যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫% শুল্কে বিপদে বাংলাদেশের পোশাক খাত

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১০ ১২:১৯:২৮
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫% শুল্কে বিপদে বাংলাদেশের পোশাক খাত

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর হঠাৎ ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই শুল্ক কেবল পোশাক খাত নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চট্টগ্রাম বন্দর, ব্যাংকিং খাত, এক্সেসরিজ শিল্পসহ সমগ্র অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি ও কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান বলেন, “শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার কোনো আলোচনা শিল্প খাতকে জানানো হয়নি। এতে করে আমাদের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশে শুল্ক ৩৫ শতাংশ আর ভিয়েতনামে মাত্র ২০ শতাংশ, যা দুশ্চিন্তার বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি নির্ভরতা প্রায় ৪০ শতাংশ। উচ্চ শুল্কের ফলে বড় ক্রেতারা বাংলাদেশকে এড়িয়ে বিকল্প খুঁজবে।”

চট্টগ্রামের পোশাক শিল্পপতি ও বিজিএমইএ নেতা আবদুস সালাম বলেন, “এ শুল্ক আরোপে শুধু পোশাক খাত নয়, চট্টগ্রাম বন্দর, ব্যাংক, এক্সেসরিজ শিল্প সবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনটি হলে আমাদের অর্থনীতির বড় একটি চাকা থমকে যাবে।”

তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করে যৌক্তিক সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বাণিজ্য আলোচনায় ব্যবসায়ী সমাজকে যুক্ত করার আহ্বান জানান।

এদিকে এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৩৭৭টি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে ৮০১টি প্রতিষ্ঠান ৫০ শতাংশের বেশি রপ্তানি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান এখন বড় ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে শুধু পোশাক খাত থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

সত্য প্রতিবেদন/আশিক


তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১০:০২:০২
তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা তিন দফা দরপতনের পর আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আজ শুক্রবারও দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই দর বহাল থাকবে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন দর চূড়ান্ত করা হয়। এক ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকেই তা কার্যকর হয়।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। একই পরিমাণ ২১ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে লাগবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা।

এর ঠিক আগের দিন বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ২৩ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেই পতনের চেয়েও বড় অঙ্কে দাম বেড়ে গেছে। বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বা প্রায় ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

সাম্প্রতিক দর পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এই বৃদ্ধির আগে দেশের বাজারে টানা তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ফলে স্বর্ণের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, বৃহস্পতিবারের বড় বৃদ্ধিতে সেটি আপাতত থেমে গেছে। স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের বাজারদরের পরিবর্তনকেই সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাজুস।

দেশীয় বাজারের এই পরিবর্তনের সময় আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্স ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৪৮৭ দশমিক ৭০ ডলারে ওঠে। ফলে স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও মূল্যবান ধাতুটির ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা যাচ্ছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার নতুন মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ তালিকায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা রাখা হয়েছে।

এবারের মূল্যতালিকায় ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ও স্পষ্ট করেছে বাজুস। ঘোষিত স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই সরকার নির্ধারিত ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে নির্ধারিত দামের ওপর স্বর্ণের জন্য আলাদাভাবে ভ্যাট যোগ করার সুযোগ নেই। তবে অলংকারের নকশা, কারুকাজ ও তৈরির জটিলতার ওপর ভিত্তি করে মজুরি যুক্ত হবে। সে কারণে দোকানে গহনা কেনার সময় একজন ক্রেতার চূড়ান্ত ব্যয় বাজুস ঘোষিত স্বর্ণের মূল্যের চেয়ে বেশি হতে পারে।

এ ছাড়া পুরোনো স্বর্ণ বা রুপার অলংকার বিনিময় কিংবা বিক্রির ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে। এসব ক্ষেত্রে ভ্যাট, অলংকার তৈরির মজুরি এবং ব্যবহৃত পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে মূল্য হিসাব করার বিধান কার্যকর থাকবে। পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বশেষ নির্ধারিত দর অনুসরণ করতে হবে।

-রাফসান


জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার আর্থিক প্যাকেজ চালু

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২১:২৩:৩২
জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার আর্থিক প্যাকেজ চালু
ছবি : সংগৃহীত

তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তরুণদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন আর্থিক সহায়তার একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ: উপজেলা ভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তার মোট সহায়তার অর্ধেক দেওয়া হবে ব্যাংক ঋণ হিসেবে এবং বাকি অর্ধেক অংশ প্রদান করা হবে এককালীন অনুদান হিসেবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এবং সহকারী মুখপাত্র মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, গবাদিপশু পালন, পর্যটন, সেবা খাত এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ বিভিন্ন খাতের বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী তরুণরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরদের নিবিড় পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং বাজার সংযোগের মতো নানাবিধ কারিগরি সুবিধা পাবেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত সার্কুলার জারি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলার প্রকাশের পর থেকে আগ্রহী প্রার্থীরা এক মাস সময় পাবেন নির্ধারিত ফরমে নিজ নিজ উপজেলার যেকোনো ব্যাংক শাখায় আবেদন জমা দেওয়ার জন্য। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবসায়িক ধারণার ভিত্তিতে যে কেউ আবেদন করতে পারবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনাসহ দেশের আটটি জেলায় এই কর্মসূচি চালু করা হবে। এরপর ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচিটি সম্প্রসারিত করে প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। পরবর্তীতে এটি পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে বিস্তৃত করে প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে স্বাবলম্বী করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখানে অনুদানের অংশটি ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে। ঋণের অংশের ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে মুনাফা বা সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে, যার জন্য কোনো জামানতের প্রয়োজন পড়বে না। তবে শর্ত হিসেবে জানানো হয়েছে, কোনো উদ্যোক্তা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে তাঁর প্রাপ্ত অনুদানের অংশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তরিত হবে। সেই সঙ্গে তিনি প্রচলিত ব্যাংকিং বিধি অনুযায়ী ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতা হারাবেন।

/আশিক


টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৯:৩৯:০৭
টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

টানা তিন দফা কমার পর দেশের বাজারে আবারও বড় ব্যবধানে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মাত্র এক দিনের ব্যবধানেই ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই মূল্য ঘোষণা করা হয় এবং সকাল ১০টা থেকেই তা বাজারে কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা।

ঘোষিত এই বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই সরকারি ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদা কোনো ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে অলংকারের নকশা ও কারিগরি কাজের ধরনভেদে গহনার মজুরি অতিরিক্ত যুক্ত হবে। এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভরিতে ৪ হাজার ২৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই দর সংশোধন করে নতুন দফায় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ানো হলো। এছাড়া গহনা কেনাবেচা ও রূপান্তরের ক্ষেত্রে ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের ওজন বাদ দেওয়ার প্রচলিত নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের ধাক্কা লাগল বিশ্ববাজারে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ২০:০১:৫৮
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের ধাক্কা লাগল বিশ্ববাজারে
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে তীব্র অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দেশের মধ্যকার এই সামরিক সংঘাতের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক দরে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) লেনদেনের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ৯৭ দশমিক ০৪ ডলারে উঠে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে দাম কিছুটা কমে ৯৪ দশমিক ৭৬ ডলারে থিতু হয়, যা আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১১ সেন্ট বেশি। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ২৬ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন মাত্রা নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহের চেইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা তেলের দামকে দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী করে তুলছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সংঘাত এভাবে চলতে থাকলে খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার স্পর্শ করতে পারে।

এদিকে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন, সংঘাত সত্ত্বেও গত সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা যুদ্ধাবস্থা শুরুর পর থেকে ওই নৌপথ দিয়ে একক দিনে সর্বোচ্চ তেল পরিবহনের রেকর্ড।

তবে পরিস্থিতি নিয়ে বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সমুদ্রের মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত ও অচল হয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর গুরুত্বপূর্ণ ওই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা ও পরিবহন ধারাবাহিকতা বজায় রাখা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসন এবং এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কাতার ও ওমানসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও এখনো কোনো দৃশ্যমান সমাধান আসেনি। এই কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


বিশ্ববাজারের ধাক্কায় মূল্যবান ধাতুর দামে বড় পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৯:২৩:০৮
বিশ্ববাজারের ধাক্কায় মূল্যবান ধাতুর দামে বড় পতন
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপের মুখে স্বর্ণের দাম কমে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বৈশ্বিক বাজারে এই দরপতন ঘটে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হওয়াও স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২৩ দশমিক ৫৯ মার্কিন ডলারে, যা দিনের শুরুতে গত ৭ আগস্টের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গিয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের ডিসেম্বর ডেলিভারির দর শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭০ দশমিক ৪০ ডলারে অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্যের দিকে এখন দৃষ্টি রাখছেন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা। ওই তথ্য আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগেই শক্তিশালী ডলার এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় স্বর্ণের ওপর এই নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

বৈশ্বিক বাজারের এই পতনের প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে টানা তিন দফায় স্থানীয় বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমেছে মোট ১৫ হাজার ৮৬৩ টাকা। গত ২৯ আগস্ট মূল্যহ্রাসের আগে দেশের বাজারে এই মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দর ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা, যা ধারাবাহিকভাবে কমে বর্তমানে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দর ভরিতে নতুন করে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাজুসের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশে নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকায়।

/আশিক


এলপিজির দামে এলো নতুন সমন্বয়, কার্যকর আজ সন্ধ্যা থেকেই

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৮:২০:০৯
এলপিজির দামে এলো নতুন সমন্বয়, কার্যকর আজ সন্ধ্যা থেকেই
ছবি : সংগৃহীত

সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা থেকে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দাম কমানোর এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় বিইআরসি, যা আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হচ্ছে।

একই সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতি লিটারের খুচরামূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।

বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডারের জন্য আলাদা দর নির্ধারণের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে সাড়ে ৫ কেজির সিলিন্ডার ৭২৭ টাকা, সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৫২ টাকা এবং ১৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৮২ টাকায় বিক্রি হবে।

এছাড়া বাণিজ্যিক ও বড় পরিসরে ব্যবহারের জন্য ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১১৪ টাকা, ১৮ কেজির দাম ২ হাজার ৩৭৮ টাকা, ২০ কেজির দাম ২ হাজার ৬৪২ টাকা, ২২ কেজির দাম ২ হাজার ৯০৭ টাকা এবং ২৫ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ৩০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক ভারী সিলিন্ডারগুলোর মধ্যে ৩০ কেজির দাম ৩ হাজার ৯৬৪ টাকা, ৩৩ কেজির দাম ৪ হাজার ৩৬০ টাকা, ৩৫ কেজির দাম ৪ হাজার ৬২৪ টাকা এবং ৪৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা।

/আশিক


বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ২১:৪৭:২৩
বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থাকে কেন্দ্র করে ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’ বা ফোর্স মেজরের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে নতুন করে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাতার থেকে এলএনজি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশও থাকায় অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে এলএনজি পরিবহন এখনো প্রায় বন্ধ থাকায় ইউরোপ ও এশিয়ার নিয়মিত ক্রেতাদের কাছে সময়মতো চালান পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে কাতার এনার্জি একাধিক দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বার্তা পাঠিয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের ক্রেতাদের জানানো হয়েছে যে অক্টোবর পর্যন্ত তাদের এলএনজি সরবরাহ বাতিল থাকতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেপ্টেম্বরের পরও সরবরাহ ব্যাহত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং খোলাবাজার—এই দুই উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করে থাকে। কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে উভয় দেশ থেকেই নিয়মিত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এক-দুটি কার্গো দেশে পৌঁছালেও তা জাতীয় চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল, যার ফলে সময়মতো সরবরাহ না পেয়ে দেশের সার্বিক গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

কাতার এনার্জির বাতিল করা বেশ কয়েকটি চালানের সময়সীমা ইতিমধ্যে নভেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এখন বিকল্প উৎস খোঁজা, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার কিংবা সরাসরি গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। ইতালির জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এডিসন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে তাদের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি চালান সরবরাহ করতে পারছে না কাতার। এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত এডিসনের বাতিল হওয়া চালানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে, যা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের সমান। তবে প্রতিষ্ঠানটি এর মধ্যে ২১টি চালানের বিকল্প ব্যবস্থা করতে পেরেছে বলে দাবি করেছে।

গত মার্চে হরমুজ প্রণালি ঘিরে প্রথম অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিল কাতার এনার্জি, যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রতি মাসেই বাড়ানো হচ্ছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির বিশেষজ্ঞ অ্যান-সোফি করবোর মতে, রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটবে না।

যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় মাসে কাতার যেখানে আগের বছর ৫০৯টি চালান পাঠিয়েছিল, সেখানে এবার পাঠাতে পেরেছে মাত্র ১৮টি। এতে দেশটির গ্যাস রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়া তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ কিছুটা বাড়ালেও কাতারের তৈরি হওয়া বিশাল ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে স্পট মার্কেটের চড়া দামের কারণে কেবল আর্থিকভাবে সক্ষম ক্রেতারাই এখন গ্যাস কিনতে পারছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংকটের প্রভাব সব দেশের ওপর সমানভাবে পড়ছে না। যেসব দেশ আমদানির জন্য কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে রয়েছে, তারাই সবচেয়ে বড় বিপদে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত। বিপরীতে জাপান বিভিন্ন দেশ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে গ্যাস নেওয়ায় এবং তাদের মূল্যকাঠামো মার্কিন তেলের বাজারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভারসাম্য ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এলএনজি পরিবহনে বিশেষায়িত জাহাজের প্রয়োজন হওয়ায় জলপথ বন্ধ থাকলে চটজলদি বিকল্প পথ বের করাও সম্ভব হয় না। বর্তমানে অক্ষত থাকা কাতার এনার্জির ১২টি ইউনিটের উৎপাদন পুরোদমে চালু করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে রাস লাফানে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ইউনিট মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর লেগে যেতে পারে। ফলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

/আশিক


আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন: রয়টার্স

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ২০:২২:৫৩
আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন: রয়টার্স
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান ধাতুগুলোর এই নিম্নমুখী প্রবণতার তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মূল্যবান ধাতু প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৬৬ দশমিক ৬৬ ডলারে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের বাজারেও মন্দা দেখা গেছে; ধাতুটির দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমেছে।

এর আগে একই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৬৯.২৪ ডলারে দাঁড়ায়, যা গত ১৯ আগস্টের পর সর্বনিম্ন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দামও ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪,৪১৮ ডলারে বেচাকেনা হতে দেখা গেছে।

সূত্র: রয়টার্স


নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৯:৪২:২৭
নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হতে যাচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬’। তবে নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বর্তমানে বহাল থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বা বিশেষ ইনক্রিমেন্ট বাতিল হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নবম পে-স্কেলের এই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন স্কেলে প্রারম্ভিক মূল বেতন গ্রেডভেদে ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের ধাপে ভিন্নতা রাখা হয়েছে

১০ম থেকে ২০তম গ্রেড

বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ চলতি বছরের জুলাই থেকে, ২৫ শতাংশ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এবং অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ ২০২৭ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

১ম থেকে ৯ম গ্রেড

বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ চলতি বছরের জুলাই থেকে, ৩০ শতাংশ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ ২০২৭ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

ভাতা কার্যকরের সময়সীমা

সব গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য পুনর্নির্ধারিত হারে সব ধরনের ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

নতুন বেতন কাঠামোতে ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ (১০০ শতাংশ) করা হয়েছে। এতে ১ম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার এবং ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা হয়েছে। ১২তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বৃদ্ধির হার ধাপে ধাপে ১১৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে; যার ফলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার টাকায়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: