'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৭ ১৬:৫৬:৩৩
'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি- সংগৃহীত।

‘জুলাই সনদের’ প্রতিটি অক্ষর বর্তমান সরকারই বাস্তবায়ন করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সাথে তিনি বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলনকে শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 'প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টার' এই সভার আয়োজন করে।

বিরোধীদের রাজপথের হুমকির জবাব

স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিরোধী দলের সাম্প্রতিক আন্দোলনের হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "বিরোধী দল থেকে বলা হচ্ছে—'জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি, সংস্কার আদায় না হলে রাজপথে ফায়সালা হবে'। অথচ এই জুলাই সনদে আমরা সবাই একসাথেই স্বাক্ষর করেছি। যে দলগুলো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, তারা সবাই মিলেই এটি তৈরি করেছি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা বারবার বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব। কিন্তু বিরোধী দল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়। আমরা চাই না জুলাই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।"

গণভোট ও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দ্বিমত

সংবিধান ও নির্বাচনী সংস্কারের নানা বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। গণভোট ও উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "গণভোটের একটা অংশ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। বিশেষ করে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। অথচ এখন সেখানেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।"

সংস্কার কমিশনের কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আমাদের সম্মতি ছাড়াই সেদিন সংস্কার কমিশন যেভাবে বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসেছিল, তা নিয়ে আমি নিজেই স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম যে—এটি জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।"

'সংস্কার নয়, আমরা সংবিধান সংশোধন চাই'

দলীয় ইশতেহার ও জুলাই সনদের সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "জুলাই সনদের মূল বইটা পড়লে দেখা যাবে, সেখানে স্পষ্ট বলা আছে—যে ম্যানিফেস্টো (ইশতেহার) দিয়ে দলগুলো নির্বাচিত হবে, প্রতিটি দল তাদের সেই ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়ন করবে। আমরা আমাদের ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড, ঠিক তেমনিভাবে জুলাই সনদেও কমিটেড। কিন্তু সেটা আমরা আমাদের নিজস্ব রূপরেখা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে চাই। এখানে বিরোধীরা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।"

রাজনীতিতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সুযোগ নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "বিরোধী দলের অনেকে এখন বিভিন্ন মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দেশের জনগণ সবচেয়ে ভালো বোঝেন এবং তারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের যে ম্যানিফেস্টোকে জয়ী করেছে, সেই টু-থার্ড (দুই-তৃতীয়াংশ) মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।"

জুলাই আন্দোলন ১৮ বছরের লড়াইয়ের ফসল

জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, "জুলাইয়ের আন্দোলন হঠাৎ করে হওয়া কোনো আন্দোলন নয়। এটি হলো দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ বছর ধরে চলা নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ের একটি চূড়ান্ত পরিণতি।"

স্মরণসভায় মরহুম অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, "মরহুম এমাজউদ্দীন স্যার ছিলেন আমাদের লিবারেল ডেমোক্রেসির বাতিঘর। কোনো প্রাপ্তির আশা ছাড়াই তিনি আজীবন গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে পথ দেখিয়েছেন। ১৯৭১ ও ২০২৪-এর চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই হবে তার প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।"

স্মরণসভার অন্যান্য বক্তা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি ও আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আবুল কাশেম হায়দার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ মাসুম।


দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৯:০৭:১২
দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নতুন এই বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত রূপরেখা সম্পর্কে জানাতে কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেস ব্রিফিংয়ে আসছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত নতুন পে-স্কেলে গ্রেড-১-এর সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সার্বিকভাবে নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত মূল বেতন ও ভাতাসমূহ মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আরও ৩৫ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে; পাশাপাশি ভাতাসমূহ একই অর্থবছরের জানুয়ারিতে কার্যকর করার সুপারিশ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এখন পে-স্কেল কার্যকরের প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, যার গেজেট প্রকাশে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে সরকারি কর্মচারীরা আগামী অক্টোবর থেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন উত্তোলন করতে পারবেন। তবে পে-স্কেলটি ১ জুলাই থেকেই ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর ধরা হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া বেতন পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

উল্লেখ্য, অষ্টম পে কমিশন গঠনের দীর্ঘ এক দশক পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই আজ এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেল। এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

/আশিক


একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৮:২৫:০৭
একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
ছবি : সংগৃহীত

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকেরা তাঁদের হিসাবে জমা থাকা সম্পূর্ণ মূল অর্থ এককালীন উত্তোলন বা নগদায়ন করার সুযোগ পাবেন; তবে এ ক্ষেত্রে জমা অর্থের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। আমানত উত্তোলনের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলোতে আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু হবে।

ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অপারেশনসের প্রধান সমন্বয়ক এ এফ সাব্বির আহমদ স্বাক্ষরিত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে সব বিভাগীয় প্রধান, জোনাল প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাভাবিক লেনদেন চালুর কথা থাকলেও শাখাগুলোতে নগদ অর্থের চাহিদা নিরূপণ, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ ক্যাশ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত কয়েক দিন সময় প্রয়োজন। ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ ফেরতের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আল-ওয়াদিয়া চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং বিভিন্ন মেয়াদি আমানত প্রকল্প—যেমন এমটিডিআর ও ডিপিএস গ্রাহকেরা তাঁদের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে যেসব আমানতকারী হিসাব বন্ধ না করে বহাল রাখবেন, তাঁরা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে নিয়মিত মুনাফা পেতে থাকবেন এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ অবাধে লেনদেনের সুযোগ পাবেন।

আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ১ সেপ্টেম্বরকে বিশেষ দিবস হিসেবে উদযাপনের নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিন শাখাগুলো দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো, কর্মকর্তাদের নির্ধারিত পোশাকে উপস্থিতি, গ্রাহকদের ফুল বা উপহার দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো এবং জ্যেষ্ঠ নাগরিক, নারী ও প্রতিবন্ধী গ্রাহকদের অগ্রাধিকারমূলক সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আর্থিক সংকট ও অনিয়মের মুখে পড়া এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। ব্যাংকটিতে বর্তমানে ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে, যার মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী আমানত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। একীভূত এই ব্যাংকগুলোর ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশই খেলাপি এবং মূলধন ঘাটতি দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি। সরকারি মালিকানাধীন এই ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা; যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

/আশিক


কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ দ্রুত চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন ঐকমত্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ২১:২৯:৫৪
কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ দ্রুত চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন ঐকমত্য
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে ‘কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ’ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে ‘কৌশলগত সংলাপ’ দ্রুততম সময়ে শুরুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব দ্বিপক্ষীয় বিষয় উঠে আসে বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের এক ‘বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বেইজিংয়ের ‘এক চীন নীতি’র প্রতি ঢাকার অবিচল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার হওয়া এবং তা ‘অংশীদারিত্বমূলক ভবিষ্যতের লক্ষ্যে চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং দেশটির নির্বাহী উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেন।

সাক্ষাৎকালে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ শুরু, বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানি প্রক্রিয়া চালু, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং রোহিঙ্গা সংকট টেকসইভাবে সমাধানে যৌথ সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলোআপ হিসেবে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের অগ্রগতি প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, ‘চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে; এর পাশাপাশি মোংলায় একটি নতুন ইপিজেড প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও অগ্রগতি হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে অন্তত ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে, যা স্থানীয়ভাবে প্রায় ১ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

এছাড়া আসন্ন দিনগুলোতে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিআইডিসিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগের মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ডেপুটি গভর্নরের মতো উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীকে জানান রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে আগামী অক্টোবর মাসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান ইয়াও ওয়েন।

সূত্র: বাসস


তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:২৯:১১
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন চীনা রাষ্ট্রদূত। বিকেলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ বৈঠকের বিস্তারিত নিশ্চিত করেন। সাক্ষাৎকালে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণও জানান ইয়াও ওয়েন।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল ও বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অগ্রগতির সারসংক্ষেপ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন চীনের রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের ধারাবাহিকতায় ‘চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদন এবং মোংলায় নতুন এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি এ সময় আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আশা প্রকাশ করেন, অন্তত ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার নতুন বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশে প্রায় ১ লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া আলোচনা সভায় তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ চালু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘টু প্লাস টু’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরুর উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন, দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং রোহিঙ্গা সংকট টেকসইভাবে সমাধানে যৌথ সহযোগিতার নানা দিক উঠে আসে। এ সময় অতীতে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চীন সফরের স্মৃতিচারণ করেন রাষ্ট্রদূত। উভয় পক্ষই আগামী দিনগুলোতে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

/আশিক


বিগত ১৬ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি চায় রাষ্ট্র

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:১৫:০৩
বিগত ১৬ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি চায় রাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত

স্বজন হারানোর শোক হয়তো সময়ের ব্যবধানে অশ্রুর মাধ্যমে কিছুটা হালকা হয়, কিন্তু একজন প্রিয় মানুষ বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—তা না জেনে অন্তহীন অপেক্ষার প্রহর গোনার চেয়ে বড় কোনো যন্ত্রণা হতে পারে না।

এই দীর্ঘ অপেক্ষা একদিকে যেমন গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করে, অন্যদিকে তা পরিবারগুলোর জন্য এক অনিশ্চিত ও দুর্বিষহ জীবনের নামান্তর। ৩০ আগস্টের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসটি কেবল বলপূর্বক অন্তর্ধানের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করার উপলক্ষ নয়; এটি সেইসব অশ্রুসিক্ত মা, অপেক্ষমাণ স্ত্রী, পিতৃহারা সন্তান এবং অন্ধকার দূর করার লড়াইয়ে থাকা পরিবারগুলোর নীরব আর্তনাদকে উপলব্ধি করার দিন।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারের মাধ্যমে গুমের সংস্কৃতি নিয়মিত ঘটনায় রূপ নিয়েছিল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুমের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে।

কমিশনের কাছে জমা পড়া ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৮৭টি ঘটনা ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ বা নিখোঁজের পর নিহত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাস্তবতার নিরিখে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত দৈনিক সমকালের তথ্য অনুযায়ী, বিগত শাসনামলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৩১২ জন নেতাকর্মী বলপূর্বক গুমের শিকার হন, যাঁদের মধ্যে ১০৭ জন আর কখনোই ফিরে আসেননি এবং ধারণা করা হয় যে তাঁদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতেই হত্যা করা হয়েছে।

তদন্ত কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নথিভুক্ত ১ হাজার ৫৬৪টি গুমের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১৫টি ঘটনা ঘটেছিল ২০১৬ সালে। এ ছাড়া ২০১৭ সালে ১৯৪টি, ২০১৮ সালে ১৯২টি, ২০১৯ সালে ১১৮টি, ২০২২ সালে ১১০টি এবং ২০২৩ সালে ৬৫টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়।

প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দেখায় যে, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুমের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে যেত; যার প্রমাণ মেলে রাজনৈতিক পরিচয় চিহ্নিত হওয়া ৯৪৮ জনের তালিকায়, যেখানে এখনো নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীর সংখ্যাই প্রায় ৬৮ শতাংশ।

২০১২ সালে নিখোঁজ হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর পরিবারের মতো শত শত পরিবারের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, তৎকালীন সরকার কীভাবে আশ্বাসের নামে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে স্বজনদের বিভ্রান্ত রেখেছিল। একটি পরিবারের কাছে প্রিয়জনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট খবর পেলেও অন্তত শোক প্রকাশের সুযোগ থাকে, কিন্তু নিখোঁজের অনিশ্চয়তা পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত নতুন করে মৃত্যুর সমান মানসিক যন্ত্রণা দেয়।

ভুক্তভোগীদের এই দীর্ঘ বঞ্চনার প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর যৌথ আয়োজনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্বজনদের হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণা শুনে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বাবার হাত ধরে বিদ্যালয়ে না যেতে পারা কিংবা মাত্র দুই মাস বয়সে পিতৃহারা হয়ে জীবনে একবারের জন্যও ‘বাবা’ ডাকতে না পারার মতো সন্তানদের কান্না দেশের সম্মিলিত বিবেককে নাড়া দেয়।

প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং শেখ হাসিনাসহ অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে আবারও এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। তবে এই বিচার কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের মাধ্যমে নয়, বরং কঠোর আইনি প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতেই সম্পন্ন হতে হবে।

অতীতের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং স্থায়ী মানবাধিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে। এই আইনের মাধ্যমে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, জামিন-অযোগ্য, আমলযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে, যাতে রাষ্ট্রযন্ত্র বা যেকোনো বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ চিরতরে রুদ্ধ হয়।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত অঙ্গীকার হওয়া উচিত—কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে যেন আর কাউকে বলপূর্বক নিখোঁজ হতে না হয় এবং প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার যেন দ্রুততম সময়ে সত্য, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার লাভ করে।

/আশিক


ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন কারা, প্রকাশ পেল অযোগ্যতার তালিকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:০৮:৪৮
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন কারা, প্রকাশ পেল অযোগ্যতার তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

দরিদ্র, অতিদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করেছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এই সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে ইতিপূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমকে সারা দেশে বৃহৎ পরিসরে পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা হলো। নতুন এই কাঠামোর অধীনে দেশের প্রায় দুই কোটি নারী পরিবার প্রধানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ‘জিটুপি’ (গভর্নমেন্ট টু পারসন) ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাসিক নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নিম্নবিত্ত পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণে ধারাবাহিক সহায়তা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই ধারণাকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মসূচিটি সাজানো হয়েছে।

এ লক্ষ্যে প্রতিটি পরিবারকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডেটাবেজের আওতায় আনতে ‘ওয়ান-আইডি’ ব্যবস্থাকে মূল ভিত্তি ধরা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং অনুমোদিত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনে তা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

তবে নগদ আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালায় একটি সুনির্দিষ্ট ‘নেগেটিভ লিস্ট’ বা অযোগ্যতার তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার অধীনে আট ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি বা পরিবার এই সুবিধার বাইরে থাকবে।

প্রথমত, সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি স্কোরপ্রাপ্ত পরিবারগুলো এ সুবিধা পাবে না।

দ্বিতীয়ত, পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে অথবা এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলে তিনি বিবেচিত হবেন না।

তৃতীয়ত, নারী প্রধান যদি নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসর সুবিধা ভোগ করেন, তবে তিনিও বাদ পড়বেন; যদিও প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল থাকবে।

চতুর্থত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ অথবা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয় বা মেয়াদি আমানত থাকলে সেই পরিবার অযোগ্য বলে গণ্য হবে।

পঞ্চমত, পরিবারের যেকোনো সদস্যের মালিকানায় সিএনজি, পেট্রোলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, কার, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক, লরি কিংবা কাভার্ড ভ্যানের মতো বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে কার্ড দেওয়া হবে না।

ষষ্ঠত, কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অথবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হালনাগাদ লাইসেন্সযুক্ত ব্যবসা থাকলে সুবিধা মিলবে না।

সপ্তমত, পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত আয়করদাতা হলে এবং তাঁর করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি সুবিধার বাইরে থাকবে।

অষ্টমত, বসতভিটাসহ মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে অথবা পাঁচ লাখ টাকার বেশি বাজারমূল্যের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির মালিকানা থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, একই সঙ্গে একাধিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য মনোনীত নারী প্রধান একই সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সমজাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন না।

ফলে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিডব্লিউবি কার্যক্রম কিংবা বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো নগদ সুবিধা ভোগকারী নারী প্রধানদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে আগের সুবিধাগুলো স্থগিত বা বাতিল করা হবে। তবে মনোনীত নারী প্রধান ছাড়া সংশ্লিষ্ট পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রচলিত নিয়মে অন্যান্য সরকারি ভাতা গ্রহণের সুবিধা বহাল রাখতে পারবেন।

/আশিক


আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় দায়িত্বের মুখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৮:২৫:২৬
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় দায়িত্বের মুখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করবেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজের ধারাবাহিকতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন রাখতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির তাঁর নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও সার্বিক প্রশাসনিক ও নীতিগত বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করবেন। রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক পরিপত্রে এই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ অনুযায়ী দুই প্রতিমন্ত্রীর কাছে অর্পিত নির্দিষ্ট দায়িত্বাবলির বাইরেও হুমায়ুন কবির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। মূলত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়ে যাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং দেশের বৈদেশিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেজন্যই এ আগাম প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ড. খলিলুর রহমান।

এর আগে গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালট ভোটে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে ৯৯-৯১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য তিনি এই বৈশ্বিক দায়িত্বে নিযুক্ত থাকবেন। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তাঁকে দীর্ঘ সময় নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করতে হবে। বাংলাদেশ ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই মর্যাদাপূর্ণ নেতৃত্বের পদ অর্জন করল।

উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট মন্ত্রিসভার রদবদলে হুমায়ুন কবিরকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয় এবং শামা ওবায়েদ ইসলামও নিজ পদে বহাল থাকেন। পরবর্তীতে ২৩ আগস্টের পরিপত্রে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ের কর্মবণ্টন চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সেই রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক, প্রবাসী বা অনাবাসী বাংলাদেশি সংক্রান্ত বিষয়াবলি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশিত অন্যান্য খাত দেখভালের পাশাপাশি তাঁর অনুপস্থিতিতে সার্বিক কার্যক্রমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলামের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, সমুদ্র আইন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো।

/আশিক


বিএনপি কাউকে গুম করেনি, ভবিষ্যতেও কাউকে করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৮:১৭:১৮
বিএনপি কাউকে গুম করেনি, ভবিষ্যতেও কাউকে করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কারও গুম হওয়ার সুযোগ দেবে না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বিদ্যমান গুমবিরোধী আইনকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশে মৌলিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত একের পর এক গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা বা অনুতাপ নেই। উল্টো জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক চরম লজ্জাজনক বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষ আজ শেখ হাসিনার অপশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এবং অপরাধের দায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে।

অতীতের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে একসময় জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছিলেন; ফলে ভুক্তভোগী হিসেবে গুমবিরোধী কোনো আইন দুর্বল হোক—তা তিনি কখনোই চাইতে পারেন না। বিএনপি সরকার অতীতে যেমন কাউকে গুমের মুখে ঠেলে দেয়নি, তেমনি ভবিষ্যতেও কাউকে এ ধরনের অপরাধের শিকার হতে দেবে না। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা আদালতে মামলা করলে সরকার তাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সব ধরনের সহায়তা দেবে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন ও বিরোধী দলের সংসদ কক্ষ ত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওয়াকআউট কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী প্রতিটি বিষয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। কোনো বিষয় না শুনে বা নিজের বক্তব্য তুলে না ধরে এভাবে ওয়াকআউট করলে জাতি তাদের মূল্যবান মতামত জানা থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়া জুলাই সনদের আলোকেই দেশের সংবিধান সংশোধন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি ধারার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

/আশিক


জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২১:২৩:১৫
জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মূল কারণ বিগত ১৭ বছরের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর উত্তরাধিকার এবং মাত্রাতিরিক্ত আমদানিনির্ভর নীতি—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, বিদ্যমান জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কাটিয়ে সৌরসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ঘটানো এবং সাধারণ গ্রাহকদের শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদকে রূপান্তর করার সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন ফাউন্ডেশনগুলোর ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবার কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগকে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ এবং সমৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন—এই তিন ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যার অধীনে ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের নানা লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, সরকারের উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফাউন্ডেশনগুলো পাঁচটি ক্লাস্টারে ভাগ হয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে প্রথম সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফাউন্ডেশনগুলোকে। বিগত সরকারের ত্রুটিপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কারণে দারিদ্র্য ৮০ লাখ থেকে এক কোটি পর্যন্ত বেড়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সমন্বিত পরিকল্পনায় তেমন ব্যর্থতার সুযোগ থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহকদের উৎপাদকে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে বাজেটে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো ২০ শয্যা এবং পরবর্তীতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর আর কোনো সম্প্রসারণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চতুর্থ পদক্ষেপ হিসেবে আজীবন মেয়াদি সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরে ড. তিতুমীর জানান, এর আওতায় দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সরাসরি অধিকারভোগী হিসেবে নিবন্ধিত করা হবে এবং এ খাতের বিকল্প অর্থায়নে জাকাতের তহবিলকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চম বিষয় হিসেবে বাস্তবায়নের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। ফাউন্ডেশনগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসব দায়িত্ব গ্রহণে অঙ্গীকার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর জানান, সরকার ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তুলতে চায়। আগামী পাঁচ বছরে ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনগুলো ইতোমধ্যে ২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া গত ছয় মাসে ঝুলে থাকা ৩০০টির বেশি নেট-মিটারিং আবেদন নিষ্পত্তি করে জাতীয় গ্রিডে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে বাজেটে বরাদ্দকৃত দুই হাজার কোটি টাকা আইডকল এবং বিআইএফএফএলের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে, যেখানে উৎপাদককে ২০ শতাংশ ও পিকেএসএফের সহযোগী এনজিওর মতো কোনো অ্যাগ্রিগেটরকে ২০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে এবং সরকার ৬০ শতাংশ ঋণ সহায়তা দেবে। এতে ঋণের সুদের হার কমে ৬ থেকে ৭ শতাংশে নেমে আসবে। তুলনামূলক ব্যয় বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, যেখানে দেশীয় গ্যাসে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ৪ থেকে ৫ টাকা, সেখানে এলএনজি দিয়ে উৎপাদনে খরচ দাঁড়ায় ৬৪ টাকা; ফলে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়লে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির সাশ্রয় হবে।

শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাঁচ বছরের করকাঠামোর ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ ও দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা, অর্থায়নের উৎস, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ—বিনিয়োগকারীদের এই পাঁচটি প্রধান চাহিদাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করেছে, যার আওতায় ৪০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই ঋণ বিতরণ শুরু হবে এবং ঋণের সুদের পার্থক্যজনিত ব্যয় বহন করবে অর্থ বিভাগ।

২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির অভীষ্ট লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

/আশিক

পাঠকের মতামত: