কোন দ্বন্দ্বের আগুনে পুড়ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১৩ ১০:২৯:২২
কোন দ্বন্দ্বের আগুনে পুড়ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি বর্তমানে তীব্র গ্রুপিং, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বসংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। পদ-পদবি কেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব, সমন্বয়হীনতা, এবং জেলা-উপজেলায় বলয়ভিত্তিক রাজনীতির ফলে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মাঠপর্যায়ে একাধিক বলয় সক্রিয় থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দলটির স্থানীয় সংগঠনে সৃষ্টি হয়েছে নেতৃত্বশূন্যতা, অসন্তোষ ও দ্বন্দ্বময় পরিবেশ।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম জাকারিয়াকে আহ্বায়ক এবং রফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে গঠিত ওই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপু। তবে এই কমিটি গঠনের সময় জেলার প্রভাবশালী তিন এমপি— হারুনুর রশীদ, অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা ও আমিনুল ইসলামের মতামত উপেক্ষিত ছিল। ফলাফলস্বরূপ, তাদের অনুসারীরা জেলা বিএনপির কমিটির প্রতি সহযোগিতা না করে প্রতিরোধের অবস্থান নেয়।

এর ধারাবাহিকতায় চার বছরেও জেলার ইউনিয়ন ও থানা ইউনিটগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। জেলা বিএনপির পাঁচটি উপজেলা, চারটি পৌরসভা ও ৪৫টি ইউনিয়নের অধিকাংশেই কার্যকর কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপিতে বর্তমানে ত্রিমুখী বলয় রাজনীতি স্পষ্ট। একদিকে জেলা আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া অধ্যাপক শাহজাহান মিঞার সঙ্গে সমন্বয়ে রাজনৈতিক বলয় পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে চলছে ভিন্ন বলয়, যার পেছনে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতের সক্রিয় মদদ রয়েছে। আর তৃতীয় বলয়টি গড়ে উঠেছে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে, যিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতাদের একজন।

জেলা কমিটির ভেতরে অবস্থানগত এ বিভাজনের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিও আলাদা আলাদাভাবে পালিত হচ্ছে। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এক টেবিলে বসতে রাজি নন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এমনকি জেলা কমিটির অনেক সভা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের স্বাক্ষরহীন অবস্থায় হয়েছে।=

২০২4 সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নির্বাচনী রোডম্যাপ ইস্যুতে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যখন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল হককে বক্তব্য রাখতে না দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর দলীয় ভিত আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

এরপর শিবগঞ্জ, নাচোল, গোমস্তাপুরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দেখা দেয় সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা। একাধিক ক্ষেত্রে সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষর ছাড়া আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া কমিটি ঘোষণা করেছেন। আবার সদ্য ঘোষিত নাচোল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির কমিটিতে আহ্বায়ক জাকারিয়ার স্বাক্ষর নেই, অথচ তাতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের স্বাক্ষর রয়েছে। এসব কমিটি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের মৌখিক নির্দেশনায় গঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা দলীয় রীতি ও গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

দলীয় ভেতরে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে একক বলয় নিয়ন্ত্রণের এই প্রবণতা স্থানীয় নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, তিন নেতার যৌথ স্বাক্ষরে ইউনিট কমিটি গঠন করতে হবে। কিন্তু বারবার এই নির্দেশ লঙ্ঘিত হওয়ায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া আমার স্বাক্ষর ছাড়া পাঁচটি ইউনিট কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। এটাই দলে বিশৃঙ্খলার মূল কারণ। কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়ে আমরা ত্যাগী ও দক্ষ নেতাদের দিয়ে কিছু নতুন কমিটি দিয়েছি।”

অন্যদিকে আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া বলেন, “আমার স্বাক্ষর ছাড়া গঠিত কোনো কমিটির সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। ঢাকা মিটিংয়ে আবদুস সালামও স্পষ্ট বলেছেন, আহ্বায়ক স্বাক্ষর না থাকলে কমিটি বৈধ নয়। অথচ আমার নাম ব্যবহার করে কমিটি দেওয়া হয়েছে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজনীতিতে অধ্যাপক শাহজাহান মিঞার জনপ্রিয়তা ও মাঠের সক্রিয়তা তুলনামূলক বেশি। তার বলয়ের নেতারা নিয়মিতভাবে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্লিন ইমেজ, রাজপথে উপস্থিতি এবং তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগের কারণে তিনি বিএনপির কর্মীসমর্থকদের মধ্যে আস্থা অর্জন করেছেন।

অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতের নেতৃত্বে পৃথক বলয়ের নেতারা আগামী নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্রিয়। ফলে দলীয় নেতৃত্বে আরও ঘনীভূত হয়েছে বিভাজন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

জেলা বিএনপির নেতাদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করছে এবং রাজপথে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ব্যাহত করছে। যদিও আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগেই কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্বন্দ্ব নিরসন সম্ভব; তবে সাবেক এমপি হারুনুর রশীদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া তা বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতও দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বিএনপি একটি বড় দল হিসেবে প্রতিযোগিতা থাকবেই। তবে সংকটগুলো নির্বাচনের আগেই মিটে যাবে বলে আমি আশাবাদী।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত সাংগঠনিক ঐক্য ফেরানো না যায়, তাহলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে কার্যকর কোনো অবস্থান নিতে পারবে না। বরং ভেতরের কোন্দলই হবে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।


জ্ঞান ফিরেছে নুরুল হক নুরের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৯:১৩:০৮
জ্ঞান ফিরেছে নুরুল হক নুরের
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর কাকরাইলে হামলায় গুরুতর আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের কিছুটা জ্ঞান ফিরেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে তার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়। পোস্টে নাকে ব্যান্ডেজ ও মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় নুরকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা হয়, “নুরুল হক নুরের ওপর গতরাতে হামলার পর এখন পর্যন্ত তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এখন তার কিছুটা হুঁশ ফিরেছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। পরে সহকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, নুরের মুখ ও বুক পর্যন্ত রক্তাক্ত এবং তার নাক ফেটে গেছে। এ সময় তাকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

রাতে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, ডাক্তাররা বলেছেন নুরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ কারণেই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

/আশিক


নুরের ওপর হামলা,ভারতের মদতে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা: হাসনাত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৯:০৭:৩০
নুরের ওপর হামলা,ভারতের মদতে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা: হাসনাত
ছবিঃ সংগৃহীত

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ভারতের প্রত্যক্ষ মদতে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর এই খেলায় প্রথম রক্ত দিয়েছেন নুরুল হক নূর।

শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ এই প্রতিক্রিয়া জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “শুরুটা হয়েছিল ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’-এর পরিকল্পনা দিয়ে, যে পরিকল্পনা আমি ১১ মার্চ প্রকাশ করে দিই। সেই পুনর্বাসন ভেস্তে গেলেও ওরা থামেনি। সেই একই গ্রুপ এবার আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের জন্য বেছে নিয়েছে জাতীয় পার্টিকে।”

এনসিপি নেতা আরও বলেন, “ভারতের প্রত্যক্ষ মদতে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর এই খেলায় প্রথম রক্ত দিলেন আমাদের নুর ভাই। এখন যদি আমরা নুরুল হক নুরের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ না করতে পারি, জাতীয় পার্টিকে দিয়ে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর এই চেষ্টা প্রতিহত না করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশটাই আবার নুর ভাইয়ের মতো রক্তাক্ত হয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, “নুরুল হক নুরের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। ভারতের প্রেসক্রিপশনে বিপ্লবীদের রক্তাক্ত করে আওয়ামী লীগ ফেরানোর এই চেষ্টা আমরা সফল হতে দেব না।”

/আশিক


বিএনপির সঙ্গে বরফ না গলায় ছয় দল নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৮:৫৭:৫৪
বিএনপির সঙ্গে বরফ না গলায় ছয় দল নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই সনদের বিষয়ে মতভিন্নতা কমাতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে তা থেকে কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

মূলত পিআর পদ্ধতি ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে দুই দলের ভিন্ন অবস্থান নিয়ে এই বৈঠক হয়। জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

বিএনপির অবস্থান: বিএনপি ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টনের (পিআর) বিপক্ষে। তারা সংবিধান সংস্কারের চেয়ে সংসদের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে। বিএনপি মনে করে, সংবিধানের ওপর কোনো কিছুই প্রাধান্য পেতে পারে না।

জামায়াতের অবস্থান: জামায়াত জুলাই সনদের অধীনে পিআর পদ্ধতিতেই নির্বাচন চায়। তারা সংবিধানের ওপর সনদের প্রাধান্য চায় এবং গণভোট বা রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংস্কার ও সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানায়।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিএনপি পিআর পদ্ধতি এবং সনদের কিছু সংস্কার বিষয়ে তাদের আগের অবস্থানেই রয়েছে এবং এগুলোতে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বৈঠকের আগে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিস—এই সাতটি দল একটি বৈঠকে বসেছিল। সেখানে দলগুলো জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন হতে দেবে না বলে একমত হয়।

তবে জামায়াত সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চাইলেও অন্য দলগুলো কেবল উচ্চকক্ষে পিআর চায়। এই দলগুলো গণভোটের বিপক্ষে থাকলেও সনদের আইনি ভিত্তি এবং সনদের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে একমত। তারা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত রোডম্যাপকেও অপরিপক্ব বলে আখ্যায়িত করেছে।

জামায়াত নেতা ডা. তাহের বলেন, যারা ভোটের আগে সংস্কার চায় না, তারাই মূলত নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়। তিনি ইসি’র রোডম্যাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, যেখানে নির্বাচনের পদ্ধতিই নির্ধারিত হয়নি, সেখানে রোডম্যাপ ঘোষণা করা অপরিণত সিদ্ধান্ত।

অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইসির রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, যারা হটকারী সিদ্ধান্ত নেবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


নুরের ওপর হামলার আইনি তদন্তের আহ্বান তারেক রহমানের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৮:৪৯:৩২
নুরের ওপর হামলার আইনি তদন্তের আহ্বান তারেক রহমানের

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এবং কাকরাইলে সংঘটিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি নুরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং এ ঘটনার আইনি তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৩টায় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক অত্যন্ত নাজুক সময়ের মধ্যে আছি। যার প্রথম পদক্ষেপ হলো জাতীয় নির্বাচন। সম্মিলিতভাবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আজকের ঘটনার মতো অস্থিতিশীল ঘটনাগুলো যেন আর না ঘটে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।”

তিনি বলেন, গণতন্ত্রপন্থি অংশীজনদের, যার মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররাও রয়েছে, সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনাকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি দেশকে মবের শাসন এবং বর্তমান অস্থিরতার পরিস্থিতি থেকে বের করে আনার ওপর জোর দেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা যদি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের এই মব ভায়োলেন্সের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা বজায় রাখা উচিত, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা উচিত এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়ে তোলা উচিত।” তিনি মনে করেন, কেবল গণতান্ত্রিক পথে জনগণকে ক্ষমতায়িত করা এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সফল হওয়া সম্ভব।

/আশিক


আইসিইউতে নুরুল হক নুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৮:৩৬:৫৩
আইসিইউতে নুরুল হক নুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক

রাজধানীর বিজয়নগরে সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসিসি) থেকে আইসিইউর ৯ নম্বর বেডে স্থানান্তর করা হয়।

ঢামেক হাসপাতালের ওসিসির একজন চিকিৎসক জানান, “নুরুল হক নুরের নাক ও চোখে গুরুতর আঘাত রয়েছে। ওসিসিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টা না গেলে তার অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।”

আহত নুরকে রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। এরপর রাত সোয়া ১১টার দিকে তাকে দেখতে যান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং পরে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তবে আসিফ নজরুলের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়। গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে অবরুদ্ধ করেন।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।

একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আল রাজী টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেওয়া গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখানে নুরুল হক নুর ও দলের শীর্ষ নেতারা একটি সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়, যার ফলে নুর মারাত্মকভাবে আহত হন।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “আমরা পার্টি অফিসের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নুরুল হক নুর মারাত্মকভাবে আহত হন।” এই ঘটনায় সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

/আশিক


কাকরাইলে সংঘর্ষে রক্তাক্ত নুর, উত্তপ্ত রাজনীতি: এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ২৩:০০:৪৭
কাকরাইলে সংঘর্ষে রক্তাক্ত নুর, উত্তপ্ত রাজনীতি: এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা
আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। ছবি: সংগৃহীত।

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ফের রক্তাক্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে জাপা ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ধাপে ধাপে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে।

রক্তাক্ত নুরের ছবি ভাইরাল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরুল হক নুরের অফিসিয়াল আইডি থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়, যেখানে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে। ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

‘জয় বাংলা’ স্লোগান ও গণহত্যার অভিযোগ

গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে, জাপার কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত সহিংসতা। গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বলেন, “জাতীয় পার্টিকে গণহত্যার দায়ে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। যদি বিচার না হয়, তাহলে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা নিজেরাই বিচার করবে।”

ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল

সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা শুরু হয়। একপর্যায়ে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজনা দ্রুত ছড়ায়।

রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আতিকুল আলম খন্দকার বলেন, “ঘটনার শুরুতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে আছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছি।”

হলুদ হেলমেটধারী রহস্যময় বাহিনী

সংঘর্ষের দ্বিতীয় দফা ঘটে রাত সাড়ে ৯টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলুদ রঙের হেলমেট পরে একদল লোক জাপার কার্যালয় থেকে বের হয়ে গণঅধিকার পরিষদের মিছিলে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এসময় পুলিশের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। এ বাহিনীকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ তাদের সবাইকে একই ধরনের হেলমেট পরা অবস্থায় দেখা গেছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগে জটিলতা

জাপার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, গণঅধিকার পরিষদ উসকানিমূলক মিছিল নিয়ে তাদের কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে গণঅধিকার পরিষদ বলছে, উল্টো জাপার কর্মীরাই প্রথম ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষ বাধিয়েছে। ফলে ঘটনার দায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে।

এনসিপির বিক্ষোভের ডাক

এদিকে এ হামলার প্রতিবাদে জরুরি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় এক ক্ষুদে বার্তায় দলটি জানায়, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধা, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ তার দলের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লীগ ও জাতীয় পার্টির বর্বর হামলার প্রতিবাদে আজ রাতেই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।” এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবে ঢাকা মহানগর এনসিপি।


দিল্লিতে হাসিনা–এস আলম গোপন বৈঠকে অর্থায়ন, প্রোপাগান্ডা ও অস্থিতিশীলতার কৌশল!

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১৭:১৮:১৭
দিল্লিতে হাসিনা–এস আলম গোপন বৈঠকে অর্থায়ন, প্রোপাগান্ডা ও অস্থিতিশীলতার কৌশল!

৮ আগস্ট নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো জোনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদ (এস আলম)–এর মধ্যে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। ভারতের রাজধানীর অভিজাত অঞ্চলে অবস্থিত এই বাংলোটি ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানে শেখ হাসিনার অস্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন প্রভাবশালী ভারতীয় কর্মকর্তা এবং বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন পালাতক নেতা। বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচি ছিল আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার জন্য আর্থিক ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ। অভিযোগ অনুযায়ী শেখ হাসিনা বৈঠকে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চান, যা এস আলম দিতে সম্মত হন। এর একটি অংশ সঙ্গে সঙ্গেই প্রদান করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, আর বাকি অর্থ কিস্তিতে প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক ঘিরে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো বিপুল অর্থের ব্যবহার এবং এর সম্ভাব্য খরচের খাত। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এ অর্থ ব্যবহার হবে আন্তর্জাতিক লবিং কার্যক্রমে, বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছে আওয়ামী লীগের পক্ষে সমর্থন আদায়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন নেটওয়ার্কে ব্যাপক প্রোপাগান্ডা চালাতে এবং মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক সহিংসতা উসকে দিতে। আরও বলা হচ্ছে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আর্থিকভাবে প্রভাবিত করা, আওয়ামী নেতাকর্মীদের জামিনে সহায়তা দেওয়া এবং নতুন করে আন্দোলনের ছদ্মবেশে নাশকতা সংগঠিত করাও আলোচনার অংশ ছিল। যদিও এসব তথ্য সরাসরি যাচাই করা যায়নি, তবে একাধিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্র এই আলোচনার আভাস দিয়েছে।

এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই), আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক গবেষণা ও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম। গণঅভ্যুত্থানের পর সিআরআই কার্যক্রম গুটিয়ে নিলেও এখন আবার সেটি গোপনে সক্রিয় হচ্ছে বলে সূত্র দাবি করছে। এ কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্ণধার সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন, যিনি অতীতে সিআরআই–এর মূল নেপথ্য কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। শাওনের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা তৈরি এবং বিরোধী দমননীতির পরিকল্পনা প্রণয়নের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। অভিযোগ আছে, দিল্লির বৈঠকে এস আলম বিপুল অঙ্কের অর্থ সিআরআই পুনর্গঠনের জন্য বরাদ্দ দিতে রাজি হন এবং শাওন এর দায়িত্ব নেন।

বৈঠককে ঘিরে টাইমলাইন অনুসারে দেখা যায়, এস আলম এর আগে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় একাধিক বৈঠক করেন পালাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথেও তার বৈঠক হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল লুট করা অর্থকে বৈধ ব্যবসার ছদ্মবেশে বিনিয়োগ করা। এরপর তিনি দুবাই হয়ে দিল্লিতে পৌঁছান এবং কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নেন। ৮ আগস্টের বৈঠক ছিল এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে শেখ হাসিনার সাথে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। ১০ আগস্ট তিনি আবার হাসিনার বাসভবনে যান এবং ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলমান যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। ১৭ আগস্ট তিনি সিঙ্গাপুরে ফিরে যান। এই পুরো যাত্রাপথের মধ্যে তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিছু পালাতক আওয়ামী লীগ নেতা এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো যদি সত্য হয় তবে এর কয়েকটি গুরুতর দিক রয়েছে। প্রথমত, বিদেশে পালিয়ে থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। দ্বিতীয়ত, বিপুল অর্থের অবৈধ স্থানান্তর ও বিদেশে লবিং কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রতি অমান্যতার শামিল। তৃতীয়ত, সিআরআই–এর মতো রাজনৈতিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা দেশের তরুণ প্রজন্মকে আবারও বিভ্রান্তির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। চতুর্থত, রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অংশকে আর্থিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা সুশাসনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, অভিযোগ সত্য হলে দেশের স্থিতিশীলতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আর্থিক ফরেনসিক অডিট এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং। একই সাথে রাষ্ট্রের উচিত হবে জনগণকে সচেতন করা, যাতে গুজব ও প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে কাউকে অস্থিতিশীলতার সুযোগ দেওয়া না হয়। এই প্রেক্ষাপটে দিল্লির কথিত বৈঠক শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনাই নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নিরাপত্তার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করছে।


"জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১৬:২৩:২১
"জাতীয় নাগরিক পার্টি আসলে ইউনূসের দল, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে"
ছবিঃ সংগৃহীত

সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত থাকা ফজলুর রহমান সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দল এবং তার সঙ্গে জামায়াত ইসলামীর গোপন যোগাযোগ রয়েছে। তার অভিযোগ, কার্যত জামায়াতই বর্তমানে দেশের রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক খাত পরিচালনা করছে।

ফজলুর রহমান বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোনোভাবেই নিরপেক্ষ ব্যক্তি নন। তিনি গত ১২–১৩ মাসে তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বারবার প্রমাণ করেছেন যে নিরপেক্ষ নির্বাচনের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা তার নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনূসের নিজস্ব রাজনৈতিক সন্তান রয়েছে, যাদের তিনি কখনও সন্তান আবার কখনও নিয়োগকর্তা বলে আখ্যা দেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি পক্ষপাতদুষ্ট হবেন। এই কারণেই এনসিপি তার নিজস্ব রাজনৈতিক দল হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে এবং বাস্তবে জামায়াতই দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ব্যাংক খাত থেকে ইসলামী ব্যাংক, শেয়ারবাজার থেকে প্রশাসন এসব ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রভাবশালী দখল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি জেলা পর্যায়ের এসপি-ডিসি থেকে শুরু করে সচিব পর্যায়ের নিয়োগ ও বদলি পর্যন্ত জামায়াতের ইঙ্গিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ফজলুর রহমান। তার মতে, বিএনপি যত দ্রুত এই বাস্তবতা অনুধাবন করবে, দলের জন্য ততই ভালো হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ফজলুর রহমান বলেন, ৮৭ বছর বয়সী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে যেভাবে অপমান করে আটক করা হয়েছে তা দেশের জন্য চরম লজ্জাজনক। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান অপরিসীম, অথচ তাকে মিটিং ভেঙে গ্রেপ্তার করা হলো। যারা এ কাজ করেছে তারা অপরিণামদর্শী এবং তাদের পেছনে কালো শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যারা দেশকে কব্জায় নিতে চাইছে।

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকীসহ আটককৃতদের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত। রাজনৈতিক প্রতিরোধ না গড়ে তুললে এর পরিণতি একদিন বিএনপিকেও ভোগ করতে হবে। তিনি মনে করেন, বিএনপির উচিত এই ঘটনার বিরুদ্ধে চরম নিন্দা প্রকাশ করে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া।

নিজের দলীয় অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদিও বিএনপি থেকে তিন মাসের জন্য তার পদ স্থগিত করা হয়েছে, তিনি এখনো নিজেকে বিএনপির অংশ হিসেবেই মনে করেন। তার মতে, তিন মাস পরে তাকে পুনর্বহাল করা হতে পারে, কিংবা তিনি নিজেও থাকতে পারেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, দেশ আজ বকলমে পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির হাতে বন্দি, যেখানে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা বলা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে, এমনকি মুক্তচিন্তার পরিবেশও ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষকে এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে একাত্ম হতে হবে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির পক্ষে দাঁড়ানো ছাড়া জাতির মুক্তি নেই।

সুত্র: কালের কণ্ঠ


নকলায় বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ ২৪ নেতা-কর্মীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১১:১৮:২৩
নকলায় বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ ২৪ নেতা-কর্মীর
ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় নিল। ইউনিয়ন বিএনপির ২৪ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। এ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় ইউনিয়নের রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের জামায়াত-মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়জুর রহমান ফিরোজ। তাঁর উপস্থিতিতেই বিএনপির এই ২৪ জন নেতা-কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াত শাখার সভাপতি খাদিমুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নকলা পৌর জামায়াতের সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবির, ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমানসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

ফয়জুর রহমান ফিরোজ নবাগত সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে একটি আদর্শিক ইসলামী দলে যুক্ত হয়েছেন। তবে শুধু নাম অন্তর্ভুক্ত করলেই চলবে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পরকালীন মুক্তির জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। নিজেদের একজন ত্যাগী ও আদর্শিক দায়ী হিসেবে গড়ে তোলাই হবে প্রকৃত দায়িত্ব।”

যোগদানকারী নেতাকর্মীরা বলেন, “জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শভিত্তিক ইসলামী দল। দেশের চলমান পরিস্থিতি ও জামায়াতের দেশপ্রেমমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা পারস্পরিক আলোচনা ও স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই দলে যোগ দিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, জামায়াতের প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী নেতৃত্বই দেশ ও জাতির কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

তারা আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতই একমাত্র নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম, যা জনগণের আস্থা অর্জন করেছে এবং জাতীয় জীবনে কল্যাণকামী নাগরিকদের জন্য আশ্রয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগদানকারী ওই ২৪ জন নেতাকর্মী হলেন সোহেল রানা, মো. ইসমাইল, জাহিদুল ইসলাম, ইলিয়াস মিয়া, মো. মানিকুল, মো. ফারুক, মো. মামুন, মো. হাসান, মো. সাগর মিয়া, নোনা মিয়া, মো. রাকিবুল হাসান, ইবনে আনাজ, শফিকুল ইসলাম, সরাফাত মিয়া, হায়তুলা, মো. সেকান্দর আলী, মুসুদ, রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিক, মিলু মিয়া, মো. সেলিম মিয়া, মো. জাহিদুল ইসলাম এবং মো. মোখন।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নকলা উপজেলা আমীর গোলাম সারোয়ার ঢাকা পোস্টকে বলেন, “যারা আজ যোগদান করেছেন, তারা প্রায় দুই মাস আগে থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তাদের হাতে কিছু প্রাথমিক বই দেওয়া হয়েছিল। এগুলো অধ্যয়ন করে তারা জামায়াতের গঠনতন্ত্র, কাঠামো ও কার্যক্রম ভালোভাবে বুঝেছেন। সবকিছু বিবেচনা করেই আজ তাদের সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন, জামায়াতের সংগঠন কাঠামোয় সদস্যপদ ধাপে ধাপে দেওয়া হয় প্রথমে সহযোগী সদস্য, এরপর কর্মী এবং সর্বশেষে রোকন বা পূর্ণ সদস্য। তাঁর ভাষায়, “এই ২৪ জন বর্তমানে প্রাথমিক সহযোগী সদস্য হয়েছেন। তারা কর্মী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সিলেবাস অধ্যয়ন করছেন। আশা করছি, আগামী এক-দুই মাসের মধ্যেই তারা দ্বিতীয় ধাপে উন্নীত হবেন।”

-রফিক

পাঠকের মতামত: