ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসে জল ঢেলে দিল ইরান: ৬ মাস যুদ্ধের নতুন ছক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে ইরান তাদের সক্ষমতা নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শক্তি ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, বর্তমান আকার ও তীব্রতার যুদ্ধ ইরান অন্তত আরও ছয় মাস চালিয়ে যেতে পুরোপুরি সক্ষম। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনির এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। নাইনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যুদ্ধের বর্তমান যে মাত্রা রয়েছে, তা মোকাবিলা করার মতো রসদ ও শক্তিমত্তা তেহরানের ভাণ্ডারে ‘অন্তত’ আগামী আধা বছরের জন্য মজুদ রয়েছে।
ইরানি মুখপাত্রের এই দাবিটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি চিত্র তুলে ধরেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত কয়েক দিন ধরে বারবার দাবি করে আসছেন যে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সামরিক অভিযানগুলো অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে এবং তেহরানের কোমর ভেঙে গেছে। চলতি সপ্তাহেই এক বক্তব্যে ট্রাম্প দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন যে, তারা এই যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করছেন এবং ইরানের তথাকথিত ‘শয়তানি সাম্রাজ্য’ তারা প্রায় গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন দাবির পর আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই পাল্টা যুদ্ধের সক্ষমতার ঘোষণা দেওয়া হলো।
উল্লেখ্য যে, আইআরজিসি কেবল ইরানের একটি সাধারণ সামরিক বাহিনী নয়, বরং এটি দেশটির অন্যতম শক্তিশালী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠান। সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি ইরানের শিক্ষা, অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বাহিনীর বিশাল নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব রয়েছে। ফলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে যখন যুদ্ধের মেয়াদ নিয়ে এমন সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়, তখন তা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসের বিপরীতে ইরানের এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও প্রলম্বিত ও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা প্রতিবেশী তিনটি দেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সাঁড়াশি অভিযানে মোট ২২০ জন মার্কিন সৈন্য ও কমান্ডার হতাহত হয়েছেন। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি শনিবার এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের এই মরণপণ হামলায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি হামলার বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী ‘ফিফথ ফ্লিট’-এ চালানো ইরানি হামলায় অন্তত ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল ধাফরা’ বিমানঘাঁটিতে চালানো আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলে তেহরান দাবি করছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরের উত্তর অংশে চলাচলকারী যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজকেও ইরান তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং সেখানে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত নিয়ে ইরান বলছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তাদের ওপর নতুন করে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এর প্রায় আট মাস আগেও উসকানিমূলকভাবে তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল এই জোট। তেহরানের ভাষ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ইসলামি বিপ্লবের পরম নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, শত শত নিরীহ বেসামরিক নাগরিক এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার নিহত হন।
এই শোকাবহ ঘটনার দ্রুত প্রতিশোধ নিতেই ইরান বর্তমানে ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই আক্রমণগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে এবং যেসব দেশে এসব মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি ইরানের পূর্ণ সম্মান রয়েছে।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: এবার ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানল ইরান
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, হামলার সময় ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং এর পরপরই সেখানে ব্যাপক বিমান বিধ্বংসী গোলাবর্ষণ শুরু হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনগুলোকে আকাশেই প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল যার ফলে এই গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এই ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ কিংবা ইরাকি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শনিবার রাতে তারা উত্তর ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিরিয়াত শমোনা লক্ষ্য করে বেশ কিছু রকেট নিক্ষেপ করেছে।
স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় এই রকেট হামলা চালানো হয়। এর আগে একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকেও তারা ওই শহরটিকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু ড্রোন হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে। মূলত ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সমন্বিত ড্রোন ও রকেট হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে।
সূত্র: ইরাকি নিউজ
আমরা বিশ্বের উপকার করছি! ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত দাবি
