পাকিস্তানে ১৬ বছরের কমদের জন্য বন্ধ হচ্ছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ২২ ১১:১৭:১০
পাকিস্তানে ১৬ বছরের কমদের জন্য বন্ধ হচ্ছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম!
ছবিঃ সংগৃহীত

পাকিস্তানে ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধে সিনেটে একটি নতুন বিল পাস হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) সিনেটর সারমাদ আলী ও মাসরুর আহমদ এই ‘সোশ্যাল মিডিয়া (ব্যবহারকারীর জন্য বয়স সীমা) বিল ২০২৫’ উত্থাপন করেন এবং তা পাস হয় ৩৪ ভোটে, যেখানে ১৯ জন বিরোধিতা করেন।

এই আইনের মূল লক্ষ্য—অনলাইনে শিশু নির্যাতন, সাইবার বুলিং এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে শিশুদের রক্ষা করা। বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ১৬ বছরের নিচে কোনো শিশুকে অ্যাকাউন্ট খুলতে সহায়তা করে, তাহলে তার ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া, কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি যদি ১৬ বছরের কম বয়সি কাউকে অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয়, তাহলে ৫০ হাজার থেকে ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে।

পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটি (পিটিএ) এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে। তারা নাবালক ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন তৈরির এখতিয়ারও পাবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকেও এই বয়সসীমা রক্ষা করার আইনি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিনেটর সারমাদ আলী বলেন, “ডিজিটাল যুগে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। এই বিলের মাধ্যমে আমরা অনলাইন ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে চাই, একইসঙ্গে শিশু ও অভিভাবকদের ডিজিটাল সচেতনতা বাড়াতে চাই।”

এই উদ্যোগকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ডিজিটাল নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়াতেও গত বছর এমন একটি বিল পাস হয়েছিল, যেখানে ১৬ বছরের কম বয়সিদের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম কড়াকড়িমূলক আইন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

/আশিক


প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন থাবা: এবার তেলবাহী বিশাল জাহাজ জব্দ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ২২:০১:৩২
প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন থাবা: এবার তেলবাহী বিশাল জাহাজ জব্দ
ছবি : সংগৃহীত

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও একটি তেলবাহী বিশাল জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চালানো এই অভিযানকে ওমান সাগরের উত্তেজনারই একটি নতুন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পেন্টাগন তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় গত রাতে ‘এম/টি টিফানি’ নামের একটি রাষ্ট্রহীন ও নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজে কমান্ডো অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। কোনো ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছাড়াই সেনারা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার থেকে মার্কিন কমান্ডোরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কমলা রঙের বিশাল জাহাজটিতে অবতরণ করছে। অভিযানটি প্রশান্ত বা ভারত মহাসাগরের ঠিক কোথায় হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো না হলেও, পেন্টাগন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে—আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিষেধাজ্ঞাভুক্ত কোনো জাহাজ নিরাপদ আশ্রয় পাবে না।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জব্দ করা এই ‘টিফানি’ জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার পর আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ এবং জাহাজ জব্দ করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্পের এমন অনড় অবস্থানের কারণেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য, এটি গত কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় নৌ-অভিযান। এর আগে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজ জব্দ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই অভিযানে মার্কিন সেনারা সতর্কতা উপেক্ষা করায় জাহাজটির ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়েছিল, যার ফলে জাহাজটি মাঝসমুদ্রেই অচল হয়ে পড়ে। একের পর এক জাহাজ জব্দের এই ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

/আশিক


বুধবারের আগেই যুদ্ধের দামামা? ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে দোদুল্যমান মধ্যপ্রাচ্য শান্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ২১:৩২:৫৯
বুধবারের আগেই যুদ্ধের দামামা? ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে দোদুল্যমান মধ্যপ্রাচ্য শান্তি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরানের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই; প্রতিনিধি পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আসা ছাড়া তেহরানের আর কোনো উপায় নেই।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, তিনি নিশ্চিত যে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘দারুণ চুক্তিতে’ পৌঁছাতে পারবে। তবে আলোচনার পাশাপাশি তিনি সামরিক হুমকি দিতেও ছাড়েননি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা খুব কঠোর অবস্থানে আছি। যদি কোনো কার্যকর চুক্তি না হয়, তবে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর এক মুহূর্তের জন্যও বাড়ানো হবে না।"

ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধের সুর আরও প্রকট হয়ে ওঠে যখন তিনি বলেন, "আমি মনে করি বোমা হামলা হওয়াই শ্রেয়, কারণ সেটাই হবে এখনকার জন্য সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। চুক্তি করার জন্য হাতে বেশি সময় নেই।" তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে পৌঁছালেই কেবল ইরান শান্তিতে থাকতে পারবে। এর কিছুক্ষণ পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন তিনি।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা সর্বোচ্চ চাপের মুখেও নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ইরান এখনো ইসলামাবাদে আলোচনায় যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, "ইরান কোনো ধরনের হুমকির কাছে মাথা নত করবে না।"

সূত্র: বিবিসি বাংলা


হরমুজের চাবিকাঠি কি তবে ইরানের হাতেই? মার্কিন নৌ-অবরোধের মাঝেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ২১:২৫:০১
হরমুজের চাবিকাঠি কি তবে ইরানের হাতেই? মার্কিন নৌ-অবরোধের মাঝেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট
ছবি : সংগৃহীত

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আসন্ন শান্তি আলোচনার টেবিলে এখন প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থা নিরসনে উভয় পক্ষ আলোচনার প্রস্তুতি নিলেও, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে জ্বালানি সরবরাহ তলানিতে ঠেকলেও, বর্তমানে যে সামান্য পরিমাণ তেল পরিবহন করা হচ্ছে, তার অধিকাংশই ইরানের। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের ওপর নিজেদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব বজায় রাখতে মরিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানি কর্তৃপক্ষ কার্যত এই জলপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যের ওপর।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ইরান একটি স্থায়ী টোল বা মাশুলব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো সিদ্ধান্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে, কারণ এতে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ইরানের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

পরিসংখ্যান বলছে ভয়াবহ চিত্র

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের আগে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচল করলেও গত শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে মাত্র ৩৬টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে শিপিং অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলার নিশ্চিত করেছে যে, গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন অবরোধ আরোপের পর থেকে অন্তত ২৭টি ইরানি জাহাজ এই চ্যানেলটি ব্যবহার করেছে। বিপরীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সমসংখ্যক জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।

পণ্যমূল্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিআরইউ গ্রুপ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মে মাসের শেষ পর্যন্ত এই অচলাবস্থা চলার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে জ্বালানি বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু করার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি এবং ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। বর্তমানে হাজার হাজার নাবিক এই বিপজ্জনক জলসীমায় আটকা পড়ে আছেন, যা একটি চরম মানবিক সংকটেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন


বোমাবর্ষণের মানসিকতা নিয়েই এগোবো: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৯:৫৫:১১
বোমাবর্ষণের মানসিকতা নিয়েই এগোবো: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে চরম সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়ে আলোচনার টেবিলে আত্মসমর্পণের চাপ বাড়িয়েছেন। সিএনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, "ইরানে বোমাবর্ষণের মানসিকতা নিয়ে এগোনোই এখন শ্রেয়।" তিনি আরও দাবি করেন যে, মার্কিন সেনাবাহিনী লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তারা ‘মুখিয়ে আছে’।

ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন ওমান সাগরে নৌ-অবরোধ এবং জাহাজ জব্দ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা চরমে। পিবিএস নিউজকে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারেও তিনি একই সুরে কথা বলেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) শেষ হতে যাওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ যুক্তরাষ্ট্র আর বাড়াবে না। তাঁর মতে, হাতে সময় খুব কম এবং যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি ‘চমৎকার চুক্তি’র দিকে নিয়ে যেতে পারে।

তবে ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা সর্বোচ্চ চাপের কৌশলের বিপরীতে ইরান এখনো দোটানায় রয়েছে। তেহরান এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। যদিও রয়টার্স এক গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বুধবার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনো জোরালো এবং সবকিছু সঠিক পথেই এগোচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ট্রাম্প নিজে সরাসরি বা ভার্চুয়ালি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।

/আশিক


মার্কিন অবরোধ গুঁড়িয়ে ইরানি বন্দরে তেলের জাহাজ! সাগরে স্নায়ুযুদ্ধের নতুন মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৯:২৪:৩৮
মার্কিন অবরোধ গুঁড়িয়ে ইরানি বন্দরে তেলের জাহাজ! সাগরে স্নায়ুযুদ্ধের নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ আর সতর্কবার্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দক্ষিণ ইরানের বন্দরে নোঙর করেছে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সরাসরি সহায়তায় ‘সিলিকা সিটি’ নামের এই জাহাজটি সফলভাবে ইরানি জলসীমায় প্রবেশ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরব সাগর থেকে বন্দরে পৌঁছানো পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনী একাধিকবার হুমকি ও সতর্কবার্তা দিলেও ইরানি বাহিনী তা তোয়াক্কা করেনি। তবে এই সাহসিকতাপূর্ণ অভিযানের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ শুরুর পর থেকে তারা এ পর্যন্ত ২৭টি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে। এমনকি সোমবার রাতে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ‘এম/টি টিফানি’ নামের একটি তেলের ট্যাঙ্কার দখল করে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে থাকা মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগন (যার বর্তমান নাম 'যুদ্ধ মন্ত্রণালয়') জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

/আশিক


বৈদেশিক ঋণের বোঝা কত? সংসদে ঋণের পাহাড়ের তথ্য দিলেন অর্থমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৮:২৫:২৩
বৈদেশিক ঋণের বোঝা কত? সংসদে ঋণের পাহাড়ের তথ্য দিলেন অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের বর্তমান স্থিতি এবং তা পরিশোধের বিস্তারিত তথ্য জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে জাতীয় সংসদের ১৮তম দিনের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ০৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য প্রদান করেন। রুমিন ফারহানা তাঁর প্রশ্নে বর্তমান বিদেশি ঋণের পরিমাণ, ঋণ পরিশোধে গৃহীত পদক্ষেপ এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত কত টাকা ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে—তা জানতে চেয়েছিলেন।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) সরকারের পক্ষে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই ঋণ পরিশোধের কার্যক্রম তদারকি করে থাকে। তিনি জানান, প্রতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সেই অনুযায়ী বার্ষিক বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়। এই বাজেট বরাদ্দ ব্যবহার করেই সারা বছর নির্ধারিত সূচি অনুসরণ করে কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। মূলত সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

/আশিক


বিশ্ববাজারে কমছে তেলের দাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৭:০৭:২৯
বিশ্ববাজারে কমছে তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন শান্তি আলোচনার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। সেই প্রভাবেই মঙ্গলবার তেলের দাম নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে, আর দিনের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই পতনের ধারা মোটামুটি বজায় থেকেছে।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন ধরে নিচ্ছেন যে কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত ঝুঁকি কমলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহচাপ হালকা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, আর সেটিই দামের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলছে।

সর্বশেষ লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৬৯ সেন্ট কমে ৯৪.৭৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই মে চুক্তির দাম ১.১২ ডলার কমে ৮৮.৪৯ ডলারে নেমেছে। অন্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ক্রুড ০.৯ শতাংশ কমে ৮৬.৬৩ ডলারেও নেমেছিল, যা দেখায় দিনের ভেতরেও ওঠানামা ছিল।

এই পতনের আগে সোমবার বাজারে একেবারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। ইরানকে ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে এমন শঙ্কায় ব্রেন্ট প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৪৮ ডলারে পৌঁছায়, আর ডব্লিউটিআই ৬.৯ শতাংশ বেড়ে ৮৯.৬১ ডলারে ওঠে।

তারও আগে ১৭ এপ্রিল ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দর একদিনে প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত নেমেছিল, যখন ইরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ঘোষণা দেয় এবং আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এতে বোঝা যাচ্ছে, তেলবাজারে এখন মূল চালিকাশক্তি হলো ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি আর কূটনৈতিক সংকেত।

তবে বাজার এখনো পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও সীমিত, আর সরবরাহ ব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। সিটি-এর একটি মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই বিঘ্ন আরেক মাস চললে তেলের দাম ১১০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স


মসজিদ-গির্জা কিছুই বাদ যাচ্ছে না! সব ধর্ম অবমাননা করে প্রশ্নের মুখে ইসরায়েলি সেনারা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১১:৫৬:০৮
মসজিদ-গির্জা কিছুই বাদ যাচ্ছে না! সব ধর্ম অবমাননা করে প্রশ্নের মুখে ইসরায়েলি সেনারা
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত ডেবেল শহরে যিশু খ্রিস্টের একটি পবিত্র মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলি এক সেনার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ভাইরালের পর আইডিএফ (IDF) এবং ইসরায়েলি সমাজের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একজন সেনার ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভেতরে শিকড় গেঁড়ে বসা উগ্রবাদ ও শৃঙ্খলার চরম অভাবের একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে প্রচার করলেও, আইডিএফ সদস্যদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক খ্রিস্টান জায়নিস্ট এবং ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই ছবি ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অনেক খ্রিস্টান গোষ্ঠী এখন প্রকাশ্যেই অভিযোগ করছে যে, ইসরায়েলিরা খ্রিস্টানদের প্রতি গভীর ঘৃণা পোষণ করে এবং ফিলিস্তিনিরাই আসলে তাদের প্রকৃত মিত্র। এই একটি ছবি ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূর্তিটি যখন ভাঙা হচ্ছিল, তখন সেখানে আরও অনেক সেনা এবং একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, উপস্থিত কেউ তাকে বাধা দেয়নি। এর আগেও গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে কুরআন শরীফ পোড়ানো, গির্জার ভেতরে ব্যঙ্গাত্মক বিয়ের আয়োজন করা এবং বন্দীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল।

আইডিএফ কর্তৃপক্ষ এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ সেনাদের মধ্যে ‘অপরাধ করে পার পাওয়ার’ এক ধরনের প্রবণতা বা ইনডেমনিটি তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘বিস্ময়কর ও দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করলেও বিশেষজ্ঞরা একে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। কারণ, গত কয়েক বছরে ইসরায়েলের ভেতরেও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের ওপর হামলা, থুতু নিক্ষেপ এবং খ্রিস্টান কবরস্থান ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

গত বছর গাজার একমাত্র ক্যাথলিক গির্জায় ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় তিনজনের মৃত্যু এবং পাদ্রি গ্যাব্রিয়েল রোমানিল্লির আহত হওয়া নিয়ে ভ্যাটিকানসহ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

ইসরায়েলি সাংবাদিক লাজার বারম্যানের মতে, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে ইসরায়েল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়ে ক্রমশ উগ্র ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চরমপন্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আইডিএফ যদি দ্রুত এই নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে না পারে এবং এই সেনার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করে, তবে তা কেবল লেবানন বা গাজা নয়, খোদ ইসরায়েলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল


অবরোধে ধ্বংস হচ্ছে ইরান, জয় আমাদেরই: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১১:৪৪:০৪
অবরোধে ধ্বংস হচ্ছে ইরান, জয় আমাদেরই: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) দুই দেশের মধ্যকার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চললেও দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুরু হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে ঘোর সংশয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে না। তাঁর দাবি, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই মার্কিন অবরোধ ‘ইরানকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে’ এবং এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘বড় ব্যবধানে’ জয়ী হচ্ছে। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইরান সম্প্রতি বিভিন্ন জাহাজে গুলি চালিয়ে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির ‘পূর্ণাঙ্গ লঙ্ঘন’ করেছে।

এদিকে, পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ইরান এখনো তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ না তোলা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে না। এর আগে গত রোববার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করার ভিডিও প্রকাশ করে, যাকে ইরান ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ ও যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। সেন্টকমের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে তারা ২৭টি জাহাজকে ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।

ইসলামাবাদে আলোচনার পরিবেশ তৈরির জন্য বড় বড় হোটেল খালি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান পুলিশ। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো ওয়াশিংটন ছাড়েননি। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন তারা মঙ্গলবারই রওনা হতে পারেন। পাকিস্তান সরকার আত্মবিশ্বাসী যে তারা ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারবে, তবে তেহরান এখন পর্যন্ত ‘কোনো পরিকল্পনা নেই’ বলেই অনড় অবস্থানে রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: