আগাম ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঘোরা যাবে বিশ্বের ৩৬টি দেশ

যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক স্বনামধন্য বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও আবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স' প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করে থাকে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সূচকটি মূলত বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের কার্যকারিতা, সক্ষমতা এবং নাগরিকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ স্বাধীনতার একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
২০২৬ সালের প্রকাশিত সর্বশেষ বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাসপোর্ট বর্তমানে বিশ্বের ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে। এই নতুন রেঙ্কিং অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারী নাগরিকরা পৃথিবীর মোট ৩৬টি স্বাধীন দেশ ও বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কোনো প্রকার আগাম বা পূর্ব ভিসা ছাড়াই সরাসরি ভ্রমণের বিশেষ সুবিধা উপভোগ করছেন।
বাংলাদেশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক এই ভিসা সুবিধার আওতায় রয়েছে সম্পূর্ণ ভিসা ছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশে প্রবেশের সুযোগ, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ই-ভিসা সুবিধা। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের সুবিধার্থে আগাম ভিসা ছাড়া যাতায়াতযোগ্য ৩৬টি দেশের ভৌগোলিক অঞ্চলভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলো:
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশি দক্ষিণ এশিয়ার ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দর্শনীয় দুই দেশ কম্বোডিয়া এবং তিমুর লিস্তে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা মিলবে।
অপরূপ সৌন্দর্যের ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের মোট ১১টি দেশ ও দ্বীপাঞ্চলে বাংলাদেশিরা আগাম ভিসা ছাড়া যেতে পারবেন। এই তালিকায় রয়েছে বাহামাস, বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।
আফ্রিকা মহাদেশের লড়াকু ও বৈচিত্র্যময় দেশগুলোর মধ্যে বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কোমোরো আইল্যান্ডস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা, সিচিলিস, সিয়েরা লিওন এবং গাম্বিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই আগাম ভিসা মুক্ত সুবিধা কার্যকর রয়েছে।
সবশেষে ওশেনিয়া বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, নিউই, সামোয়া, টুভ্যালু এবং ভানুয়াতু রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে আগে থেকে ভিসার আবেদন করার কোনো প্রয়োজন নেই।
তবে যেকোনো আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা সরকারি ইমিগ্রেশন পোর্টাল থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়া শ্রেয়। যেহেতু বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ভিসা নীতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভ্রমণের ঠিক পূর্বে সরকারি ওয়েবসাইট অথবা নির্দিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যটি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া প্রতিটি ভ্রমণকারীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।
/আশিক
লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
সারা দেশে চলমান তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জাতীয় সংসদে দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে বর্তমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের দেড় দশকের ভুল ও অপরিকল্পিত নীতিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন চলাকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের করা এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সারা দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে লুকোচুরি করার কোনো সুযোগ নেই। মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম অভাবে সীমাহীন কষ্টে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নিজের মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিপর্যয় এক দিনে ঘটেনি; বিগত দেড় দশক ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতিমালার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে আজ সাধারণ মানুষকে এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সংকটের গভীরতা তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। বিগত সরকার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা গড়ে তুললেও প্রয়োজনীয় জ্বালানির বন্দোবস্ত করতে পারেনি। বর্তমানে দেশে ১২ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে প্রতিদিন ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও দেশীয় উত্তোলন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে সেই চাহিদামতো জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে রাখতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ঘাটতির তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে মাতারবাড়ীর আরেকটি ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তির শর্ত মোতাবেক ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার কথা থাকলেও দিনের বেলায় মাত্র ৯০০ এবং রাতে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি গত ২১ জুলাই একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) বিপর্যয় ঘটায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ভেঙে পড়েছিল, যা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৫ আগস্ট সচল করা সম্ভব হয়েছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাধ্য হয়ে সরকারকে এখন অতিব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখতে হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকার এসব বেসরকারি উৎপাদনকারীর কাছে প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশাল দেনা রেখে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সংকট সামাল দিতে দ্রুত ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যাতে কেন্দ্রগুলো জ্বালানি আমদানি সচল রাখতে পারে। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির আশা প্রকাশ করে তিনি রাত ৮টার পর শপিংমল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে মানার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে সৌরবিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাসাবাড়ি বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পর নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা যাবে। এই উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে নেবে।
একইসঙ্গে দেশে সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরঞ্জাম আমদানিতে বড় ধরনের কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এখন থেকে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারিসহ সংশ্লিষ্ট সামগ্রী আমদানিতে মাত্র ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি দিতে হবে এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই বিশেষ সুবিধা বাণিজ্যিক আমদানিকারকরাও আগামী ছয় মাস পর্যন্ত পাবেন। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই নীতির ফলে সৌর খাতে দ্রুত ব্যাপক বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে এবং আগামী গ্রীষ্মে নাগরিকদের আর এমন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা সইতে হবে না।
/আশিক
লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি জানান, লুট হওয়া অস্ত্র পুনরুদ্ধারে র্যাবের নেতৃত্বে শিগগিরই দেশব্যাপী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর যেসব অস্ত্র লুট হয়েছিল, সেগুলো উদ্ধারের মূল দায়িত্ব র্যাবকে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় র্যাব-৬-এর খুলনা সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
র্যাব মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। অভিযানে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে তিনি সাধারণ নাগরিক ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তাঁদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বাহিনী।
সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের বিস্তারিত তুলে ধরে র্যাব জানায়, গত সোমবার পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ জন সদস্য অপরাধজগৎ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। পরবর্তীতে রাতে আরও সাতজন যোগ দিলে মোট আত্মসমর্পণকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৯ জনে। এর মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন সদস্য রয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৪টি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, ৪টি পাইপগান, ৩টি এয়ারগান, ১টি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল, ৭টি ওয়াকিটকি, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১৪টি ব্যবহৃত খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ এই বনের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আশির দশক থেকে সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে দস্যুতার যে ধারা শুরু হয়েছিল, তার শিকার হচ্ছিলেন মাছ শিকারি জেলে, কাঠুরে কিংবা মধু ও গোলপাতা সংগ্রহকারী সাধারণ মেহনতি মানুষ। এই স্বাধীন দেশে নিরীহ শ্রমজীবী মানুষদের ওপর অন্যায় জুলুম, অপহরণ ও চাঁদাবাজি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না এবং বনকে দস্যুমুক্ত রাখতে বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র্যাব প্রধান জানান, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের মোট ৩১৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। তবে তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পরবর্তীতে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব, অসচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অহেতুক হয়রানির ভয়ের কারণে কেউ কেউ পুনরায় বিপথগামী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩১৮ জনের মধ্যে ৩০ জনের ফিরে যাওয়া খুব বড় কোনো সংখ্যা নয়। বর্তমানে সুন্দরবনে আরও চার থেকে পাঁচটি বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং তাদেরকেও সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
আত্মসমর্পণকারীদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ে আগের চেয়ে উন্নত সহায়তা প্যাকেজ প্রণয়ন করছে বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও অভিযোগ ছাড়া আত্মসমর্পণকারী কাউকে নতুন করে আটক বা মামলা দিয়ে অহেতুক হয়রানি করা যাবে না। এছাড়া বনাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সুন্দরবনে র্যাবের একটি স্থায়ী ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সেখানে কোস্টগার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা চাইলে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠাতে পারেন।
/আশিক
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুতের দৃশ্যমান উন্নতি হবে: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগস্ট মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে যে অসহনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস না পেয়ে জনগণের যে দুর্ভোগ হয়েছে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।
চলমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভুল নীতিমালার অনিবার্য পরিণতি হিসেবেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এর ওপর সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমাবদ্ধতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট, যা পুরোপুরি সচল রাখতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন মোট ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে গেলে শিল্পকারখানা ও আবাসিক খাত তীব্র সংকটে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যে কারণে তিনটি খাতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে গ্যাস বণ্টন করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতির পেছনে বড় দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন স্থগিত থাকাকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মহেশখালীর মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমক্ষমতার আরও একটি ইউনিট থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে ভারতের আদানি গ্রুপ থেকেও চুক্তি অনুসারে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংসদে জানান তিনি। চুক্তির শর্ত মোতাবেক ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও ভারত থেকে দিনে মাত্র ৯০০ মেগাওয়াট এবং সান্ধ্যকালীন সর্বোচ্চ চাহিদার সময় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে।
জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যাঘাত ঘটেছিল বলে সংসদে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য নিয়োজিত দুটি ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মধ্যে একটিতে গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। সেটি মেরামত করতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় ব্যয় হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় বিপর্যয় নেমে আসে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তবে সেই জটিলতার প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংকট কাটিয়ে উঠতে পায়রা ও মাতারবাড়ির বন্ধ ইউনিটগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফেরানোর ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি হিসেবে বিশেষ করে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে সরকার রুফটপ সোলার বা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নীতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আশ্বস্ত করেন, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগগুলো কার্যকর হলে আগামী গ্রীষ্মে নাগরিকদের এমন চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে না। জ্বালানি খাত নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগ স্বাভাবিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরা এবং খাতটি ঘিরে থাকা যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করতে মন্ত্রণালয় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।
/আশিক
জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও সার্বিক সরবরাহ বৃদ্ধির জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান।
সংসদে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কক্সবাজারের মহেশখালী সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারের আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
এর পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও আবাসিক জ্বালানি চাহিদা মেটানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ এগিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত এই ভাসমান টার্মিনালগুলো পুরোপুরি কার্যকর হলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
/আশিক
আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ দুদকের
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি এবং কেনাকাটায় সিন্ডিকেট গড়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম।
দুদক মুখপাত্র জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। সংস্থাটিতে জমা পড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ২০০ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি এবং সুবিধাজনক স্থানে পদায়নের বিনিময়ে ৪ কোটি টাকারও বেশি ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগের তালিকায় আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের নাম রয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা পদায়ন, বদলি ও বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম নিয়ে সম্প্রতি দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তৎকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ১৮৮ কর্মকর্তার বদলি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনে তাঁর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পেয়েছে কমিশন। এর পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভূমিকা ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
অভিযোগগুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখতে উপপরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করেছে দুদক।
উল্লেখ্য, এর আগেও আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত করেছিল সংস্থাটি। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধান শেষে গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমানে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
/আশিক
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মাত্র তিন সপ্তাহ পার হতেই এর ভবিষ্যৎ বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির চেয়েও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—নতুন কোন কোন দেশ এই সামরিক বলয়ে যুক্ত হতে যাচ্ছে। নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি ঘটলে এই জোটের ভৌগোলিক পরিসর পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে পারস্য উপসাগর হয়ে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
সম্ভাব্য সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ প্রকাশ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং মিসর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে ইরানের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। পার্লামেন্টের গণমাধ্যম শাখা থেকে তেহরানের আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা বলা হলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এই সামরিক জোটের প্রথম সম্প্রসারণ মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ঘটার সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি জানিয়েছেন, ঢাকা এই চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। ঢাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে জোটটিতে আরও একটি বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এর প্রভাব বাড়বে।
তবে এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের বিদ্যমান দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ আলী জাফরের মতে, অভ্যন্তরীণ সাম্প্রতিক অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার পক্ষে এখনই এমন বড় সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি দিল্লির অস্বস্তির কারণ হতে পারে, কারণ চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা শর্ত অনুযায়ী এক সদস্যের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের কোনো সংঘাতে ঢাকার জড়িয়ে পড়ার যৌক্তিক কারণ না থাকলেও ইরান বা অন্য দেশগুলো যুক্ত হলে ঢাকা তাদের কৌশলগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
ইরানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এই জোটের জন্য যেমন বিরাট তাৎপর্য বহন করে, তেমনি এতে গভীর কৌশলগত ঝুঁকিও রয়েছে। জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন তিন দেশই ইরানের আগ্রাসী সামরিক নীতি ও ইসরায়েলের তৎপরতা নিয়ে সতর্ক। তেহরানের ইনস্টিটিউট ফর বিআরআই স্টাডিজের গবেষক আলি হোসেইনির মতে, মক্কা চুক্তির মূল কাঠামোটি মূলত ইরানের সামরিক প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি প্রয়াস।
ফলে এই জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলে ইরানের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে, বরং বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা জিইয়ে রাখাই তেহরানের জন্য লাভজনক। গবেষক আলী জাফর মনে করেন, ইরান যুক্ত হলে জোটটি বৃহৎ রূপ পেলেও বর্তমান সদস্যরা তেহরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চাইবে না। ফলে জোট বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রতিপক্ষ ও পরস্পরবিরোধী স্বার্থের জটিলতাও তৈরি হবে।
মিসরও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জোটের প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন, সাংবিধানিক ও আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক অফির উইন্টারের মতে, চুক্তিটি কাদের লক্ষ্য করে গঠিত এবং এতে কী ধরনের সামরিক দায় তৈরি হবে, তা স্পষ্ট না থাকায় কায়রো দ্বিধায় রয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে ১৯৭৯ সালের শান্তি চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মিসর সাংঘর্ষিক কোনো সামরিক চুক্তিতে জড়াতে পারে না। একইসঙ্গে গ্রিস, সাইপ্রাস, সৌদি আরব, আমিরাত ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তারা কোনো একক সামরিক জোটে ঢুকে ভারসাম্য নষ্ট করতে চায় না।
এদিকে তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটির ওপর কড়া নজর রাখছে ইসরায়েল। রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্ব, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি তাঁর সমর্থন এবং সিরিয়ার বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠতার কারণে এমন কোনো অক্ষ তৈরি হওয়াকে ইসরায়েল তাদের আব্রাহাম অ্যাকর্ডস কৌশলের বিপরীত বলে মনে করছে। বিপরীতে, এই জোটের মাধ্যমে পাকিস্তানের কৌশলগত প্রভাব দক্ষিণ এশিয়া পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আরও জোরালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ এমন একটি মধ্যম শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে, যারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম।
বিশ্বশক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই নিজ নিজ স্বার্থের জায়গা থেকে এই জোটকে মূল্যায়ন করছে। বেইজিং এটিকে বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৭ আগস্ট এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন চাইছে আঞ্চলিক অংশীদাররা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই নিক, তবে অস্ত্র বিক্রি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য যাতে অক্ষুণ্ন থাকে, সেই দিকটিও তারা সতর্কভাবে নিশ্চিত করছে।
(মূল প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মার্কিন গণমাধ্যম দ্য মিডিয়া লাইন। গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সংক্ষেপে অনুবাদ করা হয়েছে।)
ব্যবসায়ী সংগঠনের আপত্তিতে কর নীতিতে পিছু হটলো এনবিআর
দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কর পরিশোধের নিয়মে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার বা বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর কোনো ধরনের টার্নওভার কর দিতে হবে না। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই আয়ের ওপর ১ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক আপত্তি ও দাবির প্রেক্ষিতে সোমবার (৩১ আগস্ট) একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে এনবিআর।
টার্নওভার কর মূলত এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবসা বা পেশাগত সেবার মোট আয়ের ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারিত হয়, এতে ব্যবসা লাভজনক হোক কিংবা লোকসানে থাকুক। অতীতে এই করের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। মূলত কোম্পানিগুলো যেন ভুয়া লোকসান দেখিয়ে নিয়মিত কর ফাঁকি দিতে না পারে, সেই প্রবণতা আটকাতেই এই ন্যূনতম করের নিয়ম চালু করেছিল কর প্রশাসন। তবে ব্যবসা মহলে এটি বেশ সমালোচিত ছিল। ব্যবসায়ীদের মতে, সত্যিকার অর্থে ক্ষতির মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লাভ-লোকসান নির্বিশেষে কর দিতে বাধ্য করায় এটি করের ন্যায্যতার পরিপন্থী হয়ে উঠেছিল।
সংশোধিত নীতিমালা অনুসারে, বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা পাবে। তবে বিক্রির পরিমাণ ২ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ৪ কোটি টাকার মধ্যে হলে অতিরিক্ত আয়ের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বা আধা শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, বার্ষিক টার্নওভার ৪ কোটি টাকার বেশি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্বের মতোই ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে।
এই কর সমন্বয়ের কারণে মূলত প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সরাসরি আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পাবেন। এর আগে লাভ-লোকসান নির্বিশেষে আরোপিত ১ শতাংশ কর প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছিল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। পাশাপাশি একই দাবি তুলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিখিত চিঠি দিয়েছিল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তাদের যুক্তি ছিল, স্বল্প মুনাফার ব্যবসাগুলো এই নিয়মের কারণে মাত্রাতিরিক্ত করের বোঝায় পড়ছিল এবং লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছিল।
এদিকে আয়কর আইনের ১৬৩ ধারা মোতাবেক কিছু নির্দিষ্ট খাতের জন্য আলাদা টার্নওভার করহার বহাল থাকছে। এর মধ্যে সিগারেট, বিড়ি ও তামাকপণ্য প্রস্তুতকারকদের ৩ শতাংশ, মিষ্টি ও কার্বোনেটেড বেভারেজ প্রস্তুতকারকদের আড়াই শতাংশ এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের দেড় শতাংশ হারে কর দিতে হবে। তবে নতুন শিল্পোদ্যোগের সুরক্ষায় বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রথম তিন বছর ১ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হারে কর দেওয়ার পূর্ববর্তী বিশেষ সুবিধাটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
/আশিক
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা আজ থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদর ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে উৎপাদিত বিদ্যুতের ট্যারিফ বা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা। নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সিস্টেম স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয়কৃত অর্থ গ্রাহকের অতিরিক্ত লাভ হিসেবে গণ্য হবে।
‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুসারে, যেসব গ্রাহক ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই সিস্টেম স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত) প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমার পর স্থাপিত প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা কার্যকর হবে না। বিতরণ সংস্থাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিডে আসা বিদ্যুতের হিসাব রাখবে এবং প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠানো হবে; কোনো অবস্থাতেই নগদ লেনদেন করা যাবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সব যন্ত্রপাতিকে বিএসটিআই এবং স্রেডা (SREDA)-এর নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে। গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দিতে ইতিমধ্যে একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে, যার সেবা পাওয়া যাবে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিতরণ কার্যালয়গুলো থেকেও।
/আশিক
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
তরুণ ও নতুন আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে এবং সংসদ সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা জোরদার করবে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফররত আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শামা ওবায়েদ জানান, আইপিইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিনিধিদলটি ইতিমধ্যে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও নারী এমপিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। নতুন সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ এবং প্রথমবারের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তিকে আইপিইউ অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশি আইনপ্রণেতাদের নীতি প্রণয়ন ও সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জেনেভায় আইপিইউ আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নারী ক্ষমতায়ন, এসডিজি এবং জলবায়ু সহনশীলতার মতো অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে আইপিইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ঢাকা।
আগামী মাসে তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিকার ও সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন বলে প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, সরকারি সফরে এসে আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ জাতীয় সংসদ পরিদর্শন ছাড়াও শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আলোকচিত্র ও দলিলপত্র প্রত্যক্ষ করেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- লঘুচাপের প্রভাব: দেশজুড়ে আবহাওয়ার নতুন বার্তা
- ক্রিকেটের নতুন বিশ্বমঞ্চের দায়িত্ব পেল ভারত
- ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
- ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ
- লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
- তদন্ত শুরুর আগেই সত্যতা পাওয়ার দাবিতে মানহানি হয়েছে: আসিফ মাহমুদ
- ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু: শাহবাজ শরিফ
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের ধাক্কা লাগল বিশ্ববাজারে
- লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
- প্রযুক্তিপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় চমক আনতে পারে অ্যাপল
- দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাস গড়ে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশি ব্যাটার
- আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুতের দৃশ্যমান উন্নতি হবে: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- বিশ্ববাজারের ধাক্কায় মূল্যবান ধাতুর দামে বড় পতন
- জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- এলপিজির দামে এলো নতুন সমন্বয়, কার্যকর আজ সন্ধ্যা থেকেই
- দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
- আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ দুদকের
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
- বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ
- দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ব্যবসায়ী সংগঠনের আপত্তিতে কর নীতিতে পিছু হটলো এনবিআর
- আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন: রয়টার্স
- মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগের মতো থাকবে না: জোসে মরিনিও
- মধ্যরাত পর্যন্ত ১১ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- বিপিএলে দুর্নীতির থাবা, সাবেক পরিচালকসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বার্তা, দ্রুতই সরাসরি বৈঠকের আভাস
- বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা
- ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ট্রেজারি বন্ড ও বৈশ্বিক প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা
- অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা
- টুর্নামেন্টের মাঝপথে ক্যারিবীয় লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার
- দেশের ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা
- জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী
- এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মহাতারকা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে টানাপোড়েন, সামনে বড় ওঠানামার আভাস
- ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
- পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
- ৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝোড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে সতর্কতা
- সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ভারত সিরিজ নিয়ে মুখ খুললেন বোর্ডপ্রধান, জানালেন সর্বশেষ পরিস্থিতি
- ২১ বছরের পুরোনো মায়া কাটিয়ে নতুন স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশি মিডফিল্ডার
- আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ড্রোন হামলা
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক
- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
- নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
- জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
- এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ: চূড়ান্ত হলো গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ
- ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ঘিরে নতুন জটিলতা: বড় তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
- দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী








