বিএনপির পক্ষ থেকে যুবদলের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। এতে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ও প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি গঠনের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
অনুমোদিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ৩০ জন সহ-সভাপতি, ৩০ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২৩ জন সহ-সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। এছাড়া কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. কামরুজ্জামান জুয়েল এবং প্রচার সম্পাদক হিসেবে আল মেহেদী তালুকদার দায়িত্ব পেয়েছেন। দপ্তরের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়াকে।
১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তালিকা তুলে ধরা হলো
সভাপতি ও সহ-সভাপতিবৃন্দ
১. সভাপতি: আবদুল মোনায়েম মুন্না
২. সিনিয়র সহ-সভাপতি: রেজাউল কবীর পল
৩. সহ-সভাপতি: জিয়াউর রহমান জিয়া
৪. সহ-সভাপতি: কামাল আনোয়ার আহাম্মদ
৫. সহ-সভাপতি: মাহফুজুর রহমান মাহফুজ
৬. সহ-সভাপতি: জাহাঙ্গীর আলম দুলাল
৭. সহ-সভাপতি: শাহ আলম চৌধুরী
৮. সহ-সভাপতি: সাইদুর রহমান
৯. সহ-সভাপতি: সাব্বির আহমেদ দিপু
১০. সহ-সভাপতি: আবদুল জব্বার খান
১১. সহ-সভাপতি: খন্দকার এনামুল হক এনাম
১২. সহ-সভাপতি: শরীফ উদ্দীন জুয়েল
১৩. সহ-সভাপতি: ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ
১৪. সহ-সভাপতি: রফিক আহমেদ ডলার
১৫. সহ-সভাপতি: সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটু
১৬. সহ-সভাপতি: মোহাম্মদ ফিরোজ আবদুল্লাহ
১৭. সহ-সভাপতি: মাহমুদুস সালেহীন
১৮. সহ-সভাপতি: আতিকুর রহমান আতিক
১৯. সহ-সভাপতি: জাকির হোসেন উজ্জল
২০. সহ-সভাপতি: এইচ এম তসলিম উদ্দিন
২১. সহ-সভাপতি: নাজমুল আলম নাজু
২২. সহ-সভাপতি: মো. আনোয়ারুল হক
২৩. সহ-সভাপতি: আবু সাঈদ আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র)
২৪. সহ-সভাপতি: রহিম উদ্দিন (যুক্তরাজ্য)
২৫. সহ-সভাপতি: ফেরদৌস আহমেদ মুন্না
২৬. সহ-সভাপতি: তরিকুল ইসলাম টিটু
২৭. সহ-সভাপতি: ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
২৮. সহ-সভাপতি: মঞ্জুরুল আজিম সুমন
২৯. সহ-সভাপতি: আজিজুর রহমান আকন্দ
৩০. সহ-সভাপতি: নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে)
সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ
৩১. সাধারণ সম্পাদক: মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন
৩২. ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: বিল্লাল হোসেন তারেক
৩৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: ্মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
৩৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মনিরুল ইসলাম সোহাগ
৩৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আবু আতিক আল হাসান মিন্টু
৩৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শাহ নাসির উদ্দিন রুমন
৩৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: কফিল উদ্দিন ভূইয়া
৩৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মঈনুদ্দীন রুবেল
৩৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আজহারুল ইসলাম মিলন
৪০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: এজমল হোসেন পাইলট
৪১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: ইখতিয়ার রহমান কবির
৪২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রবিউল ইসলাম নয়ন
৪৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সাজ্জাদুল মিরাজ
৪৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মিঞা মোহাম্মদ রাসেল
৪৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আবদুল করিম সরকার
৪৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শফিকুল ইসলাম shafik
৪৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা
৪৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আবুল মনসুর খান দীপক
৪৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: খন্দকার আল আশরাফ মামুন
৫০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আইয়ুব খান
৫১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শামসুজ্জোহা সুমন
৫২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: তারেক উজ জামান তারেক
৫৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শোয়াইব খন্দকার
৫৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আশরাফুর রহমান বাবু
৫৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আসাদুজ্জামান আসাদ
৫৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো. আবদুল ওয়াহাব
৫৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: হারুন অর রশীদ হিরো (সৌদি আরব)
৫৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: এম তমাল আহমেদ
৫৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সাজেদুল ইসলাম
৬০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া (দপ্তরের দায়িত্বে)
সহ-সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ
৬১. সহ-সাধারণ সম্পাদক: হাসান আল মামুন লিমন
৬২. সহ-সাধারণ সম্পাদক: মাসুদ খান পারভেজ
৬৩. সহ-সাধারণ সম্পাদক: এন এম আব্দুল্লাহ উজ্জল
৬৪. সহ-সাধারণ সম্পাদক: মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ
৬৫. সহ-সাধারণ সম্পাদক: গিয়াসউদ্দিন মামুন
৬৬. সহ-সাধারণ সম্পাদক: মামুন হোসেন ভূইয়া
৬৭. সহ-সাধারণ সম্পাদক: রাহাদুল আলম khan
৬৮. সহ-সাধারণ সম্পাদক: রুহুল ইসলাম মনি
৬৯. সহ-সাধারণ সম্পাদক: জাহিদ হাসান
৭০. সহ-সাধারণ সম্পাদক: আবু বকর সিদ্দিক পাভেল
৭১. সহ-সাধারণ সম্পাদক: খন্দকার মাইনউদ্দিন খোকন
৭২. সহ-সাধারণ সম্পাদক: সাখাওয়াত হোসেন চয়ন
৭৩. সহ-সাধারণ সম্পাদক: মাহবুবুর রহমান পলাশ
৭৪. সহ-সাধারণ সম্পাদক: আরিফুল হক আরিফ
৭৫. সহ-সাধারণ সম্পাদক: প্রকৌ: কামরুল হাসান khan সাইফুল
৭৬. সহ-সাধারণ সম্পাদক: মাহবুবুর রহমান
৭৭. সহ-সাধারণ সম্পাদক: আলমগীর কবির সেলিম
৭৮. সহ-সাধারণ সম্পাদক: মজিবর রহমান ভূইয়া সবুজ
৭৯. সহ-সাধারণ সম্পাদক: এ্যাড. মেহেদী হাসান জুয়েল
৮০. সহ-সাধারণ সম্পাদক: মো. মাসুদুল হক
৮১. সহ-সাধারণ সম্পাদক: সাহাবুদ্দিন মুন্না
৮২. সহ-সাধারণ সম্পাদক: সামসুল আলম রানা
৮৩. সহ-সাধারণ সম্পাদক: আবুল বাসার সিদ্দিকী
সাংগঠনিক ও অন্যান্য সম্পাদকীয় পদসমূহ
৮৪. সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. কামরুজ্জামান জুয়েল
৮৫. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: এম এ গাফফার
৮৬. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: আশরাফ ফারুকী হীরা
৮৭. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মিজানুর রহমান সুমন
৮৮. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: হাবিবুর রহমান হাবিব
৮৯. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: সোহেল আলম
৯০. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরকার শাওন
৯১. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: সাইদুর রহমান শামীম
৯২. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: রবিউল ইসলাম রবি
৯৩. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: আরিফুর রহমান সোহেল
৯৪. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মাইনুল ইসলাম
৯৫. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: খন্দকার রিয়াজ
৯৬. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. রাশেদুল ইসলাম রিপন
৯৭. প্রচার সম্পাদক: আল মেহেদী তালুকদার
৯৮. সহ-প্রচার সম্পাদক: তারেকুর রহমান
৯৯. সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: আশরাফ জালাল খান মনন
১০০. সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: সাইদুর রহমান সোহেল
১০১. তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক: আমিনুর রহমান আমিন
১০২. কোষাধ্যক্ষ: রোকনুজ্জামান রোকন
বিষয়ক ও সহ-বিষয়ক সম্পাদকবৃন্দ
১০৩. আইন বিষয়ক সম্পাদক: অ্যাড. মুর্তজা কামাল মোস্তাক
১০৪. আইন বিষয়ক সম্পাদক: অ্যাড. ইউনুস আলী রবি
১০৫. আইন বিষয়ক সম্পাদক: অ্যাড. নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ
১০৬. আইন বিষয়ক সম্পাদক: অ্যাড. তানভীর হাসান সোহেল
১০৭. আইন বিষয়ক সম্পাদক: অ্যাড. গাজী মো. মাসকুরুল আলম সৌরভ
১০৮. কৃষি বিষয়ক সম্পাদক: কৃষিবিদ সানোয়ার আলম
১০৯. সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: আশরাফুল আলম ফকির লিঙ্কন
১১০. শ্রম বিষয়ক সম্পাদক: পার্থ দেব মন্ডল
১১১. শিল্প বিষয়ক সম্পাদক: কারীমুল হাই নাঈম
১১২. যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক: সাজিদ হাসান বাবু
১১৩. ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক: আনোয়ার হোসেন জনি
১১৪. সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক: মো. মেজবাহউদ্দিন মেজু
১১৫. পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক: মাজেদুল ইসলাম রুমন
১১৬. গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক: মহিন উদ্দিন রাজু
১১৭. সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক: সাইদুর রহমান রয়েল
১১৮. বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক: মাহমুদুল হাসান বাপ্পী
১১৯. সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক: খোরশেদ আলম
১২০. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক: মোস্তাফিজুর রহমান
১২১. ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক: কামরুজ্জামান নান্নু
১২২. ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক: সৈয়দ মাহমুদ
১২৩. সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক: আব্দুল কুদ্দুস মজুমদার
১২৪. সহ-গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক: খন্দকার মাহবুবুর রহমান মাহী
১২৫. সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক: মো. বেলাল হোসেন
১২৬. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক: কে এস এম মুসাব্বির শাফী
১২৭. তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক: ইমরান আহমেদ প্রিন্স
১২৮. মৎস্য ও পশুপালন বিষয়ক সম্পাদক: শাহজাহান রনি
১২৯. স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক: ডা. গালিব হাসান
১৩০. স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক: ডা. বেলাল হোসেন নাজিম
১৩১. সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক: ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন
১৩২. সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক: ডা. আল মামুন হাসান খান এমিল
১৩৩. সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক: মো. জাহিদ হাসান
১৩৪. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা): খায়রুজ্জামান লিঙ্কন
১৩৫. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা): এ আর মামুন খান
১৩৬. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা): মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদ
১৩৭. মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক: অ্যাড. মাহবুবুল আলম আকতার
১৩৮. প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক: আরাফাত বিল্লাহ খান
১৩৯. পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক: হেদায়েত হোসেন ভূইয়া
১৪০. সহ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক: রাশেদ আল আমিন শুভ
নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ
১৪১. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা): আমিনুল ইসলাম khan
১৪২. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা): মাহবুব শিকদার
১৪৩. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা): মহসীন বিশ্বাস
১৪৪. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা): জহিরুল ইসলাম বিপ্লব
১৪৫. সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা): রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু
১৪৬. সদস্য: আব্দুল্লাহ আল কাফি শাহেদ
১৪৭. সদস্য: নাজিম উদ্দিন মিঠু
১৪৮. সদস্য: মাহমুদুল করিম সজল
১৪৯. সদস্য: সালাহউদ্দিন আহমেদ শাহীন
১৫০. সদস্য: মো. এমরান হোসেন শাহীন
১৫১. সদস্য: ফখরুল বিন খালেক।
/আশিক
প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম
সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে, তবে পুনরায় গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পথে হাঁটার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার যদি জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদ কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা রাজপথে কঠোর গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) বরিশালের ঐতিহ্যবাহী হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থান ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ উল্লেখ করেন যে, দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে তারা এখনো পর্যন্ত হরতাল কিংবা অবরোধের মতো কোনো চরম ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেননি। তবে জনগণের দাবি আদায়ে যেকোনো মুহূর্তে এই ধরনের কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার মতো সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের রাজনৈতিক জোটের রয়েছে। তিনি যোগ করেন, তারা এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি ও পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে চরম কর্মসূচির পক্ষে ছিলেন না, কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্রমশ সেই সংঘাতময় ও কঠোর কর্মসূচির দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন।
এনসিপির শীর্ষ এই নেতা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বক্তব্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধুর কথা থাকলেও তার অন্তরে আসলে ছলনা রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যে গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জোরালো প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং নির্বাচনের ফলাফলে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যেখানে সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে, সেখানে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছেন।
অথচ বাইরে তিনি মুখে বলে যাচ্ছেন যে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এই দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম গণঅভ্যুত্থানের সময়কার একটি জনপ্রিয় স্লোগানের আদলে বলেন, ‘নাটক কম করো প্রিয়’। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের মানুষ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে মানে এই নয় যে, যা খুশি তা-ই করা যাবে কিংবা জনগণের সঙ্গে ছলনা ও প্রতারণা করা যাবে।
বিগত বছরগুলোতে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি গত দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছে বলে দাবি করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তারা মূলত গণতন্ত্রের বিপক্ষেই অবস্থান নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আসল সত্য হলো বিএনপি কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না, তাদের পুরো লড়াইটাই ছিল কেবল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার জন্য।
এমনকি বিগত গণঅভ্যুত্থানেও তারা কেবল ক্ষমতার লোভেই অন্যান্য শক্তির সঙ্গে কাঁধ মিলিয়েছিল। এখন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা নিজেদের কবজায় নিয়ে নেওয়ার পর তারা আর কোনো ধরনের সংস্কারের কথা মুখে আনছে না।
/আশিক
দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?

মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বর্তমান কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এক মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দলীয় পুনর্বাসনের এই কথিত উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে উপজেলা বিএনপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার সংচাইল এলাকায় অবস্থিত বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আউয়াল চেয়ারম্যানের ‘প্রভাতী ফিসারিজ’-এর অফিস কক্ষে এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মতবিনিময় সভায় বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল চেয়ারম্যান ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রশিদ শামীম, ছোটশালঘর আওয়ামী লীগের নেতা মো. শাজাহান মাস্টারসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিতর্কিত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনসেবাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় তিনি উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার বিবরণ নিজ হাতে একটি ডায়েরিতে নোট করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এই দৃশ্য প্রকাশ পাওয়ার পরই মূলত ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে।"মুখের কথা ও কাজের মিল নেই" — ফুঁসে উঠেছে বিএনপিআওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।"হাসনাত আব্দুল্লাহর মুখের কথার সাথে কাজের কোনো মিল নেই। সে জনসমক্ষে বা মাঠে বলে একরকম, আর ভেতরে কাজ করে অন্যরকম। সে কীভাবে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে টেবিল বৈঠক করে? জনগণ তার এমন দ্বিমুখী আচরণে চরমভাবে ক্ষুব্ধ।"— জসিম উদদীন সরকার, আহ্বায়ক, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপিঅনুরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন:"হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় বড় গরম বক্তব্য দেন, আর দেবিদ্বারে এসে সেই আওয়ামী লীগকে নিয়েই ঘর-সংসার করছেন! বর্তমানে তার দলের ৮০% লোকই হলো সুযোগসন্ধানী আওয়ামী লীগের নেতা।"
ফোন ধরেননি অভিযুক্তরাএই বৈঠকের নেপথ্য কারণ জানতে বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠকের বিষয়ে জানতে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর হোয়াটসঅ্যাপে খোদে বার্তা (Message) পাঠানো হলেও তাঁর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি এবং ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই বিপ্লবের ইমাম ও রূহানী নেতৃত্ব: নাহিদ ইসলাম
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর আবু সাঈদকে জুলাইয়ের সকল শহীদের ‘ইমাম’ এবং সামগ্রিক জুলাই বিপ্লবের ‘রূহানী নেতৃত্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
২০২৪ সালের সেই রক্তঝরা দিনটিকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আবু সাঈদের বুকের রক্ত আর অকুতোভয় আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের গণআন্দোলন এক সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থান ও চূড়ান্ত সফল বিপ্লবের রূপ পরিগ্রহ করেছিল।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পবিত্র মাজার জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, "আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে, ২০২৪ সালের এই ১৬ জুলাইয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্র ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বর্বর দমন নীতির বিরুদ্ধে এক অনন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
তিনি কোনো অস্ত্রের পরোয়া না করে, রাজপথে দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে বীরের মতো দাঁড়িয়েছিলেন এবং স্বৈরাচারের বুলেট বুকে নিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। আবু সাঈদ আমাদের মুক্তির মন্দিরের সোপানতলে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া হাজারো শহীদের অগ্রসেনানী এবং আমাদের সকলের মহান পূর্বসূরী।"
তিনি আবু সাঈদের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রতীক শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ ফারহান ফাইয়াজ, শিশু শহীদ নাঈমা সুলতানা, শহীদ রিয়া গোপ ও শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়াসহ আন্দোলনের সকল শহীদ ও প্রায় ত্রিশ হাজার আহত ভাই-বোনের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। একই সাথে তিনি আবু সাঈদের বীরত্বে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসা দেশের সর্বস্তরের শ্রমিক, পেশাজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আলেম সমাজ, অভিভাবক এবং স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-জনতার অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
শহীদদের স্মৃতিকে কেবল আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা ও স্মরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, "আমরা যারা আজ বেঁচে আছি, তারা প্রত্যেকেই আবু সাঈদের রেখে যাওয়া উত্তরসূরি। তাই আমাদের প্রধানতম জাতীয় দায়িত্ব হলো শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি না করে একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস কাজ করে যাওয়া।"
তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে জনগণের মূল প্রত্যাশা ছিল তিনটি—সুষ্ঠু বিচার, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও জুলাইয়ের শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বিচার এবং কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কারের পূর্ণ স্বাদ বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এখনও পায়নি।
তিনি আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে বলেন, নিম্ন আদালতে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলেও তা কার্যকরের ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আদালতে দায়ের হওয়া আপিলসমূহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করে খুনিদের শাস্তি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, "যেহেতু আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা ও প্রধান আসামি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, তাই বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী বর্তমান সরকার যেন দ্রুততম সময়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।"
শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাত সম্পন্ন করার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতৃবৃন্দ শহীদ সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সাথে তাদের বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নেতারা সাঈদের বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও ভাইদের জড়িয়ে ধরে সমবেদনা জানান এবং তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এই বিশেষ জিয়ারত ও মতবিনিময় কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু চব্বিশের অর্জন হারাতে দেব না: জামায়াত আমির
জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, নিজেদের জীবন দেব কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অর্জনকে কিছুতেই হারিয়ে যেতে দেব না।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক ও মেহনতি শ্রমিকেরা রাজপথে জীবন দিয়ে বড় বড় অর্জন এনে দেন, আর পরবর্তীতে কিছু সুবিধাবাদী লুটেরা সেই কাঙ্ক্ষিত অর্জন ছিনিয়ে নেয়। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আজও চক্রান্তকারীদের মাধ্যমে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সেই মহান অর্জন নস্যাৎ করার গভীর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত আইডিবি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। শহীদ বীর আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতে জাতীয় রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আজকে দেশে যে নতুন জাতীয় সংসদ ও জনআকাঙ্ক্ষার সরকার গঠিত হয়েছে, তা যে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ফসল—সেটি দেশের প্রতিটি মানুষ ও আন্তর্জাতিক মহল একবাক্যে স্বীকার করে।
অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে কেউ কেউ সুকৌশলে বলতে চাচ্ছেন যে চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লব তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়, বরং এর আগের অংশটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কখনোই অতীতের লড়াই ও ত্যাগকে ছোট করে দেখিনি। স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে আমরা নিজেরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি, শত শত সহকর্মীকে শাহাদাতবরণ করতে হয়েছে, হাজারো মানুষ বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন এবং অসংখ্য নেতাকর্মী চাকরি হারিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘরে থাকতে পারেননি।
আমরা সেই গৌরবময় ত্যাগের ইতিহাসকে অস্বীকার করি না, কিন্তু এটিও চরম বাস্তব সত্য যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না। ঠিক একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অবদানকে খাটো করে দেখা মানে সেই আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা।
জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বারোপ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় জাতীয় দাবি ছিল বাংলাদেশে যেন আর কখনো কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটতে না পারে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামোগত সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশ গড়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। আমাদের অতীতের সেই কলুষিত ও পচা রাজনীতিকে চিরতরে বিদায় দিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের যৌক্তিকতা নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, কেউ কেউ খোঁড়া যুক্তি দিয়ে বলছেন যে সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই।
আবার কেউ কেউ দাবি করছেন, গণভোটে রাখা চারটি প্রশ্ন এতটাই জটিল ছিল যে মানুষের তা বুঝতে নাকি চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। প্রশ্ন হলো, তাহলে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ কীভাবে এত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিলেন? এই চারটি প্রশ্ন তো ভোটের অনেক আগে থেকেই প্রতিটি গণমাধ্যমে বিশদভাবে প্রচার ও ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাহলে কি আপনারা বলতে চান যে বুদ্ধি ও মেধা শুধু আপনাদের মতো কতিপয় নেতার মাথাতেই আছে, দেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষের কোনো বুদ্ধি নেই? এ ধরনের মন্তব্য এ দেশের আপামর জনগোষ্ঠীকে চরমভাবে অপমান করার শামিল। আমি নিজে মূর্খ হতে পারি, কিন্তু আমার দেশের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই মূর্খ নয়।
তিনি দেশের কিছু নেতার রাজনৈতিক ভণ্ডামির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যে রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষের সহজ ৪টি প্রশ্ন বুঝতে না পারার দোহাই দেন, তারা নিজেরা আবার ৩১টি প্রশ্ন জনগণকে বোঝানোর গালভরা কথা বলেন। এগুলো আসলে রাজনৈতিক গোঁজামিল ও চরম ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ইতোমধ্যে একজন দায়িত্বশীল নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন যে, নির্বাচনে মানুষের ভোট পাওয়ার জন্য তারা পূর্বে সবকিছুই আগেভাগে মেনে নিয়েছিলেন।
আরেকজন তো বলেই দিয়েছেন যে টোল মওকুফের ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছিল স্রেফ নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার ও ভোট পাওয়ার কৌশল হিসেবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে প্রতিনিয়ত জনগণের সাথে প্রকাশ্য প্রতারণা ও মিথ্যাচার করেন, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কার ওপর ভরসা করবে? যারা দেশ পরিচালনা করবেন ও পবিত্র সংসদে বসে আইন প্রণয়ন করবেন, তাদের ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড ও রাজনৈতিক সততা থাকা উচিত।
বিরোধীদলীয় নেতা গণভোটের ফলাফল ও বর্তমান সংসদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশের সব রাজনৈতিক দলই কিন্তু গণভোটের পক্ষে জোরালো সায় দিয়েছিল এবং দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়েছেন। অথচ এখন যুক্তি দেখানো হচ্ছে যে যেহেতু ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে, তাই ৭০ শতাংশ মানুষের ওই বিশাল গণরায় মানা হবে না।
আমি সরল অংকে জানতে চাই, ৫১ বড় সংখ্যা নাকি ৭০ বড় সংখ্যা? বর্তমান সরকার ও তাদের সহযোগীরা কীভাবে ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই বিতর্ক রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরকাল থেকে যাবে। ভোটের দিন মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ ব্ল্যাকআউট করে পর্দার আড়ালে কী কী খেলা সম্পন্ন করা হয়েছে, তা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক খুব ভালো করেই জানেন। সময় আসুক, দেশের দীর্ঘ ইতিহাস ও সাধারণ মানুষ একদিন সবকিছুর উপযুক্ত বিচার করবে।
চলমান সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন আমাদেরও আহ্বান জানানো হচ্ছে যে আমরা যেন সংসদীয় রীতিনীতির নামে এই অগ্রাহ্যের মিছিলে শামিল হই। সংসদে দাঁড়িয়ে আমাদের সংবিধানের সবক দেওয়া হচ্ছে।
আমি বিনীতভাবে জানতে চাই, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামের কোনো বিশেষ কমিটির অস্তিত্ব কি আমাদের বিদ্যমান সংবিধানের কোথাও লেখা আছে? যদি না থাকে, তবে কার স্বার্থে এটি তৈরি করা হয়েছে? এটি মূলত চব্বিশের জুলাই বিপ্লবকে সাধারণ মানুষের মন থেকে ভুলিয়ে দেওয়ার এবং গণভোটের ঐতিহাসিক রায়কে ধামাচাপা দেওয়ার একটি অপকৌশল মাত্র।
তিনি এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের অনড় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছি। কুচক্রী মহল যদি নিজেদের স্বার্থে জনগণের রায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অপমান করতে চায়, তবে তারা তা করুক; জনগণই তাদের চূড়ান্ত বিচার করবে। জামায়াতে ইসলামী সব সময় এ দেশের সাধারণ মানুষের সাথে আছে এবং জনগণের প্রতিটি রায়ের পক্ষে আমাদের অবস্থান সুদৃঢ় থাকবে। আমরা এই বৈষম্যবিরোধী লড়াই রাজপথে ও সংসদে সমানভাবে চালিয়ে যাব। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া সেই ঐতিহাসিক গণরায় কখনোই বৃথা যাবে না, অদূর ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়িত হবেই।
নিজের বক্তব্যের শেষাংশে একটি রূপক উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চিংড়ি মাছ যখন লাফ দেয়, তখন সে সব সময় পেছনের দিকে যায়; সে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো পথ খুঁজে পায় না। আমাদের জাতি যদি সব সময় অতীতের দিকেই মুখ ফিরিয়ে তাকিয়ে থাকে, তাহলে আমরা সামনের দিকে এগোব কীভাবে? আমরা বরাবরই সব রাজনৈতিক পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছি—আসুন, অতীত ভুলে সামনের দিকে তাকাই এবং ২০২৪ সালের চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের যে পবিত্র অঙ্গীকার ও স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি।
তিনি প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, অনেকেই বর্তমান সরকারের প্রতিবেশি দেশের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আনুগত্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীই একমাত্র দল, যাদের ওই প্রতিবেশি রাষ্ট্রটি কোনোভাবেই পছন্দ করে না। তারা বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে ভারতের মাটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমন্ত্রণ জানালেও, কেবল জামায়াতে ইসলামীর জন্য রেখেছে ‘লাল কার্ড’। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা ভারতের সেই লাল কার্ডের বিন্দুমাত্র পরোয়া করি না। আমরা কখনোই ভারতের মাটিতে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় বা মদদ নেওয়ার হীন চিন্তাও করি না। এই সোনার বাংলাদেশই আমাদের একমাত্র প্রিয় মাতৃভূমি এবং এ দেশের ১৮ কোটি মুক্তিকামী মানুষের ভালোবাসার বন্ধন ও অন্তরই আমাদের পরম আশ্রয়স্থল।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের অত্যন্ত সাবলীল সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
/আশিক
স্বামীবাগে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে হঠাৎ অসুস্থ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল
রাজধানীর স্বামীবাগে ইসকন মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসবে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ তীব্র শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেছেন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তীতে তাঁকে দ্রুত উত্তরার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থেকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে স্বামীবাগে রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরপরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দল ও দলের নেতাকর্মীরা দ্রুত তাঁকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে উত্তরার বাসভবনে নিয়ে যান। সেখানে কার্ডিওলজিস্টসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিএনপি মহাসচিব হঠাৎ অতিরিক্ত গরম ও শারীরিক ক্লান্তির কারণে অসুস্থতা বোধ করেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দোয়া চেয়েছেন।
এদিকে, দুপুরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত অসুস্থতার কারণে বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অংশ নেওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
/আশিক
সংসদকে মজলুমের মিলনমেলা বানাতে হবে: ড. শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদকে দেশের মজলুম ও অধিকারবঞ্চিত সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য ‘মিলনমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি সংসদকে জনগণের হতাশা দূর ও রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে বর্ণনা করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ, সুষম উন্নয়ন, সংসদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের নীতিগত ও কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।
সংসদের মর্যাদা ও গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং আমরা এটিকে মজলুমের মিলনমেলা বলে বিশ্বাস করি। সংসদের কার্যক্রম যত বেশি সুন্দর, কার্যকর ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলবে, দেশের মানুষের মন থেকে হতাশা তত দ্রুত দূর হবে, তাদের আস্থা ও ভরসা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা দেশ গড়ার মহৎ কাজে অনুপ্রাণিত হবে। এ সময় তিনি স্পিকারের অভিভাবকত্বকে আরও বলিষ্ঠ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি ও নীতিমালার পরিপালন নিশ্চিত করতে স্পিকারকে একজন ‘বলিষ্ঠ কমান্ডারের’ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সম্প্রতি একটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাস হয়েছে, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জরুরি ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বিলটির ওপর বিস্তারিত আলোচনা ও অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট সুযোগ থেকে বিরোধী দলকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা বহাল রাখলে সংসদে বসা এবং জনগণের অর্থ ও সময়ের অপচয় ছাড়া আর কোনো লাভ হবে না। তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায়, ভূমিধসে ও পানিতে ডুবে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এবারের বন্যায় চারটি বিভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চট্টগ্রামের ক্ষয়ক্ষতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। তিনি নিহতদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক প্রণৌদনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজধানী ঢাকার নাজুক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকা শহর ময়লা ও ড্রেনের পানিতে ভেসে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ময়লা পানি অনেক সময় সুপেয় পানির লাইনের সঙ্গে মিশে পানি দূষিত করছে। ঢাকাকে দেশের ‘চেহারা’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বিদেশী অতিথিরা যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন ঢাকা দেখেই তারা পুরো দেশ সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পান। তাই ঢাকাকে তিলোত্তমা ও দৃষ্টিনন্দন করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা এবং একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্যই প্রযোজ্য, কারণ ধর্ম মানুষকে শালীনতা, দেশপ্রেম ও সৎ হতে শেখায়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং অবহেলিত স্বতন্ত্র মাদ্রাসাসমূহের উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে সঠিক যোগ্যতার ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ জানান।
উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুষম বণ্টনের দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও আর্থিক পদক্ষেপে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ইনসাফ করা হয়নি। সংরক্ষিত আসনের সরকারি দলের সদস্যদের বড় অংকের ফান্ড বা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কাউকে তা দেওয়া হয়নি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিএনপির ৩১ দফা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে; আমরা সেই সুষম বণ্টনটাই প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে যেন সাধারণ জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন।
সরকারি অর্থ অপচয় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেদের নামফলক বসানোর প্রাচীন কালচার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি টাকায় কোনো ব্যক্তি বা রাজনীতিকের নামে স্থাপনার নামফলক বসানোর সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। সরকারের পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট করে নামফলক পরিবর্তনের এই অপরাজনীতি দেশের জন্য চরম ক্ষতি ডেকে আনে। কারো যদি নিজের নামের মোহ থাকে, তবে তিনি নিজের টাকা ও জমিতে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে নাম দিতে পারেন, তাতে কারও আপত্তি থাকবে না। কিন্তু জনগণের টাকায় কোনো আত্মপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।
দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘দুর্নীতি’ নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান ড. শফিকুর রহমান। বর্তমান অর্থমন্ত্রীর পূর্ববর্তী সফল কর্মযজ্ঞের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী একজন গতিশীল মানুষ এবং তিনি চাইলে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তবে এর জন্য দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলেছেন দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবেন, সেখানে ড. শফিকুর রহমান পরামর্শ দেন, আপাতত দুর্নীতির হাত চেপে ধরুন এবং হাতকড়া পরিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন, যাতে আর কেউ জনসম্পদ লুটের সাহস না পায়।
জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে অগ্রিম ধন্যবাদ জানান তিনি। একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ নিয়মিত রেওয়াজ অনুযায়ী এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিশেষ ইনসেন্টিভ বা বোনাস প্রদানের জোর দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন।
/আশিক
সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তৎপরতা নেই: নাহিদ ইসলাম
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংশোধনের মতো রাজনৈতিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অত্যন্ত সক্রিয় থাকলেও, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তাঁর কোনো কার্যকর তৎপরতা বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই নারী সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সরকারের এই দুর্বলতা তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু বাস্তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যান্য নানান কাজে এবং বিশেষ করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন, যার ফলে দেশের ভেতরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নয়ন ঘটছে না।
ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, ১৪ জুলাই ছিল আন্দোলনের ইতিহাসে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেই সময় রাজপথে নারীদের অভূতপূর্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই পরবর্তী দিনগুলোতে স্বৈরাচারী শক্তির পক্ষ থেকে আন্দোলনরত নারীদের লক্ষ্য করে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
নারী অধিকার ও স্পেস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অসামান্য অবদান ও আত্মত্যাগের কথা আমরা সবসময় স্মরণ করি। সরকারি চাকরিতে প্রচলিত নারী কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে গিয়ে একটি যৌক্তিক কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র-জনতা তথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাজপথে নেমে এসেছিল। নারীরা এই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল বলেই স্বৈরাচারের পেটুয়া বাহিনী তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালায়।
তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আন্দোলন সফল হওয়ার পরবর্তী সময়ে আমরা রাষ্ট্র ও সমাজে নারীদের জন্য সেই কাঙ্ক্ষিত কাজের পরিবেশ বা স্পেস তৈরি করে দিতে পারিনি। তা সত্ত্বেও নারীরা এখনো আমাদের সামগ্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নারী শক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের নারীদের বিভিন্ন মৌলিক দাবি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মূল ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়ার যে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা জনমনে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর আদালতে ১০ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার বিষয়টি নিয়েও তিনি পথসভায় মন্তব্য করেন।
/আশিক
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দেওয়া বক্তব্যকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সি-এ অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই পথসভা’য় তিনি এই দাবি তোলেন।
পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দলটির বর্তমান নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে ভারতের সাথে রাজনৈতিক সমন্বয় করে চলছেন।
বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বগুড়া অঞ্চলে সংঘটিত সকল গুম ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করার পাশাপাশি তিনি ওসমান হাদি হত্যারও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের তাগিদ দেন। একই সাথে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপি জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়াকে কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে সে বিষয়ে এনসিপি কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমও বক্তব্য রাখেন। দেশের বর্তমান সংবাদমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিএনপির প্রভাব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই সুযোগে গণমাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে একটি রাজনৈতিক বয়ান বা ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সারজিস আলম আরও উল্লেখ করেন যে, যথাযথ সংস্কার কিংবা গণভোটের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো সরকারের পক্ষেই পূর্ণ বৈধতা পাওয়া সম্ভব নয়। এই প্রসঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রেক্ষাপটও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। রাষ্ট্র পরিচালনায় পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা উচিত নয়। সভায় এনসিপির স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
লক্ষণ খুব ভালো নয়, অপরাধীদের শাস্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ জামায়াত আমিরের
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার দেশের সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষকে এখন নিজেদের সুরক্ষার উপায় নিয়ে নিজেদেরই ভাবতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে চট্টগ্রাম নগরীতে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তা অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। একই সাথে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে জামায়াতের আমির তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘লক্ষণ খুব ভালো নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, সরকার জনগণের কার্যকর নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ফলে সাধারণ জনগণকে এখন নিজেদের আত্মরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বেছে নিতে হচ্ছে। দেশে একের পর এক নতুন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রামের ওই হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুক পোস্টের শেষদিকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এদের খুঁটির জোর কোথায়?’
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- যুক্তরাষ্ট্রকে কখনো ভুলতে না পারার মতো শিক্ষা দেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির
- ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
- ১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন
- ১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা
- ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'
- ১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম, ফ্রান্সের দুঃস্বপ্নের রাত
- আজ বের হওয়ার আগে দেখে নিন কোন মার্কেট বন্ধ
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে দেখে নিন আজকের দাম
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা
- কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার
- ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক
- ইয়ামালকে থামানোর উপায় কী? স্কালোনি বললেন ‘রুমে তালা মেরে রাখা’
- ৮ গোলে মেসি-এমবাপ্পের সমতা, গোল্ডেন বুটের ফয়সালা হবে যেভাবে
- সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিল ইরান
- কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে বিশ্লেষকদের রেকর্ড ভাঙা ভবিষ্যৎবাণী
- জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসির বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম
- তথ্য বিকৃত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
- ১৫০ দিনেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে সরকার: মাহদী আমিন
- ঢাকার দূষণ ও যানজট রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ
- ইরানে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প, ইসরায়েলে ধেয়ে আসছে আরও ডজনখানেক মার্কিন যুদ্ধবিমান
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- শনিবার বন্ধ রাজধানীর বহু মার্কেট, দেখুন তালিকা
- দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?
- 'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
- কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: সীমান্তে জ্বলছে আগুন, নেপথ্যে কী?
- হরমুজের সেতু উড়িয়ে দিল মার্কিন মিসাইল: ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?
- শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই বিপ্লবের ইমাম ও রূহানী নেতৃত্ব: নাহিদ ইসলাম
- ঢাকার দোরগোড়ায় ৭.৫ মাত্রার মহা-ভূমিকম্পের শঙ্কা, ৩-৫ শত বছরের চক্র এখন পূর্ণ
- হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট
- জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে
- ম্যাচ হেরে মাঠেই মেজাজ হারালেন বেলিংহাম, আর্জেন্টিনার বারকোর মাথায় চড়!
- কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৬৫% বেশি প্রাইজমানি নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিশ্বকাপ
- রাত ১টার মধ্যে ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
- মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান
- এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নতুন বার্তা
- ইংল্যান্ডকে হারানোর পর বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের
- আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু চব্বিশের অর্জন হারাতে দেব না: জামায়াত আমির
- জিলা স্কুল থেকে বেরোবি গেট: ১৬ জুলাই রংপুরের রাজপথে পুলিশের বর্বরোচিত হামলা
- স্বামীবাগে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে হঠাৎ অসুস্থ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল
- জিয়াউর রহমান হত্যার ৪৫ বছর পর ডিওএইচএস থেকে খুনি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
- বেনজীর ও হাদী হত্যার আসামিদের দ্রুত ফেরত চায় বাংলাদেশ, আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’
- স্বর্ণবাজারে নতুন ধাক্কা, এক লাফে বাড়ল ভরির দাম








