খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে খামেনির মৃত্যুর খবরের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ‘জীবিত’ থাকার দাবি করে কিছু ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দাবি করা হচ্ছে যে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বর্তমানে সাহারা মরুভূমিতে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু গভীর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খামেনির সাহারা মরুভূমিতে অবস্থানের এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার বা মিসইনফরমেশন।
তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, খামেনির কথিত মরুভূমিতে অবস্থানের ছবিটি বর্তমান সময়ের কোনো ঘটনা নয়। মূলত এটি ২০১৪ সালের একটি পুরোনো ছবি, যার সঙ্গে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো নূন্যতম সম্পর্ক নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, ভিডিও ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণেও তাঁর জীবিত থাকার সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের ভুয়া ছবি ছড়িয়ে দেওয়াকে নিছক ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। খামেনির মৃত্যুর খবরটি যখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, তখন এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল মাত্র।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে চীন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি এড়াতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। উল্লেখ্য যে, ইরান গত শনিবার এই প্রণালিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থাগুলো এই পথে চলাচল স্থগিত করেছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে যাতায়াত করে এবং চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় দেশটি নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
/আশিক
২০২৬ সালেই শুরু হবে মহাযুদ্ধ: ভাইরাল বাবা ভাঙ্গার সেই রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বুলগেরিয়ার বিখ্যাত অন্ধ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হওয়া তার এক কথিত ভবিষ্যদ্বাণীতে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের শুরুতেই একটি ‘মহাযুদ্ধ’ শুরু হবে, যা পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়বে। ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণকারী বাবা ভাঙ্গা ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি হারান এবং পরবর্তীতে দাবি করেন যে তিনি অলৌকিক দর্শনশক্তি লাভ করেছেন। তাকে অনেকেই ‘বালকান অঞ্চলের নস্ত্রাদামুস’ বলে অভিহিত করেন এবং তার অনুসারীরা দাবি করেন যে তিনি ৯/১১ হামলা বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর উত্থানের মতো বড় আন্তর্জাতিক ঘটনার নির্ভুল পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
তবে বাবা ভাঙ্গার এই ২০২৬ সালের মহাযুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা ভাঙ্গার নিজের লেখা বা নথিভুক্ত কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই যেখানে এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীর স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। বর্তমানে যা প্রচারিত হচ্ছে, তার অধিকাংশই দ্বিতীয় বা তৃতীয় কোনো সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য, যার কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি নেই। অনেক গবেষক মনে করেন, এসব দাবির বেশিরভাগই পরবর্তীকালে গুজব বা লোকমুখে প্রচলিত কাহিনি হিসেবে তার নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনিশ্চয়তার এই সময়ে রহস্যময় এসব বাণীর সত্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যুদ্ধ বা অস্থিরতার মতো ভয়াবহ সময়ে মানুষ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা নিয়ন্ত্রণবোধ খোঁজে, যা তাদের মানসিকভাবে এক ধরণের আশ্রয় দেয়। অজানা ভবিষ্যতের ভয় থেকেই মানুষ এই ধরনের রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে আকৃষ্ট হয়, যদিও বাস্তবে এর কোনো তথ্যনির্ভর প্রমাণ থাকে না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন যে, বর্তমান জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজন তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন, কোনো রহস্যবাদ নয়। সব মিলিয়ে বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সালের ‘মহাযুদ্ধ’ নিয়ে চর্চা বাড়লেও এর কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।
/আশিক
জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেছেন যে, জায়নবাদ বা উগ্র ইহুদি জাতীয়তাবাদ মুসলিম বিশ্বে অস্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি এবং এটি বর্তমান মানবতার জন্য এক বড় হুমকি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে পাকিস্তানের এই মন্ত্রী একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা একটি পোস্টে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর এই হামলা ও যুদ্ধ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামি বিশ্বের ওপর যত বিপর্যয় ও যুদ্ধ নেমে এসেছে, তার প্রতিটি ঘটনার পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জায়নবাদী মতাদর্শের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি যেকোনো বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
খাজা আসিফ আরও দাবি করেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও বর্তমান এই ভয়াবহ সংঘাত তাদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে গত শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘাত শুরু হয়েছে।
আল জাজিরার তথ্যমতে, রোববারের সেই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাকিস্তানজুড়ে অন্তত ২০ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে করাচিতে ১০ জন, স্কার্দুতে ৮ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিশাল শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পরবর্তীতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে নিশ্চিত করেছে যে, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ চলাকালে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে মেরিন সেনাদের গুলি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতরা সরাসরি মেরিন সেনাদের গুলিতেই মারা গেছেন কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
ওই সময় কনস্যুলেট রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বা স্থানীয় পুলিশও গুলি চালিয়েছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ২৫ কোটি জনসংখ্যার সুন্নি প্রধান দেশ পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের এই বিশাল জনরোষ এবং মার্কিন কনস্যুলেটে সরাসরি গুলির ঘটনাটি দেশটিতে এক চরম অস্থির ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
/আশিক
পাল্টাপাল্টি হামলায় রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: বাড়ছে লাশের মিছিল ও জ্বালানির দাম
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিধ্বংসী যুদ্ধ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। আলজাজিরা ও বিবিসির লাইভ ব্লগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় তেল শিল্প অঞ্চলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম ইরানের হামাদানে যৌথ শক্তির হামলায় ৫ জন এবং কেরমান প্রদেশে ১৩ ইরানি সেনাসহ দেশটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সংঘাতের ভয়াবহতায় লেবানন তাদের সীমান্ত এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে এবং ইসরায়েল দাবি করেছে তারা বৈরুত ও তেহরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
চতুর্থ দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ধ্বংসের দাবি। ইরান সমর্থিত ফার্স নিউজ এজেন্সি রকেট বিস্ফোরণের ফুটেজ প্রকাশ করে জানিয়েছে, আইআরজিসির হামলায় ঘাঁটির কমান্ড ও স্টাফ বিল্ডিং ধ্বংসসহ জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে; ওমানের দুকুম বন্দরে ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা এবং কাতারে বিশ্বের মোট সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের বাজারে গ্যাসের দাম ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সৌদি আরবও তাদের বৃহত্তম শোধনাগারে উৎপাদন স্থগিত করেছে এবং রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার পর সেখানে অবস্থানরত মার্কিন কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভয়াবহ এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো জাহাজ এই পথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চিরকাল যুদ্ধ চালানোর মতো গোলাবারুদ ও অস্ত্রের সীমাহীন মজুত আছে এবং তারা বড় জয়ের জন্য প্রস্তুত।
এরই মধ্যে খামেনির উত্তরসূরি বা পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের বাহরাইন, সৌদি আরব, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশ অবিলম্বে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
/আশিক
বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরান
বাহরাইনে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বিমান ঘাঁটি ইরানের ভয়াবহ হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা ফার্স একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক রকেট আছড়ে পড়ছে এবং বিশাল বিস্ফোরণ ঘটছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত আঘাতে বাহরাইনের শেখ ইসা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন কমান্ড ও স্টাফ বিল্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট বিমান ঘাঁটিটি মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিধ্বংসী হামলায় ঘাঁটির বিশাল জ্বালানি ট্যাংকগুলোতেও আগুন ধরে যায় এবং সেগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
এই ভয়াবহ হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রণংদেহী পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি ইরানি গণমাধ্যম নিশ্চিত করার পরপরই তেহরান কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরই অংশ হিসেবে ইরান গত কয়েকদিন ধরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বাহরাইনের এই হামলাটি ইরানের প্রতিশোধমূলক অভিযানের একটি বড় অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেখ ইসা বিমান ঘাঁটিতে এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রকেটের ঢেউ আছড়ে পড়ার পর পুরো এলাকা আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত হয়েছে। এই হামলায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত বড়—তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই সরাসরি আঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের নেতার মৃত্যুর বদলা নিতে তারা এই অঞ্চলের কোনো মার্কিন ঘাঁটিকে নিরাপদ থাকতে দেবে না।
/আশিক
মার্কিন সেনাদের সরাসরি গুলিতে করাচি রণক্ষেত্র
পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, করাচিতে পাকিস্তানিদের ওপর মার্কিন মেরিন সেনাদের এই গুলিবর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পাকিস্তানজুড়ে চরম উত্তেজনা ও বিক্ষোভ দানা বাঁধে। করাচির মার্কিন কনস্যুলেট এলাকায় কয়েকশ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে তাণ্ডব চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়।
এই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, কনস্যুলেট ভবন ও এর কর্মীদের রক্ষায় সেখানে মোতায়েন থাকা মেরিন সেনারা গুলি চালিয়েছে। তবে মার্কিন মেরিন সেনাদের ছোড়া গুলিতেই কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। এছাড়া ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মিশন রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী বা স্থানীয় পুলিশ সদস্যরাই সরাসরি গুলি চালিয়েছে কি না, সে বিষয়েও রয়টার্স নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে করাচি ও এর আশেপাশে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এই নজিরবিহীন সহিংসতার পর পাকিস্তানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বড় ধরণের নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরণের ভিসা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। করাচির এই ঘটনায় পাকিস্তান সরকারের উচ্চ মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন থেকেও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ইরানের নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে করাচির এই বিক্ষোভ এবং তাতে মেরিন সেনাদের গুলি চালানোর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
বিশ্বজুড়ে পক্ষ-বিপক্ষ: ইরান ইস্যুতে কে দিচ্ছে হুংকার, কেই বা দিচ্ছে সমর্থন?
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই এক ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন মানবিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত তিন দিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয়পক্ষের বহু মানুষ হতাহত হলেও ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহাণির সংখ্যা ইরানেই সবচেয়ে বেশি বলে জানা যাচ্ছে। দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নিশ্চিত করেছে যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ৭০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির প্রায় চার ডজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, এই অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নয়জন নাগরিক নিহতের খবর জানানো হয়েছে।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের বর্তমান নেতারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করলেও তেহরান তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনোভাবেই কোনো সমঝোতা করবেন না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সামনের দিনগুলোতে তেহরানের ওপর হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে, যার ফলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন এই যুদ্ধ সহসাই থামছে না।
এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে তীব্র মেরুকরণ ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চীন ও রাশিয়া এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির হত্যাকাণ্ডকে 'মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সকল নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড' বলে বর্ণনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। চীনও এই অভিযানকে ইরানের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে সামরিক কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও জার্মানির অবস্থান ভিন্ন। ফ্রান্স সরকারের মুখপাত্র মুদ বোজো খামেনির মৃত্যুকে একজন 'নিপীড়ক একনায়কের পতন' হিসেবে উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ফ্রান্স যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। জার্মানি সতর্ক করে বলেছে, ইরান যদি আঞ্চলিক দেশগুলোতে তাদের হামলা বন্ধ না করে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে সরাসরি সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও তাদের সাইপ্রাসস্থ আরএএফ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে শুধুমাত্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপর্যয় হিসেবে সতর্ক করলেও পরাশক্তিগুলোর বিপরীতমুখী রণকৌশল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
/আশিক
বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল সৌদি রাজধানী
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আগুন এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, দুটি ড্রোন সরাসরি মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে আঘাত হানে। হামলার পরপরই সেখানে একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভবনের একাংশে আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রিয়াদের কূটনৈতিক কোয়ার্টার এলাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তবে সৌদি মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, হামলার ফলে ভবনের সামান্য ক্ষতি হয়েছে এবং আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ভবনটি প্রায় খালি থাকায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এই হামলার ঘটনার পরপরই রিয়াদ, জেদ্দা এবং দাহরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য 'শেল্টার ইন প্লেস' বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস। পাশাপাশি এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুয়েত ও জর্ডানের পর সৌদি আরবে মার্কিন মিশনে এই হামলার জেরে হোয়াইট হাউস থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই হামলার ‘জোরালো জবাব’ শিগগিরই দেওয়া হবে। গত শনিবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে ইরান যে বিধ্বংসী প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেছে, এই হামলা তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়! ১৪ দেশে ছড়িয়ে পড়ল যুদ্ধ, কাঁপছে বিশ্ব অর্থনীতি
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে, যা ধাবিত হচ্ছে একটি অনিশ্চিত আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে। গত শনিবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যকার সংঘাত আর কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় আটকে নেই। ইরান ইতিমধ্যে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১০টি দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, জর্ডান, ইরাক, কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলো।
অন্যদিকে ইসরায়েলও লেবানন ও ইরানে তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪টি দেশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা এখনও শুরুই হয়নি এবং সামনের সপ্তাহগুলোতে আরও ভয়াবহ ‘ঢেউ’ আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সরাসরি যুদ্ধে যোগ না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতি সমর্থন জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যদিকে ন্যাটো মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছে।
যুদ্ধের প্রভাব কেবল মানচিত্রের সীমানায় নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতেও চরম আঘাত হেনেছে। ইরান কাতার ও সৌদি আরবের জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারেও ধস নেমেছে এবং ওয়ালস্ট্রিটের বড় সূচকগুলো ১ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বিমাণ সংস্থাগুলোর শেয়ারের দরপতন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। সংঘাতের আঁচ পৌঁছেছে সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটি পর্যন্ত, যেখানে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ১৩১টি শহরে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। ইরানের হামলায় ইসরায়েল ও কাতারেও বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে। কুয়েতের আকাশে ৩টি মার্কিন যুদ্ধবিমান 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার'-এ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
২৪ ঘণ্টার সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তেহরান ও বৈরুতে হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির স্ত্রী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলি লারিজানি তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় বাসাবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতালের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোও রেহাই পাচ্ছে না; মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৮০ ছাড়িয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা, তবে তিনি ভবিষ্যতে স্থল হামলার সম্ভাবনাকেও একেবারে উড়িয়ে দেননি। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক বিশাল মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
/আশিক
মার্কিন ঋণের জালে আঘাত হানল ইরান: হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের নতুন মোড়
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার বিশ্ব অর্থনীতির নাভিশ্বাস তোলার উপক্রম করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সোমবার (২ মার্চ) ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নতুন প্রধান আহমদ ভাহিদির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই প্রণালি দিয়ে এখন থেকে কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।
তেহরানের এই চরম সিদ্ধান্ত মূলত গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলারই প্রতিক্রিয়া। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই প্রতিশোধের নেশায় ফুঁসছে ইরান। জাব্বারি স্পষ্ট করেছেন যে, তারা কেবল জলপথ বন্ধ করেই ক্ষান্ত হবে না, বরং তেলের পাইপলাইনগুলোতেও হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। তাদের লক্ষ্য হলো এই অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে এক ফোঁটা তেলও যেন বাইরে যেতে না পারে। ইরানের দাবি, এই উত্তেজনার ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধস নামাতে পারে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, হাজার হাজার কোটি ডলারের ঋণে জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের তেলের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। তাই তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে ওয়াশিংটনকে চরম শিক্ষা দিতে চায় তেহরান। আলজাজিরার বরাত দিয়ে আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানানো হয়েছে, বিপ্লবী গার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা এই প্রণালিতে কড়া পাহারা বসিয়েছে। এই ঘোষণা কার্যকর হলে কেবল তেল সরবরাহ নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এক অভূতপূর্ব অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস
- রামাদান মাসে কোরানের হাফেজ দের নিয়ে মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের সেহেরি আয়োজন
- কালিগঞ্জে ৩৭ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ
- আকাশে দেখা যাবে রক্তাভ চাঁদ: আজ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হবে বিশ্ব
- কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ উপায়: সুস্থ থাকবে আপনার হৃদয়
- ২০২৬ সালেই শুরু হবে মহাযুদ্ধ: ভাইরাল বাবা ভাঙ্গার সেই রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী
- জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের
- আলভীর সঙ্গে প্রেম না কি বন্ধুত্ব? দেশে ফিরে যা বললেন তিথি
- পাল্টাপাল্টি হামলায় রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: বাড়ছে লাশের মিছিল ও জ্বালানির দাম
- গোপনে নিজেকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে বিশেষ সুবিধা নিলেন ড. ইউনূস
- ৫ বছরের জন্য এসে ৩ মাসেই বিদায়: দুদক কমিশনের নাটকীয় পদত্যাগ
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- বিলবোর্ডে নিজের ছবি সরাতে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- আজকের মুদ্রার রেট: প্রবাসীদের জন্য ৩ মার্চের সর্বশেষ টাকার মান
- চাঁদ হবে লালচে তামাটে: বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে প্রস্তুত বাংলাদেশ
- ইফতারে আনুন নতুন স্বাদ: বানিয়ে ফেলুন মচমচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই পেঁয়াজু
- ইফতারে স্বাদ বাড়াতে ঘরেই বানান ক্রিস্পি কাবাব স্টিকস
- জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল জারি
- বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরান
- মার্কিন সেনাদের সরাসরি গুলিতে করাচি রণক্ষেত্র
- বিশ্বজুড়ে পক্ষ-বিপক্ষ: ইরান ইস্যুতে কে দিচ্ছে হুংকার, কেই বা দিচ্ছে সমর্থন?
- ১২ মার্চ কি নতুন ইতিহাস? প্রথম অভিশংসনের মুখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
- ঈদের অগ্রিম টিকিট যুদ্ধ শুরু! অনলাইনে মিলছে ট্রেনের শতভাগ টিকিট
- রেকর্ডের পর রেকর্ড: বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দামী হলো আজ থেকে স্বর্ণ
- বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল সৌদি রাজধানী
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়! ১৪ দেশে ছড়িয়ে পড়ল যুদ্ধ, কাঁপছে বিশ্ব অর্থনীতি
- কেনাকাটার আগে সাবধান! আজ মঙ্গলবার ঢাকার যেসব নামী মার্কেট বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- মার্কিন ঋণের জালে আঘাত হানল ইরান: হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের নতুন মোড়
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? এক নজরে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজ ১৩ রমজান: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সঠিক সময়
- হঠাৎ বদলাচ্ছে আবহাওয়া! রাজধানীসহ ৭ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
- তেহরানকে চীনের অভয়বাণী: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানকে সব ধরনের সমর্থনের ঘোষণা
- রমজানে পানিশূন্যতা রুখতে জাদুকরী '৪-২-২-২' নিয়ম: পুষ্টিবিদের বিশেষ টিপস
- আরামের যাত্রায় বিঘ্ন ঘটলেই বিপদ! এসি কোচে কড়াকড়ি করছেন রেলমন্ত্রী
- পশ্চিমের সাথে সংলাপ নাকি সংঘাত? হাসান খোমেনির দিকে তাকিয়ে বিশ্বশক্তি
- উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের মাঝে ৩ প্রভাবশালী দেশের ফোন: প্রবাসীদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
- ইফতারের প্রশান্তি কেড়ে নিচ্ছে মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির পূর্ণাঙ্গ গাইড
- জাতীয় সংসদে নতুন টিম: প্রজ্ঞাপনে ৬ হুইপকে রাজকীয় নিয়োগ
- খামেনি হত্যার চরম প্রতিশোধ! এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আঘাত হানল ইরান
- মার্চে রান্নার গ্যাসের দাম কত? বড় সুখবর দিল বিইআরসি
- নারীদের জন্য সুখবর! রাজধানীতে আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- কালিগঞ্জের পল্লীতে আদালতে নিষেধাজ্ঞা মামলা, থানায় জিডি-অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ
- পরিবারের একমাত্র আশার প্রদীপ নিভিয়ে দিল বিদেশের যুদ্ধ
- জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার হওয়ার প্রস্তাব বিএনপির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- রেড ক্রিসেন্টের ভয়াবহ তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানে লাশের মিছিল
- ২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
- ২ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- আগামী দুই দিন ঢাকাসহ ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
- অনলাইনে ও মোবাইলে যেভাবে দেখবেন জুনিয়র বৃত্তির ফলাফল
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
- বন্ধকী কূটনীতির দেশে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির স্বপ্ন
- মহাকাশে বিরল মহোৎসব: বাংলাদেশ থেকে এক সারিতে দেখা যাবে ৬ গ্রহ!
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা; এক বছরে দাম বাড়ল ৬৪ শতাংশ
- ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা
- কালিগঞ্জে ঘেরের বাসায় আগুন, দখলচেষ্টা ও মাছ লুটের অভিযোগ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
- শহীদ হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি
- ২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা
- কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
- বাহরাইন প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সভাপতি সম্রাট নজরুল ও সম্পাদক নোমান সিদ্দিকী
- বিজিবি না কি বিডিআর? নাম ও পরিচয় পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত








