কোন দ্বন্দ্বের আগুনে পুড়ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১৩ ১০:২৯:২২
কোন দ্বন্দ্বের আগুনে পুড়ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি বর্তমানে তীব্র গ্রুপিং, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বসংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। পদ-পদবি কেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব, সমন্বয়হীনতা, এবং জেলা-উপজেলায় বলয়ভিত্তিক রাজনীতির ফলে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মাঠপর্যায়ে একাধিক বলয় সক্রিয় থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দলটির স্থানীয় সংগঠনে সৃষ্টি হয়েছে নেতৃত্বশূন্যতা, অসন্তোষ ও দ্বন্দ্বময় পরিবেশ।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম জাকারিয়াকে আহ্বায়ক এবং রফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে গঠিত ওই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপু। তবে এই কমিটি গঠনের সময় জেলার প্রভাবশালী তিন এমপি— হারুনুর রশীদ, অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা ও আমিনুল ইসলামের মতামত উপেক্ষিত ছিল। ফলাফলস্বরূপ, তাদের অনুসারীরা জেলা বিএনপির কমিটির প্রতি সহযোগিতা না করে প্রতিরোধের অবস্থান নেয়।

এর ধারাবাহিকতায় চার বছরেও জেলার ইউনিয়ন ও থানা ইউনিটগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। জেলা বিএনপির পাঁচটি উপজেলা, চারটি পৌরসভা ও ৪৫টি ইউনিয়নের অধিকাংশেই কার্যকর কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপিতে বর্তমানে ত্রিমুখী বলয় রাজনীতি স্পষ্ট। একদিকে জেলা আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া অধ্যাপক শাহজাহান মিঞার সঙ্গে সমন্বয়ে রাজনৈতিক বলয় পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে চলছে ভিন্ন বলয়, যার পেছনে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতের সক্রিয় মদদ রয়েছে। আর তৃতীয় বলয়টি গড়ে উঠেছে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে, যিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতাদের একজন।

জেলা কমিটির ভেতরে অবস্থানগত এ বিভাজনের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিও আলাদা আলাদাভাবে পালিত হচ্ছে। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এক টেবিলে বসতে রাজি নন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এমনকি জেলা কমিটির অনেক সভা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের স্বাক্ষরহীন অবস্থায় হয়েছে।=

২০২4 সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নির্বাচনী রোডম্যাপ ইস্যুতে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যখন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল হককে বক্তব্য রাখতে না দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর দলীয় ভিত আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

এরপর শিবগঞ্জ, নাচোল, গোমস্তাপুরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দেখা দেয় সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা। একাধিক ক্ষেত্রে সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষর ছাড়া আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া কমিটি ঘোষণা করেছেন। আবার সদ্য ঘোষিত নাচোল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির কমিটিতে আহ্বায়ক জাকারিয়ার স্বাক্ষর নেই, অথচ তাতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের স্বাক্ষর রয়েছে। এসব কমিটি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের মৌখিক নির্দেশনায় গঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা দলীয় রীতি ও গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

দলীয় ভেতরে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে একক বলয় নিয়ন্ত্রণের এই প্রবণতা স্থানীয় নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, তিন নেতার যৌথ স্বাক্ষরে ইউনিট কমিটি গঠন করতে হবে। কিন্তু বারবার এই নির্দেশ লঙ্ঘিত হওয়ায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া আমার স্বাক্ষর ছাড়া পাঁচটি ইউনিট কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। এটাই দলে বিশৃঙ্খলার মূল কারণ। কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়ে আমরা ত্যাগী ও দক্ষ নেতাদের দিয়ে কিছু নতুন কমিটি দিয়েছি।”

অন্যদিকে আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া বলেন, “আমার স্বাক্ষর ছাড়া গঠিত কোনো কমিটির সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। ঢাকা মিটিংয়ে আবদুস সালামও স্পষ্ট বলেছেন, আহ্বায়ক স্বাক্ষর না থাকলে কমিটি বৈধ নয়। অথচ আমার নাম ব্যবহার করে কমিটি দেওয়া হয়েছে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজনীতিতে অধ্যাপক শাহজাহান মিঞার জনপ্রিয়তা ও মাঠের সক্রিয়তা তুলনামূলক বেশি। তার বলয়ের নেতারা নিয়মিতভাবে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্লিন ইমেজ, রাজপথে উপস্থিতি এবং তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগের কারণে তিনি বিএনপির কর্মীসমর্থকদের মধ্যে আস্থা অর্জন করেছেন।

অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতের নেতৃত্বে পৃথক বলয়ের নেতারা আগামী নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্রিয়। ফলে দলীয় নেতৃত্বে আরও ঘনীভূত হয়েছে বিভাজন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

জেলা বিএনপির নেতাদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করছে এবং রাজপথে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ব্যাহত করছে। যদিও আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগেই কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্বন্দ্ব নিরসন সম্ভব; তবে সাবেক এমপি হারুনুর রশীদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া তা বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতও দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বিএনপি একটি বড় দল হিসেবে প্রতিযোগিতা থাকবেই। তবে সংকটগুলো নির্বাচনের আগেই মিটে যাবে বলে আমি আশাবাদী।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত সাংগঠনিক ঐক্য ফেরানো না যায়, তাহলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে কার্যকর কোনো অবস্থান নিতে পারবে না। বরং ভেতরের কোন্দলই হবে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।


৫ আগস্ট নতুন রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১৮:৩২:২৭
৫ আগস্ট নতুন রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী?
ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এক যৌথ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। আগামী ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ভারতে অবস্থানের মধ্য দিয়ে দুই বছর পার হওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি।

এফসিসি সাউথ এশিয়ার প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অডিও সংযোগে সরাসরি যুক্ত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ও বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন বলে আয়োজক সংগঠনটির পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয় দেশের সমসাময়িক রাজনীতি ও দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ভাষণ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের এই আন্তর্জাতিক প্যানেলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বেশ কয়েকজন আলোচিত মুখ অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন ও শাহ মো. বখতিয়ার। বিশ্বজুড়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা অনলাইনে যুক্ত হয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।

মুক্ত গণমাধ্যম ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করেই শেখ হাসিনাকে এই অডিও বক্তব্যের প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ। এই বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে ভারত সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের আইনি বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলনের একপর্যায়ে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি তিনি। গণঅভ্যুত্থান ও সরকার পতনের দুই বছর পূর্তির দিনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই অডিও বার্তা প্রদান এবং সাকিব আল হাসান ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের মতো ব্যক্তিদের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


মঞ্চের পর্দার আড়াল থেকে ব্যান্ডেজ চোখে ফিরে এলেন এনসিপি সমন্বয়ক!

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১৮:০৬:৫৫
মঞ্চের পর্দার আড়াল থেকে ব্যান্ডেজ চোখে ফিরে এলেন এনসিপি সমন্বয়ক!
ছবি : সংগৃহীত

হবিগঞ্জে ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর ওপর হামলায় একটি চোখ হারানোর ঘটনার প্রতিবাদে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে—জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এভাবে বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম আহ্বান করা হলে তিনি কিছুক্ষণের জন্য মঞ্চের পর্দার আড়ালে যান। প্রায় এক মিনিট পর চোখে সাদা ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় ডায়াসে ফিরে এসে তিনি আলোচনায় অংশ নেন।

হবিগঞ্জে আয়োজিত এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা চলাকালে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তি নেতা আলিফ চৌধুরী চোখে মারাত্মক আঘাত পেয়ে দৃষ্টিশক্তি হারান। উক্ত ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ধরে তিনি এই প্রতিকী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

নিজের বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আহত আলিফের চোখ ফিরিয়ে দেওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। হামলাকারীদের সংবেদনশীলতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনার পর আহত কর্মীর সুচিকিৎসায় কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

/আশিক


দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৪৩:৫৯
দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি ভার্চ্যুয়াল আয়োজনে তিনি বক্তব্য দেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় জনসম্মুখে অনুপস্থিত থাকার পর এই বক্তব্য বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে। নয়াদিল্লির মাথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ক্লাবটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মেও এটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

আয়োজকদের আমন্ত্রণপত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েও কথা বলতে পারেন। যদিও তার বক্তব্যের পূর্ণ বিষয়বস্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তীতে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর গত প্রায় দুই বছরে তিনি কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান, সংবাদ সম্মেলন বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত হননি। ফলে এবারের ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যকে তার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথম বড় ধরনের প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শুধু শেখ হাসিনাই নন, বাংলাদেশের রাজনীতি, কূটনীতি, মানবাধিকার এবং ক্রীড়াঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক।

এছাড়া জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক আবু ওবায়দাহ আরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএর পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ারও অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের এসব ব্যক্তির অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

-রাফসান


ভারতের গণতান্ত্রিক উদাহরণ টেনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৯:৪০:১৭
ভারতের গণতান্ত্রিক উদাহরণ টেনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন একটি গণতান্ত্রিক সম্ভাবনার যুগে প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে যদি সঠিক গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় থাকে, তবে সমাজের অন্যান্য উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবেই গতি লাভ করবে। রোববার (২ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, একটি প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ গঠিত হলে দেশের সাধারণ মানুষ সরাসরি ন্যায়বিচার পাবেন। এর পাশাপাশি প্রশাসনকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং জাতীয় সংসদের বিষয়ভিত্তিক কমিটিগুলোকে কার্যকর করা সম্ভব হলে দেশের গণতন্ত্র সুদৃঢ় ভিত্তি পাবে। রাজনৈতিক মতভেদ, সমস্যা কিংবা বিরোধী দলের আন্দোলন থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বকীয়তা বজায় রাখলে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজনৈতিক কাঠামোর কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব জানান, সেখানে বহুমুখী সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শক্তিশালী গণমাধ্যমের কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির কারণেই দেশটিতে গণতান্ত্রিক ধারা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

আইনজীবী ও বিচারকদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। অতীতের বিভিন্ন সময়ে দেশের নাগরিকেরা এই অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে সমাজে ইনসাফ ও সঠিক বিচারব্যবস্থা কায়েম করাই অন্যতম লক্ষ্য। এই নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে সমাজ ও রাষ্ট্র দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

/আশিক


সাবেক সরকারের মতো একই আচরণ ধারণ করছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:১৯:৩৯
সাবেক সরকারের মতো একই আচরণ ধারণ করছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘জান দিব, জুলাই দিব না’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে বিরোধী দলে থাকা একটি পক্ষ ক্ষমতায় এসে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মতো স্বৈরাচারী আচরণ ও পন্থাকে পুনরায় গ্রহণ করছে।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমানে ভিন্নমত দমনে যেসব ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও শক্ত প্রয়োগের চর্চা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা সরাসরি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের অবিকল রূপ। সাবেক সরকারের আমলে বিরোধীদের ওপর যে দমন-পীড়ন চলেছে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার প্রতিফলন ঘটা দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত সাড়ে ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ সাধারণ মানুষ চরম অত্যাচার ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন। একটি রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ মুক্ত হলেও সাবেক সরকারের সেই নির্যাতনমূলক ধারা থেকে বের হওয়া সম্ভব হয়নি।

বক্তব্যের শেষ অংশে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তাদের দলকে নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সে সময় বিএনপি ও এলডিপিসহ গণতান্ত্রিক দলগুলো এই আদেশের প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তবে যারা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে তাদের চরম পতন ঘটেছিল, যা কুদরতি বিচারে এক ঐতিহাসিক শিক্ষা।

/আশিক


তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে প্রতিবাদী কর্মসূচি: কঠোর আলটিমেটাম এনসিপির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২২:০৯:৫৯
তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে প্রতিবাদী কর্মসূচি: কঠোর আলটিমেটাম এনসিপির
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারা দেশে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি খাতে বিদ্যমান গ্যাসের তীব্র সংকট নিরসন এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পেট্রোবাংলা ভবন অভিমুখে প্রতীকী মার্চ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে কারওয়ান বাজার মোড়ে সার্ক ফোয়ারার সামনে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে খালি থালা ও পাতিল হাতে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবনের দিকে শোভাযাত্রা নিয়ে এগিয়ে যান।

সম্প্রতি পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জ্বালানি বিভাগে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬৭ শতাংশ এবং সিএনজিতে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবসংক্রান্ত চিঠির ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এনসিপির নেতারা।

সমাবেশে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মনসুর বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরা, ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন।

জ্বালানি খাতে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, বিদ্যমান এই সংকটের সুরাহা না করে উল্টো যদি গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পাঁয়তারা করা হয়, তবে ঢাকাবাসীকে সাথে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবন ঘেরাও ও অবরুদ্ধ করা হবে। একই সাথে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে দেশের সার্বিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সারা দেশে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

/আশিক


অন্যায়ের অবসান ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:৩৯:৪৭
অন্যায়ের অবসান ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির
বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: কালবেলা

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবকিছুকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করাও ভুল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে দৈনিক জালালাবাদ আয়োজিত এক সুধী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা চাই না দেশ আবারও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত চোরাবালিতে হারিয়ে যাক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের নজিরবিহীন আত্মত্যাগ এবং ত্যাগ স্বীকার কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। গোটা জাতিকে এই রক্তের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।"

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। দেশজুড়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অনিয়ম বন্ধে কার্যকর এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি জোর তাগিদ দেন।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, "সংবাদমাধ্যম হলো সমাজের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই রাষ্ট্র ও সমাজকে সচেতন রাখতে পারে এবং প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনে।" গণমাধ্যমকর্মীদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে বস্তুনিষ্ঠ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

উক্ত সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব সম্প্রদায়ের অবদান ছিল: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:১৩:১২
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব সম্প্রদায়ের অবদান ছিল: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল, তা এখনো দলীয় আদর্শ হিসেবে ধারণ করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (১ আগস্ট) গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে 'সম্প্রীতির জুলাই: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আন্দোলনের সূচনা থেকেই এর একটি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ছিল, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ৯ জন সদস্য শহীদ হন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারগুলো নিজেদের অসাম্প্রদায়িক দাবি করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভোটে ফায়দা লুটতে তাদের একটি নির্দিষ্ট দলের পকেটে রাখার অপচেষ্টা চালানো হতো। এর ফলে সেই রাজনৈতিক দলের নানা অপকর্মের দায়ভারও অন্যায়ভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর গিয়ে পড়ত। তাই সংখ্যালঘুদের কোনো নির্দিষ্ট দলের পকেটে না গিয়ে সব দলের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখা উচিত, যাতে কোনো দলই তাদের ব্যবহার করতে না পারে।

জুলাই-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতি জোর দিয়ে তিনি বলেন, সংকটের সময় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেটিই জুলাইয়ের আসল শিক্ষা। শুধু গুম-খুন নয়, বিগত সময়গুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল ও হামলার সাথে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

জাতীয় অগ্রগতি ও সম্প্রীতি রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে তার সুফল রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক পাবে। তাই দেশকে বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে এবং নতুন করে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় প্রধান ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

/আশিক


সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৯:৫০:২৫
সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আক্রমণ চালিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপির ওপর হামলা পরিচালনা করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ‘জুলাই স্মরণে: অগ্নিঝরা জুলাই, রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ব্যাহত করতেই বারবার এই ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।

এর আগে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটি। গোলাপগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় হামলাকারীরা বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয়।

সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, এনসিপি কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থেকে তিনি আর কোনো দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলবেন না বলে মন্তব্য করেন।

হামলার ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: