আজ রাতেই ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণের আলটিমেটাম

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার সংঘাত আজ শনিবার (৭ মার্চ) অষ্টম দিনে পদার্পণ করেছে। দুই দেশের যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের ওপর হামলার মাত্রা আরও তীব্র করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরান পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান থামবে না। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট জানান, আজ রাতেই ইরানের ওপর মার্কিন ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো। তিনি দাবি করেন, এই সুপরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর করে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের তিন হাজারেরও বেশি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্ট্রাল কমান্ড উল্লেখ করেছে, গত শুক্রবার ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ৪৩টি জাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের প্রথম ধাপেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্তত ৪৯ জন শীর্ষস্থানীয় নেতার নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে তারা।
মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইনের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা প্রায় ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার নাগাদ এই সক্ষমতা আরও ২৩ শতাংশ কমেছে। সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অভিযান ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
/আশিক
চোখের বদলে চোখ নীতিতে সৌদির ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল হুতিরা
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার প্রতিবেশী ও প্রধান প্রতিপক্ষ দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ সামুদ্রিক অবরোধের (Naval Blockade) ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) হুতিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই একপাক্ষিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গাল্ফ নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে লোহিত সাগর ও সীমান্ত এলাকায় সৌদি আরব এবং হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর পরই এই বড় ধরনের রণকৌশলগত ঘোষণাটি সামনে এলো।
হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান সামরিক মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহইয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা কঠোরভাবে “চোখের বদলে চোখ” নীতির ভিত্তিতে আমাদের প্রধান সৌদি শত্রুর বিরুদ্ধে এই সামরিক সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা করছি।’ তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই বিশেষ বিবৃতি ও সামরিক আদেশটি গণমাধ্যমে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত নৌপথে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের এই আকস্মিক সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে, যা প্রকারান্তরে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারকে আরও বেশি অস্থির ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত: প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার সামরিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের মুখে দেশের বিদ্যমান অবস্থান স্পষ্ট করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এক অনমনীয় ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। দেশের চলমান এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণকে বাস্তববাদী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এই দীর্ঘ লড়াই ও প্রতিরোধের যেকোনো স্বাভাবিক পরিণতি মেনে নিতে দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) ইরানের প্রেসিডেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বক্তব্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রধান কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতির নির্মম বাস্তবতা হলো, আজ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সর্বাত্মক ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের কোনো ধরনের কাল্পনিক জগতে না থেকে কঠোরভাবে বাস্তববাদী হতে হবে এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এই অনড় প্রতিরোধের ফলে সামনে আসা যেকোনো স্বাভাবিক বা কঠিন পরিণতি অত্যন্ত সাহসের সাথে মেনে নিতে হবে।’
বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU)-র অভ্যন্তরীণ নানা শর্ত ও সমীকরণ নিয়ে প্রথমবার মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চুক্তিটি নিয়ে নানা নেতিবাচক আলোচনা হলেও, এটি মূলত ইরানের ভূরাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষেই সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক ও লাভজনক ছিল।
চুক্তির আইনি ও কৌশলগত দিক ব্যাখ্যা করে পেজেশকিয়ান অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘উক্ত সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত মোট ১৪টি ধারার কোনো একটিতেও আমরা আমাদের সার্বভৌম অধিকার, দীর্ঘদিনের অনুসৃত রাষ্ট্রীয় নীতি, সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থ, মূল বিপ্লবী মূল্যবোধ কিংবা ইসলামী বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসিনি বা কোনো ছাড় দিইনি।’ তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক সমঝোতার সিংহভাগ বড় বড় অর্জন সম্পূর্ণভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অনুকূলেই এসেছে। চুক্তির দলিলে এমন কোনো একক ধারা কার্যত ও আইনগতভাবে রাখা হয়নি, যা একতরফাভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি কোনো কৌশলগত সুবিধা বা প্রিভিলেজ সৃষ্টি করেছে।’
এখানে বিশেষভাবে স্মরণ করা যেতে পারে যে, গত জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কায়েম করা। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস পার হতে না হতেই চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আবারও ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা শুরু হয়েছে।
/আশিক
‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
ইরানের দারখোভিন অঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। হামলার পর ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’, ‘বর্বরোচিত আগ্রাসন’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাব হবে ‘চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী’।
ইরানের রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি সংস্থা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, একটি বেসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী। সংস্থাটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে সামরিক শক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং সর্বশেষ হামলাও তারই ধারাবাহিকতা।
আল জাজিরা প্রকাশিত বিবৃতির উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সন্ত্রাসী ও অপরাধী সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ওয়াশিংটনের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাহ্য করে পরিচালিত একটি ‘আগ্রাসী ও বর্বরোচিত’ সামরিক অভিযান। সংস্থাটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করছে।
এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, দারখোভিনের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। সংস্থাটি হামলার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং সম্ভাব্য সামরিক ঝুঁকি মোকাবিলা করা।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, শনিবার রাতের অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর বিরুদ্ধে জবাবমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
মার্কিন হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা বর্বরোচিত হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ‘চূড়ান্ত, কঠোর এবং বিধ্বংসী’।
-রফিক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, পরমাণুকেন্দ্রে নতুন হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সর্বশেষ অভিযানে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দারখোভিন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিপর্যয়কর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। নতুন করে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে আসছিল। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের এই সিদ্ধান্তে তাঁর প্রশাসনের কোনো উদ্বেগ নেই। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য এখনো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে সেই লক্ষ্য অর্জনে সামরিক পদক্ষেপও অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিরোধ। সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। ইরানি নৌবাহিনীর দাবি, সম্প্রতি চারটি জাহাজ ‘অনিরাপদ’ রুট ব্যবহার করছিল। সতর্কবার্তার পর দুটি জাহাজ ফিরে গেলেও অপর দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে সেগুলোতে সরাসরি হামলা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
শনিবার রাতে চালানো মার্কিন হামলায় দারখোভিন অঞ্চলের নির্মাণাধীন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, স্থাপনাটির নির্মাণকাজ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও হামলার ঘটনা তারা তদন্ত করছে। অন্যদিকে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, একটি বেসামরিক পরমাণু স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও পারমাণবিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-কে জবাব দেওয়া। একই রাতে দারখোভিন ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এবং ইরাক সীমান্তসংলগ্ন শাদেগান এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, কুয়েতের আল আদিরি ক্যাম্প এবং আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের একটি পানি পরিশোধনাগার হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে জর্ডানের আকাশেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা একাধিক ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।
-রয়টার্স, আল জাজিরা
ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে ইরানের বের হয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকে মোটেও আমল বা পাত্তা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থানের জবাবে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরানের এমন একপাক্ষিক ঘোষণায় ওয়াশিংটনের ‘কিছুই যায় আসে না’। তবে সমঝোতা চুক্তিটি ভেঙে গেলেও ইরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক মারণাস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক এবং পরবর্তীতে সেটি আর কার্যকর না রাখার বিষয়ে তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া সাম্প্রতিক ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, এতে আমার বিন্দুমাত্র কিছু যায় আসে না।
হোয়াইট হাউজের এই প্রধান নীতি নির্ধারক দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের চেয়ে ওয়াশিংটনের মূল কৌশলগত লক্ষ্য একটাই—আর তা হলো ইরান যেন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে এবং মার্কিন প্রশাসন সেই লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এখানে উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী কর্তৃক শুরু করা দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ওই বিশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে অতি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে বিরোধের জেরে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আবারও উত্তেজনার পারদ হু হু করে বেড়েছে এবং দুই পক্ষই বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা একটি মার্কিন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন নিখুঁতভাবে ভূপাতিত করেছে। ইরানের স্বনামধন্য রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ড্রোন ধ্বংসের সামরিক তথ্যটি প্রকাশ করেছে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর অফিশিয়াল টেকনিক্যাল তথ্য ও বিবরণী অনুযায়ী, এমকিউ-৯ রিপার হলো অত্যন্ত আধুনিক ও দূরনিয়ন্ত্রিত একটি চালকবিহীন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান (ড্রোন)। এটি মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে অতি গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, শত্রুর গতিবিধি নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ করা এবং সুনির্দিষ্ট নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার গাইডেড মিসাইল হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বজুড়ে ব্যবহার করে থাকে।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস
ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং বর্তমানে নির্মাণাধীন কৌশলগত ‘ডারখোভিন’ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সমস্ত রক্ষাকবচের অধীনে থাকা সম্পূর্ণ বেসামরিক ও একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর এই আগ্রাসী হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম ও নজিরবিহীন লঙ্ঘন বলে কড়া ক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা স্পষ্ট করে জানায়, ডারখোভিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখনো প্রাথমিক ও নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। তবে মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই আকস্মিক হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাটির ঠিক কী ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে কিংবা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কতটুকু, সে বিষয়ে তেহরান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান চরম বৈরিতার পারদ যখন দিন দিন আকাশচুম্বী হচ্ছে, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটল। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। আর মার্কিন এই আগ্রাসনের কড়া জবাবে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, গত জুন মাসে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সরাসরি মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির রূপরেখা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মাঠপর্যায়ে চলমান থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের সামরিক বাহিনী কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না এবং দফায় দফায় এই ভয়াবহ গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক কেন্দ্রে সর্বশেষ এই মার্কিন হামলা দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও বেশি সংঘাতময় ও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।
/আশিক
আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
সৌদি আরবকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ও অনুমতি দিয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত অনুমোদন না মেলায় অত্যন্ত সংবেদনশীল এই চুক্তিটি এখন আইনি টেবিলে আটকে রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসেই এই সম্ভাব্য চুক্তির যাবতীয় কূটনৈতিক ও কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নথিতে সই করতে বিলম্ব করছেন। এ ছাড়া খসড়াটি মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত হলে সেখানে দেশটির প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে—এমন একটি প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক আশঙ্কাও এই বিলম্বের অন্যতম বড় কারণ।
পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নিয়মানুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটিই হলো মূলত পারমাণবিক বোমা বা মারণাস্ত্র তৈরির মূল ও প্রাথমিক অনুষঙ্গ। এই কারণে বিশ্বজুড়ে সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো দেশ যদি সম্পূর্ণ বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে চায়, তবে তারা নিজেরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তা প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় আমদানি করে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, কঠোর বিধিনিষেধ বা আন্তর্জাতিক তদারকি না থাকলে এই শিথিল চুক্তির সুযোগ নিয়ে সৌদি আরব খুব সহজেই ভবিষ্যতে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ও পথ পেয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, তাদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তবে নিজেদের সুরক্ষায় সৌদি আরবও পরমাণু বোমা বানাতে বাধ্য হবে।
এই চুক্তির খসড়ায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো, এতে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র চিরাচরিত কঠোর তদারকি ও জবাবদিহির নিয়মটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে, জাতিসংঘের এই স্বাধীন সংস্থাটি চাইলেই যখন-তখন সৌদির যেকোনো সন্দেহভাজন পরমাণু কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বা সেখানে আকস্মিক পরিদর্শন চালাতে পারবে না। পুরো পারমাণবিক কর্মসূচির দেখভাল ও নিয়ন্ত্রণ কেবল ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তানুযায়ী পরিচালিত হবে। অথচ ইতিপূর্বে ২০০৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যেরই আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের লোভ ত্যাগ করে সম্পূর্ণ কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম ও জাতিসংঘের কড়া নজরদারি মেনে আমেরিকার সাথে চুক্তি সই করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক সুরক্ষার ইতিহাসে আজ অবধি আদর্শ নিয়ম বা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সৌদির মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো স্পর্শকাতর প্রযুক্তি হস্তান্তর করা চরম বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ রিয়াদ প্রশাসন যেকোনো সংকটের মুহূর্তে আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে এই পরমাণু কেন্দ্রগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাতারাতি নিজেদের একক সামরিক কর্তৃত্বে নিয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে, এই চুক্তির পক্ষে ও মার্কিন প্রশাসনের যারা ওকালতি করছেন, তাদের প্রধান অর্থনৈতিক যুক্তি হলো—এই বিশাল চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার নিজস্ব পরমাণু ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল অংকের মুনাফা অর্জনের বড় সুযোগ পাবে।
এ ছাড়া মার্কিন লবিস্টদের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি এখন সৌদিকে এই প্রযুক্তি না দেয়, তবে রিয়াদ হয়তো বিকল্প পথ হিসেবে রাশিয়া কিংবা চীনের কাছে হাত বাড়াবে; যারা কোনো কঠোর আন্তর্জাতিক শর্ত ছাড়াই আরও সহজে সৌদিকে এই পরমাণু প্রযুক্তি সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে চুক্তির ঘোর বিরোধীদের স্পষ্ট কথা, ওয়াশিংটন যদি বাণিজ্যিক লাভের আশায় এভাবে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিয়ম শিথিল করে সৌদির সাথে পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করে, তবে তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে মারাত্মক নজির হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সূত্র: সিএনএন।
ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেছেন, এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে আনাদোলু।
খামেনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্ত যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ভঙ্গ করেছে। তার ভাষায়, এই পুনরাবৃত্ত ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে যে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নির্ভরযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে দাবি করেন, জবরদস্তি, একচ্ছত্র আধিপত্য এবং কঠোর শক্তি প্রয়োগের নীতি দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অংশ হয়ে আছে।
নিজের বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বর্তমান উত্তেজনা আরও বাড়ানোর পথে এগোয়, তাহলে তাদের আরও বড় মূল্য দিতে হবে এবং আরও অপমানের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (Resistance Front) যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা দীর্ঘদিন মনে রাখবে।
খামেনি জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সব স্তরের মধ্যে সংহতি বজায় রাখা। তার মতে, জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যোদ্ধাদের তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের দৃঢ় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই দিনে দেওয়া এক পৃথক বার্তায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সে প্রকাশিত পোস্টে তিনি বলেন, বর্তমান ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে দেশের সাফল্যের প্রধান শর্ত হলো অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক বিভাজন ও মতবিরোধ থেকে দূরে থাকা।
এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করায় তেহরানও ওই সমঝোতার আওতায় নিজেদের অঙ্গীকার স্থগিত করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
-রফিক
সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিল ইরান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য একটি বড় ধরনের ও বিস্তৃত সংঘাতের জন্য নিজেদের আঞ্চলিক সব মিত্র শক্তিকে আগাম প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। লেবানন থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘নিদা আল-ওয়াতান’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তেহরানের পক্ষ থেকে বিশেষ করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহসহ পুরো ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের শরিক দলগুলোকে যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তেহরানে তার জানাজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকগুলোতে মিত্রদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, শত্রুর বিরুদ্ধে ‘অপেক্ষার সময় এখন শেষের পথে’ এবং এই মুহূর্তে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করাই জোটের প্রধান ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংকট এমন এক সময়ে তৈরি হলো, যখন দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, সেই সমঝোতার মাত্র এক মাস পার হতে না হতেই আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ ও সংঘাত শুরু হয়ে গেছে।
চলমান এই নতুন দফার সামরিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরাসরি লিপ্ত হয়নি এবং তেহরানের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কোনো পাল্টা হামলা চালানো হয়নি। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লেবাননের হিজবুল্লাহ যদি এই পরিস্থিতিতে আবারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে এই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত ও বিপজ্জনকভাবে পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।
লেবানিজ ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার জন্য নিজেদের সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখার তাগিদ দিয়েছেন। ইরানি নীতি নির্ধারকদের মতে, সামনে যদি কোনো নতুন সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে, তবে তা পূর্বের যেকোনো লড়াইয়ের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত, ভয়াবহ ও মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন সংঘাত ও হামলায় ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী বড় ধরনের সামরিক ও সাংগঠনিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তা সত্ত্বেও তেহরান প্রশাসন এখনো লেবাননের হিজবুল্লাহকেই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাদের ওপরই মূল ভরসা রাখছে।
প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আকস্মিক হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলের একটি বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছিল। এর জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী লেবানন জুড়ে ব্যাপক ও বিধ্বংসী বিমান হামলা চালায় এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে একটি বাফার জোন বা নিরাপত্তা বলয়ের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। এর আগে ২০২৪ সালের সংঘাত চলাকালেও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশকে সুনির্দিষ্টTarget করে হত্যা করেছিল ইসরায়েল।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আরেক অন্যতম শরিক ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীরাও এই আঞ্চলিক সংকটের শুরু থেকে একাধিকবার ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনী টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন অভ্যন্তরীন অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানকে দেওয়া এক কঠোর হুঁশিয়ারির পর মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের হামলার পরিধি ও তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তারা ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতুসহ কৌশলগত অবকাঠামোগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল রুট হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে তাদের একচ্ছত্র চাপ ও নিয়ন্ত্রণ কমাতে বাধ্য করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও বসে নেই; তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মিত্র দেশগুলোর সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানের দিকে নতুন করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে সামনে আরও বড় ধরনের ও বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, আগের রাতে তাদের চালানো বিশেষ বিমান হামলায় ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দরে অবস্থিত ইরানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নজরদারি টাওয়ার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দীর্ঘদিন ধরে চাবাহার বন্দরের এই বিশেষ টাওয়ারটি ব্যবহার করে আসছিল। এই টাওয়ারের মাধ্যমে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন বাণিজ্যিক মাদার ভেসেল ও সাধারণ জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত এবং হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করত।
মার্কিন সামরিক কমান্ডের ভাষ্য, এই কৌশলগত টাওয়ারটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ফলে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা সমন্বয় করার ক্ষেত্রে আইআরজিসির সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে। নিজেদের দাবির সপক্ষে সেন্টকম ওই সামরিক হামলার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ফুটেজও গণমাধ্যমের জন্য প্রকাশ করেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
পাঠকের মতামত:
- রেফারিকে প্রভাবিত করে ম্যাচ জিতেছে স্পেন: ফাইনাল হেরে বিস্ফোরক ওটামেন্ডি
- সরকারি হাসপাতালই যেন হয় মানুষের একমাত্র ভরসা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় দেশজুড়ে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি
- চট্টগ্রামে যুব রেড ক্রিসেন্টের ৪১ ওয়ার্ড ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
- 'সবকিছু ভুলে যাও': ড্রেসিংরুমে মেসির রহস্যময় বার্তা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে তোলপাড়
- ধেয়ে আসছে পাহাড়ি ঢল: উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় বন্যার আগাম সতর্কতা
- চোখের বদলে চোখ নীতিতে সৌদির ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল হুতিরা
- সরকারের সমালোচনার জন্য এখন আর কাউকে গুম হতে হয় না: রুহুল কবির রিজভী
- মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যেসব এলাকায় থাকবে না গ্যাস
- ট্রাম্প-ইয়ামাল কুশল বিনিময়ের খণ্ডিত ভিডিও নিয়ে ইন্টারনেটে তুমুল বিতর্ক ও আসল সত্য
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত: প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
- ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন লজ্জাজনক রেকর্ডে জড়াল আর্জেন্টিনার নাম
- জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনে
- দিল্লিতে 'চলো সংসদ' অভিযানে তুলকালাম, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আটক
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বজয়, অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসাল ইরান
- আর্জেন্টিনার হারে ভেঙে পড়েছেন? কীভাবে সামলাবেন মন
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন রেকর্ড
- ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, কোন কোন জেলায় সতর্কতা?
- আজ নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন পাঁচ ওয়াক্তের সময়
- ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
- ‘বিচারের মুখোমুখি হলে সাহসের প্রমাণ মিলত’- হাসিনাকে নিয়ে নাহিদের মন্তব্য
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, পরমাণুকেন্দ্রে নতুন হামলা
- ট্রফি হাতছাড়া, আবেগঘন বিদায়ে কাঁদলেন লিওনেল মেসি
- ২২ ক্যারেট স্বর্ণ এখন কত? জেনে নিন সর্বশেষ দাম
- বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ টেনিস কোর্টে, স্পেনের জয় নিয়ে আশাবাদী নাদাল
- ঘরে বসে যেভাবে সরাসরি স্মার্টফোনে দেখবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ
- গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- ১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আগাম ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঘোরা যাবে বিশ্বের ৩৬টি দেশ
- সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে সরকার ভাঙার আন্দোলন: ডা. শফিকুর রহমান
- যুক্তরাষ্ট্রকে কখনো ভুলতে না পারার মতো শিক্ষা দেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির
- ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
- ১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন
- ১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা
- ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'
- ১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম, ফ্রান্সের দুঃস্বপ্নের রাত
- আজ বের হওয়ার আগে দেখে নিন কোন মার্কেট বন্ধ
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে দেখে নিন আজকের দাম
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা
- কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার
- ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক
- ইয়ামালকে থামানোর উপায় কী? স্কালোনি বললেন ‘রুমে তালা মেরে রাখা’
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’








