দমতো বিষয় বাছাই করার নীতি গ্রহণ করেছে, যার ফলে শিক্ষা বা নারীর সমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অবহেলিত হয়েছে।

বিচারের ক্ষেত্রে সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে জুলাই গণহত্যার বিচার শুরু করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং গুম-খুনের অভিযোগে সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনাকে সরকার বড় অর্জন মনে করছে। তবে ঢালাও হত্যা মামলা এবং সাংবাদিক, শিক্ষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তুলেছেন—এটি কি আসলেও 'বিচার নাকি প্রতিশোধ', যা স্বচ্ছতার অভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, সামষ্টিক অর্থনীতি ও রিজার্ভের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার সফল হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলার থাকলেও বর্তমানে তা ২৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা কমাতে ৫টি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে; ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৪৯ শতাংশে। বিশেষ করে চাল ও নিত্যপণ্যের দাম না কমা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার জায়গা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত ১৮ মাসে 'মব জাস্টিস' বা গণপিটুনির সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন মাজার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও সংবাদপত্রের ভবনে হামলা সরকারের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বিচ্ছিন্ন আক্রমণের ঘটনাগুলো নাগরিক নিরাপত্তায় বড় ক্ষত তৈরি করেছে। অধিকার-এর তথ্যমতে, গত ১৪ মাসে অন্তত ৪০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এসেছে। যদিও সরকারের দাবি, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।


রাত পেরোলেই ভোট: নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পুরো দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ০৯:৩০:৫৭
রাত পেরোলেই ভোট: নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পুরো দেশ
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাত পেরোলেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা এখন শেষ মুহূর্তের কাজগুলো গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই ভোটযজ্ঞে এবার মোতায়েন করা হচ্ছে রেকর্ডসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে পুরো দেশ, যেখানে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে অত্যাধুনিক নজরদারি।

শেষ সময়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা ভোটের মাঠের চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করছেন। বাংলাদেশে ভোট মানেই একদিকে যেমন উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে সংঘাত ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা। বিগত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে মাত্র ৪টিতে উৎসবের আমেজ বজায় থাকলেও বাকি ৮টিতে ভোটের মর্যাদা রক্ষায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কারচুপি রুখতে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্যের শরীরে বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে এবং আকাশপথে নজরদারি করবে পাঁচশর বেশি ড্রোন।

সশস্ত্র বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মিলিয়ে এবার মাঠে থাকছেন প্রায় ৯ লাখ সদস্য। এর মধ্যে পুলিশ ও আনসারের সাত লাখের বেশি সদস্য মূল দায়িত্বে নিয়োজিত। সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ সেনা সদস্যের পাশাপাশি নৌ ও বিমানবাহিনীও বিশেষ নজরদারিতে নিয়োজিত থাকবে। বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা কাজ করবেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে। এ ছাড়াও দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থেকে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল নির্বাচনে অংশ নিলেও দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থী, যাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় ও ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিকের পাশাপাশি ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিকও সংবাদ সংগ্রহের জন্য নিবন্ধন করেছেন।


দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে দিয়েছি: বিদ্যুৎ উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২১:৫৯:৫৫
দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে দিয়েছি: বিদ্যুৎ উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি স্বচ্ছ, আধুনিক এবং টেকসই রোডম্যাপ রেখে যাচ্ছে।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল দুর্নীতির ‘আর্কিটেকচার’ ভেঙে ফেলা। এর অংশ হিসেবে বিতর্কিত ‘২০১০ সালের দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ আইন’ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বিইআরসি-কে (BERC) পূর্ণ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে গত দেড় বছরে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হয়নি। দুর্নীতির চিত্র চিহ্নিত করতে জাতীয় পর্যায়ের কমিটি এবং বিচারপতি ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, একই মন্ত্রণালয়ের সচিবদের অধীনস্থ কোম্পানির চেয়ারম্যান হওয়ার যে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ ছিল, তা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। জ্বালানি খাতে বড় অর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেল আমদানিতে রিফাইনারি মালিকানার শর্ত তুলে দেওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং প্রিমিয়াম ৩৫ শতাংশ কমায় গত ছয় মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এ ছাড়া ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারিকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

গ্যাস ও কয়লা উত্তোলন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানের সংশোধিত চুক্তি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন করে কোনো কয়লা উত্তোলন প্রকল্পে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী মার্চ মাসে সেখান থেকে ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন শুরু হতে পারে। আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তিটিও বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনি পর্যালোচনার অধীন রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।


অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে এবারের ভোট? বড় সম্ভাবনার কথা শোনালেন ইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২১:৩১:১৪
অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে এবারের ভোট? বড় সম্ভাবনার কথা শোনালেন ইসি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ডের আশা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের অভূতপূর্ব সাড়ায় এবার ভোটের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এই ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি, যার মধ্যে প্রায় ৪ কোটিই তরুণ ভোটার। এই বিশাল সংখ্যক তরুণ প্রজন্মকে ভোটকেন্দ্রে টানতে কমিশন বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এমনকি তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে নিবন্ধনের সময়সীমা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তিনি মনে করেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এবার ভোট দেওয়ার যে স্পৃহা দেখা যাচ্ছে, তা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। যদি এই তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়, তবে ভোট কাস্টিংয়ের হারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

তরুণদের পাশাপাশি নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়েও আশাবাদী কমিশন। দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী এবং বিগত নির্বাচনগুলোতেও তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এবার নারী ভোটারদের উদ্দীপনা আরও বেড়েছে। অনুকূল পরিবেশ এবং ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা কঠিন, তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার ভোটের হার অতীতের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি ব্যক্তিগত ধারণা ব্যক্ত করেন।


বিজয়ীদের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়েই বিদায় নেব; পরবর্তী গন্তব্য জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২০:৫৩:৫৭
বিজয়ীদের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়েই বিদায় নেব; পরবর্তী গন্তব্য জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এক ঐতিহাসিক বার্তা দিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনের পরপরই বিজয়ী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনিসহ উপদেষ্টারা নিজ নিজ পেশায় ফিরে যাবেন।

আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিশেষ ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।” নবনির্বাচিত সরকারের সাফল্য কামনা করে তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ব অর্পণের প্রতিশ্রুতি দেন।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা একটি ‘চিহ্নিত মহলের’ অপপ্রচার ও গুজবের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়িয়ে নাগরিকদের মনে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে, যার মূল লক্ষ্য নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা। বর্তমান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না—এমন গুঞ্জনকে ‘ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

জনগণকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, গুজবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সত্য। সঠিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য তিনি সরকারি হটলাইন ৩৩৩-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে বিগত মাসগুলোতে সংশয় তৈরি করেছিল, তারা আজ ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণ নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনে বিশেষ আস্থা জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


প্রকাশিত হলো প্রধান উপদেষ্টাসহ সকল উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২০:৪০:৩৯
প্রকাশিত হলো প্রধান উপদেষ্টাসহ সকল উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব
ছবি : সংগৃহীত

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, অন্য উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জনসমক্ষে আনা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপদেষ্টাদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী ও স্বামীদের সম্পদের হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের ৩০ জুন এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁদের অর্জিত সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। মূলত ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন এবং শুরুতেই সরকারের নীতিনির্ধারকদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে আসা জরুরি। উপদেষ্টাদের পর পর্যায়ক্রমে সকল সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে বলে তখন জানিয়েছিলেন তিনি। সরকারের এই উদ্যোগকে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার পথে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণীর বিস্তারিত জানতে পারবেনএখান থেকে


ব্যালট পেপার পৌঁছাবে আগামীকাল: ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৯:৩১:২৫
ব্যালট পেপার পৌঁছাবে আগামীকাল: ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি 
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যালট পেপার ইতিমধ্যে জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং আগামীকাল বুধবারের মধ্যেই তা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসি সানাউল্লাহ জানান, আগামীকাল সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার বিতরণের কাজ শুরু হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮১ জন। দেশের মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশীয় ৪৫ হাজার ৩১৩ জন এবং ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য নিবন্ধন করেছেন। আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষায় পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য সারা দেশে মোতায়েন থাকবে।


নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ: নজরে পুরো দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৭:২০:৫১
নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ: নজরে পুরো দেশ
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং 'জুলাই জাতীয় সনদ' বিষয়ক গণভোটকে সামনে রেখে তিনি এই ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।

প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে আজ এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ড. ইউনূসের এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ ছাড়া দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ভাষণটি একযোগে প্রচার করা হবে।

আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি জাতিকে ভোট প্রদান এবং নির্বাচন পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেবেন।

এর আগে সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছিলেন যে, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ওই দিন প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি পর্যালোচনা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম এই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আজ ভাষণের সময়সূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে জল্পনার অবসান ঘটল।


ভোটের দিনে সারা দেশে পাঁচ ধরনের যান চলাচল বন্ধ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৪:০৮:৫০
ভোটের দিনে সারা দেশে পাঁচ ধরনের যান চলাচল বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে পাঁচ ধরনের যানবাহনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস এবং ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ভোট গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। ইসির মতে, ভোটের দিন যানজট, অননুমোদিত চলাচল ও নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ভোট গ্রহণের পরদিন শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

ইসি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন যেমন ওষুধ পরিবহন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা এবং সংবাদপত্র পরিবহনের যান চলাচল অব্যাহত রাখতে পারবে।

এছাড়া বিমানযাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। বৈধ বিমান টিকিট বা সংশ্লিষ্ট ভ্রমণপ্রমাণ দেখাতে পারলে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। একইভাবে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন এবং দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

নির্বাচনী কাজে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একটি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের জন্য পৃথকভাবে একটি করে গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এসব যানবাহনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন নিতে হবে এবং গাড়িতে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত স্টিকার দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেলও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন থাকলে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্যান্য ব্যক্তির মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে জরুরি সেবার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এবং আন্তজেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতেও যান চলাচলে সীমিত পরিসরে ছাড় থাকবে।

এদিকে ভোটারদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে গণপরিবহন ব্যবস্থায় স্বস্তির খবর দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি ভোটারদের চাপ সামাল দিতে ওইদিন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এই সমন্বিত যানবাহন নীতিমালা ভোটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ ভোটারদের চলাচল সহজ রাখতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


এমপিও শিক্ষকদের অবসরে যুগান্তকারী আইন সংশোধন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৩:৫৮:৪৭
এমপিও শিক্ষকদের অবসরে যুগান্তকারী আইন সংশোধন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লাখ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনে গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী সংশোধনী এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অবসর সুবিধা প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও তহবিল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই নতুন অধ্যাদেশকে শিক্ষা খাতে একটি কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গতকাল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অধ্যাদেশটি প্রকাশের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে ২০০২ সালের মূল আইনের সংজ্ঞা ও আওতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সংশোধিত আইনের ২ ধারায় ‘প্রতিষ্ঠান’ শব্দের সঙ্গে স্পষ্টভাবে ‘এমপিওভুক্ত’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে আইনটির প্রযোজ্যতা নিয়ে যে দ্ব্যর্থতা ছিল, তা দূর হয়েছে। এর পাশাপাশি কলেজ, দাখিল ও তদূর্ধ্ব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসাকেও প্রথমবারের মতো এই অবসর সুবিধা কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন বঞ্চিত একটি বড় অংশের শিক্ষক-কর্মচারী আইনি সুরক্ষা পেলেন।

অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালনা কাঠামোতেও আনা হয়েছে মৌলিক পরিবর্তন। সংশোধিত আইনে বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ–এর সচিবকে চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর–এর মহাপরিচালককে ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করার চেষ্টা করা হয়েছে।

পরিচালনা পরিষদে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে আইনের ৬(১)(ড) ধারায়। এতে একজন পরিচালক রাখার বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যিনি পদাধিকারবলে বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার মনোনীত ১১ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারীকেও বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে, যাদের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর।

শিক্ষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় অধ্যাদেশে যুক্ত হয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবধর্মী বিধান। এতে বলা হয়েছে, কোনো প্রশাসনিক বা আইনি কারণে যদি অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন করা সম্ভব না হয়, তবে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের পাওনা অবসর সুবিধা প্রদান করা যাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি অবসর সুবিধা নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা কমাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন।

আইনগত ভাষায় আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশে অবসর সুবিধা ‘প্রদান’ শব্দের পরিবর্তে ‘অনুমোদন’ শব্দের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অর্থ ছাড়ের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশ্লেষকেরা।

তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অধ্যাদেশে কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বোর্ডের স্থায়ী তহবিল সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া অন্য কোথাও বিনিয়োগ করা যাবে না। এই অর্থ কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, সরকারি বন্ড অথবা ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করা যাবে এবং বোর্ডের অন্য কোনো কার্যক্রমে এই তহবিল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তহবিল পরিচালনার বিস্তারিত পদ্ধতি পৃথক প্রবিধানের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

সংশোধিত আইনের ১২(২) ধারায় বোর্ডের প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রে একজন পরিচালকের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার কর্তৃক প্রেষণে নিযুক্ত এই পরিচালক বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তহবিল ব্যবস্থাপনার প্রধান দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে সরকার অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিধানও রাখা হয়েছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: