চেয়ারম্যানসহ পুরো বোর্ড অপসারণের চিন্তা করেছিল সরকার

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৯ ১০:২৭:৩৫
চেয়ারম্যানসহ পুরো বোর্ড অপসারণের চিন্তা করেছিল সরকার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ চলমান আন্দোলন এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থাকে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার কেন্দ্রে ছিলেন চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। একদিকে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের লাগাতার আন্দোলন, অন্যদিকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তার প্রতি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের চাপ এই দুই ধারার মাঝে পড়ে তিনি পড়েন গভীর সংকটে। যদিও তিনি আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খুঁজতে চেয়েছিলেন, বাস্তবতা ছিল অনেকটাই ভিন্ন। আন্দোলনের বিস্তার এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যেখানে সরকারের হস্তক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।

সরকারের শীর্ষ মহলের অসন্তোষ এতটাই প্রবল ছিল যে, একপর্যায়ে এনবিআর চেয়ারম্যানসহ পুরো বোর্ডকে অপসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব উঠে আসে। বৈঠকে উপস্থিত একজন সদস্য বলেন, আন্দোলন দমন করতে না পারার দায়ে চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্যকে অপসারণের চিন্তা ছিল সরকারের। তবে এনবিআরের মতো একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের পুরো বোর্ড একসঙ্গে সরিয়ে দিলে কার্যক্রমে ভয়াবহ অচলাবস্থা তৈরি হবে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করায় ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার।

যদিও সরকার শক্ত অবস্থান নিতে চেয়েছিল, এনবিআর চেয়ারম্যান ছিলেন আপসহীন দ্বন্দ্ব নিরসনের পক্ষে। তিনি সময় চেয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখান। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ছিল আরও জটিল। আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে আমদানি-রপ্তানির মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে, যা দেশের অর্থনীতিকে কার্যত স্তব্ধ করে দেয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার নিজ দপ্তর ছেড়ে ঢাকায় এসে আন্দোলনে যোগ দেন, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার নজিরবিহীন ব্যত্যয় হিসেবে দেখা হয়। উপদেষ্টা কমিটির এক সদস্য একে ব্যঙ্গ করে বলেন, “এটা মনে হয় বাপের দিনের আড়তদারি।” সংশ্লিষ্ট ওই কমিশনারকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আন্দোলন নিয়ে সরকারের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কড়াকড়িভিত্তিক। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গঠিত হয় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি, যার নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির। এই কমিটি এনবিআরের বিভিন্ন ক্যাডার ও বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে এবং আন্দোলনের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করে।

সূত্র জানায়, ওই বৈঠকগুলোতে এনবিআরের কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। অনেকের আচরণকে সরাসরি ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে তুলনা করে বলা হয় এটা একটা প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান, এখানে ঐক্য পরিষদ স্টাইলে দাবি আদায়ের জায়গা নেই।

সরকার ইতোমধ্যে এনবিআরের তিনজন সদস্যকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের মতো কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। একইভাবে একজন কর কমিশনারও অবসরে পাঠানো হয়েছে।

দুদক ইতোমধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এনবিআর সূত্র বলছে, আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিলেন, তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে এবং এদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে এনবিআর-এ ভয় এবং অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।

চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান যদিও সাংবাদিকদের বলেছেন, “দায়িত্বশীলদের ভয় নেই, সীমা লঙ্ঘনকারীদের বিষয়ে ভিন্নভাবে ভাবা হচ্ছে”, কিন্তু এটা পরিষ্কার যে সরকার আন্দোলনে জড়িতদের ছাড় দিতে নারাজ।

আন্দোলনে জড়িত অনেক কর্মকর্তা ইতোমধ্যে চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ক্ষমা চেয়েছেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। যদিও চেয়ারম্যান ব্যক্তি পর্যায়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তবে বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব কর্মকর্তা আন্দোলনের সময় শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন, তাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে শুধু চেয়ারম্যানের ক্ষমা যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

সরকার এনবিআরের এই আন্দোলনকে নিছক কর্মবিরতি হিসেবে দেখছে না। বরং এর পেছনে রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক অসন্তোষ থাকতে পারে এমন ধারণাও সরকারপক্ষে রয়েছে। বিশেষ করে যখন আইএমএফের ঋণচুক্তির শর্ত পূরণের জন্য সরকার এনবিআর সংস্কারে মনোযোগী হয়ে ওঠে, তখন এই আন্দোলন শুরু হয়।

আইএমএফের একটি প্রধান শর্ত ছিল এনবিআরকে বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠন করা। সরকার যখন এই লক্ষ্য নিয়ে অধ্যাদেশ জারি করল, তখনই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে এই আন্দোলনের টাইমিং এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সরকারের অনেক মহল।

২৮ জুন থেকে শাটডাউন কর্মসূচিতে যায় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। সরকারের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারির পর দ্বিতীয় দিনেই ঐক্য পরিষদ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। রাতেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে কর্মসূচি স্থগিত হয়।

-রাফসান, নিজস্ব প্রতিবেদক


জুলাইয়ে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৮ ২১:৪৬:২৮
জুলাইয়ে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গত অর্থবছরের (অর্থবছর-২৫) জুলাই মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৩৮৫.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে এটি প্রায় ৬১ মিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীকে আসল বাবদ পরিশোধ করেছে ৩২৭.৭২ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ২৬৪.৮৮ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১১৮.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের ১২০.৭৯ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় সামান্য কম।

বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাড়লেও, একই সময়ে ঋণ গ্রহণ কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ পেয়েছে ২০২.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা পরিশোধের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।

তবে, একই মাসে নতুন প্রতিশ্রুতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে নতুন প্রতিশ্রুতি এসেছে ৮৩.৪৬ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের জুলাইয়ের ১৬.৪০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বাংলাদেশ আসল ও সুদ বাবদ মোট ৪.০৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৭৪.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।

তবে, গত অর্থবছরে নতুন ঋণ চুক্তি এবং ঋণ বিতরণের পরিমাণ উভয়ই কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বাংলাদেশ নতুন ঋণ চুক্তি করেছে ৮.৩২৩ বিলিয়ন ডলারের, যা তার আগের অর্থবছরের ১০.৭৩৯ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে কম। একইভাবে, ঋণ বিতরণও কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৫৬৮ বিলিয়ন ডলারে, যা তার আগের অর্থবছরের ১০.২৮৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), যার পরিমাণ ৭৭.৫০ মিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক (৫৯.০৭ মিলিয়ন ডলার), জাপান (১৭.২৪ মিলিয়ন ডলার), ভারত (১৩.৬২ মিলিয়ন ডলার) এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা (৩৫.৩৩ মিলিয়ন ডলার)।

/আশিক


দেশের ইতিহাসে রিজার্ভের উত্থান-পতন: যা ছিল এবং এখন কী অবস্থা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৭ ২১:৫৭:১৩
দেশের ইতিহাসে রিজার্ভের উত্থান-পতন: যা ছিল এবং এখন কী অবস্থা
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার দিন শেষে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ বিলিয়ন ৩৩ লাখ ডলার। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ বিলিয়ন ৩১ লাখ ডলার। গত রোববার গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০.৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী তা ছিল ২৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার।

গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ২০২ কোটি ডলার পরিশোধ করার পর দেশের গ্রস রিজার্ভ কমে ২৯.৫৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। আর বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ নেমে আসে ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলারে।

প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণের কারণে গত জুনে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার হয়েছিল, যা গত ২৮ মাসের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের মার্চের শুরুতে রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল। গত জুন শেষে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ বেড়ে ২৬.৬৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০২৩ সালের জুন থেকে আইএমএফের শর্ত মেনে বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে। ওই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে গত জুলাই শেষে তা ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

সরকার পতনের পর থেকে অর্থ পাচারে কঠোর নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন কারণে ডলারের প্রবাহ বেড়েছে। হুন্ডি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়ে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে। চলতি অর্থবছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৪১২ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৬০ শতাংশ বেশি।

/আশিক


বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স ২০২৫: কী কী পরিবর্তন আসছে নতুন আইনে?

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৬ ১৮:০১:৪৭
বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স ২০২৫: কী কী পরিবর্তন আসছে নতুন আইনে?
ছবিঃ সংগৃহীত

দশকের পর দশক ধরে চলা ব্যাংক লুটপাটের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দায়ী করা হয়েছে, কারণ প্রায়শই রাজনৈতিক চাপ ও ক্ষমতার কাছে সংস্থাটি নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অনেক সময় আইনের বাইরে গিয়েও নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনকে খুণ্ন করেছে।

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। ড. সাবেত সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২’ সংশোধন করে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছে এবং তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আর্থিক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের কোনো বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করতে খসড়া আইনে কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে:

বোর্ডে সরকারি সদস্য: সরকার মনোনীত সদস্য সংখ্যা কমানো হবে।

নিয়োগের ক্ষমতা: গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধানের পরিবর্তে রাষ্ট্রপতির হাতে যাবে।

জবাবদিহি: গভর্নরকে যেকোনো বিষয়ে সরাসরি সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

চাকরির মেয়াদ: গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের চাকরির মেয়াদ চার বছরের পরিবর্তে ছয় বছর করা হবে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “সরকারি ব্যাংকগুলো সরকার চালায়, বেসরকারি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক চালায়—এমন দ্বৈত নীতি পৃথিবীর কোথাও নেই। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই খসড়া তৈরি করেছি।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে এবং অনিয়ম রোধে কোম্পানি আইনেও সংশোধনী আনা হচ্ছে।

/আশিক


গুজবে কান দেবেন না: ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানি নিয়ে সরকারের বার্তা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৬ ১৪:২৭:২৯
গুজবে কান দেবেন না: ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানি নিয়ে সরকারের বার্তা
ছবিঃ সংগৃহীত

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাজিল থেকে গরুর মাংস আমদানি সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়লে তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ব্রাজিল বাংলাদেশকে প্রতি কেজি ১২০ টাকায় গরুর মাংস সরবরাহ করবে’—এমন খবর পুরোপুরি মিথ্যা। সরকার বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ব্রাজিল থেকে, গরুর মাংস আমদানির কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। মন্ত্রণালয় জানায়, ভিত্তিহীন ও যাচাইবিহীন এই ধরনের সংবাদ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। জনসাধারণকে এই ধরনের মিথ্যা প্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দেশের চাহিদা দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব। প্রাণিসম্পদ খাত শুধুমাত্র মাংস উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রায় ১৫ লাখ প্রান্তিক খামারি এবং কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ৬ লাখের বেশি মৌসুমি খামারি গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দেশের শতভাগ কোরবানির পশুর চাহিদা দেশীয় উৎস থেকেই পূরণ করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের মতে, মাংস একটি অত্যন্ত পচনশীল পণ্য, যার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত একটি কার্যকর কোল্ড চেইন অবকাঠামো থাকা জরুরি। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের হিমায়িত মাংস সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য উপযুক্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। কোল্ড চেইনের দুর্বলতা মাংসের গুণগত মান নষ্ট করে জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বিদেশ থেকে মাংস আমদানি করা হলে ক্ষুরারোগ (এফএমডি), ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি), যক্ষ্মা, ব্রুসেলোসিস এবং অ্যানথ্রাক্স-এর মতো জীবাণু দেশে প্রবেশের আশঙ্কা থাকে। এতে জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়তে পারে। সরকার দেশীয় খামারিদের স্বার্থরক্ষা এবং জনগণকে মানসম্মত মাংস সরবরাহের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

/আশিক


তিন বছরে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৬ ০৮:০২:৪৫
তিন বছরে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে

বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি চারজনের একজন এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। করোনার আগে তিন দশক ধরে দারিদ্র্য কমলেও বর্তমানে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় করা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

‘ইকোনমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউসহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক এই গবেষণায় বলা হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে দেশে দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। অথচ ২০২২ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে এ হার ছিল মাত্র ১৮.৭ শতাংশ। এ হিসাব অনুযায়ী এখন প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, দেশের ১৮ শতাংশ পরিবার যে কোনো দুর্যোগ বা সংকটে হঠাৎ করেই দারিদ্র্যের নিচে নেমে যেতে পারে। অতি বা চরম দারিদ্র্যের হারও ২০২২ সালের ৫.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৯.৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

দারিদ্র্য বৃদ্ধির কারণ:

পিপিআরসি বলছে, দারিদ্র্যের এই উল্লম্ফন মূলত তিনটি বড় সংকটের প্রভাবে ঘটেছে:

  1. করোনা মহামারির দীর্ঘস্থায়ী ধাক্কা
  2. উচ্চ মূল্যস্ফীতি
  3. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাবার, চিকিৎসা, বাসাভাড়া ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বেড়েছে। শহরে গড় আয় কমলেও ব্যয় বেড়ে গেছে। বর্তমানে শহরের পরিবারের মাসিক গড় আয় ৪০ হাজার টাকার সামান্য বেশি হলেও ব্যয় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। ফলে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হয়ে পড়ছে এবং অনেক পরিবার ঋণের ফাঁদে পড়ছে।

বৈষম্য ও ঝুঁকি

পিপিআরসির জরিপে দেখা গেছে, সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ পরিবারের মাসিক আয় মাত্র ৮ হাজার টাকা, আর শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের আয় এক লাখ টাকার ওপরে। ফলে আয়বৈষম্য আরও প্রকট হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী রোগ, নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবার, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, ঋণ বৃদ্ধি এবং অনিশ্চিত কর্মসংস্থান—এসব নতুন ঝুঁকির কারণে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

হোসেন জিল্লুর রহমানের মন্তব্য

গবেষণা প্রকাশ অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ এখন ধারাবাহিক সংকটজনক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কেবল জিডিপি নয়, বরং সমতা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্য হ্রাসকে গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি প্রবাসী আয়, স্থানীয় ভোক্তা বাজার ও ডিজিটাল ব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রগুলোকে টিকে থাকার শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন।

সুপারিশ

পিপিআরসি স্বল্পমেয়াদে দরিদ্র পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা, মধ্যমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কৌশলগত টাস্কফোর্স এবং দীর্ঘমেয়াদে জনমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছে।


২৫ আগস্ট ২০২৫-এর বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৫ ১০:০৯:৫৭
২৫ আগস্ট ২০২৫-এর বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বিশ্ববাণিজ্যের সঙ্গে ক্রমশই ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছে। দেশের কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিদিনই পাঠাচ্ছেন রেমিট্যান্স, যা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিগুলোর একটি। প্রবাসীদের এই লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিদিনের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আজ সোমবার (২৫ আগস্ট, ২০২৫) দিনের সর্বশেষ মুদ্রা বিনিময় হার প্রকাশ করেছে।

ডলারের সর্বশেষ হার

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, আজকের দিনে (সোমবার) আন্তঃব্যাংক বাজারে মার্কিন ডলারের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১২১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং সর্বোচ্চ মূল্য ১২২ টাকা ৬৫ পয়সা। গড়ে প্রতি ডলারের বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২১ টাকা ৬৫ পয়সা। ডলারের এই ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলছে আমদানি-রপ্তানি খরচ এবং প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থে।

ইউরোপীয় মুদ্রা

আজকের বাজারে ব্রিটিশ পাউন্ড স্টারলিং কেনার হার ধরা হয়েছে ১৬৫ টাকা ৯৫ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৬৭ টাকা ৮০ পয়সা। অন্যদিকে ইউরো কেনার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৪ টাকা ৬৭ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৪৯ টাকা ৫৭ পয়সা। ইউরোপীয় মুদ্রার এ তারতম্য মূলত ইউরোজোনে চলমান অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এশীয় মুদ্রা

এশিয়ার মুদ্রার মধ্যে জাপানি ইয়েনের ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ০.৮১ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ০.৮৪ টাকা। ভারতীয় রুপির ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১ টাকা ৪০ পয়সা। অপরদিকে সৌদি রিয়েলের ক্রয়মূল্য ৩২ টাকা ২৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৩২ টাকা ৫৯ পয়সা। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য রিয়েলের এই হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ সৌদি আরব থেকে আসে।

অন্যান্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা

অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ৭৭ টাকা ৮৮ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৭৮ টাকা ৭০ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৯২ টাকা ৭১ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ৫৯ পয়সা। একইভাবে কানাডিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৭ টাকা ২৩ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৮৮ টাকা ১৬ পয়সা।


রেমিট্যান্সের চিত্রে মিশ্র বার্তা: আগস্টে গতি হারিয়েছে প্রবাস আয়

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৪ ২০:০২:১২
রেমিট্যান্সের চিত্রে মিশ্র বার্তা: আগস্টে গতি হারিয়েছে প্রবাস আয়
ছবিঃ সংগৃহীত

আগস্ট মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৩ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)।

রবিবার (২৪ আগস্ট) এই তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসের এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রবাস আয় এসেছে সাত কোটি ৬০ লাখ ২৬ হাজার ৯৫৬ ডলার। গত বছর একই সময়ে প্রতিদিন প্রবাস আয় এসেছিল সাত কোটি ৪১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৩ ডলার।

আগের মাস জুলাইয়ে প্রতিদিন প্রবাস আয় এসেছিল আট কোটি ২৫ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬৬ ডলার। সেই হিসাবে রেমিট্যান্স আগের বছরের তুলনায় বাড়লেও আগের মাস জুলাইয়ের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগস্টের ২৩ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১০৯ কোটি ৭১ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

/আশিক


আমদানি ব্যয় ৮০ টাকা, খুচরায় ৩০০: কাঁচা মরিচের দাম নিয়ে চলছে কারসাজি

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৩ ১১:২৮:২৪
আমদানি ব্যয় ৮০ টাকা, খুচরায় ৩০০: কাঁচা মরিচের দাম নিয়ে চলছে কারসাজি
ছবিঃ সংগৃহীত

অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে দেশে কাঁচা মরিচের উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে। গত এক মাসে শুধু বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়েই এক হাজার ৫২১ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। তবে, আমদানির পরিমাণ স্বাভাবিক থাকলেও খুচরা বাজারে দাম অনেক বেশি।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ১১টি ট্রাকে ১৬৫ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। আমদানিকারকদের নথিপত্র অনুযায়ী, ভারত থেকে প্রতি কেজি মরিচ আমদানিতে সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা খরচ হয়। অথচ বাজারে তা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বেনাপোলের কাঁচা মরিচ আমদানিকারক হাফিজ আহমেদ জানান, তারা কম লাভে বিক্রি করলেও হাতবদল হয়ে খুচরা বাজারে দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সরকারকে ৩৬ টাকা শুল্ক দিতে হয়। যদি শুল্ক কমানো হয়, তাহলে আমদানি ব্যয় এবং বাজারে দাম কমবে।

বেনাপোলের কাঁচা মরিচ বিক্রেতা আনন্দ জানান, আমদানি করা মরিচগুলো সাধারণত বিভাগীয় ও জেলা শহরে চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কম থাকে, যে কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী।

/আশিক


জেনে নিন আজকের স্বর্ণের বাজারদর: এক ভরি স্বর্ণ কিনতে কত টাকা লাগবে?

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৩ ০৯:৫৯:২৬
জেনে নিন আজকের স্বর্ণের বাজারদর: এক ভরি স্বর্ণ কিনতে কত টাকা লাগবে?
ছবিঃ সংগৃহীত

স্বর্ণের প্রতি মানুষের আগ্রহ চিরকালীন। বিয়ে, উৎসব কিংবা বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই স্বর্ণ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর তাই বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা নজর কাড়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদেরও।

শনিবার (২৩ আগস্ট) দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ভরিতে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকায়। সর্বশেষ গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে। সমন্বয়কৃত দামেই দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ১৬ হাজার ১২৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

এর আগে সবশেষ গত ২৩ জুলাই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮১১ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭২৬ টাকায়।

চলতি বছরে মোট ৪৫ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ২৯ বার, আর কমেছে মাত্র ১৬ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার।

পাঠকের মতামত: