২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০২ ১৪:৫৯:১৯
২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

২ মার্চ ২০২৬, সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের চিত্র ছিল দৃঢ় প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিতবাহী। আগের কার্যদিবসের তুলনায় এদিন বাজারে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট ৩৯৪টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ৩৪০টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, ৪২টির দর কমেছে এবং ১২টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান বাজারে স্পষ্ট ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন বহন করছে।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক বিশ্লেষণ

এ ক্যাটাগরিতে ২০৬টি শেয়ারের মধ্যে ১৭০টি বেড়েছে, ২৮টি কমেছে এবং ৮টি অপরিবর্তিত ছিল। ব্লু-চিপ ও নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

বি ক্যাটাগরিতে ৭৯টির মধ্যে ৭০টি শেয়ার দর বেড়েছে, যা মাঝারি মূলধনী কোম্পানিগুলোর প্রতি আগ্রহ বাড়ার প্রতিফলন।

জেড ক্যাটাগরিতেও ১০৯টির মধ্যে ১০০টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যা তুলনামূলক দুর্বল কোম্পানিগুলোর মধ্যেও স্বল্পমেয়াদি ক্রয়চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টির মধ্যে ৩২টি বেড়েছে, যা এই খাতে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার প্রমাণ। কর্পোরেট বন্ডে ৩টির মধ্যে ২টি ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যদিও সরকারি সিকিউরিটিজে ৪টির সবকটিই দরপতন হয়েছে।

লেনদেন ও বাজারমূলধন

এদিন মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৩টি। মোট ৩১ কোটি ৭৯ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৬টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭৯ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ৭১৬ টাকা।

বাজার মূলধনেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ইক্যুইটি সেগমেন্টের বাজারমূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকায়। মিউচুয়াল ফান্ড ও ঋণপত্র মিলিয়ে মোট বাজারমূলধন ৭ লাখ ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি।

ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন

ব্লক মার্কেটে ৩৬টি সিকিউরিটিজে মোট ৭৩টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৮৮ লাখ ৪৫ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৩২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন, রেনাটা, অ্যাপেক্স স্পিনিং, আল-আরাফাহ ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ফাইন ফুডস, এনসিসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, লাভেলো আইসক্রিম, জামুনা ব্যাংক, বেক্সিমকো, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, সালভো কেমিক্যাল, প্রাইম লাইফ, সাইহাম টেক্সটাইল, সিমটেক্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, জাহিন টেক্সটাইলসহ একাধিক কোম্পানিতে।

বিশেষভাবে ওরিয়ন ইনফিউশনে ১৩টি লেনদেনে ৩ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়ে ১১২ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন হয়েছে। রেনাটা ও অ্যাপেক্স স্পিনিংয়েও বড় অঙ্কের ব্লক ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগের দিনের ব্যাপক দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা নিম্নমূল্যে শেয়ার সংগ্রহে আগ্রহী হয়েছেন। বিশেষ করে ব্যাংকিং, বীমা ও শিল্পখাতে ক্রয়চাপ দৃশ্যমান ছিল। ব্লক মার্কেটের বড় লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধারাবাহিক ইতিবাচক লেনদেন অব্যাহত থাকলে সূচক পুনরুদ্ধার আরও জোরালো হতে পারে। তবে বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য নীতিগত স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

-রাফসান


২ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০২ ১৪:৫৫:০০
২ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শেষভাগে ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী মূল্য তুলনায় সর্বোচ্চ শতাংশ পতনের ভিত্তিতে শীর্ষ লুজারদের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। দিনের লেনদেনে নির্বাচিত কয়েকটি শেয়ারে মুনাফা উত্তোলন ও বিক্রির চাপ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড। আগের ১৩৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে শেয়ারটি কমে ১২৬ টাকা ২০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে, যা প্রায় ৭ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ দর ছিল ১৩২ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১২২ টাকা ৫০ পয়সা।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা আজিজ পাইপস লিমিটেড ৫৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে নেমে ৫১ টাকা ৬০ পয়সায় স্থিত হয়েছে, পতন ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একইভাবে আইএসএন লিমিটেড ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে ৮২ টাকা ৭০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে, যা প্রায় ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ দরপতন।

ইনটেক লিমিটেড ৩৭ টাকা থেকে নেমে ৩৬ টাকায় স্থিত হয়েছে, পতন ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিল্পখাতে থাকা রেনউইক যাজনেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ৫৯৩ টাকা থেকে কমে ৫৮০ টাকা ৮০ পয়সায় নেমেছে, যা ২ দশমিক ০৬ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে আইসিবি এমপিএফ ওয়ান স্কিম ওয়ান ৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৮০ পয়সায় কমেছে। গ্রামীণ সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড ১২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ দর হারিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ৮৪ টাকা থেকে কমে ৮২ টাকা ৭০ পয়সায় স্থিত হয়েছে, পতন প্রায় ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

চিনিখাতে শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড ১৬৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে ১৬৪ টাকা ৪০ পয়সায় নেমেছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ১২৮ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে ১২৭ টাকায় বন্ধ হয়েছে, যা ১ দশমিক ৩২ শতাংশ পতন।

বিশ্লেষকদের মতে, আগের কার্যদিবসে নির্দিষ্ট খাতে উল্লেখযোগ্য উত্থানের পর কিছু শেয়ারে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা উত্তোলনের প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে খাদ্য, শিল্প ও ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপের কারণে দরপতন হয়েছে।

তবে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়নে সূচকের গতিপ্রকৃতি, মোট লেনদেনের পরিমাণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাজার বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদি ওঠানামার বাইরে কোম্পানির মৌলভিত্তিক আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

-রাফসান


২ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০২ ১৪:৫০:২৩
২ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শেষভাগে ক্লোজিং প্রাইস ও আগের কার্যদিবসের সমাপনী মূল্য তুলনায় সর্বোচ্চ শতাংশ বৃদ্ধির ভিত্তিতে শীর্ষ গেইনারদের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। দিনটির লেনদেনে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড। আগের ১৫ টাকা থেকে শেয়ারটি বেড়ে ১৬ টাকা ৫০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে, যা ঠিক ১০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। দিনের সর্বোচ্চ দরও ছিল ১৬ টাকা ৫০ পয়সা।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা সি-পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড ৩৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৬ টাকা ৪০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। পর্যটন খাতে এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ব্যাংকিং খাতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবি ব্যাংক লিমিটেড, যার শেয়ারদর ৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৭ টাকায় উন্নীত হয়েছে, বৃদ্ধি ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। একইভাবে প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড উভয়ের শেয়ার ৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৯০ পয়সায় উন্নীত হয়ে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ করে বেড়েছে।

শিল্পখাতে থাকা ইস্টার্ন পলিমার গ্রুপ লিমিটেড ১৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৭ টাকা ৮০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে, যা ৯ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

ফাইন্যান্স খাতে ইউনাইটেড ফাইন্যান্স লিমিটেড ১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৬০ পয়সায় স্থিত হয়েছে, বৃদ্ধি ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।

ব্যাংক খাতে এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড ৭ টাকা থেকে ৭ টাকা ৬০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, বৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড ৬ টাকা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি।

তালিকার শেষদিকে থাকা ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ২ টাকা ৯০ পয়সায় উন্নীত হয়ে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগের কার্যদিবসে ব্যাপক দরপতনের পর নির্দিষ্ট খাতে কারিগরি রিবাউন্ড দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের পুনরায় আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি মুনাফা প্রত্যাশা এবং কম দামে কেনার প্রবণতা এই উত্থানে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একদিনের উত্থানকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কোম্পানির মৌলভিত্তিক অবস্থা, আয়-লাভের প্রবণতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

-রাফসান


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধস

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০২ ১০:৩০:০০
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধস
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার খবরের জেরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১ মার্চ ২০২৬) দেশের দুই শেয়ারবাজারেই সূচক ও লেনদেনে বড় পতন দেখা গেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় শেয়ার বিক্রির ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরুর পরপরই বিনিয়োগকারীদের একাংশ আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করলে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সূচক ২২৩ পয়েন্ট পড়ে যায়। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ১৩৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৪৬১ পয়েন্টে নেমে আসে। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ডিএসইতে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়লেও কমেছে ৩৫৩টির। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৬ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫২ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে।

পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডিএসইতে মোট ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা কম। লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং ওরিয়ন ইনফিউশন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে সিএএসপিআই সূচক ২৪৫ পয়েন্ট কমেছে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৮টিরই দাম কমেছে।

ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, খামেনি নিহত হওয়ার খবরে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রির প্রবল চাপ তৈরি হয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রি না করলে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, এদিন দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসি, যার শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর পরেই ছিল ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (আইএসএন) এবং ব্যাংক এশিয়া।

/আশিক


আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১৫:১৫:৪২
আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের দিনজুড়ে বিক্রির প্রবল চাপ দেখা গেছে। দিন শেষে মোট ৩৮৯টি ইস্যুর মধ্যে মাত্র ৩০টি শেয়ারের দর বেড়েছে, বিপরীতে ৩৫৩টি শেয়ার দরপতনের শিকার হয়েছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬টি। সংখ্যার দিক থেকে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় নেগেটিভ সেশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক চিত্র

এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০২টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৭টি শেয়ার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, আর ১৯২টি দর হারিয়েছে। ৩টি অপরিবর্তিত ছিল।বি ক্যাটাগরিতে ৭৯টি ইস্যুর মধ্যে ২টি বেড়েছে এবং ৭৭টি কমেছে।এন ক্যাটাগরিতে কোনো লেনদেন হয়নি।জেড ক্যাটাগরিতে ১০৮টি শেয়ারের মধ্যে ২১টি বেড়েছে, ৮৪টি কমেছে এবং ৩টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড বাজার

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে মাত্র ২টির দর বেড়েছে, ২৯টির কমেছে এবং ৩টি অপরিবর্তিত রয়েছে।করপোরেট বন্ড বাজারে ২টি ইস্যুর উভয়টিরই দরপতন হয়েছে।সরকারি সিকিউরিটিজ খাতে ১টি ইস্যুর লেনদেন হয়েছে এবং সেটিও নিম্নমুখী ছিল।

লেনদেন ও বাজার মূলধন

দিনের মোট লেনদেন সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৪৪টি ট্রেড। মোট শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩২ কোটি ৪১ লাখ ১৪ হাজার ২৭৫টি, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকার বেশি।

বাজার মূলধনের হিসাবে ইকুইটি সেগমেন্টে মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ ২৭ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। মিউচুয়াল ফান্ডে ২৪ হাজার ১৩৫ কোটি টাকার বেশি এবং ঋণপত্রসহ মোট বাজার মূলধন প্রায় ৭১ লাখ ২ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করছে।

ব্লক মার্কেট লেনদেন

ব্লক মার্কেটে ২৩টি স্ক্রিপে মোট ৪৩টি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। মোট শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮২ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৬টি, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৪৬ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।ব্লক লেনদেনে উল্লেখযোগ্য ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন, আল-আরাফাহ ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, এপেক্স স্পিনিং এবং এমটিবি। এসব শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।

ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারণ পদ্ধতি

ডিএসইর সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, এখানে অগ্রগতি ও দরপতনের হিসাব ক্লোজিং প্রাইস (সিপি) ভিত্তিক। ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারণ করা হয় লেনদেনের শেষ ৩০ মিনিটের সকল ট্রেডের ওজনযুক্ত গড় মূল্যের ভিত্তিতে। যদি ওই সময় ট্রেড না হয়, তবে তার আগের সর্বোচ্চ ২০টি ট্রেডের ওজনযুক্ত গড় মূল্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। এটি ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত লাস্ট ট্রেড প্রাইস থেকে ভিন্ন হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আজকের লেনদেনে বিস্তৃত পরিসরে দরপতন বিনিয়োগকারীদের আস্থায় সাময়িক দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের তুলনায় খুচরা বিক্রির চাপ বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে একদিনের প্রবল পতন দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্দেশ করে না। বাজারের সামগ্রিক সূচক, কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

-রাফসান


১ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১৫:১২:২১
১ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শেষভাগে ক্লোজিং প্রাইস ও আগের কার্যদিবসের সমাপনী মূল্য তুলনায় সর্বোচ্চ শতাংশ পতন বিবেচনায় শীর্ষ লুজারদের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে একাধিক খাতে বিক্রির চাপ স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিডি ওয়েল্ডিং। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের ১৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে ১৭ টাকায় নেমে এসেছে, যা প্রায় ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ দর ছিল ১৮ টাকা ২০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১৬ টাকা ৯০ পয়সা।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে ২ টাকা ৭০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে, যা প্রায় ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ পতন। একইভাবে বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ শেয়ার ১৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমেছে।

টেক্সটাইল খাতে মাকসনস স্পিনিং মিলস ৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে ৫ টাকা ৫০ পয়সায় স্থিত হয়েছে, যা ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। কৃষিভিত্তিক খাতে এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক শেয়ার ৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৩ টাকা থেকে কমে ২ টাকা ৮০ পয়সায় নেমেছে, পতন প্রায় ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

বীমা খাতে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ৪১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিত হয়েছে, যা ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ দরপতন।

নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল ২২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২১ টাকা ১০ পয়সায় নেমেছে, পতন ৬ দশমিক ২২ শতাংশ।

রিং শাইন টেক্সটাইলস ৩ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে ৩ টাকা ১০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে, যা প্রায় ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ পতন।

তালিকার দশম স্থানে থাকা এইচ আর টেক্সটাইলস ১৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে ১৭ টাকা ১০ পয়সায় নেমে প্রায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আজকের লেনদেনে টেক্সটাইল, ক্ষুদ্র শিল্প ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিক্রির চাপ বেশি ছিল। স্বল্পমেয়াদি মুনাফা উত্তোলন, খাতভিত্তিক অনিশ্চয়তা এবং বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ারে একযোগে দরপতন হয়েছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, একদিনের পতনকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার সূচক হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির মৌলভিত্তিক অবস্থা, আয়-ব্যয় বিবরণী এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রাফসান


১ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০১ ১৪:৫৬:১৭
১ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শেষভাগে ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী মূল্য তুলনায় সর্বোচ্চ শতাংশ বৃদ্ধি বিবেচনায় শীর্ষ গেইনারদের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে এসপিসি সিরামিকস। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৭ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৮ টাকা ৮০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে, যা প্রায় ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। দিনের সর্বোচ্চ দরও ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১৬ টাকা ৫০ পয়সা।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইএসএন লিমিটেড ৮১ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা ৩০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে। শেয়ারটির মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ দর ছিল ৮৭ টাকা ১০ পয়সা।

ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক অবস্থান দেখা গেছে ব্যাংক এশিয়া-এর শেয়ারে। আগের দিনের ২১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ২২ টাকা ৯০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে, যা প্রায় ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি।

চতুর্থ স্থানে রয়েছে গ্রামীণ সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড। শেয়ারটি ১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ১২ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা ৩ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

পঞ্চম স্থানে থাকা আইসিবি এমপিএফ ওয়ান স্কিম ওয়ান ৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৯০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, বৃদ্ধি প্রায় ২ দশমিক ০৮ শতাংশ।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ, যার শেয়ারদর ৫২৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ৫৩২ টাকায় বন্ধ হয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ৫৩৪ টাকা ৪০ পয়সা।

কেবিপিপি ওয়েলড বিল্ডিং প্রোডাক্টস ১ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৫৫ টাকা ১০ পয়সায় স্থিত হয়েছে।

সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স শেয়ার ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ৮৬ টাকা ৫০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে, যা প্রায় ১ দশমিক ০৫ শতাংশ বৃদ্ধি।

তালিকার শেষদিকে থাকা ফাইন ফুডস লিমিটেড সামান্য ০ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ৪৭১ টাকা ৮০ পয়সায় বন্ধ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আজকের লেনদেনে সিরামিকস, টেক্সটাইল, ব্যাংকিং ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তুলনামূলক সক্রিয়তা দেখা গেছে। স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং খাতভিত্তিক চাহিদার কারণে নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ারে দরবৃদ্ধি হয়েছে। তবে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি, লভ্যাংশ ইতিহাস ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

-রাফসান


ডিএসইতে সাপ্তাহিক পতনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১১:৩১:১২
ডিএসইতে সাপ্তাহিক পতনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত

২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাপ্তাহিক লেনদেনে প্রধান পুঁজিবাজারে বেশ কয়েকটি শেয়ার ও বন্ডের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, দরপতনের শীর্ষে রয়েছে এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

সপ্তাহজুড়ে ফান্ডটির ইউনিটদর ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৩ টাকা ৩০ পয়সা, যা বিদায়ী সপ্তাহের শেষে নেমে আসে ৩ টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ কার্যদিবসে ৩০ পয়সা কমেছে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা শাহজালাল ব্যাংক পারপেচ্যুয়াল বন্ডের মূল্য ৫ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪০৮ টাকায়। এতে এক সপ্তাহে ৪২৯ টাকা বা ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিডি ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে ১৮ টাকা ৪০ পয়সায় নেমেছে, যা শতাংশ হিসেবে ৬ দশমিক ৬০ হ্রাস।

দরপতনের তালিকায় মেঘনা সিমেন্ট ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ৩৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ৯০ পয়সায় নেমেছে। এবিবিএল পারপেচ্যুয়াল বন্ড ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং এপিএসসিএল বন্ড ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ মূল্যহ্রাস পেয়েছে।

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারদর ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে। ন্যাশনাল লাইফ বন্ড ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং পিপিবিএল পারপেচ্যুয়াল বন্ড ৫ শতাংশ দর হারিয়েছে। আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটদর কমেছে ৪ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তোলার প্রবণতা এবং তারল্য সংকটের প্রভাব এ দরপতনের অন্যতম কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করেছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সাপ্তাহিক দরপতন বাজারে আংশিক চাপের ইঙ্গিত দিলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি, মুনাফা প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

-রাফসান


ডিএসইতে সপ্তাহের বাজারে সেরা ১০ পারফরমার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১১:২৭:১৪
ডিএসইতে সপ্তাহের বাজারে সেরা ১০ পারফরমার
ছবি: সংগৃহীত

বিদায়ী সপ্তাহ ২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রধান পুঁজিবাজারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে। সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দরবৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি বা বিআইএফসি।

সপ্তাহজুড়ে বিআইএফসি’র শেয়ারদর বেড়েছে ৫২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে শেয়ারটির দাম ছিল ৩ টাকা ৬০ পয়সা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ দিনে ক্লোজিং দর দাঁড়ায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে ১ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যসংযোজন হয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে প্রাইম ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা হয়েছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে ৪৮ দশমিক ১৫ শতাংশ উত্থান ঘটেছে।

তৃতীয় স্থানে থাকা জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর ৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। শতাংশ হিসেবে বৃদ্ধি ৩৬ দশমিক ১১।

শুধু এই তিন প্রতিষ্ঠানই নয়, আর্থিক ও লিজিং খাতের আরও কয়েকটি শেয়ার উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনিয়ন ক্যাপিটালের দর ৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে ৩৪ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে। আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৩০ পয়সায় গিয়ে ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ, ফাস ফাইন্যান্স ও পিপলস লিজিং উভয়েই ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ দরবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সোনারগাঁও টেক্সটাইলও ৩৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৪৪ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে প্রায় ২৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের আর্থিক ও লিজিং খাতের শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ার ফলে এ উত্থান দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির জন্য কোম্পানিগুলোর মৌলভিত্তি, আর্থিক প্রতিবেদন ও ঋণমান পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

-রাফসান


২৬ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৪:৫৬:০২
২৬ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে ব্যাপক উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। মোট ৩৯১টি ইস্যুর লেনদেনের মধ্যে ২৩৯টির দর বেড়েছে, ৯৩টি কমেছে এবং ৫৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে বাজারে স্পষ্ট ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক চিত্র

এ ক্যাটাগরির ২০৩টি কোম্পানির মধ্যে ১১৫টির দরবৃদ্ধি হয়েছে, যা বড় মূলধনী ও মৌলভিত্তিক শেয়ারে আস্থার ইঙ্গিত দেয়।

বি ক্যাটাগরিতে ৮০টির মধ্যে ৫৪টি শেয়ার মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে।

জেড ক্যাটাগরিতেও শক্তিশালী প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে ১০৮টির মধ্যে ৭০টি বেড়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টির মধ্যে ১০টি ইউনিট বেড়েছে এবং ৮টি কমেছে। করপোরেট বন্ডে ৪টির মধ্যে ১টি বেড়েছে ও ৩টি কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজে ২টির একটি বৃদ্ধি ও একটি পতন হয়েছে।

লেনদেন ও তারল্য

দিনভর মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৬৭৮টি ট্রেডে ৩১ কোটি ২২ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ইক্যুইটি সেগমেন্টে প্রায় ৩ লাখ ৬১ হাজার ১৩২ কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে ২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা এবং ঋণ সিকিউরিটিজে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকার মূল্য রয়েছে।

ব্লক মার্কেটে বড় অঙ্কের লেনদেন

ব্লক মার্কেটে ৪৩টি সিকিউরিটিজে ১২৪টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৬১৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ব্লক ট্রেড হয়েছে গ্রামীণফোন, ওরিয়ন ইনফিউশন, রেনাটা, মারিকো বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো, ব্র্যাক ব্যাংক, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, লাভেলো আইসক্রিম প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে।

বিশেষ করে ওরিয়ন ইনফিউশন ও গ্রামীণফোনে বড় আকারের লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

ক্লোজিং প্রাইস নির্ধারণের ভিত্তি

ডিএসইর বাজার সারসংক্ষেপে ‘অ্যাডভান্সড’, ‘ডিক্লাইন্ড’ ও ‘আনচেঞ্জড’ হিসাব ক্লোজিং প্রাইসের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। ক্লোজিং প্রাইস হলো শেষ ৩০ মিনিটের সব লেনদেনের ওজনিত গড় মূল্য। নির্দিষ্ট সময়ে লেনদেন না হলে পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ২০টি লেনদেনের ওজনিত গড়কে সমাপনী মূল্য হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে এলটিপি ও সিপির মধ্যে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

বাজার বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বাজারে শক্তিশালী রিবাউন্ড দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে এ ও বি ক্যাটাগরির শেয়ারে ক্রয়চাপ বেড়েছে। তারল্য বৃদ্ধি ও বড় ব্লক ট্রেড বাজারে আস্থার প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, স্বল্পমেয়াদি উত্থানকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা না করে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয় প্রবৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বিচক্ষণ কৌশল।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: