'এটা ট্রেলার মাত্র': গুলির নির্দেশনা অডিও ঘিরে তাজুল ইসলামের বিস্ফোরক মন্তব্য

জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর গুলির নির্দেশনা সংক্রান্ত একটি অডিও কল ঘিরে চরম বিতর্ক দানা বেঁধেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ সংবেদনশীল রেকর্ডিং প্রকাশ্যে আনে, যেখানে দাবি করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই গুলির নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিবিসির প্রকাশিত অডিওটি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। বুধবার (৯ জুলাই) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। নিজের চোখেই দেখে নিন। তবে এই কল রেকর্ডটি বিবিসি উদ্ধার করেনি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা। এটা ট্রেলার মাত্র। অনেক কিছু এখনো বাকি। অপেক্ষায় থাকুন।”
এই বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, রেকর্ডিংটি ইতিমধ্যেই তদন্ত সংস্থার কাছে ছিল এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তা প্রকাশের আগে থেকেই বিষয়টি সরকারের নির্ধারিত ট্রাইব্যুনালের আওতায় তদন্তাধীন ছিল। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে।
অন্যদিকে, বিবিসির অনুসন্ধান অনুসারে, কল রেকর্ডটি প্রথম রেকর্ড করে বাংলাদেশের ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি), যা সরকারের টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে। তবে এই রেকর্ডিং কে ফাঁস করেছেন, সে বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি।
বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে তারা অডিও ক্লিপটি স্বাধীনভাবে যাচাই করেছে। রেকর্ডিংটি পরীক্ষা করা হয় অডিও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান Earshot-এর মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অডিও ক্লিপটিতে কোনো সম্পাদনা, বিকৃতি বা কৃত্রিমতা পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, রেকর্ডিংটিতে ইলেকট্রিক নেটওয়ার্ক ফ্রিকোয়েন্সি (ENF) শনাক্ত করা গেছে, যা অডিওর সময় এবং উৎপত্তির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। এটি নিশ্চিত করে যে রেকর্ডিংটি প্রকৃত সময়ে ধারণ করা এবং পরবর্তীতে এর সঙ্গে কোনো রকম কারসাজি করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে:
-যদি কল রেকর্ডটি সরকারের মনিটরিং সংস্থার রেকর্ড করা হয়, তবে সেটি কীভাবে আন্তর্জাতিক মাধ্যমে ফাঁস হলো?
-আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে যদি এ রেকর্ড আগে থেকেই থাকত, তবে তা এতদিন গোপন রাখা হলো কেন?
-‘ট্রেলার’ হিসেবে যা প্রকাশ হলো, ‘পুরো চলচ্চিত্রে’ কী ধরনের তথ্য সামনে আসতে যাচ্ছে?
এই অডিও কলের সত্যতা নিয়ে এখন আর তেমন সন্দেহ থাকছে না, বরং রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং আইনি দায়-দায়িত্বের প্রশ্ন ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে। বিষয়টি এখন শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের উপাদান নয় এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে একটি জলসীমান্তে পৌঁছে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রেকর্ড যদি আইনত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তা হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ। অন্যদিকে, যদি এটি ‘প্রসঙ্গচ্যুত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার’ হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে এর পেছনের ষড়যন্ত্র এবং ফাঁসকারীর পরিচয় বের করাও হবে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
টিউলিপকে ধরতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আদেশ
ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই নজিরবিহীন আদেশ প্রদান করেন।
এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর শুনানিতে জানান যে, টিউলিপ সিদ্দিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই আবাসন কোম্পানি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণ করেছেন। হস্তান্তরযোগ্য নয় এমন একটি প্লটে ওই কোম্পানিকে বহুতল ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি এই ঘুষ নিয়েছেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয় যে, টিউলিপ সিদ্দিক এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া শুরুর আগেই দেশত্যাগ করেছেন এবং বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিকসহ রাজউকের সাবেক দুই আইন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে গুলশানের একটি সংরক্ষিত প্লট জালিয়াতি ও ফ্ল্যাট ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করে দুদক। ১৯৬৩ সালের সরকারি লিজ চুক্তি অনুযায়ী যে প্লটটি ৯৯ বছরের মধ্যে হস্তান্তর বা বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল, সেই প্লটেই অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে এই ব্রিটিশ এমপির বিরুদ্ধে এবার আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পথে হাঁটল আদালত।
/আশিক
১৭ বছর পর নতুন মোড়: বিডিআর মামলায় এবার আসামি শেখ হাসিনা
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক মামলায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এবার এই মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আজমসহ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি (স্পেশাল পিপি) বোরহান উদ্দিন গণমাধ্যমকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্পেশাল পিপি বোরহান উদ্দিন জানান, বিস্ফোরক মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় ১ হাজার ২০০ সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সাক্ষীর জবানবন্দিতে উঠে এসেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তৎকালীন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল। তিনি আরও জানান, সাক্ষীদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
২০০৯ সালের সেই অভিশপ্ত দিনে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলাটি এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। প্রায় ৮৫০ জন আসামির এই মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে আছে। উল্লেখ্য যে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই মামলার কয়েকশ আসামি ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছেন। ১৭ বছর পর নতুন করে শীর্ষ নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের বিচার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
/আশিক
২১ ফেব্রুয়ারিতে ডিএমপির সড়ক নির্দেশনা, কোন পথ এড়াবেন
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগত দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট কয়েকটি সড়ক ব্যবহার করতে হবে এবং নিরাপত্তা বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মানতে হবে।
শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং ও শহীদ মিনার রোড দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। অন্য কোনো পথ দিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দোয়েল চত্বর বা চাঁনখানপুল হয়ে বের হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে জনসমাগম সুশৃঙ্খল থাকে।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে শহীদ মিনার এলাকায় কোনো ধরনের ধারালো অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ বা সন্দেহজনক বস্তু বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার জানান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিদেশি কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও জানান, দিবসটি ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নজরদারিতে থাকবেন। বিশেষায়িত ইউনিট যেমন সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, সিসিটিভি ক্যামেরা ও মোবাইল নজরদারি টিমের মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যাতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগত মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন থাকে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
প্রশাসন সকলকে নির্দেশনা মেনে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
-রফিক
আদালতে দেখা হবে! গণভোটের আইনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে শিশির মনিরের হুঙ্কার
অ্যাডভোকেট শিশির মনির 'জুলাই জাতীয় সনদ' ও গণভোট সংক্রান্ত সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জগুলো আদালতে মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই জাতীয় সনদ কিংবা গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে যদি কোনো পক্ষ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তিনি তাঁর আইনজীবী বন্ধুদের সাথে নিয়ে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সাথে তা আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিহত করবেন।
ফেসবুক পোস্টে অ্যাডভোকেট শিশির মনির সংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করে লিখেছেন, এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি ও তাঁর সহযোগীরা যেকোনো আইনি পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন। রাজনৈতিক ও আইনি মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত এই 'জুলাই জাতীয় সনদ' নিয়ে যখন নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলছে, তখন এই আইনজীবীর এমন প্রকাশ্য ঘোষণা বিষয়টিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। তাঁর এই বার্তা মূলত গণভোট ও সনদের পক্ষশক্তিকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/আশিক
টয়লেটের পেস্ট ও টিস্যু খেয়ে বেঁচে ছিল শিশুটি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীর ওপর চালানো নির্যাতনের রোমহর্ষক ও লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে আদালতের শুনানিতে। পিঠে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা থেকে শুরু করে চোখে মরিচের গুঁড়া দেওয়া—এমন সব অমানবিক আচরণের তথ্য শুনে খোদ বিচারকও স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন আসামিদের রিমান্ড শুনানির সময় এসব তথ্য তুলে ধরেন।
রিমান্ড শুনানির একপর্যায়ে বিচারক ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দির অংশবিশেষ পড়ে শোনান। সেখানে উঠে আসে যে, শিশুটিকে খাবার না দিয়ে বাথরুমে আটকে রাখা হতো। খিদের জ্বালায় সে টয়লেটের পেস্ট ও টিস্যু খেয়ে দিন পার করেছে। প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও তাকে কোনো গরম কাপড় দেওয়া হয়নি এবং দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকতে বাধ্য করায় তার পায়ে পচন ধরেছে। শিশুটির শরীরে মুখ থেকে গলা পর্যন্ত লম্বা পোড়া দাগ, কপালে লাঠির আঘাত এবং উরুতে গরম খুন্তির ছ্যাঁকার অসংখ্য চিহ্ন পাওয়া গেছে। এমনকি তার মাথার চুল ধরে টানার কারণে শিশুটি প্রচণ্ড মাথাব্যথায় ভুগছে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত বিমান বাংলাদেশের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান ও গৃহকর্মী রূপালী খাতুনকে ৫ দিনের রিমান্ড এবং সাফিকুরের স্ত্রী বীথিকে ৭ দিন ও অপর গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা বলেন, সরকারি উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তার বাসায় এমন পাশবিক নির্যাতন দেশ ও জাতির জন্য চরম লজ্জাজনক।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করে দাবি করেন যে, সাফিকুর রহমান অফিসে ব্যস্ত থাকতেন এবং এসব বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তবে শিশুটির বাবা, যিনি একজন হোটেল কর্মচারী, গত ১ ফেব্রুয়ারি চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। গত ২ ফেব্রুয়ারি তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
ভোটের দুই দিন আগে সুসংবাদ: বিএনপির ৩ প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা শেষ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে আইনি লড়াইয়ে বড় জয় পেলেন বিএনপির তিন হেভিওয়েট প্রার্থী। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ঢাকা-১১, কুমিল্লা-৩ এবং বগুড়া-১ আসনের এই তিন প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে করা লিভ টু আপিলের শুনানি আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শেষ হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত শুনানির জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।
ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে গত ২ ফেব্রুয়ারি রিট করেছিলেন এনসিপি প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, কাইয়ুম ভানুয়াতো নামক দেশের নাগরিক। হাইকোর্ট গত ৩ ফেব্রুয়ারি ওই রিট সরাসরি খারিজ করে দিলে নাহিদ ইসলাম লিভ টু আপিল করেন। তবে আপিল বিভাগ আজ আদেশ দিয়েছেন যে, এই আপিলের শুনানি নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে লড়তে কাইয়ুমের কোনো বাধা নেই।
কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল উচ্চ আদালতে রিট ও পরবর্তীতে লিভ টু আপিল করেছিলেন। আদালত আজ ইউসুফ সোহেলের সেই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছিলেন জামায়াত প্রার্থী সাহাবুদ্দিন। আদালত আজ এই মামলার শুনানিও নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত হবে বলে আদেশ দেন। ফলে রফিকুল ইসলামের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ সুগম হলো।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সারা দেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকাগুলোর বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সাবেক মন্ত্রী আমুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মিলল যত টাকা
আদালতের নির্দেশে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর ব্যাংক হিসাবগুলোতে থাকা বিপুল অর্থের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে ঢাকার একটি আদালত তাঁর নামে থাকা মোট ৮টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই হিসাবগুলোতে বর্তমানে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৯১ হাজার ৯২৭ টাকা জমা রয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের আদেশের মূল বিষয়সমূহ
আমির হোসেন আমুর নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের মোট ৮টি ব্যক্তিগত হিসাব।
হিসাবগুলোতে বর্তমানে জমা আছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৯১ হাজার ৯২৭ টাকা।
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুলফিকার আলী।
আমির হোসেন আমু ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, চাঁদাবাজি এবং দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব হিসাবে দেশি ও বিদেশি মুদ্রা পাচার কিংবা হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হওয়ার জোরালো সন্দেহ রয়েছে। অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যেই এই লেনদেনগুলো করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে টাকাগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই আমির হোসেন আমু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এর আগে গত বছরের মার্চ মাসেও তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৪৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
গৃহকর্মী শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা! বিমানের এমডি শফিকুর রহমান গ্রেপ্তার
শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ শুনানি শেষে তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অন্য দুই আসামি হলেন—শফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম। এর আগে রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও রোমহর্ষক বর্ণনা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে শফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছরের শিশু মোহনাকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে দিয়েছিলেন তার বাবা গোলাম মোস্তফা। কাজে নেওয়ার সময় মোহনার বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আসামিরা। গত বছরের ২ নভেম্বর মোহনার বাবা তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসলেও এরপর থেকে আর তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
গত ৩১ জানুয়ারি শফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী ফোন করে মোহনার বাবাকে জানান যে মোহনা অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে হবে। মোহনার বাবা তাকে আনতে গিয়ে দেখতে পান, শিশুটির দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। মোহনা ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না। পরবর্তীকালে মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নির্মম নির্যাতনের চিত্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহনা জানায়, গত ২ নভেম্বর তার বাবার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকেই শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ অন্যরা অকারণে তাকে মারধর করত। এমনকি জ্বলন্ত খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় মোহনার বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
আদালতের কার্যক্রম আজ আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জামিনের আবেদন করলেও রাষ্ট্রপক্ষের উপপুলিশ পরিদর্শক তাহমিনা আক্তার এর তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চারজনকেই জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিমান বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
শেখ হাসিনাসহ ১১ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু: ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) ২৬ জনকে গুম ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় এক ঐতিহাসিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সাবেক ও বর্তমান ১১ জন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই স্পর্শকাতর মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন। প্যানেলের অন্য দুই বিচারক হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এই বিচারের মাধ্যমে বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে পরিচালিত গোপন বন্দিশালা বা জেআইসির কার্যক্রম এবং সেখানে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র জনসমক্ষে উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ মামলায় শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিক ছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স বা ডিজিএফআই-এর পাঁচজন সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি), পাঁচজন পরিচালক এবং একজন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল। মামলার মোট আসামির মধ্যে বর্তমানে মাত্র তিনজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে বা গ্রেপ্তার রয়েছেন, যেখানে বাকি ১০ জন আসামিই এখনো পলাতক। বিশেষ করে পলাতক আসামিদের মধ্যে ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযুক্ত এই সাবেক মহাপরিচালকদের তালিকায় রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বেআইনিভাবে আটকে রেখে নির্যাতনের নির্দেশ প্রদান ও তা তদারকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক। প্রসিকিউশন পক্ষের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ক্ষমতাকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় গুম ও নির্যাতনের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। আজ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীদের জবানবন্দীর মাধ্যমে গুমের শিকার হওয়া ২৬ জন ব্যক্তির ওপর পরিচালিত নির্মমতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হবে। মামলাটি আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিগত দেড় দশকের বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। পলাতক আসামিদের অনুপস্থিতিতেই ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের আইনি ইতিহাসে এক নজিরবিহীন উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
পাঠকের মতামত:
- কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
- রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: রিয়াদ-বাহরাইনের পর এবার কাঁপল দুবাই
- যুব রেড ক্রিসেন্ট, হাজেরা তজু স্কুল এন্ড কলেজ ইউনিটের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ
- সংসদে নতুন বিরোধী দল দেখবে দেশ: জামায়াত আমির
- বিকাশে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: বড় পদে আবেদনের সময় শুরু
- গণতন্ত্রের জয়যাত্রায় আমরা ঐক্যবদ্ধ: জামায়াতের ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর বড় বার্তা
- ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি মিসাইল: নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে লাল ইরান
- ঈদের দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিটের তারিখ ঘোষণা
- ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে লণ্ডভণ্ড বিশ্ব বিমান চলাচল
- ইসরায়েল-আমিরাতের পর এবার সৌদিতে বিস্ফোরণ
- ইরানে যুদ্ধের মধ্যেই বিদ্রোহের উস্কানি দিলেন ট্রাম্প
- অতীতের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে সময় নষ্ট নয়: মির্জা ফখরুল
- নিশানা এবার খোদ আমেরিকা: বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় হামলা
- ইসরায়েলে আকাশ থেকে নামছে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি! সাইরেনের শব্দে কাঁপছে ইসরায়েল
- কালিগঞ্জে ঘেরের বাসায় আগুন, দখলচেষ্টা ও মাছ লুটের অভিযোগ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
- ইরানে বড় সামরিক হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের
- ঈদে বাড়তি ভাড়া নিলেই কঠোর ব্যবস্থা: সড়ক ও নৌমন্ত্রী
- ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা
- ইফতারের আড্ডায় ভিন্ন মাত্রা: জিভে জল আনা ডিমের চপের সহজ রেসিপি
- দাদিকে কুপিয়ে ও নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা: ঈশ্বরদীতে ঘাতকদের পৈশাচিকতা
- যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, এটি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইফতারে যে ভুলগুলো ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
- আজ কোন দেশের মুদ্রায় কত লাভ? জেনে নিন ২৮ ফেব্রুয়ারির আপডেট দর
- রক্তক্ষয়ী বড় সংঘাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান
- আজ জামায়াতের ইফতারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম: জেনে নিন আজ ভরিপ্রতি লেটেস্ট রেট
- উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে থেকেই আসত সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: সাখাওয়াত হোসেন
- সাকিবের জাতীয় পতাকা বহন করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই: আসিফ মাহমুদ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে যেসব এলাকা
- আজ রাজধানীর কোথায় কোন কর্মসূচি? একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তালিকা
- সবুজ পোশাকে সেজেছে ব্রাহ্মণপাড়ার বোরো মাঠ: কৃষকের চোখে এখন সোনালি দিনের স্বপ্ন
- আজ ১০ রমজান: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- বিপজ্জনক অবস্থানে বাংলাদেশ! ঘন ঘন ঝাঁকুনিতে বড় প্রলয়ের অশনিসংকেত
- শিশুর প্রশ্ন-আংকেল রোজা রাখেন? প্রধানমন্ত্রীর উত্তর-জ্বি সবগুলো রেখেছি
- স্বজনপ্রীতি নয়, যাচাই করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ
- জেদ্দায় বৈঠক: রিয়াদ সফরে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- পাকিস্তান–আফগান সংঘাতে জাতিসংঘের উদ্বেগ
- ভূমিকম্পে যে দোয়া পড়তে বলেছিলেন রাসূল (সা.)
- শনিবার একাধিক এলাকায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ
- মাধবদীতে কিশোরী হত্যা: ইউনিয়ন নেতাসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
- ডিএসইতে সাপ্তাহিক পতনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান
- ডিএসইতে সপ্তাহের বাজারে সেরা ১০ পারফরমার
- এসএমই তহবিল শিল্পে না গিয়ে ট্রেজারি বন্ডে, মুনাফায় বিদেশ সফর
- ইউনূস সরকারের আমলে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি
- রাজধানীতে তাপমাত্রার হালনাগাদ তথ্য
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা
- পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল হক’, আফগানিস্তানে বিমান হামলার দাবি
- কোথায় দেখবেন আজকের সব ম্যাচ?
- আজ নামাজের সময়সূচি জানুন
- অনলাইনে ও মোবাইলে যেভাবে দেখবেন জুনিয়র বৃত্তির ফলাফল
- স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড! ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা
- আবারও বাড়ল স্বর্ণ-রুপার দাম: নতুন দরে নাকাল সাধারণ ক্রেতারা
- বন্ধকী কূটনীতির দেশে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির স্বপ্ন
- মহাকাশে বিরল মহোৎসব: বাংলাদেশ থেকে এক সারিতে দেখা যাবে ৬ গ্রহ!
- ৫ আগস্টের সেই ৪০ মিনিট! বঙ্গভবনের ভেতর যা ঘটেছিল জানালেন রাষ্ট্রপতি
- সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণ! আজ থেকে নতুন রেট কার্যকর
- ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রস্তুত ১৩ জেলা: উদ্বোধনের তারিখ জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- তিন স্তরের যাচাই শেষে ফ্যামিলি কার্ড: জেনে নিন আবেদনের সব নিয়ম
- সাতক্ষীরায় সংরক্ষিত নারী আসন: নেতাকর্মীদের পছন্দের শীর্ষে সেতারা নাসরিন নিশি
- জাকাত ও ফিতরা কত দেবেন? জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ
- বাহরাইন প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সভাপতি সম্রাট নজরুল ও সম্পাদক নোমান সিদ্দিকী
- ইফতারের পরই মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির ৫টি সহজ উপায়
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা
- মঈন খানের হাত ধরে নতুন রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্থায়ী কমিটির সদস্য








