ঢাকার দোরগোড়ায় ৭.৫ মাত্রার মহা-ভূমিকম্পের শঙ্কা, ৩-৫ শত বছরের চক্র এখন পূর্ণ

ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানীদের গভীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৩-৫ শত বছরের একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ‘রিটার্ন পিরিয়ড’ বা প্রাকৃতিক পুনরাবৃত্তির দীর্ঘ চক্রটি বর্তমানে প্রায় পূর্ণতার শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যেকোনো মুহূর্তে ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার একটি অতি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হানার চরম ও উদ্বেগজনক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গবেষণা এবং জরিপে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, এ ধরনের বড় মাপের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে রাজধানী ঢাকা নজিরবিহীন প্রাণহানি, মানবিক বিপর্যয় ও ব্যাপক অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হতে পারে।
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে বলছেন, ঢাকা মহানগরীর অনিয়ন্ত্রিত ও সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অত্যন্ত দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণ শৈলী এবং আধুনিক দুর্যোগ মোকাবিলার পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির অভাব এই সামগ্রিক ঝুঁকিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা ৭.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বিশ্বজুড়ে যেমন নতুন করে সতর্কতা জারি হয়েছে, ঠিক তেমনি বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকাতেও সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদদের মাঝে নতুন করে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদীকে উপকেন্দ্র করে উৎপন্ন হওয়া ৫.৭ মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যার প্রভাবে বহু বহুতল ভবন বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়ে এবং সারা দেশে ১০ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানিসহ শত শত মানুষ গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে নরসিংদীর ওই ঘটনার চেয়ে কম মাত্রার একাধিক ছোট ছোট কম্পন দেশের বিভিন্ন স্থানে রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ও ভূতাত্ত্বিকদের মতে, ঘন ঘন হওয়া এসব ছোট ছোট কম্পন আসলে মাটির নিচে জমে থাকা এক বিশাল ও ভয়ানক শক্তির সাময়িক বহিঃপ্রকাশ, যা মূলত যেকোনো মুহূর্তে একটি মহা-ভূমিকম্পের আগমনী বা আগাম বার্তা দিচ্ছে।
ভৌগোলিক ও ভূগর্ভস্থ গঠন বিন্যাস অনুযায়ী বাংলাদেশ মূলত তিনটি অত্যন্ত গতিশীল ও সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের (ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং বার্মা প্লেট) ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগস্থলের ওপর অবস্থান করছে। ঢাকার খুব কাছাকাছিই অবস্থান করছে বিপজ্জনক ‘মধুপুর ফল্ট’ এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিলেট সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে অত্যন্ত সক্রিয় ‘ডাউকি ফল্ট সিস্টেম’।
শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রধান ফল্ট লাইনগুলো থেকে বড় ধরনের কোনো জমে থাকা শক্তি বা চাপ প্রাকৃতিকভাবে নির্গত হয়নি, যার বৈজ্ঞানিক অর্থ হচ্ছে মাটির নিচে ফল্টগুলোতে প্রতিনিয়ত তীব্র ও ভয়ংকর চাপের সৃষ্টি হচ্ছে যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের খ্যাতনামা অধ্যাপক ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী এই কাঠামোগত বিপদের গভীরতা তুলে ধরে বলেন, ঢাকার একটি বিশাল অংশ পূর্বের প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল, বিল ও জলাশয় বালু বা নরম পলিমাটি দিয়ে ভরাট করে বহুতল আবাসন গড়ে তোলা হয়েছে।
বিজ্ঞানসম্মতভাবে এ ধরনের নরম মাটিতে ৭ মাত্রার তীব্র ঝাঁকুনি লাগলে মাটি তার নিজস্ব ধারণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে তরল পদার্থের মতো আচরণ শুরু করে, যাকে প্রকৌশল বিদ্যায় ‘লিকুইফেকশন’ বলা হয়। এর ফলে এই নরম মাটির ওপর অপরিকল্পিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বহুতল ভবনগুলো মুহূর্তের মধ্যে মাটির নিচে দেবে যেতে পারে অথবা একটি আরেকটির ওপর হেলে পড়ে ধসে পড়তে পারে।
ড. আনসারী আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক বিজ্ঞান দিয়ে ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময় আগে থেকে বলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, তাই একমাত্র পথ হচ্ছে আঘাত হানার পূর্বেই যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বিগত দিনগুলোতে বাংলাদেশে এই জীবনরক্ষাকারী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর কার্যক্রম বা জাতীয় উদ্যোগ দেখা যায়নি, কারণ এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য যে ধরনের সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন ছিল, তা বিগত সরকারের নীতিনির্ধারকদের মাঝে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের কাছে বিশেষজ্ঞদের বিশেষ প্রত্যাশা, তারা যেন কালক্ষেপণ না করে এই জাতীয় সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কারণ বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৯০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু ও ক্ষতি হয় মূলত ভবন ধসে পড়া বা কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ার কারণে। বর্তমানে ঢাকাসহ সারা দেশে ৪ থেকে ১০ তলা বিশিষ্ট প্রায় ২০ লাখ ভবন রয়েছে, যাদের বড় অংশই ভূমিকম্প সহনশীল নয় এবং এই চরম বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে চলা আত্মঘাতী হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ (DAP)-এর অফিশিয়াল মাস্টারপ্ল্যানের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ স্থাপনা বা ভবন রয়েছে। রাজউকের ঝুঁকি মানচিত্র অনুযায়ী, যদি ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ঢাকাকে কেন্দ্র করে আঘাত হানে, তবে শহরের দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ কাঠামোর কারণে প্রায় ৭২ হাজার ভবন তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ ধসে পড়বে। এর ফলে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের নির্মম প্রাণহানি ঘটবে এবং পরবর্তীতে উদ্ধারকাজের অভাব ও গ্যাস-বিদ্যুতের আগুনে এই মৃত্যুর মিছিল পর্যায়ক্রমে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
/আশিক
রাত ১টার মধ্যে ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর ফলে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১টার মধ্যে দেশের ১৪টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় মাঝারি থেকে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত এক বিশেষ পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী—রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এসব এলাকার সব নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সারা দেশের আবহাওয়ার সাধারণ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
/আশিক
জিলা স্কুল থেকে বেরোবি গেট: ১৬ জুলাই রংপুরের রাজপথে পুলিশের বর্বরোচিত হামলা
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশপাশের এলাকা কোটা সংস্কার আন্দোলনের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে বিশ্ববিদ্যালয় ১ নম্বর গেটের সামনে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ার পাশাপাশি নির্বিচারে লাঠিচার্জ শুরু করে। ওই রণক্ষেত্রে পুলিশের তাক করা অস্ত্রের মুখে একা দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের ছোড়া বুলেটের আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের ট্রলিতে পড়ে থাকা আবু সাঈদের নিথর দেহ দেখে সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দেশের আইন-আদালতের ওপর আস্থা হারিয়ে রাজপথেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার শপথ নেন। সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার না করে ট্রলিতেই সাঈদের মরদেহ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে এক মৌন ও ক্ষুব্ধ মিছিল বের করেন। মিছিলটি রংপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় পার হওয়ার পর পুলিশ বাধা দেয়। পরে পুলিশ লাইন্স মোড়ে প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্যের একটি দল এসে শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করে জোরপূর্বক মরদেহটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়কের ওপর শুয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।
এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল আরও কয়েক দিন আগে থেকেই। গত ১১ জুলাই বেরোবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই দিন ১ নম্বর গেটের কাছে মিছিল পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের ব্যানার কেড়ে নিয়ে আবু সাঈদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এরপর ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে সারা দেশের মতো রংপুরের ক্যাম্পাসগুলোও ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৫ জুলাই বিকেলে ছাত্রলীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বেরোবি গেটে উসকানিমূলক শোডাউন দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নিয়ে কটূক্তি করা হয়, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জেদ আরও বাড়িয়ে দেয়।
১৬ জুলাই সকালে জিলা স্কুলের সামনে সাধারণ ছাত্ররা জড়ো হয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টাউন হলের দিকে রওনা দিলে প্রথম দফায় পুলিশ লাইন্স মোড়ে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা মডার্ন মোড় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ আবারও তাদের পথ আটকায়। একপর্যায়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড মারতে শুরু করে। ঠিক তখনই পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে বুক পেতে দেন আবু সাঈদ। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রিকশা ও পরে অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর শরীর নিথর হয়ে যায়।
এদিকে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পার হলেও বিচার প্রক্রিয়া ও রায় কার্যকর না হওয়ায় গভীর অসন্তোষ ও চরম হতাশা প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন জানান, আদালতের সিদ্ধান্তের পরও রায় দ্রুত কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি তারা দেখতে পাচ্ছেন না। একই রকম আক্ষেপ প্রকাশ করে তাঁর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, বাড়িতে এখনো বহু মানুষের ভিড় হয়, গণমাধ্যমকর্মীরা আসেন, কিন্তু তাঁর বুকের মানিক আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। প্রকাশ্য দিবালোকে সন্তান হারানোর এই ক্ষত আজীবন তাদের পরিবারকে বয়ে বেড়াতে হবে।
/আশিক
ঘনীভূত হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ, ৫ দিনের আবহাওয়া নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপ আরও শক্তিশালী ও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও স্পষ্ট আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাসে এই সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় এই লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে আরও ঘনীভূত হওয়ার অনুকূল অবস্থায় রয়েছে। তিনি লঘুচাপের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বলেন, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষটি বর্তমানে ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর ফলে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।
১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
১৭ থেকে ১৯ জুলাই (শুক্রবার থেকে রবিবার) পর্যন্ত পূর্বাভাস
১৭ ও ১৮ জুলাই (শুক্রবার ও শনিবার): এই দুই দিন দেশের আবহাওয়ার তেমন কোনো বড় পরিবর্তন হবে না। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
১৯ জুলাই (রবিবার): লঘুচাপের প্রভাবে এই দিন রংপুর বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়বে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং ওই দিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আগামী ৫ দিনের আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী আভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তর বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, পরবর্তী পাঁচ দিনে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও ব্যাপক আকারে বাড়তে পারে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী রূপ নিলে এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উপকূলীয় ও পাহাড়ি জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা ও বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
/আশিক
৩ দফা দাবিতে ঢাকাজুড়ে পরীক্ষার্থীদের লংমার্চ, শাহবাগ মোড়ে তীব্র উত্তেজনা
টানা বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার মুখে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত এবং নতুন রুটিন প্রকাশের দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই মোড় দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কগুলোতে এবং তীব্র যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ ও জরুরি রোগীবাহী যানবাহন।
এর আগে দুপুরের দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে জড়ো হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এরপর সেখান থেকে তারা সচিবালয় অভিমুখে একটি লংমার্চ শুরু করেন। মিছিলটি হাইকোর্ট এলাকার শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা সেখানে সন্ধ্যা প্রায় ৬টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
তবে সচিবালয়ের প্রধান প্রবেশমুখে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যারিকেডের মুখে পড়লে শিক্ষার্থীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। সেখানে বাধা পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে পুনরায় শাহবাগ মোড়ে ফিরে যান এবং নতুন করে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীকালকের পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর অবস্থান কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের অনেকের আগামীকাল যেহেতু পরীক্ষা আছে, তাই এখানের কর্মসূচি আমরা আজকের মতো শেষ করছি। তবে আমাদের তিন দফা দাবি বহাল থাকবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।’
শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক অবরোধের কারণে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, বাংলামোটর, কাকরাইল, টিএসসি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নজিরবিহীন যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকায় অফিসফেরত সাধারণ যাত্রী ও মুমূর্ষু রোগীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়। তীব্র যানজট এড়াতে অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা যায়।
যানজটে আটকে থাকা শাহীন নামের এক ভুক্তভোগী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকাল থেকে এখন পর্যন্ত পুরো ঢাকায় স্থবির অবস্থা। একেক সময় একেক জায়গায় রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভোগান্তিতে ফেলার কোনো মানে হয় না।’
উর্মিলা নামের আরেক যাত্রী বাসের ভেতর থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই প্রচণ্ড গরমে ছোট বাচ্চা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের মধ্যে বসে আছি। সাধারণ মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।’
এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
/আশিক
বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
রাজধানীতে কেনাকাটা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন জেনে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে গিয়েও মার্কেট বা দোকানপাট বন্ধ পাওয়ার মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। তাই বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ থাকবে, তা আগে থেকেই জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বুধবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকবে। বিশেষ করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মধ্য বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা, জগন্নাথপুর, বারিধারা, সাঁতারকুল, শাহজাদপুর, নিকুঞ্জ-১, নিকুঞ্জ-২, কুড়িল, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান, জোয়ার সাহারা, আশকোনা, বিমানবন্দর সড়কসংলগ্ন এলাকা এবং উত্তরা থেকে টঙ্গী সেতু পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের দোকানপাট এদিন বন্ধ থাকবে।
একই সঙ্গে রাজধানীর কয়েকটি জনপ্রিয় শপিংমল ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সেও সাপ্তাহিক বন্ধ পালন করা হবে। বন্ধ থাকবে দেশের অন্যতম বৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স যমুনা ফিউচার পার্ক। এছাড়া নুরুনবী সুপার মার্কেট, পাবলিক ওয়ার্কস সেন্টার, ইউনিটি প্লাজা, ইউনাইটেড প্লাজা, কুশল সেন্টার, এবি সুপার মার্কেট, আমির কমপ্লেক্স এবং মাসকট প্লাজাও বুধবার বন্ধ থাকবে।
রাজধানীর এসব এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কেনাকাটা, অফিস-সংক্রান্ত কাজ কিংবা বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করেন। ফলে সাপ্তাহিক বন্ধ সম্পর্কে আগাম ধারণা থাকলে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি, সময়ের অপচয় এবং যানজটে আটকে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষ করে যমুনা ফিউচার পার্ক, বারিধারা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও বিমানবন্দর সড়কসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়। তাই এসব গন্তব্যে যাওয়ার আগে সাপ্তাহিক বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
-রফিক
১৪ জুলাইয়ের অদ্ভুত সমাপতন: ২০২৪-এ 'রাজাকার' আর ২০২৬-এ 'ফার্মের মুরগি' বিতর্ক
বাংলাদেশের ছাত্র ও গণআন্দোলনের ইতিহাসে ১৪ জুলাই তারিখটি এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় সমাপতনের জন্ম দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের এই দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ইঙ্গিত করে ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ মন্তব্য করেছিলেন, যা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে মুহূর্তের মধ্যে সরকার পতনের একদফা দাবিতে রূপ দেয়। ঠিক এর দুই বছর পর, ২০২৬ সালের এই একই দিনে (১৪ জুলাই, মঙ্গলবার) শিক্ষামন্ত্রীর ‘ফার্মের মুরগি’ বিষয়ক এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তাল রইল সারা দেশ।
শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ ও নতুন স্লোগানের সূত্রপাত মূলত সোমবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও-ভিডিও রেকর্ড। জানা গেছে, গত রোববার এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে। আমার মেয়ের মতে।’ এই মন্তব্যকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম অবমাননাকর ও অপমানজনক দাবি করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর পর থেকেই মঙ্গলবারের ছাত্র আন্দোলনে ‘ফার্মের মুরগি’ স্লোগানটি দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, চীন সফর শেষে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরাও পাবে না? তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে?’ তাঁর এই মন্তব্যের জেরে ওই দিন মধ্যরাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসেন এবং ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানের মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে এই ক্ষোভই ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক সরকার পতনের বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
দুই বছর পর ২০২৬ সালের এই জুলাইয়ে এসে ‘ফার্মের মুরগি’ বিতর্কের মূল কারণ ছিল দেশের চলমান ভারী বৃষ্টি ও ব্যাপক জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার অনড় সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ওই ফোনালাপের ভিডিওটি ভাইরাল হয়। রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক হোয়াটসঅ্যাপে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় সেই আলাপের অংশবিশেষ অন্য একটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে পরীক্ষার্থীদের শারীরিক নাজুকতা বোঝাতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এরা তো ফার্মের মুরগি, এগুলো তো মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে। আমার মেয়ের তাই হয়। একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিন দিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।’
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ ও উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় রাজপথে ‘আমি কে, তুমি কে, ফার্মের মুরগি’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন। পরবর্তীতে ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশালসহ দেশের প্রধান প্রধান বিভাগীয় ও জেলা শহরেও একই দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
দেশজুড়ে এমন তীব্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে নিজের এই মন্তব্যের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে আঘাত করতে কিছু বলিনি। তারপরও আমার বক্তব্যে কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন বা আহত হয়ে থাকেন, সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’ মন্ত্রীর এই বিবৃতির পর সংসদে উপস্থিত সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁর এই দুঃখ প্রকাশকে স্বাগত জানান।
এর আগে বিকেলের অধিবেশনে সংসদে স্পিকারের মাধ্যমে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যার ওপর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে, সেটি পদার্থবিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়ের দিন কেন মাত্র এক বা দুই দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া গেল না, তা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান।
রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী সংসদে জানান, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। চলমান পরিস্থিতির ওপর সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছিল এবং ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইউএনওদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হয়েছিল। আবহাওয়া অফিস পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে বলে আশ্বস্ত করার পর, পরীক্ষার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই দেশজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের কয়েকদিনের টানা বর্ষণে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতা ও কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়। ফলে পরীক্ষার দিন বহু শিক্ষার্থীকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে এবং নৌকায় চড়ে চরম ভোগান্তি সহ্য করে কেন্দ্রে যেতে হয়, যার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষামন্ত্রীর বিতর্কিত অডিও ফাঁসের পর শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়।
/আশিক
সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পদত্যাগ ও ক্ষমা চাইতে হবে: শিক্ষামন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম
চলমান বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া এবং সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জেরে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলনরত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে এই ঘোষণা দেন ঢাকা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিতে মিরাজ হোসেন বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে এবং সম্প্রতি দেওয়া অসংগতিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়া গতকাল (১৩ জুলাই) চরম অস্বস্তিকর ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছে এবং দুর্যোগের কারণে যারা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি, তাদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে ওই পরীক্ষাটি নতুন করে পুনরায় গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে আগামীকাল বুধবারের নির্ধারিত পরীক্ষাটি বাতিল ঘোষণা করে সম্পূর্ণ নতুনভাবে শিক্ষার্থীবান্ধব রুটিন ও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে।
এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সায়েন্সল্যাব এলাকায় জড়ো হন এবং প্রধান সড়কে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক অবস্থানের কারণে মিরপুর রোডসহ আশপাশের সড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে পুরো এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনরতদের অভিযোগ, সকাল থেকে তারা রাজপথে তীব্র ক্ষোভ ও দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত সরকারের দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ বা প্রতিনিধি তাদের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা যোগাযোগ করেননি।
/আশিক
মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
রাজধানীতে কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই জেনে নেওয়া উচিত কোন কোন মার্কেট ও শপিংমল সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকবে। কারণ নির্ধারিত বন্ধের দিন সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা না থাকলে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতেও পড়তে হয় ক্রেতাদের।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্স এবং বাণিজ্যিক এলাকার দোকানপাট সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকবে। ফলে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা ব্যবসায়িক কাজে বের হওয়ার আগে বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ বন্ধ থাকা উল্লেখযোগ্য শপিংমল ও মার্কেটগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালেব প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউসিয়া মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসুল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার (বর্তমান সীমান্ত সম্ভার), অরচার্ড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমন্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, কারওয়ান বাজার, ডিআইটি মার্কেট এবং অর্কিড প্লাজা।
এ ছাড়া রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাটও আজ বন্ধ থাকবে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরীপাড়া, তেজকুনীপাড়া, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা এবং লালমাটিয়া।
বিশেষ করে নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, চাঁদনী চক এবং বসুন্ধরা সিটি রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত কেনাকাটার কেন্দ্র হওয়ায় অনেক ক্রেতা নিয়মিত এসব এলাকায় যান। সাপ্তাহিক বন্ধের বিষয়টি জানা না থাকলে অনেকে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন একেক রকম হওয়ায় ক্রেতাদের আগে থেকেই তথ্য জেনে বের হওয়া উচিত। এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটিই সাশ্রয় হবে।
-রাফসান
৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে নাটোর জেলার কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নির্ধারিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জানিয়েছে, নাটোর গ্রিড উপকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ সম্পন্ন করতে সকাল থেকে প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সমিতি জানায়, নাটোর গ্রিড উপকেন্দ্রের ১৩২ কেভি মেইন বাসে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালনার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি, সরবরাহের মান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি এড়াতেই এই কারিগরি কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের আওতাধীন সব ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ফলে বনপাড়া পৌরসভা, জোয়াড়ি ইউনিয়ন, মাঝগাঁও ইউনিয়ন এবং দুয়াড়িয়া ইউনিয়নের আংশিক এলাকা মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকবে।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হতে পারে। আবার কাজের জটিলতা দেখা দিলে কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে সামান্য বেশি সময়ও লাগতে পারে।
সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে গ্রাহকদের যে ভোগান্তি হতে পারে, সে জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। একই সঙ্গে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা আরও উন্নত হবে। ফলে ভবিষ্যতে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকিও কমে আসবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের অনুরোধ করেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নিরাপদভাবে ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় কাজ আগেভাগে সম্পন্ন করার জন্য। পাশাপাশি সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঘোষণার প্রতি নজর রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট
- জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে
- ম্যাচ হেরে মাঠেই মেজাজ হারালেন বেলিংহাম, আর্জেন্টিনার বারকোর মাথায় চড়!
- কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৬৫% বেশি প্রাইজমানি নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিশ্বকাপ
- রাত ১টার মধ্যে ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
- মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান
- এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নতুন বার্তা
- ইংল্যান্ডকে হারানোর পর বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের
- আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু চব্বিশের অর্জন হারাতে দেব না: জামায়াত আমির
- জিলা স্কুল থেকে বেরোবি গেট: ১৬ জুলাই রংপুরের রাজপথে পুলিশের বর্বরোচিত হামলা
- স্বামীবাগে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে হঠাৎ অসুস্থ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল
- জিয়াউর রহমান হত্যার ৪৫ বছর পর ডিওএইচএস থেকে খুনি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
- বেনজীর ও হাদী হত্যার আসামিদের দ্রুত ফেরত চায় বাংলাদেশ, আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
- ঘনীভূত হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ, ৫ দিনের আবহাওয়া নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
- পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব, ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন: ট্রাম্প
- দেশ স্বাধীনের পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী
- স্পেনের ফাইনালের আনন্দের মাঝেই লামিনে ইয়ামালের বাড়িতে চুরির ব্যর্থ চেষ্টা
- ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' থেকে বেলিংহাম-মেসি দ্বৈরথ: ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়
- ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে বড় চমকের ইঙ্গিত স্কালোনির
- নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের নিজস্ব কৌশলের কাছে হার মানল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- ৩ দফা দাবিতে ঢাকাজুড়ে পরীক্ষার্থীদের লংমার্চ, শাহবাগ মোড়ে তীব্র উত্তেজনা
- সংসদকে মজলুমের মিলনমেলা বানাতে হবে: ড. শফিকুর রহমান
- তামিমের অধীনে কাজ করবেন ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা
- আমেরিকার সাথে কোনো আলোচনা নয়, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই
- দুর্যোগে বাদ পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন
- শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- পার্ক ও খেলার মাঠের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা, কারা পাবেন বেশি
- রাস্তায় প্রস্রাব করলেই ডিজিটাল পর্দায় ছবি!
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- আজকের নামাজের সময়সূচি, এক নজরে দেখে নিন
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- যেদিন থেকে শিশুদের টাইফয়েডের নতুন টিকা শুরু
- বিদ্যুৎকেন্দ্র-সেতু হতে পারে পরবর্তী লক্ষ্য, দাবি ট্রাম্পের
- বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
- বাংলাদেশিদের ভালোবাসায় আবেগঘন বার্তা স্কালোনির
- আজ প্রাথমিক শিক্ষা পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- ১৪ জুলাইয়ের অদ্ভুত সমাপতন: ২০২৪-এ 'রাজাকার' আর ২০২৬-এ 'ফার্মের মুরগি' বিতর্ক
- হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি, বিশ্বজুড়ে চড়বে তেলের দাম
- সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তৎপরতা নেই: নাহিদ ইসলাম
- শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেফতারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে: মিশরীয় কোচ
- বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ: স্প্যানিশদের রুখে দিতে প্রস্তুত আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স
- বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের তুরুপের তাস যখন এমবাপ্পে
- ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করাই হরমুজ প্রণালী সচলের একমাত্র পথ
- চারবার দাম কমিয়ে জুয়েলারি বাজারে স্বস্তির খবর দিল বাজুস
- শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
- হরমুজ প্রণালির আসল প্রহরী ইরানই, চিরকাল থাকবে: ট্রাম্পকে আরাগচির কড়া জবাব
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার দাবি, কী বলছে ইসরাইল?
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস








