ব্রিটেনে মার্কিন বোমারু বিমান, ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল লন্ডন

রায়হান বিন আলম
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বোমারু বিমান বি–১ ল্যান্সার যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটি ফেয়ারফোর্ডে অবতরণ করেছে। এই ঘটনাকে অনেক বিশ্লেষক ইরান সংকটকে ঘিরে পশ্চিমা সামরিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
১৪৬ ফুট দীর্ঘ এই বোমারু বিমানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় RAF Fairford সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বিমানবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত B-1 Lancer দীর্ঘপাল্লার হামলা এবং ভারী অস্ত্র বহনের সক্ষমতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
এই মোতায়েনের পেছনে রয়েছে যুক্তরাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এই অনুমতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্রিটিশ ভূখণ্ডের সামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য অভিযান পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত সহজে আসেনি। কয়েকদিন ধরে অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে বিলম্ব হওয়ায় ওয়াশিংটন ও লন্ডনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিরোধী রাজনীতিকরাও বিষয়টি নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা Kemi Badenoch স্টারমার সরকারের বিলম্বিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঐক্য প্রদর্শনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার তার অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, যুদ্ধের সম্ভাব্য বৈধতা ও আন্তর্জাতিক আইনগত দিক বিবেচনা করেই তিনি সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিয়েছেন। তাঁর মতে, যে কোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে এটি নিশ্চিত করা জরুরি ছিল যে সম্ভাব্য অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক ব্রিটেনের বর্তমান পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির একটি জটিল বাস্তবতা তুলে ধরেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ব্রিটেনকে সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে হয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন ও জনমতের প্রশ্নও সমানভাবে বিবেচনায় নিতে হয়।
বি–১ ল্যান্সারের ব্রিটেনে অবতরণকে অনেকেই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখছেন। এটি শুধু একটি সামরিক মোতায়েন নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোকেও সরাসরি প্রভাবিত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরানকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হয়, তাহলে ইউরোপের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের ঘাঁটিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে।
মার্কিন হামলার হুমকির মাঝেই কাঁপল ইরান: ভূমিকম্প নাকি পরমাণু পরীক্ষা?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে রহস্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘোষণা করেছিলেন যে, আজ রাতেই ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ করা হবে। তাঁর এই চরম হুঁশিয়ারির কিছুক্ষণের মধ্যেই দেশটির বন্দর আব্বাস এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.১।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বন্দর আব্বাস শহর থেকে ৭৪ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। যুদ্ধের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ এমন কম্পন ইরানজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই ঘটনাটি কি কেবলই একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে— তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলে শুরু হয়েছে নানামুখী বিশ্লেষণ।
বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ প্রশ্ন তুলছেন, এই কম্পন কি সত্যিই প্রাকৃতিক নাকি আমেরিকা ও ইসরায়েলের আসন্ন বড় ধরনের হামলা ঠেকাতে ইরান গোপনে কোনো পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে? এর আগে গত ৩ মার্চ সকালেও ইরানে ৪.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সেই সময়ও ভূ-তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরানের এই রহস্যময় ভূমিকম্প যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে ভাবিয়ে তুলেছে এবং তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে।
আজ রাতের সম্ভাব্য বড় হামলার ঘোষণা এবং একই সময়ে এই ভূ-কম্পন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, ইরান হয়তো তাদের সামরিক সক্ষমতার চূড়ান্ত কোনো মহড়া দিচ্ছে অথবা এটি বড় কোনো সংঘাতের পূর্বাভাস। প্রাকৃতিক কারণ হোক কিংবা সামরিক পরীক্ষা— বন্দর আব্বাসের এই কম্পন বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ, হিন্দুস্তান টাইমস, এই সময়
প্রতিবেশী দেশে হামলা করা নিয়ে ইরানের নতুন সিদ্ধান্ত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি তুলনামূলক সংযত অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, যদি কোনো প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ না আসে, তবে তেহরানও তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেবে না।
শনিবার (৭ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই ঘোষণা দেন। বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কিছু প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। তাঁর ভাষায়, “যেসব প্রতিবেশী দেশ এ হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।”
পেজেশকিয়ান আরও স্পষ্ট করে জানান, ইরানের নীতিগত অবস্থান প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক নয়। তিনি বলেন, তেহরান তার চারপাশের দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি আঘাত না এলে তেহরান থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর দিকে নতুন করে হামলার উদ্যোগ নেওয়া হবে না।
তবে একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে সতর্কবার্তাও দেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে যদি কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করে, তাহলে তারা যেন বৃহৎ শক্তির কৌশলগত খেলায় ব্যবহৃত ‘সাম্রাজ্যবাদের পুতুল’ হয়ে না ওঠে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট পশ্চিমা জোটের ভূমিকাও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করা কোনো দেশের জন্য সম্মান ও স্বাধীনতার পথ নয়। বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত নিজেদের সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষা করে স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখা।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ, সামরিক সতর্কতা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার মধ্যেই ইরানের এই বার্তাকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
-রফিক
ইরান হামলার পর ইন্দোনেশিয়ায় ক্ষোভ: ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্বের দাবি জোরালো
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশটির প্রেসিডেন্ট Prabowo Subianto যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখায় দেশের ভেতরে সমালোচনার মুখে পড়ছেন। অনেকেই এখন দাবি তুলছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যগত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পুনরুদ্ধার করা উচিত।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট প্রাবোও নিজেকে সম্ভাব্য শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করেন। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে জানায়, সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক সংলাপের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাকার্তা। এমনকি উভয় পক্ষ রাজি হলে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও তেহরান সফর করে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করা হয়।
তবে এই প্রস্তাব দেশটির অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক রাষ্ট্রদূত ডিনো পট্টি দজালাল সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেন, এই প্রস্তাব প্রকাশের আগে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে মনে হচ্ছে। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ বাস্তবসম্মত নয়।
অস্ট্রেলিয়ার পার্থের মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়ান উইলসনও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখন যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেখানে হঠাৎ করে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়া বাস্তব পরিস্থিতি ঠিকভাবে বোঝার প্রতিফলন নয়। অনেক ইন্দোনেশিয়ান এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর প্রতি অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর পররাষ্ট্রনীতিকে ঘিরে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হিসেবে প্রায় আট হাজার ইন্দোনেশীয় সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দেশে বিতর্ক তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনাটি ট্রাম্প প্রশাসনের তথাকথিত “বোর্ড অব পিস” উদ্যোগের আওতায় নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়, যেখানে ইসরায়েলও সদস্য।
ইন্দোনেশিয়া ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জোরালো সমর্থক এবং ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ফলে এই পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়া অনেকের কাছে দেশের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন দীর্ঘদিন ধরে “বেবাস-আক্তিফ” বা স্বাধীন ও সক্রিয় নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। শীতল যুদ্ধের সময় দেশটি নিরপেক্ষ জোট আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল এবং বড় শক্তির ব্লকের বাইরে থেকে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে।
এই ঐতিহ্যের আলোকে অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। মানবাধিকার সংগঠন “ইন্দোনেশিয়া ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটি”-এর পরিচালক সারবিনি আবদুল মুরাদ বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ার প্রতিক্রিয়া আরও শক্ত হওয়া উচিত ছিল।
বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের অবস্থান অনেকের কাছে অস্পষ্ট বলে মনে হয়েছে। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian-এর কাছে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরেও ইরান নিয়ে জনমত জটিল। দেশটির প্রায় ২৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ মুসলিম এবং তাদের অধিকাংশই সুন্নি। অন্যদিকে ইরান বিশ্বের বৃহত্তম শিয়া রাষ্ট্র। ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও অনেক ইন্দোনেশিয়ান ইরানের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রকাশ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সহানুভূতি সবসময় ধর্মীয় সংহতির কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জনমতেরও একটি প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ইন্দোনেশিয়ান ইরানের প্রতি সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা প্রকাশ করেছেন।
তবে ফিলিস্তিন ইস্যুর মতো বড় আকারের রাস্তায় বিক্ষোভ এখনো দেখা যায়নি। বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়া সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ জনমত এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যুগুলো সামলানো সহজ কাজ নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ তাই শুধু আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রশ্ন নয়; এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাকেও নতুন করে পরীক্ষা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর: লেবাননে ১২ নিহত, ইরানে নতুন হামলা

ইসরাফিল আলম
ডেস্ক রিপোর্টার (মধ্যপ্রাচ্য)
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের পূর্বাঞ্চল ও ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে একাধিক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এতে করে আঞ্চলিক সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হয়ে বৃহত্তর যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার নাবি শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৩৩ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যাই বেশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এই হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন লেবানন ধীরে ধীরে বৃহত্তর মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে পরিণত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে ব্যাপক পরিসরে বাধ্যতামূলক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে এসব এলাকা থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি লেবাননে নতুন মানবিক সংকট তৈরি করছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
একই সময়ে ইরানেও নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের কেন্দ্রীয় প্রদেশ ইসফাহানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসফাহান প্রদেশের গভর্নরের দপ্তরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আকবর সালেহি জানিয়েছেন, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান ইসফাহান শহরসহ প্রদেশটির আরও সাতটি শহরে হামলা চালিয়েছে।
এই হামলার ফলে ইসফাহান শহর ছাড়াও লেনজান এবং বোরখার অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ৮০টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। অনেক স্থানে আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ইতোমধ্যেই বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে লেবানন, সিরিয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলগুলোও এই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে মানবিক সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি আঞ্চলিক সামরিক সংঘর্ষ নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
সৌদি আরবের তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এবার সৌদি আরবের তেলের খনি পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের একটি তেলের খনি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে সৌদি আরবের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে ইরানের ড্রোনগুলো শায়েবাহ তেল খনিকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছিল। তবে সৌদি সামরিক বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মোট ৬টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দেয়, ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুধু তেলের খনি নয়, সৌদিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ‘প্রিন্স সুলতান এয়ারবেইস’ লক্ষ্য করেও ইরান একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে সেটিও দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী উত্তজনা থেকে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে এ বিষয়ে সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরপরই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে তাদের আক্রমণ শুরু করে।
বর্তমানে ইরান এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে নিয়মিতভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। সৌদি আরবে সাম্প্রতিক এই হামলা সেই প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
আজ রাতেই ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণের আলটিমেটাম
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার সংঘাত আজ শনিবার (৭ মার্চ) অষ্টম দিনে পদার্পণ করেছে। দুই দেশের যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের ওপর হামলার মাত্রা আরও তীব্র করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরান পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান থামবে না। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট জানান, আজ রাতেই ইরানের ওপর মার্কিন ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো। তিনি দাবি করেন, এই সুপরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর করে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের তিন হাজারেরও বেশি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্ট্রাল কমান্ড উল্লেখ করেছে, গত শুক্রবার ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ৪৩টি জাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের প্রথম ধাপেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্তত ৪৯ জন শীর্ষস্থানীয় নেতার নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে তারা।
মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইনের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা প্রায় ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার নাগাদ এই সক্ষমতা আরও ২৩ শতাংশ কমেছে। সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অভিযান ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
/আশিক
তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া: বিমানবন্দরের ভেতরে জ্বলছে সারিবদ্ধ বিমান
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার সংঘাত আজ শনিবার (৭ মার্চ) সপ্তম দিনে পদার্পণ করেছে। দুই দেশের যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে হামলার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মসমর্পণ না করবে, ততক্ষণ এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরের কাছে বিকট শব্দে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং এর পরপরই চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। হামলার পর বিমানবন্দরের ভেতরে বেশ কিছু বিমানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা। তবে এই নির্দিষ্ট হামলায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল যে, তারা ইরানের ওপর দ্বিতীয় ধাপের আরও বড় ও ব্যাপক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। তেহরানের প্রধান এই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা সেই অভিযানেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সাত দিন ধরে চলমান এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতার সংকেত
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া বিধ্বংসী যুদ্ধ এক সপ্তাহ অতিক্রম করেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় অনেক দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উভয় পক্ষের প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি।
গত শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের তেল আবিবে অবস্থিত বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় পাল্টা আক্রমণ করেছে। এই অভিযানে ইরান প্রথমবারের মতো তাদের নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে।
শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, রাডার সিস্টেম এবং নৌবহরগুলোকেও নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে তেহরান। সম্প্রতি সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে, যদিও দেশগুলো দাবি করেছে তারা অধিকাংশ ড্রোন আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। কুয়েতে ইরানের হামলায় একজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে এবং যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট তিনজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্বের অন্যতম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার তাদের এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা ইরানের সার্বভৌমত্বকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়েছে, কোনো ধরনের মধ্যস্থতার আগে তাদের এই পরিণতির কথা মাথায় রাখতে হবে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ইরানের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুমকি দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো মার্কিন, ইউরোপীয় বা ইসরায়েলি জাহাজ দেখা গেলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই যুদ্ধ নিয়ে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন এবং ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেননি। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ দাবি করেছেন, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণে ভারত শোক প্রকাশ করলেও হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সরাসরি কোনো নিন্দা জানায়নি। অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে; দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে প্রতি সপ্তাহে এই ক্ষতির পরিমাণ ৯ বিলিয়ন সেকেল।
ইরান তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর আওতায় ইসরায়েলে ২২তম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। খুররম শাহর ৪, খাইবার ও ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেল আবিব ও হাইফার সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে দেশটিতে আহতের সংখ্যা ১ হাজার ৬১৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি কুয়েত ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডান ও আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক 'থাড' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান। সৌদি আরবও তাদের সীমান্ত এলাকায় একাধিক ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর নিশ্চিত করেছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও অত্যন্ত ভয়াবহ। গত সাত দিনের হামলায় দেশটিতে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৬৮ জনই স্কুলগামী শিশু। হামলায় ১১টি হাসপাতাল ও অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ৩ হাজার ৬৪৩টি বেসামরিক স্থাপনা এবং ৩ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। বিশেষ করে শিরাজ ও কোমে ভয়াবহ হামলার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান থেকে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোকে তিনি বদলে দিতে চান। তবে এই মুহূর্তে দেশটিতে মার্কিন পদাতিক সেনা পাঠানোকে তিনি সময়ের অপচয় বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করেছেন যে, সামনের দিনগুলোতে ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়বে।
লেবানন সীমান্ত দিয়ে হিজবুল্লাহর অব্যাহত হামলা ইসরায়েলকে নতুন দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যার পরেও তাদের সামরিক সক্ষমতা বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েল লেবাননের বৈরুত ও সিডনসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালাচ্ছে, যেখানে এক সপ্তাহে অন্তত ২১৭ জন নিহত হয়েছেন। এরই মধ্যে লঙ্কান উপকূলে আটকে পড়া একটি ইরানি জাহাজ থেকে ২০৮ জন ক্রুকে উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে, রয়টার্সের দাবি অনুযায়ী, ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার পেছনে মার্কিন বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে চীনের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষ করে জার্মানি ও স্পেন এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও একটি মারাত্মক ভুল হিসেবে অভিহিত করেছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, খামেনির ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ধ্বংসে তারা ৫০টি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল। পরিস্থিতির ভয়াবহতার মধ্যেও তেহরানে জনজীবন স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
/আশিক
“প্রায় সীমাহীন অস্ত্র মজুত” দাবি, তবু উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পথে ভহাঁটছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে “এক্সকুইজিট ক্লাস” বা অত্যাধুনিক মানের অস্ত্র উৎপাদন চারগুণ পর্যন্ত বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই উৎপাদন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শিল্প অবকাঠামো তৈরির কাজ আসলে তিন মাস আগেই শুরু হয়ে গেছে এবং ইতোমধ্যে নতুন কারখানা নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্র উৎপাদনের সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাতে চায়। তাঁর ভাষায়, “আমরা খুব দ্রুত এমন একটি পর্যায়ে যেতে চাই, যেখানে উৎপাদনের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।”
তবে একই পোস্টে ট্রাম্পের আরেকটি মন্তব্য বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন প্রশ্নও তুলেছে। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বর্তমানে “প্রায় সীমাহীন” বা কার্যত অশেষ পরিমাণ গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রভাণ্ডারের একটি অংশ ইতোমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই বক্তব্য একসঙ্গে দিলে একটি কৌশলগত বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছেন, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, আধুনিক যুদ্ধে শুধু অস্ত্রের মজুত নয়, বরং দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহের সক্ষমতাই প্রকৃত শক্তি নির্ধারণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির সামরিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন, নর্থরপ গ্রুম্যান ও জেনারেল ডায়নামিকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বব্যাপী অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রযুক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এই শিল্পকে আরও দ্রুত সম্প্রসারণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো উপলব্ধি করেছে যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে গোলাবারুদ ও অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা সামরিক জোটগুলো প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এই কৌশলকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু অস্ত্র মজুত থাকলেই চলবে না; দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য তাই কেবল একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়; বরং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে সতর্ক বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোকেও জানাতে চাইছে যে তাদের সামরিক সহায়তার সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদেও অটুট থাকবে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধির এই প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে: আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের শক্তি নয়, বরং শিল্প, প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পাঠকের মতামত:
- ব্রিটেনে মার্কিন বোমারু বিমান, ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল লন্ডন
- মার্কিন হামলার হুমকির মাঝেই কাঁপল ইরান: ভূমিকম্প নাকি পরমাণু পরীক্ষা?
- প্রতিবেশী দেশে হামলা করা নিয়ে ইরানের নতুন সিদ্ধান্ত
- ইরান হামলার পর ইন্দোনেশিয়ায় ক্ষোভ: ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্বের দাবি জোরালো
- মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর: লেবাননে ১২ নিহত, ইরানে নতুন হামলা
- আত্মগোপন থেকে ফিরেই আলভীর বোমা: ইকরার মৃত্যু ও ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি
- ইফতারে মুখরোচক চিকেন কিমা তাওয়া কাবাব: সহজ ঘরোয়া রেসিপি
- ভোট কারচুপি না হলে প্রতিপক্ষ এত ভোট পেত না: মির্জা আব্বাস
- আপসহীন সংগ্রামের স্বীকৃতি: অদম্য নারী পুরস্কারে ভূষিত প্রয়াত খালেদা জিয়া
- ভাড়া বাসায় চলত জাল নোটের কারবার, গোয়েন্দা জালে ধরা কারিগর
- সৌদি আরবের তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা
- আজ রাতেই ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণের আলটিমেটাম
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- আজকের মুদ্রা বিনিময় হার: জেনে নিন কোন দেশের মুদ্রার কত দাম
- তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া: বিমানবন্দরের ভেতরে জ্বলছে সারিবদ্ধ বিমান
- আপস না করাই আজ নিজের জন্য বিপদ ডেকে এনেছে: আসিফ মাহমুদ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- ১৭ রমজান: যে যুদ্ধে নির্ধারিত হয়েছিল ইসলামের আগামীর বিশ্বজয়
- শনিবারে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের ব্যস্ত সূচি: টিভিতে আজকের খেলা
- মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতার সংকেত
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- কোনটি প্রমাণিত হয়েছে?—দুর্নীতি ইস্যুতে মধ্যরাতে হাসনাতের বিস্ফোরক প্রশ্ন
- আজ ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব
- “প্রায় সীমাহীন অস্ত্র মজুত” দাবি, তবু উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
- বাহরাইনে ইসরায়েলি দূতাবাসে ইরানের ড্রোন হামলা
- ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট: আজ মিলছে ১৬ মার্চের আসন
- মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা
- সংহতির বার্তা নাকি কৌশলী কূটনীতি? প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের বিশেষ আলাপ
- অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা বাংলার নতুন মীরজাফর: মো. তাহের
- বিক্ষোভ দমন ও নিষেধাজ্ঞা: বিতর্ক সঙ্গী করেই ইরানের সামরিক কমান্ডে আহমদ বাহিদি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? এক নজরে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মার্চ ২০২৬
- হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘মহামন্দা’ ও মুদ্রাস্ফীতির কালো মেঘ
- কালিগঞ্জে লাইফ কেয়ার নলতা ডিজিটাল ল্যাব এন্ড কনসালটেশনের উদ্যোগে দোয়া-ইফতার মাহফিল
- সপ্তাহান্তে বৃষ্টির সম্ভাবনা: ঢাকাসহ ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
- নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- পার্লার ছাড়াই নিখুঁত রূপচর্চা: ঘরেই আসছে ‘এআই স্কিন অ্যানালাইজার’
- ইনফ্লুয়েন্সারদের ডায়েট ট্রেন্ড ও ভাইরাল ফুড চ্যালেঞ্জ: স্থূলতা সংকটে নতুন ঝুঁকি
- সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনে অবহেলার পথে সরকার: নাহিদ ইসলাম
- জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ; জারি হলো ১২ দফার নতুন গাইডলাইন
- অটোচালকের ঘুষিতে যুবদল নেতার মৃত্যু
- ইউরোপের রণপ্রস্তুতি ও শ্রীলঙ্কা সীমান্তে উত্তেজনা: ৬ষ্ঠ দিনে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নতুন মোড়
- জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান: এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা
- ৫ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৫ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
- ৫ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘চোখ অন্ধ’ করে দিয়েছে ইরান
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
- টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় স্বস্তি, নতুন দর কার্যকর আজ
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা; এক বছরে দাম বাড়ল ৬৪ শতাংশ
- ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে আগুন: এক লাফে বাড়ল ৩ হাজার টাকা
- শহীদ হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি
- ২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
- নতুন বেতন কাঠামো ও পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল
- ইফতারের প্রশান্তি কেড়ে নিচ্ছে মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির পূর্ণাঙ্গ গাইড
- রামাদান মাসে কোরানের হাফেজ দের নিয়ে মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের সেহেরি আয়োজন