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে ‘বিশ্বের জন্য এক মহান সেবা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পুরো পৃথিবীর উপকার করেছে। ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের অগ্রগতিকে ‘অসাধারণ সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এই অভিযানের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, কার্যকারিতার দিক থেকে ১০-এর স্কেলে এই অভিযানের মান হবে '১৫'। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ের সুনির্দিষ্ট হামলাগুলোতে ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তেহরানের সামরিক মেরুদণ্ড বর্তমানে কার্যত ভেঙে পড়েছে।
অভিযানে নিহত ইরানের শীর্ষ নেতাদের ‘অসুস্থ মানুষ’ (Sick People) বলে কটাক্ষ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এই অভিযান কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে।
/আশিক
আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত; মার্কিন সেনাদের বড় বিপর্যয়
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর প্রলয়ঙ্করী আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি। ইরানের শক্তিশালী খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার এই প্রতিশোধমূলক হামলায় অন্তত ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। শনিবার এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে দপ্তরটি।
বিবৃতিতে জানানো হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘আল ধাফরা’ বিমানঘাঁটিতে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। এছাড়া বাহরাইনভিত্তিক মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ফিফথ ফ্লিট’-এ চালানো নিখুঁত হামলায় অন্তত ২১ জন সেনা নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে ইরান। এই হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও সরঞ্জামেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। ইরানের জেনারেল স্টাফের অধীনে পরিচালিত এই কেন্দ্রীয় কমান্ডটি মূলত বিভিন্ন বাহিনীর যৌথ অভিযানের সমন্বয় করে থাকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহতের পর থেকেই ইরান এই মরণপণ পাল্টা আঘাত শুরু করেছে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন সেনাদের জন্য এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান।
সূত্র: তাসনিম নিউজে এজেন্সি
খামেনি পরবর্তী ইরানের হাল ধরবেন কে? দ্রুত ঘোষণার দাবি শীর্ষ দুই আয়াতুল্লাহর
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর শূন্যতা পূরণে দ্রুত নতুন উত্তরসূরি ঘোষণার তাগিদ দিয়েছেন দেশটির দুই প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা। আজ শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অস্থিতিশীলতা এড়াতে শীর্ষ ধর্মীয় গুরু আয়াতুল্লাহ হুসেইন নুরি হামেদানি এবং আয়াতুল্লাহ নাসের মাকারেম শিরাজি এই আহ্বান জানান।
এক বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ নুরি হামেদানি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শত্রুদের হীন চক্রান্ত নস্যাৎ করতে এবং জাতির ঐক্য ও সংহতি অটুট রাখতে দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা অপরিহার্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বহিঃশক্তির আগ্রাসন মোকাবিলায় দেশের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা জনগণের মনোবল বৃদ্ধি করবে এবং জাতীয় সংহতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।
একই সুরে কথা বলেছেন আরেক শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ নাসের মাকারেম শিরাজি। তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, সময়মতো এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হলে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, নেতৃত্বের দ্রুত পরিবর্তন প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে এবং বিশ্বমঞ্চে ইরানের অবস্থান শক্ত রাখতে সহায়ক হবে।
আলি খামেনির আকস্মিক মৃত্যুর পর থেকে ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর শীর্ষপদে কে আসছেন, তা নিয়ে দেশটির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে শীর্ষ দুই ধর্মীয় নেতার এই প্রকাশ্য আহ্বান ইরানের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/আশিক
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তছনছ মার্কিন ঘাঁটি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত আক্রমণের মুখে পাল্টা আঘাতের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ২৫তম দফার এই অভিযানে তারা প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ‘হাইপারসনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বিকেলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে তারা নিজেদের তৈরি হাইপারসনিক ‘ফাতাহ’ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। উল্লেখ্য, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যেতে সক্ষম। ঘণ্টায় ৬ হাজার ১৭৪ কিলোমিটার বা ৩ হাজার ৮৩৬ মাইল বেগে ছুটতে পারায় আধুনিক কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেই একে রুখে দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়।
সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি), যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে। তেহরানে চালানো সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইরান ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হাইপারসনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই যুদ্ধকে এখন এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেল।
/আশিক
আত্মসমর্পণ নাকি রণকৌশল? ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের পাল্টা হামলার রহস্য কী?
ইরানের নমনীয় অবস্থানকে তাদের ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরান তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে কেবল ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, বরং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত এবং প্রচণ্ড হামলার মুখে টিকতে না পেরেই ইরান এই নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরানের এই পিছু হটার বার্তার মাঝেই ট্রাম্প নতুন করে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আজই ইরানের ওপর ‘খুব কঠোর’ বা বড় ধরনের কোনো হামলা চালানো হতে পারে। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের আচরণের কারণে এখন এমন কিছু স্পর্শকাতর এলাকা বা গোষ্ঠীকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার কথা ভাবা হচ্ছে, যা আগে কখনো ভাবা হয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাঁর দেশের নতুন অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আর কোনো আক্রমণ চালাবে না। তবে তিনি একটি শর্তও জুড়ে দিয়েছেন; যদি প্রতিবেশীদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা হয়, তবে তেহরান তার কড়া জবাব দিতে দ্বিধা করবে না। প্রেসিডেন্টের এই বার্তার পরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক হুঙ্কার দিয়েছে। তারা সাফ জানিয়েছে, যদি ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ‘আল ধাফরা’তে সফল হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। শনিবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আবুধাবির কাছে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান কেন্দ্র এবং একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে তারা আঘাত হেনেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমান অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই ঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা এখনও পাল্টা আঘাত করার সক্ষমতা রাখে। এই পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক অগ্নিগর্ভ রূপ নিয়েছে।
/আশিক
ব্রিটেনে মার্কিন বোমারু বিমান, ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল লন্ডন

রায়হান বিন আলম
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বোমারু বিমান বি–১ ল্যান্সার যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটি ফেয়ারফোর্ডে অবতরণ করেছে। এই ঘটনাকে অনেক বিশ্লেষক ইরান সংকটকে ঘিরে পশ্চিমা সামরিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
১৪৬ ফুট দীর্ঘ এই বোমারু বিমানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় RAF Fairford সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বিমানবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত B-1 Lancer দীর্ঘপাল্লার হামলা এবং ভারী অস্ত্র বহনের সক্ষমতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
এই মোতায়েনের পেছনে রয়েছে যুক্তরাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এই অনুমতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্রিটিশ ভূখণ্ডের সামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য অভিযান পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত সহজে আসেনি। কয়েকদিন ধরে অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে বিলম্ব হওয়ায় ওয়াশিংটন ও লন্ডনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিরোধী রাজনীতিকরাও বিষয়টি নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা Kemi Badenoch স্টারমার সরকারের বিলম্বিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঐক্য প্রদর্শনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার তার অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, যুদ্ধের সম্ভাব্য বৈধতা ও আন্তর্জাতিক আইনগত দিক বিবেচনা করেই তিনি সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিয়েছেন। তাঁর মতে, যে কোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে এটি নিশ্চিত করা জরুরি ছিল যে সম্ভাব্য অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক ব্রিটেনের বর্তমান পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির একটি জটিল বাস্তবতা তুলে ধরেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ব্রিটেনকে সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে হয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন ও জনমতের প্রশ্নও সমানভাবে বিবেচনায় নিতে হয়।
বি–১ ল্যান্সারের ব্রিটেনে অবতরণকে অনেকেই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখছেন। এটি শুধু একটি সামরিক মোতায়েন নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোকেও সরাসরি প্রভাবিত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরানকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হয়, তাহলে ইউরোপের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের ঘাঁটিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে।
মার্কিন হামলার হুমকির মাঝেই কাঁপল ইরান: ভূমিকম্প নাকি পরমাণু পরীক্ষা?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে রহস্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘোষণা করেছিলেন যে, আজ রাতেই ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ করা হবে। তাঁর এই চরম হুঁশিয়ারির কিছুক্ষণের মধ্যেই দেশটির বন্দর আব্বাস এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.১।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বন্দর আব্বাস শহর থেকে ৭৪ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। যুদ্ধের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ এমন কম্পন ইরানজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই ঘটনাটি কি কেবলই একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে— তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলে শুরু হয়েছে নানামুখী বিশ্লেষণ।
বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ প্রশ্ন তুলছেন, এই কম্পন কি সত্যিই প্রাকৃতিক নাকি আমেরিকা ও ইসরায়েলের আসন্ন বড় ধরনের হামলা ঠেকাতে ইরান গোপনে কোনো পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে? এর আগে গত ৩ মার্চ সকালেও ইরানে ৪.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সেই সময়ও ভূ-তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরানের এই রহস্যময় ভূমিকম্প যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে ভাবিয়ে তুলেছে এবং তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে।
আজ রাতের সম্ভাব্য বড় হামলার ঘোষণা এবং একই সময়ে এই ভূ-কম্পন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, ইরান হয়তো তাদের সামরিক সক্ষমতার চূড়ান্ত কোনো মহড়া দিচ্ছে অথবা এটি বড় কোনো সংঘাতের পূর্বাভাস। প্রাকৃতিক কারণ হোক কিংবা সামরিক পরীক্ষা— বন্দর আব্বাসের এই কম্পন বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ, হিন্দুস্তান টাইমস, এই সময়
পাঠকের মতামত:
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসে জল ঢেলে দিল ইরান: ৬ মাস যুদ্ধের নতুন ছক
- ঈদে ট্রেনের ষষ্ঠ দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু: আজ মিলছে ১৮ মার্চের টিকিট
- দেড় বছর পর একই মাঠ, একই স্বপ্ন: আহমেদাবাদে আজ ভারতের বিশ্বজয়ের পরীক্ষা
- আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
- স্বর্ণের বাজারে বিশাল ধস! ২২ ক্যারেটের নতুন দাম জানাল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন
- ঢাকার তাপমাত্রা কি বাড়বে? আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে নতুন বার্তা
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: এবার ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানল ইরান
- ঘর থেকে বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজকের ঢাকার পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত কখন শুরু
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন আপনার এলাকার ওয়াক্ত কখন শুরু
- তেল নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড! পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত ঠেকেছে শাহবাগের পাম্পের লাইন
- যাকাত দিয়েই দারিদ্র্য দূর করার পরিকল্পনা: নতুন উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- আমরা বিশ্বের উপকার করছি! ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত দাবি
- কুমিল্লায় কাঁচাবাজার পরিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে: জ্বালানি বিপর্যয় রুখতে ডা. শফিকের ৩ দফা পরামর্শ
- আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত; মার্কিন সেনাদের বড় বিপর্যয়
- নারীর সমান অধিকারই হবে আগামীর বাংলাদেশের ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খামেনি পরবর্তী ইরানের হাল ধরবেন কে? দ্রুত ঘোষণার দাবি শীর্ষ দুই আয়াতুল্লাহর
- হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তছনছ মার্কিন ঘাঁটি
- আত্মসমর্পণ নাকি রণকৌশল? ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের পাল্টা হামলার রহস্য কী?
- সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করবে এই ৫টি প্রাকৃতিক পানীয়
- প্রতিবেশীদের ওপর আর হামলা নয়, হঠাৎ নমনীয় সুর ইরানি প্রেসিডেন্টের!
- ইফতারে পুষ্টিকর ও মুখরোচক ভেজিটেবল কাটলেট: সহজ রেসিপি
- তেল সংকটের গুজব নিয়ে সতর্কবার্তা: আতঙ্কে পাম্পে ভিড় না করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
- রমজান ও ঈদে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে: ইশরাক হোসেন
- ইফতারে চিনির শরবত নাকি গুড়ের? কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি নিরাপদ?
- ব্রিটেনে মার্কিন বোমারু বিমান, ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল লন্ডন
- মার্কিন হামলার হুমকির মাঝেই কাঁপল ইরান: ভূমিকম্প নাকি পরমাণু পরীক্ষা?
- প্রতিবেশী দেশে হামলা করা নিয়ে ইরানের নতুন সিদ্ধান্ত
- ইরান হামলার পর ইন্দোনেশিয়ায় ক্ষোভ: ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্বের দাবি জোরালো
- মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর: লেবাননে ১২ নিহত, ইরানে নতুন হামলা
- আত্মগোপন থেকে ফিরেই আলভীর বোমা: ইকরার মৃত্যু ও ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি
- ইফতারে মুখরোচক চিকেন কিমা তাওয়া কাবাব: সহজ ঘরোয়া রেসিপি
- ভোট কারচুপি না হলে প্রতিপক্ষ এত ভোট পেত না: মির্জা আব্বাস
- আপসহীন সংগ্রামের স্বীকৃতি: অদম্য নারী পুরস্কারে ভূষিত প্রয়াত খালেদা জিয়া
- ভাড়া বাসায় চলত জাল নোটের কারবার, গোয়েন্দা জালে ধরা কারিগর
- সৌদি আরবের তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা
- আজ রাতেই ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণের আলটিমেটাম
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- আজকের মুদ্রা বিনিময় হার: জেনে নিন কোন দেশের মুদ্রার কত দাম
- তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া: বিমানবন্দরের ভেতরে জ্বলছে সারিবদ্ধ বিমান
- আপস না করাই আজ নিজের জন্য বিপদ ডেকে এনেছে: আসিফ মাহমুদ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- ১৭ রমজান: যে যুদ্ধে নির্ধারিত হয়েছিল ইসলামের আগামীর বিশ্বজয়
- শনিবারে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের ব্যস্ত সূচি: টিভিতে আজকের খেলা
- মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতার সংকেত
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- কোনটি প্রমাণিত হয়েছে?—দুর্নীতি ইস্যুতে মধ্যরাতে হাসনাতের বিস্ফোরক প্রশ্ন
- আজ ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় স্বস্তি, নতুন দর কার্যকর আজ
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা; এক বছরে দাম বাড়ল ৬৪ শতাংশ
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে আগুন: এক লাফে বাড়ল ৩ হাজার টাকা
- ২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- নতুন বেতন কাঠামো ও পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল
- রামাদান মাসে কোরানের হাফেজ দের নিয়ে মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের সেহেরি আয়োজন
- ইফতারের প্রশান্তি কেড়ে নিচ্ছে মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির পূর্ণাঙ্গ গাইড
- খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস
- ১ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- আগামী দুই দিন ঢাকাসহ ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
- ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা রাশিয়ার; চরম বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি পুতিনে








