আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু চব্বিশের অর্জন হারাতে দেব না: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ১৮:৫২:৫৫
আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু চব্বিশের অর্জন হারাতে দেব না: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, নিজেদের জীবন দেব কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অর্জনকে কিছুতেই হারিয়ে যেতে দেব না।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক ও মেহনতি শ্রমিকেরা রাজপথে জীবন দিয়ে বড় বড় অর্জন এনে দেন, আর পরবর্তীতে কিছু সুবিধাবাদী লুটেরা সেই কাঙ্ক্ষিত অর্জন ছিনিয়ে নেয়। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আজও চক্রান্তকারীদের মাধ্যমে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সেই মহান অর্জন নস্যাৎ করার গভীর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত আইডিবি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। শহীদ বীর আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যের শুরুতে জাতীয় রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আজকে দেশে যে নতুন জাতীয় সংসদ ও জনআকাঙ্ক্ষার সরকার গঠিত হয়েছে, তা যে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ফসল—সেটি দেশের প্রতিটি মানুষ ও আন্তর্জাতিক মহল একবাক্যে স্বীকার করে।

অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে কেউ কেউ সুকৌশলে বলতে চাচ্ছেন যে চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লব তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়, বরং এর আগের অংশটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কখনোই অতীতের লড়াই ও ত্যাগকে ছোট করে দেখিনি। স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে আমরা নিজেরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি, শত শত সহকর্মীকে শাহাদাতবরণ করতে হয়েছে, হাজারো মানুষ বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন এবং অসংখ্য নেতাকর্মী চাকরি হারিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘরে থাকতে পারেননি।

আমরা সেই গৌরবময় ত্যাগের ইতিহাসকে অস্বীকার করি না, কিন্তু এটিও চরম বাস্তব সত্য যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না। ঠিক একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অবদানকে খাটো করে দেখা মানে সেই আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা।

জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বারোপ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় জাতীয় দাবি ছিল বাংলাদেশে যেন আর কখনো কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটতে না পারে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামোগত সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশ গড়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। আমাদের অতীতের সেই কলুষিত ও পচা রাজনীতিকে চিরতরে বিদায় দিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের যৌক্তিকতা নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, কেউ কেউ খোঁড়া যুক্তি দিয়ে বলছেন যে সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই।

আবার কেউ কেউ দাবি করছেন, গণভোটে রাখা চারটি প্রশ্ন এতটাই জটিল ছিল যে মানুষের তা বুঝতে নাকি চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। প্রশ্ন হলো, তাহলে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ কীভাবে এত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিলেন? এই চারটি প্রশ্ন তো ভোটের অনেক আগে থেকেই প্রতিটি গণমাধ্যমে বিশদভাবে প্রচার ও ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাহলে কি আপনারা বলতে চান যে বুদ্ধি ও মেধা শুধু আপনাদের মতো কতিপয় নেতার মাথাতেই আছে, দেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষের কোনো বুদ্ধি নেই? এ ধরনের মন্তব্য এ দেশের আপামর জনগোষ্ঠীকে চরমভাবে অপমান করার শামিল। আমি নিজে মূর্খ হতে পারি, কিন্তু আমার দেশের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই মূর্খ নয়।

তিনি দেশের কিছু নেতার রাজনৈতিক ভণ্ডামির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যে রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষের সহজ ৪টি প্রশ্ন বুঝতে না পারার দোহাই দেন, তারা নিজেরা আবার ৩১টি প্রশ্ন জনগণকে বোঝানোর গালভরা কথা বলেন। এগুলো আসলে রাজনৈতিক গোঁজামিল ও চরম ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ইতোমধ্যে একজন দায়িত্বশীল নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন যে, নির্বাচনে মানুষের ভোট পাওয়ার জন্য তারা পূর্বে সবকিছুই আগেভাগে মেনে নিয়েছিলেন।

আরেকজন তো বলেই দিয়েছেন যে টোল মওকুফের ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছিল স্রেফ নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার ও ভোট পাওয়ার কৌশল হিসেবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে প্রতিনিয়ত জনগণের সাথে প্রকাশ্য প্রতারণা ও মিথ্যাচার করেন, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কার ওপর ভরসা করবে? যারা দেশ পরিচালনা করবেন ও পবিত্র সংসদে বসে আইন প্রণয়ন করবেন, তাদের ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড ও রাজনৈতিক সততা থাকা উচিত।

বিরোধীদলীয় নেতা গণভোটের ফলাফল ও বর্তমান সংসদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশের সব রাজনৈতিক দলই কিন্তু গণভোটের পক্ষে জোরালো সায় দিয়েছিল এবং দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়েছেন। অথচ এখন যুক্তি দেখানো হচ্ছে যে যেহেতু ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে, তাই ৭০ শতাংশ মানুষের ওই বিশাল গণরায় মানা হবে না।

আমি সরল অংকে জানতে চাই, ৫১ বড় সংখ্যা নাকি ৭০ বড় সংখ্যা? বর্তমান সরকার ও তাদের সহযোগীরা কীভাবে ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই বিতর্ক রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরকাল থেকে যাবে। ভোটের দিন মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ ব্ল্যাকআউট করে পর্দার আড়ালে কী কী খেলা সম্পন্ন করা হয়েছে, তা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক খুব ভালো করেই জানেন। সময় আসুক, দেশের দীর্ঘ ইতিহাস ও সাধারণ মানুষ একদিন সবকিছুর উপযুক্ত বিচার করবে।

চলমান সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন আমাদেরও আহ্বান জানানো হচ্ছে যে আমরা যেন সংসদীয় রীতিনীতির নামে এই অগ্রাহ্যের মিছিলে শামিল হই। সংসদে দাঁড়িয়ে আমাদের সংবিধানের সবক দেওয়া হচ্ছে।

আমি বিনীতভাবে জানতে চাই, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামের কোনো বিশেষ কমিটির অস্তিত্ব কি আমাদের বিদ্যমান সংবিধানের কোথাও লেখা আছে? যদি না থাকে, তবে কার স্বার্থে এটি তৈরি করা হয়েছে? এটি মূলত চব্বিশের জুলাই বিপ্লবকে সাধারণ মানুষের মন থেকে ভুলিয়ে দেওয়ার এবং গণভোটের ঐতিহাসিক রায়কে ধামাচাপা দেওয়ার একটি অপকৌশল মাত্র।

তিনি এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের অনড় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছি। কুচক্রী মহল যদি নিজেদের স্বার্থে জনগণের রায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অপমান করতে চায়, তবে তারা তা করুক; জনগণই তাদের চূড়ান্ত বিচার করবে। জামায়াতে ইসলামী সব সময় এ দেশের সাধারণ মানুষের সাথে আছে এবং জনগণের প্রতিটি রায়ের পক্ষে আমাদের অবস্থান সুদৃঢ় থাকবে। আমরা এই বৈষম্যবিরোধী লড়াই রাজপথে ও সংসদে সমানভাবে চালিয়ে যাব। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া সেই ঐতিহাসিক গণরায় কখনোই বৃথা যাবে না, অদূর ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়িত হবেই।

নিজের বক্তব্যের শেষাংশে একটি রূপক উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চিংড়ি মাছ যখন লাফ দেয়, তখন সে সব সময় পেছনের দিকে যায়; সে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো পথ খুঁজে পায় না। আমাদের জাতি যদি সব সময় অতীতের দিকেই মুখ ফিরিয়ে তাকিয়ে থাকে, তাহলে আমরা সামনের দিকে এগোব কীভাবে? আমরা বরাবরই সব রাজনৈতিক পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছি—আসুন, অতীত ভুলে সামনের দিকে তাকাই এবং ২০২৪ সালের চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের যে পবিত্র অঙ্গীকার ও স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি।

তিনি প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, অনেকেই বর্তমান সরকারের প্রতিবেশি দেশের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আনুগত্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীই একমাত্র দল, যাদের ওই প্রতিবেশি রাষ্ট্রটি কোনোভাবেই পছন্দ করে না। তারা বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে ভারতের মাটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমন্ত্রণ জানালেও, কেবল জামায়াতে ইসলামীর জন্য রেখেছে ‘লাল কার্ড’। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা ভারতের সেই লাল কার্ডের বিন্দুমাত্র পরোয়া করি না। আমরা কখনোই ভারতের মাটিতে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় বা মদদ নেওয়ার হীন চিন্তাও করি না। এই সোনার বাংলাদেশই আমাদের একমাত্র প্রিয় মাতৃভূমি এবং এ দেশের ১৮ কোটি মুক্তিকামী মানুষের ভালোবাসার বন্ধন ও অন্তরই আমাদের পরম আশ্রয়স্থল।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের অত্যন্ত সাবলীল সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

/আশিক


কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ: এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ২১:৫৮:৫৪
কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ: এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে বহনকারী গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়, যাতে গাড়ির জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি অক্ষত থাকেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার ছয় রাস্তার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সংসদ সদস্য আমির হামজার একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ছয় রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদ। কর্মসূচি শেষের দিকে এমপি আমির হামজা নিজস্ব গাড়িবহর নিয়ে একই এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে ফেরার পথে ওই সমাবেশস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়।

একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় এমপির গাড়িতে ইট লেগে জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং তাঁর চাচা সজলসহ জামায়াতের প্রায় ৫-৬ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের অর্ধশতাধিক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ নাজিম অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের রেশ ধরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরবর্তীতে দলটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং এতে তাদের কয়েকজন কর্মীও আহত হয়েছেন।

হামলার বিষয়ে এমপি আমির হামজা দাবি করেন, তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, দুই দলের সংঘর্ষের ঘটনায় সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত করে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

/আশিক


হাসিনা-কাদের-হাছানের নতুন কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ০৯:৫৯:২৪
হাসিনা-কাদের-হাছানের নতুন কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাল্টা হামলা এবং আগুন দেওয়ার নির্দেশনা-সংক্রান্ত বলে দাবি করা আরও কিছু ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কথোপকথনের নতুন কল রেকর্ড আদালতে দাখিল করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতার প্রেক্ষাপট ও তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা বোঝার ক্ষেত্রে এসব অডিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

এর একদিন আগে সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ একই ব্যক্তিদের মধ্যে সংঘটিত আরও কয়েকটি কথোপকথনের অডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। সেখানে আন্দোলনকারীদের জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের কথিত নির্দেশ এবং সহিংস ঘটনার দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপানোর বিষয়ে আলোচনা থাকার দাবি করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এসব অডিও উপস্থাপন করে প্রসিকিউশনের বক্তব্য তুলে ধরেন। পরে আলোচিত কথোপকথনের লিখিত অনুলিপিও সাংবাদিকদের দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, আলোচিত ফোনালাপগুলোর একটি অংশ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই এবং আরেকটি ২১ জুলাইয়ের। ওই সময় শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী, ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং হাছান মাহমুদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আন্দোলন ও সহিংসতায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল, তখনই তাদের মধ্যে এসব কথোপকথন হয়েছিল বলে আদালতে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

১৯ জুলাই দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটের বলে উল্লেখ করা একটি কথোপকথনে শেখ হাসিনা ও হাছান মাহমুদের মধ্যে প্রতিপক্ষের অগ্নিসংযোগের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গ আসে। প্রসিকিউশনের দেওয়া ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী, সেখানে আন্দোলনকারীদের বাড়ি ও গাড়িতে সাধারণ মানুষকে দিয়ে আগুন দেওয়ার কথা বলেন শেখ হাসিনা। একই আলোচনায় পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগের কথাও উঠে আসে। হাছান মাহমুদ ওই কৌশলকে ‘টিট ফর ট্যাট’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত নথিতে দাবি করা হয়েছে।

কথোপকথনের আরেক পর্যায়ে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। হাছান মাহমুদ গায়েবানা জানাজার পর দ্রুত মহল্লাভিত্তিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কথা বললে শেখ হাসিনা সংশোধন করে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকায় গিয়ে ‘প্রোটেকশন’ বা সুরক্ষার ব্যবস্থা করার কথাও কথোপকথনে উঠে এসেছে।

পরবর্তী পর্যায়ে ওবায়দুল কাদের কথোপকথনে যুক্ত হন বলে প্রসিকিউশনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সেতু ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয় এবং নিরাপত্তার জন্য র‍্যাব পাঠানোর প্রসঙ্গ ওঠে। একই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শনাক্ত করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

-রফিক


অধিকার কেড়ে নিলে পরিণতি ভালো হবে না: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১০ ২০:৩৯:৩৯
অধিকার কেড়ে নিলে পরিণতি ভালো হবে না: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, বিগত নির্বাচনে রংপুরে জামায়াত তুলনামূলক বেশি আসন পাওয়ায় অঞ্চলটিকে সুষম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই ধরনের বঞ্চনা রংপুরের জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না উল্লেখ করে তিনি সরকারকে সতর্ক করেন যে, সাধারণ মানুষের অধিকার হরণের চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি শুভ হবে না। অতীতের শাসনব্যবস্থার উদাহরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই পথে হাঁটলে বর্তমান সরকারও টিকতে পারবে না।

সোমবার দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের মানুষের স্বার্থের বিপরীতে যারা অবস্থান নেবে, তাদের পরিণতি ভালো হবে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের জনগণ এখন নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং অন্য কোনো দেশের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বা সিদ্ধান্ত তারা আর মেনে নেবে না।

যুবসমাজের রাজনৈতিক সচেতনতার কথা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তরুণরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পথ দেখিয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিএনপি-র রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, অতীতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় এসে যারা জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং এখন অবস্থান পরিবর্তন করছে, রাজনীতিতে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ইতিহাস প্রমাণ করে যে, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো শক্তিই দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি।

বর্তমান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম বন্ধের জোর দাবি জানান। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনে তারা বারবার রাজপথে নামতে প্রস্তুত। সাপ্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই কর্মী নিহতের ঘটনার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতার লোভে আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক—এমন পরিস্থিতি তারা চান না। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক উসকানি থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

উক্ত গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেজ। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির ও সংসদ সদস্য আব্দুল করিম এবং গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কাজামী। জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে জামায়াতের আমির নিহত কর্মী সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের কবর জিয়ারত করেন।

/আশিক


ফ্যাসিবাদের আচরণ করলে বিরোধী দল হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ২২:১১:২২
ফ্যাসিবাদের আচরণ করলে বিরোধী দল হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না: শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ন্যাশনাল ডক্টর’স ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক রাজনীতিকরণ করছে। রোববার (৯ আগস্ট) দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পূর্বে একটি মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে সব স্তরে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

সংগ্রাম ও ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর মন্তব্য করেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদীদের বিদায় ঘটলেও ফ্যাসিবাদের মূল মানসিকতা দূর হয়নি। মজলুমরা যখন নিজেরা জালিমে পরিণত হয়, তখন তাদের পরিণতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় বলে সতর্ক করে তিনি জানান, ক্ষমতার দম্ভ যে কোনো মুহূর্তে ধূলিসাৎ হতে পারে—এমন জ্বলন্ত উদাহরণ চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও সরকার তা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে না।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদের আচরণ অব্যাহত থাকলে বিরোধী দল নীরব থাকবে না এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হলে রাজপথের আন্দোলন আরও কঠোর হবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়ে তারা দেশের শীর্ষ অপরাধীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে তাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ করে দিয়েছে।

উক্ত আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতাকে যেসব চিকিৎসক সেবাদান করেছিলেন, বর্তমান সরকার তাদেরকে বেছে বেছে বিভিন্ন দূরবর্তী স্থানে বদলি করছে। তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় এসে এখন সেই ঐতিহাসিক চেতনার সঙ্গেই স্পষ্ট দ্বিচারিতা করছে।

/আশিক


দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির বড় সিদ্ধান্ত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ২১:৫৮:৫৯
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির বড় সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্য এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। মির্জা ফখরুল বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাষ্ট্রের সংকটকালীন সময়ে অভিভাবকত্ব দেওয়ার মতো একজন সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিত্বকেই সর্বোচ্চ পদে আসীন করতে চায়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব পদে থাকা মির্জা ফখরুল রাজপথের আন্দোলন পরিচালনা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়তে মূল ভূমিকা পালন করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং সাবেক এই অর্থনীতিবিদ ঢাকা কলেজের শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কোনো দুর্নীতির অভিযোগ না থাকা, জিয়া পরিবারের প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং শালীন আচরণের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও আন্তর্জাতিক মহলে রাষ্ট্রপতির মতো ভারসাম্যপূর্ণ সাংবিধানিক পদের জন্য তাঁকে উপযুক্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত হবেন। ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে ভোটার তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।

/আশিক


জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না — ১১ দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৮:০৬:০৯
জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না — ১১ দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এই জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে জোটের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ১১ দলীয় জোট ও দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং দুর্নীতিমুক্ত ও পরীক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে সবাই তাঁকে এই যোগ্য সম্মান দিয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচিত হলে কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানে থেকে তিনি ও তাঁর জোট কখনো জাতির সাথে বেইমানি করবেন না এবং জনগণের স্বার্থরক্ষায় পাশে থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের শীর্ষ বৈঠকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচন-পরবর্তী পদক্ষেপ, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের বর্তমান ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও সরকার তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। উল্টো নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের চক্রান্ত চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে স্বপদে বহাল রেখে তাকে বিচারহীনভাবে ‘ফ্রি এক্সিট’ দেওয়া সন্দেহজনক, যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

আগামীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও ক্ষমতার ভারসাম্য বিচারে রাষ্ট্রপতির পদটি অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি অতীতের রাজনৈতিক সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতার কারণেই অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে সর্বসম্মতভাবে প্রার্থী করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

/আশিক


এটা সংস্কার নয়, হস্তান্তর: নতুন জ্বালানি নীতি নিয়ে জামায়াতের তোপ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ২১:৫৮:৩৯
এটা সংস্কার নয়, হস্তান্তর: নতুন জ্বালানি নীতি নিয়ে জামায়াতের তোপ
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন প্রক্রিয়া বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ কোনো সংস্কার নয়, বরং 'হস্তান্তর'। এর ফলে জ্বালানি খাতে সরকারি একচেটিয়া ব্যবস্থার বদলে বেসরকারি সিন্ডিকেট ও একচেটিয়া ব্যবসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢালাওভাবে বেসরকারিকরণের বিরোধিতা না করলেও যেসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্নীতি, সরকারের উচ্চপর্যায়ের লুটপাট বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল হিসেবে সরব হওয়া জরুরি। দলটির দাবি, সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে সরানোর চার দিনের মাথায় বেসরকারি খাতে তেল বাণিজ্য উন্মুক্ত করার জন্য দ্রুত খসড়া নীতিমালার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি না হয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে পুরো খাতটি জিম্মি হয়ে পড়তে পারে। কারণ গভীর সমুদ্রবন্দর, ট্যাংক টার্মিনাল ও বিপুল আর্থিক সক্ষমতার মতো অবকাঠামো বাংলাদেশে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেরই রয়েছে।

বিপিসিকে 'অদক্ষ' ও 'লোকসানি' বানিয়ে বেসরকারিকরণের যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, তাও নাকচ করে দেয় দলটি। সংবাদ সম্মেলনে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে ছয়টি স্পষ্ট দাবি পেশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা, খসড়া নীতিমালা জনসম্মুখে প্রকাশ করে ৬০ দিন মতামত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া, সংসদীয় কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানি করা, বেসরকারিকরণের বদলে বিপিসির প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা বহাল রাখা। অনুষ্ঠানে দলের নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দিল্লির সুরক্ষিত এলাকায় গোপন বৈঠক: বাংলাদেশে কোন বড় নাশকতার ছক কষছেন শেখ হাসিনা?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ১০:৪১:৫৩
দিল্লির সুরক্ষিত এলাকায় গোপন বৈঠক: বাংলাদেশে কোন বড় নাশকতার ছক কষছেন শেখ হাসিনা?

ভারতে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর যৌথ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে একটি বহুমাত্রিক ও চতুর্মুখী নাশকতার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই নীল নকশার মূল লক্ষ্য হলো ঢাকাসহ সারাদেশকে একযোগে অস্থিতিশীল করে তোলা, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অকার্যকর প্রমাণ করা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে একটি ভঙ্গুর ও উগ্রবাদকবলিত রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রায়িত করা। দিল্লির সুরক্ষিত 'লুটিয়েন্স জোন'-এ আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনার বাসভবনে গত ২৪ ও ৩১ জুলাই দু দফায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠকে এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি রঞ্জন সেন এবং ঢাকার সাবেক ১০ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ মোট ২২ জন পলাতক নেতা এই বৈঠকে সরাসরি অংশ নেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকাকে অস্থিতিশীল করতে পেশাদার খুনি, আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্রধারী, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডার, এমনকি ভারতের গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণে থাকা পুনর্গঠিত জঙ্গি সংস্থাকে একই ছাদের নিচে নিয়ে এসে কাজ করার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে এই সম্ভাব্য অস্থিরতার পরিকল্পনাটিকে প্রধানত চারটি কৌশলগত স্তরে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম স্তরে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের গোপন ক্যাডারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি ও বেসরকারি যানবাহনে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ ঘটানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা জনমনে সার্বক্ষণিক ভীতির সঞ্চার করবে। দ্বিতীয় স্তরে, রাজধানী ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত কিলার ও অস্ত্রধারীদের বিপুল অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ সংগঠকদের ওপর টার্গেট কিলিং বা সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ডগুলোর মাধ্যমে একাধারে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হবে এবং তার দায় প্রতিপক্ষ কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপিয়ে মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা হবে। তৃতীয় স্তরে রয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশকে (জেএমবি) নতুন মোড়কে সক্রিয় করার এক বিপজ্জনক চক্রান্ত। ২০০৫ সালের সিরিজ বোমা হামলার মাস্টারমাইন্ড শায়খ আব্দুর রহমানের ছেলে এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজমের ভাগ্নে নাবিল আহমেদকে ভারতের মাটিতে বসিয়ে এই নেটওয়ার্কের মূল নেতৃত্বে আনা হয়েছে। তাকে কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক রূপরেখা তৈরিতে সহযোগিতা করছেন ভারতে অবস্থানরত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও এসবি প্রধান মনি রুল ইসলাম। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলে 'ছাতা বোমা' এবং আশুলিয়ায় 'প্রেসার কুকার বোমা' উদ্ধারের ঘটনাগুলোকে গোয়েন্দারা এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের প্রাথমিক মহড়া বা ট্রায়াল হিসেবে দেখছেন।

পরিকল্পনার চতুর্থ এবং সবচেয়ে জটিল স্তরটি সাজানো হয়েছে দেশের শিক্ষাঙ্গন ও পেশাজীবীদের স্বাভাবিক আন্দোলনকে হাতিয়ার করে এক প্রক্সি ওয়ার বা ছদ্মযুদ্ধ চালুর মাধ্যমে। দেশের প্রধান প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সাম্প্রতিক মতপার্থক্য ও বিচ্ছিন্ন সংঘাতকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছাত্রলীগের বাছাই করা সশস্ত্র ক্যাডাররা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ শিক্ষার্থী বা অন্য দলের পরিচয়ে সংঘাতের ভেতরে ঢুকে পড়বে এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে 'লাশ ফেলার' পরিস্থিতি তৈরি করবে। ফলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রধান চালিকাশক্তিগুলোর মধ্যে চিরধরে যাবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে অচলাবস্থা তৈরি হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল বাজেটের জোগান দিচ্ছেন ভারতে পলাতক গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং রাজধানীর গুলশানে বসবাসকারী যুবলীগের এক কোটিপতি নেতা। কেবল শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকরাও এই চক্রান্তের বড় অংশ হয়ে উঠেছেন। ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০4 জন প্রগতিশীল শিক্ষক একটি এনক্রিপ্টেড সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপে 'সিস্টেম আপডেট' ও 'মাহেন্দ্রক্ষণ সন্নিকটে'-এর মতো কোডওয়ার্ড ব্যবহার করে নিয়মিত ভার্চুয়াল গোপন বৈঠক করছেন এবং ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। একই সাথে, দেশের প্রায় চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের পদায়ন ও অন্যান্য যৌক্তিক দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে 'শাহানা' নামের এক বিতর্কিত শিক্ষক নেত্রীর মাধ্যমে সারাদেশে শিক্ষক অসন্তোষ উসকে দিয়ে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে রাজপথ অচল করে সরকার পতনের এক নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে।

যদিও মূল তথ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে যে এসব গোয়েন্দা খবরের প্রতিটি বিস্তারিত বিষয় স্বাধীনভাবে শতভাগ যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা বা 'রেড অ্যালার্ট' মোডে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে সারাদেশে বিশেষ করে পুলিশের নিজস্ব যানবাহন, থানা, পুলিশ লাইনস এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ডিউটি শেষে বা সাময়িক বিরতিতেও কোনো যানবাহন অরক্ষিত না রাখার বিষয়ে কড়া হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো ধরণের অপতৎপরতা নস্যাৎ করতে পুলিশ, র‍্যাব ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে মাঠে নামানো হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এই চতুর্মুখী আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে রাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া তাড়াতে সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রয়োজন: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ২১:৪৬:৪৮
ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া তাড়াতে সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রয়োজন: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদ ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হলেও তাদের ‘কালো ছায়া’ এখনো বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংস্কৃতিচর্চা ও আগ্রাসনবিরোধী লড়াইয়ের মাধ্যমে এই অপশক্তিকে চিরতরে নির্মূল করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ আয়োজিত ‘জুলাই সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, সাংস্কৃতিক চেতনা ও জাতীয় মর্যাদা পুনর্প্রতিষ্ঠার এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত বা আদর্শ থাকলেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন তিনি। জাতিকে বিভক্ত করার যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় থাকলে আধিপত্যবাদ আর কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

লেখক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দের সভাপতিত্বে এবং ড. মনোয়ারুল ইসলাম, শরীফ বায়জীদ মাহমুদ, মাহবুব মুকুল ও আহসান হাবীব খানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

উৎসবে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিল্পী, কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি শহীদ আব্দুল্লাহ তাহিরের মা উপস্থিত ছিলেন। এতে ঐতিহ্যবাহী জারি, কাওয়ালি, গম্ভীরা ও অভিনয়ের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত বিশেষ নাটক ‘রক্তাক্ত জুলাই’ পরিবেশিত হয়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: