সিএনএনের বিশ্লেষণ

ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘাত: কারও প্রকৃত বিজয় নেই, শুধু দাবির প্রতিযোগিতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ১২ ১৫:৪৩:৩৮
ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘাত: কারও প্রকৃত বিজয় নেই, শুধু দাবির প্রতিযোগিতা

সত্য নিউজ: একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএনের এক প্রতিবেদনে সিএনএনের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি প্রতিবেদক ম্যাথিউ চ্যান্স বলেন, “বিজয়ের হাজারো পিতা থাকে, কিন্তু পরাজয় হয় এতিম।” এই বহুল পরিচিত প্রবাদের বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সংঘাতে।

সংঘাতের সমাপ্তিতে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ভারতের জাতীয় টেলিভিশনগুলোতে যখন “পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছে” এই শিরোনামে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছিল, তখন পাকিস্তানের রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে বিজয় উদযাপন চলছিল।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “কাশ্মীরে পর্যটকদের হত্যার জবাবে ভারতের সামরিক পদক্ষেপ সন্ত্রাসীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা।” অপরদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেন, “কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমাদের সাহসী সেনারা ভারতের কামানগুলোকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তবে বাস্তবতা হলো—এই সংঘাতে উভয় পক্ষই বড় রকমের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি অত্যাধুনিক ফ্রেঞ্চ নির্মিত রাফাল জেট। এটি যদি সত্য হয়, তবে তা ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের অপমান।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের সীমান্তবর্তী দুই রাজ্যে ওই সময় দুটি যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে, এবং একটি ফ্রেঞ্চ গোয়েন্দা সূত্র সিএনএন-কে নিশ্চিত করে যে অন্তত একটি রাফাল পাকিস্তান ভূপাতিত করেছে। তবে ভারত এখনো পর্যন্ত একটি বিমান হারানোর কথাও স্বীকার করেনি।

অন্যদিকে ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছেন, যাতে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও রাডার স্টেশনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে, যা ভারতীয় বিমান হামলার ফল বলে দাবি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা যার যার মতো করে ঘটনা ব্যাখ্যা করছেন, কিন্তু কোনো পক্ষই প্রকৃত বিজয় দাবি করার মতো অবস্থানে নেই। এমনকি যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব নিয়েও চলছে পাল্টাপাল্টি দাবি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে আচমকা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, তিনি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেছেন।

পাকিস্তান প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রশংসা করলেও ভারত বিষয়টি ছোট করে দেখাতে চায়। নয়াদিল্লি দাবি করছে, এই যুদ্ধবিরতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ভারতের জাতীয় গৌরব ও কাশ্মীর নীতির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য, কারণ ভারত বরাবরই কাশ্মীর ইস্যুতে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

তবে ট্রাম্প এরইমধ্যে কাশ্মীর ইস্যুতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন—যা পাকিস্তান স্বাগত জানালেও ভারত উপেক্ষা করেছে। এতে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অর্জিত এই যুদ্ধবিরতি মূলত একটি ‘তাৎক্ষণিক সমাধান’ বা ‘বন্ধুত্বপূর্ণ প্রলেপ’, যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কাশ্মীর সংকটের গভীর সমস্যাগুলো সমাধানে সক্ষম নয়।

এই সংঘাতের পরে উভয় দেশের বিজয়ের দাবি যতটা উচ্চকণ্ঠ, বাস্তবতায় তা ততটাই ফাঁপা। এবং কাশ্মীর ইস্যু যে ভবিষ্যতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে, তা নিঃসন্দেহে অনুমেয়।

সুত্রঃ সিএনএন থেকে অনুদিত ও পরিমার্জিত


চাঁদের পৃষ্ঠে ফ্যালকন-৯ রকেটের অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১৮:১৩:০৬
চাঁদের পৃষ্ঠে ফ্যালকন-৯ রকেটের অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাত
ছবি : সংগৃহীত

স্পেসএক্সের একটি ফ্যালকন-৯ রকেটের উপরের ধাপ বা আপার স্টেজ চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনিয়ন্ত্রিত বস্তুটি চাঁদের দৃশ্যমান অংশের 'আইনস্টাইন ক্রেটার' এলাকার কাছাকাছি আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এই চমকপ্রদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মহাকাশে পাঠানো এই রকেটটি গত বছর সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। মূল মিশন শেষে নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ৪ হাজার কেজি ওজনের আপার স্টেজটিকে মহাকাশে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তবে বিচ্ছিন্নের পর দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং চাঁদের অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে উপগ্রহটির দিকে ধাবিত হয়ে শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষের মুখে পড়ে।

খগোলবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বিশ্বজুড়ে বিশেষায়িত শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই বিরল সংঘর্ষটির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে আঘাতের স্থানটি থেকে তাত্ক্ষণিক কোনো ভিডিও বা লাইভ সিগন্যাল পাওয়ার সুবিধা না থাকায় ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করা সম্ভব হয়নি।

এই বৈজ্ঞানিক ঘটনা প্রসঙ্গে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মুখপাত্র জিমি রাসেল সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষের কারণে পৃথিবীর কোনো ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি নেই। বরং এই অনিয়ন্ত্রিত আঘাত থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত চাঁদের মাটি ও গঠন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহে সহায়তার পাশাপাশি মহাকাশে ভাসমান বস্তুর সঠিক গতিপথ চিহ্নিত করার প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তবে এই ঘটনাটি মহাকাশ বর্জ্য বা 'স্পেস ডেব্রিস' নিয়ে নতুন করে বৈশ্বিক দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ম্যাট বোথওয়েল মহাকাশে অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পৃথিবীর কক্ষপথে যেভাবে বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে, তাতে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে নতুন কোনো মহাকাশযান বা কৃত্রিম উপগ্রহ নিরাপদে উৎক্ষেপণ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও বিপদসংকুল হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র: বিবিসি


মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে নতুন তথ্য, কী বলছে সিএনএন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১০:৩০:১৫
মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে নতুন তথ্য, কী বলছে সিএনএন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টরও ব্যয় হয়েছে। এ তথ্য সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত, সামরিক সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যৎ অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যত থাড ইন্টারসেপ্টর ছিল, তার প্রায় চার-পঞ্চমাংশ ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দ্রুত মজুত কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রয়টার্স ও সিবিএস নিউজও পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দীর্ঘ-পাল্লার নির্ভুল নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থায় উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলোর উৎপাদনও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বড় ধরনের সংঘাতে মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে।

সিএনএনের দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আরও বড় সামরিক অভিযান থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে সরে আসেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা প্রেসিডেন্টের দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো কারণ নিশ্চিত করেনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউস এসব প্রতিবেদনে প্রকাশিত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট যখন, যেখানে এবং যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সে অনুযায়ী অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র, প্রযুক্তি ও সামরিক প্রস্তুতি তাদের হাতে রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলিও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্ধারিত সব কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান মজুত নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, থাড এবং প্যাট্রিয়ট বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের উৎপাদন ব্যয় অত্যন্ত বেশি এবং সরবরাহ সীমিত হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এসব অস্ত্রের ব্যবহার ও পুনরায় মজুত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

-রফিক


প্রশাসনিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ: ট্রাম্পের বড় রাজনৈতিক ধাক্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ২০:২৯:৪২
প্রশাসনিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ: ট্রাম্পের বড় রাজনৈতিক ধাক্কা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। নিজস্ব অনুমানের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা থাকলেও, এবার তাঁর প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নন; বরং নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা এবং দীর্ঘদিনের অনুগত মিত্ররা। অনুগতদের সঙ্গে নীতির সংঘাত এবং জটিল প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে তিনি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন।

অনুকূল আইনি ব্যবস্থা তৈরির প্রচেষ্টায় হোঁচট খাওয়ার ঘটনাটি ঘটে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের রিফ্লেক্টিং পুলে ভাঙচুরের একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। সাবেক অলিম্পিক অ্যাথলেট ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাটিতে বাদী পক্ষে ছিলেন বিচার বিভাগের কর্মকর্তা ও ট্রাম্প সমর্থক জেনিন পিরো। দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে মামলায় জয় অসম্ভব বুঝতে পেরে পিরো মামলাটি প্রত্যাহার করে নিলে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিরোর তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাকে নতিস্বীকারকারী বলে আখ্যা দেন।

পরবর্তী ধাক্কাটি আসে ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আইনি উপদেষ্টা টড ব্ল্যাঞ্চের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক রাজনৈতিক মামলার শিকার ব্যক্তিদের জন্য ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এই তহবিলের তীব্র বিরোধিতা করেন রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নি ও থম টিলিস। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই তহবিল পুরোপুরি বাতিল না করা পর্যন্ত ব্ল্যাঞ্চের নিয়োগ চূড়ান্ত হতে দেওয়া হবে না। পরিণতিতে সিনেট অনুমোদন পাওয়ার স্বার্থে ব্ল্যাঞ্চ সিনেটরদের লিখিত মুচলেকা দিয়ে সেই শর্ত মেনে নেন।

অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের চেয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। মার্কিন সাময়িক সামরিক হুমকির মাঝেই ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানি প্রতিনিধিরা গোপন বৈঠকের অনুরোধ জানিয়ে পরবর্তীতে জনসম্মুখে তা অস্বীকার করছে। যদিও ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালির সমুদ্র পথ সম্পর্কিত সীমিত কিছু আলোচনা ছাড়া তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বড় কোনো চুক্তির সমঝোতা ঘটেনি বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সুদীর্ঘ যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়েছে ট্রাম্পের প্রতি সাধারণ জনগণের সমর্থনে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে, যা আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে কোনো দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে অন্যতম সর্বনিম্ন। তবে এই জরিপ পরিসংখ্যানকে সরাসরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন তাঁর জনপ্রিয়তা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শীর্ষে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসন্ন মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা তাঁর সরকারের বিষয়ে কী রায় দেন, সেটিই এখন বড় দেখার বিষয়।

/আশিক


শেষ মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা থামাল ইরান, কেন?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ০৯:২৬:৪৬
শেষ মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা থামাল ইরান, কেন?
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিল করেছে ইরান। কিয়েভ কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাতের ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত বলে দুঃখ প্রকাশ করার পর তেহরান এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি। তবে তিনি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর অবস্থান বা হামলার ধরন সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি এবং তাঁর এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার (৩ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, ইউক্রেনের তিনটি স্থানে আঘাত হানার জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল। পরে কিয়েভ ঘটনাটিকে ভুলবশত সংঘটিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করায় অভিযানটি স্থগিত করা হয়। তবে ইউক্রেনের কথিত দুঃখ প্রকাশকে তিনি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা হিসেবে উল্লেখ করলেও কিয়েভের প্রকাশ্য বিবৃতিতে সেই ভাষা ব্যবহৃত হয়নি। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে জানিয়েছিলেন, জাহাজে আঘাতটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৫ জুলাই কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার পর। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিস্ফোরণে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। তেহরান এটিকে ‘শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে তলব করে এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।

ইউক্রেন ওই জাহাজটিকে রাশিয়ার জন্য ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী নৌযান হিসেবে সন্দেহ করেছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে জাহাজটি ঠিক কী বহন করছিল, সে বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাইকৃত কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান এ ধরনের সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের কাছে নিহত নাবিকের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা দাবি করেন। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনায় উভয় পক্ষ উত্তেজনা আরও বিস্তৃত না করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তেহরান স্পষ্ট করে জানায়, জাহাজে হামলার ঘটনা বিনা প্রতিক্রিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হবে না। পরে জাহাজটির নাবিকেরা এবং নিহত নাবিকের মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

মোহসেন রেজায়ি একই সাক্ষাৎকারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের নির্ধারিত নৌপথের বাইরে কোনো জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। বিশেষ করে কোনো প্রতিপক্ষের যুদ্ধজাহাজ তেহরানের ভাষায় ‘অবৈধ পথে’ প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচলের নিয়ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর জন্য বাধাহীন ও উন্মুক্ত চলাচল দাবি করলেও তেহরান প্রণালিটির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলছে। বর্তমানে ইরান ও ওমানের মধ্যে সাময়িক নৌপথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো চুক্তি হয়নি বলে তেহরান জানিয়েছে।

রেজায়ি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা ব্যাহত করেছে এবং মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য পরিসংখ্যান বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের এই মূল্যায়ন স্বীকার করেনি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে ইরানি সামরিক নেতৃত্বের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ইউক্রেনে পরিকল্পিত হামলা বাতিলের দাবি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের দুটি পৃথক যুদ্ধক্ষেত্র ক্রমেই একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। রাশিয়া-ইরান সামরিক সহযোগিতা, ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন অভিযান এবং হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন ধরনের আন্তঃআঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, কাস্পিয়ান সাগরের ঘটনার পর সরাসরি ইরান-ইউক্রেন সামরিক সংঘাত শুরু হলে চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠতে পারত।

তেহরান আপাতত হামলা বাতিলের কথা জানালেও ঘটনাটির তদন্ত এবং সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

-রফিক


জীবনহানি এড়াতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে কী চুক্তি হতে যাচ্ছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ২১:৫৩:৫০
জীবনহানি এড়াতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে কী চুক্তি হতে যাচ্ছে?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো সামরিক সংঘাত বিস্তার না করে কেবল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সব বিদ্যমান সংকটের সমাধান চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পারস্য উপসাগরীয় এলাকার চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, তিনি অহেতুক জীবনহানি চান না এবং যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতের চেয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতায় আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা তেহরানের জন্য চরম ক্ষতিকর হতো। তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং খোদ ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ উন্মুক্ত হওয়ার কারণেই পরিকল্পিত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প এই সম্ভাব্য চুক্তি ও কূটনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিকে সরাসরি শর্তযুক্ত করেছেন। আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া না হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্ণ প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। মূলত আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিষেধাজ্ঞা অপসারণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চলমান আন্তর্জাতিক আলোচনার অংশ হিসেবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য সামনে এসেছে।

সূত্র: গালফ নিউজ


ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার গুজব উড়িয়ে দিল তেহরান: নেপথ্যে কী কারণ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১৯:৩২:২৪
ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার গুজব উড়িয়ে দিল তেহরান: নেপথ্যে কী কারণ?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (৩ আগস্ট) আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলার তথ্যটি সঠিক নয় এবং বিষয়টিতে কোনো অস্পষ্টতার অবকাশ নেই।

মুখপাত্র জানান, বর্তমানে কেবল প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গেই ইরানের আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার একমাত্র লক্ষ্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মাস্কাটের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে দুই উপকূলবর্তী দেশ গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। এই আলোচনায় অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কিত অপরাপর বিষয় ও তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তীতে পর্যালোচনা করা হতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক সমকক্ষদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রেখে চলছেন।

হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অচলাবস্থার জন্য ওয়াশিংটনকেই দায়ী করেছেন ইসমাইল বাঘাই। তিনি উল্লেখ করেন, ওমানের সাথে মতপার্থক্য নয়, বরং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধ ও সামরিক আগ্রাসনের ফলেই এই জলপথ সংকটের মুখে পড়েছে। যত দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী তৎপরতা বন্ধ না হবে, তত দিন পর্যন্ত প্রণালীর সার্বিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা করা কঠিন। এছাড়া ওমানের সঙ্গে সমঝোতা আঞ্চলিক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হলেও জলপথটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে তা একাই যথেষ্ট নয় বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার বিষয়ে বাঘাই বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তান এবং কাতার তাদের পূর্বনির্ধারিত ভূমিকা পালন করছে, এখানে চীন নতুন কোনো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়নি। তবে কৌশলগত মিত্র হিসেবে বেইজিং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিজেদের অবস্থান থেকে অবদান রাখছে। এছাড়া ইয়েমেন সংকটে সামরিক জোট গঠন না করে শান্তির জন্য স্থায়ী কাঠামোগত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন মুখপাত্র।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেহরান পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করে না এবং সবার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ইরানের সামরিক পদক্ষেপগুলো কেবল আত্মরক্ষামূলক, যা তাদের ওপর হামলা চালানোর উৎপত্তিস্থল বা ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। তবে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, নিজস্ব ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে কঠোর দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবশেষে কূটনৈতিক মহলের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে।

সূত্র- মেহের নিউজ


‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৫৮:৪৬
‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সোমবার বিকেলে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। তবে সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক পথে সংকটের সমাধান হলে নতুন যুদ্ধ এড়ানো এবং বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি নয়, বরং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় যোগাযোগ চলছে। আলোচনার ফল কী হবে, সেটি এখনই বলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত একটি বড় সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য সময় চাওয়ার পর তিনি হামলা থেকে সরে আসেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অচলাবস্থা নিরসন এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করাই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য।

সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারি কর্মকর্তারা সামরিক সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে উপসাগরীয় মিত্রদের অবস্থান পুরোপুরি এক নয়। সৌদি আরব ও কাতার সংযমের পক্ষে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু কর্মকর্তা ইরানের ওপর আরও কঠোর চাপ প্রয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের এই সরু নৌপথ দিয়ে বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাত ও জাহাজে হামলার কারণে সেখানে নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, প্রণালির সব নৌপথ কোনো ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকুক। অন্যদিকে ইরান প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব বজায় রাখার দাবি করছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থায় ওমানের দিকের একটি নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তেহরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ট্রাম্পের কিছু দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চললেও সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে বলা যাবে না।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। এর আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করা এবং বৃহত্তর শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নৌ চলাচলের নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে সেই ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরে উভয় পক্ষ আবারও সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ে।

সম্ভাব্য নতুন আলোচনায় হরমুজের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যেকোনো সমঝোতায় ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বন্ধ করার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং নিজেদের বেসামরিক পারমাণবিক অধিকার পরিত্যাগ করবে না।

-রফিক


ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:১৪:৩৬
ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও কঠোর অবস্থানের মুখে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল-আহেদ প্রকাশ করেছে, ইরানের সামরিক শক্তি এবং মার্কিন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো জবাব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে কাজ করা নিরাপত্তাহীনতা ও আশঙ্কাই মূলত ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে কাজ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের নীতিগত দৃঢ়তা এবং মার্কিন আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি হুমকির পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তিনি নিজে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিতের প্রক্রিয়াটিতে তিনি সায় দিয়েছেন।

আল-আহেদ তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন—ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তিনি সামরিক হামলা না চালানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সূত্র: পার্সটুডে


ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে ড্রোন তাণ্ডব: আন্তর্জাতিক ষড়যন্তের দিকে আঙুল ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:৩৩:১৪
ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে ড্রোন তাণ্ডব: আন্তর্জাতিক ষড়যন্তের দিকে আঙুল ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

মিশরের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ইরানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয় বলে জানিয়েছেন তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির লক্ষ্যে ইসরায়েল কর্তৃক ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ (নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিভ্রান্তিকর) হামলা চালানের বিষয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের মিশরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় গ্যাসবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ঘটে যাওয়া ড্রোন হামলার পেছনে কোন কোনো পক্ষের উসকানিমূলক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

আরাঘচি লেখেন, "মিশর মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও ভৌগোলিক অংশীদার। দেশটির নিরাপত্তা আমাদের কাছে বিশেষ অগ্রাধিকার পায়। পুরো অঞ্চলে শান্তি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো গোপন চক্রান্ত বা চালবাজির বিষয়ে আমাদের সবাইকে যৌথভাবে সতর্ক হতে হবে।"

উল্লেখ্য, গত বুধবার মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি মার্কিন ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণাধীন এলএনজি সংক্রান্ত ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বিশ্লেষণ সংস্থা ‘অ্যামব্রে’র তথ্যমতে, ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ সংস্থাকে লক্ষ্য করে ড্রোনটি চালানো হয়। তবে ঘটনায় লোহিত সাগরের হুথি গোষ্ঠী কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে।

ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি জানান, উদ্ধারকৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ফরেনসিক ও সামরিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া কায়রো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো পক্ষকে দায়ী করবে না। এই মুহূর্তে পুরো অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিশর যৌথভাবে বৈশ্বিক শক্তির সাথে কাজ করছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট সিসি।

সূত্র: আনাদোলু

পাঠকের মতামত: