'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৭ ১৬:৫৬:৩৩
'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি- সংগৃহীত।

‘জুলাই সনদের’ প্রতিটি অক্ষর বর্তমান সরকারই বাস্তবায়ন করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সাথে তিনি বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলনকে শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 'প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টার' এই সভার আয়োজন করে।

বিরোধীদের রাজপথের হুমকির জবাব

স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিরোধী দলের সাম্প্রতিক আন্দোলনের হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "বিরোধী দল থেকে বলা হচ্ছে—'জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি, সংস্কার আদায় না হলে রাজপথে ফায়সালা হবে'। অথচ এই জুলাই সনদে আমরা সবাই একসাথেই স্বাক্ষর করেছি। যে দলগুলো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, তারা সবাই মিলেই এটি তৈরি করেছি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা বারবার বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব। কিন্তু বিরোধী দল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়। আমরা চাই না জুলাই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।"

গণভোট ও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দ্বিমত

সংবিধান ও নির্বাচনী সংস্কারের নানা বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। গণভোট ও উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "গণভোটের একটা অংশ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। বিশেষ করে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। অথচ এখন সেখানেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।"

সংস্কার কমিশনের কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আমাদের সম্মতি ছাড়াই সেদিন সংস্কার কমিশন যেভাবে বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসেছিল, তা নিয়ে আমি নিজেই স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম যে—এটি জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।"

'সংস্কার নয়, আমরা সংবিধান সংশোধন চাই'

দলীয় ইশতেহার ও জুলাই সনদের সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "জুলাই সনদের মূল বইটা পড়লে দেখা যাবে, সেখানে স্পষ্ট বলা আছে—যে ম্যানিফেস্টো (ইশতেহার) দিয়ে দলগুলো নির্বাচিত হবে, প্রতিটি দল তাদের সেই ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়ন করবে। আমরা আমাদের ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড, ঠিক তেমনিভাবে জুলাই সনদেও কমিটেড। কিন্তু সেটা আমরা আমাদের নিজস্ব রূপরেখা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে চাই। এখানে বিরোধীরা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।"

রাজনীতিতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সুযোগ নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "বিরোধী দলের অনেকে এখন বিভিন্ন মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দেশের জনগণ সবচেয়ে ভালো বোঝেন এবং তারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের যে ম্যানিফেস্টোকে জয়ী করেছে, সেই টু-থার্ড (দুই-তৃতীয়াংশ) মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।"

জুলাই আন্দোলন ১৮ বছরের লড়াইয়ের ফসল

জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, "জুলাইয়ের আন্দোলন হঠাৎ করে হওয়া কোনো আন্দোলন নয়। এটি হলো দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ বছর ধরে চলা নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ের একটি চূড়ান্ত পরিণতি।"

স্মরণসভায় মরহুম অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, "মরহুম এমাজউদ্দীন স্যার ছিলেন আমাদের লিবারেল ডেমোক্রেসির বাতিঘর। কোনো প্রাপ্তির আশা ছাড়াই তিনি আজীবন গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে পথ দেখিয়েছেন। ১৯৭১ ও ২০২৪-এর চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই হবে তার প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।"

স্মরণসভার অন্যান্য বক্তা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি ও আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আবুল কাশেম হায়দার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ মাসুম।


বৈশ্বিক এক মঞ্চে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন রূপরেখা তুলে ধরল ঢাকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ২০:৩৪:৩৮
বৈশ্বিক এক মঞ্চে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন রূপরেখা তুলে ধরল ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স-বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়া বা সিআইসিএ-এর সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির এই মঞ্চটিকে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংস্থায় রূপান্তর করার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অটল সমর্থনের কথা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সদস্যদেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও কার্যকর অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের পেশ করা প্রথম প্রস্তাবটি হলো ফলাফলভিত্তিক খাতওয়ারি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা এবং সেগুলোর নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করা। দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি বিভিন্ন অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে আরও বেশি পরিমাণে সরাসরি বা ফিজিক্যাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করার ওপর জোর দেন।

তার তৃতীয় প্রস্তাবে সদস্যদেশগুলোর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বা আইসিটি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও আদান-প্রদান জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে নতুন নতুন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য একটি নিরাপদ, উন্মুক্ত ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিসর গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট আস্থা তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের অন্য অংশে প্রতিমন্ত্রী সিআইসিএকে একটি সুস্পষ্ট আইনি মর্যাদা, শক্তিশালী ও কার্যকর সচিবালয়, নির্ভরযোগ্য আর্থিক উৎস এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযোগী শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত ব্যবস্থাসম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংস্থায় রূপান্তরিত করার পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থানের কথা জানান। উল্লেখ্য, ‘শক্তিশালী সিআইসিএ: এশিয়ায় সংযোগ, ডিজিটাল রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজারবাইজানের সভাপতিত্বে এবারের সপ্তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা এশিয়ার সাধারণ জনগণের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারকে সামনে নিয়ে এসেছে।

এদিকে শীর্ষ সম্মেলনের একটি বিশেষ পর্বে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল তাৎক্ষণিকভাবে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করে ওয়াকআউট করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও একযোগে এই বয়কট কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ইসরায়েলি নেতার বক্তব্য বর্জন করেন।

উল্লেখ্য, এশিয়া মহাদেশজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, নিরাপত্তা এবং সুদৃঢ় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য সামনে রেখে ১৯৯৯ সালে সিআইসিএ গঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে লাও পিডিআর নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ায় এই আঞ্চলিক সংস্থাটির মোট সদস্যদেশের সংখ্যা বর্তমানে বেড়ে ২৯টিতে পৌঁছেছে। এবারের সম্মেলনে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদের জন্য সিআইসিএর পরবর্তী সভাপতি হিসেবে আজারবাইজানের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে সংস্থাটির নতুন মহাসচিব হিসেবে সুলতান হাজিয়েভের নিয়োগও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

/আশিক


দেবিদ্বারে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক: তদন্তের দাবি ও বিএনপির বিক্ষোভ

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৯:২৫:১৫
দেবিদ্বারে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক: তদন্তের দাবি ও বিএনপির বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

​কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।​বিক্ষোভ সমাবেশ ও নেতাকর্মীদের অভিযোগ

সম্প্রতি দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেবিদ্বারের ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগে প্রচলিত নিয়মনীতি মানা হয়নি। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ জন ডিলারের মধ্যে অন্তত ১৩ জন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা তাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তারা।

​সমাবেশে ১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান (জিয়া) অভিযোগ করেন, তাঁর ইউনিয়নের ডিও লেটার অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।​এ সময় সমাবেশে বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সী, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী মাসুদ হাসান এবং দেবিদ্বার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাহজাহান মোল্লাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

​তদন্ত দাবি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

সার ডিলার নিয়োগের এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, কুমিল্লা বিভাগীয় কমিশনার, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা এবং কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হস্তক্ষেপ ও তদন্ত কামনা করেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​আলোচিত এই ডিলার নিয়োগ তালিকায় দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রিজভীউল আহসান মুন্সী ও সাইদুর রহমান লিটন, বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য. কুমিল্লা উত্তর জেলার সাবেক সদস্য সচিব এফ এম তারেক, বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন এবং সাবেক সদস্য সচিব কাজী মাসুদ কাজীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।​সংসদীয় কমিটির সদস্যের আশ্বাস

সার ও ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল জানিয়েছেন, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের কোনো তথ্য বা অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।​ইউএনওকে স্মারকলিপি প্রদান

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তাঁরা সার ডিলার নিয়োগে ওঠা অনিয়ম, অর্থের বিনিময়ে ডিও লেটার বিক্রির অভিযোগ এবং বিতর্কিত তালিকা নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

​কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি সার বিতরণব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটমুক্ত রাখতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নিয়োগ তালিকার নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় কৃষকরা।


ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা: জেনে নিন ৮টি বর্জনীয় শর্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৯:২১:২৪
ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা: জেনে নিন ৮টি বর্জনীয় শর্ত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই কোটি নারীকে পরিবারপ্রধান হিসেবে মাসিক নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে কর্মসূচির খসড়া এবং উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে। এই নীতিমালার আওতায় সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত বা বর্জনীয় বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে আট ধরনের পরিবার এ সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারের নির্ধারিত প্রক্সি মিনস টেস্ট বা পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করা সচ্ছল, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত কোনো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। একই সঙ্গে, পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান কিংবা এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হন, তবে তিনি এ সুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসরকালীন সুবিধা পেলেও ওই পরিবার এ সুবিধার বাইরে থাকবে, যদিও প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রাপ্ত বিশেষ পেনশনের ক্ষেত্রে এই নিয়মে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং সম্পত্তির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেও বেশ কিছু পরিবারকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্যের নামে সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে অথবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি স্থায়ী আমানত বা এফডিআর থাকলে তারা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। পাশাপাশি, পরিবারের যেকোনো সদস্যের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান—যেমন ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক বা সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার থাকলে পরিবারটি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। একইভাবে, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিকভাবে নিবন্ধিত হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে এবং নিয়মিত কর প্রদানকারী করযোগ্য আয়ের কেউ পরিবারে থাকলে তারা এ সুবিধা পাবেন না।

জমির মালিকানার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক পাঁচ শূন্য একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে না। এ ছাড়া পরিবারের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও এই সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।

আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ রাখতে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করতে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সরাসরি এপিআই সংযোগ ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। এছাড়া তথ্যে কোনো ধরনের অসংগতি দেখা দিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে আবেদন বাতিল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কেবল প্রকৃত ও প্রাপ্য অভাবী পরিবারগুলোই এই সহায়তা লাভ করতে পারে।

/আশিক


শেখ হাসিনা ও বেনজীর আহমেদের বিষয়ে যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম অব্যাহত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:৪৬:১৯
শেখ হাসিনা ও বেনজীর আহমেদের বিষয়ে যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম অব্যাহত
ছবি : সংগৃহীত

দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমে কোনো ধরনের ফাইল বা মামলা আটকে নেই এবং পুরো কার্যক্রম নিজস্ব গতিতেই পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ দেশের আলোচিত বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান ও মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুদকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির মহাপরিচালক।

ব্রিফিংয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৪১ দিনের ব্যবধানে কমিশন মোট ১২১টি নতুন মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ৬১টি মামলার অভিযোগপত্র বা চার্জশিটও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সারা দেশজুড়ে দুর্নীতি দমনে ৬১টি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। আদালতের মাধ্যমে মোট ৬৮টি নথির বিপরীতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং তা অবরুদ্ধ করার আইনি অনুমোদন পাওয়া গেছে। এমনকি আলোচিত দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২২ জন ব্যক্তির বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি।

সাংবাদিকরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, এসব উচ্চপর্যায়ের বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। যৌথ তদন্ত দল বা জেআইটির (JIT) মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগের সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধান ও আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং জেআইটির সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও সাক্ষ্যগ্রহণ করছেন। আইনের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই প্রতিটি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের সুনির্দিষ্ট কোনো বড় অগ্রগতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি জানান যে এ বিষয়ে একেকটি অনুসন্ধানের দায়িত্বে পৃথক কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছেন এবং তাঁদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তা পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

সাংবাদিকরা এ সময় প্রশ্ন তোলেন যে দুদক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলমান রাখবে, কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর যদি কেবল ‘কার্যক্রম চলমান’ হয় তবে মামলার সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয় না। এর জবাবে মহাপরিচালক মন্তব্য করেন যে বর্তমান কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের সময় খুব বেশি দিন হয়নি, সবেমাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় পার হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সংস্থাটি যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পন্ন করেছে, মূলত সেই পরিসংখ্যানই সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে এবং কমিশনের আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, বিদেশে পালিয়ে থাকা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমও চলমান। কেবল দুদক একা নয়, এর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও গভীরভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ঘটলেই তা গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

/আশিক


সিকা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:২৮:৪০
সিকা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল
ছবি : সংগৃহীত

আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়ার (সিকা) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে সম্মেলন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাকুতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল প্রতিবাদস্বরূপ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও এই ওয়াকআউটে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সম্পূর্ণ বয়কট করেন। উল্লেখ্য, এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক নিরাপত্তা এবং আস্থা বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে আজারবাইজানের রাজধানীতে বর্তমানে এই সপ্তম সিকা শীর্ষ সম্মেলনটি চলছে।

/আশিক


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠন সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:০৭:৫৯
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠন সরকারের
ছবি : সংগৃহীত

শের বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও আধুনিক ও উন্নত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। গত ১৩ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নবগঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সরকারের নিকট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বিমানবাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিটি প্রয়োজনে সভা করতে পারবে এবং প্রয়োজনবোধে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও তাদের রয়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে সার্বিক সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। দেশের বিমানবন্দরগুলোর বিদ্যমান নিরাপত্তার পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন করে তা আরও সুদৃঢ় করার রূপরেখা তৈরি করতেই মূলত এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

/আশিক


সৌদিগামী প্রবাসীদের জন্য বিকল্প যাত্রাপথের ব্যবস্থা করল বিমান কর্তৃপক্ষ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৭:৫৫:৫৩
সৌদিগামী প্রবাসীদের জন্য বিকল্প যাত্রাপথের ব্যবস্থা করল বিমান কর্তৃপক্ষ
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে দাম্মাম এবং রিয়াদগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সকল ফ্লাইট আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্মানিত যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্থগিত হওয়া এসব ফ্লাইটের পরবর্তী আপডেট ও নতুন সময়সূচি সম্পর্কে যথাসময়ে যাত্রীদের অবহিত করা হবে।

জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের যাতায়াত সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রীরা চাইলে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন এবং বাংলাদেশেও ফিরে আসতে পারবেন। বর্তমান পরিস্থিতি ও অতিরিক্ত চাহিদা বিবেচনা করে মদিনা রুটে ছোট উড়োজাহাজের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ সংযোজন করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিটি ফ্লাইটে ১৪৮টি আসন বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, জেদ্দা রুটেও অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। টিকিট পরিবর্তন ও ভ্রমণসংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

/আশিক


নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ২১:০৩:৫৪
নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী মাসে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর নেপালের হিমালয়া এয়ারলাইন্স সেখানে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে নেপালি পর্যটকদের সরাসরি বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের এই শহরে ভ্রমণের দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দুই দেশের মধ্যকার পর্যটন সহযোগিতায় এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি হিমালয়া এয়ারলাইন্সকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বৈঠকে নেপালি পক্ষ থেকেও ঢাকা-পোখারা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর বিষয়ে জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আকাশপথে যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় দুই দেশের পর্যটক বিনিময় বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং পর্যটন প্রসারে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। পরিশেষে, আকাশপথের এই যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের অংশীদারত্ব সুদৃঢ় হলে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।

/আশিক


সৌদি বিমানবন্দরে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৯:৫৮:০৬
সৌদি বিমানবন্দরে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাইল ছবি

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত ঢাকা থেকে মোট ১০০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, এই ফ্লাইটগুলোর মাধ্যমে ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী ভ্রমণের কথা ছিল। ফ্লাইট বাতিলের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা, যার মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া এই ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সাতটি রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে ফ্লাইট চলাচল করে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে। তবে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ সচল রয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প বিমানবন্দরের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হলেও তা সম্পূর্ণভাবে বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করছে। ফলে টিকিট পরিবর্তন করেও অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারছেন না। এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। তবে নতুন রুটে আসনসংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষের পথে, তাদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিমানের কোনো ফ্লাইটে আসন খালি না রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে মাঝে মাঝে ওভারবুকিংয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে। বিমান সংশ্লিষ্টরা জানান, ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পরও কয়েকজন যাত্রীকে ফিরিয়ে আনার ঘটনা ঘটেছে, তবে পরবর্তীতে তাদের আবার সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগের থেকেই এসব রুটে যাত্রীদের বুকিং থাকায় বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের নতুন আসন বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা কাটানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: