প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মোদির নীরবতা ভঙ্গ: 'ত্রুটিহীন' নিয়োগ পরীক্ষার নির্দেশ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১৯:৪৪:৩৭
প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মোদির নীরবতা ভঙ্গ: 'ত্রুটিহীন' নিয়োগ পরীক্ষার নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে বহুল আলোচিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (NEET) সহ একাধিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে তুমুল যুব আন্দোলনের তোপের মুখে অবশেষে মুখ খুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টানা জনবিক্ষোভ ও শিক্ষার্থীদের রাজপথ দখলের প্রেক্ষাপটে ভারতের বিতর্কিত ও ভঙ্গুর নিয়োগ পরীক্ষাব্যবস্থায় জরুরি সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সাথে দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় একটি সম্পূর্ণ ‘ত্রুটিহীন’ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) জোটের আইনপ্রণেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে বলেন, ‘দেশের তরুণ ও ছাত্রসমাজের ভবিষ্যৎ যাতে কোনো অবস্থাতেই বিঘ্নিত বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে হবে।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদীয়বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু মোদির বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালের গত মে মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর থেকে পুরো ভারতে তোলপাড় শুরু হলেও এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির এটিই প্রথম প্রত্যক্ষ প্রকাশ্য মন্তব্য। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে সারা দেশে গড়ে ওঠা এই অভূতপূর্ব যুব বিক্ষোভ নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী যুবকরা কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে সংসদ ভবনের দিকে এক বিশাল পদযাত্রা ও মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের প্রধান ও একদফা দাবি ছিল—নজিরবিহীন এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ভার মাথায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আন্দোলনকারী সমন্বয়কদের অভিযোগ, সরকারের চরম অবহেলা ও প্রশ্নফাঁসের কারণে দেশে ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চয়তায় পড়েছে এবং হতাশা সহ্য করতে না পেরে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সোমবারের এই সংসদ ভবনমুখী মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নির্মম বলপ্রয়োগ করে। দিল্লি পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১৮ জন সদস্য এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারীসহ অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের পাল্টা দাবি, পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে অন্তত ১৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রয়টার্স অবশ্য সততার সাথে জানিয়েছে যে তারা স্বাধীনভাবে এই আহতদের সংখ্যার সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

জোটের বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর পাওয়ার পরপরই তাঁর সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি বরং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। এই চক্রের মূল হোতাসহ ইতোমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কমাতে অতি দ্রুত পুনঃপরীক্ষার সফল আয়োজন করে নির্ধারিত সময়ে রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একদম পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন—দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসকারী মূল অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য একটি আধুনিক, প্রযুক্তিভিত্তিক ও ত্রুটিহীন পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’

অন্যদিকে, পুলিশের মারমুখী আচরণের পরও পিছু হটছে না ভারতের ক্ষুব্ধ যুবসমাজ। আন্দোলনকারী নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের বিরুদ্ধে তাদের এই অহিংস প্রতিবাদ ও লড়াই অব্যাহত থাকবে, তবে কৌশলগত কারণে তারা আপাতত সংসদ ভবনের দিকে আর মিছিল করবেন না। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা অভিজিৎ দিপকে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা চাই না পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জে আর কোনো তরুণ বা ছাত্রী রক্তাক্ত হোক।’ এ সময় মিছিলের দিন নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যদের হাত তোলার নিন্দনীয় ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

বিতর্কিত এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ভারতে রাতারাতি গড়ে ওঠা তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা সিজেপি আন্দোলন গত কয়েক মাসে অভাবনীয় সাড়া ফেলেছে। দেশের কোটি কোটি বেকার তরুণের কর্মসংস্থান ও চাকরির চরম সংকট এবং বারবার সরকারি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্মের জমে থাকা তীব্র হতাশাই এই আন্দোলনকে গণবিস্ফোরণে রূপ দিয়েছে বলে মনে করছেন প্রবীণ ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এর পাশাপাশি, এই যুব আন্দোলনে ঘি ঢেলেছে ভারতের প্রখ্যাত সমাজকর্মী ও ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব সোনম ওয়াংচুকের সরাসরি সমর্থন ও অনশন কর্মসূচি। গত ২৮ জুন থেকে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আমরণ অনশন শুরু করা ওয়াংচুককে গত শনিবার দিল্লি পুলিশ জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিল্লি হাইকোর্ট এক নির্দেশে ওয়াংচুককে সরকারি হাসপাতাল থেকে একটি উন্নত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান তিনটি দাবির মধ্যে ওয়াংচুকের পূর্ণ মুক্তি অন্যতম।

আন্দোলনকারীদের অপর দুটি মূল দাবি হলো— ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করা প্রায় এক ডজন শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রত্যেককে ১ কোটি রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। সব মিলিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই অনাকাঙ্ক্ষিত কেলেঙ্কারি এখন কেবল একটি শিক্ষাগত সমস্যা নয়, বরং নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতি, তরুণদের ভবিষ্যৎ ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিয়ে ভারতের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়া দিল্লির ইতিবাচক পদক্ষেপ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১৯:৫২:৫৫
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়া দিল্লির ইতিবাচক পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকের পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ পাঠায় দিল্লি। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ বর্তমানে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় আগামী সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশন’-এ অংশগ্রহণের জন্য তাকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের মধ্যকার বৈঠককে গঠনমূলক ও ইতিবাচক অভিহিত করে জয়সওয়াল উল্লেখ করেন যে, আলোচনায় দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্রিকসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের প্রধানদের এই সম্মেলনে আমন্ত্রণের অংশ হিসেবেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেক সভাপতি হিসেবে তারেক রহমানকে এই আমন্ত্রণ জানান। গত ১৪ জুলাই ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তরিত হয়।

/আশিক


হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে ইট-পাথর নিক্ষেপ, প্রাণরক্ষার দাবি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৮:২৫:০৯
হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে ইট-পাথর নিক্ষেপ, প্রাণরক্ষার দাবি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার হালিশহর এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়লে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ইট ও পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, পুলিশের হেফাজতে মারা যাওয়া দলীয় এক কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে যাচ্ছিলেন তিনি।

হালিশহরে পৌঁছানোর পর বিক্ষোভকারীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে ধরে এবং ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় গাড়িতে কাদা ছোড়ার পাশাপাশি জুতা ও পানির বোতল নিক্ষেপ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মমতা বলেন, গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে ইট ও পাথরের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে মারাত্মক অঘটন ঘটতে পারত। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই বাইরে থেকে আসা কিছু সমাজবিরোধী উপাদান তাঁর গাড়িতে পাথর ছুড়েছে এবং পুলিশ তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাড়িতে থাকা তৃণমূলের লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, পুলিশের সহায়তায় বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি পরিচালনা করছেন।

তবে এই হামলার ঘটনায় দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তাঁদের দল এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নয়। একই সঙ্গে ঘটনাটির তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি


ভারত সরকারের আলটিমেটামের মুখে নতিস্বীকার, ভুল স্বীকার করল মেটা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২০:২৭:১৪
ভারত সরকারের আলটিমেটামের মুখে নতিস্বীকার, ভুল স্বীকার করল মেটা
ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট প্রচার ও অন্যান্য পরিচালনাগত ত্রুটির দায়ে ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। বুধবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করে।

সংবাদটির তথ্যমতে, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে মুছে দেয় মেটা। এই ঘটনার পরপরই মেটা কর্তৃপক্ষকে জরুরি তলব করে ভারত সরকার। সরকারের এই তলবের পেক্ষিতে মেটার একটি বৈশ্বিক প্রতিনিধি দল ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তাঁর মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে জাকারবার্গের ক্ষমা প্রার্থনার বার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

সূত্র থেকে জানা গেছে, উক্ত বৈঠকে মেটা প্রতিনিধি দলকে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কিছু কঠোর দিক মনে করিয়ে দেওয়া হয়। ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানায় যে, মেটা কেবল একটি 'মধ্যস্থতাকারী' (Intermediary) প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না, কারণ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কোন কনটেন্ট কে দেখবে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সেই কারণে তারা আইটি আইনের 'সেইফ হারবার' বা আইনি সুরক্ষার সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না।

আলোচনাকালে মেটার কর্মকর্তারা স্বীকার করেন যে, বেশ কিছু বিতর্কিত ও নির্দিষ্ট কনটেন্টের প্রচার বাড়াতে প্রমোশন বা বুস্টিংয়ের কাজে বিপুল অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বেআইনি ও অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট প্রচারে নিজেদের গাফিলতি ও ভুল প্রকাশ্যে মেনে নিয়েছে মেটা।

তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না, মেটার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরবর্তীতে পুনরায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তলব করা হবে বলে জানিয়েছে সূত্রের খবর। এর পূর্বে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও মুছে ফেলার ইস্যুতে জাকারবার্গকে তিন দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ভারত সরকার; এবং ওই সময়ের মধ্যে ক্ষমা চাওয়া অথবা দায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।

/আশিক


শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের আয়োজনে সম্পৃক্ততা নেই দিল্লির: রণধীর জয়সোয়াল

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ১৮:২১:০০
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের আয়োজনে সম্পৃক্ততা নেই দিল্লির: রণধীর জয়সোয়াল
ছবি : সংগৃহীত

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বেসরকারি সংগঠন ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া)-এর একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্য প্রদান প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, এই উদ্যোগটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব আয়োজন এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিল্লিতে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, উক্ত ফোরামে ব্যক্ত করা কোনো মতামত বা রাজনৈতিক বক্তব্যকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।

অন্যদিকে, একই দিনে সকালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছেন, বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের নির্দেশ মেনে কোনো দেশীয় গণমাধ্যম যেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার না করে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কোনো গণমাধ্যম যদি শেখ হাসিনার বক্তব্যের আগাম প্রচার বা পরবর্তীতে অডিও-ভিডিও সম্প্রচার করে, তবে তা আদালতের অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আরও যোগ করেন, বিচারালয়ের রায় বা নির্দেশনা কার্যকর রাখা প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কোনো পক্ষ যদি আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চান, তবে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে; তবে স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় তা অমান্য করার সুযোগ নেই।

/আশিক


প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে সহিংসতার পেছনে জামায়াত ও বিদেশি শক্তির হাত: শুভেন্দু অধিকারী

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২০:৩৫:১১
প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে সহিংসতার পেছনে জামায়াত ও বিদেশি শক্তির হাত: শুভেন্দু অধিকারী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলন ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর ইন্ধন ও সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বড় অংশই কোনো শিক্ষার্থী নন; বরং তারা জামায়াতপন্থি মৌলবাদী চক্রের সদস্য। এসব নাশকতাকারীর পেছনে কোনো প্রভাবশালী বিদেশি শক্তির সমর্থন বা অর্থায়ন ছিল কি না, তা দেশটির তদন্তকারী সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সহিংসতায় লিপ্ত হওয়া এই ব্যক্তিদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কোনোভাবেই শিক্ষার্থী নন, তারা মূলত জামায়াতি মৌলবাদী। তাদের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির প্রত্যক্ষ মদদ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।”

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিতর্কিত 'নিট' (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একপর্যায়ে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের পর সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের সদ্য প্রণীত কঠোর ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা রাজপথে এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও আজীবন মনে রাখবে।”

এর আগে বিধানসভার অধিবেশনেও তিনি দাবি করেছিলেন যে, সহিংস বিক্ষোভস্থল থেকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জন ব্যক্তির কেউই প্রকৃত শিক্ষার্থী নন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী মূল আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো যোগসূত্র নেই।

শুভেন্দু অধিকারীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনাবলী বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত আইন জোরদার করা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েই একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই সহিংসতা উসকে দিয়ে থাকতে পারে।

বিক্ষোভ চলাকালীন পেশাগত দায়িত্ব পালনরত এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করা হয়েছিল এবং এমনকি তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা চালানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান ছাত্র অসন্তোষের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের জোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এই প্রস্তাবিত আইনে পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতির দ্রুত বিচারের স্বার্থে প্রতিটি রাজ্যে ডেডিকেটেড ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ আদালত গঠন, নির্ধারিত দুই মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা এবং দোষীদের ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

সরকার পক্ষ জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে তরুণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেই এই আইনি সংশোধনী আনা হচ্ছে। তবে আন্দোলন পরিচালনাকারী দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শনিবার তাদের টানা ৩৬ দিনের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা প্রদান এবং তাদের অন্যান্য যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার কারণেই তারা আন্দোলন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া


শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর এবার দিল্লিতে সরকার পতনের ডাক

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ২১:৫১:৫৭
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর এবার দিল্লিতে সরকার পতনের ডাক
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে চলমান পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দেশটির নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার সময় এসে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বিক্ষোভের তোপের মুখে শনিবার (২৫ জুলাই) পদত্যাগপত্র জমা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

শনিবার সকালে নয়াদিল্লিতে ১০ জনপথের নিজস্ব বাসভবনে আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে কুশল বিনিময় ও বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সংবিধান, গণতন্ত্র ও নিজেদের ক্যারিয়ার সুরক্ষায় রাজপথে নামা সব তরুণ শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানান। রাহুলের মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাটি দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এক বিশাল সাফল্য।

শিক্ষামন্ত্রী সরে দাঁড়ালেও মূল আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি দাবি করে রাহুল গান্ধী জানান, তাদের প্রধান দুটি দাবি এখনো অপূরণীয়। প্রথমত, দেশটির সার্বিক ভবিষ্যৎ ও ছাত্রসমাজের সম্মানার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর যে ধরনের সহিংসতা চালানো হয়েছে, তাতে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমাজের অবহেলিত কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নবিত্তদের উদ্দেশে তিনি সংবিধানে দেওয়া অধিকারে অটল থাকার আহ্বান জানান এবং বর্তমান সরকারকে অপসারণের সময় এসেছে উল্লেখ করে কাউকে ভয় না পাওয়ার বার্তা দেন।

অন্য দিকে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে শনিবার এক্সে নিজের পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, দেশের কোটি তরুণের ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং যন্তর মন্তরের বিদ্যমান উত্তাল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠী যাতে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার পরদিনই পদত্যাগের এই ঘোষণা এল।

শিক্ষামন্ত্রীর বিদায়ের পর যন্তর মন্তরের প্রতিবাদী মঞ্চ থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানান সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনি শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তরুণদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা থেকেই এই গণআন্দোলনের সূচনা হয়। প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে স্পষ্ট করেছিলেন যে তার বক্তব্যটি ভুয়া আইনি ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ্যে ছিল এবং গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নজিরবিহীন ছাত্র অসন্তোষের জন্ম দেয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।


জয়ী ছাত্র আন্দোলন: যন্তর মন্তর ছেড়ে ঘরে ফেরার ডাক দিল সিজেপি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ১৯:৫১:৩৮
জয়ী ছাত্র আন্দোলন: যন্তর মন্তর ছেড়ে ঘরে ফেরার ডাক দিল সিজেপি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উত্থাপিত সমস্ত দাবি পরিশেষে মেনে নিয়েছে দেশটির সরকার। দাবি আদায়ের পর চলমান আন্দোলন স্থগিত করে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গৃহে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার তথ্যটি নিশ্চিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাংকা ঘোষণা করেন, তাদের সংগঠনের প্রতিটি দাবি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। ফলে বিদ্যমান বিক্ষোভ কর্মসূচির সমাপ্তি টেনে অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

আশুতোষ রাংকা আরও জানান, আন্দোলন স্থগিত হলেও তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আন্দোলনের এই সফলতায় যৌথ সংহতি জানিয়ে আন্দোলনকারীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্যতম শীর্ষ মুখ সোনম ওয়াংচুক। শুরু থেকেই যারা এই দাবি তুলে মাঠের লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, তাদের সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

অন্য এক বক্তব্যে আশুতোষ রাংকা জোর দিয়ে বলেন, সিজেপির উত্থাপিত শর্তগুলো কখনোই চরমপন্থী বা অযৌক্তিক ছিল না; বরং তা ছিল সাধারণ ও মৌলিক অধিকারের দাবি। সরকারের সব দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্তেই সেটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

/আশিক


শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও থামছে না সিজেপির আন্দোলন, বাকি ২ দাবি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ১৮:১৩:২৭
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও থামছে না সিজেপির আন্দোলন, বাকি ২ দাবি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেও নিজেদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রথম দাবিটি পূরণ হলেও বাকি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দিয়েছে দলটি। তথ্যটি নিশ্চিত করে সংবাদ প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি, যা ইতিমধ্যেই মেনে নিয়েছে সরকার। তবে তাদের তোলা বাকি দুটি মৌলিক দাবি এখনো অপূরণীয় রয়ে গেছে।

সিজেপির উত্থাপিত অপর দুটি দাবির মধ্যে প্রথমটি হলো—প্রশ্নফাঁসের জেরে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। দ্বিতীয় দাবিটি হলো—চলমান এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না।

দলটির নীতিনির্ধারকেরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অবশিষ্ট এই দাবি দুটি পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের ওপর তাদের সর্বাত্মক আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপ বহাল থাকবে। তাদের মতে, পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


১৪৪ ধারার অজুহাতে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২০:২৬:১৮
১৪৪ ধারার অজুহাতে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে দিল্লি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার অটোরিকশায় করে যন্তর মন্তরের কর্মসূচিস্থলে যাওয়ার পথে একদল শিক্ষার্থীকে গন্তব্য থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার আগেই থামিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের আর সামনের দিকে অগ্রসর হতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্নভাবে সাধারণ যাত্রীর মতো অটোতে করে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তবে কোনো কারণ ছাড়াই মাঝপথে তাদের পথ রোধ করে পুলিশ।

অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএনএসএস আইনের আওতায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতেই শিক্ষার্থীদের যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় চলমান বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সিজেপি এবং কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। তবে প্রতিবাদস্থলে বড় ধরনের জনসমাগম ঠেকানোর লক্ষ্যে দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টগুলোতে জোরদার করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সূত্র: দ্য হিন্দু

পাঠকের মতামত: