তেল নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড! পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত ঠেকেছে শাহবাগের পাম্পের লাইন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ০৯:০২:৪৩
তেল নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড! পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত ঠেকেছে শাহবাগের পাম্পের লাইন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হতে পারে কিংবা দাম বাড়তে পারে—এমন এক গভীর আশঙ্কায় ভুগছেন প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল চালকরা। এই প্যানিক বা ভীতি থেকে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দিনরাত তেল কেনার হিড়িক পড়েছে। সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করায় পাম্পগুলোতে দ্রুত তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে তৈরি হয়েছে এক কৃত্রিম সংকট।

গতকাল রাজধানীর মিরপুর, ধানমন্ডি, শাহবাগ, বাংলামোটর ও প্রগতি সরণিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যানবাহনের নজিরবিহীন ভিড়। শাহবাগের মেঘনা পাম্পের লাইন গিয়ে ঠেকেছে পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত, যা প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ। পাম্প স্টেশন ছাড়িয়ে এই লাইন প্রধান সড়কে গিয়ে মিশেছে, যার ফলে পাম্পগুলোর আশপাশে প্রচণ্ড যানজট তৈরি হয়েছে। মিরপুর কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক আব্দুল রব জানান, সকালে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাননি, তাই দুপুরে আবার লাইনে দাঁড়িয়েছেন। অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় ‘সেবা বন্ধ’ রাখা হয়েছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেল নিতে গিয়ে অনেকের মধ্যে কথা কাটাকাটিসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হক বলেন, ‘আতঙ্কের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিয়েছেন। এতে অনেক পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে।’ রমনা পেট্রোল পাম্পের মালিক নাজমুল হক অভিযোগ করেন, দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটে তাঁর পাম্পের তেল শেষ হয়ে গেলে গ্রাহকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরীক্ষা করে দেখে যে সত্যিই পাম্পে তেল নেই। তিনি আরও জানান, শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিনে তেলবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে, যা সংকটের সময়ে শিথিল না করায় বিপাকে পড়েছেন পাম্প মালিকরা।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শনে যান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গতকাল তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আগামী ৯ মার্চ দেশে আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ আসছে।’ তবে তিনি স্বীকার করেন যে, যুদ্ধ কত দিন চলবে তা নিশ্চিত না হওয়ায় সরকার সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত আকারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। মন্ত্রী আরও জানান, কাতার থেকে এলএনজি আনার পাশাপাশি বিকল্প উৎস নিয়েও কাজ করছে সরকার।

বিপিসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, মোটরবাইক এবং প্রাইভেট গাড়ির মূল জ্বালানি পেট্রোল প্রায় পুরোটাই দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে পাওয়া যায়। এমনকি অকটেনের বড় একটি অংশও দেশীয়। ফলে ইরান যুদ্ধের কোনো প্রভাব এই সরবরাহে পড়বে না। পরিশোধিত তেল আমদানির উৎস হিসেবে চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী জুন মাস পর্যন্ত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে। ৫ মার্চ থেকে ছড়ানো গুজব এবং তেলের ট্যাংক পূর্ণ করার অসুস্থ প্রতিযোগিতাই বর্তমান বিড়ম্বনার মূল কারণ।


সাধারণ দর্শকের বেশে বেইলি রোডে প্রধানমন্ত্রী! সপরিবারে দেখলেন শিশুদের নাটক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ২২:১৩:০৫
সাধারণ দর্শকের বেশে বেইলি রোডে প্রধানমন্ত্রী! সপরিবারে দেখলেন শিশুদের নাটক
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর বেইলি রোডে এক সাধারণ দর্শকের বেশে সপরিবারে শিশুদের নাটক উপভোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তিনি বাংলাদেশ মহিলা সমিতি মিলনায়তনে গিয়ে ‘কবি চিতাবাঘ’ নামক একটি নাটক দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাদামাটা নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে পরিবার নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশ করেন। সাধারণ দর্শকদের মাঝেই তিনি আসন গ্রহণ করেন।

নিরাপত্তার কড়াকড়ি কম থাকায় এবং অত্যন্ত সাধারণ বেশে উপস্থিত হওয়ায় শুরুতে অনেক দর্শকই বুঝতে পারেননি যে দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পাশেই বসে নাটক দেখছেন। তবে নাটক চলাকালীন বিষয়টি জানাজানি হলে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক বিস্ময় ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

নাটক শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সপরিবারে মঞ্চে ওঠেন এবং শিশুশিল্পীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ছোট ছোট শিল্পীদের সাবলীল অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিশুদের আরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। দীর্ঘ সময় পর বেইলি রোডের নাট্যপাড়ায় দেশের সরকার প্রধানের এমন সাধারণ উপস্থিতি সংস্কৃতিমনা মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

/আশিক


১১ উপজেলায় একযোগে যাত্রা শুরু! কৃষক কার্ড নিয়ে বড় ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১৮:০৯:২৭
১১ উপজেলায় একযোগে যাত্রা শুরু! কৃষক কার্ড নিয়ে বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিনে দেশের কৃষি খাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এদিন সকালে টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের প্রি-পাইলট কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১১ আগস্ট) তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে জানানো হয়, এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের ১১টি উপজেলায় একযোগে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হবে। উপজেলাগুলো হলো—টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়ের বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী।

এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি সহায়তা প্রদান সহজতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে প্রকৃত কৃষকদের হাতে সুফল পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। টাঙ্গাইলের মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অন্য ১০টি উপজেলাতেও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

/আশিক


সড়কে রক্তক্ষয়ী মাস! লাশের মিছিলে যোগ হলো ৫৩২ প্রাণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১২:৪৭:০৫
সড়কে রক্তক্ষয়ী মাস! লাশের মিছিলে যোগ হলো ৫৩২ প্রাণ
ছবি : সংগৃহীত

দেশে গত এক মাসে সড়ক দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক মাসে সারাদেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ২২১ জন।

নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু রয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নয়টি জাতীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সড়কপথের পাশাপাশি একই সময়ে রেলপথের ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন এবং নৌপথের ১৪টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যেখানে ২০৪ জন চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন। এছাড়া তিন চাকার যানবাহনে ৯৪ জন, বাসে ৪৫ জন এবং প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৪৬ জন মারা গেছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে (২৬৪টি) এবং জাতীয় মহাসড়কে (১৭১টি)। দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২৩১টি এবং মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৬৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে; ১২৬টি দুর্ঘটনায় এখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৭ জন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক অসুস্থতা এবং সড়কের বেহাল দশাকে দায়ী করা হয়েছে। দুর্ঘটনার এই ঊর্ধ্বগতি রোধে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

/আশিক


যুদ্ধবিরতি হলেও কাটবে না জ্বালানিসংকট: ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১১:৪৩:১৪
যুদ্ধবিরতি হলেও কাটবে না জ্বালানিসংকট: ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নবম ভারত মহাসাগরীয় কনফারেন্সে (আইওসি) বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানিসংকট থেকেই যাবে। এই উত্তাল সময়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে সম্মিলিত সম্পদ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রচলিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধারণাগুলো বদলে যাচ্ছে, তাই প্রান্তিক ও পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এছাড়াও সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সাথে যুক্ত করতে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে (এসএমই) শক্তিশালী করতে একটি ‘সুপার সোর্সিং হাব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ড. খলিলুর রহমান আরও জানান, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে তরুণ উদ্যোক্তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র শিল্পগুলোকে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

/আশিক


বিল পাসের পর 'বুঝলাম না' বলা গ্রহণযোগ্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ২১:৩০:৫৯
বিল পাসের পর 'বুঝলাম না' বলা গ্রহণযোগ্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বিল পাস হওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের আপত্তির কড়া জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "বিল পাস হয়ে যাওয়ার পর যদি বলা হয় ‘আমি কিছু বুঝিলাম না’, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী কোনো বিলের ওপর আপত্তি দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় থাকে। তিনি বলেন, বিল উত্থাপনের সময় এবং সেকেন্ড রিডিং বা বিবেচনার সময়ই মূলত ভিন্নমতের সুযোগ থাকে। আইন প্রণয়নের পুরো প্রক্রিয়ায় বিরোধীদলের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মতামতের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিলগুলো একটি বিশেষ কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের উপস্থিতিতেই সর্বসম্মতিক্রমে পর্যালোচিত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু বিলে বিরোধীদল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়েছিল এবং স্পিকার সেই আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় দিয়েছেন। তাই কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত ও সংসদীয় প্রক্রিয়া মেনেই বিলগুলো পাস করা হয়েছে। হঠাৎ করে সব প্রক্রিয়ার শেষে এসে ‘বুঝতে পারিনি’ বলাটা সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

/আশিক


১৬ বছরের লুটপাটে ধ্বংসের মুখে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৮:৫১:৪২
১৬ বছরের লুটপাটে ধ্বংসের মুখে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বিগত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট এবং নীতিগত ব্যর্থতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বর্তমান অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা ও পরিসংখ্যানগত বৈপরীত্যগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে দেখান যে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি যেখানে ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশের মধ্যে ছিল, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২২ শতাংশে নেমেছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৭৩ শতাংশে।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথাকথিত উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্পগুলোতে অতিমূল্যায়ন ও লুটপাট চালানো হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে মাত্র ৩.৫১ শতাংশে নেমে আসায় কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী মুদ্রাবাজার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নাজুক অবস্থা তুলে ধরে জানান, ২০০৫-০৬ সালে প্রতি ডলারের মান ছিল ৬৭.২ টাকা, যা বর্তমানে ১২১ টাকায় পৌঁছেছে। টাকার এই রেকর্ড অবমূল্যায়নের ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৬.৫ শতাংশে নেমে আসা এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বছরের পর বছর ৮.২ শতাংশে স্থির থাকাকে তিনি অর্থনীতির স্থবিরতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, লুটপাটের মাধ্যমে লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে অকার্যকর করে দিয়েছে।

/আশিক


বিপাকে বাংলাদেশি জাহাজ: হরমুজ প্রণালিতে বাধা দিল ইরান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৮:২৭:২৪
বিপাকে বাংলাদেশি জাহাজ: হরমুজ প্রণালিতে বাধা দিল ইরান
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ । ছবি : সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়নি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করার পর জাহাজটিকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে পাঠানো হচ্ছে। বিএসসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশদ্বারে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী ইরান সরকারের কাছে অনুমতি চাওয়া হলে তারা তা নাকচ করে দেয়। বর্তমানে জাহাজটি প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং বিএসসি কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পুনরায় অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। নাবিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত জাহাজটিকে শারজা বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জাহাজে বর্তমানে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন এবং তারা সবাই নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে বিএসসি কর্তৃপক্ষ। নাবিকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৯:২১:২৮
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারানোর মুখে পড়ায় দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন না করায় মোট ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি সরাসরি বিল হিসেবে সংসদে আনা হচ্ছে এবং আরও ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। তবে বাকি ২০টির মধ্যে চারটি সরাসরি বাতিল এবং ১৬টি এখনই সংসদে উপস্থাপন না করায় নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে সেগুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকারিতা হারাবে।

বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিধান এবং বিচার বিভাগ-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাঠামোগত আইন অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব আইন বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট খাতে নীতিগত শূন্যতা তৈরি হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও সুশীল সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজধানীর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।

একই আলোচনায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের কঠোর সমালোচনা করেন আইনজীবী শিশির মনির। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে এবং এটি বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল এ বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আইন বাতিলের পেছনের যুক্তি জনসম্মুখে তুলে ধরা উচিত, যাতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি না থাকে। একই সঙ্গে নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এনসিপির নেত্রী সামান্তা শারমিন বলেন, এসব সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। একই দলের আরেক নেতা সরোয়ার তুষার গণভোটের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করে রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। অন্যদিকে এবি পার্টির নেতা ফুয়াদ মনে করেন, সংবিধানকে কেন্দ্র করে নতুন সংকট তৈরির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, অধ্যাদেশ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত এই ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত, এনসিপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির দূরত্বও বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

-রফিক


ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ১০ বছরের সাজা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৩:২১:৩৭
ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ১০ বছরের সাজা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বহুল আলোচিত অস্ত্র মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে, কারণ রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন। এই রায়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংগঠিত অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর আদাবর থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুরে র‌্যাব একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। সেখানে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যিনি পরে নিজের পরিচয় দেন ফয়সাল করিম মাসুদ হিসেবে।

পরবর্তীতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি বিদেশি পিস্তল এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাটি দায়ের করেন র‌্যাব-২ এর হাবিলদার মো. মশিউর রহমান।

অভিযোগে বলা হয়, ফয়সাল করিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এসব অপরাধ সংঘটনে তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটি তদন্ত করে আদাবর থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হাসান গত বছরের ২৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, এই আসামি গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। পরবর্তীতে তার জামিন বাতিল করা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান, যার ফলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এদিকে, ফয়সাল করিম মাসুদের নাম আরেকটি আলোচিত মামলাতেও উঠে আসে। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তদের একজন হিসেবে ফয়সালের নাম তদন্তে উঠে আসে।

পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে ফয়সালসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়।

-রফিক

পাঠকের মতামত: