অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৮ ২১:৪৫:৫৯
অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন
ইরানের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার অলিন্দে এবং নীতিনির্ধারণী মহলে চরম উত্তেজনা ও গভীর রাজনৈতিক ফাটল তৈরি হয়েছে। দেশটির কট্টরপন্থী রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, যুদ্ধকালীন সংকটময় মুহূর্তে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বর্তমান ইরানি শাসকেরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল বিপ্লবী আদর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্যুত হয়ে নরম অবস্থান গ্রহণ করেছেন। সমঝোতার মাধ্যমে আলোচক নেতারা কার্যত রাষ্ট্রের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে একটি পরোক্ষ রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এই কট্টরপন্থীরা।

সম্প্রতি তেহরানে অনুষ্ঠিত সাবেক ও প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলা প্রকাশ্যে চলে আসে। জানাজায় অংশ নিতে আসা ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সেখানে উপস্থিত কট্টরপন্থী একদল মানুষের চরম অসন্তোষের মুখে পড়েন। শোক প্রকাশের পরিবর্তে ওই উত্তেজিত জনতা সরাসরি দেশের প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ‘আপসকারীর মৃত্যু হোক’ বলে তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করে।

একই জানাজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে চরম লাঞ্ছনা ও ক্ষোভের শিকার হতে হয়েছে ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকেও। ওয়াশিংটনের সঙ্গে নেপথ্যে থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দীর্ঘ আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া এই শীর্ষ কূটনীতিককে লক্ষ্য করে জানাজায় ইট-পাথর নিক্ষেপ করা হয়। একই সঙ্গে তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেওয়া হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক রূপ ধারণ করে। পরবর্তীতে নিরাপত্তারক্ষীরা আইনি প্রটোকল মেনে তাকে দ্রুত ওই স্থান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

ইরানের চরমপন্থী ও সুপার রেভল্যুশনারি গোষ্ঠীগুলোর মূল ক্ষোভের কারণ হলো, তাদের মতে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনি হত্যার মোক্ষম ও কঠোর সামরিক প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একপ্রকার আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছে। তারা দাবি করছেন, বর্তমান অন্তরালে থাকা নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দেওয়া স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও শর্তাবলি সম্পূর্ণরূপে অমান্য করেই এই সমঝোতা চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়েছে।

যদিও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে খুব একটা আসছেন না। রাষ্ট্রীয় ও সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আড়ালে অবস্থান করছেন বলা হলেও, কট্টরপন্থীদের একাংশের সন্দেহ তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে আড়ালে রাখা হয়েছে।

এমন এক ধোঁয়াশাপূর্ণ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান সমঝোতাকারী মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিই যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতায় সবচেয়ে দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার এই সাময়িক অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়েই কট্টরপন্থী দলগুলো এখন এই ত্রয়ীর বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখলের ও আদর্শ চ্যুতির অভিযোগ তুলছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরান বিষয়ক প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ আরাশ আজিজির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কট্টরপন্থীদের সরাসরি যোগাযোগের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পথ খোলা না থাকায় তারা গালিবাফ ও পেজেশকিয়ানের বর্তমান যৌথ নেতৃত্বকেই প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। তারা সমাজে এই প্রচার ছড়াচ্ছেন যে, এই নেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন।

মূলত খামেনির জানাজায় সমবেত হওয়া বিশাল জনগোষ্ঠীর সিংহভাগই ছিল ইসলামি বিপ্লবের কট্টর সমর্থক। তারা সেখানে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি তোলেন এবং ওয়াশিংটনের সাথে সম্পাদিত যেকোনো প্রকার আপস বা চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেন।

অভ্যন্তরীণ এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল আকার ধারণ করে যখন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বৈশ্বিক জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে নিজস্ব সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীও পাল্টা বিমান হামলা চালালে দুই দেশের সদ্য স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির মূল ভিত্তিটি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে কট্টরপন্থীরা আবারও সোচ্চার হয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যেন এই তথাকথিত চুক্তি অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এমনকি এই সমঝোতা চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই কট্টরপন্থী ধারার নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও সরাসরি হুমকি দিতে শুরু করেছিলেন। সম্প্রতি তেহরানের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কট্টরপন্থী ধর্মীয় বক্তা মোহাম্মদ আলি বখশি বর্তমান সরকারের নীতি ও সমঝোতার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি সরাসরি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে উদ্দেশ্য করে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া শর্তগুলো অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা না হয়, তবে প্রেসিডেন্টের জন্য পরিস্থিতি নরকের মতো করে তোলা হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘জনাব রাষ্ট্রপতি, যদি নেতার শর্ত অমান্য করা হয়, তবে আমরাই হবো ধারালো তরবারি আর আপনার গলা থাকবে তার নিচে।’ তবে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ভয়াবহ ও উসকানিমূলক জীবননাশের হুমকি দেওয়ার পরও সরকারের পক্ষ থেকে ওই বক্তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

স্পিকার গালিবাফের বিরুদ্ধে কট্টরপন্থীদের মূল অভিযোগ হলো, তিনি সুকৌশলে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাংবিধানিক ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে দেশের সংসদ এবং খোদ সর্বোচ্চ নেতার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ও একচ্ছত্র প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, এটি আসলে ধাপে ধাপে একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক অভ্যুত্থান বাস্তবায়নের সুদূরপ্রসারী নীল নকশা।

নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বর্তমান শাসক গোষ্ঠীও অবশ্য পাল্টা প্রতিরোধমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ‘জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন’ থেকে মাহমুদ নাবাভিয়ানসহ চুক্তির ঘোর বিরোধী দুই কট্টরপন্থী সদস্যকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই নাবাভিয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অতি গোপনীয় আলোচনার স্পর্শকাতর নথিপত্র গণমাধ্যমে ফাঁস করে দিয়ে পুরো চুক্তিটি ভণ্ডুল করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

বহিষ্কৃত এই নাবাভিয়ান এবং তার কট্টরপন্থী সমর্থকেরা মূলত ইরানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ফ্রন্ট ‘জেবহে-ই পায়দারি’ বা ‘এনডিউরেন্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের মূল কট্টর আদর্শের একমাত্র অতন্দ্র প্রহরী ও দাবিদার এই গোষ্ঠীটি নিজেদের ‘সুপার রেভল্যুশনারি’ বা পরম বিপ্লবী হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করে এবং বর্তমান পেজেশকিয়ান প্রশাসনকে মার্কিনপন্থী ও আদর্শচ্যুত মনে করে।

জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের বিশিষ্ট গবেষক হামিদরেজা আজিজি এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণ করে জানান, ইরানের বর্তমান ক্ষমতাকাঠামো ও মূল নীতিনির্ধারকেরা এখন ধীরে ধীরে এই কট্টরপন্থীদের রাজনৈতিক প্রভাব সংকুচিত ও সীমিত করার একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন। এর প্রধান কারণ হলো, কট্টরপন্থীদের এই অতিরিক্ত যুদ্ধংদেহী ও অনমনীয় অবস্থান বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে এবং তাদের ভেতরের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে বিশ্বমঞ্চে লজ্জাজনকভাবে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছে।

যদিও এই চরমপন্থী গোষ্ঠীটি সংখ্যাগত দিক থেকে খুব বেশি বড় নয়, তবুও ইরানের জাতীয় সংসদ, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বেতার সম্প্রচার মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদের অত্যন্ত শক্তিশালী ও উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বিগত ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে কট্টরপন্থী শীর্ষ নেতা সাঈদ জালিলি এককভাবে এক কোটিরও বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন, যা দেশের সাধারণ ভোটারদের মাঝে তাদের গভীর ও মজবুত রাজনৈতিক ভিত্তির কথাই প্রমাণ করে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিশ্বমঞ্চে বারবার দাবি করে আসছেন যে, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর ভেতরে একটি গভীর ও অপূরণীয় বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তেহরানের ভেতরে তীব্র মতপার্থক্য ও ক্ষমতার লড়াই বিদ্যমান থাকলেও রাষ্ট্রের মূল ৩টি মৌলিক বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে এখনো একটি অলিখিত ঐকমত্য রয়েছে। বিষয়গুলো হলো—চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধের চূড়ান্ত অবসান ঘটানো, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়া এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

তা সত্ত্বেও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দীর্ঘদিন যাবত জনসম্মুখের আড়ালে থাকা, যুদ্ধবিরতি নিয়ে কট্টরপন্থীদের শর্তসাপেক্ষ অনড় অবস্থান এবং পারস্য উপসাগরে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ক্রমবর্ধমান স্বায়ত্তশাসিত সামরিক প্রভাব এই চরমপন্থীদের দিন দিন আরও বেশি সাহসী ও আগ্রাসী করে তুলছে। তারা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির পথ পরিহার করে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে জনমত তৈরি করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান কট্টরপন্থী শিবিরের অন্যতম শীর্ষ নেতা মানুচেহর মোত্তাকি সম্প্রতি দেশটির একটি মূল ধারার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চরম উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হলে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অন্তত শতাধিক মার্কিন সেনাকে বন্দি করে জিম্মি হিসেবে ইরানে নিয়ে আসাই হবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর ও যোগ্য জবাব।

/আশিক


নতুন সামরিক হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ল ইরানে

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২০:১৬:১৫
নতুন সামরিক হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ল ইরানে
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় দেশটির নৌবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি নিশ্চিত করে, গত কয়েক দিনে মার্কিন বাহিনীর দফায় দফায় পরিচালিত নতুন সামরিক অভিযানে ইরানি নৌবাহিনীর ওই সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন। তবে নিহত নৌসদস্যদের পরিচয় কিংবা সুনির্দিষ্ট কোন স্থানে তাঁরা হামলার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গত ৩০ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নির্বিচার বোমাবর্ষণ শুরু করার পর দেশটিতে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত এবং ১৪০ জনের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হতাহতদের বড় একটি অংশই নিরীহ নারী ও শিশু। নতুন করে সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়ায় দেশটিতে হতাহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

গত রোববার পারস্য উপসাগরের কৌশলগত লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার মধ্য দিয়েই মূলত দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বিস্ফোরক রূপ নেয়। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় এক মাস ধরে চলা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, সাগরে মাইন বহনে সক্ষম উন্নত রকেট মোতায়েনের প্রস্তুতি শনাক্ত করার পরই তারা ইরানের দুটি রকেট লঞ্চার বা উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ওই আঘাত হেনেছিল।

লারাক দ্বীপে হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে জোরালো হামলা চালায়। কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায় তেহরান। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পুনরায় ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আইআরজিসির একাধিক কৌশলগত অবস্থান ও ঘাঁটিতে পাল্টা বিমান হামলা চালায়, যা আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি


সৌদিতে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২০:০৯:০৭
সৌদিতে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ বা লাল সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের বরাতে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই বৈরী আবহাওয়া ও সতর্কবার্তা বহাল থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এনসিএমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত জাজান, আসির, আল বাহা এবং পবিত্র মক্কা অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় বজ্রঝড়ের পাশাপাশি মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এর মধ্যে জাজান ও আসির প্রদেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা আশঙ্কাজনক রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে নাজরান অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। জাজান প্রদেশের আল রাইত, হারুব, আল দাইর, আল হাইদাবি, ফাইফা, আল আরিদাহ, আল হারিস, আল তুওয়াল, আল দারব, বাইশ, সাবিয়া, দামাদ, আবু আরিশ, আহাদ আল মাসারিহাহ, সামতাহ, জাজান মূল শহর এবং ফরাসান দ্বীপপুঞ্জে থেমে থেমে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে আসির প্রদেশের আভা, খামিস মুশাইত, আহাদ রুফাইদাহ, সারাত উবাইদাহ, আল হারজাহ, দাহরান আল জানুব, আল নামাস, আল ফারশাহ, তানোমাহ, রিজাল আলমা, বারিক, মাহায়িল আসির, আল মাজারদাহ ও বলকারন এলাকাতেও ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে, ভারী বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চল, গভীর উপত্যকা (ওয়াদি) ও পাহাড়ি ঢালগুলোতে হঠাৎ মারাত্মক ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

এই চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখে স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিশেষ করে দূরপাল্লার যানবাহনচালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সৌদি বেসামরিক কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে জলাবদ্ধ উপত্যকা ও পাহাড়ি ঢলপ্রবণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিপজ্জনক রুটে যাতায়াত না করতে এবং দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচারিত নিরাপত্তা নির্দেশনাগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করার তাগিদ দিয়েছে প্রশাসন।

সূত্র: গালফ নিউজ


দীর্ঘ ২৩ বছরের উপস্থিতির ইতি, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়ছে সব মার্কিন সেনা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ২১:৫০:৪৯
দীর্ঘ ২৩ বছরের উপস্থিতির ইতি, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়ছে সব মার্কিন সেনা
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৩ বছরের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির পর অবশেষে ইরাক থেকে সব মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের সার্বিক অভিযান এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে।

প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ৩০ সেপ্টেম্বর অতিক্রান্ত হওয়ার পর অর্থাৎ ১ অক্টোবর থেকে ইরাকের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর বিদেশি মুক্ত হওয়ার এই দিনটিকে ইরাকের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটির সরকার।

এর আগে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সেই সফরকালে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সাথে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সেনা প্রত্যাহারের এই সুনির্দিষ্ট সময়সূচির বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছান দুই দেশের নীতি নির্ধারকরা।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে তৎকালীন ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের শাসন উৎখাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে এক যৌথ অভিযান শুরু হয়েছিল, যার পর থেকেই দেশটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। সেই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কৌশলগত বিভিন্ন ধাপে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখা হয়েছিল।

/আশিক


ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নতুন সামুদ্রিক রুট চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ২২:৩১:২৩
ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নতুন সামুদ্রিক রুট চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি সামুদ্রিক রুট চালুর বিষয়ে তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত প্রণালির নতুন ট্রাফিক রুট ও আইনি কাঠামো নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। পুরোনো নৌপথ বিভাজন ব্যবস্থার ওপর ইরানের আপত্তি থাকায় প্রযুক্তিগত জটিলতা এড়াতে আপাতত একটি অস্থায়ী পথ নিয়েই দুই দেশ কাজ করছে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আরাগচি স্পষ্ট জানান, চুক্তি কাছাকাছি হলেও গত জুনে স্বাক্ষরিত 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণসহ কিছু শর্ত পূরণ না হলে এই জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না।

অন্যদিকে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বিষয়টিতে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ওমান ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনার সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত নয়। প্রণালি উন্মুক্ত করার পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিজস্ব শর্তাবলি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলেই কেবল এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার বিপরীতে তেহরানও পাল্টা আঘাত হানে। পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে পরবর্তীতে ১৮ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও পারস্য উপসাগরে অবাধ চলাচল ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিরোধের কারণে বর্তমানে সেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


২০২৩ সালের ইসরায়েলি হামলার ক্ষত: আড়াই বছর পর উদ্ধার ৪০ শিশুর দেহাবশেষ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ২০:১২:৩২
২০২৩ সালের ইসরায়েলি হামলার ক্ষত: আড়াই বছর পর উদ্ধার ৪০ শিশুর দেহাবশেষ
গাজায় উদ্ধার হওয়া ১১২ জনের মরদেহের স্মরণে গণ জানাজা ও দাফন কার্যক্রম (৪ আগস্ট)। নিহতরা ২০২৩ সালে ইসরায়েলি হামলার শুরুতে প্রাণ হারান। ছবি: মাহমুদ আবু হামদা।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজার একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর উদ্ধার করা হয়েছে ১১২ জন ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ, যাদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনই শিশু। নির্মম এই হামলায় সাবরার বেদুইন বংশোদ্ভূত ফিলিস্তিনি গোত্র ‘আল-হাসায়না’ একপ্রকার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। উদ্ধারকৃত দেহাবশেষগুলো ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও রীতি অনুযায়ী গণদাফন সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ফিলিস্তিনি সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর গভীর রাতে গাজা সিটির পুরোনো সাবরা এলাকার একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আল-হাসায়না (আবু শারিয়া নামেও পরিচিত) পরিবারের ৩০৮ জন সদস্য নিহত হন। ওই সময়ে অধিকাংশ বাসিন্দা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় প্রাণহানির মাত্রা ছিল ভয়াবহ।

হামলার পরপরই প্রায় অর্ধেক মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ১৫৩ জনের অবশিষ্টাংশ ধ্বংসস্তূপের নিচেই চাপা পড়ে থাকে। সম্প্রতি উদ্ধারকারী দলের ৪০ জন সদস্য দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে টানা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অবশেষে ১১২ জনের দেহাবশেষ বের করে আনতে সক্ষম হন।

গত মঙ্গলবার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রস্তুত করা একটি সমতল স্থানে নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীরা সমবেত হন। মরদেহগুলোর ছবি দিয়ে সাজানো কফিনগুলো কাঁধে নিয়ে শোকাহত জনতা জানাজায় অংশ নেন এবং স্থানীয় কবরস্থানে তা দাফন করা হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এটিকে গাজা যুদ্ধের অন্যতম বৃহত্তম শোকাবহ গণজানাজা হিসেবে অবহিত করেছে।

এদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন সামরিক অভিযানে নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮১ জনে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে, সীমান্তজুড়ে দফায় দফায় হামলায় হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

/আশিক


যুদ্ধের বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, আকাশ প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র ব্যবস্থার ব্যাপক আধুনিকায়ন

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৯:৩২:৪৭
যুদ্ধের বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, আকাশ প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র ব্যবস্থার ব্যাপক আধুনিকায়ন
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন অস্ত্র সংযোজন এবং সেনা সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক যুদ্ধপ্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কৌশলগত সংস্কারের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সেনাবাহিনীর সার্বিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র স্পষ্ট করেন যে, বর্তমানের জটিল ও বহুমাত্রিক সংঘাত পরিস্থিতিতে যুদ্ধের সক্ষমতা কেবল নতুন সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে না; বরং পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক যান ও অস্ত্রের সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানি প্রকৌশলী ও কারিগরি দলগুলোর নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রস্তুত করা এসব সামরিক সরঞ্জাম সেনাবাহিনীর স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা রাখছে।

আক্রমিনিয়া আরও জানান, নতুন প্রযুক্তির প্রবর্তন ও পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেশের ভৌগোলিক ও আঞ্চলিক সুরক্ষায় 'আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা'-কে (Air Defense) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শত্রুর যেকোনো আকাশপথের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং দেশের অতিসংবেদনশীল অবকাঠামোগুলোর সার্বিক সুরক্ষায় এই বিভাগটিকে অত্যাধুনিক রূপে সাজানো হয়েছে।

সামরিক শক্তির টেকনিক্যাল দিকের বাইরে সেনাদের মানসিক দৃঢ়তার ওপর জোর দিয়ে মুখপাত্র উল্লেখ করেন, একটি বাহিনীর মূল চালিকাশক্তি হলো তার সদস্যদের আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলা। বর্তমানে ইরানি সেনাসদস্যরা উচ্চ মনোবল ও 'জিহাদি চেতনা' নিয়ে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য বহিরাগত আগ্রাসন মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন। অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে দেশীয় প্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট সামরিক কৌশলের ওপর ভর করে সামনের যেকোনো আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি


পদত্যাগের হুমকি দিলে সরাসরি গ্রহণের হুঁশিয়ারি, পেজেশকিয়ান-খামেনি দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ২০:০৫:২৩
পদত্যাগের হুমকি দিলে সরাসরি গ্রহণের হুঁশিয়ারি, পেজেশকিয়ান-খামেনি দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার গুঞ্জন ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যদি আর মাত্র একবার পদত্যাগের হুমকি বা প্রস্তাব জমা দেন, তবে তা সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্জুর করা হবে। সর্বোচ্চ নেতার এক বৈবাহিক আত্মীয়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হলেও প্রেসিডেন্টের দপ্তর এই দাবিকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন ও স্পষ্ট মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ-বাগের খারাযি—যার বোন মোজতবা খামেনির ভাইয়ের স্ত্রী—দাবি করেন যে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ বার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু সুপ্রিম লিডারের কাছ থেকে চূড়ান্ত বার্তা পাওয়ার পর তিনি পিছু হটেছেন। খারাযি সর্বোচ্চ নেতার কথা উদ্ধৃত করে জানান, পেজেশকিয়ান যদি নতুন করে আর একবারও পদত্যাগের কথা বলেন, তবে সর্বোচ্চ নেতা আর দেরি না করে পত্রে অনুমোদন লিখে দেবেন এবং সেখানেই সবকিছু সমাপ্ত হবে। খারাযির মতে, এই কড়া বার্তার পর প্রেসিডেন্ট আর পদত্যাগের সাহস পাচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসে পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশ পায়। সেই আবেদনে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, তাঁর সরকারকে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে পরিকল্পিতভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে এবং উগ্রপন্থী রিভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিয়েছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এই জাতীয় সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ও তথ্যবিষয়ক ডেপুটি মেহেদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে পরাজিত চরমপন্থীদের একটি অশুভ জোট দেশের অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। ব্যালট বাক্সে গণরায় না পেয়ে দুই বছর পরও তারা জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং প্রকারান্তরে দেশের শত্রুদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে।

একই বিষয়ে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আলী-আসগর শাফিয়ান মন্তব্য করেছেন যে, খারাযির সাথে মোজতবা খামেনির সরাসরি কোনো যোগাযোগ বা বৈঠকই নেই, ফলে তাঁর এই দাবিগুলো এক ধরণের কাল্পনিক গল্প ছাড়া কিছু নয়। তিনি জানান, মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক নিয়ে ক্ষুব্ধ একটি বিশেষ গোষ্ঠী কৃত্রিমভাবে এই গুজব ছড়াচ্ছে। সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক কর্মী আহমদ জাইদাবাদিও এই ঘটনাকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ভিডিও বক্তব্যে খারাযি আরও কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি পেশ করেন। তিনি জানান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব পদ থেকে মোহাম্মদ-বাগের জোলক্যাদরকে সরিয়ে মোহসেন রেজাইকে নতুন দায়িত্ব দিতে যাচ্ছেন সর্বোচ্চ নেতা। এছাড়া সমঝোতা আলোচনায় হস্তক্ষেপ না করতে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে কোনো প্রকার কূটনৈতিক আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মূলত গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারককে কেন্দ্র করেই পেজেশকিয়ান সরকার ও দেশের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান এই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। চরমপন্থীদের দাবি, এই চুক্তি সর্বোচ্চ নেতার মূল নীতিমালার সম্পূর্ণ বিরোধী। যদিও প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সিকিউরিটি কাউন্সিলের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি সদস্যের সম্মতি এবং খোদ সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন নিয়েই সরকার এই ঐতিহাসিক চুক্তির পথে এগিয়েছে।

/আশিক


ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:১৪:৩৬
ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও কঠোর অবস্থানের মুখে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল-আহেদ প্রকাশ করেছে, ইরানের সামরিক শক্তি এবং মার্কিন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো জবাব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে কাজ করা নিরাপত্তাহীনতা ও আশঙ্কাই মূলত ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে কাজ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের নীতিগত দৃঢ়তা এবং মার্কিন আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি হুমকির পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তিনি নিজে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিতের প্রক্রিয়াটিতে তিনি সায় দিয়েছেন।

আল-আহেদ তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন—ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তিনি সামরিক হামলা না চালানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সূত্র: পার্সটুডে


ইউক্রেন ও হুতিদের প্রবেশে নতুন অঞ্চলে বিস্তৃত ইরান যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ১৮:৪২:৪৯
ইউক্রেন ও হুতিদের প্রবেশে নতুন অঞ্চলে বিস্তৃত ইরান যুদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মাত্রা ধারণ করেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। এসব ঘটনায় সমগ্র অঞ্চলে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

টানা ১৩ রাত ব্যাপক বিমান হামলার পর গত শনিবার ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ বহাল থাকলেও কেন হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

একই দিনে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি বা স্থাপনায় কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি। অথচ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আক্রমণের জবাবে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছিল তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ, উপসাগরীয় মিত্রদের গভীর উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস আপাতত হামলা না বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে।

অন্য এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। ওই বৈঠকের পর সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স যাচাই করা ভিডিওতে জিজানের একটি শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি আরামকো।

ইয়ানবুর উদ্দেশ্যে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী সফলভাবে ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অনুরূপভাবে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী মারিব ও আল-জাওফ অঞ্চলে হুতিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষই নতুন করে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে, ফলে দেশটিতে আবারও পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে শনিবার ইরান অভিযোগ করেছে, কাস্পিয়ান সাগরে তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইরানের জাহাজে আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাল্টা দাবি করেছেন, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারির জন্য সংগৃহীত সংবেদনশীল স্যাটেলাইট তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে, যা তেহরানের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতায় সরাসরি সহায়তা করছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: