সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করবে এই ৫টি প্রাকৃতিক পানীয়

দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরের হারানো শক্তি ও আর্দ্রতা ফিরে পেতে ইফতারে সঠিক পানীয় নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন তৃষ্ণার্ত থাকার পর অনেকেই তৃপ্তি মেটাতে এমন কিছু পানীয় বেছে নেন, যা শরীরের উপকারের চেয়ে বরং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বয়ে আনে। পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারের টেবিলে কৃত্রিম পানীয়র বদলে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন পানীয় হওয়া উচিত আমাদের প্রধান পছন্দ।
সাধারণত ইফতারের সময় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত বা বাজারের বাহারি কোমল পানীয় পান করলে সাময়িক সতেজতা অনুভূত হয়। তবে এই পানীয়গুলো শরীরে দ্রুত ক্লান্তিবোধ তৈরি করে এবং পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়।
ইফতারের জন্য আদর্শ পানীয় হিসেবে পুষ্টিবিদরা ডাবের পানিকে সবার উপরে স্থান দেন। শরীরকে দ্রুত রিহাইড্রেট করতে এবং পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে এর কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া দুধ ও খেজুরের মিশ্রণ তাৎক্ষণিক শক্তি জোগানোর পাশাপাশি শরীরে ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়। তাজা ফলের রস যেমন— তরমুজ, কমলা বা বেদানার জুস ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে, তবে এক্ষেত্রে আলাদা চিনি যোগ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
পাচনতন্ত্রকে সচল রাখতে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে লেবু ও মধুর মিশ্রিত পানি দারুণ কার্যকরী। পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে দই, চিয়া সিড বা বিভিন্ন ফলের স্মুদি ও পুষ্টিকর স্যুপ বেছে নেওয়া যেতে পারে। ইফতারে এসব স্বাস্থ্যকর পানীয় কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, বরং দীর্ঘ সময়ের উপবাসের পর শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরে পেতে সাহায্য করে।
/আশিক
ইফতারে চিনির শরবত নাকি গুড়ের? কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি নিরাপদ?
রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে খেজুরের পরেই আমাদের প্রধান পছন্দ থাকে বিভিন্ন ধরনের শরবত। সাধারণত এই শরবত তৈরিতে সাদা চিনির ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি। তবে স্বাস্থ্য সচেতনদের মনে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন— ইফতারের শরবতে চিনির চেয়ে গুড় কি বেশি নিরাপদ? এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার ও হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটালের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা।
পুষ্টিবিদ প্রিয়ানার মতে, সাদা চিনি মূলত আমাদের শরীরে শুধু ক্যালরি সরবরাহ করে, এতে কোনো ধরনের ভিটামিন বা মিনারেল থাকে না। মাত্র এক চা চামচ চিনি থেকে প্রায় ২০ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, পিসিওএস, ইনফার্টিলিটি থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। তাই চিনির বিকল্প হিসেবে আখের বা খেজুরের গুড় ব্যবহার করা কিছুটা ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। গুড়ে সামান্য পরিমাণে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা চিনির তুলনায় একে কিছুটা স্বাস্থ্যকর করে তোলে। তবে মনে রাখতে হবে, গুড়ও এক ধরনের চিনিজাতীয় খাবার এবং এর গ্লাইসেমিক প্রভাব অনেক বেশি, তাই এটিও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।
বাজার থেকে গুড় কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ। বিশেষ করে আখের গুড়, তালের গুড় বা খেজুরের গুড় কেনার সময় তা রাসায়নিকমুক্ত ও খাঁটি কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় অনেক ক্ষেত্রে গুড়ে ভেজাল মেশানো হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে। পুষ্টিগুণের বিচারে খেজুরের গুড় তুলনামূলক কম প্রক্রিয়াজাত এবং মিনারেল সমৃদ্ধ হওয়ায় একে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে।
তবে চিনি বা গুড়— কোনোটির শরবতকেই শতভাগ নিরাপদ না বলে আরও উন্নত কিছু বিকল্পের কথা জানিয়েছেন ইসরাত জাহান প্রিয়ানা। তিনি পরামর্শ দেন, শরবতে মিষ্টি স্বাদের জন্য সরাসরি খেজুর ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। এছাড়া ইফতারে লেবু-পানি, ফলের পাতলা রস, টক দইয়ের শরবত বা লাচ্ছি এবং ডাবের পানি হতে পারে আদর্শ পানীয়। শরীরের পানিশূন্যতা রোধে স্যালাইনও একটি ভালো বিকল্প। এমনকি চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে ‘স্টেভিয়া’ পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে, যা স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা আনলেও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
/আশিক
ইফতারে মুখরোচক চিকেন কিমা তাওয়া কাবাব: সহজ ঘরোয়া রেসিপি
আটার রুটি, তন্দুরি কিংবা নানের সঙ্গে গরম গরম কাবাবের স্বাদ অতুলনীয়। এছাড়া যেকোনো রাইস বা পোলাওয়ের সঙ্গেও এটি বেশ মানিয়ে যায়। ইফতারে ভিন্নতা আনতে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন সুস্বাদু 'চিকেন কিমা তাওয়া কাবাব'। এই চমৎকার রেসিপিটি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী জিনিয়া ইসলাম।
উপকরণসমূহ
এই কাবাব তৈরিতে আপনার প্রয়োজন হবে ২৫০ গ্রাম চিকেন কিমা, ৪ টেবিল চামচ মিহি পেঁয়াজ কুচি, ১ চা চামচ কাঁচা মরিচ কুচি, আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ করে। মশলার মধ্যে লাগবে ১ চা চামচ গরম মসলা গুঁড়া, আধা চা চামচ গোল মরিচ গুঁড়া, আধা চা চামচ চিলি ফ্লেক্স, ১ চা চামচ মরিচ গুঁড়া এবং স্বাদমতো লবণ। স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে ব্যবহার করুন ১ টেবিল চামচ গুঁড়া দুধ, ২ চা চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ লেমন জেস্ট (লেবুর খোসা কুচি), আধা চা চামচ চিনি এবং ২ চা চামচ কিসমিস কুচি। এছাড়া ১ চা চামচ জাফরান মিশ্রিত দুধ, ১ চা চামচ কেওড়া পানি, ১টি ডিম, ২ টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার এবং ধনেপাতা ও পুদিনা পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ করে নিতে হবে। ভাজার জন্য প্রয়োজন হবে ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ তেল।
প্রস্তুত প্রণালি
রান্না শুরুর আগে চিকেন কিমা থেকে ভালো করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর তেল ছাড়া বাকি সব উপকরণ কিমার সঙ্গে মিশিয়ে অন্তত দশ মিনিট সময় নিয়ে খুব ভালো করে মাখাতে হবে। মাখানো যত নিখুঁত হবে, কাবাব তত বেশি নরম ও জুসি হবে। একটি ননস্টিক প্যানে সামান্য তেল দিয়ে তার ওপর মাখানো কিমা ঢেলে পুরো প্যানে সমানভাবে বিছিয়ে দিন। এবার বাকি তেলটুকু ওপর দিয়ে ঢেলে মাঝারি আঁচে ঢেকে রান্না শুরু করুন।
কাবাবের বিশেষ স্মোকি ফ্লেভারের জন্য অন্য একটি চুলায় কয়লা পুড়িয়ে নিন। অল্প আঁচে কাবাব হতে থাকবে এবং কিছুক্ষণ পর সাবধানে একপাশ উল্টে দিন। ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যেই কাবাব তৈরি হয়ে যাবে। সবশেষে পোড়া কয়লার ওপর সামান্য ঘি ঢেলে ধোঁয়া উঠতে শুরু করলে তা দ্রুত প্যানের ভেতর দিয়ে ঢাকনা আটকে দিন, যাতে ধোঁয়া বাইরে বের হতে না পারে। কিছুক্ষণ পর কাবাব নামিয়ে পছন্দমতো আকারে কেটে নিন। পরিবেশন প্লেটে সালাদ, রাইস, পরোটা কিংবা আটার রুটির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন এই দারুণ স্বাদের চিকেন কিমা তাওয়া কাবাব।
/আশিক
ইনফ্লুয়েন্সারদের ডায়েট ট্রেন্ড ও ভাইরাল ফুড চ্যালেঞ্জ: স্থূলতা সংকটে নতুন ঝুঁকি
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থূলতার হার বিভিন্ন জটিল কারণে বাড়ছে। বিশ্ব স্থূলতা দিবস উপলক্ষে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া কিভাবে খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন করছে এবং স্থূলতা সংকটকে ত্বরান্বিত করছে।ভাইরাল ফুড চ্যালেঞ্জ থেকে শুরু করে ইনফ্লুয়েন্সারদের ডায়েট ট্রেন্ড, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মূলত প্রভাব ফেলছে মানুষ কী খায় এবং তাদের দেহের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কেমন তার ওপর।
প্রতি বছর ৪ মার্চ বিশ্বব্যাপী 'বিশ্ব স্থূলতা দিবস' পালিত হয়, যা স্থূলতার সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলো নির্দেশ করে এবং এটি প্রতিরোধের জন্য পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করে।
বিশ্ব স্থূলতা ফেডারেশনের মতে, এই বছরের প্রচারণার থিম হল '৮ বিলিয়ন কারণ স্থূলতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে'। এই থিমের মেসেজ সহজ কিন্তু শক্তিশালী। বৈশ্বিক জনসংখ্যা ৮ বিলিয়ন অতিক্রম করেছে, তাই স্থূলতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ৮ বিলিয়ন কারণ আছে।
প্রচারণাটি জোর দিচ্ছে যে- ব্যক্তিগত, সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সবাই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি এবং ভালো জীবনধারার প্রচার করার দায়িত্ব ভাগাভাগি করবে।
সরকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবী এবং নাগরিক সমাজের সংস্থাগুলোকে একসাথে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী স্থূলতা সংকট মোকাবিলার কার্যকর কৌশল বাস্তবায়ন করতেও বলা হচ্ছে।
কেন বিশ্বব্যাপী স্থূলতা বাড়ছে
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থূলতার হার বিভিন্ন জটিল কারণে বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস, অলস জীবনধারা, প্রক্রিয়াজাত খাবারের সহজলভ্যতা এবং এমন পরিবেশ যা কম শারীরিক ক্রিয়াকলাপকে উৎসাহিত করে।
আরেকটি বড় কারণ হলো, দৈনন্দিন জীবনধারার উপর সোশ্যাল মিডিয়ার বাড়তে থাকা প্রভাব।
খাবারের অভ্যাসকে প্রভাবিত করা
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের খাদ্য, দেহের চিত্র এবং ওজন ব্যবস্থাপনার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে।
জনপ্রিয় অনলাইন ফরম্যাট যেমন 'এক দিনে আমি কী খাই' ধরণের ভিডিও, ইনফ্লুয়েন্সার মীল প্ল্যান এবং ভাইরাল ডায়েট চ্যালেঞ্জ প্রায়শই দর্শকদের খাওয়ার অভ্যাস গঠন করে।
ফাস্ট ফুড প্রচার, বড় পরিমাণ খাবার এবং দেখতে আকর্ষণীয় রেসিপিতে ক্রমাগত অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার প্যাটার্নকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করে এবং খাবারের প্রতি লোভ বা আগ্রহ বাড়ায়।
অলস জীবনধারাকে উৎসাহিত করা
সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক কার্যকলাপ কমাতে পারে। স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রল করা বা কনটেন্ট দেখা প্রায়শই সেই সময়কে নষ্ট করে ফেলে যা ব্যায়াম বা ঘরের বাইরে শারীরিক কার্যকলাপে ব্যবহার করা যেত।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এই আলসেমি ধরণের আচরণ ওজন বৃদ্ধি এবং স্থূলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর ডায়েট ট্রেন্ড প্রচার করা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া অনেক ডায়েট ট্রেন্ড বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন। কেটো প্ল্যান, ডিটক্স ক্লিনস, বেশি সময় ধরে রোজা পালন করা বা শুধুমাত্র লিকুইড ডায়েট প্রায়শই দ্রুত সমাধান হিসেবে উপস্থাপিত হয়, তবে সঠিক চিকিৎসা নির্দেশনা ছাড়া মানুষ এগুলো করে ফেলে।
পেশাদার পর্যবেক্ষণ ছাড়া এই ট্রেন্ড অনুসরণ করলে পুষ্টি ঘাটতি, খাদ্য সংক্রান্ত সমস্যার অভ্যাস এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।
ক্র্যাশ ডায়েট
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে ক্র্যাশ ডায়েট প্রায়শই দ্রুত ওজন কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু স্থায়ী ফলাফল দেয় না।
প্রাথমিক ওজন কমা সাধারণত পানি ও পেশী হ্রাসের কারণে হয়, চর্বি নয়। যখন শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না, তখন এটি শক্তি সংরক্ষণে মেটাবলিজম ধীর করে। একজন ব্যক্তি সাধারণ ডায়েটে ফিরে গেলে, ধীর মেটাবলিজম দ্রুত চর্বি সংরক্ষণ এবং দ্রুত ওজন পুনরায় বাড়াতে পারে।
আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বাস্তবহীন দেহের মান। অনেক প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত পাতলা দেহের ধরণকে ইতিবাচকভাবে প্রচার করে, যা ব্যক্তিদের চরম ডায়েটিং পদ্ধতি অনুসরণ করার মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই চাপ খাদ্যজনিত সমস্যা, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ওজন ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক দিক
এই উদ্বেগের মধ্যেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ ক্ষতিকর নয়। যদি এটি সচেতনভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে এটি পুষ্টির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য শেয়ার করার, স্বাস্থ্য পেশাদীর সাথে সংযোগ স্থাপনের এবং টেকসই জীবনধারার উপর ভিত্তি করে সমর্থনমূলক কমিউনিটি গঠনের মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
সূত্র: সামা
রোজা রেখে পেস্ট ছাড়া ব্রাশ ও কুলির সঠিক নিয়ম
পবিত্র এই মাহে রমজান মাসে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি আমাদের খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের একটি ব্যাপক পরিবর্তন চলে আসে।সেই সাথে পরিবর্তন চলে আসে আমাদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়ার নিয়মকানুনেও।
অন্যান্য সময়ের মতোই রমজান মাসে দাঁতের যত্ন নেয়া অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু রোজা রাখার কারণে দিনের পুরোটা সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা হয় তাই এ রমজান মাসে অনেকেই দাঁতের পরিচর্যা নিয়ে ভাবনায় পড়েন যে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না। রমজানে দাঁতের যত্নে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইফতার ও সাহ্রির পর ব্রাশ জরুরি
দুই বেলা খাবারের পর দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন। রোজার সময় ইফতার ও সাহ্রির পর ভালোভাবে পেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতে হবে। ইফতারের পর সঙ্গে সঙ্গে সম্ভব না হলে রাতের প্রধান খাবারের পর ব্রাশ করা উচিত। একইভাবে সাহ্রি শেষে, ফজরের নামাজের অজুর আগে দাঁত ব্রাশ করলে মুখে জীবাণু কমে যায়।
মিসওয়াক ও অজুর গুরুত্ব
রোজায় নিয়ম মেনে মিসওয়াক করা যায়। নামাজের অজুর সময় কুলির মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার হয়, যা দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। প্রতিটি অজুর সময় মিসওয়াক ব্যবহার করা যেতে পারে।
সকালে মুখে গন্ধ হলে যা করবেন
রোজা রেখে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখে গন্ধ হলে গড়গড়া না করে সামান্য পানি দিয়ে কুলি করা যাবে, এতে রোজা ভাঙবে না।তবে কুলির পর মুখে জমে থাকা পানি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। প্রয়োজনে পেস্ট ছাড়া শুধু ব্রাশ দিয়েও দাঁত পরিষ্কার করা যেতে পারে। রোজা অবস্থায় মাউথওয়াশ ব্যবহার না করাই ভালো।
খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা
ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। শরবতে ইসুবগুলের ভুসি খেলে পেট ও হজম ভালো থাকে। তেলযুক্ত খাবার কম খেয়ে শাকসবজি বেশি খাওয়া উচিত। শাকের আঁশ দাঁত পরিষ্কার রাখতে সহায়ক এবং এতে ভিটামিন ও মিনারেলও রয়েছে।
যা এড়িয়ে চলবেন
কয়লা, ছাই বা দাঁতের পাউডার ব্যবহার করা যাবে না। গুল বা তামাক সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। ধুমপান মুখের দুর্গন্ধ বাড়ায়, তাই তা পরিহার করা উচিত।
/আশিক
হঠাৎ বুক ধড়ফড় ও শ্বাসকষ্ট? প্যানিক অ্যাটাক চেনার ও নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়
প্যানিক অ্যাটাক অসহনীয় মনে হতে পারে, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস এবং গ্রাউন্ডিং কৌশল এটি দ্রুত এবং নিরাপদে কমাতে সাহায্য করে। প্যানিক অ্যাটাক বলতে বোঝায় তীব্র ভয় বা অস্বস্তির দ্রুত মুহূর্ত যা কয়েক মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং অপ্রত্যাশিতও হতে পারে। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে দ্রুত হৃদস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট, বুক শক্ত হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম ইত্যাদি।
যদিও প্যানিক অ্যাটাক জীবনের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করে না, তবুও সে সময় এটি অপ্রতিরোধ্য মনে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি হলো শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া শান্ত করা। শরীরের ফাইট-অর-ফ্লাইট প্রক্রিয়া প্যানিক অ্যাটাককে ট্রিগার করে। প্যানিক অ্যাটাক হলো শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া প্রক্রিয়ার একটি সক্রিয়করণ। শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর করে এবং মনকে গ্রাউন্ডিং করে, আমরা মস্তিষ্কে নিরাপত্তার সংকেত দিতে এবং এর তীব্রতা কমাতে পারি।
প্যানিক অ্যাটাকের সময় কী ঘটে
যখন মস্তিষ্ক কোনো হুমকি অনুভব করে, এমনকি যদি কোনো প্রকৃত বিপদ না-ও থাকে, তখন এটি অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে, যার ফলে নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে
হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, দ্রুত, অগভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, পেশীতে টান, মাথা ঘোরা, ঝুঁকিপূর্ণ সংবেদন
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা হাইপারভেন্টিলেশন রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা কমাতে পারে, যা বুকে অস্বস্তি বা অসাড়তার মতো সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই শারীরবৃত্তীয় চক্রকে নিষ্ক্রিয় করা একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
এখানে কিছু বিশেষজ্ঞ-অনুমোদিত পদক্ষেপ দেওয়া হল যা অল্প সময়ের মধ্যে প্যানিক অ্যাটাকের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করতে পারে
১. নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস (প্রায় ২০ সেকেন্ড)
এই প্রক্রিয়াটি তিন থেকে চার বার পুনরাবৃত্তি করুন। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাড়ানো প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করতে সহায়তা করে যা শিথিলতা বৃদ্ধি করে।
২. গ্রাউন্ডিং টেকনিক (প্রায় ২০ সেকেন্ড)
আপনার চারপাশে মনোযোগ পরিবর্তন করুন এবং চিহ্নিত করুন
পাঁচটি জিনিস যা আপনি দেখতে পারেন।
চারটি জিনিস যা আপনি স্পর্শ করতে পারেন।
৩. আস্থা রাখা (প্রায় ২০ সেকেন্ড)
মনে মনে নিজেকে বোঝান যে এই অনুভূতি অস্থায়ী। আমি নিরাপদ। এটি কেটে যাবে। এমনটা করলে তা মস্তিষ্ককে ভাবতে বাধ্য করবে যে কোনো হুমকি নেই এবং এটি বৃদ্ধি পেতে দেবে না।
/আশিক
সেহরিতে সুস্থ থাকতে যে ৩ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি
পবিত্র রমজান মাস হলো আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং পরম করুণাময় আল্লাহর প্রতি বিশেষ ভক্তি প্রকাশের সময়। এই বরকতময় মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যাবতীয় পার্থিব প্রলোভন থেকে বিরত থেকে মুসলমানরা প্রার্থনা ও শান্তি অন্বেষণে নিমগ্ন থাকেন। রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেহরি ও ইফতার। বিশেষ করে সেহরিতে সঠিক খাবার নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ সারাদিনের শারীরিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা এর ওপরই নির্ভর করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরির তালিকায় এমন কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত যা দীর্ঘ সময় রোজা রাখার ক্ষেত্রে শরীরে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এবং কার্বোনেটেড বা কোমল পানীয়। সেহরির সময় খালি পেটে অতিরিক্ত চা, কফি বা সোডা পান করলে শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে। এছাড়া এসব পানীয় অ্যাসিডিটি এবং অনিদ্রার কারণ হতে পারে। তাই সেহরিতে সাধারণ পানি বা শরীর উপযোগী প্রাকৃতিক পানীয় গ্রহণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
রোজার সময় সুস্থ থাকতে সেহরিতে অতিরিক্ত মসলাদার ও ডুবো তেলে ভাজা খাবার পরিহার করা একান্ত প্রয়োজন। ইফতার বা সেহরিতে আমরা অনেক সময় চপ, সমুচা, পাকোড়া বা ভাজা মিষ্টি খেতে পছন্দ করি, যা আদতে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত এবং হজমে সমস্যা তৈরি করে। এই ধরনের গুরুপাক খাবার খেলে সারাদিন পেটে অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পেট ও শরীর সুস্থ রাখতে সেহরিতে ভাজাপোড়া খাবারের বদলে সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া উচিত।
এছাড়া উচ্চ সোডিয়াম বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার থেকেও বিরত থাকা ভালো। বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে লবণ থাকে, যা রক্তচাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রোজা রাখা অবস্থায় শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে ঘরে তৈরি তাজা ও পুষ্টিকর খাবার সেহরিতে রাখা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, সেহরিতে হালকা কিন্তু পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং সহজে হজম হয় এমন খাবার নির্বাচন করলে রোজা পালন অনেক বেশি স্বস্তিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে রোজার মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি অর্জন করা সহজ হয়।
/আশিক
রমজানে পানিশূন্যতা রুখতে জাদুকরী '৪-২-২-২' নিয়ম: পুষ্টিবিদের বিশেষ টিপস
পবিত্র রমজানে সুস্থ ও সতেজ থাকতে পানিশূন্যতা রোধ করাই এখন রোজাদারদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শীতের বিদায় আর গরমের আগমনের এই সন্ধিক্ষণে শরীরে পানির চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। রাজধানীর মিরপুরভিত্তিক নিউট্রিলার্নবিডির পুষ্টিবিদ রোকসানা তনু সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রমজানে শরীরকে হাইড্রেট রাখার এক অভিনব ও কার্যকর কৌশলের কথা জানিয়েছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ঢালাওভাবে পানি পান না করে একটি নির্দিষ্ট ছক বা 'প্যাটার্ন' মেনে চললে শরীর দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে।
পুষ্টিবিদ রোকসানা তনুর মতে, একবারে অনেকটা পানি পান করলে তা শরীরের উপকারে না এসে উল্টো অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তার বদলে তিনি '৪-২-২-২ প্যাটার্ন' অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, ইফতারের সময় ৪ গ্লাস পানি, মাগরিবের নামাজের পর ২ গ্লাস, রাতের খাবারের পর ২ গ্লাস এবং সবশেষে সেহরির সময় ২ গ্লাস পানি পান করা উচিত। এভাবে ধাপে ধাপে মোট ১০ থেকে ১২ গ্লাস বা প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার তরল গ্রহণ করলে শরীর সহজে পানি শোষণ করতে পারে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে যায়।
সঠিকভাবে পানি পানের গুরুত্ব তুলে ধরে এই পুষ্টিবিদ জানান, পর্যাপ্ত পানি পান করলে রোজার সময় অনেকের যে সাধারণ মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হয়, তা অনেকটাই কমে আসে। এছাড়া হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা, কিডনির সুরক্ষা এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও এই পদ্ধতি জাদুর মতো কাজ করে। গরমের এই সময়ে যারা দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখছেন, তাদের জন্য এই ৪-২-২-২ নিয়মটি সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হতে পারে।
/আশিক
ইফতারের প্রশান্তি কেড়ে নিচ্ছে মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির পূর্ণাঙ্গ গাইড
রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তে স্বস্তি ফিরে আসার কথা থাকলেও অনেকেই ঠিক তখনই তীব্র মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানান, এই ধরনের ব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কপাল বা মাথার দুই পাশে অনুভূত হয়।
সাধারণত পানিশূন্যতা, ক্যাফেইন থেকে হঠাৎ বিরতি এবং রক্তে শর্করার ঘাটতির কারণে এই ব্যথার সৃষ্টি হয়। সারাদিন পানি পান না করায় শরীরে ঘাটতি তৈরি হয়ে রক্তনালীর সংকোচন ঘটে, যা মাথাব্যথার অন্যতম কারণ।
আবার যারা নিয়মিত চা বা কফিতে অভ্যস্ত, তারা হঠাৎ তা বন্ধ করলে ‘উইথড্রয়াল’ জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। এছাড়া দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গিয়ে মস্তিষ্কে ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা মাইগ্রেনের রোগীদের ক্ষেত্রে আরও তীব্র হতে পারে।
তবে সব মাথাব্যথাকে সাধারণ মনে করে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয় বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। যদি মাথাব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, শরীরের কোনো অংশ অবশ লাগে কিংবা বমি ও জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই সমস্যা প্রতিরোধের জন্য ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে বারবার পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। রমজান শুরুর আগে থেকেই চা বা কফির পরিমাণ কমিয়ে আনলে এই ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।
সেহরিতে প্রোটিন, জটিল শর্করা ও প্রচুর শাকসবজি রাখা উচিত এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকা মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সহায়ক। সচেতন খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমেই রমজানে এই মাথাব্যথা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
/আশিক
ইফতারে যে ভুলগুলো ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
পবিত্র রমজানে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় পুষ্টিবিদরা। তাঁদের মতে, সারাদিন খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ করে নির্দিষ্ট কিছু খাবার পাকস্থলীতে গেলে তাৎক্ষণিক অ্যাসিডিটি, তীব্র পেটব্যথা ও বুকে জ্বালাপোড়াসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ইফতারের সময় অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত থাকা স্বাভাবিক হলেও হুটহাট খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটু অসচেতনতা আপনার হজম প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে ইফতারে সাইট্রাস জাতীয় ফল এবং এর তৈরি অতিরিক্ত ঠান্ডা শরবত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। কমলালেবু বা মুসুম্বির মতো টক জাতীয় ফল খালি পেটে খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এসব ফলে থাকা ফ্রুক্টোজ হজমপ্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে ফেলে। এছাড়া ইফতারের পরপরই চা বা কফি পানের অভ্যাস রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি অগ্ন্যাশয় ও যকৃতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। তাই দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর ভারী খাবারের সাথে বা ঠিক পরেই চা-কফি পানের বিষয়ে সাবধান করেছেন চিকিৎসকরা।
বাংলাদেশি ইফতারের চিরচেনা অনুষঙ্গ ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার নিয়েও পুষ্টিবিদদের কড়া সতর্কবার্তা রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খেলে গ্যাস, মাথাব্যথা, অবসাদ এমনকি আলসারের মতো সমস্যা হতে পারে। নিয়মিত এমন খাদ্যাভ্যাস স্থূলতা ও অন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। এর পরিবর্তে ইফতারে খেজুর, দই, সবজি, ইসবগুলের শরবত এবং সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে রোজাদারকে সুস্থভাবে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় সহায়তা করতে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করবে এই ৫টি প্রাকৃতিক পানীয়
- প্রতিবেশীদের ওপর আর হামলা নয়, হঠাৎ নমনীয় সুর ইরানি প্রেসিডেন্টের!
- ইফতারে পুষ্টিকর ও মুখরোচক ভেজিটেবল কাটলেট: সহজ রেসিপি
- তেল সংকটের গুজব নিয়ে সতর্কবার্তা: আতঙ্কে পাম্পে ভিড় না করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
- রমজান ও ঈদে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে: ইশরাক হোসেন
- ইফতারে চিনির শরবত নাকি গুড়ের? কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি নিরাপদ?
- ব্রিটেনে মার্কিন বোমারু বিমান, ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল লন্ডন
- মার্কিন হামলার হুমকির মাঝেই কাঁপল ইরান: ভূমিকম্প নাকি পরমাণু পরীক্ষা?
- প্রতিবেশী দেশে হামলা করা নিয়ে ইরানের নতুন সিদ্ধান্ত
- ইরান হামলার পর ইন্দোনেশিয়ায় ক্ষোভ: ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্বের দাবি জোরালো
- মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর: লেবাননে ১২ নিহত, ইরানে নতুন হামলা
- আত্মগোপন থেকে ফিরেই আলভীর বোমা: ইকরার মৃত্যু ও ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি
- ইফতারে মুখরোচক চিকেন কিমা তাওয়া কাবাব: সহজ ঘরোয়া রেসিপি
- ভোট কারচুপি না হলে প্রতিপক্ষ এত ভোট পেত না: মির্জা আব্বাস
- আপসহীন সংগ্রামের স্বীকৃতি: অদম্য নারী পুরস্কারে ভূষিত প্রয়াত খালেদা জিয়া
- ভাড়া বাসায় চলত জাল নোটের কারবার, গোয়েন্দা জালে ধরা কারিগর
- সৌদি আরবের তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা
- আজ রাতেই ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণের আলটিমেটাম
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- আজকের মুদ্রা বিনিময় হার: জেনে নিন কোন দেশের মুদ্রার কত দাম
- তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া: বিমানবন্দরের ভেতরে জ্বলছে সারিবদ্ধ বিমান
- আপস না করাই আজ নিজের জন্য বিপদ ডেকে এনেছে: আসিফ মাহমুদ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- ১৭ রমজান: যে যুদ্ধে নির্ধারিত হয়েছিল ইসলামের আগামীর বিশ্বজয়
- শনিবারে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের ব্যস্ত সূচি: টিভিতে আজকের খেলা
- মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতার সংকেত
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- কোনটি প্রমাণিত হয়েছে?—দুর্নীতি ইস্যুতে মধ্যরাতে হাসনাতের বিস্ফোরক প্রশ্ন
- আজ ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব
- “প্রায় সীমাহীন অস্ত্র মজুত” দাবি, তবু উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
- বাহরাইনে ইসরায়েলি দূতাবাসে ইরানের ড্রোন হামলা
- ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট: আজ মিলছে ১৬ মার্চের আসন
- মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা
- সংহতির বার্তা নাকি কৌশলী কূটনীতি? প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের বিশেষ আলাপ
- অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা বাংলার নতুন মীরজাফর: মো. তাহের
- বিক্ষোভ দমন ও নিষেধাজ্ঞা: বিতর্ক সঙ্গী করেই ইরানের সামরিক কমান্ডে আহমদ বাহিদি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? এক নজরে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মার্চ ২০২৬
- হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘মহামন্দা’ ও মুদ্রাস্ফীতির কালো মেঘ
- কালিগঞ্জে লাইফ কেয়ার নলতা ডিজিটাল ল্যাব এন্ড কনসালটেশনের উদ্যোগে দোয়া-ইফতার মাহফিল
- সপ্তাহান্তে বৃষ্টির সম্ভাবনা: ঢাকাসহ ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
- নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- পার্লার ছাড়াই নিখুঁত রূপচর্চা: ঘরেই আসছে ‘এআই স্কিন অ্যানালাইজার’
- ইনফ্লুয়েন্সারদের ডায়েট ট্রেন্ড ও ভাইরাল ফুড চ্যালেঞ্জ: স্থূলতা সংকটে নতুন ঝুঁকি
- সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনে অবহেলার পথে সরকার: নাহিদ ইসলাম
- জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ; জারি হলো ১২ দফার নতুন গাইডলাইন
- অটোচালকের ঘুষিতে যুবদল নেতার মৃত্যু
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
- টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় স্বস্তি, নতুন দর কার্যকর আজ
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা; এক বছরে দাম বাড়ল ৬৪ শতাংশ
- ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে আগুন: এক লাফে বাড়ল ৩ হাজার টাকা
- শহীদ হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি
- ২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
- নতুন বেতন কাঠামো ও পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল
- ইফতারের প্রশান্তি কেড়ে নিচ্ছে মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির পূর্ণাঙ্গ গাইড
- রামাদান মাসে কোরানের হাফেজ দের নিয়ে মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের সেহেরি আয়োজন








