১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ২১:৫৯:৪০
১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটটি কোনোভাবেই সাংবিধানিক ছিল না, বরং তা একটি সম্পূর্ণ বেআইনি আদেশের ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোনো প্রকার পূর্ব সমঝোতা ছাড়াই আকস্মিকভাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এর দোহাই দিয়ে জনগণের ওপর একটি ছলচাতুরিপূর্ণ গণভোট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সব কথা বলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিনসহ অনেকে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের সাথে হওয়া ওই গণভোটের তীব্র সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেই ভোটপ্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ অপকৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে জটিল চারটি আলাদা প্রশ্নের বিপরীতে ভোটারদের জন্য কেবল একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ উত্তর দেওয়ার বিধান রাখা হয়, যা মোটেও যৌক্তিক ছিল না। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেটির পক্ষে জনগণের সমর্থন আছে কি না—কেবল সেই একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের ওপরই গণভোটটি আয়োজন করা উচিত ছিল।

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের কাজের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, সেই সময় এমন কিছু অধ্যাদেশ ও কমিশন করা হয়েছিল, যার সুনির্দিষ্ট কোনো কার্যকারিতা ছিল না; বরং তা করা হয়েছিল কেবল কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে। সেই সব কমিশনের কারণে গুমের শিকার হওয়া ভিকটিম বা তাদের পরিবারগুলো আইনি প্রতিকারের জন্য কোথায় যাবে, তা মোটেও পরিষ্কার ছিল না।

এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড এবং দেশীয় সংস্কৃতির সুন্দর মেলবন্ধনে আগামী সংসদ অধিবেশনেই একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ পাস করতে যাচ্ছে। এই নতুন আইনে গুমের বিভিন্ন স্তর, অপরাধের সুনির্দিষ্ট সাজা এবং বিচারিক এখতিয়ার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা থাকবে। একই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মানবাধিকার কমিশনের প্রচলিত আইনকেও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার আইনের সংস্কারের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মীয় অনুভুতি, সামাজিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় সংহতির বিষয়টিকে কঠোরভাবে বিবেচনা করা হবে, যাতে এলজিবিটিকিউ (LGBTQ)-এর মতো সমাজ-স্বীকৃত নয় এমন কোনো পশ্চিমা সংস্কৃতি দেশের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া না যায়।

বক্তব্যের শুরুতে দেশের সাম্প্রতিক মব জাস্টিস বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার কড়া সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উন্মত্ত জনতা কোনোদিন কোনো অবস্থাতেই ন্যায়বিচার বা জাস্টিস প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। এটি একটি অত্যন্ত জঘন্য অপকালচার। বিগত দিনে দেশে আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ না থাকার কারণেই সমাজে এই মব কালচারের সৃষ্টি হয়েছিল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রশাসন এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের হাত ধরেই সমাজে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতের অনেক বিচারক এখনো প্রথাগত রাজনৈতিক বিবেচনা ও মানসিকতা নিয়ে চেয়ারে বসে আছেন, যার কারণে সাধারণ মানুষ মাঠপর্যায়ে চরম অবিচারের শিকার হচ্ছেন।

বিগত প্রহসনের নির্বাচনগুলো এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের সময় বিচার বিভাগের একটি অংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন কায়েম করতে হলে একটি সমন্বিত ও যৌথ পদক্ষেপ প্রয়োজন। রাষ্ট্রকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে তাদের রাজনৈতিক জোটের ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফাতেই একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন গঠনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাড়াহুড়ো করে জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিতর্কিত অল্প কয়েকটি বাদে বাকি সব অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ায় পাস করে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করেছে। তবে রাষ্ট্রের স্থায়ী কাঠামো সংস্কারের জন্য সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক সংশোধনী আনা জরুরি।

দেশের সংবিধানকে একটি পরিবর্তনশীল ও জীবন্ত দলিল হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানে ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধানটি আবার ফিরে এসেছে। তাই সংবিধানের প্রস্তাবনা কিংবা কোনো মৌলিক অনুচ্ছেদ পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হলে কেবল রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বৈধ গণভোটের আয়োজন করতে হবে, তবে বিগত ১৭ ফেব্রুয়ারির ত্রুটিপূর্ণ গণভোটটি সেই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে না।

বিগত রাজপথের আন্দোলনের ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে দলের লাখ লাখ নেতাকর্মী রাজপথে অবিরাম আন্দোলন ও সংগ্রাম করে গেছেন। পরবর্তীতে সেই আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আবু সাঈদের মতো অসংখ্য ছাত্র-জনতার বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়েছে।

বিগত ১৯ জুলাইয়ের দিনটিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ শহীদ হয়েছিলেন—তা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, যারা আজ কেবল সরকারের মন্ত্রী কিংবা উপদেষ্টা হওয়ার জন্য জুলাইয়ের মহান চেতনাকে সস্তা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন, তাদের পুরাতন ব্যবস্থার আদলে পর্দার আড়ালে আওয়ামী লীগের দোসর কিংবা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ ও লবিং অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

দেশের রাজনীতিতে ‘দায় ও দরদের রাজনীতি’ কিংবা ‘নতুন বন্দোবস্ত’-এর মতো ভারী ও তাত্ত্বিক শব্দ ব্যবহারকারী এক শ্রেণির সুশীল বুদ্ধিজীবীদের কড়া সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এত বেশি বাক্যবিশারদ বা কথার জাদুকর হওয়া দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। আপনাদের এই তথাকথিত নতুন বন্দোবস্তের ভেতরের আসল রূপ কী, তা দয়া করে রাখঢাক না করে দেশের জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরুন।

দেশের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজেদের হীন ও সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কখনো ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে সামনে আনা, আবার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে কেবল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে এককভাবে ব্যবহার করার দ্বিমুখী রাজনীতি এ দেশে আর চলবে না। দেশে ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের পুনরুত্থান শক্ত হাতে ঠেকাতে এবং স্বৈরাচারের ফেরার সব পথ চিরতরে বন্ধ করতে দেশের গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতি এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যকে আরও বেশি শক্তিশালী ও মজবুত করার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান মন্ত্রী।

/আশিক


অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৯:৩১:৩৫
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
সাবেক রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। গ্রাফিক্স: ইত্তেফাক

জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের কুমিল্লার বিভিন্ন মৌজা ও দাগে অবস্থিত ১৮টি জমি এবং টয়োটা ব্র্যান্ডের দুটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দের (ক্রোক) আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ জারি করেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা আদালতে এই আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি মো. মুজিবুল হক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একজন সরকারি কর্মচারী (পাবলিক সার্ভেন্ট) হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজ নামে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ৩৫১ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। এই সুনির্দিষ্ট অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

আদালতে জমা দেওয়া দুদকের নথিতে আরও বলা হয়, মামলাটির তদন্ত চলাকালে রেকর্ডপত্র যাচাই করে দেখা গেছে যে আসামি তাঁর এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গোপনে বিক্রি, স্থানান্তর বা বেহাত করার তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হলে রাষ্ট্র মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। সেই যুক্তিতেই আসামির জমি, গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধে অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করা হয়েছিল।

/আশিক


বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে বন্ধ হলো চার শতাধিক কারখানা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৯:২৭:৫০
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে বন্ধ হলো চার শতাধিক কারখানা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) অন্তর্ভুক্ত ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ১২৩টি কারখানা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এই তথ্য প্রকাশ করেন।

পোশাক কারখানাগুলো বন্ধের পেছনের কারণ তুলে ধরতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ একাধিক সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছাড়াও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা রপ্তানি খাতকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের কারণে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া ইউরোপের বাজারে ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব নজরদারি সুবিধার কারণে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতে কাজের ক্রয়াদেশ না দেওয়ার প্রবণতাও এই খাতের জন্য বড় আঘাত হয়ে এসেছে। বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব কারখানার সুনির্দিষ্ট পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজার ধরে রাখতে সরকারের নেওয়া নীতিগত সহায়তার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে ডিউটি ড্র-ব্যাক ও শুল্ক বন্ডের বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ সহায়তা এবং ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সহায়তার অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের নিট, ওভেন ও সোয়েটার শিল্পের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং সামগ্রিক খাতে বিশেষ নগদ প্রণোদনা হিসেবে মিলছে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ।

একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলাভিত্তিক বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশজুড়ে কঠোর তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত দাম নেওয়া, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি ও মূল্যতালিকা না টানানোর মতো অপরাধে নিয়মিত জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও কার্টেল বা যোগসাজশের বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। জনস্বার্থে বাজার মনিটরিং ও আইনি অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে বলে সংসদে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

/আশিক


প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড ও শীর্ষে নতুন দেশ, সংসদে তথ্য উপস্থাপন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৮:১৮:৩৪
প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড ও শীর্ষে নতুন দেশ, সংসদে তথ্য উপস্থাপন
গ্রাফিক্স: কালবেলা

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে, অন্যদিকে পূর্ববর্তী অর্থবছরে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র বড় পতনের মুখে পড়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনের বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩৫ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন (৩ হাজার ৫৫৮ কোটি ৯৩ লাখ) মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ হাজার ২৬০ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার বেশি।

আলোচ্য অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীরা। এর আগের অর্থবছরে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র পাঠিয়েছিল ৪ হাজার ৭৩৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ কমে ৩ হাজার ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, ফলে দেশটি পঞ্চম অবস্থানে নেমে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর আরও জানান, এই সময়ে রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে এসেছে মোট ৫ হাজার ৭১ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ৩ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

/আশিক


লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ২১:২৩:১৪
লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশে চলমান তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জাতীয় সংসদে দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে বর্তমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের দেড় দশকের ভুল ও অপরিকল্পিত নীতিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন চলাকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের করা এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সারা দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে লুকোচুরি করার কোনো সুযোগ নেই। মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম অভাবে সীমাহীন কষ্টে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নিজের মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিপর্যয় এক দিনে ঘটেনি; বিগত দেড় দশক ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতিমালার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে আজ সাধারণ মানুষকে এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সংকটের গভীরতা তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। বিগত সরকার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা গড়ে তুললেও প্রয়োজনীয় জ্বালানির বন্দোবস্ত করতে পারেনি। বর্তমানে দেশে ১২ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে প্রতিদিন ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও দেশীয় উত্তোলন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে সেই চাহিদামতো জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে রাখতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে মাতারবাড়ীর আরেকটি ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তির শর্ত মোতাবেক ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার কথা থাকলেও দিনের বেলায় মাত্র ৯০০ এবং রাতে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি গত ২১ জুলাই একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) বিপর্যয় ঘটায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ভেঙে পড়েছিল, যা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৫ আগস্ট সচল করা সম্ভব হয়েছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাধ্য হয়ে সরকারকে এখন অতিব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখতে হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকার এসব বেসরকারি উৎপাদনকারীর কাছে প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশাল দেনা রেখে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সংকট সামাল দিতে দ্রুত ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যাতে কেন্দ্রগুলো জ্বালানি আমদানি সচল রাখতে পারে। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির আশা প্রকাশ করে তিনি রাত ৮টার পর শপিংমল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে মানার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে সৌরবিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাসাবাড়ি বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পর নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা যাবে। এই উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে নেবে।

একইসঙ্গে দেশে সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরঞ্জাম আমদানিতে বড় ধরনের কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এখন থেকে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারিসহ সংশ্লিষ্ট সামগ্রী আমদানিতে মাত্র ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি দিতে হবে এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই বিশেষ সুবিধা বাণিজ্যিক আমদানিকারকরাও আগামী ছয় মাস পর্যন্ত পাবেন। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই নীতির ফলে সৌর খাতে দ্রুত ব্যাপক বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে এবং আগামী গ্রীষ্মে নাগরিকদের আর এমন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা সইতে হবে না।

/আশিক


লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৯:৫৭:১২
লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান
ছবি : সংগৃহীত

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি জানান, লুট হওয়া অস্ত্র পুনরুদ্ধারে র‍্যাবের নেতৃত্বে শিগগিরই দেশব্যাপী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর যেসব অস্ত্র লুট হয়েছিল, সেগুলো উদ্ধারের মূল দায়িত্ব র‍্যাবকে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় র‍্যাব-৬-এর খুলনা সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

র‍্যাব মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। অভিযানে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে তিনি সাধারণ নাগরিক ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তাঁদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বাহিনী।

সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের বিস্তারিত তুলে ধরে র‍্যাব জানায়, গত সোমবার পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ জন সদস্য অপরাধজগৎ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। পরবর্তীতে রাতে আরও সাতজন যোগ দিলে মোট আত্মসমর্পণকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৯ জনে। এর মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন সদস্য রয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৪টি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, ৪টি পাইপগান, ৩টি এয়ারগান, ১টি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল, ৭টি ওয়াকিটকি, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১৪টি ব্যবহৃত খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ এই বনের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আশির দশক থেকে সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে দস্যুতার যে ধারা শুরু হয়েছিল, তার শিকার হচ্ছিলেন মাছ শিকারি জেলে, কাঠুরে কিংবা মধু ও গোলপাতা সংগ্রহকারী সাধারণ মেহনতি মানুষ। এই স্বাধীন দেশে নিরীহ শ্রমজীবী মানুষদের ওপর অন্যায় জুলুম, অপহরণ ও চাঁদাবাজি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না এবং বনকে দস্যুমুক্ত রাখতে বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব প্রধান জানান, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের মোট ৩১৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। তবে তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পরবর্তীতে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব, অসচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অহেতুক হয়রানির ভয়ের কারণে কেউ কেউ পুনরায় বিপথগামী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩১৮ জনের মধ্যে ৩০ জনের ফিরে যাওয়া খুব বড় কোনো সংখ্যা নয়। বর্তমানে সুন্দরবনে আরও চার থেকে পাঁচটি বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং তাদেরকেও সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

আত্মসমর্পণকারীদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ে আগের চেয়ে উন্নত সহায়তা প্যাকেজ প্রণয়ন করছে বলে জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও অভিযোগ ছাড়া আত্মসমর্পণকারী কাউকে নতুন করে আটক বা মামলা দিয়ে অহেতুক হয়রানি করা যাবে না। এছাড়া বনাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সুন্দরবনে র‍্যাবের একটি স্থায়ী ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সেখানে কোস্টগার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা চাইলে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠাতে পারেন।

/আশিক


আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুতের দৃশ্যমান উন্নতি হবে: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৯:৪১:৫৮
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুতের দৃশ্যমান উন্নতি হবে: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগস্ট মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে যে অসহনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস না পেয়ে জনগণের যে দুর্ভোগ হয়েছে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভুল নীতিমালার অনিবার্য পরিণতি হিসেবেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এর ওপর সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন চাপ তৈরি করেছে। এছাড়া দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমাবদ্ধতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট, যা পুরোপুরি সচল রাখতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন মোট ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে গেলে শিল্পকারখানা ও আবাসিক খাত তীব্র সংকটে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যে কারণে তিনটি খাতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে গ্যাস বণ্টন করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতির পেছনে বড় দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন স্থগিত থাকাকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মহেশখালীর মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমক্ষমতার আরও একটি ইউনিট থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে ভারতের আদানি গ্রুপ থেকেও চুক্তি অনুসারে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংসদে জানান তিনি। চুক্তির শর্ত মোতাবেক ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও ভারত থেকে দিনে মাত্র ৯০০ মেগাওয়াট এবং সান্ধ্যকালীন সর্বোচ্চ চাহিদার সময় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে।

জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যাঘাত ঘটেছিল বলে সংসদে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য নিয়োজিত দুটি ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মধ্যে একটিতে গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। সেটি মেরামত করতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় ব্যয় হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় বিপর্যয় নেমে আসে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তবে সেই জটিলতার প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংকট কাটিয়ে উঠতে পায়রা ও মাতারবাড়ির বন্ধ ইউনিটগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফেরানোর ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যতের প্রস্তুতি হিসেবে বিশেষ করে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে সরকার রুফটপ সোলার বা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নীতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আশ্বস্ত করেন, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগগুলো কার্যকর হলে আগামী গ্রীষ্মে নাগরিকদের এমন চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে না। জ্বালানি খাত নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগ স্বাভাবিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরা এবং খাতটি ঘিরে থাকা যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করতে মন্ত্রণালয় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।

/আশিক


জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৯:১৩:০১
জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও সার্বিক সরবরাহ বৃদ্ধির জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান।

সংসদে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কক্সবাজারের মহেশখালী সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারের আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান, এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

এর পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও আবাসিক জ্বালানি চাহিদা মেটানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ এগিয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত এই ভাসমান টার্মিনালগুলো পুরোপুরি কার্যকর হলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

/আশিক


আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ দুদকের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৮:০৯:৪৯
আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ দুদকের
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি এবং কেনাকাটায় সিন্ডিকেট গড়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম।

দুদক মুখপাত্র জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। সংস্থাটিতে জমা পড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ২০০ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি এবং সুবিধাজনক স্থানে পদায়নের বিনিময়ে ৪ কোটি টাকারও বেশি ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

এই অভিযোগের তালিকায় আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের নাম রয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা পদায়ন, বদলি ও বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম নিয়ে সম্প্রতি দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তৎকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ১৮৮ কর্মকর্তার বদলি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনে তাঁর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পেয়েছে কমিশন। এর পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভূমিকা ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

অভিযোগগুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখতে উপপরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করেছে দুদক।

উল্লেখ্য, এর আগেও আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত করেছিল সংস্থাটি। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধান শেষে গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমানে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

/আশিক


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ২১:৫৪:১৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। ছবি: এএফপি/কোলাজ

পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মাত্র তিন সপ্তাহ পার হতেই এর ভবিষ্যৎ বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির চেয়েও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—নতুন কোন কোন দেশ এই সামরিক বলয়ে যুক্ত হতে যাচ্ছে। নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি ঘটলে এই জোটের ভৌগোলিক পরিসর পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে পারস্য উপসাগর হয়ে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

সম্ভাব্য সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ প্রকাশ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং মিসর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে ইরানের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। পার্লামেন্টের গণমাধ্যম শাখা থেকে তেহরানের আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা বলা হলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

এই সামরিক জোটের প্রথম সম্প্রসারণ মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ঘটার সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি জানিয়েছেন, ঢাকা এই চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। ঢাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে জোটটিতে আরও একটি বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এর প্রভাব বাড়বে।

তবে এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের বিদ্যমান দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ আলী জাফরের মতে, অভ্যন্তরীণ সাম্প্রতিক অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার পক্ষে এখনই এমন বড় সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি দিল্লির অস্বস্তির কারণ হতে পারে, কারণ চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা শর্ত অনুযায়ী এক সদস্যের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের কোনো সংঘাতে ঢাকার জড়িয়ে পড়ার যৌক্তিক কারণ না থাকলেও ইরান বা অন্য দেশগুলো যুক্ত হলে ঢাকা তাদের কৌশলগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।

ইরানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এই জোটের জন্য যেমন বিরাট তাৎপর্য বহন করে, তেমনি এতে গভীর কৌশলগত ঝুঁকিও রয়েছে। জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন তিন দেশই ইরানের আগ্রাসী সামরিক নীতি ও ইসরায়েলের তৎপরতা নিয়ে সতর্ক। তেহরানের ইনস্টিটিউট ফর বিআরআই স্টাডিজের গবেষক আলি হোসেইনির মতে, মক্কা চুক্তির মূল কাঠামোটি মূলত ইরানের সামরিক প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি প্রয়াস।

ফলে এই জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলে ইরানের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে, বরং বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা জিইয়ে রাখাই তেহরানের জন্য লাভজনক। গবেষক আলী জাফর মনে করেন, ইরান যুক্ত হলে জোটটি বৃহৎ রূপ পেলেও বর্তমান সদস্যরা তেহরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চাইবে না। ফলে জোট বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রতিপক্ষ ও পরস্পরবিরোধী স্বার্থের জটিলতাও তৈরি হবে।

মিসরও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জোটের প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন, সাংবিধানিক ও আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক অফির উইন্টারের মতে, চুক্তিটি কাদের লক্ষ্য করে গঠিত এবং এতে কী ধরনের সামরিক দায় তৈরি হবে, তা স্পষ্ট না থাকায় কায়রো দ্বিধায় রয়েছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে ১৯৭৯ সালের শান্তি চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মিসর সাংঘর্ষিক কোনো সামরিক চুক্তিতে জড়াতে পারে না। একইসঙ্গে গ্রিস, সাইপ্রাস, সৌদি আরব, আমিরাত ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তারা কোনো একক সামরিক জোটে ঢুকে ভারসাম্য নষ্ট করতে চায় না।

এদিকে তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটির ওপর কড়া নজর রাখছে ইসরায়েল। রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্ব, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি তাঁর সমর্থন এবং সিরিয়ার বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠতার কারণে এমন কোনো অক্ষ তৈরি হওয়াকে ইসরায়েল তাদের আব্রাহাম অ্যাকর্ডস কৌশলের বিপরীত বলে মনে করছে। বিপরীতে, এই জোটের মাধ্যমে পাকিস্তানের কৌশলগত প্রভাব দক্ষিণ এশিয়া পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আরও জোরালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ এমন একটি মধ্যম শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে, যারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম।

বিশ্বশক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই নিজ নিজ স্বার্থের জায়গা থেকে এই জোটকে মূল্যায়ন করছে। বেইজিং এটিকে বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৭ আগস্ট এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন চাইছে আঞ্চলিক অংশীদাররা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই নিক, তবে অস্ত্র বিক্রি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য যাতে অক্ষুণ্ন থাকে, সেই দিকটিও তারা সতর্কভাবে নিশ্চিত করছে।

(মূল প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মার্কিন গণমাধ্যম দ্য মিডিয়া লাইন। গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সংক্ষেপে অনুবাদ করা হয়েছে।)

পাঠকের মতামত: