যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে চীনের এআই কৌশল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ২৬ ১৪:২৪:৫৭
যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে চীনের এআই কৌশল

বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উপর নির্ভরশীল। এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এক নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে যা কোনো প্রচলিত অস্ত্র প্রতিযোগিতার চেয়ে কম নয়। তবে এ লড়াইয়ের কৌশল, গতি ও দৃষ্টিভঙ্গি দুই পরাশক্তির মধ্যে ভিন্নতর।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এআই উন্নয়নকে সরাসরি ‘চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র থেমে যায়, তাহলে আমরা চীনা-নিয়ন্ত্রিত এআই-এর দাসে পরিণত হবো।” এই মন্তব্য শুধু প্রযুক্তির দৌড় নয়, বরং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুরও প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্রের এআই নীতিতে আধিপত্য ধরে রাখার মূল স্তম্ভ হচ্ছে বিপুল বিনিয়োগ, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে প্রযুক্তি জায়ান্টদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব। ওপেনএআই, মাইক্রোসফট, এএমডি এবং কোরওয়েভের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা হালকা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে লবিং করেছেন।

এদিকে, ১৫ মে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি এআই সহযোগিতা চুক্তি করেন, যেটিকে তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধিপত্য নিশ্চিতের একটি মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যা দেন।

প্রযুক্তি কাঠামো নির্মাণেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট বিশাল। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি এআই মডেল পরিচালনার লক্ষ্যে ডেটা সেন্টার নির্মাণে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করতে যাচ্ছে।

চীনের ভিন্নমুখী কৌশল: বাস্তব প্রয়োগে অগ্রাধিকার

যুক্তরাষ্ট্র যখন এআই গবেষণা ও নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী, তখন চীন এর বাস্তব প্রয়োগকে কেন্দ্র করে একটি ভিন্ন রূপরেখা বাস্তবায়ন করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বলেন, “এআইকে পারমাণবিক অস্ত্রের মতো ভয়ংকর হিসেবে না দেখে, বিদ্যুতের মতো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা উচিত।”

এ লক্ষ্যেই চীন ‘এআই+’ নামে একটি নতুন কর্মসূচি চালু করেছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিল্প, উৎপাদন, এবং ভোক্তা পর্যায়ে এআই যুক্ত করে প্রযুক্তিকে বাস্তব জীবনের অংশ করার চেষ্টা চলছে। এটি মূলত এক দশক আগের ‘ইন্টারনেট+’ নীতিরই উন্নত সংস্করণ, যার মাধ্যমে চীন একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করেছিল।

চীনের আরেকটি ব্যতিক্রমী কৌশল হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বের এআই প্রযুক্তির সমতুল্য উদ্ভাবন এবং তা ওপেন সোর্স করে সবার জন্য উন্মুক্ত করা। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চীনা প্রতিষ্ঠান ডিপসিক এমন একটি ভাষা মডেল প্রকাশ করে, যার কার্যকারিতা ওপেনএআই-এর এক মডেলের সঙ্গে তুলনীয়। এর গঠন কাঠামো উন্মুক্ত করে চীন দেখিয়ে দেয় ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা কেবল মডেল তৈরিতে নয়, বরং বাস্তব প্রয়োগ ও ব্যবহারিক দক্ষতায় হবে।

চীন এআই গবেষণায় বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গিও গ্রহণ করছে। কিছু সরকারি গবেষণায় এআই-কে মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত করার বা চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাস্তব জগতের সঙ্গে যোগাযোগ সক্ষম এমন প্রযুক্তির উন্নয়ন চলছে যা পশ্চিমা কাঠামোর চেয়ে একেবারেই পৃথক।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী এক দশকে এআই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ৫.৬ শতাংশ এবং চীনের জিডিপি ৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ প্রযুক্তি-নির্ভর সেবা খাত এ বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হলেও, চীনের তুলনামূলক ছোট সেবা খাত ও সীমিত উৎপাদনশীলতা এ বৃদ্ধিকে কিছুটা শ্লথ করতে পারে।

তবে এটি স্পষ্ট, চীন বাস্তবতাভিত্তিক ও শিল্প-ভোক্তা পর্যায়ের প্রয়োগে মনোযোগী একটি কৌশল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতাকে নিরাপত্তা ও আধিপত্যের প্রেক্ষাপটে দেখছে।

-সোহাগ, নিজস্ব প্রতিবেদক


যুক্তরাষ্ট্রের ২ কঠিন শর্ত: মানলেই কেবল আলোচনায় বসবে ট্রাম্প প্রশাসন!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১১:৪৪:১০
যুক্তরাষ্ট্রের ২ কঠিন শর্ত: মানলেই কেবল আলোচনায় বসবে ট্রাম্প প্রশাসন!
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার ইঙ্গিতের পরপরই এবার ইরানের সামনে দুটি অত্যন্ত কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় বসার আগে ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এবার আর কোনো অস্পষ্টতা রাখা হবে না।

প্রথমত, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ এবং অবাধে উন্মুক্ত করার শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, ইরান যদি এই পথে অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে পারস্পরিক নীতির ভিত্তিতে ইরানি কোনো জাহাজকেও ওই পথ দিয়ে চলতে দেওয়া হবে না।

দ্বিতীয়ত, আলোচনার টেবিলে আসা ইরানি প্রতিনিধি দলকে অবশ্যই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা সম্পন্ন হতে হবে।

বিশেষ করে কোনো চুক্তিতে পৌঁছালে তাতে যেন ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী বা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) পূর্ণ সমর্থন থাকে, সেই গ্যারান্টি চাইছে হোয়াইট হাউস।

মূলত আলোচনার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতেই এই শর্তারোপ করা হয়েছে। এদিকে, ইরানের ভেতরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে তীব্র মতভেদের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ এক পক্ষে থাকলেও আইআরজিসি-র কর্মকর্তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এমনকি গত দফার আলোচনায় আইআরজিসি-র শীর্ষ কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে।

পাকিস্তানের একটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, তেহরান দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ আবারও ইসলামাবাদে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক তৎপরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মার্কিন এই ‘কঠোর’ শর্তগুলো মেনে নিয়ে ইরান আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরে কি না।

সূত্র: এনডিটিভি।


কাউন্টডাউন শুরু! যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরানোর আগেই বাড়ছে সংঘাতের মেঘ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১১:৩১:১৮
কাউন্টডাউন শুরু! যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরানোর আগেই বাড়ছে সংঘাতের মেঘ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুপ্রতিক্ষিত ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২০ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা নতুন করে বাজতে শুরু করেছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে এক ভয়ংকর পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মূলত তিনটি প্রধান ইস্যুতে দুই পক্ষই অনড় অবস্থানে ছিল: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা, মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব কমানো এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। দ্য ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির গবেষণা পরিচালক প্যাট্রিক ক্লসন সতর্ক করেছেন যে, ২১ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।

তবে আলোচনার দরজা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন এখন একদিকে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের মাধ্যমে চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথও খোলা রেখেছে।

পাকিস্তানসহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা এখন ২১ এপ্রিলের চূড়ান্ত সময়সীমার আগে নতুন কোনো বৈঠকের আয়োজন করতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করায় এই সংকটের সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতি মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

/আশিক


৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম! পাকিস্তানে ‘বড় কিছু’ ঘটার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১০:২৮:০২
৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম! পাকিস্তানে ‘বড় কিছু’ ঘটার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ছয় দিন বাকি। এর মধ্যেই বিশ্বজুড়ে উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানে ‘বড় কিছু’ ঘটতে পারে। মূলত ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং চরম উত্তেজনার মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, দ্বিতীয় দফার এই আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন প্রতিনিধি দল আবারও ইসলামাবাদে যাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ইরানের কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারেনি। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মাঝেই জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, এ সপ্তাহের শেষ দিকেই ইসলামাবাদে আবারও মুখোমুখি হতে পারেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

এবারের আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আবারও থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে বিশেষ চমক হিসেবে তাঁর সঙ্গে থাকতে পারেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার। ট্রাম্প তাঁর এই শীর্ষ তিন উপদেষ্টার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন যুদ্ধ থেকে উত্তরণের পথ খোঁজার জন্য।

অন্যদিকে, লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধি দলও যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন যাচ্ছে, যেখানে মধ্যস্থতা করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। যদিও হিজবুল্লাহ এই আলোচনাকে ‘নিরর্থক’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং ইসরায়েল তাদের নিরস্ত্র করার দাবিতে অনড় রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে এখন সবার নজর ইসলামাবাদের ‘দ্বিতীয় দফা সংলাপের’ দিকে। ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কি মিলবে শান্তির পথ, নাকি মধ্যপ্রাচ্য তলিয়ে যাবে আরও বড় কোনো মহাপ্রলয়ে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

/আশিক


আন্দামান সাগরে নৌকাডুবি, ২৫০ জন নিখোঁজ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ০৭:২৪:৩৫
আন্দামান সাগরে নৌকাডুবি, ২৫০ জন নিখোঁজ
ছবি: সংগৃহীত

আন্দামান সাগরে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো, যা নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের মানবিক দিকটি সামনে নিয়ে এসেছে। নিখোঁজদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এটি একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়, যার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপদ পুনর্বাসনের অভাব।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই থাকার কারণে নৌকাটি ডুবে যায়। এসব নৌযান সাধারণত অনিরাপদ ও অস্থায়ী হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাড়ি জমায়। তারা প্রায়ই মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে মালয়েশিয়া বা অন্যান্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করে, যা অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুযাত্রায় পরিণত হয়।

এদিকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় কয়েকজনকে শনাক্ত করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে মোট নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।

উদ্ধার অভিযানে দেখা গেছে, কিছু মানুষ ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে সাগরে ভেসে ছিলেন, যা তাদের জীবনের শেষ আশ্রয় হয়ে উঠেছিল।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন মানবপাচারকারী সন্দেহে আটক হয়েছেন, যা এই দুর্ঘটনার পেছনে সংগঠিত অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।

বেঁচে ফেরা এক ব্যক্তির বর্ণনায় উঠে এসেছে বিভীষিকাময় চিত্র। তিনি জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীরা তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু যাত্রাপথে নৌকার ভেতরে শ্বাসরোধ ও ভিড়ের কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, বিষাক্ত জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই দগ্ধ হন এবং চার দিন সমুদ্রযাত্রার পর নৌকাটি ডুবে যায়। উদ্ধার হওয়ার আগে তারা প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পানিতে ভেসে ছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, যাত্রাপথেই অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন প্রাণ হারান।

জাতিসংঘের মতে, এই ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের অভাবের ভয়াবহ প্রতিফলন। নিরাপদ অভিবাসনের পথ না থাকায় শরণার্থীরা জীবন বাজি রেখে এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় বাধ্য হচ্ছে।

সূত্র:রয়টার্স


ইসরাইলে ১৩ লক্ষ্যবস্তুতে হিজবুল্লাহর হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ০৭:১৬:৫৭
ইসরাইলে ১৩ লক্ষ্যবস্তুতে হিজবুল্লাহর হামলা
তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মঙ্গলবার উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যখন ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলের একাধিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। এই হামলা শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে মোট ১৩টি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে এই আক্রমণ পরিচালিত হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়, তবে ঘটনাটি নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এই হামলার সময়কাল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল। ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সামরিক বাস্তবতার মধ্যে একটি স্পষ্ট দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে।

হিজবুল্লাহ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যতক্ষণ না ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করছে, ততক্ষণ তাদের আক্রমণও অব্যাহত থাকবে। এই অবস্থান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর মুহূর্মুহু রকেট হামলা: কাঁপছে উত্তরাঞ্চল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ২১:২৫:২৮
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর মুহূর্মুহু রকেট হামলা: কাঁপছে উত্তরাঞ্চল
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান ও উত্তরাঞ্চলের শহরগুলো লক্ষ্য করে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মুহূর্মুহু হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহর সামরিক মিডিয়া শাখার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা ও মিসগাভ আম এলাকা লক্ষ্য করে এই রকেট হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ আরও জানায়, গতকাল সোমবার তারা পশ্চিম বেকা উপত্যকার আকাশে একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করেছে। এই আক্রমণকে তারা চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দাঁতভাঙা জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত গত কয়েক দিনের উত্তেজনার রেশ ধরে হিজবুল্লাহর এই পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে।

সূত্র: আল জাজিরা


সেরেনা হোটেলের ২০ ঘণ্টা: ৮০% সফল হয়েও কেন ফিরল না শান্তি?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৮:০১:১৩
সেরেনা হোটেলের ২০ ঘণ্টা: ৮০% সফল হয়েও কেন ফিরল না শান্তি?
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলে গত শনিবারের রাতটি ছিল এক চরম উত্তেজনা ও নাটকীয়তায় ভরা। স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও একটি ঐতিহাসিক চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা দীর্ঘ ২০ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসলেও, শেষ পর্যন্ত তা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, দুই দেশ চুক্তির ‘খুবই কাছাকাছি’ অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করেও কেন শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এল, তার চাঞ্চল্যকর নেপথ্য কাহিনী এখন প্রকাশ্যে আসছে।

সেরেনা হোটেলের কার্যক্রম পরিচালনার সাথে জড়িত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোটেলের দুটি আলাদা উইংয়ে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দল অবস্থান করছিল এবং মাঝখানের একটি কমন এরিয়াতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনার মূল কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফকে বিরতির সময় বারবার কক্ষের বাইরে গিয়ে নিজ দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করতে হয়েছে।

পাকিস্তান সরকারের সূত্রমতে, বৈঠকের মাঝামাঝি সময়ে একটি বড় সাফল্যের আশা তৈরি হলেও মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ‘গুরুগম্ভীর এবং অবন্ধুসুলভ’, যা শান্ত করতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে সারারাত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়েছে।

আলোচনার এক পর্যায়ে যখন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বা ভবিষ্যতে ইরানে হামলা না করার প্রসঙ্গ ওঠে, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে বেশ উত্তেজিত দেখা যায়। সাধারণত শান্ত স্বভাবের আরাগচি তখন কঠোর স্বরে মার্কিন প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় হামলা না করার কথা বলে পরে যদি তা ভঙ্গ করেন, তাহলে আমরা আপনাদের বিশ্বাস করব কীভাবে?’ আরাগচির এই বক্তব্যের পেছনে ছিল গত ফেব্রুয়ারির জেনেভা বৈঠকের তিক্ত স্মৃতি, যা শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

উত্তেজনা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, কক্ষের বন্ধ দরজার বাইরে থেকেও প্রতিনিধিদের উচ্চস্বরের কথা শোনা যাচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান চা-বিরতির ডাক দিয়ে দুই পক্ষকে পৃথক কক্ষে নিয়ে যান।

রোববার ভোরের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আলোচনার মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও মার্কিন প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের নিশ্চয়তা পাওয়া, যা তেহরান হয়তো সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেনি। আলোচনার শেষে জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের সামনে এসে ঘোষণা দেন, ‘আমরা এখানে একটি খুবই সরল প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি।

এটিই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন দেখা যাক ইরান সেটি গ্রহণ করে কি না।’ যদিও ইসলামাবাদ বৈঠকটি চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে, তবুও ভ্যান্সের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় দফা সরাসরি সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র আভাস দিচ্ছে।

/আশিক


ইসরায়েলকে ইতালির বড় ঝটকা! বাতিল হলো ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৭:৫২:১৭
ইসরায়েলকে ইতালির বড় ঝটকা! বাতিল হলো ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইসরায়েলের একগুঁয়েমির ফল হিসেবে এবার ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইতালির বড় ধাক্কা খেল তেল আবিব। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সরাসরি ঘোষণা করেছেন যে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এনডিটিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০০৬ সাল থেকে চলমান এই চুক্তির আওতায় সামরিক সরঞ্জাম ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ের যে সুযোগ ছিল, তা বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বন্ধ করে দিল ইতালি।

মূলত লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি লেবানন সফরকালে ইসরায়েলের এই আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। ইতিমধ্যে দুই দেশ একে অপরের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। জর্জিয়া মেলোনির এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের একাকীত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না করার জেদকে দায়ী করা হচ্ছে। ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির আর মাত্র ৭ দিন বাকি আছে। এর মধ্যেই ইতালির মতো দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রত্যাহার ইসরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলের জন্য বড় এক বিপর্যয়।

/আশিক


ইরানের পর এবার তুরস্ক? কাকে ‘নতুন শত্রু’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসরায়েল?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৭:৩৫:৩০
ইরানের পর এবার তুরস্ক? কাকে ‘নতুন শত্রু’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসরায়েল?
ছবি : সংগৃহীত

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক বিস্ফোরক সতর্কবাণী দিয়েছেন। আনাদোলু এজেন্সির ‘এডিটর’স ডেস্ক’ অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের পর ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তুরস্ক। তাঁর মতে, ইসরায়েল এমন একটি রাষ্ট্র যা ‘শত্রু’ ছাড়া টিকে থাকতে পারে না, তাই ইরান সংঘাতের পর তারা তুরস্ককে নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করবে।

হাকান ফিদান হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট নিয়ে সামরিক পন্থার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ সুরক্ষিত করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা অত্যন্ত জটিল এবং হিতে বিপরীত হতে পারে।

এর পরিবর্তে কূটনৈতিক পন্থায় নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। ফিদান স্পষ্টভাবে জানান, বলপ্রয়োগ করে এই জলপথে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয় এবং কোনো আন্তর্জাতিক সশস্ত্র শান্তি বাহিনী দিয়ে এখানে হস্তক্ষেপ করার ক্ষেত্রেও অনেক আইনি ও কৌশলগত অসুবিধা রয়েছে।

সিরিয়া পরিস্থিতিকে তুরস্কের জন্য বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখ করে ফিদান বলেন, বর্তমানে ইসরায়েলের সব মনোযোগ ইরানের ওপর থাকায় সিরিয়া নিয়ে তাদের পদক্ষেপ হয়তো কিছুটা পিছিয়ে গেছে, কিন্তু তারা তাদের পরিকল্পনা বাতিল করেনি। সময় সুযোগ পেলেই তারা সিরিয়ায় বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইবে।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফেরাতে তিনি একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আহ্বান জানান, যেখানে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

১৪ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

১৪ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

দেশের শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনে নির্বাচিত কিছু কোম্পানি উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নতুন করে বাড়িয়েছে। দিন শেষে প্রকাশিত... বিস্তারিত