রেলওয়ের আয় ১ টাকা, খরচ ২.৫! নৈপথ্যে কারন? 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ১৬ ০৭:৪৭:৩৯
রেলওয়ের আয় ১ টাকা, খরচ ২.৫! নৈপথ্যে কারন? 

সত্য নিউজ: বাংলাদেশ রেলওয়ে বর্তমানে আর্থিক সংকটে জর্জরিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা, যা প্রতি ১ টাকা আয় করতে ব্যয় করছে প্রায় আড়াই টাকা। বছরের পর বছর ধরে লোকসান গুনতে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত সেবাখাতকে লাভজনক করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করছে একগুচ্ছ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। লক্ষ্য, দ্রুত সময়ের মধ্যে অপারেটিং রেশিও ২-এর নিচে নামিয়ে আনা এবং দীর্ঘ মেয়াদে রেলকে টেকসই ও মুনাফাযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।

আয় ও ব্যয়ের অসম সাম্য: পরিসংখ্যান যা ভাবায়

রেলওয়ের সর্বশেষ হিসাব বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংস্থাটি পরিচালনা খাতে ব্যয় করেছে ৩,৫৪৮ কোটি টাকা, যেখানে আয় ছিল মাত্র ৮৩৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি ১ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় ছিল প্রায় ২ টাকা ৫৭ পয়সা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপারেটিং রেশিও যত বেশি, একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালন দক্ষতা ততটাই দুর্বল।

রেলওয়ে ২০০৫ সালে প্রতি ১ টাকা আয় করতে ব্যয় করত ১ টাকা ৪৬ পয়সা। অথচ স্বাধীনতার পর একমাত্র ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরেই লাভের মুখ দেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

আয় বাড়াতে ও ব্যয় কমাতে বাস্তবায়নাধীন কর্মপরিকল্পনা

রেলওয়ে ব্যয়ের প্রধান খাতগুলো হলো: বেতন-ভাতা, অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যয়। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পেনশন বাবদ ব্যয় হয়েছে ৯৪৬ কোটি টাকা, যা কমানোর সুযোগ নেই। তবে এই ব্যয় যেন অর্থ মন্ত্রণালয় বহন করে, সেই দাবি জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, রেল এখন অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, প্রকল্প ব্যয় ও গাড়ি ব্যবহারে কঠোরতা আনছে। মেরামত খাতে ব্যয় যৌক্তিক করা, দেশ–বিদেশে ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ বন্ধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ভূমি, মালামাল ও যাত্রী পরিবহনে নতুন কৌশল

সরকারি হিসাব অনুযায়ী রেলওয়ের আছে প্রায় ৬২ হাজার একর জমি, যার মধ্যে প্রায় ৩,৬১৪ একর জমি বেদখল। ভূমি পুনরুদ্ধার করে তা ইজারা দিয়ে আয়ের উৎস বাড়াতে চায় রেলওয়ে। অপটিক্যাল ফাইবার এবং স্টেশন-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন থেকেও আয় বাড়ানোর চিন্তা করছে সংস্থাটি।

মালামাল পরিবহন, বিশেষত খাদ্যপণ্য, সার, জ্বালানি পরিবহন বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা। যমুনা রেলসেতু চালুর ফলে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকার দিকে পণ্য পরিবহনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ জন্য টঙ্গী, তেজগাঁও, মির্জাপুর, নিমতলীতে মালামাল পরিবহনের কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আন্তনগর ট্রেনে পরিবর্তন ও কমিউটার ট্রেনের প্রসার

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে যাত্রী চাহিদা বেশি। রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, সেখানে নতুন ট্রেন চালু করলে আয় বাড়বে। বর্তমানে অধিকাংশ আন্তনগর ট্রেনে ১০-১৪টি কোচ ব্যবহার করা হলেও, ১৮-২০টি কোচ চালুর মাধ্যমে একই ইঞ্জিন ও জ্বালানিতে বেশি যাত্রী বহন সম্ভব। এতে ব্যয় বাড়বে না, বরং আয় বাড়বে।

শহরকেন্দ্রিক গণপরিবহনে রেলের ব্যবহার বাড়াতে কমিউটার ও সার্কুলার ট্রেন চালুর সুপারিশ এসেছে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। মাসিক টিকিট চালু হলে আগাম আয় নিশ্চিত করা যাবে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: রেলের রূপান্তরের পথে

রেলওয়ে দীর্ঘমেয়াদি ৯টি উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-

নতুন ইঞ্জিন ও কোচ: ৮০টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন, ৫০০টি কোচ ও ২০০টি কনটেইনার সংগ্রহ।

বাণিজ্যিক স্থাপনা: রেলের অপ্রয়োজনীয় জমিতে বিপণিবিতান, হোটেল, অফিস নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া।

নতুন রেললাইন: ঢাকা-লাকসাম-চট্টগ্রাম নতুন রেললাইন নির্মাণ, যা দূরত্ব প্রায় ৯০ কিমি কমাবে। ফৌজদারহাট-লাকসাম শুধুমাত্র মালবাহী রেলপথ নির্মাণ।

আন্তর্জাতিক তুলনা ও শিক্ষণীয় দিক

বিশ্বের অনেক দেশেই রেল লাভজনকভাবে পরিচালিত হয়। কানাডায় প্রতি ১ ডলার আয় করতে খরচ হয় ৬৩ সেন্ট। ভারতের রেলওয়ের অপারেটিং রেশিও মাত্র ৯৮.৩২, অর্থাৎ তারা লাভে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি খাতে রেল পরিচালিত হয়, এবং কোম্পানিগুলো আয়ের তুলনায় ৩০–৪০ শতাংশ কম খরচে রেল চালায়।

বিশেষজ্ঞ মত

বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, “রেলের আয় বাড়াতে হলে কনটেইনার ও মালামাল পরিবহন বাড়াতে হবে। জমি থেকে প্রকৃত আয় নিশ্চিত করতে হবে। কেনাকাটায় স্বচ্ছতা, অপচয় রোধ ও দুর্নীতি বন্ধ করলেই দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্ভব।” তিনি শহরকেন্দ্রিক ট্রেন সেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের এই অর্থনৈতিক সংকট শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং জাতীয় সম্পদের সুরক্ষার প্রশ্ন। সরকার, রেল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সুসংহত, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে একসময় লাভজনক রেলব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব—যা হবে দেশের পরিবহন অবকাঠামোয় এক নবযাত্রার সূচনা।


বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১১:৩৪:০৬
বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন 
ছবি : সংগৃহীত

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য নতুন আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক এই কার্যক্রম ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন উপকারভোগী নির্বাচনের লক্ষ্যে আবেদন গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। নির্দেশনাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তির পাশাপাশি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতাভুক্ত বিভিন্ন সুবিধার জন্যও আবেদন করা যাবে। এর মধ্যে হিজড়া, বেদে ও অন্যান্য অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং চা-শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আগ্রহী ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্যব্যবস্থার অনলাইন আবেদন প্ল্যাটফর্মে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা যে ইউনিয়ন, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন এলাকায়, সেই ঠিকানার ভিত্তিতেই আবেদন দাখিল করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর এবং ট্র্যাকিং আইডি ব্যবহার করে আবেদনের অগ্রগতিও অনলাইনে দেখা যাবে।

প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদনকারীর জন্য প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ ব্যবস্থার আওতায় ইস্যু করা সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। ভাতার অর্থ গ্রহণের জন্য আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাব অথবা ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রয়োজন হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হলে যোগাযোগের জন্য সক্রিয় মোবাইল নম্বরও আবেদনে উল্লেখ করতে হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, যারা ইতোমধ্যে সরকারের অন্য কোনো নিয়মিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে একই ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন, তারা নতুন করে এই কর্মসূচির উপকারভোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন না। একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ ঠেকাতে আবেদনকারীর তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হবে।

আগে অনলাইনে আবেদন করে যাদের নাম অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে, তাদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। আগের অপেক্ষমাণ আবেদন এবং নতুনভাবে জমা পড়া আবেদন একসঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হবে। তবে আবেদনকারীকে নিজের তথ্য সঠিক ও হালনাগাদ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবেদন করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাতার জন্য নির্বাচিত হবেন না। প্রথমে আবেদনকারীর বয়স, আর্থিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতার তথ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, স্থায়ী ঠিকানা এবং অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করছেন কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর প্রচলিত নীতিমালা, স্থানীয় যাচাই কমিটির সুপারিশ এবং বরাদ্দসংখ্যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত উপকারভোগীর তালিকা প্রস্তুত হবে।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিরা বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট ভাতা বা শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তবে আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছু সময় লাগতে পারে।

আবেদন করার সময় নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং আর্থিক হিসাবের তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে। ভুল তথ্য, অন্যের মোবাইল হিসাব, অস্পষ্ট কাগজপত্র কিংবা ঠিকানায় অসামঞ্জস্য থাকলে আবেদন বাতিল বা যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর পাওয়া ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করাও জরুরি।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক আবেদন ও কর্মসূচির তথ্য রয়েছে। আবেদনকারীদের কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তিকে অর্থ না দিয়ে প্রয়োজনে নিকটস্থ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রাফসান


মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ২১:৫২:৪৮
মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির কূটনৈতিক ও কৌশলগত প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। নিকটবর্তী প্রতিবেশী হিসেবে রাখাইন রাজ্য বা মিয়ানমার থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে ঢাকা। রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচই ইউকাউ সো মো এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে বাংলাদেশের এই আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বাংলাদেশে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহযোগিতার অংশ হিসেবে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংগ্রহের প্রস্তাব বিবেচনায় এনেছে বাংলাদেশ। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন এবং সরাসরি পাইপলাইনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আকারেও সরবরাহের নানাবিধ সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব প্রকাশ করেন।

আলোচনায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত সংযোগ পাইপলাইন স্থাপনের পূর্বে স্থগিত হওয়া প্রস্তাবটিকে পুনরায় গতিশীল করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের কাঠামোগত প্রস্তাব স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দ্বিপাক্ষিক পাইপলাইন সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে তা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিধি বিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে জ্বালানি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র উন্মোচনের সুযোগ নিয়ে বিস্তৃত মতামত বিনিময় হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


হাইকোর্টে জোড়া মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৯:৫১:৩৩
হাইকোর্টে জোড়া মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
ছবি : সংগৃহীত

আদালতের পৃথক দুটি মামলায় জামিন পেয়েছেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর, হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় তার জামিন সংক্রান্ত রুলের ওপর শুনানি শেষে রোববার (২ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা বিচারাধীন থাকায় এখনই তিনি কারামুক্তি পাচ্ছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার নিযুক্ত আইনজীবী।

এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর এই দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। সেই রুলের শুনানি শেষে গত ২৬ জুলাই আদালত রায়ের তারিখ হিসেবে ২ আগস্ট দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে শুনানি শেষে জারি করা রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে রায় দেন উচ্চ আদালত। আদালতে আসামি পক্ষে আইনি পরিচালনা করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।

আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের জানান, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যা সংক্রান্ত মামলাটির বিচার কাজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রক্রিয়াধীন এবং রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলায় তার জামিন আদেশ স্থগিত রয়েছে। বাকি চারটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় হাইকোর্ট জামিনের আদেশ দিয়েছেন এবং অবশিষ্ট দুটি মামলার রুল শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

উলেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করা হয়, যার ভিত্তিতে একই বছরের ২৫ নভেম্বর তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তার জামিন আবেদনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সৃষ্ট সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। উক্ত হত্যার ঘটনায় নিহত আইনজীবীর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে পুলিশ ও সংক্ষুব্ধ পক্ষ থেকে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা নিয়ে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

/আশিক


হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি জোটে বাংলাদেশ, জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:৪৪:০০
হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি জোটে বাংলাদেশ, জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রবিবার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, হুতিদের উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, এই পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান বা দেশটিকে উপেক্ষা করার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ তেহরানের সঙ্গেও বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে অংশগ্রহণের পেছনের প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, রিয়াদের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও বহুমাত্রিক। এই সম্পর্ককে কেবল হজ, ওমরাহ বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি শক্তিশালী কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের এক ধরণের সুদৃঢ় আত্মিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ জড়িত। তাই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনে সহায়তা চাওয়া হলে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে তাতে সাড়া দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একই সংবাদ সম্মেলনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জামিন পাওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, সাবেক এই কর্মকর্তাকে ফেরত আনার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে মূল উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ সংক্রান্ত আইনগত ও কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনো অগ্রগতি হলে তা স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

/আশিক


অপারেশন শরতের তুফান: ৮ বছর পর ট্রাইব্যুনালে উঠে এল কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:৩২:১৫
অপারেশন শরতের তুফান: ৮ বছর পর ট্রাইব্যুনালে উঠে এল কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের পাতারটেকে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এই আবেদন পেশ করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, যার সাথে যুক্ত ছিলেন একাধিক প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সাবেক সরকারের আমলে বিরোধী দল ও ইসলামী মতাদর্শ দমনে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের মতো একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। কোনো রাজনৈতিক নেতা বা সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা নিষিদ্ধ সমতুল্য ছিল এবং বহু মানুষকে গোপন বন্দিশালায় রাখা হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ধরনের অভিযান ও ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকে জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বহুবার মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করেছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়।

ঘটনার বিবরণে প্রসিকিউটর তামিম উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামের এক অভিযানে সোয়াত সদস্যরা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) নেতৃত্বে সাতজনকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের বিভিন্ন স্থান থেকে তুলে এনে প্রথমে বগুড়ার একটি গোপন স্থানে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় এখনও অজানা হলেও বাকি তিনজন ছিলেন মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ইবরাহীমের বাবা ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। এছাড়া তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুমকির কারণে নিহতদের স্বজনেরা সেসময় লাশ দাবি করতে সাহস পাননি বলেও শুনানিতে উঠে আসে।

মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, তৎকালীন এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সিটিটিসির তৎকালীন প্রধান মনিরুল ইসলামসহ পুলিশ ও ডিবি বিভাগের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। আসামিদের মধ্যে শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং শুনানির দিন তাদের ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়।

অভিযোগ গঠনের শুনানির পাশাপাশি আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালত থেকে অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন এবং শুনানির প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় চান। প্রসিকিউশন থেকে নথিপত্র পেতে দেরি হয়েছে উল্লেখ করে আসামিপক্ষ সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রসিকিউশনের কোনো আপত্তি না থাকায় ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল।

/আশিক


আরব আমিরাতে জামিন পেলেন সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:০৮:৫০
আরব আমিরাতে জামিন পেলেন সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে দেড় মাসেরও বেশি সময় বন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন, যদিও এর আগে ২৭ জুলাই সেখানকার আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন।

দুবাইয়ের আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি বর্তমানে ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে নিশ্চিত করেছে তার পারিবারিক সূত্র। তবে দুবাই পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও ঢাকার পাঠানো নথিপত্র পর্যালোচনার পরও কেন তাকে ফেরত আনা সম্ভব হলো না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজ দেশের নাগরিকত্ব ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে এবং ভিন্ন দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করলে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতেও তাকে দেশে ফেরানো অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে। তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ বিনিয়োগের মাধ্যমে তুরস্কের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট অর্জন করেছেন বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও তার বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানা গেছে। কোনো ব্যক্তি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈধ বাসিন্দা হলে এবং সে দেশে তার বিরুদ্ধে কোনো স্থানীয় অপরাধের অভিযোগ না থাকলে প্রত্যর্পণ এড়ানো আইনিভাবে সহজ হয়ে যায়। এর আগে পুলিশ পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যা মামলার আসামি আরাভ খানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল; ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহারের কারণে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশ মূলত সদস্য দেশগুলোর কাছে কোনো অপরাধীকে শনাক্ত বা সাময়িকভাবে আটক করার অনুরোধ, যা কোনো সরাসরি আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। কোনো অভিযুক্তকে নির্দিষ্ট দেশে ফেরত পাঠাবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত ও সরকার।

আদালতে প্রত্যর্পণের আদেশ কার্যকর করার আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার নথি, অভিযোগের আইনি ভিত্তি এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়। দুবাইয়ের আদালতে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত নথিপত্র ও আইনি আবেদনের ওপর উভয় পক্ষের শুনানির পর আদালত শর্তসাপেক্ষে বেনজীর আহমেদকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন। জামিনের শর্ত হিসেবে তার দুবাই ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং তার পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা রাখা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদের জামিন বা বর্তমান অবস্থান নিয়ে দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। এ বিষয়ে ইমেইলে যোগাযোগ করা হলে দুবাই পুলিশের জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স জানায়, তারা সরাসরি এ ধরনের তথ্য প্রচার করে না এবং তথ্যের জন্য তার কোনো নিকটাত্মীয়কে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে পাঠাতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরের ইন্টারপোল শাখা (এনসিবি) বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ সদরদপ্তরের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে সম্মত হননি।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়, তার মধ্যে তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে এবং তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, যার ভিত্তিতে গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

/আশিক


২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার রূপরেখা পেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২১:৪৫:৪৫
২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার রূপরেখা পেশ
ছবি : সংগৃহীত

সরকার ও ব্যবসায়ীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উদ্যোগে আয়োজিত শীর্ষ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এ সংক্রান্ত দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সভায় উল্লেখ করা হয়, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজ—উভয় পক্ষই গভীরভাবে অনুধাবন করছে। সমস্যার কার্যকর সমাধানে নিবিড় সংলাপ ও সমন্বয়ের বিকল্প নেই।

ইতিপূর্বে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ২৮টি সুনির্দিষ্ট সমস্যার মধ্যে ২১টি বিষয়ে ইতোমধ্যে নীতিগত সমাধান ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৭টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও খাতভিত্তিক সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির নানা দিক নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বিস্তারিত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার একটি কৌশলগত রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। এই লক্ষ্য অর্জনে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সার্বিক নীতিনির্ধারণী সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

উচ্চপর্যায়ের এই নীতি নির্ধারণী বৈঠকে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক: অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ১৮:৩৮:০৬
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক: অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সার্বিক বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের। আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন ব্যবসায়ী সমন্বয়ে গঠিত এক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রচেষ্টার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত এক বিশেষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, শিল্প খাতে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, দেশের বেসরকারি খাতের বিকাশ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোতে দ্রুত ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হলে পণ্য খালাসের সময় ও খরচ কমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়বে। একই দিনে দেশের শীর্ষ স্থানীয় একাধিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও যৌথ উদ্যোগে অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়গুলোতে ঐকমত্য দেখা গেছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক: অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ১৮:৩৮:০৬
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক: অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সার্বিক বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের। আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন ব্যবসায়ী সমন্বয়ে গঠিত এক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রচেষ্টার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত এক বিশেষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, শিল্প খাতে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, দেশের বেসরকারি খাতের বিকাশ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল করতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোতে দ্রুত ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হলে পণ্য খালাসের সময় ও খরচ কমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়বে। একই দিনে দেশের শীর্ষ স্থানীয় একাধিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও যৌথ উদ্যোগে অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়গুলোতে ঐকমত্য দেখা গেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: