মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় জাতিসংঘের শোক: সরকারের পাশে থাকার অঙ্গীকার

ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ (UN) মিশন। সোমবারের এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এক শোকবার্তায় জাতিসংঘ বলেছে, “আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, এই দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবর পেয়েছি, যাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাও রয়েছে। এই বেদনার দিনে জাতিসংঘ পরিবার বাংলাদেশের মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সঙ্গে রয়েছে।”
বার্তায় আরও বলা হয়, আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে জাতিসংঘ এবং এই শোকাবহ পরিস্থিতিতে যে পরিবারগুলো প্রিয়জন হারিয়েছে, তাদের প্রতি জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি।
জাতিসংঘ মঙ্গলবারের একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে এবং এই জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছে।
উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে এফ-৭ মডেলের একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনাক্রমে মাইলস্টোন কলেজের প্রাঙ্গণে বিধ্বস্ত হয়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ হতাহত হন, যার মধ্যে অগ্নিদগ্ধ শিশুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক।
-হাসানুজ্জামান, নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতীক পেলেই প্রচারের অনুমতি, কী বলছে ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ধাপ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে একযোগে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করতে পারবেন।
এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলিয়ে আড়াই হাজারেরও বেশি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে ছয় শতাধিক মনোনয়ন বাতিল হলেও নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে চার শতাধিক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। পরে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় কিছু প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় চূড়ান্তভাবে দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে প্রতিটি আসনে গড়ে ছয় থেকে সাতজন প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকছেন।
নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, দলীয় প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের নির্ধারিত প্রতীকে নির্বাচন করবেন। তবে সব প্রার্থীকে নিজ নিজ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে আলাদাভাবে প্রতীক বরাদ্দপত্র সংগ্রহ করতে হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত নমুনা প্রতীকই প্রচারণা সামগ্রী ও ব্যালট পেপারে ব্যবহৃত হবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতীক বরাদ্দে তুলনামূলকভাবে জটিলতা বেশি। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সংরক্ষিত প্রতীক বাদ দিয়ে যে প্রতীকগুলো অবশিষ্ট থাকে, সেগুলো থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ৫৬টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা যে নমুনা প্রতীক বরাদ্দ দেন, প্রার্থীরা ঠিক সেই নকশা ও রূপেই প্রচারণা চালাতে বাধ্য। ব্যালট পেপারেও একই প্রতীক ব্যবহার করা হয়, যাতে ভোটারদের বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে।
এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক জোট ও প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। অতীতে জোটবদ্ধ নির্বাচনে শরিক দলগুলো বড় দলের প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পেলেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের ফলে এবার সব দলকে নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। ফলে বিএনপি ধানের শীষ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টি লাঙল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকেই নির্বাচন করছে।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী বর্তমানে ৬৩টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত থাকলেও আওয়ামী লীগ ও ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এর বাইরে ১০টি নিবন্ধিত দল এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদেও ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি প্রতীক শুধুমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া এনসিপি শুরুতে শাপলা প্রতীক দাবি করলেও কমিশনের তালিকায় সেটি না থাকায় বিতর্ক তৈরি হয়। পরে শাপলা কলি প্রতীক যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয় এবং দলটিকে সেই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
নির্বাচনের আগে প্রতীক তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। উটপাখি, কলা, খাট, চার্জার লাইট, টিফিন ক্যারিয়ার, তরমুজ, ফ্রিজ কিংবা স্যুটকেসের মতো প্রতীকগুলো এবার বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে উট, চিরুনি, টর্চলাইট, ট্রাক্টর, ড্রেসিং টেবিল, দোতলা বাস, পানির ট্যাপ, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মোটরসাইকেল, রেল ইঞ্জিন, সূর্যমুখী ও হ্যান্ডশেকসহ মোট ২০টি নতুন প্রতীক।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দে একাধিক প্রার্থী একই প্রতীক চাইলে প্রথমে পারস্পরিক সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। সমঝোতা সম্ভব না হলে লটারির মাধ্যমে প্রতীক নির্ধারণ করা হয়। তবে আগে সংসদ সদস্য ছিলেন এমন কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলে, তিনি তার পছন্দের প্রতীক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়ার সুযোগ পান, যদি সেটি আগে অন্য কাউকে দেওয়া না হয়ে থাকে।
চাঁদপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা জানান, প্রতীক বরাদ্দের সময় কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতা না হলে লটারি ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সরবরাহ করা পোস্টার থেকে নির্দিষ্ট নমুনা প্রতীক কেটে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ণমাত্রায় প্রচারপর্বে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এখন ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার, প্রতীক ও রাজনৈতিক বার্তাই নির্ধারণ করবে নির্বাচনী উত্তাপের মাত্রা।
-রফিক
নতুন পে স্কেল ২০২৬, আজ চূড়ান্ত সুপারিশ, সর্বশেষ যা জানা গেল
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আজ বুধবার চূড়ান্ত বৈঠকে বসছে জাতীয় বেতন কমিশন। দীর্ঘ ছয় মাসের কাজ শেষে কমিশনের পূর্ণ সভা আজ দুপুর ১২টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরনো ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে এতদিন ধরে প্রণীত খসড়া সুপারিশগুলো চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
সভা শেষে আজই বিকালে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ উপলক্ষে বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেদনটি জমা দেবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
অর্থ উপদেষ্টা মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, নবম পে স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের পর্যায়ে বিবেচনায় আসবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, কমিশনের সব সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা নাও হতে পারে, তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রস্তাবিত কাঠামোতে মোটের ওপর সন্তুষ্ট হবেন বলে সরকার আশাবাদী।
বেতন কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নবম পে স্কেলের প্রায় সব দিকই ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে মূলত সুপারিশগুলো আরেক দফা রিভিউ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সামান্য সংশোধনের পর তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সুপারিশের কোনো কপি সদস্যদের কাছে সংরক্ষিত থাকবে না; এটি শুধুমাত্র প্রধান উপদেষ্টার কাছেই থাকবে। পরবর্তী সময়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের প্রয়োজনে সীমিতসংখ্যক কপি মুদ্রণ করা হতে পারে।
বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, বেতন কমিশন নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে কার্যকর করার সুপারিশ করেছে। পূর্ণমাত্রায় নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ ধীরে সামাল দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় বর্তমান সর্বনিম্ন বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন স্কেলে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। অপরদিকে, সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে ৭৮ হাজার টাকা যে বেতন নির্ধারিত রয়েছে, তা বাড়িয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত নির্ধারণ করা হচ্ছে ১:৮।
বাজেটীয় দিক থেকে বিষয়টি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য পরিচালন ব্যয় হিসেবে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি মূলত নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ। তবে কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পুরো মাত্রায় নবম পে স্কেল কার্যকর করতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
সূত্র আরও জানায়, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় নিচের ধাপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এই শ্রেণির কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি দেওয়াই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় পর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। গত বছরের ২৭ জুলাই ২১ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয় এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, আজকের চূড়ান্ত বৈঠক নবম জাতীয় পে স্কেলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদন হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে নতুন বেতন কাঠামোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
-রফিক
প্রতীক বরাদ্দে চূড়ান্ত লড়াইয়ের আমেজ; কাল থেকেই শুরু নির্বাচনী প্রচার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের বৈধতা যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে প্রতীক তুলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমেই দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত আমেজ। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠের প্রচারণায় নামতে পারবেন। নির্বাচনের বল এখন চূড়ান্তভাবে মাঠে গড়াল, যা ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। শীতের তীব্রতার মাঝে নির্বাচনী প্রচারণার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সারা দেশে এক নতুন রাজনৈতিক উষ্ণতার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রাথমিক মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ২ হাজার ৮৫ জন। এর আগে ৩ হাজার ৪২২ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেওয়ার হার ছিল অপেক্ষাকৃত কম। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও আপিল শুনানি শেষে ৪৩১ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে সারা দেশে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে বর্তমানে ২৯৮টি আসনে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে থাকলেন। তবে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা বা কারিগরি কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নতুন তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে আগের বৈধ প্রার্থীরা বাদ গিয়ে নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আঞ্চলিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে বর্তমানে ১১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল সেখানে ১২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন, যার মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গোলাম আকবর খোন্দকার অন্যতম। তবে চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে সেখানে জোটের একাধিক প্রার্থী রয়ে গেছেন। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে, যেখানে তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলেও একই ধরণের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। রাজশাহীর ৬টি আসনে বর্তমানে ৩২ জন এবং নওগাঁর ৬টি আসনেও সমসংখ্যক প্রার্থী লড়াইয়ে রয়েছেন। নোয়াখালীতে জামায়াতের ২ জনসহ ৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় সেখানে বর্তমানে ৪৭ জন প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন। দিনাজপুরের ৬টি আসনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এখন ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া মুন্সীগঞ্জে ১৯ জন, শরীয়তপুরে ২১ জন এবং ঝালকাঠিতে প্রার্থী প্রত্যাহার পরবর্তী তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী বহাল রয়েছেন। বিশেষ করে ঝালকাঠি-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু ও লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
তৃণমূলের রাজনীতিতে রোমহর্ষক ঘটনার জন্ম হয়েছে নরসিংদীতে। নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াত প্রার্থী মো. আমজাদ হোসাইনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। দলীয় কর্মীরা তাঁদের এই নেতাকে নিজ বাসভবনে আটকে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধা দেন, যার ফলে তিনি চূড়ান্ত তালিকায় বহাল রয়ে গেছেন। এই ধরণের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক নাটকীয়তা প্রতীক বরাদ্দের দিনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মাইকিং, পথসভা, উঠান বৈঠক আর ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার চিরচেনা রূপে ফিরবে সারা বাংলাদেশ। চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িং রুম—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কেবল ভোট। প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের মন জয়ের লড়াইয়ে নামার জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
পে-স্কেল নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান: সরকারি চাকুরেদের ভাগ্যবদল কি আসন্ন?
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সুপারিশমালা আগামীকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশমালা চূড়ান্ত হওয়ার ফলে সরকারি প্রশাসনের সর্বস্তরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সচিবালয়ে ব্রিফিংকালে অর্থ উপদেষ্টা জানান, পে কমিশনের এই প্রতিবেদন জমার সময় তিনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান কমিশনের অন্য সকল সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপস্থিত হবেন এবং তাঁর কাছে বিস্তারিত সুপারিশমালা তুলে ধরবেন। কমিশনের পক্ষ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বেতন বৃদ্ধি ছাড়াও বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি জমার দেওয়ার পর সরকার এর বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
যদিও প্রতিবেদনের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অর্থ উপদেষ্টা, তবে তিনি সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত প্রদান করেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীরা পে-স্কেল পেয়ে খুশি হবেন। এমন সুপারিশই প্রতিবেদনে থাকবে।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা বিবেচনা করে বেতন কমিশনের সুপারিশে উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান আগামীকাল প্রধান উপদেষ্টার সামনে প্রতিবেদনের নানা দিক ও যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করবেন। সরকারি প্রশাসনের কর্মচারীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই প্রতিবেদনের অনুমোদনের ওপর, যা তাঁদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সচ্ছলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
পে কমিশনের রিপোর্ট জমার সময় জানাল অর্থ উপদেষ্টা
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে কমিশন আগামী বুধবার বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র হস্তান্তর করবে।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, পে কমিশন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং আর্থসামাজিক বাস্তবতা পর্যালোচনা করে এই সুপারিশ প্রস্তুত করেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবারই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই সুপারিশের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পে কমিশনের সুপারিশ জমা পড়ার পর তা পর্যালোচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। এরপর ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ ও প্রত্যাশা বিরাজ করছে। বুধবারের এই রিপোর্ট জমা দেওয়াকে সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-শরিফুল
চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর: বৈশাখী ভাতায় বড় চমক দিচ্ছে পে কমিশন
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে আরও আনন্দময় ও উৎসবমুখর করে তোলার লক্ষ্যে বৈশাখী ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন। নবম পে স্কেলের আওতায় বর্তমানের এই ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ৫০ শতাংশ করার জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হচ্ছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পে কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এ সংক্রান্ত যাবতীয় দাপ্তরিক ও কারিগরি কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে পে কমিশন। মূলত সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং জাতীয় উৎসবের আমেজকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও প্রাণবন্ত করাই এই নতুন সুপারিশের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকুরিজীবীরা তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন। দীর্ঘ সময় ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎসবের খরচের তুলনায় এই হার অপ্রতুল বলে দাবি আসছিল বিভিন্ন পর্যায় থেকে। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় বেতন কমিশন তাদের নতুন সুপারিশে এটিকে মূল বেতনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রেখেছে। কমিশনের একজন সদস্য জানিয়েছেন, বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে এই বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলেও পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার বোনাসের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, ঈদ বোনাসের কাঠামোতে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার দফতরে প্রতিবেদনটি পেশ করার পর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন পেলেই এটি কার্যকর হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
পে কমিশনের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, নবম পে স্কেলের সামগ্রিক কাঠামোর অংশ হিসেবে এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশে উন্নীত হলে তা সরকারি কর্মচারীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের অর্থনীতি চাঙা হওয়া এবং রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রবণতার প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবারের বৈঠকের পর এই ভাতার চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি পরিষ্কার হবে এবং এর পরেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। সরকারি প্রশাসনের সকল স্তরে এখন পে কমিশনের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে নজর রয়েছে, যা দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকুরিজীবীর আর্থিক সচ্ছলতার সাথে সরাসরি যুক্ত।
নিরপেক্ষ সরকার কি ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে? গণভোট ঘিরে আইনি জটিলতা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন দিন হতে যাচ্ছে, যেখানে একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত গণভোট। এই গণভোট মূলত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে নাগরিকদের রায় নেওয়া হবে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক মহলে এক বিশাল আইনি ও নৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। সরকারের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় সফর করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করছেন এবং সব সরকারি-আধাসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই প্রচারের জোরদার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান প্রশ্ন হলো—একটি নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে গঠিত প্রশাসন কোনো বিশেষ ফলের পক্ষে প্রচার চালাতে পারে কি না।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এই প্রচারের পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধানতম এজেন্ডাই ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও বিচার সুনিশ্চিত করা। তাঁর মতে, এই সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে জুলাই সনদকে গণভোটে জয়যুক্ত করা অপরিহার্য। একইভাবে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মন্তব্য করেছেন যে, এটি কোনো ভনভিতা নয় বরং সংস্কারের প্রতি সরকারের যে অঙ্গীকার রয়েছে, সেখান থেকেই তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণভোটের মাধ্যমে কোনো নতুন সরকার গঠিত হয় না এবং অতীতেও বাংলাদেশে সব গণভোটের সময় সরকার একটি পক্ষ নিয়েছিল। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক এই ধরণের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ‘আইন ও নীতিবহির্ভূত’ এবং ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, নির্বাচন আয়োজনকারী কোনো নিরপেক্ষ সরকার এর আগে কখনো এভাবে পক্ষ নিয়ে ভোট চাইতে দেখা যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রিদওয়ানুল হকের মতেও, অন্তর্বর্তী সরকারের স্পিরিট হওয়া উচিত ছিল অরাজনৈতিক, কিন্তু এই প্রচার রাজনৈতিক দলগুলোর কাজের মতো হয়ে যাচ্ছে।
আইনি জটিলতার দিকটি আরও গভীর হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিয়ে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ডিসি ও ইউএনও-রা নির্বাচন কমিশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন এবং তাদের নিরপেক্ষ থাকা আইনত বাধ্যবাধকতা। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না একে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, সরকার জনগণের করের টাকায় একটি পক্ষের প্রচার চালাচ্ছে, যেখানে ‘না’ সমর্থকদেরও অর্থ জড়িত রয়েছে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, যে শিক্ষকদের বা ব্যাংক কর্মকর্তাদের সরকার এখন ‘হ্যাঁ’ প্রচার করতে বলছে, তাদের মাধ্যমেই যদি নির্বাচনের দিন নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়, তবে সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হবে। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ অবশ্য জানিয়েছেন যে, সরকার চাইলে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে পারে, তবে সেটি যেন প্ররোচনামূলক না হয়।
আসন্ন গণভোটে মূলত চারটি বিষয়ের ওপর রায় চাওয়া হচ্ছে: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ইসি গঠন প্রক্রিয়া, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ গঠন ও উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা (সর্বোচ্চ ১০ বছর), বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব। জুলাই সনদে বিএনপি ও জামায়াতসহ ২৬টি দল স্বাক্ষর করলেও বিএনপি তাদের ৯টি পয়েন্টে ভিন্নমত দিয়েছে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) চারটি দল এতে এখনো স্বাক্ষর করেনি। বিশেষ করে চারটি ভিন্ন প্রশ্নের ওপর কেবল একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের বিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, কারণ কোনো একটি প্রস্তাবে দ্বিমত থাকলেও আলাদাভাবে মত প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়নি। এই বিতর্ক ও প্রশ্নবিদ্ধ আইনি আবহের মধ্যেই দেশ ১২ ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক ক্ষণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভোটে বাধা দিলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন: আসিফ নজরুল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে এক নতুন ধরণের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির রূপরেখা ঘোষণা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন যে, বর্তমান সরকার দেশে একটি ‘অসাধারণ’ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। তবে এই ভোটদান প্রক্রিয়ায় যদি কেউ অন্য কোনো ভোটারের অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে তার আচরণ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমতুল্য হয়ে যাবে বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। আসিফ নজরুলের মতে, আমরা কোনোভাবেই ‘শেখ হাসিনা’ হতে চাই না এবং এই লক্ষ্যেই আগামী নির্বাচনে সবার ভোটাধিকার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা হবে। ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি এবং গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
বিগত সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে আইন উপদেষ্টা বলেন যে, গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এদেশের জনগণকে তাদের মৌলিক ভোটাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রেখেছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, একবার রাতের আঁধারে ভোট চুরি করা হয়েছে, আরেকবার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই এককভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে এবং সবশেষে ‘আমি-ডামি’ নামক ভুয়া প্রার্থীর নাটক সাজিয়ে নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করা হয়েছিল। এই ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করার জন্য দেশকে যেভাবে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল, সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে এখন একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে দেশ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের ফলেই আজ এদেশের ১৮ কোটি মানুষ পুনরায় নিজের জনপ্রতিনিধি কে হবেন, তা নির্ধারণ করার সুযোগ ফিরে পেয়েছেন। আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন যে, আগে জনপ্রতিনিধি কে হবেন তা ঠিক করতেন শেখ হাসিনা, কিন্তু এখন থেকে সেই ক্ষমতা জনগণের হাতেই থাকবে।
আসন্ন গণভোটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ড. আসিফ নজরুল একে কোনো বিশেষ দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে ‘দেশের স্বার্থ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এদেশ থেকে যদি বৈষম্য, শোষণ, নিপীড়ন, অবিচার এবং দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অবসান ঘটাতে হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সচেতনভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। তিনি মনে করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থই হলো একটি নতুন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশে প্রবেশ করা। অন্যদিকে, যারা অন্যায় ও অবিচারের ধারাকে সমর্থন করবেন তারা ‘না’ ভোট দেবেন। এবারের নির্বাচনের একটি ঐতিহাসিক দিক উল্লেখ করে তিনি জানান যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভাইয়েরা সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন এবং একই সাথে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে, রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় বগুড়ার স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও ছাত্র-জনতা এই সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়ার অধ্যক্ষ এসএম প্রকৌশলী ইমদাদুল হক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় আগতদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন যে, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে প্রাপ্ত এই সুযোগ কোনোভাবেই হারানো চলবে না এবং ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই নাগরিকদের তাঁদের আকাঙ্ক্ষিত সরকার ও জনপ্রতিনিধি নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বগুড়ার মানুষকে গণভোটের গুরুত্ব উপলব্ধি করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক গণভোটে দেশের নাগরিকদের ‘হ্যাঁ’ বাক্সে সিল দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের এই চূড়ান্ত পর্বে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি দেশের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেন। ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত এবং নিপীড়নহীন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের চাবি এখন সাধারণ মানুষের হাতে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দেওয়ার মাধ্যমেই সেই নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা শুরু হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, এই রায়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্যের একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি হবে। এর ফলে কোনো ক্ষমতাসীন সরকার আর একক সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারবে না। এছাড়া সংবিধানের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এখন থেকে কেবল জনগণের সরাসরি সম্মতির ভিত্তিতেই সম্ভব হবে, যা সংসদীয় স্বৈরাচার বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ড. ইউনূস এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, আগামীতে কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন থাকতে পারবেন না। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার দাপট ও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধান উপদেষ্টা বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি নির্বাচিত করার বিধান চালু করা হবে, যা রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে বিরোধী দলের গঠনমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে তিনি জানান যে, আর সব ক্ষমতা একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুঞ্জীভূত থাকবে না। এমনকি রাষ্ট্রপতি চাইলেই আর দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো বড় অপরাধীকে নিজের ইচ্ছামতো ক্ষমা করতে পারবেন না, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ সহায়ক হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে আবেগঘন কণ্ঠে আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশামতো গড়ে তোলার জন্য এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিতে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দেওয়া অপরিহার্য। তিনি মনে করেন, এই গণভোট কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি নাগরিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তির এক বড় হাতিয়ার। প্রতিটি ভোটারকে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পবিত্র ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি তাঁর ভাষণ শেষ করেন। তাঁর এই ভাষণটি এমন এক সময়ে এলো যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দফায় দফায় আলোচনা চলছে।
পাঠকের মতামত:
- বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ আজ: আইসিসি সভায় নতুন মোড়
- বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ আজ: আইসিসি সভায় নতুন মোড়
- ডিএসইতে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন
- দিনশেষে ডিএসইর বাজার বিশ্লেষণ, কে বাড়ল কে কমল
- লেনদেন শেষে শীর্ষ ১০ দরপতনকারী কারা
- বুধবারের লেনদেনে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- নির্বাচনি প্রচারে ত্যাগী নেতাদের সফরসঙ্গী করবেন তারেক রহমান
- কোরআনে বর্ণিত মৃত্যুর পর মানুষের ৯টি আফসোস
- কোন আসনে কে, ইসলামী আন্দোলনের পূর্ণ তালিকা
- প্রতীক পেলেই প্রচারের অনুমতি, কী বলছে ইসি
- নতুন পে স্কেল ২০২৬, আজ চূড়ান্ত সুপারিশ, সর্বশেষ যা জানা গেল
- ‘ডেডলাইন’ ট্যুরে জাপান জয় করল ব্ল্যাকপিংক: টোকিওতে ইতিহাস গড়লেন চার কন্যা
- জামায়াতের পলিসি সামিট ২০২৬, বড় অর্থনৈতিক ঘোষণা
- একদিনে ৫ কোম্পানির বোর্ড সভা, বাজারে সতর্ক নজর
- সাভারে ৬ খুনের নেপথ্যে ভয়ংকর সম্রাট: বেরিয়ে আসছে রোমহর্ষক সব তথ্য
- ডিএসই মিউচুয়াল ফান্ড বাজারচিত্র, কোথায় কত এনএভি
- বিপিএল মাতাতে ঢাকায় উইলিয়ামসন
- নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ: জানুন ঝুঁকি ও সমাধান
- বাংলাদেশের সমর্থনে আইসিসিকে পিসিবির চিঠি: নতুন মোড় ক্রিকেটের দ্বন্দ্বে
- শালীনতা ও নেয়ামতের চর্চা: ইসলামের বাস্তবমুখী জীবন দর্শনের রূপরেখা
- দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা গ্যাস বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- আজ ৫ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- ২১ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- ভুল থেকেই কি আসে সাফল্য? ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরের ১২ উপায়
- দুনিয়ার সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল বিশ্ববাজার
- ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি: তারেক রহমান
- দুই বিশ্বনেতার ব্যক্তিগত মেসেজ প্রকাশ করলেন ট্রাম্প
- ধানের শীষের ঘরে বিদ্রোহীদের হানা; প্রতীক বরাদ্দের দিনেই কি বদলে যাচ্ছে সমীকরণ?
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- নামাজের সময়সূচি: ২১ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির
- প্রতীক বরাদ্দে চূড়ান্ত লড়াইয়ের আমেজ; কাল থেকেই শুরু নির্বাচনী প্রচার
- ভালুকায় পৌর বিএনপির ১নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদারে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত
- ছুটি বাড়ল মাদ্রাসায়, কমল স্কুলে: ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে বড় পরিবর্তন
- গ্যাস সংকটে ত্রাতা ইলেকট্রিক চুলা; ইনডাকশন না ইনফ্রারেড, কোনটি সেরা?
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিউটি পার্লার থেকে যুবতীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
- মিরপুরে বিএনপি জামাত সংঘর্ষ
- নীরব ঘাতক কোলেস্টেরল; শরীরে যে ৫টি সংকেত দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন
- পুরো দেশই অনিশ্চয়তায়: বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে লিটনের বিস্ফোরক বয়ান
- রমজান ২০২৬: সেহরি ও ইফতারের চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করল ইফা
- আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে: জামায়াত আমির
- ২০২৬-এই গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার: ট্রাম্পের রহস্যময় ছবি ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে জল্পনা
- ৩৪ মিনিটে বিয়ে ও ৭৫ মিনিটে তালাক: সম্পদশালী দেশে পারিবারিক জীবনের অস্থির চিত্র
- বস্তিবাসীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখালেন তারেক রহমান
- পে-স্কেল নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান: সরকারি চাকুরেদের ভাগ্যবদল কি আসন্ন?
- ফরাসি প্রেসিডেন্টের ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ: ২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি
- সরাসরি নারী প্রার্থী নেই কেন? ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির
- কুমিল্লায় বাসে তল্লাশি, বিদেশি পিস্তলসহ দুই সন্ত্রাসী আটক
- প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে হেভিওয়েটদের মুখোমুখি লড়াই
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- দুনিয়ার সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল বিশ্ববাজার
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- কুমিল্লা ৪ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরকার - নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আইবিপির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ








