সৌদি আরবের তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এবার সৌদি আরবের তেলের খনি পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের একটি তেলের খনি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে সৌদি আরবের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে ইরানের ড্রোনগুলো শায়েবাহ তেল খনিকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছিল। তবে সৌদি সামরিক বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মোট ৬টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দেয়, ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুধু তেলের খনি নয়, সৌদিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ‘প্রিন্স সুলতান এয়ারবেইস’ লক্ষ্য করেও ইরান একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে সেটিও দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী উত্তজনা থেকে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে এ বিষয়ে সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরপরই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে তাদের আক্রমণ শুরু করে।
বর্তমানে ইরান এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে নিয়মিতভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। সৌদি আরবে সাম্প্রতিক এই হামলা সেই প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: ট্রাম্পকে কি সত্যিই ঠেকানো যাবে?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ চতুর্থ মাসে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে বুধবার এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শান্তি আলোচনা চললেও দুই পক্ষ এখনো কার্যকর ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে বিরল প্রকাশ্য ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে সিনেটেও পাস হতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট চাইলে এতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেশ কঠিন।
বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে যুদ্ধ ক্ষমতা আইন বা War Powers Act প্রয়োগের প্রস্তাব তোলা হয়। এই আইনের লক্ষ্য হলো, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে যুক্ত হলে কংগ্রেস যেন সেই সংঘাত বন্ধে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ১৯৭৩ সালে কার্যকর হওয়া এই আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাৎক্ষণিক হামলার ঝুঁকি না থাকলে প্রেসিডেন্ট এককভাবে যুদ্ধ শুরু করতে পারেন না। জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন করা হলেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হয় এবং কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করলে ৬০ দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করতে হয়।
ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক হামলার হুমকি ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই আগে হামলা চালিয়েছে। তাঁদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন, যার সামরিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক পরিণতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। ৬০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি সরে আসেনি বলে সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন।
ভোটাভুটিতে ২১৫ জন প্রতিনিধি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ সীমিত করার পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন ২০৮ জন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, চারজন রিপাবলিকান সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। তাঁরা হলেন মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন, কেন্টাকির থমাস ম্যাসি এবং পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক। এর আগেও তিনজন রিপাবলিকান একই ধরনের ভোটে দলীয় অবস্থান ভেঙেছিলেন; এবার তাঁদের সঙ্গে আরও একজন যুক্ত হন। এটি ইঙ্গিত করছে যে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও অস্বস্তি বাড়ছে।
যুদ্ধের শুরুতে রিপাবলিকানদের বড় অংশ প্রকাশ্যে ট্রাম্পের পাশে থাকলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যবস্থা এবং মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ট্রাম্প স্থায়ী সমঝোতা আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে তাঁর জনপ্রিয়তাও চাপে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রতিনিধি পরিষদের ভোট কেবল ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান নয়; রিপাবলিকান দলের ভেতরেও ক্রমবর্ধমান সংশয়ের প্রতিফলন।
তবু এই ভোটকে এখনই কার্যকর বাঁধা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ সিনেটে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সিনেট ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে কয়েক দফা ভোটের চেষ্টা করলেও রিপাবলিকানরা এখনো তা ঠেকিয়ে রেখেছেন। সর্বশেষ ভোটে ৫০-৪৭ ব্যবধানে প্রস্তাব এগোয়নি। যদিও সেখানে চারজন রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন, তবুও তা যথেষ্ট ছিল না। এর ফলে বোঝা যায়, যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে অস্বস্তি থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এখনো প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে প্রস্তুত নয়।
আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র আদৌ এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আছে কি না। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১ মে দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির ফলে “শত্রুতা শেষ” হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও কংগ্রেসে শুনানির সময় বলেন, “ইরান যুদ্ধ শেষ।” প্রশাসনের যুক্তি হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে War Powers Act-এর আওতায় বর্তমান পরিস্থিতিকে সক্রিয় যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে তেহরানও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত রেখেছে। সিনেটর জিন শাহিন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে যথাযথ তথ্য না দিয়ে যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, প্রশাসন যখন বলছে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় শত্রুতায় নেই, তখনও বাস্তবে সামরিক সংঘাত ও প্রতিরোধমূলক হামলা চলেছে।
এই বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্যে। তিনি মে মাসে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট চাইলে ইরানে হামলা আবার শুরু করতে পারেন এবং প্রশাসনের হাতে তা করার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা রয়েছে। তাঁর যুক্তি, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি War Powers Act-এর ৬০ দিনের সময়সীমা নতুন করে শুরু করেছে। অর্থাৎ প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আবারও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন।
এই অবস্থান সমালোচকদের আরও উদ্বিগ্ন করেছে। কারণ এর অর্থ দাঁড়ায়, যুদ্ধবিরতি ব্যবহার করে প্রশাসন সময়সীমা পুনর্গণনা করতে পারে এবং কার্যত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নতুন হামলার পথ খোলা রাখতে পারে। এতে মার্কিন সংবিধানের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও আধুনিক মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই সামরিক ক্ষমতা বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করেছেন। ইরান যুদ্ধ সেই দীর্ঘ বিতর্কের নতুন অধ্যায়।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন করদাতাদের অর্থ একটি “বেপরোয়া পছন্দের যুদ্ধে” ব্যয় করছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয়। যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধের দাবি এখন শুধু নৈতিক বা সাংবিধানিক প্রশ্ন নয়; এটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন দাবি করছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, “আত্মরক্ষা”র এই বিস্তৃত ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে নতুন সামরিক অভিযানের পথ খুলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিলেও তা এখনো যুদ্ধ থামানোর কার্যকর আইনি হাতিয়ার হয়ে ওঠেনি। এটি কংগ্রেসের একাংশের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, রিপাবলিকানদের ভেতরে ফাটলের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ককে সামনে এনেছে। কিন্তু ট্রাম্পের হাতে এখনো ভেটো ক্ষমতা আছে, সিনেটে রিপাবলিকান প্রভাব রয়েছে এবং প্রশাসন যুদ্ধবিরতির ব্যাখ্যা ব্যবহার করে নিজের সামরিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে চাইছে।
তাই প্রশ্নটি এখন শুধু প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে সীমাবদ্ধ নয়। আসল প্রশ্ন হলো, মার্কিন কংগ্রেস কি সত্যিই প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? নাকি ইরান যুদ্ধও সেই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হবে, যেখানে কংগ্রেস আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টই সামরিক নীতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন? আপাতত প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা, কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা নয়।
দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের রহস্যময় কাঠামো: হঠাৎ দেখা দিয়ে উধাও, তুঙ্গে উত্তেজনা
প্রশান্ত মহাসাগরের ভূকৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলয় হিসেবে পরিচিত ‘দক্ষিণ চীন সাগর’। এই সাগরের অন্যতম বিরোধপূর্ণ অঞ্চল ‘স্কারবোরো শোল’-এ সম্প্রতি রহস্যময় একটি কাঠামোর আকস্মিক উপস্থিতি এবং পরপরই তা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে তীব্র আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে এই প্রবালপ্রাচীরের লেগুন প্রবেশমুখে একটি সন্দেহজনক ভাসমান ভেলা বা বয়া সদৃশ বস্তুর অস্তিত্ব ধরা পড়ে, যা চীনের গোপন সামরিক বা কৌশলগত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যানটর’ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘সিলাইট’-এর বিশেষজ্ঞরা গত ২৭, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, স্কারবোরো শোলের লেগুনের প্রবেশপথের কাছে দেখা যাওয়া বস্তুটি কোনো সাময়িক আলোক প্রতিফলন ছিল না, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট স্থায়ী বা আধা-স্থায়ী কাঠামো ছিল।
এমনকি ২৭ ও ২৯ মে তোলা ছবিতে দেখা যায়, ওই বস্তুটি লেগুনের মুখ আংশিকভাবে আটকে রেখে একটি কৃত্রিম বাধার সৃষ্টি করেছিল। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ১ জুন তোলা পরবর্তী স্যাটেলাইট ছবিতে ওই কাঠামোর আর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক নজরদারির কারণে চীন সেটি দ্রুত সরিয়ে নিয়েছে অথবা অন্যত্র স্থানান্তর করেছে। বরাবরের মতোই এই স্পর্শকাতর বিষয়ে বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা ম্যানিলার চীনা দূতাবাস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এদিকে এই রহস্যময় কাঠামোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ফিলিপাইন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি এই বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পান এবং বর্তমানে তা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও এই প্রবেশমুখে প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান কৃত্রিম প্রতিবন্ধক স্থাপন করেছিল চীনা কোস্টগার্ড, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল লেগুনে অন্য দেশের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা।
দীর্ঘদিনের এই বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটি চীনে ‘হুয়াংইয়ান দাও’ এবং ফিলিপাইনে ‘বাজো দে মাসিনলোক’ নামে পরিচিত। সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ, সম্ভাব্য তেল-গ্যাস খনি এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় ২০১২ সাল থেকে প্রবালপ্রাচীরটি কার্যত জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে চীন। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত চীনের এই অবরোধকে ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’ বলে রায় দিলেও বেইজিং তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে সাগরের সিংহভাগের ওপর নিজেদের একক দাবি বজায় রেখেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ফিলিপাইন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামুদ্রিক মহড়ার পর এই অঞ্চলে চীনের টহল আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই ধরনের রহস্যময় কর্মকাণ্ড এবং গোপন বাধার রাজনীতি দক্ষিণ চীন সাগরে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের কূটনৈতিক বা সামরিক সংঘাতের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
/আশিক
কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও যুদ্ধবিরতি মানছে না ইসরাইল, লেবাননে ব্যাপক হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মধ্যস্থতায় লেবাননের সাথে বহুল আলোচিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ক্ষেত্রে তা একেবারেই মানবে না ইসরায়েল। দখলদার দেশটির সেনাবাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের চলমান নৃশংস সামরিক অভিযান কোনো বিরতি ছাড়াই অব্যাহত থাকবে। সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘সৌদি গেজেট’-এর এক প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। ইসরায়েলের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সম্পূর্ণভাবে তাড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই সামরিক আগ্রাসন চলতেই থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই দাবি করেছেন, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং সেনারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে উপর্যুপরি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি ওই অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দাদের জাহরানি নদীর দক্ষিণে ভ্রমণ বা যাতায়াত না করার কঠোর নির্দেশ দেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যে বা যারাই এখন দক্ষিণে যাবে, তাদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়বে।’ অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ স্পষ্ট করেছেন যে, বৈরুতের সঙ্গে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি ‘শর্তসাপেক্ষ’ এবং এর স্থায়িত্ব নির্ভর করছে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সম্পূর্ণ অপসারণের ওপর।
বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির খাতা-কলমে ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননের আকাশে প্রতনিয়ত ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে উড়ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, লেবাননের ঐতিহাসিক টাইর শহরের ওপর দিয়ে অত্যন্ত নিচু দিয়ে ইসরায়েলি ড্রোন উড়তে দেখা গেছে এবং একই সময়ে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ চালানো হয়েছে।
লেবাননের বেকা উপত্যকার সোহমোর শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। একইভাবে তথাকথিত যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে টেল আল-আকারেবসহ আরও কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে। এছাড়া হাদ্দাথা, টিবনিন, হারিস এবং হারিনসহ দক্ষিণ লেবাননের একাধিক শহরের ওপর নতুন করে একের পর এক হামলা চালানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ দেশটির বাস্তুচ্যুত সাধারণ জনগণকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও এখনই দক্ষিণাঞ্চলে নিজ নিজ ঘরবাড়িতে না ফেরার জন্য আকুল আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলে যাওয়া অসংখ্য অবিস্ফোরিত বোমা, মাইন ও চলমান আকাশ হামলার কারণে দক্ষিণের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক।
উল্লেখ্য, এই আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তেও হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের কানতারা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি ক্যাম্পে ব্যাপক রকেট হামলা চালায় এবং কৌশলগত বিউফোর্ট দুর্গের কাছে সফল ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে, যা মূলত এই চুক্তির ভঙ্গুরতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
/আশিক
ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতি মানে একটু আস্তে গুলি চালানো: ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইরানের কাছে ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটির সংজ্ঞা ও অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন নেতা ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, তেহরানের কাছে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা চুক্তির মানে হলো যখন আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা ‘ধীরগতিতে বা পরিমিত মাত্রায় গুলি চালাচ্ছেন’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিকতম সময়ে হওয়া এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই যুদ্ধবিরতিকে তিনি কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই বিচিত্র মন্তব্য করেন। হাস্যোজ্জ্বল মুখে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ওটা বিশ্বের সম্পূর্ণ আলাদা একটি অংশ এবং ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি মানেই হলো যখন আপনি কিছুটা পরিমিতভাবে গুলি চালাচ্ছেন, এটা খুব একটা খারাপ নয়।
ট্রাম্পের মতে, সেখানে একটি যুদ্ধবিরতির অর্থ পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রান্তের চেয়ে অনেক বেশি আলাদা। তবে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর এই সর্বাধিনায়ক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এত কিছুর পরও চলতি ‘সপ্তাহান্তের মধ্যেই’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি বড় ধরনের স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এক টেবিলে বসতে পারে। যদিও ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও বক্তব্যের কারণে বর্তমানে তিনি দেশের অভ্যন্তরে নিজস্ব political মিত্র এবং আন্তর্জাতিক শত্রু উভয় পক্ষের কাছ থেকেই তীব্র সতর্কবার্তা ও সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন।
মূলত ট্রাম্প এই ইরান যুদ্ধটিকে একটি সংক্ষিপ্ত সামরিক অভিযান হিসেবে শুরু করলেও তা এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অনির্দিষ্টকালের জটিল সংঘাতে রূপ নিয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকেরা চলমান সংঘাতের যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর জন্য এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে একটি খসড়া চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন, যা বাস্তবায়নে ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু ট্রাম্প সেই খসড়া চুক্তিতে কিছু অনির্দিষ্ট পরিবর্তনের দাবি তোলায় চুক্তিটি ঝুলে যায় এবং ইরানের কর্মকর্তারাও ট্রাম্পের এই নতুন শর্তের সামনে মাথা নোয়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গত ৭ এপ্রিল মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘ ৩৮ দিনের ভয়াবহ বোমাবর্ষণের পর একটি ১৪ দিনের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া উপর্যুপরি পাল্টাপাল্টি হামলা সেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটিকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার গভীর আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
মুকেশ আম্বানিকে টপকে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী টিকটকের ঝ্যাং ইমিং
ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঝ্যাং ইমিং এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানে উঠে এসেছেন। বাইটড্যান্সের বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কোম্পানিটির দ্রুত অগ্রগতির ফলে তিনি ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি ও রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকেও ছাড়িয়ে গেছেন।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৯২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর ফলে তিনি শুধু এশিয়ার দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তিই নন, চীনের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছেন। ২০১৯ সালে ব্লুমবার্গ প্রথমবারের মতো ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করে। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলার। এরপর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ সাত গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রযুক্তি খাতের দ্রুত উত্থান এবং বাইটড্যান্সের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৮৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে এশিয়ার তৃতীয় ধনী ব্যক্তির স্থানে নামিয়ে এনেছে। তবে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রেখেছেন ভারতের আরেক ধনকুবের গৌতম আদানি। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ১১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে টিকটকের বৈশ্বিক সাফল্যের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাইটড্যান্সের নিজস্ব তৈরি এআই চ্যাটবট ‘ডৌবাও’। বর্তমানে চীনে এই প্ল্যাটফর্মের মাসিক ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০ কোটিরও বেশি, যা এটিকে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটে পরিণত করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে। বাইটড্যান্স তাদের মার্কিন ব্যবসার একটি কৌশলগত অংশ মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করে। এর ফলে কোম্পানিটির মূল্যায়নে ঝুঁকির হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয় এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়ে। ব্ল্যাকরক, ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস ও টি. রো প্রাইস গ্রুপসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নতুন মূল্যায়নের ভিত্তিতে ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ এক ধাক্কায় ২৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে।
বেইজিংভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। চীনের এআই বাজারে নিজেদের একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্কিন শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর হওয়ায় বাইটড্যান্সের প্রকৃত বাজার মূল্যায়ন আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে।
/আশিক
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ০০৭: জেমস বন্ড সেজে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ নিজেকে নিয়ে তৈরি একটি আলোচিত মিম শেয়ার করে বিশ্বজুড়ে নতুন কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। এবার তিনি ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্ট জেমস বন্ডের আইকনিক আদলে নেটিজেনদের মাঝে হাজির হয়েছেন এবং নিজেকে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে বড় আকর্ষণ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নিজের ব্যক্তিগত ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প তাঁর তরুণ বয়সের একটি পুরোনো ছবি পোস্ট করেন, যেখানে কাঠের প্যানেলযুক্ত একটি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছবির নিচে জেমস বন্ডের বিখ্যাত কোডনেমের অনুকরণে লেখা ছিল ‘ট্রাম্প ০০৭’।
অবশ্য নিজেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও জনপ্রিয় বৈশ্বিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তুলনা করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। অতীতেও তিনি কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার উইনস্টন চার্চিল, মাদার তেরেসা এবং সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়ে খোদ যিশু খ্রিষ্টের সঙ্গেও নিজের অবয়বের তুলনা টেনেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, জেমস বন্ড সিরিজের জন্য বর্তমানে সম্পূর্ণ নতুন মুখ খুঁজছে বিশ্বখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন এমজিএম এবং অভিনেতা ড্যানিয়েল ক্রেইগের উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য স্টুডিওটি আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন আহ্বান করেছে।
এই প্রতিষ্ঠানের মালিক জেফ বেজোসকে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে গত মে মাসে হোয়াইট হাউসের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকেও মজার ছলে টাক্সিডো পরা ট্রাম্পকে সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল হাতে ‘বন্ড’ রূপে দেখিয়ে একটি বিশেষ মিম পোস্ট করা হয়েছিল, যার কোণায় লেখা ছিল তাঁর বিখ্যাত নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’।
জেমস বন্ডের পরবর্তী মূল চরিত্রে রূপালি পর্দায় কে অভিনয় করবেন তা নিয়ে হলিউডপাড়ায় এখনো জোর গুঞ্জন ও আলোচনা চলছে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন অ্যারন টেইলর-জনসন, টম হল্যান্ড ও জ্যাকব এলর্ডির মতো জনপ্রিয় অভিনেতারা। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ অভিনেতা ড্যানিয়েল ক্রেইগ সর্বশেষ ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নো টাইম টু ডাই’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বন্ড চরিত্রে নিজের দীর্ঘ যাত্রার ইতি টানেন।
ট্রুথ সোশ্যালে জেমস বন্ডের এই মিম শেয়ার করার পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কয়েকটি ছবিও পোস্ট করেছেন যা নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একটি ছবিতে বিশাল জনসমাবেশের সামনে নিজেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখিয়ে ক্যাপশনে তিনি নিজেকে ‘দ্য গ্রেটেস্ট অ্যাট্র্যাকশন’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেই ২০১২ সালে প্রয়াত বিশ্বখ্যাত পপ তারকা হুইটনি হিউস্টনের সঙ্গে নিজের একটি পুরোনো ছবিও শেয়ার করেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
আমি না থাকলে আজকের ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন, তাঁর জোরালো ভূমিকা ও সঠিক পদক্ষেপ না থাকলে বর্তমান বিশ্বে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রটির কোনো অস্তিত্বই থাকত না। সাম্প্রতিক এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ট্রাম্প একই সাথে জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কেমন হবে, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁকে ইরান ইস্যুতে কোনো ধরনের যুদ্ধে জড়াতে প্ররোচিত বা প্রভাবিত করেছেন—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই প্রসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু তাঁকে কোনো ফাঁদে ফেলেননি, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যা যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার ছিল, তা তিনি নিজেই গ্রহণ করেছিলেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণেই তিনি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, কারণ ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্যই হওয়া উচিত ছিল তেহরানকে যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া না হয়।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে একহাত নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তাঁর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যেসব নেতিবাচক কথাবার্তা বা অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার সবটুকুই ডেমোক্র্যাটদের নোংরা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন নিয়ে তাঁর এই উদ্বেগ যে দীর্ঘদিনের, সেটির প্রমাণ দিতে গিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁর প্রথম মেয়াদের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালেই তিনি ওবামা প্রশাসনের আমলে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের যুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের সক্ষমতা সরাসরি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপদ সংকেত। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেলে ইরান সম্ভবত তাদের প্রথম আঘাতটি ইসরায়েলের ওপরই হানত।
তবে পুরো সাক্ষাৎকারে তাঁর করা সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি ছিল, “আমাকে ছাড়া এখন আর ইসরায়েল থাকত না।” মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে যখন নতুন করে নানা হিসাব-নিকাশ ও আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এমন দাবি বিশ্বজুড়ে বিতর্কের নতুন ঝড় তুলেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যের আহ্বান আমিরাতের
কুয়েত ও বাহরাইনের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী ও অবিচল ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ আঞ্চলিক সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গারগাশ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাষ্ট্রকে এই ধরনের বৈরি হামলা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে এককভাবে ফেলে রাখা সমীচীন হবে না। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর অন্তর্ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। জিসিসি ভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ একই সূত্রে গাঁথা হওয়ায় যেকোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনকে পুরো অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা আবশ্যক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মকর্তার মন্তব্যটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের পক্ষ থেকে চালানো একটি কথিত প্রতিশোধমূলক হামলার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের ওই হামলায় কুয়েতের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামাও স্থগিত রাখা হয়।
সূত্র: গলফ নিউজ
ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ: শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে বসছে অতিরিক্ত শুল্ক
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বাণিজ্য নীতিমালার অংশ হিসেবে এবার বড় ধরনের বড় ধাক্কার মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ (ফোর্সড লেবার) ইস্যুতে ৬০টি দেশের সব ধরনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) অফিসিয়ালি এই নতুন খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। ইউএসটিআরের দাবি, তালিকাভুক্ত এই ৬০টি দেশ তাদের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রম বা শ্রম শোষণ রোধে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কম মূল্যে প্রবেশ করে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে তীব্র বাধা সৃষ্টি করছে এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য এক চরম অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে।
ইউএসটিআরের প্রস্তাবিত খসড়া তালিকা অনুযায়ী, শাস্তিমূলক শুল্কের হার নির্ধারণে দেশগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। এই তালিকার অন্য দেশগুলো হলো—কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ান। অন্যদিকে, তালিকার বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত শুল্কের হার আরও চড়া, যা প্রায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার এই কঠোর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের মার্কিন বাজারে প্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যর্থ হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর কারণে মার্কিন দেশীয় শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে এক বিশাল অসাম্য ও অন্যায্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।
মার্কিন স্বার্থ রক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ জরুরি।” তবে মার্কিন পোশাক আমদানিকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়ে ইউএসটিআর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রে সীমিত কোটায় কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের একটি বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাবও খসড়াতে রাখা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিশদ রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত কৌশলগত মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প প্রশাসনের এর আগে আরোপিত বেশ কিছু সাময়িক শুল্কের আইনি মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হতে যাচ্ছে। তার ওপর সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত একাধিক শুল্ক আদেশকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়।
ফলে সুপ্রিম কোর্টের সেই ধাক্কা সামাল দিতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এবার সম্পূর্ণ নতুন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে শুল্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, যার প্রথম কোপটি পড়ল শ্রম ইস্যুতে দুর্বল অবস্থানে থাকা দেশগুলোর ওপর। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প এমনিতেই মার্কিন বাজারে মন্দার মুখোমুখি, তার ওপর নতুন করে এই ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- জেনে নিন আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার দর
- ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: ট্রাম্পকে কি সত্যিই ঠেকানো যাবে?
- পারকুল এলাকায় ৬ মাসের বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, পুলিশের উপস্থিতিতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন
- এমপি হতে আওয়ামী লীগের সুবিধা নেন হান্নান মাসুদ: রাশেদ খান
- আওয়ামী লীগের ফাঁদে পা দিয়ে তাদের ফেরানোর পাঁয়তারা করছে সরকার: আসিফ মাহমুদ
- বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানা চালু করতে শিগগিরই সরকারের 'রোড শো'
- ঢাকাসহ ৪৮ জেলায় রেকর্ড তাপপ্রবাহ, তীব্র গরম কবে কমবে জানাল আবহাওয়া অফিস
- দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের রহস্যময় কাঠামো: হঠাৎ দেখা দিয়ে উধাও, তুঙ্গে উত্তেজনা
- ফুটবলের মহাবিশ্বকাপে বাংলাদেশের নাম, অফিশিয়াল অ্যালবামে ঠাঁই পেলেন ডিজে সঞ্জয়
- তীব্র প্রতিবাদের মুখে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার
- কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও যুদ্ধবিরতি মানছে না ইসরাইল, লেবাননে ব্যাপক হামলা
- টাকা ছাড়াও শাহ সুলতান বলখীর (র.) মাজারে মিলল সোনা ও বিদেশি মুদ্রা
- কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দেবিদ্বারের সড়ক আবারও রক্তাক্ত: বাস উল্টে নিহত ১, আহত ১৫
- হাদি খুন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য: মমতার বিরুদ্ধে ভারতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি রয়েছে: মির্জা ফখরুল
- প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের 'লাল টেলিফোন'র তার চুরি: ২ চোর ও ভাঙারি ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুতে অবহেলা স্পষ্ট, আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
- ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হাম: আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় বাবা-মায়েদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
- ৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা দিল আলজেরিয়া, ডাচদের হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের আগে হুংকার
- ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতি মানে একটু আস্তে গুলি চালানো: ট্রাম্প
- মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত কোচ কার্লো আনচেলত্তির
- তেল-গ্যাসের পর এবার বিদ্যুৎ: ধাপে ধাপে মূল্যবৃদ্ধিতে সংসার চালানোয় টান
- বিএনপির পক্ষ থেকে যুবদলের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ
- দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
- মুকেশ আম্বানিকে টপকে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী টিকটকের ঝ্যাং ইমিং
- ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ০০৭: জেমস বন্ড সেজে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
- দেশের ৪ অঞ্চলে আজ দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
- জেনে নিন আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট বন্ধ
- স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনার দরপতন, নতুন দাম কার্যকর করল বাজুস
- হাদির খুনিদের বাঁচাতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছিল, মমতার মন্তব্যে নতুন মোড়
- আজ যুক্তিতর্ক শেষেই জানা যাবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের দিন
- জেনে নিন আজ বৃহস্পতিবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়
- বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ: ফিফার সাথে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে
- ঢাকার শেয়ার বাজারে বড় লাফ, ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড
- দেশের ৯ অঞ্চলে আজ রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
- ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় সবার আগে আমি বুক পেতে দেবো: জামায়াত আমির
- শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে বড় ভাই ওমর হাদির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে
- প্রয়োজনে রাজপথে নামলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ রাজাকার মুক্ত করা হবে: ইশরাক হোসেন
- আমি না থাকলে আজকের ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- নেপালকে বধ করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- জুড়ীতে ভয়াবহ বজ্রপাত: ১৩টি গরু ও ১টি মহিষের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু
- জমি বিরোধের জেরে সাতক্ষীরার ঝায়ামারীতে গৃহবধূকে পথরোধ করে বর্বর হামলা
- দেবিদ্বারে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর উদ্যোগে বিএনপি নেতার পদপ্রাপ্তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ
- ভারত খুনি রাষ্ট্র, বিএসএফ খুনি বাহিনী, বেনাপোলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম? আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি
- ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যের আহ্বান আমিরাতের
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, এক লাফে কমল স্বর্ণের দাম
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- জমি বিরোধের জেরে সাতক্ষীরার ঝায়ামারীতে গৃহবধূকে পথরোধ করে বর্বর হামলা
- কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ








