হাদি হত্যা মামলার বাদী জাবের কেন? প্রশ্ন তুললেন বোন মাসুমা হাদি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৫ ১৭:১৬:০৭
হাদি হত্যা মামলার বাদী জাবের কেন? প্রশ্ন তুললেন বোন মাসুমা হাদি

শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে ‘মিথ্যাচার’ ও ‘নোংরা প্রচারণা’ চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি পুরো ঘটনার পটভূমি তুলে ধরেন এবং মামলার বাদী নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মাসুমা হাদি লিখেছেন, ভাইয়ের হত্যা মামলার বাদী প্রসঙ্গে এতদিন তিনি কোনো কথা বলতে চাননি। কারণ, পরিবারের বিরুদ্ধে আরও বড় ষড়যন্ত্র হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার বাদী হওয়া নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করেছেন।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালেই ছিলেন

স্ট্যাটাসে ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিনের ঘটনাও তুলে ধরেন মাসুমা হাদি। তিনি জানান, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পরই তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর থেকে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও ভাইকে ছেড়ে কোথাও যাননি। এমনকি হাসপাতালের নিচতলাতেও নামেননি।

‘আমি উপস্থিত থাকাকালে জাবেরের স্বাক্ষর নেওয়া হলো কেন?’

মাসুমা হাদি প্রশ্ন তুলে বলেন, তিনি হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের লোকজন কেন আব্দুল্লাহ আল জাবেরের কাছ থেকে মামলার কাগজে স্বাক্ষর নিলেন, সেটির ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

তার দাবি, এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার প্রশ্ন করেছেন। তাকে জানানো হয়েছিল যে, ওসমান হাদির ভাই ওমর ফারুকের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি তখন চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত থাকার কথা বলেন এবং পরে আইনি বিষয় দেখার কথা উল্লেখ করেন।

মাসুমা হাদি বলেন, “ওই সময় ওমরের মানসিক অবস্থা কী ছিল, তা সবাই অনুভব করতে পারবেন। একই রিকশায় থাকা দুই ভাইয়ের একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আরেকটি গুলি বের হলে ওমরও হয়তো একই পরিণতির শিকার হতেন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর ওমরের পোশাক, হাতের ঘড়ি এমনকি শরীরেও ওসমান হাদির রক্তের দাগ লেগে ছিল।

‘কার অনুমতিতে জাবের বাদী হলেন?’

মামলার বাদী নির্ধারণের বিষয়ে মাসুমা হাদি বলেন, “জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তাহলে হয়তো কোনো প্রশ্নই থাকত না। কিন্তু ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে, সেটা যারা তাকে চিনেন সবাই জানেন।”

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা না করে কিংবা তার অনুমতি ছাড়া কীভাবে জাবের মামলার বাদী হলেন, সেটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

ওমরকে ঘিরে সমালোচনারও জবাব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসমান হাদির ভাই ওমর ফারুককে ঘিরে কিছু সমালোচনারও জবাব দেন মাসুমা হাদি।

তিনি জানান, ওমর যে ঘড়ি, ব্লেজার বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, সেগুলো বহু বছর আগে কেনা। সাম্প্রতিক সময়ে অর্জিত কোনো বিলাসী সম্পদ নয়। এ নিয়ে ‘না জেনে নোংরামি না করার’ আহ্বান জানান তিনি।

চিকিৎসার উদ্যোগ প্রথমে নিয়েছিলেন ওমর

ওসমান হাদির চিকিৎসা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মাসুমা হাদি। তার দাবি, এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চাইলেও পরিবার তখন তা গ্রহণ করেনি। প্রথম উদ্যোগটি নিয়েছিলেন ওমর ফারুক নিজেই।

মাসুমা হাদির ভাষ্যমতে, ওমর প্রথমে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠান। সেখান থেকে সাড়া না পাওয়ার পর থাইল্যান্ডে যোগাযোগ করেন এবং নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা ও যাতায়াতের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেন।

পরবর্তীতে সরকার বিষয়টি জানার পর চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে কাগজপত্র পাঠালে সেখানকার হাসপাতাল রোগী গ্রহণে সম্মত হয়।

‘সম্মান করতে না পারলেও অসম্মান করবেন না’

দীর্ঘ পোস্টের শেষ অংশে মাসুমা হাদি বলেন, ভাইকে হারানোর শোক নিয়েই তিনি এতদিন নীরব ছিলেন। কিন্তু পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান নানা অভিযোগ ও সমালোচনার কারণে এবার মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি বলেন, “একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকেও সম্মান করতে হবে। সম্মান করতে না পারলেও অন্তত কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই।”

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্ধারণ এবং ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে।


জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিএনপি: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৮:৫০:২৬
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিএনপি: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতির সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করে দেশের বিরোধী দলগুলোকে আন্দোলনের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)—এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর, প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভায় জামায়াত আমির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি সরকারে এসে রাতারাতি তাদের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান বেমালুম ভুলে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের পছন্দসই ১৪৮ জন সংসদ সদস্যকে রাষ্ট্রীয় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং সাংবিধানিক স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্যায্য হস্তক্ষেপ চালানো হচ্ছে। উক্ত সভায় উপস্থিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দেশ সংস্কারের মূল এজেন্ডাকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তির সঙ্গে আপস করে শাসনকার্য পরিচালনা করছে বিএনপি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ তোলেন যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দোহাই দিয়ে বিএনপি ইতিমধ্যে অন্তত ১৭টি অনুচ্ছেদ সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে।

সভায় অন্যান্য বিরোধী দলীয় নেতারাও সরকারের সমালোচনায় মুখর ছিলেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়েছে বর্তমান সরকার। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক আলেম সমাজকে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এ ছাড়া আয়োজক সংগঠন এবি পার্টির প্রধান মজিবুর রহমান মঞ্জু দাবি করেন, বিএনপি নিজেদের পূর্ব ঘোষিত ৩১ দফার অঙ্গীকার থেকেই সরে দাঁড়িয়েছে এবং বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি সংকট সমাধানে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। পরিশেষে উপস্থিত নেতারা জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতি বন্ধ করে জুলাই সনদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

/আশিক


আওয়ামী লীগকে জামায়াতই মাফ করে দিতে চেয়েছিল, বিএনপি নয়: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৮:২২:১০
আওয়ামী লীগকে জামায়াতই মাফ করে দিতে চেয়েছিল, বিএনপি নয়: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

গত ৫ আগস্টের পর বিএনপি নয়, বরং জামায়াতে ইসলামীই আওয়ামী লীগকে মাফ করে দিতে চেয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্মরণসভায় রিজভী স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেওয়ার কথা বলেনি। বরং যারা এখন উল্টো বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটার মিথ্যা অভিযোগ করছে, তারাই মূলত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার বক্তব্য দিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক চরিত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতার স্বার্থে জামায়াত যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করে চলতে পারে এবং ইতিহাস প্রমাণ করে যে তারা অতীত থেকেই আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই হাঁটার চর্চা করে আসছে।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত অতীতে যেমন বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সুফল নষ্ট করে ফ্যাসিবাদী আচরণ করেছে, বর্তমানেও তারা সেই একই সংকীর্ণ পথেই হাঁটছে। রাজনৈতিক কোনো আন্দোলন-সংগ্রামেই দলটিকে কোনো সুনির্দিষ্ট আদর্শিক বা নীতির জায়গায় অনড় থাকতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে বিএনপি জনগণের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর দল জনগণকে যেসব অঙ্গীকার প্রদান করে, সেখান থেকে কখনোই বিচ্যুত হয় না; অথচ জামায়াত মুখে অনেক নীতি কথা ও প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যত সম্পূর্ণ বিপরীত ভূমিকা পালন করে। এ সময় রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চর্চা পরিহার করে জামায়াতে ইসলামীকে তাদের আচার-আচরণে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক চেতনার প্রকাশ ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি।

/আশিক


এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে মাইক নিয়ে ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী ধাওয়া

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ২১:২৬:৪৩
এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে মাইক নিয়ে ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী ধাওয়া
পিস্তল হাতে ‘মাদক অভিযানে’ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। ছবি: ফেইসবুক থেকে নেওয়া

রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে কয়েকজন মাদক কারবারিকে ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের নিজস্ব ফেসবুক পেজে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে এই অভিযানের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হলে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়।

প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমেই এক হাতে হ্যান্ডমাইকের মাউথপিস এবং অন্য হাতে পিস্তল উঁচিয়ে একদল লোককে ধাওয়া করছেন। এ সময় তিনি পিস্তলের স্লাইড টেনে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে কড়া সুরে চিৎকার করতে থাকেন। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে সাদা পোশাক পরা অপর এক ব্যক্তিকেও অস্ত্র হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’।

ঘটনা সম্পর্কে গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ছয়জনকে মাদকসেবী ও বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। উদ্ধার করা কিছু পাউডারজাতীয় পদার্থ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী এই অভিযানের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগে থেকে কোনো ধরনের তথ্য দেওয়া হয়নি; পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরেছে।

অভিযানের পর শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অপর এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসনকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, মাদক কারবারিরা যেকোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ধারীই হোক না কেন, কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না; এমনকি তাঁর নিজ দলের কেউ জড়িত থাকলেও কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই আসনকে মাদকমুক্ত করতে সর্বস্তরের এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রার্থনা করেন তিনি।

/আশিক


গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৩ দফা দাবি জানাল জাতীয় নাগরিক পার্টি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ২০:৩৩:৪৪
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৩ দফা দাবি জানাল জাতীয় নাগরিক পার্টি
ছবি : সংগৃহীত

অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করাসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিন দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবিলম্বে দেশের গণভোটের সুনির্দিষ্ট রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

দ্বিতীয় দাবিতে তিনি বর্তমানে গঠিত একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটিকে অবিলম্বে বিলুপ্ত করে সর্বজনগ্রাহ্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তৃতীয় ঘোষণা হিসেবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিতর্কিত এই একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এনসিপি কোনোভাবেই অংশগ্রহণ করবে না।

এনসিপির অবস্থান নিয়ে যেন কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। উক্ত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক।

/আশিক


একটি চক্র সরকার ও দেশের ভাবমুর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৮:৩৮:৩৭
একটি চক্র সরকার ও দেশের ভাবমুর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

একটি চক্র দেশ ও বিদেশে বসে বর্তমান সরকার এবং দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা প্রতিহত করতে আসন্ন দুর্গাপূজায় একটি সুদৃঢ় ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলার সার্বিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১২টায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বেগম হাসিবা উচ্চবিদ্যালয়ের ২৯তম বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারপ্রধান স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে বারবার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন এবং দলের পক্ষ থেকেও একটি জাতীয় কমিটি গঠন করে পূজা উদযাপিত কমিটিগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে, মণ্ডপগুলোতে পাহারার সুব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পুরোপুরি রক্ষা করতে হবে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জীবনকে অর্থবহ করতে ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। ন্যূনতম শিক্ষা অর্জন করতে না পারলে মানুষকে বঞ্চনা ও প্রতারণার শিকার হতে হয়, কারণ সর্বজনীন শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার। এই শিক্ষার প্রসারে যারা কাজ করেন, তাঁরা অত্যন্ত মহতী ব্যক্তি। এ সময় তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার সামছুল আলম পোখরাজের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন, যিনি নিজের পেশাগত জীবনে সফলতা অর্জনের পরও নিজের এলাকাকে ভুলে যাননি এবং উন্নয়নের পাশে ছিলেন।

এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এই এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস তুলনামূলক বেশি। স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাককে এলাকার হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত ভালোবাসেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, খন্দকার আবু আশফাক ইতিপূর্বে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থেকেছেন। আসন্ন দুর্গাপূজাকে অত্যন্ত নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবনকে সুন্দর ও অর্থবহ করতে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চা অত্যন্ত জরুরি। সুস্থ জীবনের বিকাশ ঘটাতে নিজকে সুস্থ বিনোদন ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই দেশ আমাদের সবার এবং প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন। কেউ কাউকে ছোট করে দেখবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যন্ত্রাইল ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁকে অতীতে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন, তাই তিনি এলাকাববাসীর যেকোনো উন্নয়নে সবসময় পাশে থাকবেন এবং আসন্ন দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তায় দলের নেতাকর্মীরা প্রতিটি মণ্ডপে পাহারায় দায়িত্ব পালন করবেন।

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি খন্দকার আবু হাসান সবুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি তাহমিনা আদনান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রাধেশ্যাম বাড়ৈর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দোহার সার্কেলের পুলিশ সুপার (এএসপি) শামীম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম, আবু শফিক খন্দকার মাসুদ, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

/আশিক


দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ২০:৪৫:২২
দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলা এবং দেশের চলমান উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দেশ ও দেশের বাইরে নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে লকাই বিশ্বাসের পরিবারের হাতে একটি নবনির্মিত বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া এলাকার নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন এবং বেশ কিছু অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

বিশ্ববাজারে চলমান বিভিন্ন সংঘাত ও যুদ্ধের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রী-নেতারা দেশের ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছেন এবং বর্তমানে সেখানে বসে দেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদারেরছ আলী ইছা, সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, কৃষকদল নেতা খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, যুবদল নেতা রাজিব হোসেন ও বেনজীর আহমেদ তাবরিজসহ ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


সরকারি চাকরি ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টকে কেন্দ্র করে সারজিস-ফারুকের তীব্র বাকযুদ্ধ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৭:৩১:৪১
সরকারি চাকরি ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টকে কেন্দ্র করে সারজিস-ফারুকের তীব্র বাকযুদ্ধ

সরকারি একটি পদে নিয়োগ পাওয়ার পর দেওয়া একটি ইঙ্গিতপূর্ণ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসানের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বাঞ্চলের পরিচালক পদে ফারুক হাসানের নিয়োগ পাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন সারজিস আলম। আর এর তীব্র জবাব দিতে গিয়ে মধ্যরাতে ফেসবুকে পাল্টা স্ট্যাটাস দেন ফারুক হাসান। ওই পোস্টে তিনি সারজিসের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাকে রাজনীতি থেকে সরে এসে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন।

সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টের সরাসরি জবাবে ফারুক হাসান লেখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তিনি নিজের বক্তব্যে ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের পরিচালকরা সরকারের নির্দিষ্ট গ্রেডভুক্ত কোনো আমলা নন। এই সাধারণ বিষয়টি বোঝার বা জানার জন্য কোনো পিএইচডি করার প্রয়োজন পড়ে না, সামান্য সাধারণ জ্ঞান থাকাই যথেষ্ট। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী এবং একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে সারজিসের মধ্যে এই সাধারণ জ্ঞানটুকু না থাকাটা অত্যন্ত বিস্ময়কর।

এখানেই থেমে থাকেননি ফারুক হাসান। নিজের স্ট্যাটাসে তিনি সারজিসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, বিগত সময়ে ছাত্রলীগের ব্যানারে পরীক্ষা ছাড়া সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত সারজিস আলমও ঠিক একই পথ অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত সারজিসের ভর্তির সময়কার যাবতীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা।

কঠোর ও আক্রমণাত্মক ভাষায় নিজের সমালোচনা শেষ করে সারজিস আলমের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পরামর্শ দেন গণঅধিকার পরিষদের এই শীর্ষ নেতা। তিনি সারজিসকে তাৎক্ষণিকভাবে রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিয়ে নিজের পড়াশোনায় পুরোপুরি মন দেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। তার মতে, এই মুহূর্তে পড়াশোনায় মনোযোগ দিলে তা ভবিষ্যতে সারজিসের নিজের জন্যই বেশি কাজে আসবে। মূলত ফারুক হাসানের এই নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্ট ও বিতণ্ডা এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২১:২৩:৪৮
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক প্রতিবাদী পোস্টে এই অভিযোগ তোলেন তিনি। ওই পোস্টে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট শক্তি সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের অনুগত সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য উসকে দিচ্ছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা যে ধরনের ন্যাক্কারজনক অপকর্ম ঘটিয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ওপরই বর্তায়।

এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাগুলো ফের প্রমাণ করে যে তারা প্রকৃত অর্থেই ফ্যাসিস্ট। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরও তাদের সন্ত্রাসী মানসিকতা এবং তৎপরতা যে থামেনি, তা তারা বিশ্ববাসীর সামনে আবারও উন্মোচন করে দিয়েছে। পোস্টের একেবারে শেষাংশে ইংরেজিতে ‘শেইম’ বা লজ্জা শব্দলিখে নিজের তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।

/আশিক


আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২০:০৭:৪৭
আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
ছবি : সংগৃহীত

আত্মপ্রকাশের দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদ বহাল রাখা হলেও মুখপাত্র, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং মুখ্য সমন্বয়ক—এই গুরুত্বপূর্ণ চারটি পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পুনর্গঠনের পর দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মোট সদস্যসংখ্যা হবে ১৫১ জন।

বর্তমানে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বে আছেন। এ ছাড়া দলটির মুখপাত্রের দায়িত্বে রয়েছেন আসিফ মাহমুদ এবং মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্বে পালন করছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

একাধিক সূত্রে প্রকাশ, পুনর্গঠিত কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ।

গত রবিবার অনুষ্ঠিত এক সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের কাজ চূড়ান্ত করার বিষয়টি জানানো হয়। ওই সভায় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল আমিন ও নুসরাত তাবাসসুমসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহউদ্দিন সিফাত উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল। দলটির দুই বছর পূর্তিতে প্রথম কাউন্সিলের মাধ্যমে এই কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: