আপস না করাই আজ নিজের জন্য বিপদ ডেকে এনেছে: আসিফ মাহমুদ

নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে আপস না করার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই এখন নিজের এবং ঘনিষ্ঠজনদের জন্য বিপত্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি মনে করেন, যখন কাউকে আইনিভাবে দমনে ব্যর্থ হয়ে বা দুর্নীতির প্রমাণ না পেয়ে পিছু হটতে হয়, তখন স্বার্থান্বেষী মহল 'মিডিয়া ট্রায়াল' ও মনগড়া প্রচারণার পথ বেছে নেয়। আজ শনিবার (৭ মার্চ) ভোর ৫টা ১২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১১ মাসের অনুসন্ধান শেষে কোনো প্রমাণ না পেয়ে মোয়াজ্জেম নামের একজনকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অব্যাহতি দিয়েছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে হাজার হাজার সংবাদ ও নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছিল। গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে চলা এই হয়রানির কারণে ভুক্তভোগী কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন বলে আসিফ মাহমুদ তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের বরাতে জানিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সত্য দেরিতে হলেও সামনে আসে, কিন্তু মিথ্যার মতো তা গণমাধ্যমে ততটা জোরেশোরে প্রচারিত হয় না।
সাবেক এই উপদেষ্টা দাবি করেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সমঝোতা করলে তাঁকে আজ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। তিনি নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যদি তিনি আইনের জটিলতা উপেক্ষা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শপথ পড়াতেন কিংবা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সহযোগী ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে সাদরে দেশে ফিরিয়ে আনতেন, তবে হয়তো তাঁকে নিয়ে এমন অপপ্রচার হতো না। এছাড়া শাপলা চত্বর ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্বীকৃতি প্রদান, বিসিবিতে অবৈধ সিন্ডিকেট বসানোয় বাধা দেওয়া, আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং ফেলানী সড়কের নামকরণের মতো সাহসী সিদ্ধান্তগুলো না নিলে তিনি অনেক 'আরামে' থাকতে পারতেন।
বিবৃতিতে আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, শক্তিশালী পক্ষগুলোর সঙ্গে হাত মেলালে তারা কেবল জ্বালাতন করা থেকেই বিরত থাকত না, বরং কোনো ভুল বা অপকর্ম করলেও তা ধামাচাপা দেওয়ার দায়িত্ব নিত। কিন্তু নীতির ওপর অটল থাকায় তাঁকে নিয়মিত পরিকল্পিত সংবাদ ও চরিত্রহননের শিকার হতে হচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভালো মানুষের টিকে থাকা কেন কঠিন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রভাবশালী মহলের এজেন্ডা মেনে না নিয়ে এখানে টিকে থাকাটা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। মূলত নিজের জন্মস্থান কুমিল্লা থেকে শুরু করে আদর্শিক অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই আপসহীন থাকার কারণেই তাঁকে বর্তমানে এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
/আশিক
সরকারের সমালোচনার জন্য এখন আর কাউকে গুম হতে হয় না: রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে এখন আর দেশের কোনো নাগরিককে গুম হওয়ার আতঙ্কে বা শঙ্কায় দিন কাটাতে হয় না। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের অবরুদ্ধ বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার পুনরায় ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী দেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশে টেকসই গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে এবং ঐতিহাসিক জুলাই সনদকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি দলগুলোর মধ্যে এই ঐক্যের ঘাটতি থাকে, তবে সেই রাজনৈতিক সুযোগ নিয়ে নানা ছিদ্রপথে গণতন্ত্রবিরোধী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অপশক্তিগুলো আবারও দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।’
/আশিক
‘বিচারের মুখোমুখি হলে সাহসের প্রমাণ মিলত’- হাসিনাকে নিয়ে নাহিদের মন্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, তারা সাধারণত আর ফিরে আসে না। তাঁর ভাষায়, যদি সাহস থাকত, তাহলে পালিয়ে না গিয়ে আইনের মুখোমুখি হয়ে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিত। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, উত্তরা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধকেন্দ্র। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা হলে সেই প্রতিরোধের সূচনা আবারও উত্তরার মাটি থেকেই হবে।
নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই বছর আগে ঠিক এই সময় তাঁকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সে সময় আরও বহু মানুষ একই ধরনের ঘটনার শিকার হন। সেই ঘটনার স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন তাঁদের প্রধান দাবি হলো স্বৈরাচার এবং এর সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, যদি এসব ঘটনার বিচার সম্পন্ন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি থেকে যাবে। তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিচারের কোনো বিকল্প নেই।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জনগণ যে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, সেই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে দলটির পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। উত্তরা অতীতেও প্রতিরোধের প্রতীক ছিল এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা পালন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে বিএনপিকেও কড়া সমালোচনার মুখে ফেলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। তিনি বলেন, একসময় বিএনপি যে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির কথা বলেছিল, এখন তারা সেখান থেকে সরে এসে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-ভিত্তিক জুলাই সনদের কথা বলছে। নাহিদের মতে, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণভোট ও গণরায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপির নিজেদের অবস্থান ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন প্রয়োজন।
দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন নাহিদ ইসলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না’ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের মানুষের জীবনহানি বা ক্ষতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন। এ ধরনের বিষয়ে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে রাজধানীর উত্তরাকে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি নিরাপদ, সুশাসনভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্বজন ও আহত অংশগ্রহণকারীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
-রফিক
গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে এবং দেশের সামগ্রিক স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংস্কারের মূল দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই কাঁধে তুলে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুরে বাইপাস মোড়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক আহ্বান জানান।
পথসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিগত গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে আমরা রাজপথে বুক চিতিয়ে স্লোগান দিয়েছিলাম, ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প, বিকল্প’। দেশের মাটিতে সেই কাঙ্ক্ষিত বিকল্প ও বৈষম্যহীন রাজনীতিকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে হলে তার মূল দায়িত্ব আমাদেরই অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে পালন করতে হবে।
তিনি আরও যোগ করে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় আমরা সাধারণ জনগণকে স্পষ্ট কথা দিয়েছিলাম যে আপনারা আমাদের ফ্রিতে ভোট দিন, আমরা আপনাদের সম্পূর্ণ ফ্রিতে রাষ্ট্রীয় সার্ভিস বা সেবা দেব। নির্বাচনের পর ক্ষমতা হাতে পেয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সেই পবিত্র প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতেই আমরা প্রতিনিয়ত সংসদের ভেতরে ও বাইরে আমজনতার পক্ষে জোরালো আওয়াজ তুলে যাচ্ছি।
বিগত পাঁচ মাস ধরে সংসদে নিজের সংসদীয় কার্যক্রম ও ভূমিকার কথা দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করে এই তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, তিনি মাঠের রাজনীতি বা সংসদের ভেতরে কোনো ধরনের কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে বিন্দুমাত্র ভয় পাননি। দেশের মিডিয়া মাফিয়া, প্রভাবশালী ভূমিখেকো, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ডাকাত এবং জনগণের ভোটচোরদের বিরুদ্ধে তিনি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সবসময় চোখে চোখ রেখে সত্য কথা বলে যাচ্ছেন।
দেশের সম্পদ লুটেরাদের বর্তমান ও অতীত চিত্র তুলে ধরে তিনি তীব্র অভিযোগ করে বলেন, বিগত আমলে এস আলমের মতো বড় বড় করপোরেট গ্রুপ দেশের ব্যাংক ও জাতীয় সম্পদ নির্বিচারে লুট করেছে, আবার কেউ কেউ একক আধিপত্য খাটিয়ে দেশের মেগা বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। আর অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমান সময়ে এসেও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্থানীয় স্তরের নেতারা সিন্ডিকেট তৈরি করে বালুমহাল, নদী ও সাধারণ মানুষের গরু চুরির মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ও জনগণের রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের এই নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেকোনো মূল্যে দেশে চিরতরে বন্ধ করতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে সব ধরনের দুর্নীতি, লুণ্ঠন এবং দখলদারিত্বের রাজনীতি উচ্ছেদ করতে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জনগণের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় কোনো মহলের সাথেই কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
/আশিক
সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে সরকার ভাঙার আন্দোলন: ডা. শফিকুর রহমান
জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বা রায়ের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জাতীয় সংসদের ভেতরে যদি জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে রাজপথে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা হবে।
শনিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোকচিত্র ও স্মৃতি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের সাধারণ জনগণকে অপমান বা তাদের আকাঙ্ক্ষাকে হেয় করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যেখানে গণভোটে সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে, সেই রায় অবশ্যই রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি দলের কৌশল স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত প্রথমে সংসদের ভেতরে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে লড়াই করবে, আর সেখানে যদি দাবি আদায় না হয় তবে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
বিগত সরকারের পতন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসার পর থেকে এই মৌলিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের দৃশ্যমান আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রশাসনও আগের ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দিতে চাচ্ছে এবং খোদ গণভোটের ঐতিহাসিক রায়কেও তারা মানতে চাইছে না।
বিগত আমলের ভয়াবহ দুর্নীতি ও বিদেশে বাংলাদেশি অর্থ পাচারের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের রক্ত জল করা টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটেনে সাবেক এক মন্ত্রীর শত শত বিলাসবহুল বাড়ি এবং বেলজিয়ামে আরেক প্রভাবশালী মন্ত্রীর শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সন্ধান মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের অর্থ লুণ্ঠন করেই কেনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও ছাত্র রাজনীতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, প্রথাগত ছাত্র রাজনীতির নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নিপীড়নমূলক ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতি চালু ছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই তার চিরকবর হয়ে গেছে। এই ধরনের কোনো নিপীড়নমূলক অপসংস্কৃতি দেশের শিক্ষাঙ্গনে আর কখনোই ফিরতে দেওয়া হবে না। যদি কোনো মহল বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক এগুলো আবার চালু করার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে দেশের সাধারণ জনগণই তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো প্রথাগত রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। এখনো অনেক ক্ষেত্রে মেধার মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিক বিবেচনা ও দলীয় লেজুড়বৃত্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা এখন চুপ করে আছি মানে এই নয় যে জামায়াত ঘুমিয়ে গেছে। সমুদ্রে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হলে যেমন পরবর্তীতে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়, ঠিক তেমনি সরকারের এই সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের ভেতরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণও যেকোনো সময় ঘটবে।’
দেশের তরুণ ও যুবসমাজের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যুবকদের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে তারা তাদের জীবনের বাকি সময় উৎসর্গ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়েই এই অধিকার আদায়ের আন্দোলন চলবে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় কোনো দেশীয়, আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক মোড়ল বা অপশক্তির কাছে জামায়াত কখনোই মাথা নত করবে না।
গুরুত্বপূর্ণ এই ছাত্র সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এ ছাড়া শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমসহ সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম
সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে, তবে পুনরায় গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পথে হাঁটার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার যদি জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদ কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা রাজপথে কঠোর গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) বরিশালের ঐতিহ্যবাহী হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থান ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ উল্লেখ করেন যে, দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে তারা এখনো পর্যন্ত হরতাল কিংবা অবরোধের মতো কোনো চরম ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেননি। তবে জনগণের দাবি আদায়ে যেকোনো মুহূর্তে এই ধরনের কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার মতো সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের রাজনৈতিক জোটের রয়েছে। তিনি যোগ করেন, তারা এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি ও পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে চরম কর্মসূচির পক্ষে ছিলেন না, কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্রমশ সেই সংঘাতময় ও কঠোর কর্মসূচির দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন।
এনসিপির শীর্ষ এই নেতা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বক্তব্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধুর কথা থাকলেও তার অন্তরে আসলে ছলনা রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যে গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জোরালো প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং নির্বাচনের ফলাফলে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যেখানে সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে, সেখানে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছেন।
অথচ বাইরে তিনি মুখে বলে যাচ্ছেন যে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এই দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি জনপ্রিয় স্লোগানের আদলে বলেন, ‘নাটক কম করো প্রিয়’। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের মানুষ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে মানে এই নয় যে, যা খুশি তা-ই করা যাবে কিংবা জনগণের সঙ্গে ছলনা ও প্রতারণা করা যাবে।
বিগত বছরগুলোতে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি গত দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছে বলে দাবি করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তারা মূলত গণতন্ত্রের বিপক্ষেই অবস্থান নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আসল সত্য হলো বিএনপি কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না, তাদের পুরো লড়াইটাই ছিল কেবল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার জন্য।
এমনকি বিগত গণঅভ্যুত্থানেও তারা কেবল ক্ষমতার লোভেই অন্যান্য শক্তির সঙ্গে কাঁধ মিলিয়েছিল। এখন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা নিজেদের কবজায় নিয়ে নেওয়ার পর তারা আর কোনো ধরনের সংস্কারের কথা মুখে আনছে না।
/আশিক
দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?

মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বর্তমান কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এক মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দলীয় পুনর্বাসনের এই কথিত উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে উপজেলা বিএনপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার সংচাইল এলাকায় অবস্থিত বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আউয়াল চেয়ারম্যানের ‘প্রভাতী ফিসারিজ’-এর অফিস কক্ষে এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মতবিনিময় সভায় বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল চেয়ারম্যান ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রশিদ শামীম, ছোটশালঘর আওয়ামী লীগের নেতা মো. শাজাহান মাস্টারসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিতর্কিত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনসেবাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় তিনি উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার বিবরণ নিজ হাতে একটি ডায়েরিতে নোট করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এই দৃশ্য প্রকাশ পাওয়ার পরই মূলত ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে।"মুখের কথা ও কাজের মিল নেই" — ফুঁসে উঠেছে বিএনপিআওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।"হাসনাত আব্দুল্লাহর মুখের কথার সাথে কাজের কোনো মিল নেই। সে জনসমক্ষে বা মাঠে বলে একরকম, আর ভেতরে কাজ করে অন্যরকম। সে কীভাবে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে টেবিল বৈঠক করে? জনগণ তার এমন দ্বিমুখী আচরণে চরমভাবে ক্ষুব্ধ।"— জসিম উদদীন সরকার, আহ্বায়ক, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপিঅনুরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন:"হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় বড় গরম বক্তব্য দেন, আর দেবিদ্বারে এসে সেই আওয়ামী লীগকে নিয়েই ঘর-সংসার করছেন! বর্তমানে তার দলের ৮০% লোকই হলো সুযোগসন্ধানী আওয়ামী লীগের নেতা।"
ফোন ধরেননি অভিযুক্তরাএই বৈঠকের নেপথ্য কারণ জানতে বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠকের বিষয়ে জানতে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর হোয়াটসঅ্যাপে খোদে বার্তা (Message) পাঠানো হলেও তাঁর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি এবং ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই বিপ্লবের ইমাম ও রূহানী নেতৃত্ব: নাহিদ ইসলাম
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর আবু সাঈদকে জুলাইয়ের সকল শহীদের ‘ইমাম’ এবং সামগ্রিক জুলাই বিপ্লবের ‘রূহানী নেতৃত্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
২০২৪ সালের সেই রক্তঝরা দিনটিকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আবু সাঈদের বুকের রক্ত আর অকুতোভয় আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের গণআন্দোলন এক সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থান ও চূড়ান্ত সফল বিপ্লবের রূপ পরিগ্রহ করেছিল।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পবিত্র মাজার জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, "আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে, ২০২৪ সালের এই ১৬ জুলাইয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্র ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বর্বর দমন নীতির বিরুদ্ধে এক অনন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
তিনি কোনো অস্ত্রের পরোয়া না করে, রাজপথে দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে বীরের মতো দাঁড়িয়েছিলেন এবং স্বৈরাচারের বুলেট বুকে নিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। আবু সাঈদ আমাদের মুক্তির মন্দিরের সোপানতলে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া হাজারো শহীদের অগ্রসেনানী এবং আমাদের সকলের মহান পূর্বসূরী।"
তিনি আবু সাঈদের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রতীক শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ ফারহান ফাইয়াজ, শিশু শহীদ নাঈমা সুলতানা, শহীদ রিয়া গোপ ও শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়াসহ আন্দোলনের সকল শহীদ ও প্রায় ত্রিশ হাজার আহত ভাই-বোনের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। একই সাথে তিনি আবু সাঈদের বীরত্বে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসা দেশের সর্বস্তরের শ্রমিক, পেশাজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আলেম সমাজ, অভিভাবক এবং স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-জনতার অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
শহীদদের স্মৃতিকে কেবল আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা ও স্মরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, "আমরা যারা আজ বেঁচে আছি, তারা প্রত্যেকেই আবু সাঈদের রেখে যাওয়া উত্তরসূরি। তাই আমাদের প্রধানতম জাতীয় দায়িত্ব হলো শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি না করে একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস কাজ করে যাওয়া।"
তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে জনগণের মূল প্রত্যাশা ছিল তিনটি—সুষ্ঠু বিচার, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও জুলাইয়ের শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বিচার এবং কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কারের পূর্ণ স্বাদ বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এখনও পায়নি।
তিনি আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে বলেন, নিম্ন আদালতে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলেও তা কার্যকরের ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আদালতে দায়ের হওয়া আপিলসমূহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করে খুনিদের শাস্তি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, "যেহেতু আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা ও প্রধান আসামি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, তাই বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী বর্তমান সরকার যেন দ্রুততম সময়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।"
শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাত সম্পন্ন করার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতৃবৃন্দ শহীদ সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সাথে তাদের বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নেতারা সাঈদের বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও ভাইদের জড়িয়ে ধরে সমবেদনা জানান এবং তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এই বিশেষ জিয়ারত ও মতবিনিময় কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু চব্বিশের অর্জন হারাতে দেব না: জামায়াত আমির
জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, নিজেদের জীবন দেব কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অর্জনকে কিছুতেই হারিয়ে যেতে দেব না।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক ও মেহনতি শ্রমিকেরা রাজপথে জীবন দিয়ে বড় বড় অর্জন এনে দেন, আর পরবর্তীতে কিছু সুবিধাবাদী লুটেরা সেই কাঙ্ক্ষিত অর্জন ছিনিয়ে নেয়। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আজও চক্রান্তকারীদের মাধ্যমে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সেই মহান অর্জন নস্যাৎ করার গভীর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত আইডিবি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। শহীদ বীর আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতে জাতীয় রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আজকে দেশে যে নতুন জাতীয় সংসদ ও জনআকাঙ্ক্ষার সরকার গঠিত হয়েছে, তা যে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ফসল—সেটি দেশের প্রতিটি মানুষ ও আন্তর্জাতিক মহল একবাক্যে স্বীকার করে।
অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে কেউ কেউ সুকৌশলে বলতে চাচ্ছেন যে চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লব তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়, বরং এর আগের অংশটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কখনোই অতীতের লড়াই ও ত্যাগকে ছোট করে দেখিনি। স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে আমরা নিজেরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি, শত শত সহকর্মীকে শাহাদাতবরণ করতে হয়েছে, হাজারো মানুষ বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন এবং অসংখ্য নেতাকর্মী চাকরি হারিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘরে থাকতে পারেননি।
আমরা সেই গৌরবময় ত্যাগের ইতিহাসকে অস্বীকার করি না, কিন্তু এটিও চরম বাস্তব সত্য যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না। ঠিক একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অবদানকে খাটো করে দেখা মানে সেই আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা।
জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বারোপ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় জাতীয় দাবি ছিল বাংলাদেশে যেন আর কখনো কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটতে না পারে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামোগত সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশ গড়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। আমাদের অতীতের সেই কলুষিত ও পচা রাজনীতিকে চিরতরে বিদায় দিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের যৌক্তিকতা নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, কেউ কেউ খোঁড়া যুক্তি দিয়ে বলছেন যে সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই।
আবার কেউ কেউ দাবি করছেন, গণভোটে রাখা চারটি প্রশ্ন এতটাই জটিল ছিল যে মানুষের তা বুঝতে নাকি চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। প্রশ্ন হলো, তাহলে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ কীভাবে এত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিলেন? এই চারটি প্রশ্ন তো ভোটের অনেক আগে থেকেই প্রতিটি গণমাধ্যমে বিশদভাবে প্রচার ও ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাহলে কি আপনারা বলতে চান যে বুদ্ধি ও মেধা শুধু আপনাদের মতো কতিপয় নেতার মাথাতেই আছে, দেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষের কোনো বুদ্ধি নেই? এ ধরনের মন্তব্য এ দেশের আপামর জনগোষ্ঠীকে চরমভাবে অপমান করার শামিল। আমি নিজে মূর্খ হতে পারি, কিন্তু আমার দেশের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই মূর্খ নয়।
তিনি দেশের কিছু নেতার রাজনৈতিক ভণ্ডামির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যে রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষের সহজ ৪টি প্রশ্ন বুঝতে না পারার দোহাই দেন, তারা নিজেরা আবার ৩১টি প্রশ্ন জনগণকে বোঝানোর গালভরা কথা বলেন। এগুলো আসলে রাজনৈতিক গোঁজামিল ও চরম ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ইতোমধ্যে একজন দায়িত্বশীল নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন যে, নির্বাচনে মানুষের ভোট পাওয়ার জন্য তারা পূর্বে সবকিছুই আগেভাগে মেনে নিয়েছিলেন।
আরেকজন তো বলেই দিয়েছেন যে টোল মওকুফের ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছিল স্রেফ নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার ও ভোট পাওয়ার কৌশল হিসেবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে প্রতিনিয়ত জনগণের সাথে প্রকাশ্য প্রতারণা ও মিথ্যাচার করেন, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কার ওপর ভরসা করবে? যারা দেশ পরিচালনা করবেন ও পবিত্র সংসদে বসে আইন প্রণয়ন করবেন, তাদের ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড ও রাজনৈতিক সততা থাকা উচিত।
বিরোধীদলীয় নেতা গণভোটের ফলাফল ও বর্তমান সংসদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশের সব রাজনৈতিক দলই কিন্তু গণভোটের পক্ষে জোরালো সায় দিয়েছিল এবং দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়েছেন। অথচ এখন যুক্তি দেখানো হচ্ছে যে যেহেতু ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে, তাই ৭০ শতাংশ মানুষের ওই বিশাল গণরায় মানা হবে না।
আমি সরল অংকে জানতে চাই, ৫১ বড় সংখ্যা নাকি ৭০ বড় সংখ্যা? বর্তমান সরকার ও তাদের সহযোগীরা কীভাবে ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই বিতর্ক রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরকাল থেকে যাবে। ভোটের দিন মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ ব্ল্যাকআউট করে পর্দার আড়ালে কী কী খেলা সম্পন্ন করা হয়েছে, তা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক খুব ভালো করেই জানেন। সময় আসুক, দেশের দীর্ঘ ইতিহাস ও সাধারণ মানুষ একদিন সবকিছুর উপযুক্ত বিচার করবে।
চলমান সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন আমাদেরও আহ্বান জানানো হচ্ছে যে আমরা যেন সংসদীয় রীতিনীতির নামে এই অগ্রাহ্যের মিছিলে শামিল হই। সংসদে দাঁড়িয়ে আমাদের সংবিধানের সবক দেওয়া হচ্ছে।
আমি বিনীতভাবে জানতে চাই, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামের কোনো বিশেষ কমিটির অস্তিত্ব কি আমাদের বিদ্যমান সংবিধানের কোথাও লেখা আছে? যদি না থাকে, তবে কার স্বার্থে এটি তৈরি করা হয়েছে? এটি মূলত চব্বিশের জুলাই বিপ্লবকে সাধারণ মানুষের মন থেকে ভুলিয়ে দেওয়ার এবং গণভোটের ঐতিহাসিক রায়কে ধামাচাপা দেওয়ার একটি অপকৌশল মাত্র।
তিনি এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের অনড় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছি। কুচক্রী মহল যদি নিজেদের স্বার্থে জনগণের রায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অপমান করতে চায়, তবে তারা তা করুক; জনগণই তাদের চূড়ান্ত বিচার করবে। জামায়াতে ইসলামী সব সময় এ দেশের সাধারণ মানুষের সাথে আছে এবং জনগণের প্রতিটি রায়ের পক্ষে আমাদের অবস্থান সুদৃঢ় থাকবে। আমরা এই বৈষম্যবিরোধী লড়াই রাজপথে ও সংসদে সমানভাবে চালিয়ে যাব। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া সেই ঐতিহাসিক গণরায় কখনোই বৃথা যাবে না, অদূর ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়িত হবেই।
নিজের বক্তব্যের শেষাংশে একটি রূপক উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চিংড়ি মাছ যখন লাফ দেয়, তখন সে সব সময় পেছনের দিকে যায়; সে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো পথ খুঁজে পায় না। আমাদের জাতি যদি সব সময় অতীতের দিকেই মুখ ফিরিয়ে তাকিয়ে থাকে, তাহলে আমরা সামনের দিকে এগোব কীভাবে? আমরা বরাবরই সব রাজনৈতিক পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছি—আসুন, অতীত ভুলে সামনের দিকে তাকাই এবং ২০২৪ সালের চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের যে পবিত্র অঙ্গীকার ও স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি।
তিনি প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, অনেকেই বর্তমান সরকারের প্রতিবেশি দেশের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আনুগত্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীই একমাত্র দল, যাদের ওই প্রতিবেশি রাষ্ট্রটি কোনোভাবেই পছন্দ করে না। তারা বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে ভারতের মাটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমন্ত্রণ জানালেও, কেবল জামায়াতে ইসলামীর জন্য রেখেছে ‘লাল কার্ড’। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা ভারতের সেই লাল কার্ডের বিন্দুমাত্র পরোয়া করি না। আমরা কখনোই ভারতের মাটিতে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় বা মদদ নেওয়ার হীন চিন্তাও করি না। এই সোনার বাংলাদেশই আমাদের একমাত্র প্রিয় মাতৃভূমি এবং এ দেশের ১৮ কোটি মুক্তিকামী মানুষের ভালোবাসার বন্ধন ও অন্তরই আমাদের পরম আশ্রয়স্থল।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের অত্যন্ত সাবলীল সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
/আশিক
স্বামীবাগে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে হঠাৎ অসুস্থ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল
রাজধানীর স্বামীবাগে ইসকন মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসবে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ তীব্র শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেছেন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তীতে তাঁকে দ্রুত উত্তরার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থেকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে স্বামীবাগে রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরপরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দল ও দলের নেতাকর্মীরা দ্রুত তাঁকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে উত্তরার বাসভবনে নিয়ে যান। সেখানে কার্ডিওলজিস্টসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিএনপি মহাসচিব হঠাৎ অতিরিক্ত গরম ও শারীরিক ক্লান্তির কারণে অসুস্থতা বোধ করেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দোয়া চেয়েছেন।
এদিকে, দুপুরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত অসুস্থতার কারণে বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অংশ নেওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- রেফারিকে প্রভাবিত করে ম্যাচ জিতেছে স্পেন: ফাইনাল হেরে বিস্ফোরক ওটামেন্ডি
- সরকারি হাসপাতালই যেন হয় মানুষের একমাত্র ভরসা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় দেশজুড়ে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি
- চট্টগ্রামে যুব রেড ক্রিসেন্টের ৪১ ওয়ার্ড ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
- 'সবকিছু ভুলে যাও': ড্রেসিংরুমে মেসির রহস্যময় বার্তা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে তোলপাড়
- ধেয়ে আসছে পাহাড়ি ঢল: উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় বন্যার আগাম সতর্কতা
- চোখের বদলে চোখ নীতিতে সৌদির ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল হুতিরা
- সরকারের সমালোচনার জন্য এখন আর কাউকে গুম হতে হয় না: রুহুল কবির রিজভী
- মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যেসব এলাকায় থাকবে না গ্যাস
- ট্রাম্প-ইয়ামাল কুশল বিনিময়ের খণ্ডিত ভিডিও নিয়ে ইন্টারনেটে তুমুল বিতর্ক ও আসল সত্য
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত: প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
- ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন লজ্জাজনক রেকর্ডে জড়াল আর্জেন্টিনার নাম
- জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনে
- দিল্লিতে 'চলো সংসদ' অভিযানে তুলকালাম, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আটক
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বজয়, অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসাল ইরান
- আর্জেন্টিনার হারে ভেঙে পড়েছেন? কীভাবে সামলাবেন মন
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন রেকর্ড
- ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, কোন কোন জেলায় সতর্কতা?
- আজ নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন পাঁচ ওয়াক্তের সময়
- ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
- ‘বিচারের মুখোমুখি হলে সাহসের প্রমাণ মিলত’- হাসিনাকে নিয়ে নাহিদের মন্তব্য
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, পরমাণুকেন্দ্রে নতুন হামলা
- ট্রফি হাতছাড়া, আবেগঘন বিদায়ে কাঁদলেন লিওনেল মেসি
- ২২ ক্যারেট স্বর্ণ এখন কত? জেনে নিন সর্বশেষ দাম
- বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ টেনিস কোর্টে, স্পেনের জয় নিয়ে আশাবাদী নাদাল
- ঘরে বসে যেভাবে সরাসরি স্মার্টফোনে দেখবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ
- গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- ১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আগাম ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঘোরা যাবে বিশ্বের ৩৬টি দেশ
- সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে সরকার ভাঙার আন্দোলন: ডা. শফিকুর রহমান
- যুক্তরাষ্ট্রকে কখনো ভুলতে না পারার মতো শিক্ষা দেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির
- ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
- ১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন
- ১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা
- ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'
- ১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম, ফ্রান্সের দুঃস্বপ্নের রাত
- আজ বের হওয়ার আগে দেখে নিন কোন মার্কেট বন্ধ
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে দেখে নিন আজকের দাম
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা
- কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার
- ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক
- ইয়ামালকে থামানোর উপায় কী? স্কালোনি বললেন ‘রুমে তালা মেরে রাখা’
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’








