দেড় বছর পর একই মাঠ, একই স্বপ্ন: আহমেদাবাদে আজ ভারতের বিশ্বজয়ের পরীক্ষা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ০৯:৫৮:৩৩
দেড় বছর পর একই মাঠ, একই স্বপ্ন: আহমেদাবাদে আজ ভারতের বিশ্বজয়ের পরীক্ষা
ছবি : সংগৃহীত

দেড় বছর আগে যে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে কোটি কোটি ভারতীয় সমর্থকের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল, সেই একই মাঠে আজ আবারও বিশ্বজয়ের হাতছানি সূর্যকুমার যাদবদের সামনে। ২০২৩ সালের সেই বিষাদময় স্মৃতি পেছনে ফেলে আজ ভিন্ন সংস্করণের এক ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্বাগতিক ভারত। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই কথার লড়াইয়ে পারদ চড়িয়েছেন দুই দলের অধিনায়ক। বিশেষ করে কিউই দলপতি মিচেল স্যান্টনার যেন দেড় বছর আগের অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সেই পুরনো মনস্তাত্ত্বিক কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন।

গতকাল সংবাদ সম্মেলন শেষে আহমেদাবাদের উইকেটের ছবি তুলে নিজের মোবাইলে বন্দি করেন স্যান্টনার। ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে কামিন্সকেও ঠিক একই কাজ করতে দেখা গিয়েছিল। শুধু ছবি তোলাই নয়, গ্যালারি ভর্তি ভারতীয় সমর্থকদের নিস্তব্ধ করে দেওয়ার সেই পুরনো বার্তাও যেন ভিন্নভাবে দিলেন কিউই অধিনায়ক। তিনি সরাসরিই বলেন যে, ভারত এই ম্যাচে ফেভারিট হলেও শিরোপা জিততে যদি কিছু মানুষের মন ভাঙতে হয়, তবে তাতে তাঁর বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। স্যান্টনারের এমন মন্তব্য শুনে পাল্টা খোঁচা দিতে ছাড়েননি সূর্যকুমার যাদব। তিনি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ককে উদ্দেশ্য করে বলেন, কামিন্সের সেই পুরনো সংলাপ না আউড়ে নতুন কিছু বলার চেষ্টা করা উচিত।

মাঠের উইকেট নিয়ে দুই অধিনায়কের ভাবনা অবশ্য একই রেখায় রয়েছে। আহমেদাবাদের উইকেটে ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্য হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি এই উইকেটেই কানাডার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা ২১৩ রানের পাহাড় গড়ে বড় জয় পেয়েছিল। ক্রিকইনফো ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাইনালের উইকেট বেশ তরতাজা এবং রানপ্রসবা হতে পারে। কিউই অধিনায়কের পরিকল্পনা হলো, উইকেট যদি ব্যাটারদের সহায়ক হয় তবে ভারতকে ২২০ রানের মধ্যে আটকে রাখার চেষ্টা করা। যদিও সূর্যকুমার এই পরিকল্পনাকে 'মিথ্যা চাল' হিসেবে দেখছেন এবং তাঁর লক্ষ্য হলো আগে ব্যাট করলে স্কোরবোর্ডে অন্তত ২৫০ রান তোলা।

ভারত অধিনায়ক অবশ্য আগেভাগে কোনো রান নির্ধারণ করে মাঠে নামার পক্ষে নন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, উইকেটের আচরণ বুঝে ড্রেসিংরুমের পরিকল্পনা সাজানো হবে। দেড় বছর আগের সেই হারানো মুকুট আহমেদাবাদেই ফিরে পাওয়ার জন্য মরিয়া স্বাগতিকরা। অন্যদিকে, ফেভারিট না হয়েও সুশৃঙ্খল ক্রিকেট খেলে ভারতকে বড় ধাক্কা দিতে প্রস্তুত নিউজিল্যান্ড। আহমেদাবাদের এই হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে কিউইদের কৌশলী বোলিং বনাম ভারতীয় ব্যাটারদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব।

/আশিক


সাফের মুকুট ধরে রাখার লড়াই: মেগা ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১৮:০৮:৪৪
সাফের মুকুট ধরে রাখার লড়াই: মেগা ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আজ হাইভোল্টেজ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও ভারত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের এই মেগা ফাইনাল আজ কেবল একটি ট্রফি জয়ের লড়াই নয়; বরং দুই প্রতিবেশী দেশের ফুটবলীয় মর্যাদা, আঞ্চলিক আধিপত্য, পুরোনো প্রতিশোধ এবং নতুন ইতিহাস গড়ার চূড়ান্ত লড়াই।

আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে এক বিরল ও মহাকাব্যিক কীর্তি গড়ার হাতছানি। ২০২২ ও ২০২৪ সালের শিরোপাজয়ী লাল-সবুজের মেয়েরা আজ জিততে পারলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে টানা তৃতীয়বার সাফের চ্যাম্পিয়ন তথা ট্রফির হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করবে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে স্বাগতিক ভারতের একমাত্র লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে তাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধার করা।

একসময় যে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ কেবল অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখত, ধারাবাহিক উন্নতি আর ইস্পাতকঠিন আত্মবিশ্বাসের জোরে সেই মঞ্চেই আজ নিজেদের আঞ্চলিক পরাশক্তিতে রূপান্তর করেছে তারা। বাংলাদেশের এই উত্থানের গল্প শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে, যখন ভারতের শিলিগুড়িতে প্রথমবারের মতো সাফের ফাইনালে উঠেছিল দলটি। সেবার ভারতের কাছে হারলেও সাবিনা খাতুন ও সিরাত জাহানরা নিজেদের আগমনী বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন। এরপর ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ এবং ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের ট্রফি জিতে ভবিষ্যতের এক শক্তিশালী ভিত গড়ে তোলে বাংলাদেশের মেয়েরা, যার চূড়ান্ত ফল আসে ২০২২ সালে প্রথম সিনিয়র সাফ জয় এবং ২০২৪ সালে তার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে।

তবে ট্রফি ধরে রাখার এই মিশন মারিয়া মান্ডাদের জন্য মোটেও সহজ হবে না। কারণ চলতি আসরের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এই ভারতের কাছেই ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। অবশ্য সেই মানসিক ধাক্কা দারুণভাবে সামলে নিয়ে সেমিফাইনালে শক্তিশালী নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে লাল-সবুজের দল। অপরদিকে, ভারত সেমিফাইনালে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে তাদের ফাইনাল টিকিট নিশ্চিত করে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালের পর এই প্রথম সাফের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। সেবারের ফাইনালে ভারত ৩-১ গোলে জিতলেও গত কয়েক বছরে ভারতকে একাধিকবার হারিয়ে মানসিকভাবে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এই ফাইনালটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার জন্যও। ২০১৬ সালের সেই রানার্সআপ দলের সদস্য মারিয়ার কাঁধেই এখন দলের নেতৃত্বের ভার। ফলে মাঝমাঠের এই মূল ভরসার সামনে আজ পুরোনো হারের প্রতিশোধ নেওয়ার যেমন সুযোগ, তেমনি রয়েছে অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। এখন দেখার বিষয়, ভারতের দুর্গ ভেঙে বাংলাদেশ কি পারবে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফের মুকুট নিজেদের করে নিতে, নাকি স্বাগতিকদের গর্জনেই ট্রফি থেকে যাবে ভারতের ঘরে।

/আশিক


৬৪ বছর আগের ব্রাজিলীয় ইতিহাস ছোঁয়ার হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১২:৩০:১৮
৬৪ বছর আগের ব্রাজিলীয় ইতিহাস ছোঁয়ার হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে
ছবি : সংগৃহীত

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা এবার ২০২৬ আসরেও নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়ে মাঠে নামছে। তবে ফুটবলের মহাযজ্ঞে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয় করা কতটা কঠিন, তা ইতিহাসই বলে দেয়। আজ থেকে দীর্ঘ ৬৪ বছর আগে ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে শেষবারের মতো এই কীর্তি গড়েছিল ব্রাজিল।

এবার ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড ছোঁয়ার হাতছানি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে। ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’-তে থাকা আর্জেন্টিনার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার পথ এবং শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা কেমন, তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করেছে বিখ্যাত ফুটবল বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘অপটা’। তাদের সুপারকম্পিউটারের ১০ হাজার সিমুলেশন বা গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার এবার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা অন্তত ১৮ শতাংশ।

এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ তুলনামূলক সহজ তিন দল—আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান। এই গ্রুপ থেকে আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বে তথা শেষ ৩২-এ যাওয়ার সম্ভাবনা আকাশচুম্বী। অপটা সুপারকম্পিউটার বলছে, ৯৬.৯ শতাংশ ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের বাধা পার করবে। পুরো টুর্নামেন্টে কেবল স্পেনের গ্রুপ পার করার সম্ভাবনা (৯৮.৬%) আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি।

গ্রুপ পর্ব পার হতে পারলে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ৩ জুলাই মিয়ামি গার্ডেন্সে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে ল্যাটিন পরাশক্তি উরুগুয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, শেষ ৯ ম্যাচের ৮টিতেই উরুগুয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোনো গোল করতে পারেনি, যার মধ্যে মাত্র একটিতে জিতেছে তারা। ফলে এই বাধা টপকে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে ৬৩.২ শতাংশ এগিয়ে রাখছে অপটা।

উরুগুয়ে বধের পর শেষ ১৬-তে আলবিসেলেস্তেদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে তুরস্ক। দুই দলের পূর্বে মুখোমুখি হওয়ার কোনো ইতিহাস না থাকলেও শক্তির বিচারে এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনা পার করে যাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে, যার সম্ভাবনা ৪৫.৭ শতাংশ। তবে আসল রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

এটি হলে ফুটবল বিশ্ব প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে মহাকাব্যিক ‘মেসি বনাম রোনালদো’ দ্বৈরথ দেখার সুযোগ পাবে। এর আগে ২০১১ সালের এক প্রীতি ম্যাচে রোনালদো গোল করলেও ৮৯ মিনিটে মেসির পেনাল্টি গোলে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। এবারও কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে সেমিফাইনালে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৩০.৬ শতাংশ।

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ফেভারিট স্পেন। অপটার হিসেবে ১৬.৫ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে স্প্যানিশরাই এবার ট্রফি জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে। তবে ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলছে; এর আগে আর্জেন্টিনা যে পাঁচটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছে, তার প্রতিটিতেই জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

এবারও স্পেনের কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ১৮.৩ শতাংশ। আর সব বাধা পেরিয়ে আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারে এমবাপের ফ্রান্স।

এটি হলে ফুটবল বিশ্ব ২০২২ কাতার ফাইনালের রোমাঞ্চকর পুনরাবৃত্তি দেখবে। অপটা ট্রফি জয়ের দৌড়ে ফ্রান্সকে সামান্য এগিয়ে রাখলেও (১২.৮%) আর্জেন্টিনার সম্ভাবনাও ১০.৪ শতাংশ। যদি এবারও আর্জেন্টিনা শিরোপা জেতে, তবে লিওনেল মেসি হবেন ফুটবল ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক, যিনি টানা দুইবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অনন্য কীর্তি গড়বেন।

/আশিক


শত উত্তেজনার মাঝেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে মার্কিন সবুজ সংকেত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১২:২০:৫৩
শত উত্তেজনার মাঝেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে মার্কিন সবুজ সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভিসা অনুমোদন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) এক মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘এবিসি নিউজ’-কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্র আবহের মাঝেই ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বর্তমানে তুরস্কের আনতালিয়ায় একটি বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্পে অবস্থান করছে ইরান ফুটবল দল। সেখান থেকেই আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফুটবলারদের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, ফিটনেস ট্রেইনার এবং কয়েকজন প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীর ভিসাও অনুমোদিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে কারও আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দূতাবাস বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই দলটি যুক্তরাষ্ট্র বা মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হতে পারবে বলে জানা গেছে।

ভিসা অনুমোদনের পাশাপাশি ইরানি প্রতিনিধিদলের ওপর কঠোর নজরদারির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের এই প্রতিনিধিদলের ওপর বিশেষ নিরাপত্তা নজরদারি রাখা হবে। বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চোখে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘ইসলামিক রেভলশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তিকে এই বহরে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “খেলোয়াড় বা প্রকৃত ক্রীড়া কর্মকর্তাদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি নেই। তবে খেলাধুলার বাইরে আইআরজিসির ছদ্মবেশী কাউকে মার্কিন ভূখণ্ডে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিল মাসেও আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজের কানাডার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করায় এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। চলতি বছরের শুরুতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ফিফা শুরু থেকেই তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছিল। আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরান তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়েটলে মিশরের মুখোমুখি হবে দলটি।

/আশিক


ফুটবলের মহাবিশ্বকাপে বাংলাদেশের নাম, অফিশিয়াল অ্যালবামে ঠাঁই পেলেন ডিজে সঞ্জয়

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ২০:৩৪:০৫
ফুটবলের মহাবিশ্বকাপে বাংলাদেশের নাম, অফিশিয়াল অ্যালবামে ঠাঁই পেলেন ডিজে সঞ্জয়
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে এবার অত্যন্ত গৌরবময়ভাবে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নাম। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্সের জমকালো ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের জন্য এলো আরও একটি দুর্দান্ত সুখবর। আসন্ন বিশ্বকাপের অফিশিয়াল মিউজিক অ্যালবামে (সাউন্ডট্র্যাক) এবার জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডিজে এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সঞ্জয়।

অবিস্মরণীয় এই অর্জনের পর নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে ভক্তদের সাথে অনুভূতি শেয়ার করেছেন শিল্পী সঞ্জয়। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “অনেক দিন ধরে আমি ঠিক এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতির মাঝে বড় হতে হতে দিনের পর দিন পার করেছি কেবল নতুন গান তৈরিতে। সবসময় মনে মনে স্বপ্ন দেখতাম, এমন কিছু গান বানানোর যা একদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ও বিশ্বখ্যাত সাউন্ডট্র্যাকে জায়গা করে নেবে।”

নিজের এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে অত্যন্ত গর্বের সাথে উৎসর্গ করে সঞ্জয় আরও বলেন, “আজ অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, আমি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল অ্যালবামের একজন তালিকাভুক্ত অফিশিয়াল শিল্পী। আমাদের নিখুঁতভাবে তৈরি করা একটি গান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবের অফিশিয়াল সাউন্ডট্র্যাক হতে যাচ্ছে, এটা ভাবতেই অন্যরকম এক অনুভূতি হচ্ছে। এটি আমার সংগীত ক্যারিয়ারের জন্য অনেক বড় একটি প্রাপ্তি।” নিজের এই বৈশ্বিক জয়কে কেবল ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ না রেখে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে তিনি লেখেন, “এটি কেবল আমার একার জয় নয়। এটি চার দেয়ালের বদ্ধ ঘরে বসে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখার সাহস বুনে চলা সেই সমস্ত সাধারণ শিশুর জয়।”

ফিফা বিশ্বকাপের এই বিশেষ অফিশিয়াল অ্যালবামে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সঞ্জয়ের গানটির শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘সির সির’। বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো এই বিশেষ গানটিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ডিজে-র সঙ্গে যৌথভাবে পারফর্ম করছেন বলিউডের তুমুল জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি এবং প্রখ্যাত ফরাসি সংগীতশিল্পী ভেজেড্রিম। বিশ্বমঞ্চে ট্রফি উন্মোচনের পর এই গানটি ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা দিল আলজেরিয়া, ডাচদের হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের আগে হুংকার

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১২:৪৯:০৫
আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা দিল আলজেরিয়া, ডাচদের হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের আগে হুংকার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল মঞ্চে মাঠে নামার আগে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তিনবারের রানার্সআপ পরাশক্তি নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বড়সড় চমক দেখিয়েছে আফ্রো-আরব দেশ আলজেরিয়া। ডাচদের ঘরের মাঠ রটারডামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল তারা। বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন হার নিশ্চিতভাবেই ডাচ শিবিরের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ এবারের আসরে তাদের অন্যতম ফেভারিট মনে করা হচ্ছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেদারল্যান্ডস স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে এবং মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে। তবে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ প্রথমার্ধ থেকেই ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত। ডাচদের সব আক্রমণ প্রতিহত করে সময় বাড়ার সাথে সাথে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে আলজেরিয়া। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় শেষ মুহূর্তে, ৮৬তম মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে বল পেয়ে আলজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আনিস হজ মুসা ডি-বক্সের ভেতরে কাট-ইন করে বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত কার্লিং শটে বল জালে জড়ান। ডাচ গোলরক্ষককে পরাস্ত করা এই চোখধাঁধানো গোলটিই শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়াকে ঐতিহাসিক এক জয় এনে দেয়।

এই জয়টি বিশ্বকাপের গ্রুপ 'জে'-তে থাকা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্যও একটি আগাম সতর্কবার্তা। একই গ্রুপে আলজেরিয়ার পাশাপাশি রয়েছে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। ডাচদের বিপক্ষে আলজেরিয়ার এমন লড়াকু পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদেরও চড়া মূল্য চোকাতে হতে পারে।

/আশিক


মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত কোচ কার্লো আনচেলত্তির

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১২:৩৫:১৫
মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত কোচ কার্লো আনচেলত্তির
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে জোর কদমে নিজেদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। বুধবার (৩ জুন) সেলেসাওদের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক অনুশীলন সেশন সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ এই অনুশীলন পর্বটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল গ্যালারিতে উপস্থিত থাকা প্রায় ২০০ দর্শক, যাদের মধ্যে প্রবাসী ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের পাশাপাশি স্থানীয় মার্কিন ফুটবলপ্রেমীদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অফিশিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর সঙ্গে স্বাগতিক দেশের স্থানীয় জনগণের সংযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই মূলত এই উন্মুক্ত বা ওপেন প্র্যাকটিস সেশনের আয়োজন করা হয়। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ফিফার সেই মহৎ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সাধারণ দর্শকদের জন্য এই অনুশীলনের দরজা উন্মুক্ত রেখেছিল।

এদিকে, আসন্ন মিশরের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচটিকে সামনে রেখে সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের মূল একাদশে বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল ম্যাচের ব্যস্ততার কারণে যারা আগের ম্যাচটিতে অংশ নিতে পারেননি, সেই দুই তারকা ডিফেন্ডার মার্কুইনহস এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালহেসকে আবারও দলের শুরুর একাদশে (স্টার্টিং ইলেভেন) দেখা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি লেফট-ব্যাক পজিশনেও পরিবর্তনের আভাস মিলেছে; যেখানে অভিজ্ঞ অ্যালেক্স সান্দ্রোর পরিবর্তে ডগলাস সান্তোসকে পরখ করে দেখতে পারেন কোচ আনচেলত্তি।

ডিফেন্স লাইনের পাশাপাশি ব্রাজিলের মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগেও নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। সদ্য সমাপ্ত পানামার বিপক্ষের ম্যাচে দুর্দান্ত ও কার্যকরী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করার সুবাদে লুকাস পাকেতা এবং ইগর থিয়াগো এখন মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন। এই দুই তারকাকে যদি শুরুর একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে দলের সাইডবেঞ্চে গিয়ে বসতে হতে পারে ম্যাথিউস কুনহা এবং লুইস হেনরিককে।

অবশ্য খেলোয়াড় পরিবর্তনের এই সমীকরণ সামনে এলেও দলের মূল ফরমেশন ও কৌশলগত দিক থেকে বড় কোনো রদবদল করছেন না ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড কোচ। কার্লো আনচেলত্তি তাঁর আক্রমণাত্মক ৪-২-৪ ফরমেশনেই পূর্ণ আস্থা রাখছেন। এই নির্দিষ্ট ছকে ডান প্রান্তে খেলতে যাওয়া পাকেতা ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী মাঝমাঠে ঢুকে খেলার বাড়তি স্বাধীনতা পাবেন, যার ফলে রাইট-উইং বা ডান প্রান্ত দিয়ে ওভারল্যাপ করে আক্রমণে আরও বেশি ধার বাড়াতে পারবেন ডিফেন্ডার ওয়েসলে। বিশ্বকাপের মূল আসরে মাঠে নামার আগে সেলেসাও শিবিরের এই নিবিড় প্রস্তুতি এবং রণকৌশলের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল সমর্থকদের মাঝে ইতিমধ্যেই তুমুল আলোচনা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

/আশিক


বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ: ফিফার সাথে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ২১:৫৫:৫০
বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ: ফিফার সাথে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের জমজমাট ম্যাচগুলো বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচারের লক্ষ্যে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার সঙ্গে বর্তমান সরকারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সব প্রক্রিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভি (বাংলাদেশ টেলিভিশন) এবারের বিশ্বকাপের সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করার দায়িত্ব পাবে। এর ফলে বৈশ্বিক ফুটবলের এই মেগা আসর টেলিভিশনের পর্দায় দেখা নিয়ে দেশের কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের মনে যে সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকাংশেই দূর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজ বুধবার (৩ জুন) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের নির্ভরযোগ্য দুটি পৃথক সূত্র গণমাধ্যমকে এই ইতিবাচক অগ্রগতির খবর নিশ্চিত করেছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নাম প্রকাশ করে গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই বিশেষ উদ্যোগের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, জনগণের করের টাকা বা রাষ্ট্রীয় তহবিলের কোনো অর্থ (পাবলিক মানি) ব্যয় না করে দেশের সাধারণ দর্শকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ করে দিতে সব পক্ষের সাথে নিবিড় আলোচনা চালানো হচ্ছে এবং এই আলোচনার ফলাফল এখন পর্যন্ত বেশ সন্তোষজনক।

মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল সম্প্রচারস্বত্ব কোনো ধরনের বড় আর্থিক লেনদেন ছাড়া বা বিনামূল্যে পাওয়ার কৌশলগত লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ফিফার নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে কয়েক দফা ফলপ্রসূ বৈঠক ও যোগাযোগ করা হয়েছে। বিশেষ এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ার সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের শীর্ষ কর্তারা সরাসরি যুক্ত থেকে কাজ করছেন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আলোচনার বর্তমান যে ইতিবাচক মোড়, তাতে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা এবার অত্যন্ত সহজ উপায়েই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন। ফিফার সবুজ সংকেত ও আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ামাত্রই বিটিভি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্প্রচারস্বত্ব নিজেদের নামে গ্রহণ করবে।

রাষ্ট্রীয় এই চ্যানেলটি স্বত্ব পাওয়ার পর দেশের যেসব বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা ডিজিটাল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিশ্বকাপ সরাসরি দেখাতে আগ্রহী হবে, তারা নিয়ম মেনে বিটিভি থেকে ফিড বা ডাউনলিংক স্বত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এই ফুটবল সম্প্রচার সংক্রান্ত আলোচনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে আসতে পারে।

/আশিক


নেপালকে বধ করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৯:৫০:২০
নেপালকে বধ করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

সুপার সাব মোসাম্মাৎ সাগরিকার শেষ মুহূর্তের জাদুকরি গোলে নেপালকে পরাস্ত করে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (৩ জুন) ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে নেপালি মেয়েদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। এর আগের দুটি আসরেও এই নেপালকে পরাজিত করেই শিরোপা ঘরে তুলেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা, যার ফলে এবার দলটির সামনে রয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের এক অনন্য সুবর্ণ সুযোগ।

ম্যাচের দ্বিতীয়রীতি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুই বদলি ফুটবলার শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সাগরিকার দুর্দান্ত বোঝাপড়ায় জয়সূচক গোলটি পায় বাংলাদেশ। মাঠের ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে গোলমুখে নিখুঁত পাস বাড়ান শামসুন্নাহার, যেখানে নেপালের একজন ডিফেন্ডার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে সাগরিকো কোনো ভুল না করে বল জালে জড়িয়ে দেন।

এই গোলের সুবাদে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং ম্যাচের বাকি সময়টুকু এই লিড ধরে রেখে ফাইনালে যাওয়ার আনন্দ উল্লাসে মাতে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা। এর আগে ম্যাচের ২৩ মিনিটেই গোল হজম করে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে দেশের অন্যতম সেরা তারকা ঋতুপর্ণা চাকমার অসাধারণ কর্নার কিক থেকে সমতায় ফেরে দল। ডানপ্রান্ত থেকে নেওয়া ঋতুপর্ণার সেই জোরালো শট নেপালি গোলরক্ষক হাত দিয়ে স্পর্শ করলেও বলের গতি থামাতে পারেননি, ফলে বল সরাসরি জালে জড়ায়।

এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে দিপা শাহীর কর্নার কিক বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারলে ফাঁকায় থাকা গিতা রানা সুযোগ বুঝে বল জালে পাঠিয়ে নেপালকে প্রথম লিড এনে দিয়েছিলেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রীতি রানীর একটি শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে ক্রসবারে প্রতিহত হলে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ, যার ফলে ১-১ সমতা নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ হয়।

দলের আক্রমণের ধার বাড়াতে কোচ পিটার বাটলার ম্যাচের ৪০ মিনিটেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন; সুরভী আকন্দ প্রীতির বদলে শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং উমেহলা মারমার জায়গায় তহুরা খাতুনকে মাঠে নামান। ম্যাচের শেষভাগে আনিকাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় সাগরিকাকে, আর কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েই দলকে ফাইনালে তোলেন এই স্ট্রাইকার।

ম্যাচের দ্বিতীয়োর্ধেও বেশ কিছু রোমাঞ্চকর মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ৪৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে নেপালের রেখা পাউদেল শট নিলেও তা পোস্টে লেগে ফিরে আসলে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। আবার ৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা সাগরিকার একটি নিশ্চিত গোলের শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা।

ভুটানের রেফারি নির্ধারিত ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়কে টেনে প্রায় ১৩ মিনিট পর্যন্ত খেলা পরিচালনা করলেও শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেপালের বিপক্ষে টানা তৃতীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে খেলেছেন মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন (মনিকা চাকমা, ৪৬ মিনিট), মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী (সাগরিকা), উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

/আশিক


পরবর্তী মহাতারকা কে? বিশ্বকাপে নজর থাকবে যে ১০ তরুণের ওপর

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১০:৩৩:২৭
পরবর্তী মহাতারকা কে? বিশ্বকাপে নজর থাকবে যে ১০ তরুণের ওপর
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্ব এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে ষষ্ঠবারের মতো এবং সম্ভবত শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে লড়বেন দুই কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে একসঙ্গে অভিষেক হওয়া এই দুই মহাতারকার বিদায়ের মঞ্চ প্রস্তুত। রোনালদোর বয়স এখন ৪১ আর মেসির বয়স আগামী ২৪ জুন পূর্ণ হবে ৩৯।

এই দুই কিংবদন্তির বিদায়ের লগ্নে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে ধরবেন আগামী দিনের হাল? কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এবারের বিশ্বকাপের সেরা ১০ উদীয়মান ফুটবলারের তালিকা, যারা বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

কেনান ইলদিজ (তুরস্ক)

জুভেন্টাসের ২১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার কাম উইঙ্গার এখন তুরস্কের ৫ কোটি ফুটবল ভক্তের বড় আশার প্রতীক। তুরস্ক শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছিল ২০০২ সালে, যখন ইলদিজের জন্মও হয়নি। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া জুভেন্টাসের এই নতুন ‘১০ নম্বর’ তারকা ২০২৩-২৪ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে কোপা ইতালিয়া জিতেছেন এবং সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ১১ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করে সেরি এ-র সেরা উদীয়মান তারকার পুরস্কার জিতেছেন। সতীর্থ আর্দা গুলারের সাথে জুটি বেঁধে এবার বিশ্বকাপে তুরস্ককে বহুদূর নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ ইলদিজের সামনে।

নিকো পাজ (আর্জেন্টিনা)

২১ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে আর্জেন্টিনার ফুটবল মহলে অনেকেই লিওনেল মেসির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। ইতালিয়ান সেরি এ-তে কোমোর হয়ে এই মৌসুমে ১২টি গোল এবং ৭টি অ্যাসিস্ট করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি। বার্সেলোনা ও চেলসির সাবেক কিংবদন্তি এবং বর্তমান কোমো কোচ সেস্ক ফাব্রেগাসের এই প্রিয় শিষ্য মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত বল জোগান দেওয়ার পাশাপাশি গোল করার ক্ষেত্রেও সমান পারদর্শী।

রায়ান (ব্রাজিল)

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বোর্নমাউথের ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের নতুন বিস্ময়। সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি গত মার্চেই এই তরুণকে জাতীয় দলে ডেকে চমকে দেন। সম্প্রতি পানামার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলও করেছেন তিনি। গত বছর ভাস্কো দা গামার হয়ে দারুণ পারফরম্যান্সের পর বোর্নমাউথে যোগ দিয়ে ক্লাবটিকে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ফুটবলে কোয়ালিফাই করতে অবিশ্বাস্য ভূমিকা রেখেছেন রায়ান।

গিলবার্তো মোরা (মেক্সিকো)

মেক্সিকোর ক্লাব তিহুয়ানার এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ২০২৪ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেক্সিকান লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়ে রেকর্ড বই ওলটপালট করে দেন। গত বছরের জুলাইয়ে কনকাকাফ গোল্ড কাপ জয়ে মেক্সিকো জাতীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বিজয়ীর অনন্য রেকর্ড গড়েন এই বিস্ময় বালক।

ইয়ান দিওমান্দে (আইভরি কোস্ট)

জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাব আরবি লাইপজিগের এই ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার সদ্য সমাপ্ত মরসুমে ১২টি গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করে পুরো ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছেন। লাইপজিগ ইতিমধ্যেই এই আফ্রিকান তরুণের বাজারমূল্য ১০ কোটি ইউরো বা ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি নির্ধারণ করেছে। এই মৌসুমে তিনি বুন্দেসলিগার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন।

নিকো ও'রিলি (ইংল্যান্ড)

ম্যানচেস্টার সিটির বিশ্বখ্যাত একাডেমি থেকে উঠে আসা ২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার লেফট-ব্যাক এবং অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার—উভয় পজিশনেই সমান দক্ষ। সিটি বস পেপ গার্দিওলার অধীনে এই মৌসুমে ৫০টিরও বেশি ম্যাচ খেলে নিজেকে চেলসি ও আর্সেনালের বিপক্ষে প্রমাণ করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ও'রিলির এই বহুমুখী প্রতিভা বড় অস্ত্র হতে যাচ্ছে।

লেনার্ট কার্ল (জার্মানি)

বায়ার্ন মিউনিখের ১৮ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান উইঙ্গার বায়ার্নের মূল দলের হয়ে নিজের প্রথম মৌসুমেই ৯টি গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। উইং ধরে তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং দারুণ ড্রিবলিং কৌশলের কারণে জার্মানির প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের বিশ্বকাপ কৌশলে তিনি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন।

লুকা ভুসকোভিচ (ক্রোয়েশিয়া)

ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে ধারে জার্মান ক্লাব হামবুর্গারে খেলা এই ১৯ বছর বয়সী সেন্টার ব্যাককে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী বলা হচ্ছে। ১.৯৩ মিটার বা প্রায় ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই ডিফেন্ডার যেমন রক্ষণ সামলাতে দক্ষ, তেমনই সেট পিসে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বুন্দেসলিগায় রক্ষণ সামলেও ইতোমধ্যে ৬টি গোল করেছেন।

কেইসুকে গোতো (জাপান)

২০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার ব্লু সামুরাই তথা জাপানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সবচেয়ে তরুণ সদস্য। বেলজিয়ামের ক্লাব সিন্ত-ট্রুইডেনসিতে খেলা ১.৯১ মিটার উচ্চতার এই স্ট্রাইকার চলতি মৌসুমে ১৩টি গোল করেছেন। জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু গোল খরা কাটাতে এবার এই তরুণ তুর্কির ওপর গভীর আস্থা রাখছেন।

আলি জাসিম (ইরাক)

২২ বছর বয়সী এই ইরাকি উইঙ্গার দুই বছর আগে অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাজমায় খেলা জাসিম এবার বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর কাঁধে ভর করেই এশিয়ার সিংহ ইরাক দীর্ঘ ৪০ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপে ফিরল।

সূত্র: আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: