আমি জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত: সাবেক আইজিপি

২০২৫ জুলাই ১০ ১৩:৫৯:০৫
আমি জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত: সাবেক আইজিপি

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আমি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় রাজসাক্ষী হতে চাই।” তাঁর এই স্বীকারোক্তি মামলার গতিপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে। মামুন সেই সময় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর থেকে এমন স্বীকারোক্তি বিচার প্রক্রিয়াকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলছে।

এই ঘোষণার ঠিক আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন। এর ফলে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে যে দমননীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, তা ইতিহাসে এক ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশের গুলিতে নিহত হন শত শত বিক্ষোভকারী, যাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিলেন। এই সময় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন এবং তাঁর সরাসরি স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় স্তর থেকে এ ধরণের দমন-পীড়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো, জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মহল এই বিচারকে গণতন্ত্র ও জবাবদিহির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে বলে আইনি বিশ্লেষকদের অভিমত। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষপদে থেকেও কেউ অপরাধ করলে দায় এড়াতে পারবে না এটাই এই মামলার সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তা।

এই বিচার কেবল অতীতের একটি নির্মম অধ্যায় উন্মোচনের মাধ্যম নয়, বরং বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। মামুনের স্বীকারোক্তি ও বিচারপতির আদেশের মাধ্যমে ২০২৪ সালের দমনপীড়নের বিচারিক অধ্যায় নতুন এক দিকনির্দেশনার পথে এগিয়ে চলেছে। সামনে হয়তো আরও স্বীকারোক্তি, সাক্ষ্য ও প্রমাণ উঠে আসবে, যা পুরো জাতিকে অতীতের সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।

-ইসরাত, নিজস্বপ্রতিবেদক


ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন: অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিলেই কারাদণ্ড

আইন ও পরামর্শ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ২৩:৩৮:৫২
ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন: অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিলেই কারাদণ্ড

বাংলাদেশে দ্রুত প্রসারমান ই-কমার্স খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে এবং ক্রেতাদের অধিকার সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নতুনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ’, যেখানে অনলাইন বিক্রেতাদের প্রতারণা ও অনিয়ম ঠেকাতে কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং অনাদায়ে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য বা সেবা সরবরাহ না করলে মূল্যের কয়েক গুণ জরিমানা আরোপ করা হবে। নিষিদ্ধ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২১–২২ সালে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণার কারণে হাজার হাজার গ্রাহক পণ্য না পেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন। তখন টাকা ফেরতের দাবিতে মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ পর্যন্ত হয়েছিল। এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়েই নতুন আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রিসভায় এ খসড়ার অনুমোদন হয়েছিল। তবে সরকার পতনের পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখন অন্তর্বর্তী সরকার খসড়াটি নতুন করে সামনে এনেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত খসড়া অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। এরপর যাবে ‘আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক মতামত প্রদান কমিটি’র বৈঠকে। যদিও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বিষয়টি এখনো তার নজরে আসেনি, তবে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন।

খসড়ায় বলা হয়েছে, যেকোনো ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে পণ্য ও সেবা কেনাবেচাকে ‘ডিজিটাল বাণিজ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নিবন্ধিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা নিজস্ব নামে ওয়েবসাইট, মার্কেটপ্লেস বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বা সেবা বিক্রি বা প্রদর্শন করবে, তাদেরই ‘ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে গণ্য করা হবে। অনুমতি ছাড়া গিফট কার্ড, ওয়ালেট, ক্যাশ ভাউচার বা ডিজিটাল ভাউচার চালু করলে জরিমানা করা হবে। অনলাইন লটারির আয়োজন করলেও বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে। প্রতিটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স ও ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নিতে হবে। প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে কর্তৃপক্ষ তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।

অধ্যাদেশ পাস হলে গঠিত হবে ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান দায়িত্ব হবে ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসার ও শৃঙ্খলা রক্ষা, বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি, প্রতারণা ও অপরাধ প্রতিরোধ, অনলাইন কার্যক্রম পরিদর্শন, ভুয়া বিজ্ঞাপন ও নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি ঠেকানো এবং ভোক্তা প্রতারণা রোধে তদারকি। এই কর্তৃপক্ষের কাঠামোতে থাকবেন একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী বা বাণিজ্য উপদেষ্টা প্রধান করে গঠন করা হবে উপদেষ্টা পরিষদ।

অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইন ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা, মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম, অনলাইন জুয়া, লটারি, যৌন উত্তেজক দ্রব্য বা অনলাইন এসকর্ট সেবা এ আইনের আওতার বাইরে থাকবে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) তথ্যমতে, দেশে ই-কমার্স কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৯ সালে, তবে পূর্ণাঙ্গ যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে এবং ২০১৪ সালের পর থেকে খাতটির উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটে। ২০১৮ সালে প্রণয়ন করা হয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, যা ২০২০ সালে বিদেশি বিনিয়োগ উন্মুক্ত করে সংশোধন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের অধ্যাপক সুবর্ণ বড়ুয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, ই-কমার্স খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই একটি শক্তিশালী আইন এবং কর্তৃপক্ষ গঠন এখন অত্যন্ত জরুরি, যা কার্যকর হলে অনলাইন কেনাবেচার নানা সমস্যা সমাধানে বাস্তব অগ্রগতি হবে।


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা থেকে খালাস পেলেন ইলিয়াস হোসেন

২০২৫ আগস্ট ২৭ ১৯:৪৪:০১
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা থেকে খালাস পেলেন ইলিয়াস হোসেন
ছবিঃ সংগৃহীত

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন। বুধবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরে আলম আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পেশকার মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া জানান, মিতু হত্যা মামলায় মিথ্যা ও অসত্য তথ্য সরবরাহ ও প্রচারের অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর সাবেক প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের দায়ের করা মামলায় আদালত সাংবাদিক ইলিয়াসকে খালাস দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায় থেকে তাকে এই খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ২৫ জুলাই ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জুলফিকার হায়াত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে সাবেক এসপি বাবুল আক্তার ও তার বাবা মো. আব্দুল ওয়াদুদ মিয়াকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

একইসঙ্গে, অপর দুই আসামি সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন ও বাবুলের ভাই মো. হাবিবুর রহমান লাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায়, ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত বাবুলের ভাই মো. হাবিবুর রহমানকে অব্যাহতি দেন এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরু করেন। এই মামলায় বিচার চলাকালে ১৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

/আশিক


ভূতের মুখে রাম নাম,তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান শেখ হাসিনাও: অ্যাটর্নি জেনারেল

২০২৫ আগস্ট ২৭ ১৬:০৬:৩১
ভূতের মুখে রাম নাম,তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান শেখ হাসিনাও: অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান | ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চান। তার মতে, এটি ‘ভূতের মুখে রাম নাম।’ বুধবার (২৭ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে একটি ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা) বাতিল ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এই আবেদনের ওপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ শুনানির অনুমতি দিয়েছে।

দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আজকে আদালতে বলেছি, এখন আবার আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় ফিরতে চাই। আমরা মনে করি, দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসবে। এর ফলে আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না, কোনো মা-বাবা তার সন্তান হারাবেন না। আর কখনো রক্ত দিয়ে ভোটের ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করতে হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আগের সরকার বলতো কখনো অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা থাকতে পারে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার নিজেই ছিল অনির্বাচিত। আমরা তো তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পক্ষে ছিলাম। এখন আবার ভূতের মুখে রাম নাম। আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চায়।”

/আশিক


তৌহিদ আফ্রিদির মামলা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন আইনজীবি

২০২৫ আগস্ট ২৬ ১২:২২:৪৭
তৌহিদ আফ্রিদির মামলা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন আইনজীবি
ছবিঃ সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রদের জিম্মি করে তাদের নগ্ন ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোমবার (২৫ আগস্ট) এ অভিযোগ তোলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নয়ন। শুনানি শেষে আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নয়ন আদালতে বলেন, বহুদিন ধরে পুলিশ তৌহিদ আফ্রিদিকে খুঁজছিল। অবশেষে সিআইডি গত রবিবার বরিশাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আফ্রিদি ছাত্রদের জিম্মি করে নগ্ন ভিডিও তৈরি করতেন এবং সেগুলো সংরক্ষণ করে রাখতেন। সোমবার দুপুরে সিআইডি তাকে আদালতে হাজির করলে তদন্ত কর্মকর্তা খান মো. এরফান সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে তৌহিদ আফ্রিদির বাবা, বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে আদালত তাকে এ মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান। এই মামলায় আফ্রিদি এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি এবং তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথী ২২ নম্বর আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন পাকা রাস্তায় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মো. আসাদুল হক বাবু। ওইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোড়া গুলিতে বাবুর বুকে ও শরীরের ডান পাশে আঘাত লাগে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে নিহত বাবুর বাবা জয়নাল আবেদীন ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলার তদন্তে উঠে আসে বাবুর হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রভাব, সহিংসতা এবং পরিকল্পিত হামলার নানা দিক।

-শরিফুল


হাইকোর্টে নতুন বিচারক সারজিস আলমের শ্বশুর

২০২৫ আগস্ট ২৬ ১২:০৯:৪৫
হাইকোর্টে নতুন বিচারক সারজিস আলমের শ্বশুর
ছবিঃ সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সম্প্রতি ২৫ জনকে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৫ আগস্ট) রাতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে ৯৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এসব নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের কার্যকাল সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত হবে এবং তা শপথ গ্রহণের দিন থেকে কার্যকর হবে।

এই ২৫ জন নতুন বিচারকের মধ্যে রয়েছেন ৯ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ৯ জন আইনজীবী এবং ৭ জন আইন কর্মকর্তা। এতে বিচার বিভাগের নানা স্তর থেকে আসা অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান আদালতের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অ্যাডভোকেট মো. লুৎফর রহমান, যিনি পূর্বে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের শ্বশুর।

এছাড়াও নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম (শাহীন), আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, আইনজীবী রাজিউদ্দিন আহমেদ ও ফয়সাল হাসান আরিফ, যুগ্ম সচিব এস এম সাইফুল ইসলাম, আইনজীবী মো. আসিফ হাসান ও মো. জিয়াউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দিহিদার মাসুম কবীর, হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব মুরাদ–এ–মাওলা সোহেল, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন, সলিসিটর (সিনিয়র জেলা জজ) মো. রাফিজুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, মো. রেজাউল করিম, ফাতেমা আনোয়ার, মাহমুদ হাসান, আবদুর রহমান, সৈয়দ হাসান যুবাইর, এ এফ এম সাইফুল করিম, উর্মি রহমান এবং এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ।


ক্যানসারে আক্রান্ত তৌহিদ আফ্রিদি: রিমান্ডের শুনানিতে চাঞ্চল্যকর দাবি আইনজীবীর

২০২৫ আগস্ট ২৫ ২০:১১:৩৮
ক্যানসারে আক্রান্ত তৌহিদ আফ্রিদি: রিমান্ডের শুনানিতে চাঞ্চল্যকর দাবি আইনজীবীর
ছবিঃ সংগৃহীত

গণমাধ্যমের আলোচিত ব্যক্তিত্ব ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি লিভার ও ক্যানসারে আক্রান্ত বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী খায়রুল ইসলাম। সোমবার (২৫ আগস্ট) আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান তিনি।

এর আগে আদালতে খায়রুল ইসলাম জানান, মামলার ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, মামলার বাদী তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে ভিকটিম নিহত হন। এতে আফ্রিদির কোনো ভূমিকা নেই। আইনজীবী আরও জানান, গত বছরের ১১ নভেম্বর মামলার বাদী একটি হলফনামা দিয়ে বলেন যে, তথ্যগত ভুলের কারণে আফ্রিদির নাম এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই এই মামলা থেকে আফ্রিদিকে খালাস দিলে বাদীর কোনো আপত্তি নেই। এ কারণে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।

শুনানিতে এই আইনজীবী জানান, আফ্রিদি কিডনি জটিলতায় ভুগছেন এবং তার চিকিৎসা চলমান। অতিরিক্ত হাঁটাচলার কারণে তার প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসে। এছাড়াও তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিন মঞ্জুরের আবেদন জানান তিনি।

অন্যদিকে, বাদীর আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন ও জহিরুল হাসান মুকুল রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তারা বলেন, আফ্রিদি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তারা তাকে ‘মিডিয়া সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই আসামি লাইভে এসে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ও ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করতে উৎসাহিত করেন। তাকে রিমান্ডে নিলে জানা যাবে, কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, কে কী নির্দেশনা দিয়েছিল এবং কারা অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। এই আসামি ডিবি প্রধান হারুনের সঙ্গে একাধিক লাইভ করেছেন বলেও তারা উল্লেখ করেন। তারা আফ্রিদির সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছেন। শুনানিকালে আফ্রিদিকে কাঠগড়ার লোহার রেলিং ধরে মনোযোগ দিয়ে শুনানি শুনতে দেখা যায়।

এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবী জানান, আফ্রিদি আন্দোলনের পক্ষেই ছিলেন। আন্দোলনের সময় ছাত্রদের পক্ষে তার একাধিক পোস্ট আছে। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আফ্রিদির বাবা নাসির উদ্দিন সাথীর ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, আসামির আলাদা কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবিতে নেই। আফ্রিদির কিডনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে তাকে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন।

আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আফ্রিদির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুনানি শেষে এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে আফ্রিদিকে পেটে হাত দিয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। হাজতখানার সামনে তিনি জুতা ছাড়া খালি পায়ে ছিলেন, ভিড়ের মধ্যে তার জুতা হারিয়ে যায়। এর আগে গত ১৩ মে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমও তার মামলার শুনানির সময় জুতা হারিয়েছিলেন। পরে তার জুতা এক পাগলির পায়ে দেখা গিয়েছিল।

গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ী থানার পাকা রাস্তার ওপর মো. আসাদুল হক বাবু নামের একজন আন্দোলনকারী নিহত হন। তার বুকে ও ডান পাশে গুলি লাগে। এই ঘটনায় নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন গত বছরের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে নাসির উদ্দিন ২২ নম্বর এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

/আশিক


২১ বছর পর: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার চূড়ান্ত রায় আজ

২০২৫ আগস্ট ২১ ১১:৫৭:০১
২১ বছর পর: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার চূড়ান্ত রায় আজ
ছবিঃ সংগৃহীত

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দুই দশক পেরিয়ে আজ ২১ বছর পূর্ণ হলো। তবে বহুল আলোচিত এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) আসামিপক্ষের আপিল শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত রায়ের দিন ঘোষণা করবেন।

এর আগে হাইকোর্টে খালাস পাওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সেই খালাসাদেশ বাতিলের আবেদন নিয়ে শুনানি শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চে মামলার চূড়ান্ত শুনানি চলছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, তারেক রহমানকে মামলায় জড়াতে দ্বিতীয় দফা তদন্ত করানো হয় এবং মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

গত ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেন। রায়ে ডেথ রেফারেন্স নাকচ করা হয় এবং আসামিদের দাখিল করা আপিল মঞ্জুর করা হয়।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। এই হামলায় আওয়ামী লীগের ২৪ নেতা-কর্মী নিহত হন। ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

২০১৮ সালে বিচারিক আদালত গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। রায় ঘোষণার পর মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

/আশিক


মাই টিভি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

২০২৫ আগস্ট ১৮ ১৬:৩৯:১৩
মাই টিভি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৮ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) খান মো. এরফান তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারনামীয় ১ নং আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট, আজ্ঞাবহ হয়ে মাই টিভির দায়িত্বশীল চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়ে মো. নাসির উদ্দিন সাথীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণে উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তার এমন উসকানিমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী, রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলিবর্ষণে মামলার ডিসিস্ট আসাদুল হক বাবু মৃত্যুবরণ করে বলে তদন্তে প্রকাশ পায়। নাসির উদ্দিন সাথী মাই টিভির চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে মহান সাংবাদিকতার পেশায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ও দায়িত্বে থেকে তার অনৈতিক প্রভাব ও প্রতিপত্তিতে দলীয় এবং ব্যক্তিগত হীনস্বার্থে তদানীন্তন আওয়ামী সরকারককে আজ্ঞাবহ হয়ে বিরোধী দল-মতকে প্রত্যাখ্যান করে উদ্দেশ্যমূলক হিংসাত্মক এহেন কার্যক্রম সংগঠিত করায় মামলার প্রকৃত ঘটনা, অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এ সময় আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে রবিবার গুলশান থেকে নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানাধীন পাকা রাস্তার ওপর আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন আসাদুল। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় নাসির উদ্দিন ২২ নাম্বার এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।


রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

২০২৫ আগস্ট ১৪ ২০:২০:২০
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়।

আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে সব আসামির বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১২১, ১২১ক এবং ১২৪ক ধারায় রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। গ্রেপ্তার তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলার সূত্র অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ অনেকে অংশ নেন। সেখানে শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। এর আগে, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে আসামির সংখ্যা বেড়ে ২৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

পাঠকের মতামত: