যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে চীনের এআই কৌশল

বিশ্বের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উপর নির্ভরশীল। এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এক নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে যা কোনো প্রচলিত অস্ত্র প্রতিযোগিতার চেয়ে কম নয়। তবে এ লড়াইয়ের কৌশল, গতি ও দৃষ্টিভঙ্গি দুই পরাশক্তির মধ্যে ভিন্নতর।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এআই উন্নয়নকে সরাসরি ‘চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র থেমে যায়, তাহলে আমরা চীনা-নিয়ন্ত্রিত এআই-এর দাসে পরিণত হবো।” এই মন্তব্য শুধু প্রযুক্তির দৌড় নয়, বরং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুরও প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্রের এআই নীতিতে আধিপত্য ধরে রাখার মূল স্তম্ভ হচ্ছে বিপুল বিনিয়োগ, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে প্রযুক্তি জায়ান্টদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব। ওপেনএআই, মাইক্রোসফট, এএমডি এবং কোরওয়েভের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা হালকা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে লবিং করেছেন।
এদিকে, ১৫ মে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি এআই সহযোগিতা চুক্তি করেন, যেটিকে তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধিপত্য নিশ্চিতের একটি মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যা দেন।
প্রযুক্তি কাঠামো নির্মাণেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট বিশাল। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি এআই মডেল পরিচালনার লক্ষ্যে ডেটা সেন্টার নির্মাণে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করতে যাচ্ছে।
চীনের ভিন্নমুখী কৌশল: বাস্তব প্রয়োগে অগ্রাধিকার
যুক্তরাষ্ট্র যখন এআই গবেষণা ও নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী, তখন চীন এর বাস্তব প্রয়োগকে কেন্দ্র করে একটি ভিন্ন রূপরেখা বাস্তবায়ন করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বলেন, “এআইকে পারমাণবিক অস্ত্রের মতো ভয়ংকর হিসেবে না দেখে, বিদ্যুতের মতো প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা উচিত।”
এ লক্ষ্যেই চীন ‘এআই+’ নামে একটি নতুন কর্মসূচি চালু করেছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিল্প, উৎপাদন, এবং ভোক্তা পর্যায়ে এআই যুক্ত করে প্রযুক্তিকে বাস্তব জীবনের অংশ করার চেষ্টা চলছে। এটি মূলত এক দশক আগের ‘ইন্টারনেট+’ নীতিরই উন্নত সংস্করণ, যার মাধ্যমে চীন একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করেছিল।
চীনের আরেকটি ব্যতিক্রমী কৌশল হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বের এআই প্রযুক্তির সমতুল্য উদ্ভাবন এবং তা ওপেন সোর্স করে সবার জন্য উন্মুক্ত করা। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চীনা প্রতিষ্ঠান ডিপসিক এমন একটি ভাষা মডেল প্রকাশ করে, যার কার্যকারিতা ওপেনএআই-এর এক মডেলের সঙ্গে তুলনীয়। এর গঠন কাঠামো উন্মুক্ত করে চীন দেখিয়ে দেয় ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা কেবল মডেল তৈরিতে নয়, বরং বাস্তব প্রয়োগ ও ব্যবহারিক দক্ষতায় হবে।
চীন এআই গবেষণায় বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গিও গ্রহণ করছে। কিছু সরকারি গবেষণায় এআই-কে মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত করার বা চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাস্তব জগতের সঙ্গে যোগাযোগ সক্ষম এমন প্রযুক্তির উন্নয়ন চলছে যা পশ্চিমা কাঠামোর চেয়ে একেবারেই পৃথক।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী এক দশকে এআই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ৫.৬ শতাংশ এবং চীনের জিডিপি ৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ প্রযুক্তি-নির্ভর সেবা খাত এ বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হলেও, চীনের তুলনামূলক ছোট সেবা খাত ও সীমিত উৎপাদনশীলতা এ বৃদ্ধিকে কিছুটা শ্লথ করতে পারে।
তবে এটি স্পষ্ট, চীন বাস্তবতাভিত্তিক ও শিল্প-ভোক্তা পর্যায়ের প্রয়োগে মনোযোগী একটি কৌশল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতাকে নিরাপত্তা ও আধিপত্যের প্রেক্ষাপটে দেখছে।
-সোহাগ, নিজস্ব প্রতিবেদক
হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি, বিশ্বজুড়ে চড়বে তেলের দাম
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরের অন্যতম প্রধান জলপথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে এই সংবেদনশীল নৌপথে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে তেহরান, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর ওপর পাল্টা মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্বের সামগ্রিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। সমুদ্রপথে পরিবাহিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ঠিক একইভাবে বাব আল-মান্দেব প্রণালিটিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি এবং এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর যাতায়াতের জন্য এটি অন্যতম প্রধান ও লাইফলাইন রুট হিসেবে বিবেচিত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব যদি মার্কিন সমর্থনে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে তাদের সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা অব্যাহত রাখে, তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এই জলপথ অবরুদ্ধ করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেলপ্রতি ২০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রখ্যাত বিশ্লেষক ফাওয়াজ গেরগেসের মতে, এই হুমকির মাধ্যমে তেহরান মূলত ওয়াশিংটনকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, প্রয়োজন হলে তারা হরমুজ এবং বাব আল-মান্দেব—উভয় কৌশলগত নৌপথেই একযোগে চাপ সৃষ্টি করার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা রাখে। মাঠপর্যায়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এই আঞ্চলিক সংঘাত খুব দ্রুতই বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপর্যয়ে পরিণত হবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সর্বাত্মক কোনো যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি না হলেও, ধাপে ধাপে এই প্রক্সি বা পরোক্ষ সংঘাতের পরিধি ও ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো পক্ষই সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখছে, যা পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও জটিল করে তুলছে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই চরম উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকে কোনো একটি সাধারণ বিন্দুতে এসে আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। হুতিদের এই ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে বিশ্বের বড় বড় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে লোহিত সাগরের রুট পরিহার করে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে দীর্ঘ বিকল্প পথে চলাচল শুরু করে, যার ফলে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ও জাহাজ ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের বিভিন্ন গোপন ঘাঁটিতে দফায় দফায় বিমান হামলা চালায় এবং ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক সামরিক জোট গঠন করে।
কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবও বর্তমান ভূরাজনীতিতে ইরানের জন্য একটি অন্যতম প্রধান কৌশলগত অস্ত্র ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যম। তবে তিনি মনে করেন, তেহরান এখনই এই পথ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে না; বরং যখন একটি সর্বাত্মক ও অনিবার্য সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হবে, কেবল তখনই তারা হুতিদের এই ধরনের বিধ্বংসী পদক্ষেপে চূড়ান্ত সম্মতি দেবে।
অন্যদিকে সৌদি আরবভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুলআজিজ সাগের জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এখন এই ধারণা প্রবল হচ্ছে যে ইরানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিন দিন ফুরিয়ে আসছে। তবে তাঁর মতে, তেহরানের প্রত্যক্ষ ইশারা ও সবুজ সংকেত ছাড়া হুতি গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এত বড় কোনো উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে না। আর যদি তারা সত্যি সত্যি আন্তর্জাতিক এই নৌপথে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে হুতিদের আরও কঠোর ও সরাসরি সামরিক জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।
/আশিক
ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করাই হরমুজ প্রণালী সচলের একমাত্র পথ
হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার একমাত্র উপায় হলো ‘ইরানি জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা’। কোনো ধরনের মার্কিন সামরিক আগ্রাসন বা যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদলু এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের যৌথ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকার কোনো সামরিক আক্রমণ, যুদ্ধ কিংবা অন্য কোনো অশুভ শক্তির আগ্রাসী তৎপরতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী কখনোই পুনরায় সচল করা যাবে না। আন্তর্জাতিক এই নৌপথ উন্মুক্ত করার একমাত্র কার্যকর বিকল্প হলো ইরানের জনগণের ন্যায্য অধিকারকে মেনে নেওয়া।
মুখপাত্র আকরামিনিয়া তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই এবং বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধে নিহত দেশের সকল শহীদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে তেহরান সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই অবস্থান থেকে তারা একচুলও নড়বে না।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালীটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন ব্যবহৃত মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই সংকীর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ ব্যবহার করেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান প্রধান তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্র যেমন—সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও স্বয়ং ইরান তাদের জ্বালানি রপ্তানির জন্য সম্পূর্ণভাবে এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এই প্রণালীটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সামরিক বৈরিতা এক নজিরবিহীন নতুন মাত্রা লাভ করে। ইরান এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের হাত রয়েছে বলে দাবি করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান যখন হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বা সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের হুঁশিয়ারি দেয়, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি সচল রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পাল্টা হুমকি দেয়।
পশ্চিমা দেশগুলোর সেই হুমকির জবাবেই ইরান এই নতুন ও কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা পাঠাল। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বলপ্রয়োগের নীতি দিয়ে এই সংকটের কোনো সমাধান হবে না; বরং ইরানের ওপর আরোপিত অন্যায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তাদের রাষ্ট্রীয় অধিকার স্বীকার করলেই কেবল হরমুজ প্রণালীর চলমান সংকটের স্থায়ী অবসান সম্ভব।
/আশিক
হরমুজ প্রণালির আসল প্রহরী ইরানই, চিরকাল থাকবে: ট্রাম্পকে আরাগচির কড়া জবাব
কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে ফি আদায়ের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই আন্তর্জাতিক জলপথের মূল ও প্রকৃত প্রহরী একমাত্র ইরানই ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও চিরকাল থাকবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, দীর্ঘ ইতিহাস সাক্ষী যে ইরানই সবসময় এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করে আসছে। ফলে এই সুরক্ষার জন্য যদি কোনো ধরনের মাশুল বা ক্ষতিপূরণ আদায় করার প্রশ্ন ওঠে, তবে তা অবশ্যই ন্যায্য ও যৌক্তিক হওয়া উচিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে আরাগচি কিছুটা কটাক্ষের সুরে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাত্ত্বিকভাবে ঠিকই বলেছেন যে, যারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা দেবে, তাদের এই বিশেষ সেবার জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। আর ইরান তো যুগ যুগ ধরে এই প্রণালির রক্ষক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ফি-কে ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেহরান যদি কখনো এই মাশুল নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে তা সবার জন্য ন্যায্য ও সহনীয় হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া জবাবটি এসেছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি বিতর্কিত ঘোষণার পরপরই। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন খুব শিগগিরই ইরানের ওপর আবারও নতুন করে নৌ-অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়ার খরচ মেটাতে এই নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করা সমস্ত কার্গো জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ হারে ফি আদায় করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, ইরান সহযোগিতা করুক বা না করুক, এই প্রণালিটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্তই রাখা হবে এবং এই ফি মূলত মার্কিন সুরক্ষার খরচ হিসেবেই নেওয়া হবে। ট্রাম্পের এমন একপাক্ষিক দাবির জবাবেই ইরান পাল্টা শক্ত কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের ঐতিহাসিক ও ‘চিরন্তন কর্তৃত্বের’ কথা বিশ্বমঞ্চে আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
সূত্র: মেহের নিউজ
ইয়েমেনে হুতিদের দমনে সৌদি আরবকে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত, মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কা
ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য সৌদি আরবকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দেওয়ার পরপরই এই সামরিক সমর্থনের খবর প্রকাশ্যে এলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ওয়াশিংটনের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত অবসান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে এই পদক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ সংঘাত আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এর আগে সোমবার হুতিদের প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ হিসেবে পরিচিত সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠান শেষে হুতিদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উড়োজাহাজে করে সানার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরপরই এই হামলা চালানো হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিনিধি দলের উড়োজাহাজটি পরে দিক পরিবর্তন করে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী বন্দর নগরী আল হুদায়দাহে অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
সানা বিমানবন্দরে এই হামলার জন্য হুতি গোষ্ঠী সরাসরি রিয়াদকে দায়ী করেছে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের চলমান অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শেষ বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই গোষ্ঠীটি সৌদির অভ্যন্তরে অবস্থিত আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবারের এই বিমান হামলার কয়েক দিন আগেই রিয়াদের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন চাওয়া হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত।
পরবর্তীতে রুবিও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এর সূত্র ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, টেলিফোন আলাপে যুবরাজ ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযানের জন্য ট্রাম্পের সবুজ সংকেত ও সমর্থন চেয়েছিলেন এবং ট্রাম্প তা মঞ্জুর করেন।
সানা বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর হুতিরা সৌদির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুললেও ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এই অভিযানের দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এই হামলায় রিয়াদের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না। অন্যদিকে রিয়াদ কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।
উল্লেখ্য, ইরানপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নিলে পরের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সেখানে হুতি দমনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির মেয়াদ ছয় মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেলেও, গত চার বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সরাসরি সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি, যা এই হামলার পর নতুন করে শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
/আশিক
ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্ত মানেনি। একই সঙ্গে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ জুলাই) রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তার ভাষ্য, মার্কিন অভিযানের কারণেই ইরান এখন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর ফলে ইসরাইলের নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, “আজ রাতে আমরা কঠোর হামলা চালাব, আগামীকালও একইভাবে অভিযান চলবে। তারা এর কার্যকর জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে না।” একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ইরানের হাতে এখন বড় ধরনের সামরিক বিকল্প নেই এবং তারা কেবল কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছে।
সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। যদিও অভিযানের বিস্তারিত লক্ষ্য বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আলোচনার সময় ট্রাম্প বিশেষভাবে ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত এই স্থাপনাকে তিনি সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ওই স্থাপনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষায়, বর্তমানে সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প বলেন, “ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা ভালো নয়। যখনই আমরা কোনো নতুন কার্যক্রমের তথ্য পাই, সেটি ধ্বংস করে দিই। প্রয়োজন হলে খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করতে প্রস্তুত। ইরানকে সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পারমাণবিক অবকাঠামোগুলোর একটি। এটি নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রায় এক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এবং গভীর ভূগর্ভে নির্মিত একাধিক সুড়ঙ্গ ও সুরক্ষা ব্যবস্থায় ঘেরা। অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-ভেদী বোমাও এই স্থাপনাটি পুরোপুরি ধ্বংস করতে সক্ষম নাও হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প একদিকে সামরিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিরোধ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি।
সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকা সৌদি আরব-ইয়েমেন সংঘাত আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০২২ সালের পর কার্যত বহাল থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। নতুন এই উত্তেজনা লোহিত সাগর অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হুথি গোষ্ঠীর দাবি, সৌদি সমর্থিত বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালানোর জবাব হিসেবেই তারা এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী ঘটনাটিকে ‘প্রত্যক্ষ আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করে জানায়, প্রতিশোধমূলক এই হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু ছিল।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, তাদের বাহিনী নির্ভুলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি ভূখণ্ডে এটিই হুথিদের প্রথম বড় ধরনের সামরিক অভিযান।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় বলেন, দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে এবং কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই সামরিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে। হুথিদের অভিযোগ, সৌদি-সমর্থিত বাহিনী বিমানবন্দরের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলা উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাকে কার্যত ভেঙে দিয়েছে। বিদ্রোহীরা এরপর আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে জানায়, সানা বিমানবন্দরের ওপর চাপ অব্যাহত থাকলে সৌদি আকাশসীমায় বিমান চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অপরদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ইরানি বিমানকে সানায় অবতরণে বাধা দিতেই রানওয়ে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, বিমানটি ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছিল এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতেও কোনো শত্রুভাবাপন্ন বিমান ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে ইয়েমেনি সামরিক সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট ইরানি বিমানটি শেষ পর্যন্ত হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন হোদেইদাহ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে।
সংঘাতের এই নতুন অধ্যায় মানবিক পরিস্থিতিকেও আরও জটিল করে তুলছে। ইয়েমেন সরকারের এক মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, সানা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির একটি বিমান আটকে রেখেছে হুথিরা। যদিও সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মুখপাত্র হাশেম ওসেইরান জানিয়েছেন, তাদের বিমান, কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিরাপদ আছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনাই নয়, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে লোহিত সাগর এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি রুট নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিদের রাজধানী সানা দখলের পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপর্যস্ত করেছে। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই সংকটকে আরও গভীর করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা: হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হয়ে অর্থ আদায় করবে ওয়াশিংটন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজের হাতে নেবে এবং এই নিরাপত্তা প্রদানের বিনিময়ে সুবিধাভোগী অন্যান্য দেশের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা হবে। সোমবার (১৩ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন ও আগ্রাসী নীতির কথা স্পষ্ট করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিচালনার দায়িত্ব সম্ভবত এখন থেকে মার্কিন বাহিনীই পালন করবে এবং ওয়াশিংটনই হবে এই নৌপথের প্রধান অভিভাবক। তবে এই সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তিনি জোরালো দাবি করেন, বিশ্বের যেসব ধনী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত, এই সামরিক ব্যয়ের সিংহভাগ তাদেরই বহন করা উচিত; কারণ ওয়াশিংটন আর কোনো দেশের জন্য বিনামূল্যে এমন ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে না।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল এই নৌপথকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালিটি কার্যত অবরুদ্ধ বা বন্ধ করে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাকে তীব্র করে তুলেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তেহরানকে দায়ী করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, অতীতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সমঝোতা হলেও তেহরান বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, আমরা একাধিকবার তাদের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছিলাম, কিন্তু প্রতিবারই তারা বিশ্বাসভঙ্গ করেছে; যার কারণে এবার ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।
আমেরিকার এমন হুঁশিয়ারির বিপরীতে পাল্টা অবস্থান জানিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলে সব ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ ও উস্কানি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ খাতে আরও বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে।
/আশিক
গাজার পুনর্বাসনে ইউরোপীয় কমিশনের ১০০ কোটি ডলারের বিশাল প্যাকেজ ঘোষণা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জরুরি মানবিক সাহায্য এবং প্রাথমিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রায় ৮৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউরো (যা প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ) বরাদ্দের একটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় কমিশন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনবিষয়ক আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ‘টিম গাজা ইনিশিয়েটিভ’ নামের এই বিশেষ সহায়তার রূপরেখা প্রকাশ করা হয়। ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে বিপর্যস্ত গাজাবাসীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে চলমান ও পরিকল্পিত বিভিন্ন জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে এই অর্থ সরাসরি ব্যয় করা হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশাল মানবিক উদ্যোগে ইউরোপের ১২টি রাষ্ট্রসহ জাপান, বিশ্বব্যাংক এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক যৌথভাবে অংশীদার হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক শীর্ষ প্রতিনিধি কাজা কালাস এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ফিলিস্তিনি জনগণের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক অংশীদার হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
কাজা কালাস তাঁর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, গাজার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটানো, অবকাঠামোগত পুনর্গঠন এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিক আর্থিক সাহায্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মূল প্রক্রিয়াটি ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব নেতৃত্বেই পরিচালিত হতে হবে, তবে এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য।
/আশিক
যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বিমান হামলা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত এপ্রিলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলা দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ অবসানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার রাতে তাদের বাহিনী একাধিক ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে অভিযান চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক এই নৌপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের ওপর ইরানের আক্রমণ করার ক্ষমতা বিনষ্ট করতে মার্কিন যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং ড্রোন ব্যবহার করে একযোগে বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়।
এদিকে সোমবার দুপুরের দিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর ধারণা, এই বিস্ফোরণগুলো হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস এলাকা থেকে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইরানও। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার বাহরাইনে বিমান হামলার উচ্চ সতর্কবার্তা সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়। বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে তেহরানের বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
একই সময়ে কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনী তাদের আকাশসীমায় আসা হামলা সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে এবং জর্ডানের সামরিক বাহিনী তাদের ভূখণ্ডে ধেয়ে আসা ইরানের চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার কথা নিশ্চিত করেছে।
উভয়পক্ষের এই প্রকাশ্য ও তীব্র সামরিক সংঘাতের মধ্যে তেহরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি পূর্বশর্ত ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো যুদ্ধবিরতি নীতিমালা তারা মেনে চলবে না। গত জুনে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শান্তি চুক্তিটি এখন গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
বাঘাই আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা যতবারই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, তেহরানও ততবার নিজেদের অঙ্গীকার থেকে পিছু হটেছে। তবে মাঠপর্যায়ে তীব্র উত্তেজনা বজায় থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাতার, ওমান এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ১৪ জুলাইয়ের অদ্ভুত সমাপতন: ২০২৪-এ 'রাজাকার' আর ২০২৬-এ 'ফার্মের মুরগি' বিতর্ক
- হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি, বিশ্বজুড়ে চড়বে তেলের দাম
- সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তৎপরতা নেই: নাহিদ ইসলাম
- শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেফতারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে: মিশরীয় কোচ
- বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ: স্প্যানিশদের রুখে দিতে প্রস্তুত আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স
- বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের তুরুপের তাস যখন এমবাপ্পে
- ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করাই হরমুজ প্রণালী সচলের একমাত্র পথ
- চারবার দাম কমিয়ে জুয়েলারি বাজারে স্বস্তির খবর দিল বাজুস
- শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
- হরমুজ প্রণালির আসল প্রহরী ইরানই, চিরকাল থাকবে: ট্রাম্পকে আরাগচির কড়া জবাব
- লক্ষণ খুব ভালো নয়, অপরাধীদের শাস্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ জামায়াত আমিরের
- সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পদত্যাগ ও ক্ষমা চাইতে হবে: শিক্ষামন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম
- ইয়েমেনে হুতিদের দমনে সৌদি আরবকে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত, মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের শঙ্কা
- দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারলে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- তারুণ্য ও উদ্ভাবনে জোর, ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ সফর
- টানা বর্ষণ কবে কমবে? নতুন পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- আজকের খেলার সূচি, বিশ্বকাপে জমজমাট সেমিফাইনাল
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন বিস্তারিত
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- মঙ্গলবার ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বেশ কিছু এলাকায়
- বন্যায় মানুষ মরছে, আর প্রধানমন্ত্রী বরিশালে সফর করছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- দুর্যোগেও কেন চলছে এইচএসসি পরীক্ষা, কারণ ব্যাখ্যা করল শিক্ষা বোর্ড
- রাঙ্গামাটিতে ভারীবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
- ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
- ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা: হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হয়ে অর্থ আদায় করবে ওয়াশিংটন
- পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: কোন দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- ইনস্টাগ্রাম থেকে রিয়াল মাদ্রিদের পরিচয় সরালেন ভিনিসিয়ুস, ফুটবল বিশ্বে তোলপাড়
- সবাই মিলে স্বৈরাচার হটিয়েছি, এবার আসুন দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ইউরোপের ফুটবল মাঠে মুসলিম তারকাদের সেজদা ও নতুন আত্মপরিচয়ের গল্প
- গাজার পুনর্বাসনে ইউরোপীয় কমিশনের ১০০ কোটি ডলারের বিশাল প্যাকেজ ঘোষণা
- যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বিমান হামলা
- আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শেষে যা বললেন অর্থমন্ত্রী
- শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করলে আইন অনুযায়ী জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়েদ
- সেনাসদস্যদের সাথে মাটিতে বসে গল্প ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- বন্যা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ঢাকাজুড়ে আজও বৃষ্টি, কী বলছে আবহাওয়া অফিস?
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
- আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা
- স্বর্ণবাজারে নতুন ধাক্কা, এক লাফে বাড়ল ভরির দাম
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল: কার প্রতিপক্ষ কে? দেখুন সূচি
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?








