মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ২০:০৯:৫৮
মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো ধরনের হামলা চালালে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত স্ট্র্যাটেজিক নৌপথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিষয়টির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিরক্ষা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দেবও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

রয়টার্সের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলে নীতিগত আলোচনা হয়েছে এবং হুতি কমান্ডের কাছে ইতিমধ্যে তেহরানের এই চূড়ান্ত বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ইরানের দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের এক উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, হুতিদের লোহিত সাগরে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

তবে এই স্পর্শকাতর বার্তাটি কোন মাধ্যমে হুতিদের কাছে পাঠানো হয়েছে কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও সেতুতে হামলার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার আগে নাকি পরে এটি পাঠানো হয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তারা প্রকাশ করেননি। এই চাঞ্চল্যকর খবরের বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুতিদের মুখপাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে হুতিদের নীতিনির্ধারণী মহলের ঘনিষ্ঠ একটি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, সংগঠনটি ইতিমধ্যে এডেন উপসাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী কৌশলগত অবস্থানগুলোতে তাদের দূরপাল্লার ভারী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন বহর মোতায়েন সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হোদেইদা উপকূলীয় এলাকা এবং এডেন উপসাগরসংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য বাঙ্কারগুলোতে এসব ঘাতক অস্ত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে তেহরান থেকে চূড়ান্ত সংকেত বা সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই তারা লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে একযোগে হামলা শুরু করতে পারে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি ইতিমধ্যে অবরুদ্ধ থাকায় যদি লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিও একইভাবে অচল করে দেওয়া হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুটি সমুদ্র বাণিজ্য পথ একযোগে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এর ফলে এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সাধারণ পণ্য পরিবহনের বৈশ্বিক চেইনটি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ মন্দা ডেকে আনতে পারে।

হুতিদের ভেতরের সূত্রটি আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছে, ইয়েমেনের মাটিতে হুতিদের সামরিক কমান্ড সেন্টারে অবস্থানরত ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিশেষ প্রতিনিধিরাই বাব আল-মান্দেব প্রণালি কখন এবং কীভাবে বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়া একটি আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করেছে, জ্বালানি সরবরাহ রুখে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করার মাধ্যমেই মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা ইরানের প্রধান যুদ্ধকৌশল।

ওই আঞ্চলিক সূত্রটি আরও দাবি করে যে, সংকীর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নৌ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ বা ব্যাহত করতে খুব বেশি অত্যাধুনিক বা ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন পড়ে না। তাদের ভাষায়, প্রণালিটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একটি সাধারণ রাইফেলধারী সশস্ত্র দলও চাইলে এই জলপথে বড় বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, ইরান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের তাদের মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী বিস্তৃত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে। এই ইরানপন্থী আঞ্চলিক জোটে লেবাননের শক্তিশালী হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের কয়েকটি সশস্ত্র শিয়া মিলিশিয়া গ্রুপও রয়েছে, যারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান সংঘাতের বিভিন্ন ফ্রন্টে ইতিমধ্যে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছে। তবে হুতিরা এখন পর্যন্ত এই চলমান দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধে সরাসরি ও পূর্ণ শক্তি নিয়ে অংশ নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরানই মূলত হুতিদের অত্যাধুনিক অস্ত্র, বড় অংকের অর্থায়ন এবং হিজবুল্লাহর অভিজ্ঞ কমান্ডারদের মাধ্যমে আধুনিক সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। তেহরান অবশ্য শুরু থেকেই পশ্চিমাদের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নাকচ করে আসছে।

/আশিক


নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যানে ভিন্নতা, নিখোঁজ বাড়ছে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ২১:৪৫:২১
নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যানে ভিন্নতা, নিখোঁজ বাড়ছে
ছবি : সংগৃহীত

নেপালে পাহাড়ি ঢল ও প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার তৎপরতায় এ পর্যন্ত ৭৯৪টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া দুর্গত অঞ্চলগুলোতে এখনো আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মোট ৭৯৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) দেওয়া পৃথক পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৭৮১ জন এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২ হাজার ৫০২ জন। গত কয়েক দিন ধরে নেপালের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার দেওয়া তথ্যের মধ্যে কিছুটা গরমিল থাকায় হতাহতের মোট সংখ্যা নিয়ে পরিসংখ্যানে কিছুটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

হিমালয়কন্যা খ্যাত নেপালে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী ভ্রমণ করতে যান। ফলে পাহাড়ি নদীগুলোর অববাহিকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতীয় নাগরিক, যার সংখ্যা অন্তত ৩২০ জন। এছাড়া চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় ১০০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৯০ জন নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, বন্যার পর থেকে ৬২ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের কোনো সন্ধান মেলেনি। একটি স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ভ্রমণে যাওয়া ৫১ জন মালয়েশীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অভিবাসনমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী দেশটির ৪১ জন এবং নেপাল পুলিশের হিসাবে ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন; পাশাপাশি চীনের সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিব্বত সীমান্তে আরও ১৫ জন ব্রিটিশ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কানাডার ৩০ জন নাগরিকসহ দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের বেশ কয়েকজন পর্যটকও এই দুর্যোগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বহু এলাকা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকারী দলগুলোর তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার গভীর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি


ইরানে পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প: জো কেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ২১:৩৯:২১
ইরানে পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প: জো কেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান সামরিক অচলাবস্থা নিরসন এবং দেশটিকে চাপে ফেলতে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সীমিত পরিসরে পারমাণবিক হামলা চালানোর মতো চরম পথ বেছে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কাউন্টারটেররিজম উপদেষ্টা জো কেন্ট। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন যখন ইরান সংকটের কোনো কার্যকর রাজনৈতিক বা সামরিক সমাধান খুঁজে পাচ্ছে না, তখন এমন বিধ্বংসী পদক্ষেপ নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে অসম্ভব কিছু নয়।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের শর্ত না মানলে ইরানের পুরো সভ্যতা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে; পরবর্তীতে তিনি দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। তবে জো কেন্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তার সর্বোচ্চ শক্তি ও সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ করেও তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে নমনীয় করতে বা পতন ঘটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, ইরানকে চূড়ান্তভাবে নতজানু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে মূলত দুটি বিকল্প খোলা রয়েছে—হয় সরাসরি বিশাল পদাতিক সেনা পাঠিয়ে ভূখণ্ডে যুদ্ধ শুরু করা, অথবা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার করা। তবে ভৌগোলিক বিস্তার ও বিপুল জনসংখ্যার ইরানে সরাসরি সেনা মোতায়েন করে যুদ্ধ পরিচালনা করা কোনো বাস্তবসম্মত কৌশল নয়। ফলে বিকল্প না পেয়ে ওয়াশিংটন পাহাড়ি সুরঙ্গের গভীরে সুরক্ষিত থাকা ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে ‘ট্যাকটিক্যাল’ বা ছোট মাত্রার পারমাণবিক হামলা চালানোর দিকে ঝুঁকতে পারে।

এদিকে পেন্টাগনের কাছে নিখুঁত নিশানাযুক্ত অত্যাধুনিক গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে—এমন খবর প্রকাশের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানে সরাসরি বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। সামরিক এই সংকটের কথা ট্রাম্প প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও তাঁর কৌশলে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প হিসেবে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে ট্রাম্প সম্প্রতি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ নামের এক সর্বাত্মক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এর আওতায় চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও বিশ্ববাজার থেকে ইরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা যায়।

সূত্র: আরটি।


নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, ২৭৯ জন উদ্ধার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ২১:৩৪:০৬
নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, ২৭৯ জন উদ্ধার
ছবি : সংগৃহীত

নেপালে পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ত্রিশূলী নদী অববাহিকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গভীর সুড়ঙ্গে কর্মরত শত শত শ্রমিক। পাহাড়ের অভ্যন্তরে নির্মিত এসব প্রকল্পের বিভিন্ন টানেলে প্রায় ১ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। চলমান উদ্ধার কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে অথবা তারা চরম প্রতিকূলতা পেরিয়ে কাদামাটি ও পলি জমে থাকা সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন; তবে এখনো বহু শ্রমিক ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বেঁচে ফেরা শ্রমিক ও উদ্ধারকারীদের বরাতে সুড়ঙ্গের ভেতরের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার চিত্র উঠে এসেছে। ত্রিশূলী নদীর তীরের একটি টানেলে কাজ করার সময় হঠাৎ তীব্র বেগে পানি ও পাথর-কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ ধেয়ে এলে রাম চন্দ্র নামের এক শ্রমিক টানেলের ছাদে থাকা রড বা রিং শক্ত করে আঁকড়ে ধরে ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা পান। নিচে থাকা একটি টিনের শিটকে পাটাতন বানিয়ে অন্য সহকর্মীদের সহায়তা নিয়ে একেকটি রিং ধরে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে তারা সুড়ঙ্গের বাইরে আসতে সক্ষম হন। বাইরে আসার পর তাঁরা দেখতে পান, তীব্র পানির তোড়ে তাঁদের গায়ের পোশাক পর্যন্ত ভেসে গেছে।

নেপালি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে রাসুয়া জেলার বন্যাকবলিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে আপ্রাণ তৎপরতা দেখা গেছে। বিশেষ করে ত্রিশূলী থ্রি-এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা জীবিতদের জন্য বাতাস ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে ওপর থেকে ড্রিলিং করে গর্ত তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। পাহাড় থেকে নেমে আসা এই প্রলয়ংকরী কালো কাদা ও বরফমিশ্রিত ঢল ভাটির দিকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে বহু মানুষের প্রাণহানি এবং পুরো জনপদকে মাটির নিচে চাপা দিয়েছে।

আপার ত্রিশূলী সুড়ঙ্গ নম্বর ২-এর রাতের শিফট শেষ করে বের হওয়ার সময় দুর্যোগের মুখে পড়েন মদন সিং বুধা নামের আরেক শ্রমিক। তিনি জানান, চারদিকে পানি বেড়ে যাওয়ায় তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা খাড়া পাথুরে পাহাড়ের ঘাস আঁকড়ে ধরে ওপরে উঠে কোনোমতে জীবন বাঁচান; কিন্তু যারা ওপরে উঠতে পারেননি তারা স্রোতে ভেসে গেছেন। একইভাবে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা ভক্তি রাম বোহরা জানান, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা বোনের স্বামীসহ বহু সহকর্মী এখনো নিখোঁজ।

টানেলে কর্মরত বেশিরভাগ শ্রমিকই ছিলেন নেপালের প্রত্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলীয় জুমলা জেলার বাসিন্দা, যারা পরিবারের ভরণপোষণের জন্য এসব দুর্গম প্রকল্পে শ্রম দিতে এসেছিলেন। নিখোঁজদের স্বজন ও বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের উদ্ধারে ছুটে আসা স্থানীয় গাইড অমর বিস্তা অশ্রুসজল চোখে জানান, বাস্তবে টানেলের ভেতরে কারও জীবিত থাকার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এলেও মানুষ এখনো শেষ আশা ধরে রেখেছে। জীবিত বা মৃত—যেভাবেই হোক সহকর্মীদের শেষবারের মতো দেখতে অনেকে আবারও ভয়ংকর সেই সুড়ঙ্গের মুখে ছুটে যাচ্ছেন। রোববার রাতে বেঁচে ফেরা বিধ্বস্ত শ্রমিকদের একটি দল কাঠমান্ডু হয়ে জুমলায় তাঁদের পরিবারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

/আশিক


ইরানে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আফগান নাগরিকদের ফাঁসি: মানবাধিকার সংস্থা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ২০:১৩:৩৬
ইরানে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আফগান নাগরিকদের ফাঁসি: মানবাধিকার সংস্থা
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইরানে অবস্থানরত আফগান নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে গড়ে প্রতি মাসে অন্তত একজন করে আফগান বন্দির ফাঁসি কার্যকর করা হচ্ছে এবং আরও বহু সংখ্যক বন্দি বর্তমানে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে দিন গুনছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইরানি বিচারব্যবস্থায় এসব আফগান বন্দির সিংহভাগই আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী নিয়োগের মৌলিক আইনি অধিকার পাননি। এমনকি বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি কিংবা ফাঁসি কার্যকরের সুনির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে তাদের পরিবারকেও আগে থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। হত্যা ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের পাশাপাশি ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি বা ষড়যন্ত্র এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগে এসব কঠোর সাজা দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের এই মৃত্যুদণ্ড মূলত সিরাজ, ইয়াজদ ও ইসফাহানের কেন্দ্রীয় কারাগারগুলোতে কার্যকর করা হয়ে থাকে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা ছাড়াই অত্যন্ত গোপনে এই দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। ফলে দেশটিতে ঠিক কতজন আফগান নাগরিকের প্রাণদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তার প্রকৃত ও নির্ভুল পরিসংখ্যান পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ৮৫ জন আফগান নাগরিকের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল। ইরানে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের নাগরিকদের এমন প্রাণদণ্ড কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের রক্ষায় কাবুলের তালেবান প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর কূটনৈতিক বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ আফগানদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুরো মুসলিম উম্মাহর শত্রু: মোজতবা খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৮:১২:২৭
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুরো মুসলিম উম্মাহর শত্রু: মোজতবা খামেনি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শাসকগোষ্ঠী কেবল ইরানের একার শত্রু নয়, বরং তারা সামগ্রিকভাবে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম নেতৃত্বকে নিজেদের প্রকৃত শত্রু চিনে তাদের নানামুখী ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (৩০ আগস্ট) মুসলিম ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মুসলিম উম্মাহর যাবতীয় সংকটের টেকসই সমাধান নিহিত রয়েছে অভিন্ন লক্ষ্য, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ইনসাফ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও অবৈধ ইহুদিবাদী শক্তি মুসলিম বিশ্বের এই ভ্রাতৃত্ব ও সংহতির চূড়ান্ত বিরোধী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা কেবল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান, দেশটির সাধারণ জনগণ কিংবা ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের শত্রু নয়; বরং পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকাসহ গোটা মুসলিম জাহানের বিরুদ্ধেই তাদের মূল অবস্থান। ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের সঙ্গে মিত্রতা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শাসকেরা আধিপত্যকামী শক্তির চাপ ও অসম্মানের মুখোমুখি হতে বাধ্য হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিভেদকে শত্রুপক্ষের সবচেয়ে বড় কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করে মোজতবা খামেনি বলেন, ধর্মীয় ও মতাদর্শিক পার্থক্যের পাশাপাশি ভাষা, সংস্কৃতি, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যকে ব্যবহার করে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। উম্মাহকে খণ্ড-বিখণ্ড করে তাদের শক্তি দুর্বল করা এবং অনুকূল সময়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই আধিপত্যবাদীদের মূল উদ্দেশ্য। মুসলমানদের মাঝে দূরত্ব তৈরি করে এমন যেকোনো পদক্ষেপকে ইসলামবিরোধীদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের শামিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেনে বা না জেনে যে-ই বিভেদ সৃষ্টি করুক, বর্তমান বাস্তবতায় একে সাধারণ অজ্ঞতা বা অসতর্কতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; কারণ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো এখন তাদের অভিসন্ধি আর রাখঢাক করছে না।

ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গিয়ে ফিলিস্তিন পরিস্থিতি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ টেনে খামেনি প্রশ্ন তোলেন, মুসলিমরা যদি সত্যিকার অর্থে একতাবদ্ধ থাকত, তবে ফিলিস্তিনিরা আগ্রাসী শক্তির সামনে এতটা কোণঠাসা হতো কি না। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে হাজার মাইল দূর থেকে আসা কোনো অপশক্তি এ অঞ্চলের ভূখণ্ড ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের সাহস পেত না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইসলামের মূল শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে এ সময় মুসলিম বিশ্বের জন্য তিনটি মৌলিক দিক তুলে ধরেন সর্বোচ্চ নেতা। এগুলো হলো—সব ধরনের বিভেদ ভুলে সুদৃঢ় ঐক্য বজায় রাখা, পারস্পরিক হুমকি ও অবিশ্বাসের বিপরীতে একে অন্যকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান, নিরাপত্তা, সম্পদ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিসহ পার্থিব ও আধ্যাত্মিক সব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা। একটি শক্তিশালী ও গৌরবোজ্জ্বল নতুন ইসলামি সভ্যতা বিনির্মাণে মুসলমানদের ঐক্যই প্রধান ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র : প্রেস টিভি


নেদারল্যান্ডসের পরীক্ষাকেন্দ্রে ধরা পড়ল ট্রাম্পের মুখের ছাপযুক্ত বিপজ্জনক বড়ি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২১:৪৮:০৪
নেদারল্যান্ডসের পরীক্ষাকেন্দ্রে ধরা পড়ল ট্রাম্পের মুখের ছাপযুক্ত বিপজ্জনক বড়ি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখের আদলে তৈরি বিশেষ ধরনের এক্সট্যাসি বড়ি নিয়ে তীব্র সতর্কতা জারি করেছে নেদারল্যান্ডসের মাদকাসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ট্রিমবোস ইনস্টিটিউট। বড়িগুলোতে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান পিএমএমএ মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে পাওয়ার পর এই জরুরি বার্তা দেওয়া হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি আগস্ট মাসে নেদারল্যান্ডসের কয়েকটি মাদক পরীক্ষাকেন্দ্রে ওই বড়িগুলো জমা পড়ার পর সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে সেগুলোতে বিপজ্জনক মাত্রার পিএমএমএ উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর প্রেক্ষিতে ট্রিমবোস ইনস্টিটিউট সাধারণ মানুষকে এগুলো গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এই বড়ি সেবনে শরীরের তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

শনাক্ত হওয়া বড়িগুলোর নকশা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এর এক পাশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখাবয়ব খোদাই করা এবং অপর পাশে ‘ট্রাম্প’ ও ‘এনএল’ শব্দ দুটি মুদ্রিত রয়েছে। পিএমএমএ মূলত এমন এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান, যা সাধারণ এক্সট্যাসির মূল উপাদান এমডিএমএর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও মানবদেহে এর প্রতিক্রিয়া শুরু হতে দীর্ঘ সময় নেয়। এছাড়া প্রত্যাশিত মাদক প্রভাব দেরিতে শুরু হওয়ায় ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত হয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় বড়ি সেবন করে ফেলতে পারেন, যা মারাত্মক ঝুঁকির জন্ম দেয়।

এই রাসায়নিকের প্রভাবে মানবদেহে বমি বমি ভাব, মাত্রাতিরিক্ত হৃদস্পন্দন এবং তীব্র খিঁচুনির মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বড়ি গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরও এসব উপসর্গের প্রকাশ ঘটতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। তবে ট্রিমবোস ইনস্টিটিউটের মুখপাত্র অ্যানিক গ্রুটহুইস জানিয়েছেন, এই বড়ি সেবনের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা বা গুরুতর অসুস্থতার তথ্য রেকর্ড করা হয়নি।

নেদারল্যান্ডসের আইনে এক্সট্যাসি উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও ২০২৪ সালের একটি সরকারি প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বিনোদনমূলক পার্টিগুলোতে মাদক হিসেবে এটির ব্যাপক ব্যবহার এখনো বজায় রয়েছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের অবয়বে মাদক তৈরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়; এর আগে ২০১৭ সালেও জার্মানির পুলিশ ট্রাম্পের মুখের আদলে তৈরি প্রায় ৫ হাজার কমলা রঙের এক্সট্যাসি বড়ি উদ্ধার করেছিল।

সূত্র: বিবিসি


ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২১:৪৩:৫৯
ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখা। হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা ও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ বিবৃতি দেয় সংস্থাটি।

আইআরজিসির নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক ও উন্মুক্ত থাকা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া বক্তব্য পুরোপুরি অসত্য। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং নিজেদের নীতিগত ব্যর্থতা ঢাকতেই ওয়াশিংটন এ ধরনের ভিত্তিহীন দাবি প্রচার করছে।

ইরানি বাহিনী আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর দেশটির সামরিক যোদ্ধাদের শতভাগ পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। ফলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পূর্বানুমতি বা সমন্বয় ছাড়া চলাচলকারী যেকোনো নৌযানের জন্য প্রণালিটি কার্যত পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে দেশটির নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলা হয়, মার্কিন বাহিনীর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ও অপতৎপরতা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিতে এই ধরনের কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: পার্সটুডে


নেপালে বন্যায় ৬৬৯ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ এখনো ২ হাজারের বেশি মানুষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২১:৩১:৪৫
নেপালে বন্যায় ৬৬৯ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ এখনো ২ হাজারের বেশি মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এখনো ২ হাজার ৩৬২ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চলমান উদ্ধার তৎপরতায় এ পর্যন্ত ৬৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফালের বরাত দিয়ে জানানো হয়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৮৬৩ জনই স্থানীয় নেপালি নাগরিক, যার মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৫৯১ জন এবং নারী ২৬৪ জন। এছাড়া নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ৪৯৯ জন বিদেশি নাগরিক, যাঁদের মধ্যে ২২৩ জন পুরুষ ও ৩০০ জন নারী। উদ্ধারকৃত ৬৬৯টি মরদেহের মধ্যে ২৬৮ জন পুরুষ, ১৪৮ জন নারী, ২২ জন কিশোরী এবং ২০ জন কিশোরের মরদেহ রয়েছে। এর পাশাপাশি ২১১টি আংশিক মানব দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষে এ পর্যন্ত ২০টি মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের পর থেকে পরিচালিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩০১ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই আহতদের মধ্যে ১ হাজার ৫০৬ জন পুরুষ এবং ৭৯৫ জন নারী রয়েছেন।

প্রলয়ংকারী পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় ১ হাজার মানুষ বর্তমানে নুয়াকোট জেলার নয়টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন। তবে ধাদিং জেলার আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষদের ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান এবং নিহতদের শনাক্ত করতে দুর্গত অঞ্চলগুলোতে এখনো ব্যাপকভাবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট


মাত্র আধা ঘণ্টাতেই নিশ্চিহ্ন জনপদ, ভয়াবহ দুর্যোগের বিবরণ ত্রাণকর্মীদের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ১৯:৪৫:১২
মাত্র আধা ঘণ্টাতেই নিশ্চিহ্ন জনপদ, ভয়াবহ দুর্যোগের বিবরণ ত্রাণকর্মীদের
ছবি : সংগৃহীত

নেপালে সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার তীব্রতা কতটা প্রলয়ংকরী ছিল, তা উঠে এসেছে দুর্গত এলাকায় কর্মরত আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের বর্ণনায়। দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের রন্ধন বিভাগের পরিচালক ক্রিস মিলার জানিয়েছেন, বন্যার পানির তোড়ে কয়েকটি জনপদ মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। কাঠমান্ডু থেকে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, এই দুর্যোগের সবচেয়ে মারাত্মক দিক ছিল এর অভাবনীয় গতি; যার ফলে নিমেষেই পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

দুর্যোগকবলিত মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন। মিলার জানান, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ সংস্থাটি বন্যার আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উত্তরাঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সেখানে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের সহায়তায় একাধিক অস্থায়ী ফিল্ড কিচেন চালু করা হবে, যেখান থেকে প্রস্তুত করা গরম খাবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে প্রকৃতির এই আকস্মিক তাণ্ডবে নিখোঁজ হওয়া মানুষদের পরিবারের মাঝে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ২৬ বছর বয়সী যন্ত্রপ্রকৌশলী প্রতীক গৌতম রসুয়া জেলার আপার ত্রিশূলী ১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ভাই প্রভব গৌতম সিএনএনকে জানান, গত বুধবার সকাল ৯টা ৬ মিনিটে প্রতীক স্ন্যাপচ্যাটে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিওতে প্রকল্পের ক্যাম্প প্রাঙ্গণে বিপৎকালীন সাইরেন বাজতে এবং আতঙ্কিত লোকজনকে জীবন বাঁচাতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরের দিকে ছুটতে দেখা যায়।

ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই প্রতীকের সঙ্গে পরিবারের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্যোগের পর ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান না মেলায় স্বজনদের উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। ওই প্রকল্পের একই কক্ষে অবস্থান করা প্রতীকের আরেকজন সহকর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার জানায়, ভিডিও ধারণের মুহূর্তে প্রতীক তাঁর অফিসের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং পরবর্তীতে ঠিক কী ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অন্য একটি ভিডিও চিত্রে প্রকল্প এলাকার দুটি ছোট গাড়ির পাশে এক কর্মকর্তাকে দেখা গেলেও, সেই গাড়িতে থাকা প্রকৌশলীদের উদ্ধার বা অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি। এর আগে এমন পরিস্থিতিতে সাইরেন বাজলে কর্মীরা সাধারণত উঁচু পাহাড়ি জায়গায় আশ্রয় নিতেন বলেও পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

বন্যার তীব্র পানির স্রোত এবং বহু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত স্থানগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি জনপদগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠাতে মূলত হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও খাদ্যহীন মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

পাঠকের মতামত: