আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা দিল আলজেরিয়া, ডাচদের হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের আগে হুংকার

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১২:৪৯:০৫
আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা দিল আলজেরিয়া, ডাচদের হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের আগে হুংকার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল মঞ্চে মাঠে নামার আগে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তিনবারের রানার্সআপ পরাশক্তি নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বড়সড় চমক দেখিয়েছে আফ্রো-আরব দেশ আলজেরিয়া। ডাচদের ঘরের মাঠ রটারডামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল তারা। বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন হার নিশ্চিতভাবেই ডাচ শিবিরের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ এবারের আসরে তাদের অন্যতম ফেভারিট মনে করা হচ্ছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেদারল্যান্ডস স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে এবং মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে। তবে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ প্রথমার্ধ থেকেই ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত। ডাচদের সব আক্রমণ প্রতিহত করে সময় বাড়ার সাথে সাথে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে আলজেরিয়া। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় শেষ মুহূর্তে, ৮৬তম মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে বল পেয়ে আলজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আনিস হজ মুসা ডি-বক্সের ভেতরে কাট-ইন করে বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত কার্লিং শটে বল জালে জড়ান। ডাচ গোলরক্ষককে পরাস্ত করা এই চোখধাঁধানো গোলটিই শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়াকে ঐতিহাসিক এক জয় এনে দেয়।

এই জয়টি বিশ্বকাপের গ্রুপ 'জে'-তে থাকা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্যও একটি আগাম সতর্কবার্তা। একই গ্রুপে আলজেরিয়ার পাশাপাশি রয়েছে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। ডাচদের বিপক্ষে আলজেরিয়ার এমন লড়াকু পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদেরও চড়া মূল্য চোকাতে হতে পারে।

/আশিক


১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১৮:৩১:৫৯
১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবার ফুটবলের সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার পর এবার নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামবে লা ফুরিয়া রোজা। ট্রফি জয়ের এই অন্তিম লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ইউরো কাপ বিজয়ী স্পেন এবং কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যকার এই হাইভোল্টেজ দ্বৈরথকে ফুটবল দুনিয়ার অনেকেই এখন একটি অঘোষিত ‘ফাইনালিসিমা’র আবহে দেখছেন।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল অবশ্য চলতি বিশ্বকাপের শুরুটা খুব একটা স্বপ্নের মতো করতে পারেনি। তবে প্রথম ম্যাচের সেই চরম হতাশা ও ধাক্কা কাটিয়ে উঠে একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিদায় করে এখন তারা বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছে।

গ্রুপ পর্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, 'এইচ' গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল স্পেনকে। পুরো ম্যাচে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ২৭টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্প্যানিশরা। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো পারফরম্যান্সের কাছে আটকে যায় ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের সব আক্রমণ।

তবে প্রথম ম্যাচের এই খরা কাটিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজেদের চিরচেনা ও আক্রমণাত্মক রূপে ফেরে স্পেন। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আত্মবিশ্বাস পুনরুত্থান করে তারা। তরুণ বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালের জাদুকরী গোলে শুরু হওয়া সেই ম্যাচে দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারিয়াসাবালের জোড়া গোল এবং একটি আত্মঘাতী গোলের ওপর ভর করে স্পেন বড় জয় তুলে নেয়। এরপর গ্রুপের শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেন। ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন আলেক্স বায়েনা।

নকআউট পর্বে পা রেখেই স্পেনের সামনে আসে একের পর এক বড় বাধা। প্রথম নকআউট ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামে তারা। দুর্দান্ত ও ক্ষুরধার আক্রমণ এবং ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের মেলবন্ধনে অস্ট্রিয়ানদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় লা ফুরিয়া রোজা। দলের পক্ষে মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল আবারও জোড়া গোল করেন এবং স্প্যানিশ রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কার্যত কোনো গোলমুখী সুযোগই তৈরি করতে দেয়নি।

পরবর্তী রাউন্ডে অর্থাৎ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালের মুখোমুখি হয় স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেখানে ৯১ মিনিটের মাথায় মিকেল মেরিনোর করা এক জাদুকরী গোলে ১-০ ব্যবধানের নাটকীয় জয় পায় স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও একই রকম শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ ও নাটকীয়তা দেখা যায়। সেখানেও মিডফিল্ডার মেরিনোর সমীকরণ নির্ধারণী গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

সেমিফাইনালের মেগা ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে স্তব্ধ করে দিয়ে ফাইনালের মঞ্চে আরোহণ করে স্পেন। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের পায়ে রাখা, নিখুঁত দ্রুত পাসিং ও সুসংগঠিত আক্রমণের মাধ্যমে ফরাসিদের ওপর পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে খেলে দে লা ফুয়েন্তের দল। মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল ও পেদ্রো পোরোর প্রথমার্ধের দুই গোলে ফ্রান্সকে আসর থেকে বিদায় করে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখে স্পেন। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগও সেদিন স্পেনের শক্তিশালী ডিফেন্স লাইনে ফাটল ধরাতে পারেনি।

বিশ্বকাপের এই মহাকাব্যিক শেষ লড়াইয়ে এবার স্পেনের সামনে অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন ও বড় পরীক্ষা। শিরোপারক্ষার মঞ্চে তাদের প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যার মাঠের ও মনের নেতৃত্বে রয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক লিওনেল মেসি।

একদিকে লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল ও মিকেল মেরিনোদের নিয়ে গড়া স্পেনের টগবগে তরুণ ও গতিময় শক্তি, অন্যদিকে লিওনেল মেসির পর্বতসম অভিজ্ঞতা এবং আর্জেন্টিনার চেনা জয়ের লড়াকু মানসিকতা; সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই ফাইনাল ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন প্রজন্ম এবং দুই ঘরানার ফুটবল দর্শনের এক অনবদ্য মহারণ। ১৬ বছর পর শিরোপার এত কাছে এসে স্পেন কি তাদের দ্বিতীয় সোনালী ট্রফিটি ঘরে তুলতে পারবে, নাকি মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট অক্ষুণ্ণ রাখবে—তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে রোববারের এই মেগা ফাইনাল শেষে।

/আশিক


১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১৮:২৬:২২
১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত মহারণের বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে চলমান টুর্নামেন্টের সার্বিক গতিপ্রকৃতি, অভূতপূর্ব গোলবন্যা এবং মাঠের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ ও খোলামেলা বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফুটবল কিংবদন্তি টোবিন হিথ।

২০০৮ ও ২০১২ সালের অলিম্পিক গেমসে স্বর্ণপদক বিজয়ী এবং ২০১৫ ও ২০১৯ সালের নারী বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করা এই তারকা এবার পুরুষ বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনন্য এক নজির গড়েছেন। তিনি ২০২৬ পুরুষ বিশ্বকাপের ফিফা টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের একমাত্র নারী বিশ্লেষক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক একান্ত ও বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি চলতি বিশ্বকাপের বিভিন্ন চমকপ্রদ দিক নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

টোবিন হিথ তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, চলতি ফুটবল মহাযজ্ঞের ১০৩টি ম্যাচ শেষে এখন পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে রেকর্ডসংখ্যক ৩০৭টি গোল হয়েছে, যার গাণিতিক গড় হিসাব করলে প্রতি ম্যাচে গোলসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩টি। ফুটবল ইতিহাসের এই অভূতপূর্ব ও অবিশ্বাস্য গোলবন্যার পেছনে টুর্নামেন্টের পরিবর্তিত নতুন ফরম্যাট এবং দল সংখ্যা বৃদ্ধির যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটিকে প্রধান ও মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন হিথ।

তিনি জানান, আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত বিবর্তন ও আধুনিকায়ন এই আসরে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। মাঠের দলগুলো এখন প্রথাগত ফুটবল ছেড়ে উইং এবং ফুল-ব্যাকদের অত্যন্ত নিখুঁত ও আক্রমণাত্মক ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের অনেক ওপর থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত গতিতে কাউন্টার-প্রেস করার কৌশল দলগুলোর খেলায় দেখা যাচ্ছে। বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের সম্পূর্ণ ভিন্ন ফুটবলশৈলী ও ঘরানা এই টুর্নামেন্টে একে অপরের মুখোমুখি হওয়াতেই আসরটি বিশ্বজুড়ে সাধারণ দর্শকদের জন্য ভীষণ রোমাঞ্চকর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

এবারের ফুটবল আসরে আফ্রিকার মহাদেশের দলগুলোর প্রদর্শিত অদম্য সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই মার্কিন নারী তারকা। বিশেষ করে কেপ ভার্দে, মিশর ও আইভরি কোস্টের লড়াকু ফুটবল শৈলী তাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে। টুর্নামেন্টের ফাইনালে নাম লেখানো দুই বিশ্ব পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেনের বিরুদ্ধে মাঠের লড়াইয়ে কেপ ভার্দে যেভাবে বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সত্যিই অবিশ্বাস্য ও অভাবনীয়।

তুলনামূলক নিম্ন সারির রক্ষণভাগ নিয়েও পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে আফ্রিকার দলগুলোর এমন ভয়ডরহীন ও সাহসী ফুটবল প্রদর্শন আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য নারী বিশ্বকাপেও অত্যন্ত ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকারে হিথ অকপটে স্বীকার করেন যে, এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের নান্দনিক ফুটবল তাকে সবচেয়ে বেশি মানসিক উত্তেজনা ও রোমাঞ্চের মধ্যে রেখেছে। ফরাসি শিবিরের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমানে দেম্বেলেদের গতিশীল পাসিং ও আক্রমণভাগের নিখুঁত কম্বিনেশনকে তিনি আধুনিক ফুটবলের এক অভাবনীয় ও চমৎকার উদ্ভাবন হিসেবে আখ্যা দেন।

এর পাশাপাশি জুড বেলিংহাম, আর্লিং হালান্ড এবং লিওনেল মেসির মতো বিশ্বফুটবলের মহাতারকারা টুর্নামেন্টে নিজেদের নামের প্রতি শতভাগ পূর্ণ বিচার করেছেন বলে তিনি মনে করেন। মাঠের লড়াইয়ে তরুণ ও প্রবীণ—এই দুই প্রজন্মের ফুটবলারদের অসাধারণ মেলবন্ধনের কারণে বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও সঠিক হাতে রয়েছে বলে তার গভীর বিশ্বাস।

স্পেন দলের তরুণ তুর্কিদের চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে গিয়ে হিথ বিশেষভাবে স্প্যানিশ রক্ষণভাগের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করেন। এত কম বয়সে স্পেনের মূল রক্ষণভাগে কুবার্সির এমন ঠান্ডা মাথার ও পরিপক্ব পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বের সবাইকে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

একই সঙ্গে মেগা ফাইনালের এই মহাসমর ও রণক্ষেত্রে স্পেনের আরেক তরুণ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালের বুট থেকে একটি জাদুকরী ও অতিমানবীয় মুহূর্ত দেখার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এর পাশাপাশি, ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেভাবে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার মতো অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন, তাকে ‘অতিপ্রাকৃতিক’ বা অলৌকিক ঘটনা বলে বর্ণনা করেন টোবিন হিথ।

/আশিক


ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১৮:২২:০৯
ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্তিম শিরোপা নির্ধারণী মহারণের বাঁশি বাজতে আর মাত্র হাতেগোনা কয়েক ঘণ্টা বাকি। ফুটবল ক্যারিয়ারের চিরকাঙ্ক্ষিত ও ঐতিহাসিক শেষ বিশ্বকাপ ফাইনালের আঙিনায় দাঁড়িয়ে তীব্র আবেগ ও অনুভূতিতে ভাসলেন আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্পেনের বিরুদ্ধে মেগা ফাইনালে মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে নিজের প্রিয় সতীর্থ, বিশ্বস্ত কোচিং স্টাফ এবং পুরো আর্জেন্টিনা দলকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়স্পর্শী ও অনুপ্রেরণাদায়ী একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন আলবিসেলেস্তেদের এই মহানায়ক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই আবেগঘন বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে দলের সব খেলোয়াড় ও স্টাফদের সঙ্গে কাটানো একটি সুন্দর মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি লিখেছেন, দিনশেষে কেবল ট্রফি জেতা কিংবা চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই জীবনের সবকিছু নয়; বরং ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মূল্যবান ও শ্রেষ্ঠ দিক ছিল এই দীর্ঘ পথচলা, মাঠ ও মাঠের বাইরে একসাথে লড়াই করা এবং একটি একান্নবর্তী পরিবারের মতো প্রতিটি আনন্দ-বেদনার মুহূর্ত নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া।

ফুটবল জাদুকর মেসি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় দলের হয়ে কাটানো এতগুলো বছরের সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষক বিষয়টি কখনোই শুধু ট্রফি বা মেডেলের তালিকায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দলগতভাবে পাড়ি দেওয়া পুরো যাত্রাপথটাই ছিল তার জীবনের সেরা অনুভূতি। তিনি জানান, প্রতিদিন সকালে সতীর্থদের সাথে কঠোর অনুশীলন করা, কঠিন ও প্রতিকূল সময়গুলো এক হয়ে পার করা, জয় কিংবা পরাজয়ের অনুভূতি যৌথভাবে বুকে টেনে নেওয়া এবং প্রতিটি মুহূর্তকে মন থেকে উপভোগ করাই মূলত ফুটবলার হিসেবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই অন্তিমলগ্নে এসে নিজের জাতীয় দলের সব সতীর্থ, পর্দার অন্তরালের কোচিং স্টাফ এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত প্রতিটি কর্মীর প্রতি গভীর ও বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই জীবন্ত কিংবদন্তি। মেসি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যারা প্রতিদিন প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নীরবে-নিভৃতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দলটিকে একটি অভিন্ন ও মজবুত পরিবারের রূপ দিয়েছেন, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে তাদের অবদান চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ফাইনালে ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল ঠিক কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি কোনো মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা নিজের মাথায় নিতে চান না মেসি। তার গভীর বিশ্বাস, বর্তমান এই আলবিসেলেস্তে দলটি ইতিমধ্যে বিশ্বফুটবলের মঞ্চে এমন এক গৌরবময় ইতিহাস রচনা করে ফেলেছে, যা সময়ের আবর্তে কখনো ম্লান বা মুছে যাবে না। দলের এই অদম্য যাত্রা এবং একে অপরকে ঘিরে তৈরি হওয়া মধুর স্মৃতিগুলো আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্যে চিরকাল অমলিন ও দেদীপ্যমান হয়ে থাকবে বলেও তিনি বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন।

ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে ফুটবলার মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ; এমনকি এর মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের গৌরবময় অধ্যায়েরও চিরসমাপ্তি ঘটে যেতে পারে। তবে বহুল প্রতীক্ষিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধিনায়ক মেসি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে, বরং বর্তমানের এই সোনালী মুহূর্তটির ওপরই নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

/আশিক


মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১২:১২:৪২
মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল কেবল শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ নয়, ব্যক্তিগত সাফল্যের দিক থেকেও এটি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার মহারণে নির্ধারিত হবে টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতা কে হবেন এবং কার হাতে উঠবে মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন বুট। এই দৌড়ে বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে এখনও আশা শেষ হয়ে যায়নি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির। ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে শেষ মুহূর্তে তিনিও ছিনিয়ে নিতে পারেন এই ব্যক্তিগত সম্মান।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এমবাপ্পের ঝুলিতে রয়েছে ১০ গোল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছান এবং গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেন। অন্যদিকে ফাইনালের আগে মেসির সংগ্রহ ৮ গোল, ফলে তিনি রয়েছেন দ্বিতীয় অবস্থানে।

এই অবস্থায় ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মেসি যদি দুই গোল করেন, তাহলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হবে না। কারণ, তখন তার গোলসংখ্যাও দাঁড়াবে ১০-এ, যা এমবাপ্পের সমান। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোলসংখ্যা সমান হলে বিজয়ী নির্ধারণে একাধিক টাইব্রেকার প্রয়োগ করা হয়।

প্রথম টাইব্রেকার হিসেবে বিবেচনায় আসে অ্যাসিস্ট। বর্তমানে এমবাপ্পে ও মেসি দুজনেরই রয়েছে চারটি করে অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মেসি যদি শুধু দুই গোল করেন কিন্তু কোনো অ্যাসিস্ট না পান, তাহলে গোল ও অ্যাসিস্ট দুই ক্ষেত্রেই সমতা তৈরি হবে।

এরপর কার্যকর হবে দ্বিতীয় টাইব্রেকার, যেখানে বিবেচনা করা হবে কে কম সময় মাঠে থেকে এই পরিসংখ্যান অর্জন করেছেন। এই সূচকে বর্তমানে এগিয়ে রয়েছেন এমবাপ্পে। ফলে শুধু দুই গোল করলেই মেসির পক্ষে গোল্ডেন বুট জেতা কঠিন হয়ে পড়বে।

ফিফার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মেসির সামনে কার্যত দুটি বাস্তবসম্মত পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, ফাইনালে হ্যাটট্রিক করলে তার গোলসংখ্যা হবে ১১, যা এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে সরাসরি গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করবে। দ্বিতীয়ত, তিনি যদি দুই গোলের পাশাপাশি অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করেন, তাহলে গোলসংখ্যা ও অ্যাসিস্ট দুই দিক থেকেই এমবাপ্পেকে অতিক্রম করতে পারবেন।

এই লড়াইয়ের সঙ্গে আরও একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও জড়িয়ে আছে। মেসি ও এমবাপ্পে দুজনই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ফাইনালের প্রতিটি গোল, প্রতিটি পাস এবং প্রতিটি মুহূর্ত গোল্ডেন বুটের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

-রাফসান


বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম, ফ্রান্সের দুঃস্বপ্নের রাত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১০:৪৩:৩২
বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম, ফ্রান্সের দুঃস্বপ্নের রাত
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি কেবল একটি সান্ত্বনার লড়াই ছিল না, বরং তা ফ্রান্সের জন্য পরিণত হয়েছে এক দুঃস্বপ্নের রাতে। গোলের বন্যায় ভেসে যাওয়া এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে শুধু তৃতীয় স্থান হাতছাড়া করেনি ফরাসিরা, একই সঙ্গে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসেও যোগ করেছে একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। প্রথমার্ধে রক্ষণভাগের চরম দুর্বলতা এবং ধারাবাহিক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ড এমন আধিপত্য দেখায়, যা ফরাসি সমর্থকদের জন্য ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।

সেমিফাইনালে পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠে নেমেছিল দুই দল। ফলে ম্যাচটি নিয়ে শুরুতে খুব বেশি উত্তেজনা না থাকলেও খেলার প্রথম কয়েক মিনিটেই চিত্র বদলে যায়। মাত্র ৩ মিনিট এবং ১৬ মিনিটে দুটি দ্রুত গোল করে ইংল্যান্ড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। এতে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স, যারা নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।

ফরাসি ফুটবলের পরিসংখ্যানভিত্তিক মাধ্যম Stats du Foot-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই দুই গোল হজম করল ফ্রান্স। এর আগে সর্বশেষ ২০০৮ সালে রোমানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। এছাড়া বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল হজম করার ঘটনাও দীর্ঘ সময় পর আবার দেখতে হলো ফরাসিদের।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে এবং বুকায়ো সাকা আরও দুটি গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। বিরতিতে যাওয়ার আগেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। আন্তর্জাতিক বড় কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমার্ধেই চার গোল হজম করার মতো বিব্রতকর অভিজ্ঞতা এর আগে ফ্রান্সের হয়নি। ফলে ম্যাচের মধ্যবিরতিতেই সমর্থক ও বিশ্লেষকদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয় ফ্রান্স। ম্যাচের শুরুতেই অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৫৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা গোল করলে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা জাগে। পরে এমবাপ্পে ও ওসমান দেম্বেলে আরও একটি করে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনেন, যা ম্যাচকে আবারও রোমাঞ্চকর করে তোলে।

কিন্তু ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। ইংল্যান্ডের হয়ে বুকায়ো সাকা নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখেন, আর মাঝমাঠ থেকে জুড বেলিংহাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দলের আক্রমণে ধার বাড়ান। তাদের কার্যকর ফুটবলের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি ফরাসিরা। দশ গোলের অবিশ্বাস্য লড়াই শেষে ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা।

-রাফসান


ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ১০:১১:৫৩
ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
ছবি : সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি কূটনৈতিক বার্তা। আজ রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা দলের প্রতি প্রকাশ্যে শুভকামনা জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

টাইমস অব ইসরাইল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু এই শুভেচ্ছা বার্তা দেন। বৈঠকের সময় রাষ্ট্রদূত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত বার্তাও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন।

এর জবাবে নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট মিলেইকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি ইসরাইলের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পাশাপাশি তিনি আর্জেন্টিনার প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দেশটির প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে এবং বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের জন্যও তিনি আর্জেন্টিনা দলের সাফল্য কামনা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইল ও আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নেতানিয়াহুর এই শুভেচ্ছা বার্তাকেও অনেকেই কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন হওয়ায় ম্যাচটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে ম্যাচটিকে কেউ কেউ প্রতীকী দৃষ্টিকোণ থেকেও আলোচনা করছেন। তবে ফুটবল প্রতিযোগিতাটি ফিফার অধীনে একটি ক্রীড়া আয়োজন এবং দুই দলের লড়াই মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

এদিকে ফাইনালকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরে নানা ধরনের মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর পোস্টও ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষকরা এ ধরনের অনলাইন প্রচারণা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াই ঘিরে যেমন মাঠের উত্তেজনা তুঙ্গে, তেমনি মাঠের বাইরেও কূটনৈতিক শুভেচ্ছা, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাও সমানভাবে নজর কাড়ছে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।


ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৮ ২১:৩৫:৫৩
ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালের মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে নিজের দেশ স্পেনকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি ফুটবল ম্যানেজার ভিসেন্তে দেল বস্ক। ২০১০ সালে স্প্যানিশদের প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ের স্বাদ এনে দেওয়া এই মাস্টারমাইন্ডের মতে, আর্জেন্টিনা এমন এক বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ, যারা মাঠের লড়াইয়ে যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলতে পারে এবং নিমেষেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে ওস্তাদ।

স্পেনের প্রভাবশালী দৈনিক 'এল পাইস'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি দেল বস্ক বলেন, ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যেকোনো দলের জন্যই ভীষণ কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। আলবিসেলেস্তেদের সরাসরি 'ভীষণ ঝামেলার প্রতিপক্ষ' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরতে ঠিক কখন কী করতে হবে, সেই কৌশল লুইস স্কালোনির শিষ্যরা খুব ভালো করেই জানে।

চলমান আসরের সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত ফুটবল ও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ টেনে সাবেক এই স্প্যানিশ কোচ সতর্কবার্তা দেন। তিনি মনে করেন, মাঠের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় ফাইনালে স্পেনকে কিছুটা এগিয়ে রাখা গেলেও, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বিশাল অভিজ্ঞতা এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মানসিকতা সম্পর্কে স্প্যানিশদের অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী এই ফুটবল প্রবীণ অবশ্য স্পেনের এবারের আসরের ফুটবল শৈলীতেও বেশ মুগ্ধ ও সন্তুষ্ট। তিনি প্রশংসা করে বলেন, এই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই স্পেন সম্পূর্ণ নিজেদের পূর্বপরিকল্পনা ও কৌশল অনুযায়ী খেলেছে। মাঠে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার পাশাপাশি বর্তমান তরুণ স্প্যানিশ দলটি তীব্র চাপের মুখেও আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিরতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

আগামী রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় ফুটবলের বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। সারা বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন মুখিয়ে আছেন নিউইয়র্কের এই ব্লকবাস্টার ফাইনাল দেখার জন্য।

/আশিক


ইয়ামালকে থামানোর উপায় কী? স্কালোনি বললেন ‘রুমে তালা মেরে রাখা’

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৮ ২০:৩৫:০৮
ইয়ামালকে থামানোর উপায় কী? স্কালোনি বললেন ‘রুমে তালা মেরে রাখা’
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মহামূল্যবান শিরোপা নির্ধারণী মহারণের বাঁশি বাজার আগেই মাঠের বাইরে শুরু হয়ে গেছে কথার লড়াই ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। স্পেনের ফুটবলীয় আক্রমণের প্রধান সেনানি ও তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে নিষ্ক্রিয় করতে আর্জেন্টিনার রণকৌশল কী হবে—মেগা ফাইনালের আগে এমন এক প্রশ্নের জবাবে বেশ রসিকতা ছুঁড়ে দিয়েছেন আলবিসেলেস্তেদের হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি হাসতে হাসতে মন্তব্য করেন, ইয়ামালকে আটকানোর সবচেয়ে মোক্ষম ও সেরা উপায় হলো তাকে মাঠের বাইরে রাখা।

আগামী রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপসেরা পরাশক্তি স্পেন। হাইভোল্টেজ এই ট্রফি লড়াইয়ের আগে ফুটবল দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে স্পেনের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিন ইয়ামালকে নিয়ে, যার জাদুকরী ও চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স ইতিমধ্যে মন্ত্রমুগ্ধ করেছে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে।

শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচের আগের অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইয়ামালকে থামানোর কৌশল প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখোমুখি হন আর্জেন্টিনার কোচ। স্কালোনি স্বভাবসুলভ হাস্যরসের ছলে উত্তর দিয়ে বলেন, ‘ইয়ামালকে আটকানোর পথ? আমার তো ইচ্ছা করছে ওকে ওর হোটেলের রুমেই তালাবদ্ধ করে আটকে রাখি!’

রসিকতার পর্ব শেষ করে অবশ্য পরবর্তী সময়ে বেশ গম্ভীর কণ্ঠে স্প্যানিশ এই বিস্ময় বালকের ভূয়সী প্রশংসা করেন স্কালোনি। আর্জেন্টাইন বস উল্লেখ করেন, সে সত্যিই একজন অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য মাপের ফুটবলার এবং আধুনিক ফুটবলের জন্য এক অমূল্য সম্পদ। স্কালোনি মনে করিয়ে দেন যে ইয়ামাল এখনো বয়সে অনেক তরুণ এবং আগামী দিনে বিশ্বফুটবলকে আরও অনেক অবিশ্বাস্য ও সুন্দর মুহূর্ত উপহার দেওয়ার মতো পূর্ণ সামর্থ্য এই ফুটবলারের রয়েছে।

তবে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি স্পষ্ট করে দেন যে তারা কেবল এককভাবে ইয়ামালকে নিয়ে ভাবছেন না, বরং পুরো স্পেন দলকেই সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। তিনি প্রকাশ করেন যে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনস্থ স্প্যানিশ দলটিকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে আসছে তার শক্তিশালী কোচিং স্টাফ।

স্পেনের শক্তিমত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্কালোনি আবারও কৌতুকের আশ্রয় নিয়ে বলেন, ‘স্পেন দলের প্রতিটি বিষয়ই আমাদের ভাবনায় রাখছে। আমাদের তো এটাও চেষ্টা করা উচিত যেন স্পেনের প্রধান কোচকে খেলার দিন হোটেলেই রেখে আসা যায়!’ তার এই সরস মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে আবারও হাসির রোল ওঠে।

এর পরপরই তিনি দলের প্রস্তুতি নিয়ে সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলেন, গত ডিসেম্বর থেকেই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা স্পেনকে নিয়ে কাটাছেঁড়া করছেন, তবে তা অন্য দলগুলোর তুলনায় অতিরঞ্জিত কিছু নয়। ম্যাচের সব ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তারা মাঠের কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন। স্কালোনি মনে করেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিশ্লেষণ অনেক সময় দলের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্প্যানিশরা মাঠে ঠিক কীভাবে খেলে, সে সম্পর্কে তাদের খুব পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় স্কালোনিকে। চলমান বিশ্বকাপের এই ফাইনাল ম্যাচটিই মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হতে যাচ্ছে কি না—এমন কৌতূহলী প্রশ্নের জবাবে আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড বলেন, এই বিষয়ে তার নিজের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই এবং তিনি আগাম কিছু জানেন না। তিনি মন্তব্য করেন, মেসি সবসময়ই তাদের নতুন কোনো চমক উপহার দেয় এবং এই প্রশ্নের প্রকৃত উত্তর কেবল মেসি নিজেই দিতে পারবেন। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে মেসির সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবে কোনো কথা বা আলোচনা হয়নি বলেও তিনি পরিষ্কার জানান।

/আশিক


৮ গোলে মেসি-এমবাপ্পের সমতা, গোল্ডেন বুটের ফয়সালা হবে যেভাবে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৮ ২০:৩১:৪০
৮ গোলে মেসি-এমবাপ্পের সমতা, গোল্ডেন বুটের ফয়সালা হবে যেভাবে
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার 'গোল্ডেন বুট' জয়ের লড়াই এখন চূড়ান্ত ও রোমাঞ্চকর পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে। চলতি ফুটবল মহাযজ্ঞের আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে—শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল এবং সান্ত্বনার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। ফলে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব নিজের করে নিতে এখনও বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের তারকা ফুটবলার সমানে সমান লড়াইয়ে টিকে আছেন।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শেষে যদি একাধিক ফুটবলারের গোলসংখ্যা একদম সমান হয়, তবে একক বিজয়ী বেছে নিতে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্ধারিত বিশেষ টাইব্রেকার নীতি অনুসরণ করা হবে।

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে ইতিপূর্বে রোনালদো নাজারিও, মিরোস্লাভ ক্লোসা, হ্যারি কেইন এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো কিংবদন্তি ও তারকা স্ট্রাইকাররা এই অনন্য পুরস্কার নিজেদের শোকেসে তুলেছেন। চলমান আসরে হ্যারি কেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে সুযোগ রয়েছে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করার।

চলতি আসরের গোলদাতার তালিকায় এখন পর্যন্ত সমান ৮টি করে গোল করে যৌথভাবে সবার ওপরে অবস্থান করছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং ফ্রান্সের গতিশীল ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি ৮টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ৪টি গোল করিয়েছেন বা অ্যাসিস্ট করেছেন। এই দারুণ পরিসংখ্যানের ওপর ভর করে মেসি বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। তিনি কেবল নিজেই বল জালে জড়াননি, বরং দলের গোল তৈরিতেও রেখেছেন দূরদর্শী ভূমিকা। গোলসংখ্যা এক হলেও বেশি অ্যাসিস্ট করার এই সমীকরণ তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।

অন্যদিকে, ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে মেসির সমান ৮টি গোল করলেও অ্যাসিস্টের দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৩টি, যা মেসির চেয়ে ঠিক একটি কম। এর ফলে গোল্ডেন বুটের তালিকায় সাময়িকভাবে তিনি দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। তবে আসন্ন ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই ব্যবধান ঘুচিয়ে শীর্ষস্থান এককভাবে দখল করার বড় সুযোগ এখনও রয়েছে এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের সামনে।

ইংল্যান্ডের দুই তারকা ফুটবলার জুড বেলিংহাম এবং হ্যারি কেইনও গোল্ডেন বুট জয়ের গাণিতিক দৌড়ে টিকে আছেন। এই দুই ইংলিশ তারকার বর্তমান গোলসংখ্যা ৬টি এবং উভয়েই সতীর্থদের দিয়ে ১টি করে গোল করিয়েছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজেদের গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে তালিকার ওপরের দিকে যাওয়ার একটা শেষ সুযোগ থাকছে তাদের সামনে।

বিশ্বকাপ শেষে যদি একাধিক ফুটবলারের গোল এবং অ্যাসিস্টের সংখ্যাও হুবহু এক হয়ে যায়, তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী বিবেচ্য বিষয় হবে মাঠে কাটানো মোট সময় বা মিনিট। একই পরিমাণ গোল ও অ্যাসিস্ট করতে যে খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠে তুলনামূলক কম মিনিট খেলেছেন, টাইব্রেকারে তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ কম সময় মাঠে থেকে যারা বেশি কার্যকর ও নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখাতে পারবেন, গোল্ডেন বুট শেষ পর্যন্ত তার হাতেই উঠবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: