ইরান হামলার পর ইন্দোনেশিয়ায় ক্ষোভ: ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্বের দাবি জোরালো

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ১৩:৪৬:১৬
ইরান হামলার পর ইন্দোনেশিয়ায় ক্ষোভ: ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্বের দাবি জোরালো

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশটির প্রেসিডেন্ট Prabowo Subianto যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখায় দেশের ভেতরে সমালোচনার মুখে পড়ছেন। অনেকেই এখন দাবি তুলছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যগত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পুনরুদ্ধার করা উচিত।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট প্রাবোও নিজেকে সম্ভাব্য শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করেন। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে জানায়, সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক সংলাপের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাকার্তা। এমনকি উভয় পক্ষ রাজি হলে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও তেহরান সফর করে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করা হয়।

তবে এই প্রস্তাব দেশটির অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক রাষ্ট্রদূত ডিনো পট্টি দজালাল সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেন, এই প্রস্তাব প্রকাশের আগে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে মনে হচ্ছে। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ বাস্তবসম্মত নয়।

অস্ট্রেলিয়ার পার্থের মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়ান উইলসনও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখন যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেখানে হঠাৎ করে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়া বাস্তব পরিস্থিতি ঠিকভাবে বোঝার প্রতিফলন নয়। অনেক ইন্দোনেশিয়ান এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর প্রতি অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর পররাষ্ট্রনীতিকে ঘিরে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হিসেবে প্রায় আট হাজার ইন্দোনেশীয় সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দেশে বিতর্ক তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনাটি ট্রাম্প প্রশাসনের তথাকথিত “বোর্ড অব পিস” উদ্যোগের আওতায় নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়, যেখানে ইসরায়েলও সদস্য।

ইন্দোনেশিয়া ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জোরালো সমর্থক এবং ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ফলে এই পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়া অনেকের কাছে দেশের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন দীর্ঘদিন ধরে “বেবাস-আক্তিফ” বা স্বাধীন ও সক্রিয় নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। শীতল যুদ্ধের সময় দেশটি নিরপেক্ষ জোট আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল এবং বড় শক্তির ব্লকের বাইরে থেকে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে।

এই ঐতিহ্যের আলোকে অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। মানবাধিকার সংগঠন “ইন্দোনেশিয়া ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটি”-এর পরিচালক সারবিনি আবদুল মুরাদ বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ার প্রতিক্রিয়া আরও শক্ত হওয়া উচিত ছিল।

বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের অবস্থান অনেকের কাছে অস্পষ্ট বলে মনে হয়েছে। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian-এর কাছে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরেও ইরান নিয়ে জনমত জটিল। দেশটির প্রায় ২৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ মুসলিম এবং তাদের অধিকাংশই সুন্নি। অন্যদিকে ইরান বিশ্বের বৃহত্তম শিয়া রাষ্ট্র। ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও অনেক ইন্দোনেশিয়ান ইরানের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রকাশ করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সহানুভূতি সবসময় ধর্মীয় সংহতির কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জনমতেরও একটি প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ইন্দোনেশিয়ান ইরানের প্রতি সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা প্রকাশ করেছেন।

তবে ফিলিস্তিন ইস্যুর মতো বড় আকারের রাস্তায় বিক্ষোভ এখনো দেখা যায়নি। বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়া সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ জনমত এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যুগুলো সামলানো সহজ কাজ নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ তাই শুধু আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রশ্ন নয়; এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাকেও নতুন করে পরীক্ষা করছে।


মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর: লেবাননে ১২ নিহত, ইরানে নতুন হামলা

ইসরাফিল আলম
ইসরাফিল আলম
ডেস্ক রিপোর্টার (মধ্যপ্রাচ্য)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ১৩:২১:৪১
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর: লেবাননে ১২ নিহত, ইরানে নতুন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের পূর্বাঞ্চল ও ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে একাধিক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এতে করে আঞ্চলিক সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হয়ে বৃহত্তর যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার নাবি শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৩৩ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যাই বেশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এই হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন লেবানন ধীরে ধীরে বৃহত্তর মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে পরিণত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে ব্যাপক পরিসরে বাধ্যতামূলক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে এসব এলাকা থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি লেবাননে নতুন মানবিক সংকট তৈরি করছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

একই সময়ে ইরানেও নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের কেন্দ্রীয় প্রদেশ ইসফাহানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসফাহান প্রদেশের গভর্নরের দপ্তরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আকবর সালেহি জানিয়েছেন, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান ইসফাহান শহরসহ প্রদেশটির আরও সাতটি শহরে হামলা চালিয়েছে।

এই হামলার ফলে ইসফাহান শহর ছাড়াও লেনজান এবং বোরখার অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ৮০টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। অনেক স্থানে আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ইতোমধ্যেই বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে লেবানন, সিরিয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলগুলোও এই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে মানবিক সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি আঞ্চলিক সামরিক সংঘর্ষ নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।


সৌদি আরবের তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ১২:১১:২৫
সৌদি আরবের তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এবার সৌদি আরবের তেলের খনি পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের একটি তেলের খনি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে সৌদি আরবের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে ইরানের ড্রোনগুলো শায়েবাহ তেল খনিকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছিল। তবে সৌদি সামরিক বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মোট ৬টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দেয়, ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুধু তেলের খনি নয়, সৌদিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ‘প্রিন্স সুলতান এয়ারবেইস’ লক্ষ্য করেও ইরান একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে সেটিও দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী উত্তজনা থেকে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে এ বিষয়ে সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরপরই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে তাদের আক্রমণ শুরু করে।

বর্তমানে ইরান এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে নিয়মিতভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। সৌদি আরবে সাম্প্রতিক এই হামলা সেই প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


আজ রাতেই ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণের আলটিমেটাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ১১:৩৯:২০
আজ রাতেই ইরানে ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণের আলটিমেটাম
ছবি : সংগৃহীত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার সংঘাত আজ শনিবার (৭ মার্চ) অষ্টম দিনে পদার্পণ করেছে। দুই দেশের যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের ওপর হামলার মাত্রা আরও তীব্র করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরান পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান থামবে না। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট জানান, আজ রাতেই ইরানের ওপর মার্কিন ইতিহাসের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো। তিনি দাবি করেন, এই সুপরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর করে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের তিন হাজারেরও বেশি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্ট্রাল কমান্ড উল্লেখ করেছে, গত শুক্রবার ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ৪৩টি জাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানের প্রথম ধাপেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্তত ৪৯ জন শীর্ষস্থানীয় নেতার নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে তারা।

মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইনের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা প্রায় ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার নাগাদ এই সক্ষমতা আরও ২৩ শতাংশ কমেছে। সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অভিযান ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

/আশিক


তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া: বিমানবন্দরের ভেতরে জ্বলছে সারিবদ্ধ বিমান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ১০:৩২:৫৭
তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া: বিমানবন্দরের ভেতরে জ্বলছে সারিবদ্ধ বিমান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার সংঘাত আজ শনিবার (৭ মার্চ) সপ্তম দিনে পদার্পণ করেছে। দুই দেশের যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে হামলার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মসমর্পণ না করবে, ততক্ষণ এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরের কাছে বিকট শব্দে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং এর পরপরই চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। হামলার পর বিমানবন্দরের ভেতরে বেশ কিছু বিমানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা। তবে এই নির্দিষ্ট হামলায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল যে, তারা ইরানের ওপর দ্বিতীয় ধাপের আরও বড় ও ব্যাপক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। তেহরানের প্রধান এই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা সেই অভিযানেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সাত দিন ধরে চলমান এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতার সংকেত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ০৯:৩৮:১৫
মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতার সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া বিধ্বংসী যুদ্ধ এক সপ্তাহ অতিক্রম করেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় অনেক দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উভয় পক্ষের প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি।

গত শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের তেল আবিবে অবস্থিত বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় পাল্টা আক্রমণ করেছে। এই অভিযানে ইরান প্রথমবারের মতো তাদের নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে।

শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, রাডার সিস্টেম এবং নৌবহরগুলোকেও নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে তেহরান। সম্প্রতি সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে, যদিও দেশগুলো দাবি করেছে তারা অধিকাংশ ড্রোন আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। কুয়েতে ইরানের হামলায় একজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে এবং যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট তিনজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

বিশ্বের অন্যতম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার তাদের এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা ইরানের সার্বভৌমত্বকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়েছে, কোনো ধরনের মধ্যস্থতার আগে তাদের এই পরিণতির কথা মাথায় রাখতে হবে।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ইরানের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুমকি দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো মার্কিন, ইউরোপীয় বা ইসরায়েলি জাহাজ দেখা গেলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই যুদ্ধ নিয়ে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন এবং ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেননি। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ দাবি করেছেন, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণে ভারত শোক প্রকাশ করলেও হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সরাসরি কোনো নিন্দা জানায়নি। অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে; দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে প্রতি সপ্তাহে এই ক্ষতির পরিমাণ ৯ বিলিয়ন সেকেল।

ইরান তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর আওতায় ইসরায়েলে ২২তম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। খুররম শাহর ৪, খাইবার ও ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেল আবিব ও হাইফার সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে দেশটিতে আহতের সংখ্যা ১ হাজার ৬১৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি কুয়েত ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডান ও আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক 'থাড' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান। সৌদি আরবও তাদের সীমান্ত এলাকায় একাধিক ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর নিশ্চিত করেছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও অত্যন্ত ভয়াবহ। গত সাত দিনের হামলায় দেশটিতে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৬৮ জনই স্কুলগামী শিশু। হামলায় ১১টি হাসপাতাল ও অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ৩ হাজার ৬৪৩টি বেসামরিক স্থাপনা এবং ৩ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। বিশেষ করে শিরাজ ও কোমে ভয়াবহ হামলার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান থেকে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোকে তিনি বদলে দিতে চান। তবে এই মুহূর্তে দেশটিতে মার্কিন পদাতিক সেনা পাঠানোকে তিনি সময়ের অপচয় বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করেছেন যে, সামনের দিনগুলোতে ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়বে।

লেবানন সীমান্ত দিয়ে হিজবুল্লাহর অব্যাহত হামলা ইসরায়েলকে নতুন দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যার পরেও তাদের সামরিক সক্ষমতা বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েল লেবাননের বৈরুত ও সিডনসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালাচ্ছে, যেখানে এক সপ্তাহে অন্তত ২১৭ জন নিহত হয়েছেন। এরই মধ্যে লঙ্কান উপকূলে আটকে পড়া একটি ইরানি জাহাজ থেকে ২০৮ জন ক্রুকে উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে, রয়টার্সের দাবি অনুযায়ী, ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার পেছনে মার্কিন বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে চীনের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে।

ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষ করে জার্মানি ও স্পেন এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও একটি মারাত্মক ভুল হিসেবে অভিহিত করেছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, খামেনির ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ধ্বংসে তারা ৫০টি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল। পরিস্থিতির ভয়াবহতার মধ্যেও তেহরানে জনজীবন স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

/আশিক


“প্রায় সীমাহীন অস্ত্র মজুত” দাবি, তবু উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ০৫:১০:০০
“প্রায় সীমাহীন অস্ত্র মজুত” দাবি, তবু উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পথে ভহাঁটছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে “এক্সকুইজিট ক্লাস” বা অত্যাধুনিক মানের অস্ত্র উৎপাদন চারগুণ পর্যন্ত বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই উৎপাদন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শিল্প অবকাঠামো তৈরির কাজ আসলে তিন মাস আগেই শুরু হয়ে গেছে এবং ইতোমধ্যে নতুন কারখানা নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্র উৎপাদনের সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাতে চায়। তাঁর ভাষায়, “আমরা খুব দ্রুত এমন একটি পর্যায়ে যেতে চাই, যেখানে উৎপাদনের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।”

তবে একই পোস্টে ট্রাম্পের আরেকটি মন্তব্য বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন প্রশ্নও তুলেছে। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বর্তমানে “প্রায় সীমাহীন” বা কার্যত অশেষ পরিমাণ গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রভাণ্ডারের একটি অংশ ইতোমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই বক্তব্য একসঙ্গে দিলে একটি কৌশলগত বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছেন, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, আধুনিক যুদ্ধে শুধু অস্ত্রের মজুত নয়, বরং দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহের সক্ষমতাই প্রকৃত শক্তি নির্ধারণ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির সামরিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন, নর্থরপ গ্রুম্যান ও জেনারেল ডায়নামিকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বব্যাপী অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রযুক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এই শিল্পকে আরও দ্রুত সম্প্রসারণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো উপলব্ধি করেছে যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে গোলাবারুদ ও অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা সামরিক জোটগুলো প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এই কৌশলকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু অস্ত্র মজুত থাকলেই চলবে না; দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য তাই কেবল একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়; বরং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে সতর্ক বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোকেও জানাতে চাইছে যে তাদের সামরিক সহায়তার সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদেও অটুট থাকবে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধির এই প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে: আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের শক্তি নয়, বরং শিল্প, প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


বাহরাইনে ইসরায়েলি দূতাবাসে ইরানের ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১১:০৯:৪৭
বাহরাইনে ইসরায়েলি দূতাবাসে ইরানের ড্রোন হামলা
ছবি : সংগৃহীত

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় ইসরায়েলি দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাতে মানামার ‘ফাইন্যান্সিয়াল হারবার টাওয়ারস’ নামের ওই বাণিজ্যিক ভবনে এই আক্রমণ চালানো হয়। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটিতে ইসরায়েলি দূতাবাস অবস্থিত হওয়ার কারণেই সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরান এই হামলাকে সরাসরি ইসরায়েলি স্বার্থের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটির কাছাকাছি এলাকায় একটি ইরানি ড্রোন শনাক্তের পর সেটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। লেবাননের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা ইসরায়েলি স্থল সেনাদের পাশাপাশি ইসরায়েলের সমুদ্রবন্দরেও এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের যোদ্ধারা লেবানন সীমান্তের মারউন আল-রাস এবং কাফার কিলা এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া অধিকৃত গোলান মালভূমির ‘ইয়োভ’ সামরিক ক্যাম্প এবং হাইফা বন্দরের একটি নৌঘাঁটিও এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

যদিও এই হামলায় হতাহতের কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি, তবে অভিযানের আগে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের এলাকা ত্যাগের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

/আশিক


মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১০:৫৭:২৭
মৃত্যুপুরী তেহরান: মহামারির চেয়েও ভয়ংকর নীরবতা
ছবি : সংগৃহীত

তেহরান এখন মৃত শহর। মহামারির দিনের মতোই ফাঁকা। ভিপিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রবেশ করা এক নাগরিক এ তথ্য বিবিসিকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যস্ততম এলাকা ইরানশাহর স্ট্রিটে বেশির ভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে।

ওই বাসিন্দা বলেন, ‘এটা একটা অদ্ভুত অনুভূতি– কিছু দিক দিয়ে মহামারির দিনের মতোই। সবাই ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছে। তারা জানে না, পরবর্তী সময় কী হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে আমরা জানি, আজ হোক কাল হোক, এটা শেষ হবে। জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ছবি ও ভিডিও তোলা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ইরানশাহর রাস্তার একটি স্ন্যাপশট তিনি শেয়ার করেছেন। এটি সেই একই জায়গা, যেখানে কয়েক মাস আগে একটি রক ব্যান্ড গান গেয়ে ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার শিল্পীদের সংগীত পরিবেশন নিষিদ্ধ করে।’

আরেকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিবিসিকে জানান, তিনি পাঁচ দিন পর তাঁর বাড়ি ছেড়ে তেহরানের নাফত স্ট্রিট দিয়ে হেঁটেছেন। এটি একটি আবাসিক এলাকা। গত সোমবার রাতে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসকার্নমেন্ট কাউন্সিলের প্রশাসনিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সড়কে নিরাপত্তা বাহিনী কাছাকাছি চেক পয়েন্ট স্থাপন করেছে। সৌভাগ্যবশত তারা তাঁকে থামায়নি। কাছের ইরানশাহর স্ট্রিট ছিল সম্পূর্ণরূপে মৃত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক সংখ্যক বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবার ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইসরায়েলের দিকে। গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ইরানে এক হাজার ৪৫ জনসহ বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৩৩৮ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান রোধের প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে ৫৩-৪৭ ভোটে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি দেখবে। তেহরানে শুধু মৃত্যু ও ধ্বংস দৃশ্যমান হবে। ইরান তার নাগরিকদের পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা বাড়িয়েছে ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৪৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইরানে ১৭৫ স্কুলছাত্রীসহ এক হাজার ২৩০ জন। ইসরায়েলে ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭-এ। এ ছাড়া বাহরাইনে একজন, কুয়েতে দুই কুয়েতি সেনাসহ তিনজন, ওমানে একজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য, সিরিয়ায় চারজন এবং ইরাকে ১১ মিলিশিয়াসহ ১৩ জন। ইরানে হামলায় সমর্থন দেওয়ায় ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। তেহরানের নেতৃত্ব এখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা এখন অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছি এবং ইরানের নেতৃত্ব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। যারা সেখানে নেতা হতে চাচ্ছেন, দেখা যাচ্ছে তাদের সবারই মৃত্যু হচ্ছে।’

ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাঝেমধ্যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কেবল রাজধানী নয়, দেশের অন্যান্য শহর থেকেও সামরিক সদরদপ্তর ও রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং ছয় হাজারের বেশি মানুষ আহত।

বৃহস্পতিবার আজারবাইজানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইরান এ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তর উপসাগরে একটি ট্যাঙ্কারে হামলা করার দাবি করেছে ইরান। ট্যাঙ্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করেছে তেহরান। তুরস্কের আকাশসীমায় ঠেকিয়ে দেওয়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের ঘটনার ব্যাপারেও ইরান অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইরাক সীমান্তে ‘কুর্দি সন্ত্রাসী’দের উপস্থিতির ব্যাপারে বাগদাদকে সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমার বাইরে ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ডুবিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নৃশংসতা ঘটিয়েছে। এ জন্য তাদের অনুশোচনা করতে হবে। তবে ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি বলেছেন, জীবন ও নিরাপত্তার ক্ষতি করে সামরিক উত্তেজনার অংশ হওয়া আমাদের উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইরানে দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে দেশটির শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। লেভিট বলেন, এই অভিযানের ফলে ইরানের আকাশসীমার সর্বত্র এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। লেভিট জানান, অভিযানে ইরানের ২০টি নৌযান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ডুবিয়ে দেওয়া একটি সাবমেরিনও রয়েছে।

ইরানের পাল্টা হামলা অব্যাহত এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ১৭ ও ১৮তম দফার হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, তারা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশটির বেশ কিছু উন্নত রাডার সিস্টেমকে সফলভাবে নিশানা করেছে। এ ছাড়া কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আরিফজানে মার্কিন বাহিনীর ওপর আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরান গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর জেরে লাখো ইসরায়েলি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এএফপি বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। জেরুজালেমেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণার পর নৌরুট এড়িয়ে চলছে পণ্যবাহী জাহাজ। ইসরায়েলে ইরানি হামলার খবর দিয়েছে বিবিসি। তেল আবিব ও জেরুজালেমে হামলার সতর্কতা হিসেবে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। আকাশ হামলা প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।

আলজাজিরা জানায়, কাতার, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বাহরাইন প্রতিরক্ষা বাহিনী ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ৭৫টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২৩টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। এখানকার মার্কিন দূতাবাসের কাছের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে কাতার।

আইআরজিসির নৌবাহিনী গতকাল সকালে উত্তর উপসাগরে একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এ অঞ্চলে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের অবশ্যই আঘাত করা হবে। আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আমরা আগেই বলেছিলাম, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে ইরানের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, কুয়েত উপকূলে একটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সব ক্রু নিরাপদে আছেন।

মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী এখন পর্যন্ত ইরানের ১০৫টি বেসামরিক স্থানে আক্রমণ করেছে। ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে তারা ইরানে এক হাজার ৩৩২টি আক্রমণ রেকর্ড করেছে। এগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ১০৫টি বেসামরিক স্থানে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি চিকিৎসাকেন্দ্র ও সাতটি রেড ক্রিসেন্ট ভবন অন্তর্ভুক্ত। ইরানের ১৭৪টি শহরে হামলা হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় এক পরিবারের চার সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। ইরানের কোমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় হামলা করেছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গতকাল ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন আটজন। দেশটিতে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। ৩২০টির বেশি স্থানে হামলা হয়েছে। যুদ্ধের সময় ৩০০টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ১১ হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, ইরানের জনগণকে ইচ্ছা করে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিন হাজার ৬০০টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন ওড়াউড়ি করছে দুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি বাগ্‌যুদ্ধও চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল এক্স পোস্টে বলেছেন, ইরানের কার্যকর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র বেদনাদায়ক ক্ষতি ভোগ করেছে। ওয়াশিংটনের ‘কোনো প্রস্থান পরিকল্পনা নেই’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, ইরান আগ্রাসন পরিচালনাকারীদের শেষ শাস্তি না দেখা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। এর আগে বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি পিট হেগসেথ ইরানের নেতাদের ‘অহংকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ এ লড়াই চালিয়ে যাব।’ অন্যদিকে ইরানি জেনারেল কিওমারস হায়দারি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইরান তার লক্ষ্য অর্জন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর আঘাত না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পরিত্যাগ করবে না।

আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাখচিভান এক্সক্লেভের একটি বিমানবন্দরে দুই ড্রোন আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে এ হামলার জন্য ইরানকে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, আজারবাইজান তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ড্রোন ইরান সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে পড়ে। আরেকটি পড়ে নিকটবর্তী গ্রামের একটি স্কুল ভবনের কাছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই ড্রোন হামলার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আজারবাইজান।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, চলমান যুদ্ধের সময় রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র পাঠানোর জন্য কোনো অনুরোধ পায়নি। মস্কো ইরানকে অস্ত্রসহ বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ আসেনি। অবশ্য ইরান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে।রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আরব দেশগুলোকে যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইউরোপীয় দেশগুলো সেখানে যুদ্ধসরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো সংসদকে জানিয়েছেন, আগামী দিনে দ্বীপটিকে রক্ষা করার জন্য ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাদ্রিদ একটি ফ্রিগেট পাঠাবে। ফ্রান্সও এতে যুক্ত হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ অর্থনীতির ক্ষতি করছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা শেষ করা উচিত।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ঘোষণা দিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘সামরিক সরঞ্জাম’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। যুক্তরাজ্য আরও চারটি টাইফুন জেট পাঠাচ্ছে কাতারে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ ঘোষণা দেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সতর্কতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলাফল তাদের ভোগ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি ছিল। ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার এক্স পোস্টে আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে খারাপ নজির স্থাপন করেছে, তার জন্য তারা তীব্র অনুশোচনা করবে। বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ‘আইআরআইএস দিনা’ নামের ইরানি যুদ্ধজাহাজে সাবমেরিন থেকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে জাহাজটি ডুবে যায়।শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ঘটনায় তারা ৮৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ৩২ জনকে। জাহাজটিতে ১৮০ জনের মতো আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ। তিনি বলেন, ইরানের হুমকির কারণে সেখানে বিপুল সংখ্যক নাবিক আটকা পড়েছেন। ফলে ওই অঞ্চলে নৌ-বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে বিভিন্ন প্রমোদতরীর আরও প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারে মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেবেন ট্রাম্প।

উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির (পিএকে) কর্মকর্তা খলিল নাদিরি জানান, তাদের বাহিনী সুলাইমানিয়া প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। তারা প্রস্তুত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দি বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়কে সমর্থন করেছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘কুর্দিরা উদ্যোগ নিতে চায়; আমি এর পক্ষে।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে অন্তত ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যার মধ্যে গত কয়েক দিনে তেহরান থেকে পালিয়ে যাওয়া আনুমানিক ১ লাখ মানুষ, লেবাননে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া ৮৪ হাজারেরও বেশি এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আসা যে কোনো হামলা থেকে জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রক্ষা করার জন্য ন্যাটো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের বৈঠকের পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এ কথা জানান।

/আশিক


বিক্ষোভ দমন ও নিষেধাজ্ঞা: বিতর্ক সঙ্গী করেই ইরানের সামরিক কমান্ডে আহমদ বাহিদি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১০:৩৮:২৪
বিক্ষোভ দমন ও নিষেধাজ্ঞা: বিতর্ক সঙ্গী করেই ইরানের সামরিক কমান্ডে আহমদ বাহিদি
ছবি : সংগৃহীত

রানের সামরিক কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী পদ হলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রধান। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ বাহিদি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্যেই তিনি এ দায়িত্ব নেন, যা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে হামলায় ইরানের অনেক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আইআরজিসির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও রয়েছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই নিহত হন। তার আগে আইআরজিসি প্রধান ছিলেন হুসাইন সালামী, যিনি ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।

এর আগেও আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্ব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সংস্থাটির কুদস ফোর্সের দীর্ঘদিনের কমান্ডার কাশেম সুলেমানী ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন। ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসির শুরুর দিক থেকেই যুক্ত ছিলেন আহমদ বাহিদি। ১৯৮০–এর দশকে তিনি গোয়েন্দা ও সামরিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইআরজিসির কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। পরে ওই দায়িত্ব পান সোলাইমানি।

যুদ্ধ শুরুর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনী তাকে আইআরজিসির উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। যুদ্ধের প্রথম দিন হামলায় খামেনি নিহত হন বলে জানা যায়। বাহিদি প্রকাশ্যেই ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইসলামী বিপ্লবকে রক্ষা করা বিশ্বের অন্যতম বড় গুণ।’

বাহিদি শুধু সামরিক কর্মকর্তা নন; তিনি রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আহমেদিনেজাদ সরকারের সময় তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও প্রশাসনিক উভয়ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ হওয়ায় যুদ্ধকালীন সময়ে আইআরজিসির নেতৃত্ব দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তবে বাহিদির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও রয়েছে। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ইন্টারপোল ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছিল। ওই হামলায় ৮৫ জন নিহত হন। ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি ভিত্তিহীন। এ ছাড়া ২০২২ সালে মাশা আমিনীর মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় বাহিদির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের মধ্যে ইরানের অনেক শীর্ষ নেতা ও অভিজ্ঞ কমান্ডার নিহত হওয়ায় আইআরজিসিকে নতুন করে সংগঠিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কিছু সামরিক ইউনিট এখন অনেকটাই স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছে। ফলে সমন্বয় বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আইআরজিসির বিকেন্দ্রীভূত কাঠামো সমন্বয় করে যুদ্ধ পরিচালনা করাই হবে আহমদ বাহিদির প্রধান দায়িত্ব। তারা বলছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা অনেকটাই নির্ভর করছে আইআরজিসির সক্ষমতার ওপর।

/আশিক

পাঠকের মতামত: