মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান

ইরানের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো ধরনের হামলা চালালে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত স্ট্র্যাটেজিক নৌপথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিষয়টির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিরক্ষা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দেবও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
রয়টার্সের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলে নীতিগত আলোচনা হয়েছে এবং হুতি কমান্ডের কাছে ইতিমধ্যে তেহরানের এই চূড়ান্ত বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ইরানের দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের এক উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, হুতিদের লোহিত সাগরে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
তবে এই স্পর্শকাতর বার্তাটি কোন মাধ্যমে হুতিদের কাছে পাঠানো হয়েছে কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও সেতুতে হামলার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার আগে নাকি পরে এটি পাঠানো হয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তারা প্রকাশ করেননি। এই চাঞ্চল্যকর খবরের বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুতিদের মুখপাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে হুতিদের নীতিনির্ধারণী মহলের ঘনিষ্ঠ একটি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, সংগঠনটি ইতিমধ্যে এডেন উপসাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী কৌশলগত অবস্থানগুলোতে তাদের দূরপাল্লার ভারী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন বহর মোতায়েন সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হোদেইদা উপকূলীয় এলাকা এবং এডেন উপসাগরসংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য বাঙ্কারগুলোতে এসব ঘাতক অস্ত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে তেহরান থেকে চূড়ান্ত সংকেত বা সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই তারা লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে একযোগে হামলা শুরু করতে পারে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি ইতিমধ্যে অবরুদ্ধ থাকায় যদি লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিও একইভাবে অচল করে দেওয়া হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুটি সমুদ্র বাণিজ্য পথ একযোগে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এর ফলে এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সাধারণ পণ্য পরিবহনের বৈশ্বিক চেইনটি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ মন্দা ডেকে আনতে পারে।
হুতিদের ভেতরের সূত্রটি আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছে, ইয়েমেনের মাটিতে হুতিদের সামরিক কমান্ড সেন্টারে অবস্থানরত ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বিশেষ প্রতিনিধিরাই বাব আল-মান্দেব প্রণালি কখন এবং কীভাবে বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়া একটি আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করেছে, জ্বালানি সরবরাহ রুখে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করার মাধ্যমেই মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা ইরানের প্রধান যুদ্ধকৌশল।
ওই আঞ্চলিক সূত্রটি আরও দাবি করে যে, সংকীর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নৌ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ বা ব্যাহত করতে খুব বেশি অত্যাধুনিক বা ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন পড়ে না। তাদের ভাষায়, প্রণালিটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একটি সাধারণ রাইফেলধারী সশস্ত্র দলও চাইলে এই জলপথে বড় বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, ইরান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের তাদের মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী বিস্তৃত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে। এই ইরানপন্থী আঞ্চলিক জোটে লেবাননের শক্তিশালী হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের কয়েকটি সশস্ত্র শিয়া মিলিশিয়া গ্রুপও রয়েছে, যারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান সংঘাতের বিভিন্ন ফ্রন্টে ইতিমধ্যে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছে। তবে হুতিরা এখন পর্যন্ত এই চলমান দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধে সরাসরি ও পূর্ণ শক্তি নিয়ে অংশ নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরানই মূলত হুতিদের অত্যাধুনিক অস্ত্র, বড় অংকের অর্থায়ন এবং হিজবুল্লাহর অভিজ্ঞ কমান্ডারদের মাধ্যমে আধুনিক সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। তেহরান অবশ্য শুরু থেকেই পশ্চিমাদের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নাকচ করে আসছে।
/আশিক
সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশের ওপর হামলা চালানোর জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জাইদি। গত মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো সৌদি আরব সফরে গিয়ে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
ইরাকি বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর শান্তি ও নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড ইরাকের মাটি থেকে হতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সবসময় সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই তাদের মূল নীতি।
এই সফরের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি বড় নিরাপত্তা ঘটনা। গত মাসে সৌদি আরবের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে যে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, তা পরবর্তীতে ইরাক থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে নিশ্চিত করা হয়। ওই হামলার জেরে সৌদি আরবকে সাময়িকভাবে তাদের তেল রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়েছিল। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল স্থানান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনটিতে বর্তমানে পুনরায় তেল সরবরাহ ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এই নাশকতার ঘটনার পরেই ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নিজে রিয়াদ সফরে গিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো আগ্রাসন ও হামলা রোধে সৌদি যুবরাজকে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করলেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে ইরান
সাম্প্রতিক ‘চল্লিশ দিনের যুদ্ধ’-এর পরবর্তী সময়ে নিজেদের অস্ত্রাগারে আরও বেশি উন্নত ও অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র যুক্ত করার বড় দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহেব্বি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের মুখে ইরান আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী ও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে হোসেইন মহেব্বি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত অবাস্তব ও অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত হবে। তবে এরপরেও যুদ্ধের বড় ধরনের ঝুঁকি বা আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর পেছনের মূল কারণ হিসেবে তিনি মন্তব্য করেন যে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সফলতা অর্জন বা একটি দৃশ্যমান ‘জয়’ দেখানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যেকোনো ধরনের অবিবেচকের মতো হঠকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
ইরান কর্র্তৃক উচ্চারিত এই নতুন ও কঠোর সতর্কবার্তা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আগে থেকেই বিরাজমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদকে আরও বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র অত্যন্ত জোরালো ভাষায় জানান যে, দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ড নিরাপত্তা রক্ষায় দেশের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো সামরিক সংঘাতের সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এর জন্য অত্যন্ত চড়া মূল্য ও উপযুক্ত মাশুল গুনতে হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানে নতুন করে হামলা চালানো এখন উপযুক্ত নয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে নিজের সতর্ক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে পুনরায় হামলা চালানো একেবারেই ‘উপযুক্ত নয়’। একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর রাজনৈতিক জোট বিজয়ী হলেও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভিরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
ইসরায়েলের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘আর্মি রেডিও’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যগুলো করেন। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে এই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের নির্বাচন এবং এর ঠিক এক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠেইয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই সামরিক এই পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহু বেশ আগ্রহী ছিলেন। তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের মাত্র এক দিন পর নেতানিয়াহুর এই নতুন মন্তব্য সামনে এল, যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই বক্তব্যকে আগের রিপোর্টের সরাসরি বিরোধিতা হিসেবে দেখার আগে সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর জোট জয়লাভ করলেও কট্টরপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বেন-গভির এই পদের প্রতি প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর একক ইশারায় হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল নেতৃত্ব তাঁর নিজের দল ‘লিকুদ পার্টি’র হাতেই ন্যস্ত থাকবে।
নেতানিয়াহুর এই দ্বিমুখী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের ঠিক আগে সম্ভাব্য সরকার গঠন প্রক্রিয়া এবং দেশের অতি সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়গুলোর ভবিষ্যৎ দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় ও যৌক্তিকতা নিয়ে তাঁর সংযত মন্তব্য এবং অন্যদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান—এই দুটি বিষয়ই ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আল জাজিরা
সানায় আক্রমণের পাল্টা জবাবে সৌদির ৩ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার হুশিয়ারি
ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি তেল স্থাপনায় বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থাপনা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হুথিদের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, সৌদি জোট যদি সানায় তাদের ঘোষিত বিমান হামলা বাস্তবায়ন করে, তবে তার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত জ্বালানি জায়ান্ট আরামকোর সদর দপ্তর, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদস্থ আরামকোর তেল শোধনাগার। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে এই সংবেদনশীল এলাকাগুলো থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
এর আগে সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি সানার উক্ত তেল স্থাপনায় সামরিক অভিযানের কথা জানান এবং সেখানকার বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগ করার বার্তা দেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ও হুথি বাহিনীর মধ্যকার প্রত্যক্ষ সংঘাত এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয় রিয়াদ।
এদিকে মঙ্গলবারও রিয়াদ অভিমুখে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়, যা সৌদি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তবে এসব ড্রোন ঠিক কোন লক্ষ্যবস্তুতে কিংবা কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে তুর্কি আল মালিকি বিস্তারিত কিছু জানাননি। সানায় বিমান হামলার তোড়জোড় এবং হুথিদের পাল্টা রিয়াদ-দাম্মামে আক্রমণের সতর্কবার্তায় পুরো অঞ্চলে চরম সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
/আশিক
জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতে যৌথভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য ইসরায়েলের দেওয়া এক প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। সোমবার হিব্রু ভাষার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আনাদোলু আরবি।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় রিয়াদকে এই প্রস্তাবে রাজি করানোর জোর চেষ্টা চালিয়েছিল তেল আবিব। মূলত হুথিবিরোধী অভিযানে সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয় সাধন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পথ সুগম করাই ছিল ইসরায়েলের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তবে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের সরাসরি সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়ে একেবারেই আগ্রহী নন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুবরাজের ধারণা, ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান না করে তেল আবিবের সঙ্গে হাত মেলালে কিংবা ইসরায়েলের সহায়তায় জোট গড়লে সৌদি আরবসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের জনমনে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। সৌদি যুবরাজের এই কঠোর ও নীতিগত আপত্তির কারণে ইয়েমেন ও হুথিবিরোধী কার্যক্রমে ইসরায়েলের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আপাতত সম্পূর্ণভাবে নাকচ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রিয়াদ সবসময় বলে আসছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক সমাধান ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের প্রাণঘাতী হামলায় হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ সবসময় নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভয় ও অস্থিতিশীলতা ছড়াতে চায়। একটি শক্তিশালী মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তুলতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সৌদি আরবে হুথিদের হামলা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। গত শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এর পাশাপাশি চলতি অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ থেকে সৌদির পাঁচটি বিমানবন্দরে অন্তত ১০টি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে এ পর্যন্ত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। এসব হামলায় বিমান চলাচলের পাশাপাশি দেশটির অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মূলত গত জুলাই থেকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে এই তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদির বেসামরিক বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলো।
/আশিক
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা দেশটির বহুল প্রচলিত নিরাপদ ভাবমূর্তি এবং অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেও রিয়াদকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও বিনিয়োগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল সৌদি প্রশাসন, এই হামলা তাতে মারাত্মক ধাক্কা দিয়েছে।
শনিবারের ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। নিহতদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের একজন ধর্মীয় নেতাও রয়েছেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার দ্বিতীয় দফার হামলায় আরও একজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এর ফলে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী পরিবারগুলোর মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল ও মোহাম্মদসহ অনেক প্রবাসী মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বেসামরিক বিমানবন্দর ও জনবহুল স্থানে এমন হামলার পর পরিবার নিয়ে ভবিষ্যতে সেখানে থাকা নিরাপদ হবে কি না, তা নিয়ে তারা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে সৌদির ভাবমূর্তিও এখন প্রশ্নের মুখে। আগামীতে দেশটির বড় বিনিয়োগ সম্মেলন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক এই হামলা এবং হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে রিয়াদের অর্থনৈতিক রূপকল্প মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি জোটের ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে।
এদিকে এই সংকটের মাঝে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য—যে সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই রক্ষা করতে সক্ষম—রিয়াদকে আরও হতাশ করেছে। দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিরাপত্তা নির্ভরতার পর বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব নিজেদের কৌশলগত মিত্র খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে। তারই প্রতিফলন হিসেবে গত আগস্টে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র গুরুত্ব এখন অনেক বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে হুথিদের এই আগ্রাসন কেবল সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেই কাঁপিয়ে দেয়নি, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে এক নতুন সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে অনূদিত
হামলার পূর্বভাস কেন দেওয়া হলো না? সৌদি সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় হতাহতের বড় ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এসব হামলায় ১৮ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব হামলার ঠিক কয়েকদিন আগেই সাধারণ নাগরিকদের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার সরকারি ব্যবস্থাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে সাম্প্রতিক অন্তত চারটি বড় হামলার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা পাননি সাধারণ মানুষ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আগাম সতর্কবার্তা না দেওয়ার এই বিষয়টি সৌদি সরকারের চরম দুর্বলতা এবং বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আরব ও পশ্চিমা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেও সবকিছু স্বাভাবিক দেখানোর এক ধরনের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি সরকার। মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক ফেলো সুলতান আলামের ভাষায়, সৌদি প্রশাসন মূলত ‘দুই কূল রক্ষা করতে চাইছে’—একদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায়, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি অংশীজনদের আস্থা ধরে রাখতে চায়। তবে রয়টার্স এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সিভিল ডিফেন্স ও সরকারি মিডিয়া অফিসে যোগাযোগ করলেও তাদের তরফ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই কৌশল শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হতে পারে, কারণ আগাম সতর্কবার্তা না থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর গত সোমবার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ রিয়াদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে নতুন করে সম্ভাব্য হুমকির সতর্কতা জারি করেছে। তবে রিয়াদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসন কিছু স্পষ্ট করেনি।
দেশের বিশাল ভৌগোলিক আয়তন এবং প্রতিরক্ষা ঘাটতির কথাও স্বীকার করেছেন বিশ্লেষকরা। সরকারঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলী শিহাবি জানিয়েছেন যে, দেশটির বিশাল পরিসরে অসংখ্য বিমানবন্দর, পাইপলাইন ও তেল স্থাপনা রয়েছে এবং সেগুলোর সব একসঙ্গে রক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি রয়েছে।
এতসব নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও হামলার মধ্যেও সৌদি আরব যে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর, তার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক জ্বালানি সম্মেলনে। হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার দেশটিতে একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সেখানে শীর্ষ তেল কোম্পানির নির্বাহীরা অংশ নেননি, তবে সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুবরাজের ভাই ও দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান স্বীকার করেন যে ঝুঁকির পুরোপুরি অবসান হয়নি। তবুও আন্তর্জাতিক অতিথিদের উদ্দেশে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান যে দেশ নিরাপদ রয়েছে এবং সৌদি সরকার তাদের অর্থনৈতিক রূপকল্প ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো সুযোগই হাতছাড়া করবে না।
/আশিক
ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলা হলে সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি কমান্ডারের
ইউরোপে ন্যাটোর সদস্যভুক্ত কোনো দেশের ভূখণ্ডে রাশিয়া যদি সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে জোটটির সামরিক শক্তি সেই হামলার সঙ্গে জড়িত সবকিছু সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। সোমবার (১২ অক্টোবর) পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে অনুষ্ঠিত এক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, মস্কো যদি এমন কোনো বোকামি করে বসল, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও অর্থহীন হবে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর জেনারেল গ্রিনকিউইচ বর্তমানে ন্যাটোর ‘সুপ্রিম অ্যালায়েড কমান্ডার ইউরোপ’-এর দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে ন্যাটোর বিজয়ের নিজস্ব রণকৌশল তুলে ধরে তিনি বলেন, ন্যাটো মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট হলেও জোটভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপরও যদি কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে সেই আক্রমণ শুধু প্রতিহতই করা হবে না, বরং হামলাকারীকে সম্পূর্ণরূপে দুর্বল ও অকার্যকর করে দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা ক্রমশ চরম রূপ ধারণ করেছে। ইউরোপীয় সরকারগুলোর পক্ষ থেকে বরাবরই অভিযোগ করা হচ্ছে যে, রাশিয়া সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ড্রোনের অনুপ্রবেশ, নাশকতা এবং সাইবার হামলার মাধ্যমে তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর আগে গত মাসেও রাশিয়া কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল যে, ন্যাটো যদি তাদের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ করার কোনো অপচেষ্টা চালায়, তবে মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে পিছপা হবে না।
যদিও ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে দেওয়া বক্তৃতায় গ্রিনকিউইচ সরাসরি রাশিয়ার নাম উচ্চারণ করেননি, তবে তার এই প্রকাশ্য সতর্কবার্তা যে পুরোপুরি মস্কোকে উদ্দেশ্য করেই ছিল, তা স্পষ্ট। উল্লেখ্য, ন্যাটোর ২০২২ সালের কৌশলগত ধারণাপত্রে রাশিয়াকে জোটের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
জেনারেল গ্রিনকিউইচ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের ওপর আক্রমণ করার মতো বড় কোনো বোকামি করে বসে, তবে আমরা তার উপযুক্ত জবাব দেব। আমরা সেই হামলা তাৎক্ষণিকভাবে থামিয়ে দেব এবং হামলাকারীকে তাদের কোনো লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ করে দেব। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যেকোনো মিত্রের ওপর যেকোনো ধরনের হামলাকে আমরা সম্পূর্ণ অর্থহীন করে তুলব।’
প্রয়োজনে এই পাল্টা জবাব কেবল সীমান্তবর্তী সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আরও ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী রূপ নিতে পারে বলে মস্কোকে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন এই শীর্ষ কমান্ডার। তিনি জানান, শত্রুপক্ষ যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত বা রিজার্ভ বাহিনী মোতায়েন করতে চায়, তবে তাদের গোটা যুদ্ধ পরিচালনা ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
গ্রিনকিউইচ আরও যোগ করেন, ‘এই ধ্বংসযজ্ঞের আওতায় কেবল সরাসরি আক্রমণকারী বাহিনীই থাকবে না, বরং যে শক্তিগুলো ওই বাহিনীকে পেছন থেকে সহায়তা করে, টিকিয়ে রাখে এবং সার্বিক নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করে—তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’
সূত্র : রয়টার্স
রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে আবার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্ক
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে আবারও বিকট বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পরপরই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। এটি সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নাকি সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আগত কোনো হামলা প্রতিহত করার ঘটনা—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর ঠিক একদিন আগে, শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৩০৯ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি পাঁচজন সৌদি নাগরিকও ছিলেন। এই প্রাণহানির পাশাপাশি বিমানবন্দরের পরিকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে। উক্ত ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরটিতে আপাতত ফ্লাইট ওঠানামা স্থগিত করা হয়।
শনিবারের বিমানবন্দর হামলার জবাবে রোববার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানার বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শক্তিশালী বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। আর এই বিমান হামলার প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় রিয়াদ শহর জুড়ে আবারও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।
উল্লেখ্য, বিগত প্রায় দুই মাস ধরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ক্রমাগত হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। দুই পক্ষের এই সামরিক উত্তেজনায় কৌশলগত সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সাধারণ বেসামরিক মানুষও হতাহতের শিকার হচ্ছেন।
সূত্র: আলজাজিরা
পাঠকের মতামত:
- নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা
- দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
- নানিয়ারচর জোন কর্তৃক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত
- টিকটকের মোহে নতুন জীবনের খোঁজে ঘর ছেড়েছিল চার স্কুলছাত্রী
- সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
- সাভারের হেমায়েতপুরে মাদানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ আগুন
- সৌদি বিমানবন্দরে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল
- আগামীকাল আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- ভিডিওর জন্য ঘরে বসেই এআই দিয়ে ভয়েসওভার তৈরির সহজ উপায়
- বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমল স্বর্ণের দাম
- মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে ইরান
- ইরানে নতুন করে হামলা চালানো এখন উপযুক্ত নয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- প্রথম মাসে ফ্রিতে ব্যবহার করুন বাংলালিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্ক
- সরকারি চাকরি ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টকে কেন্দ্র করে সারজিস-ফারুকের তীব্র বাকযুদ্ধ
- জ্বালানি সংকট নিরসনে জিটুজি চুক্তিতে ৯ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার
- ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে জনপ্রিয় ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’
- অপারেশন ক্লিন হার্ট বা বিশেষ কোনো যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর আমন্ত্রণে বিশেষ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা
- ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান
- বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা ও সহিংসতার বিচার চেয়ে সাদপন্থিদের ৬ দফা দাবি
- জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার পর ড. ইউনূসকে নিয়ে বড় আপডেট দিলেন লামিয়া মোর্শেদ
- সানায় আক্রমণের পাল্টা জবাবে সৌদির ৩ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার হুশিয়ারি
- আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
- বোলারদের ব্যর্থতা ও ক্যাচ মিসে জয় হাতছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তদের
- প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে ফলগুলো ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মেটায়
- ২০২৭ সালে কবে শুরু রোজা? সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত
- জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
- আর কখনো ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে চুয়েট ছাড়লেন নতুন উপাচার্য
- রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা
- আবহাওয়ার নতুন বার্তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস
- দিল্লিতে আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
- বিএনপি জনগণের সরকার হতে পারেনি, নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে: সারজিস আলম
- হামলার পূর্বভাস কেন দেওয়া হলো না? সৌদি সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
- যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ডা. শফিকুর রহমানের
- ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান
- দিল্লিতে ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনী আরও এক মাস রাখার সিদ্ধান্ত
- চোরের মন পুলিশ-পুলিশ: জামায়াত আমিরের রহস্যময় ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়
- মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলা হলে সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি কমান্ডারের
- বিচ্ছেদের পরও সাবেক স্ত্রীর নতুন জীবনের পাশে স্পাইডার-ম্যান
- মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির চলছে: ববি হাজ্জাজ
- ওজন ও ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু তিন ধরনের সালাদ
- রাশিয়ার ডিজেল চুক্তির পরও আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম
- ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
- কত পুলিশ আনবেন আনুন, ভয় পাই না: অমিত শাহকে রাহুল গান্ধীর কড়া বার্তা
- সর্বকালের সেরা কে? নিজেই নিজের নাম ঘোষণা করলেন রোনালদো
- ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা পেতে পিএমটি স্কোর কত লাগবে?
- চুয়েটের ভিসি একজন গুন্ডা: সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিস্ফোরক হাসনাত আবদুল্লাহ
- ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
- জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথে রূপপুরের প্রথম ইউনিট
- ঢাবিতে শান্তি বৈঠক রূপ নিল সংঘর্ষে: সূর্যসেন ও জহুরুল হক হলের ৪ জন গুরুতর আহত
- মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যে জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য সময়
- ভোটাধিকার রক্ষায় দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিল ইন্ডিয়া জোট
- হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন
- বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয়ের সংকেত: সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ
- রমজানে পণ্য সংকটের আশঙ্কা নেই: পর্যাপ্ত আমদানির আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর নির্দেশ গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর
- ভারতীয় চলচ্চিত্রে গভীর শোকের ছায়া: হঠাৎ থমকে গেল এক রূপালী পথচলা
- ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও রিজভীউল হাসান মুন্সী
- রাজশাহীর পুঠিয়ায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে
- আবহাওয়া দপ্তরের নতুন পূর্বাভাস: বর্ষার শেষে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটুকু?
- চম্পাফুলে তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও আমের চারা বিতরণ
- ১১ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস: নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত








