কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৬৫% বেশি প্রাইজমানি নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিশ্বকাপ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ২০:৩১:১৮
কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৬৫% বেশি প্রাইজমানি নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিশ্বকাপ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ের বাকি আর মাত্র একটি ম্যাচ। ইতিমধ্যে সেমিফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে পা রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফাইনাল নিশ্চিত করার লড়াইয়ে স্প্যানিশদের স্বপ্ন ভেঙে বিদায় করা আলবিসেলেস্তেরা যখন সোনালী ট্রফির সুবাস পাচ্ছে, তখন টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সেমিফাইনালে পরাজিত দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।

বিশ্বকাপের ফাইনালকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন ফিফার পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য ঘোষণা করা হয়েছে এক বিশাল প্রাইজমানি বা পুরস্কারের আর্থিক অংক। শুধু চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স-আপ দলই নয়, বরং এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের জন্যই থাকছে মোটা অংকের আর্থিক প্রাপ্তির সুযোগ। ফুটবল ম্যাচ ও দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এবার মোট প্রাইজমানির পরিমাপে সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছে ফিফা। এবারের আসরের জন্য ফিফা তাদের মোট প্রাইজমানি বাড়িয়ে নির্ধারণ করেছে রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১০,৭৪৬ কোটি টাকা)। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানির চেয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি।

মোট প্রাইজমানির এই বিশাল অংকের হিসাবটিকে ফিফা মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার সরাসরি প্রদান করা হবে দলগুলোর মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে। অন্যদিকে বাকি ২১৬ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি, যাতায়াত ও লজিস্টিকস সহায়তার ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য। সেই অনুযায়ী, এবারের আসরের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করা প্রতিটি দলই টুর্নামেন্ট থেকে নিশ্চিতভাবে ১২.৫ মিলিয়ন ডলার করে লাভ করছে। এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে কোয়ালিফিকেশন ফি হিসেবে এবং বাকি ২.৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হচ্ছে লজিস্টিকস ও ভ্রমণ সংক্রান্ত খরচ বাবদ।

মাঠের লড়াইয়ে যারা যত দূর এগিয়ে যাবে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে তত বেশি অর্থ। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল তাদের ঘরে সোনালী ট্রফি তোলার পাশাপাশি পারফরম্যান্স বোনাস হিসেবে বাড়তি ৫০ মিলিয়ন ডলার পাবে। ফলে প্রস্তুতি ফিসহ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মোট প্রাইজমানি দাঁড়াবে ৬২.৫ মিলিয়ন ডলার। রানার্স-আপ হওয়া দলটি বাড়তি ৩৩ মিলিয়ন ডলারসহ মোট ৪৫.৫ মিলিয়ন ডলার নিজেদের পকেটে পুরবে। এ ছাড়া ব্রোঞ্জ পদক বা তৃতীয় স্থান অধিকারী দল ২৯ মিলিয়ন ডলার বোনাসসহ মোট ৪১.৫ মিলিয়ন ডলার এবং চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল ২৭ মিলিয়ন ডলার বোনাসসহ মোট ৩৯.৫ মিলিয়ন ডলার ঘরে তুলবে।

নকআউট পর্বের অন্যান্য ধাপে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও রয়েছে সান্ত্বনাদায়ক বড় অংকের প্রাইজমানি। কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আট থেকে বিদায় নেওয়া ৪টি দল বাড়তি ১৯ মিলিয়ন ডলার বোনাসসহ মোট ৩১.৫ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। শেষ ষোলোর লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়া ৮টি দল লজিস্টিকস খরচের বাইরে বাড়তি ১৫ মিলিয়ন ডলারসহ মোট ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। রাউন্ড অব থার্টি-টু বা এই ধাপে বাদ পড়া ১৬টি দল অতিরিক্ত ১১ মিলিয়ন ডলার বোনাসসহ মোট ২৩.৫ মিলিয়ন ডলার করে নিজেদের সংগ্রহে নেবে। এমনকি যারা গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে না পেরে শুরুতেই বিদায় নেবে, সেই ১৬টি দলও বাড়ি ফেরার পথে বাড়তি ৯ মিলিয়ন ডলার বোনাসসহ মোট ২১.৫ মিলিয়ন ডলার পকেটে পুরবে।

ফিফার সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নিয়মানুযায়ী, এই প্রাইজমানির বিপুল পরিমাণ অর্থ কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বা সরাসরি তাঁদের হাতে দেওয়া হয় না। সম্পূর্ণ অর্থটি সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অফিশিয়াল তহবিলে সরাসরি জমা করা হয়। পরবর্তীতে প্রতিটি দেশের ফুটবল ফেডারেশন তাদের নিজস্ব নীতি ও পূর্বচুক্তি অনুযায়ী সাধারণত এই আয়ের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের পারফরম্যান্স বোনাস হিসেবে বন্টন করে থাকে।

/আশিক


ইংল্যান্ডকে হারানোর পর বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ১৯:৫২:১২
ইংল্যান্ডকে হারানোর পর বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পরপরই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের একটি উদযাপন। ম্যাচ জয়ের পর লা আলবিসেলেস্তে তারকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো মাঠের ভেতরেই ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে এ ধরনের রাজনৈতিক বার্তা ব্যবহারের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজনৈতিক প্রতীক ও বার্তা প্রদর্শনের বিষয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফার নিজস্ব আইন ও এর কঠোর প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মূলত দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের বিতর্কিত ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা দাবি করে আর্জেন্টিনায় এই স্লোগানটি ব্যবহার করা হয়। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে টানা ৭৪ দিনের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যাতে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আজ পর্যন্ত এই ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিষয়টি দুই দেশের জনগণের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

ফুটবল মাঠে এই বিশেষ ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৪ সালের ৭ জুন স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি বিশ্বকাপ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচের আগেও পুরো আর্জেন্টিনা দল একই বার্তা সংবলিত ব্যানার নিয়ে ছবি তুলেছিল, যার প্রেক্ষিতে ফিফা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ৩৩ হাজার ডলার জরিমানা এবং কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) এবং ফিফার নিয়মানুযায়ী, ফুটবলারদের কোনো ধরনের পোশাক, সামগ্রী বা প্রচারপত্রে রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত স্লোগান, বার্তা বা ছবি প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি খেলার সময় এমন কোনো অন্তর্বাসও পরা যাবে না যা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচার করে।

ফিফার আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো জাতি, গোষ্ঠী, লিঙ্গ বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও উসকানিমূলক বার্তা সংবলিত ব্যানার, পতাকা কিংবা লিফলেট মাঠের ভেতরে আনা যাবে না এবং নিয়ম ভঙ্গকারী ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক জরিমানাসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ফিফার নিষেধাজ্ঞার নজির ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে। সম্প্রতি ২০২৬ বিশ্বকাপ ভেন্যুতে ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পূর্ববর্তী আমলের ‘লায়ন অ্যান্ড সান’ প্রতীকযুক্ত ঐতিহাসিক পতাকা প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যুক্তি দেখিয়ে দায়ের করা ইরানি-আমেরিকানদের একটি আবেদন খারিজ করে ফিফার সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখে, যেখানে বলা হয় কেবল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অফিসিয়াল পতাকাই স্টেডিয়ামে ব্যবহারযোগ্য।

অন্যদিকে, এই ২০২৬ বিশ্বকাপেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পর মিসরের কোচ হোসাম হাসান মাঠে মিসর ও ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে প্রবেশ করে এই জয় ফিলিস্তিনিদের উৎসর্গ করেন, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও ফিফা এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে হাইতি তাদের ১৮০৪ সালের ঐতিহাসিক ফরাসি ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক সংবলিত বিশেষ স্মারক জার্সি পরতে চাইলেও ফিফা রাজনৈতিক বার্তার অজুহাতে তার অনুমোদন দেয়নি।

ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক ফুটবলেও এই রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব প্রবল। ২০২৪ সালের ইউরো কাপ জয়ের পর স্পেনের অধিনায়ক আলভারো মোরাতা ও মিডফিল্ডার রদ্রি কর্তৃক ‘জিব্রাল্টার স্প্যানিশ’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে উয়েফা তাদের এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল।

একই টুর্নামেন্টে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে তুরস্কের মেরিহ দেমিরাল কট্টরপন্থী ‘গ্রে উলভস’ অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করায় দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান। এছাড়া ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ড, জার্মানি ও ডেনমার্কসহ ইউরোপের সাতটি দেশের অধিনায়করা সমকামী ও মানবাধিকারের সমর্থনে রংধনু রঙের ‘ওয়ানলাভ’ আর্মব্যান্ড পরার সিদ্ধান্ত নিলে ফিফার হলুদ কার্ডের হুমকির মুখে তারা তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

এর প্রতিবাদে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জার্মান খেলোয়াড়রা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ছবি তুলে ফিফার কণ্ঠরোধের নীতির নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, যদিও ওই ঘটনায় ফিফা কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

২০২২ বিশ্বকাপেরই আরেকটি ম্যাচে নিজ দেশে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইরানের জাতীয় সংগীতের সময় নীরব থেকে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সে দেশের ফুটবলাররা। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোল করে সুইজারল্যান্ডের আলবেনীয় বংশোদ্ভূত দুই তারকা গ্রানিত জাকা ও জেরদান শাকিরি বলকান রাজনীতির ছোঁয়া এনে ‘দুই মাথাওয়ালা ঈগল’ অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করায় ফিফার পক্ষ থেকে জরিমানার শিকার হন।

এমনকি ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জয়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার পার্ক জং-উ জাপান-কোরিয়ার বিতর্কিত দ্বীপ নিয়ে ‘দোকদো আমাদের ভূখণ্ড’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করায় ফিফা তাঁকে দুই আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিষিদ্ধ করেছিল। ফুটবল মাঠে একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব বিতর্কিত ঘটনাই প্রমাণ করে যে, মাঠের খেলাকে রাজনৈতিক প্রচারণা থেকে দূরে রাখতে ফিফার আইন থাকলেও তার সুষম প্রয়োগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ও নানামুখী আলোচনা সব সময়ই সচল রয়েছে।

সূত্র: আনাদলু


স্পেনের ফাইনালের আনন্দের মাঝেই লামিনে ইয়ামালের বাড়িতে চুরির ব্যর্থ চেষ্টা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২১:৪১:২৪
স্পেনের ফাইনালের আনন্দের মাঝেই লামিনে ইয়ামালের বাড়িতে চুরির ব্যর্থ চেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

১৬ বছর পর ফরাসিদের হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার অবিস্মরণীয় উল্লাসের মাঝেই স্প্যানিশ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালের পরিবারে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। স্পেনের ফাইনাল নিশ্চিত করার ঐতিহাসিক দিনেই বার্সেলোনায় এই তরুণ তারকার নিজ বাড়িতে চুরির ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে মুখোশধারী দুই দুর্বৃত্ত।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সেলোনার দে লোব্রেগাত এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক ভবনে এই চুরির চেষ্টা চালানো হয়। কাতালান লোকাল পুলিশের একজন মুখপাত্র এএফপিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে স্প্যানিশ নিরাপত্তা বাহিনীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নীতি অনুযায়ী পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ির মালিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

যদিও বার্সেলোনা-ভিত্তিক প্রভাবশালী দৈনিক ‘লা ভানগার্দিয়া’ তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে দাবি করেছে, আক্রান্ত ওই বাড়িটি স্পেনের ১৯ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালের।

পত্রিকাটির বিবরণ অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন বা তার পরবর্তী সময়ে মুখোশ পরা দুই ব্যক্তি বাড়িটির সীমানা প্রাচীর বেয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। তবে ওই সময় বাড়িতে নিয়োজিত থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের তাৎক্ষণিক ও দূরদর্শী তৎপরতায় চোর চক্রটি কোনো সুবিধা করতে পারেনি। নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়েই তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হয়নি ইয়ামালের পরিবারকে। এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া


ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' থেকে বেলিংহাম-মেসি দ্বৈরথ: ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২০:৪৪:২০
ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' থেকে বেলিংহাম-মেসি দ্বৈরথ: ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে বৈরিতাপূর্ণ দ্বৈরথগুলোর একটি আজ রাতে নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও পরাশক্তি ইংল্যান্ড। ফাইনালে ওঠার এই মহাযুদ্ধে একদিকে রয়েছে বিশ্বকাপের শেষ চারে আর্জেন্টিনার ‘অপরাজিত’ থাকার অবিশ্বাস্য ঐতিহ্য, অন্যদিকে রয়েছে অপটা সুপারকম্পিউটারের চোখে সামান্য এগিয়ে থাকা এবং ৬০ বছরের শিরোপা-খরা ঘোচাতে মরিয়া এক ‘থ্রি লায়ন্স’ দল।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে, ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দুই দেশের রাজনৈতিক তিক্ততা ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’-এর মাধ্যমে ফুটবল মাঠে এক চিরন্তন রূপ লাভ করে। এরপর ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড ও আর্জেন্টিনার টাইব্রেকার জয় এবং ২০০২ বিশ্বকাপে বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ইংল্যান্ডের প্রতিশোধ—সব মিলিয়ে দুই দলের প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচই বারুদ ঠাসা উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

এবারের আসরে থমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড দল বেশ কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তুর্কি জুড বেলিংহাম কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়েছেন। অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং বেলিংহাম—দুজনই এই আসরে ইতিমধ্যে ৬টি করে গোল করেছেন। আজ মাঠে নামলে হ্যারি কেইন দেশের হয়ে মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি (১২১টি) ম্যাচ খেলার নতুন রেকর্ড গড়বেন। অন্যদিকে, থমাস টুখেলের সামনে সুযোগ রয়েছে প্রথম জার্মান কোচ হিসেবে নিজের দেশের বাইরে অন্য কোনো পরাশক্তিকে বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে তোলার।

বিপরীতে, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা রয়েছে স্বপ্নের ফর্মে। লিওনেল স্কালোনির দল টানা ছয় ম্যাচ জিতে নিজেদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘতম জয়যাত্রার রেকর্ড গড়েছে। আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৭টি গোল করেছে আলবিসেলেস্তেরা, যার মধ্যে একাই ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপের সাথে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে গোল না পেলেও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে টানা দুই বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখার বিরল কীর্তি গড়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। আজ জিতলে কোচ লিওনেল স্কালোনিও কার্লোস বিলার্দোর পর দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন কোচ হিসেবে ব্যাক-টু-ব্যাক ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়বেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই দলের পূর্ববর্তী ১৪টি আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের মধ্যে ইংল্যান্ডের জয় ৬টিতে, আর্জেন্টিনার ২টিতে এবং বাকি ৬টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বমঞ্চের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার রেকর্ড ১০০% সফল; এর আগে পাঁচবার সেমিফাইনালে উঠে প্রতিবারই ফাইনালে পা রেখেছে তারা। যদিও তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থা ‘অপটা’ সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস বলছে ভিন্ন কথা।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, ৯০ মিনিটের নির্ধারিত সময়ে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৩৭.৩%, আর্জেন্টিনার ৩২% এবং ড্রয়ের সম্ভাবনা ৩০.৭%। তবে অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারসহ ম্যাচটির চূড়ান্ত ফলাফলে ইংল্যান্ড ৫২.৩% এবং আর্জেন্টিনা ৪৭.৭% সম্ভাবনা নিয়ে মাঠে নামছে। সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা আজ রাতে আটলান্টায় এক মহাকাব্যিক ও শ্বাসরুদ্ধকর ফুটবল যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছেন।

/আশিক


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে বড় চমকের ইঙ্গিত স্কালোনির

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২০:৩৬:৫৪
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে বড় চমকের ইঙ্গিত স্কালোনির
ছবি : সংগৃহীত

টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার হাতছানি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই শিরোপা ধরে রাখার মিশনে শেষ ধাপে পৌঁছে যাবে লিওনেল মেসির দল। বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় শুরু হবে বিশ্ব কাঁপানো এই হাইভোল্টেজ লড়াই।

মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটিকে সামনে রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শেষ মুহূর্তের রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত আর্জেন্টিনা শিবির। তবে ম্যাচের শুরুর একাদশ নিয়ে এখনই সমস্ত পরিকল্পনা সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করতে চাননি আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের শক্তিমত্তা ও কৌশলের কথা মাথায় রেখে ট্র্যাডিশনাল লাইনআপে কয়েকটি চমকপ্রদ পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচ-পূর্ববর্তী অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও খেলার ধরন বিবেচনা করে আমরা শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো মাঠে সেরা দলটিকে নামানো। দলের প্রতিটি খেলোয়াড় এখন দারুণ ছন্দে আছে এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা একাদশের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই এই ম্যাচে বহাল থাকছেন। তবে গুঞ্জন রয়েছে যে, মাঝমাঠের লাইনআপে একটি বড় চমক দিতে পারেন স্কালোনি। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিয়মিত মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলের পরিবর্তে নিকোলাস গঞ্জালেজ অথবা হুলিয়ানো সিমিওনে শুরুর একাদশে জায়গা করে নিতে পারেন। এ ছাড়া রক্ষণভাগের রাইট-ব্যাক পজিশনে গঞ্জালো মন্তিয়েলের চেয়ে নাহুয়েল মলিনা শুরুর একাদশে নামার দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ; নাহুয়েল মলিনা/গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; হুলিয়ানো সিমিওনে/নিকোলাস গঞ্জালেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এঞ্জো ফার্নান্দেজ; হুলিয়ান আলভারেজ ও লিওনেল মেসি।

/আশিক


তামিমের অধীনে কাজ করবেন ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৯:৩২:১০
তামিমের অধীনে কাজ করবেন ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদের বড় দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবনির্বাচিত সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এখন থেকে বিসিবির শীর্ষ পদের পাশাপাশি আইসিসির ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটি’-এর প্রধান বা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটে তামিমের এই পদপ্রাপ্তি বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল গৌরব ও বড় রাজনৈতিক-কূটনৈতিক সাফল্য, কারণ তাঁর এই শক্তিশালী কমিটির অধীনে সদস্য হিসেবে কাজ করবেন বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে ক্ষমতাধর তিন বোর্ড—ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের শীর্ষ কর্তারা।

বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দাপট ও জয়জয়কার চলছে। টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন সংস্করণের এই লিগগুলোর অতি বাড়বাড়ন্তের কারণে দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেই সাথে বছরজুড়ে টানা খেলার কারণে ক্রিকেটারদের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা এবং চুক্তির বিষয়গুলোও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটের এই জটিল ও সার্বিক বিষয়গুলোর সুষম সমন্বয় এবং নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে কাজ করবে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন আইসিসির এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটি।

ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রভাবশালী সেক্রেটারি দেবজিত সাইকিয়াও সদস্য হিসেবে থাকছেন তামিমের এই কমিটিতে। এ ছাড়া কমিটির অন্যান্য হাই-প্রোফাইল সদস্যদের মধ্যে আরও রয়েছেন ক্রিকেট নামিবিয়ার ডা. রুডি ভন ভুরেন, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ।

এদিকে আইসিসির সদ্য সমাপ্ত বোর্ড সভায় কানাডা, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সদস্যপদ সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নবনির্বাচিত সভাপতিকে (তামিম ইকবাল) সংস্থাটির ফুল মেম্বার ডিরেক্টর হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি বোর্ড।’

তবে এই সভায় বড় ধরনের দুঃসংবাদ এসেছে শ্রীলংকা ক্রিকেটের (SLC) জন্য। লংকান ক্রিকেট বোর্ডকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত কমিটি গঠনের কড়া তাগিদ দিয়ে আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত শ্রীলংকা ক্রিকেট আইসিসি বোর্ডের কোনো আনুষ্ঠানিক সভায় সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না।

এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে ভুগতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে (CWI) ক্রিকেটের মূল ধারায় টিকিয়ে রাখতে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে আইসিসি। ক্রিকেটীয় সহায়তা হিসেবে ক্যারিবীয় বোর্ডকে ১২.৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকারও বেশি) বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি।

/আশিক


বাংলাদেশিদের ভালোবাসায় আবেগঘন বার্তা স্কালোনির

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:০৯:১৫
বাংলাদেশিদের ভালোবাসায় আবেগঘন বার্তা স্কালোনির
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নিলেও ফুটবল উন্মাদনায় দেশটির উপস্থিতি আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আলবিসেলেস্তেদের প্রতি বাংলাদেশিদের অকুণ্ঠ সমর্থন তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে বলে জানান তিনি।

সেমিফাইনাল-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের মানুষ আমাদের প্রতিবারই বিস্মিত করে। পৃথিবীর এত দূরের একটি দেশ থেকেও তারা যেভাবে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে, সেটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। আর্জেন্টিনার জার্সি পরে তাদের উদযাপন দেখতে সবসময়ই দারুণ লাগে। আমরা যদি তাদের আরও একটি আনন্দের উপলক্ষ উপহার দিতে পারি, সেটিই হবে আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।”

বিশ্বকাপজুড়ে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রতিটি জয়ের পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিজয় মিছিল, আতশবাজি, পতাকা মিছিল এবং আলবিসেলেস্তে জার্সি পরিহিত সমর্থকদের উল্লাসের ছবি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তা নতুন কোনো ঘটনা নয়। কয়েক দশক ধরে দেশটির অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে সেই সমর্থনের দৃশ্য আরও বেশি আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে।

স্কালোনিও স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশ থেকে আসা এই ভালোবাসার খবর এবং দৃশ্য তার নজর এড়ায়নি। তিনি বলেন, এত দূরের একটি দেশের মানুষের এমন আবেগ ও সমর্থন আর্জেন্টিনা দলের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

এদিকে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময়) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ফাইনালের প্রথম টিকিট ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে স্পেন, যারা অপর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

এখন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের কোটি কোটি সমর্থকসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আর্জেন্টাইন ভক্তদের আরেকটি স্মরণীয় রাত উপহার দেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন স্কালোনি।

-রফিক


মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে: মিশরীয় কোচ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২১:৪৬:১৬
মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে: মিশরীয় কোচ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় বর্ণবাদবিরোধী কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ বা আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করেননি বলে জোরালো দাবি করেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। একই সাথে তিনি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে বলেছেন, মাঠের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন লিওনেল মেসি।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ১৬-এর সেই স্মরণীয় ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আলবিসেলেস্তেরা এখন সেমিফাইনালের মঞ্চে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ম্যাচের শেষ দিকে মেসির সাথে চরম তর্কাতর্কির একপর্যায়ে দুই হাত বুকের ওপর ক্রস করে একটি বিশেষ অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় ৫৯ বছর বয়সী মিশরীয় কোচ হাসানকে। তাঁর এমন আচরণের কারণে ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান। মাঠের ওই অঙ্গভঙ্গিকে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের অনেকেই বর্ণবাদবিরোধী বা বৈষম্যমূলক ইশারা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।

তবে এই বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন হোসাম হাসান। বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ওটা বর্ণবাদ সংক্রান্ত কোনো ইশারা ছিল না। আমি মূলত দুই হাত বুকের ওপর ক্রস করে রেফারিকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে, তিনি মাঠে ন্যায্য বিচার করছেন না। তিনি আরও যোগ করেন, ওই সময় মেসি আমার খুব কাছে চলে আসে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে বারবার বলতে থাকে—কেন, কেন, কেন? এরপর সে আরও কিছু কথা বলেছিল।

মিশরীয় কোচ উল্লেখ করেন, ফুটবল ক্যারিয়ারে ম্যাচ চলাকালীন সাধারণত মেসিকে খুব একটা তর্কে জড়াতে দেখা যায় না। কিন্তু ওই ঘটনার পর তীব্র মানসিক চাপের কারণে আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সে মাঠে কেঁদে ফেলেছিল। হাসান বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার জন্য অত্যন্ত কঠিন এক প্রতিপক্ষ ছিলাম এবং ম্যাচের একটা বড় সময় তাদের চরম কোণঠাসা করে রেখেছিলাম। তবে মেসির বিশাল ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতি গভীর সম্মান দেখিয়ে আমি তার কথার কোনো পাল্টা জবাব দিইনি এবং আমাদের মধ্যে যেন আর কোনো কথার সংঘাত না বাড়ে, সেই চেষ্টাই করেছি।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই ম্যাচ থেকে বিদায় নেওয়ার পর হোসাম হাসান এবং মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের পক্ষপাতমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। ম্যাচে মিশরের একটি বৈধ গোল বাতিল করার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি হওয়ার ঠিক আগে লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করা হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি বলে তারা গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

রেফারির এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসান বলেন, পুরো ম্যাচে আমরা ন্যূনতম সম্মান কিংবা ‘ফেয়ার প্লে’-এর কোনো নজির দেখিনি। মাঠের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার তারকাদের পক্ষ থেকে রেফারির ওপর একটা প্রচ্ছন্ন মানসিক চাপ ছিল, যার ফলেই একের পর এক এমন একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত এসেছে।

তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, মানুষের বাস্তব জীবন অন্যায্য হতে পারে, এই পৃথিবীটাও হয়তো অন্যায্য। সেটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু স্পোর্টসম্যানশিপ বা খেলাধুলার জগতেও কেন ন্যায্যতা থাকবে না? এই অন্যায্য ফলাফল কিংবা ম্যাচটি যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। রেফারি সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন দাবি করে হোসাম হাসান বলেন, তিনি একটি পুরো জাতির চার বছরের কঠোর পরিশ্রম ও স্বপ্ন এক নিমেষে নষ্ট করে দিয়েছেন। মাঠের সিদ্ধান্তগুলো দেখে মনে হচ্ছে, এই বিশ্বকাপটি যেন আগে থেকেই আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিকেই পরিচালিত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাউন্ড অব ১৬-এর সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে প্রথমে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে লিড নিয়ে এগিয়ে যায় মিশর। এরপর প্রথমার্ধে মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা মেসির নেওয়া একটি পেনাল্টিও দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি গোল বাতিল হওয়ার ধাক্কা সামলে মোস্তফা জিকো দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করলে ম্যাচটিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেয় মিশর।

তবে ম্যাচের শেষভাগে এসে নিজেদের চিরচেনা রুপে ফেরে আলবিসেলেস্তেরা। ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের পর পর তিনটি গোলে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে অতিরিক্ত সময়ের কঠিন লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে পরাস্ত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যেখানে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড।

/আশিক


বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ: স্প্যানিশদের রুখে দিতে প্রস্তুত আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২১:২৯:৪৯
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ: স্প্যানিশদের রুখে দিতে প্রস্তুত আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স
ছবি : সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালে শক্তিশালী স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী ফরাসি শিবির। ফ্রান্স দলের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও পারফরম্যান্স যতই দুর্দান্ত হোক না কেন, তাদের একমাত্র লক্ষ্য জয় ছিনিয়ে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় পেলে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসেবে তিনটি ভিন্ন আসরে কোনো দলকে ফাইনালে তোলার অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়বেন দেশম। এর আগে ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন এই ফরাসি মাস্টারমাইন্ড। ম্যাচ-পূর্ববর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, স্পেন নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ দল। তবে আমরা আমাদের নিজস্ব শক্তি, সামর্থ্য ও কৌশল সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। ফাইনালে ওঠার এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে দুই দলই মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেবে।

স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ফরাসি ফুটবলারদের শক্তিমত্তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন উল্লেখ করে দেশম জানান, ফরাসি ডাগআউটও প্রতিপক্ষের প্রতিটি বিভাগের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে বিস্তারিত হোমওয়ার্ক শেষ করেছে। বিশেষ করে স্পেনের উদীয়মান তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নিয়ে ফরাসি কোচ বলেন, মাঠের যেকোনো পরিস্থিতিতে ইয়ামালকে আটকে রাখা যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই বেশ কঠিন। তবে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের তারকাদের সামলানোও স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের জন্য মোটেও সহজ কাজ হবে না।

স্পেনের খেলার বিশেষ ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশম উল্লেখ করেন, স্প্যানিশরা বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রাখতে পছন্দ করে, প্রতিপক্ষের ওপর তীব্র আক্রমণাত্মক হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে এবং তাদের ডিফেন্স লাইনও বেশ সুসংগঠিত। তাই এই সেমিফাইনালে মূল পার্থক্য গড়ে দেবে কোন দল মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে এবং বক্সে পাওয়া সুযোগগুলো নিখুঁত ফিনিশিংয়ে কাজে লাগাতে পারছে। তবে এই ম্যাচকে উয়েফা ইউরোর কোনো প্রতিশোধের লড়াই হিসেবে দেখতে নারাজ দেশম। তাঁর মতে, এটি শুধুই বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে ওঠার এক নতুন যুদ্ধ, যেখানে দুই দলই নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে চাইবে।

দলের অধিনায়ক ও মূল ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পের ফিটনেস নিয়েও দারুণ আশাবাদী ফ্রান্স কোচ। গোড়ালির চোটের কারণে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা হলেও এমবাপ্পে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন করছেন এবং ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে নামার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বোস্টন থেকে ডালাসে দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে খেলোয়াড়দের ক্লান্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে দেশম বলেন, গ্রুপপর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থাকার কারণে দল পরিকল্পনা অনুযায়ী গুছিয়ে ওঠার পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে এবং ম্যাচের আগে ফুটবলাররা চার দিনের পূর্ণ বিশ্রামও উপভোগ করেছে।

স্পেনকে এবারের বিশ্ব আসরের অন্যতম সেরা ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে অভিহিত করে দেশম জানান, আক্রমণ ও রক্ষণ—উভয় বিভাগেই তারা দারুণ ফুটবল খেলছে। তবে ফ্রান্সও নিজেদের সেরা ফর্ম প্রদর্শন করতে মুখিয়ে আছে। ম্যাচের সম্ভাব্য একাদশ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দেশম স্বীকার করেন যে, দলের অরেলিয়েন চুয়ামেনি, মানু কোনো, দেজিরে দুয়ে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

তাই চূড়ান্ত একাদশ বাছাই করা তাঁর জন্য বেশ কঠিন একটি সিদ্ধান্ত। চুয়ামেনির চোটের অবস্থা নিয়ে কোচ জানান, তিনি এখনো শতভাগ ম্যাচ ফিটনেসে না ফিরলেও মাঠে নামার মতো শারীরিক অবস্থায় আছেন। অন্যদিকে দেজিরে দুয়ে ও বারকোলার মধ্যে কে শুরুর একাদশে থাকবেন, তা ম্যাচের মূল কৌশল ও মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে নির্ধারণ করা হবে।

সূত্র: এএস স্পোর্টস


বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের তুরুপের তাস যখন এমবাপ্পে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ২০:৩৯:৫৩
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল: ফ্রান্সের তুরুপের তাস যখন এমবাপ্পে
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালের আগে ফরাসি শিবিরে বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা মিলেছে। চোটের ধাক্কা কাটিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন ফ্রান্স দলের অধিনায়ক ও প্রধান তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচে তাঁর মাঠে নামা নিয়ে আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম।

কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ী ম্যাচে খেলার শেষ দিকে গোড়ালিতে সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। এরপর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সেমিফাইনালের আগের প্রস্তুতি সেশনে তাঁকে পুরো সময় মাঠে না রেখে কিছুটা বাড়তি বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তবে অধিনায়কের এই হালকা চোট নিয়ে ফরাসি ডাগআউট যে মোটেও চিন্তিত নয়, তা স্পষ্ট করেছেন দেশম। ম্যাচ-পূর্ববর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রধান কোচ বলেন, কিলিয়ান এখন পুরোপুরি ভালো আছেন এবং নিয়মিত অনুশীলনও করেছেন। তবে সুরক্ষার স্বার্থে একটি বিশেষ ড্রিল সেশনে যেখানে ১৫ মিনিট থাকার কথা ছিল, সেখানে তাঁকে ১০ মিনিট পর তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে ফরাসি ফুটবল দলের চিকিৎসকের দলও (মেডিক্যাল স্টাফ) পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানিয়েছে যে, এমবাপ্পের এই চোট অত্যন্ত সাধারণ ও মৃদু প্রকৃতির। তাই স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফরাসি একাদশে তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে কোনো ধরনের বাধা বা ঝুঁকি নেই।

চলতি বিশ্বকাপে ফরাসিদের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি ও ভরসার প্রতীক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর অতিমানবীয় গতি, নিখুঁত গোল করার সক্ষমতা এবং মাঠের নেতৃত্বই ফ্রান্সকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া চোটের কালো মেঘ কেটে যাওয়ায় পুরো ফরাসি শিবিরে চনমনে ভাব ফিরে এসেছে। বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ও জমজমাট এই সেমিফাইনালে আজ রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, আর এমবাপ্পের শতভাগ ফিটনেস এই দ্বৈরথের উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: