বিবিসির বিশ্লেষণ

জাপানের সঙ্গে চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপ কৌশলের সুফল?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ২৩ ২০:৩৯:৫৫
জাপানের সঙ্গে চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপ কৌশলের সুফল?
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, যেটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি "বড় অর্জন" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই চুক্তিকে অনেকে তাঁর প্রশাসনের আগ্রাসী বাণিজ্য কৌশলের সফলতা হিসেবে দেখছেন।

বাণিজ্য আলোচনা শুরু থেকেই মার্কিন কর্মকর্তারা এই চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী থাকলেও, বেশ কয়েকটি প্রতিনিধিদলের সফরের পরও এটি দীর্ঘদিন অনিশ্চিত ছিল। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ না করা হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি উভয় দেশের কৌশলগত সমঝোতার ফল।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জাপানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের শুল্কহার (১০ শতাংশ) এর চেয়ে বেশি হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের তেমন কোনো বাণিজ্য উদ্বৃত্ত না থাকায় তা বিশেষ প্রভাব ফেলবে না।

বিশ্লেষক ফয়সাল ইসলাম জানান, বাণিজ্য আলোচনার সময় জাপানি প্রতিনিধিদের ক্ষোভ প্রকাশ মার্কিন কূটনীতিকদের নজর কাড়ে। সাধারণত ভদ্র ব্যবহারে পরিচিত জাপানিদের এমন আচরণ ওয়াশিংটনকে ভাবিয়ে তোলে। টোকিও তখন কঠোর অবস্থানে ছিল, কারণ তাদের হাতে ছিল ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন ট্রেজারি বন্ড, যা দরকারে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার হতে পারতো।

এই চুক্তি এমন এক সময় সম্পন্ন হলো, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা টোকিও সফরে ছিলেন। এর আগে ধারণা করা হচ্ছিল, জাপান, ইইউ ও কানাডা একত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবে। কিন্তু নতুন চুক্তি সে সম্ভাবনা বন্ধ করে দিল।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জাপানি কৃষিপণ্যের প্রবেশ কিছুটা সীমিত হচ্ছে, তবু জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি চাল আমদানিতে সম্মত হয়েছে। একইসঙ্গে জাপানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আধা ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হতে পারে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, জাপান চাইলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারতো—বিশেষ করে ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখার সুযোগ ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং দুর্বল অবস্থান হয়তো তাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান মিত্রদের ওপর যেভাবে শুল্ক আরোপ করছে, তা এক সময় অকল্পনীয় ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রতিরোধ নয়—অনেক দেশই আলোচনার টেবিলে ফিরে আসছে এবং চুক্তি করছে। জাপান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সেটিরই এক বাস্তব উদাহরণ।


জীবনহানি এড়াতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে কী চুক্তি হতে যাচ্ছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ২১:৫৩:৫০
জীবনহানি এড়াতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে কী চুক্তি হতে যাচ্ছে?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো সামরিক সংঘাত বিস্তার না করে কেবল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সব বিদ্যমান সংকটের সমাধান চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পারস্য উপসাগরীয় এলাকার চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, তিনি অহেতুক জীবনহানি চান না এবং যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতের চেয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতায় আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা তেহরানের জন্য চরম ক্ষতিকর হতো। তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং খোদ ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ উন্মুক্ত হওয়ার কারণেই পরিকল্পিত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প এই সম্ভাব্য চুক্তি ও কূটনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিকে সরাসরি শর্তযুক্ত করেছেন। আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া না হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্ণ প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। মূলত আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিষেধাজ্ঞা অপসারণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চলমান আন্তর্জাতিক আলোচনার অংশ হিসেবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য সামনে এসেছে।

সূত্র: গালফ নিউজ


ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার গুজব উড়িয়ে দিল তেহরান: নেপথ্যে কী কারণ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১৯:৩২:২৪
ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার গুজব উড়িয়ে দিল তেহরান: নেপথ্যে কী কারণ?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (৩ আগস্ট) আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলার তথ্যটি সঠিক নয় এবং বিষয়টিতে কোনো অস্পষ্টতার অবকাশ নেই।

মুখপাত্র জানান, বর্তমানে কেবল প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গেই ইরানের আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার একমাত্র লক্ষ্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মাস্কাটের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে দুই উপকূলবর্তী দেশ গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। এই আলোচনায় অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কিত অপরাপর বিষয় ও তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তীতে পর্যালোচনা করা হতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক সমকক্ষদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রেখে চলছেন।

হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অচলাবস্থার জন্য ওয়াশিংটনকেই দায়ী করেছেন ইসমাইল বাঘাই। তিনি উল্লেখ করেন, ওমানের সাথে মতপার্থক্য নয়, বরং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধ ও সামরিক আগ্রাসনের ফলেই এই জলপথ সংকটের মুখে পড়েছে। যত দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী তৎপরতা বন্ধ না হবে, তত দিন পর্যন্ত প্রণালীর সার্বিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা করা কঠিন। এছাড়া ওমানের সঙ্গে সমঝোতা আঞ্চলিক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হলেও জলপথটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে তা একাই যথেষ্ট নয় বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার বিষয়ে বাঘাই বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তান এবং কাতার তাদের পূর্বনির্ধারিত ভূমিকা পালন করছে, এখানে চীন নতুন কোনো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়নি। তবে কৌশলগত মিত্র হিসেবে বেইজিং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিজেদের অবস্থান থেকে অবদান রাখছে। এছাড়া ইয়েমেন সংকটে সামরিক জোট গঠন না করে শান্তির জন্য স্থায়ী কাঠামোগত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন মুখপাত্র।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেহরান পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করে না এবং সবার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ইরানের সামরিক পদক্ষেপগুলো কেবল আত্মরক্ষামূলক, যা তাদের ওপর হামলা চালানোর উৎপত্তিস্থল বা ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। তবে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, নিজস্ব ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে কঠোর দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবশেষে কূটনৈতিক মহলের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে।

সূত্র- মেহের নিউজ


‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৫৮:৪৬
‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সোমবার বিকেলে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। তবে সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক পথে সংকটের সমাধান হলে নতুন যুদ্ধ এড়ানো এবং বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি নয়, বরং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় যোগাযোগ চলছে। আলোচনার ফল কী হবে, সেটি এখনই বলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত একটি বড় সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য সময় চাওয়ার পর তিনি হামলা থেকে সরে আসেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অচলাবস্থা নিরসন এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করাই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য।

সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারি কর্মকর্তারা সামরিক সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে উপসাগরীয় মিত্রদের অবস্থান পুরোপুরি এক নয়। সৌদি আরব ও কাতার সংযমের পক্ষে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু কর্মকর্তা ইরানের ওপর আরও কঠোর চাপ প্রয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের এই সরু নৌপথ দিয়ে বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাত ও জাহাজে হামলার কারণে সেখানে নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, প্রণালির সব নৌপথ কোনো ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকুক। অন্যদিকে ইরান প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব বজায় রাখার দাবি করছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থায় ওমানের দিকের একটি নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তেহরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ট্রাম্পের কিছু দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চললেও সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে বলা যাবে না।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। এর আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করা এবং বৃহত্তর শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নৌ চলাচলের নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে সেই ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরে উভয় পক্ষ আবারও সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ে।

সম্ভাব্য নতুন আলোচনায় হরমুজের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যেকোনো সমঝোতায় ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বন্ধ করার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং নিজেদের বেসামরিক পারমাণবিক অধিকার পরিত্যাগ করবে না।

-রফিক


ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:১৪:৩৬
ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও কঠোর অবস্থানের মুখে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল-আহেদ প্রকাশ করেছে, ইরানের সামরিক শক্তি এবং মার্কিন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো জবাব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে কাজ করা নিরাপত্তাহীনতা ও আশঙ্কাই মূলত ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে কাজ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের নীতিগত দৃঢ়তা এবং মার্কিন আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি হুমকির পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তিনি নিজে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিতের প্রক্রিয়াটিতে তিনি সায় দিয়েছেন।

আল-আহেদ তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন—ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তিনি সামরিক হামলা না চালানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সূত্র: পার্সটুডে


ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে ড্রোন তাণ্ডব: আন্তর্জাতিক ষড়যন্তের দিকে আঙুল ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:৩৩:১৪
ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে ড্রোন তাণ্ডব: আন্তর্জাতিক ষড়যন্তের দিকে আঙুল ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

মিশরের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ইরানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয় বলে জানিয়েছেন তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির লক্ষ্যে ইসরায়েল কর্তৃক ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ (নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিভ্রান্তিকর) হামলা চালানের বিষয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের মিশরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় গ্যাসবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ঘটে যাওয়া ড্রোন হামলার পেছনে কোন কোনো পক্ষের উসকানিমূলক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

আরাঘচি লেখেন, "মিশর মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও ভৌগোলিক অংশীদার। দেশটির নিরাপত্তা আমাদের কাছে বিশেষ অগ্রাধিকার পায়। পুরো অঞ্চলে শান্তি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো গোপন চক্রান্ত বা চালবাজির বিষয়ে আমাদের সবাইকে যৌথভাবে সতর্ক হতে হবে।"

উল্লেখ্য, গত বুধবার মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি মার্কিন ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণাধীন এলএনজি সংক্রান্ত ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বিশ্লেষণ সংস্থা ‘অ্যামব্রে’র তথ্যমতে, ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ সংস্থাকে লক্ষ্য করে ড্রোনটি চালানো হয়। তবে ঘটনায় লোহিত সাগরের হুথি গোষ্ঠী কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে।

ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি জানান, উদ্ধারকৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ফরেনসিক ও সামরিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া কায়রো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো পক্ষকে দায়ী করবে না। এই মুহূর্তে পুরো অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিশর যৌথভাবে বৈশ্বিক শক্তির সাথে কাজ করছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট সিসি।

সূত্র: আনাদোলু


যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, প্রভাবিত হবে বাংলাদেশও

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:০৭:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, প্রভাবিত হবে বাংলাদেশও
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বাইরের অংশ। ১১ জুলাই ২০২৫, ওয়াশিংটন ডিসিছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই মার্কিন ভিসা নীতির ফলে ব্যবসা ও পর্যটন ক্যাটাগরির (বি১/বি২) আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড জমা দিতে হতে পারে।

গতকাল শুক্রবার অনলাইনে প্রকাশিত মার্কিন প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনো কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভিসা মঞ্জুরের শর্ত হিসেবে পাঁচ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করবেন। কর্মকর্তাদের হাতে আবেদনকারীর সার্বিক ক্ষেত্র মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই বন্ডের পরিমাণ ঠিক করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানানো হয়, ইতিপূর্বে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটক বা ব্যবসায়ীদের ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ঠেকাতে এই নিয়মটি বেশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। নতুন প্রক্রিয়ায় পুরোনো নিয়ম সংশোধন করে সর্বনিম্নের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং বন্ডের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ডলারে। আগামী ৩ আগস্ট থেকে এই চূড়ান্ত ও স্থায়ী নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে বলবৎ হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই নীতির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা ও বেআইনিভাবে স্থায়ী হওয়া রোধের তাগিদ দেওয়া হলেও এটি অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞের দাবি, বন্ডের মাত্রাতিরিক্ত অর্থের কারণে বৈধ ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত হবেন। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের এমন কঠোর অভিবাসন নীতির দরুন মুক্তবাক ও ন্যায্য সুযোগ বিঘ্নিত হতে পারে বলেও তাঁরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

/আশিক


৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ২১:৩৩:৩৫
৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই বিষয়ে নীতিগত সম্মতি এসেছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য স্টার'-এর এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর মিয়ানমার অবশেষে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রতিবেশী বা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এটি তারই প্রমাণ। আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যেকোনো সংবেদনশীল সমস্যার সমাধান অত্যন্ত সতর্ক কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হয়।"

দেশটির চেন্নাহ এলাকায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আনোয়ার ইব্রাহিম আরও স্পষ্ট করেন যে, মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কেউ জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া পুলিশ প্রধানকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি পূর্ববর্তী পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, "অনেকে আগে রোহিঙ্গাদের তৎক্ষণাৎ ফেরত পাঠানোর দাবি জানাতেন। কিন্তু মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার না করে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় তা সম্ভব হয়নি। ফলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের সাময়িকভাবে রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম।"

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের স্থানীয় আইন ও নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, "এটি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। এখানে এসে অন্য দেশের কোনো নাগরিক বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে—তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রোহিঙ্গারা বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্র : দ্য স্টার


মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ২০:০৪:৫০
মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে মার্কিন বাহিনীর গোলাবারুদ ও সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ।

বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা এই সতর্কবার্তার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক বিখ্যাত গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনেও একই ধরনের সামরিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকেই মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি—‘প্যাট্রিয়ট’ এবং ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রের আন্তর্জাতিক মজুত আশঙ্কাজনক হারে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এই সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে আধুনিক অস্ত্রের এই চরম ঘাটতি মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেনা সদস্য ও বিভিন্ন ঘাঁটির সুরক্ষাকে বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


কেশম দ্বীপে স্বজন হত্যার প্রতিশোধ: জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ আইআরজিসির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৮:১০:০১
কেশম দ্বীপে স্বজন হত্যার প্রতিশোধ: জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ আইআরজিসির
ছবি : সংগৃহীত

জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

আইআরজিসির এক বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় এক পরিবারের তিন সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই জর্ডানের ওই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

আইআরজিসি দাবি করেছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটির মূল রানওয়ে ও প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। এই হামলায় ঘাঁটিতে থাকা তিনটি সর্বাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও তিনটি যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিবিদ নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করে ইরানি বাহিনী।

বিবৃতিতে কঠোর বার্তা দিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট জানায়, নিরীহ পরিবার ও বেসামরিক মানুষদের ওপর হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ভূখণ্ড থেকে শেষ মার্কিন সেনাকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত তাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ ও আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: