ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হাম: আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় বাবা-মায়েদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করা হাম রোগের প্রকোপে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে এক শিশু এবং হামের তীব্র উপসর্গে বাকি তিন শিশু মারা গেছে। একই সময়ের ব্যবধানে সারা দেশে হাম এবং এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২০৫টি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে মোট ৬০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৩৬টি শিশু সন্দেহভাজন হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময়ের পরিসংখ্যানসহ দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৭০৮ জনে।
এর পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী (কনফার্মড কেস) হিসেবে শনাক্ত হয়েছে আরও ৬৯টি শিশু। এই নতুন শনাক্তের ফলে দেশে এখন পর্যন্ত ল্যাব টেস্টে প্রমাণিত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯ হাজার ২৬০ জন।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হয়েছিল মোট ৬১ হাজার ১৯৪ জন শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা ও সেবা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে ৫৭ হাজার ১৪২ জন। স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্যমতে, সামগ্রিক মৃতের সংখ্যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ল্যাব টেস্ট ছাড়া কেবল তীব্র উপসর্গ বা সন্দেহজনক হামে মারা গেছে ৫১৪ জন এবং ল্যাব টেস্টে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৯১টি শিশু।
/আশিক
১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটটি কোনোভাবেই সাংবিধানিক ছিল না, বরং তা একটি সম্পূর্ণ বেআইনি আদেশের ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোনো প্রকার পূর্ব সমঝোতা ছাড়াই আকস্মিকভাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এর দোহাই দিয়ে জনগণের ওপর একটি ছলচাতুরিপূর্ণ গণভোট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সব কথা বলেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিনসহ অনেকে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের সাথে হওয়া ওই গণভোটের তীব্র সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেই ভোটপ্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ অপকৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে জটিল চারটি আলাদা প্রশ্নের বিপরীতে ভোটারদের জন্য কেবল একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ উত্তর দেওয়ার বিধান রাখা হয়, যা মোটেও যৌক্তিক ছিল না। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেটির পক্ষে জনগণের সমর্থন আছে কি না—কেবল সেই একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের ওপরই গণভোটটি আয়োজন করা উচিত ছিল।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের কাজের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, সেই সময় এমন কিছু অধ্যাদেশ ও কমিশন করা হয়েছিল, যার সুনির্দিষ্ট কোনো কার্যকারিতা ছিল না; বরং তা করা হয়েছিল কেবল কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে। সেই সব কমিশনের কারণে গুমের শিকার হওয়া ভিকটিম বা তাদের পরিবারগুলো আইনি প্রতিকারের জন্য কোথায় যাবে, তা মোটেও পরিষ্কার ছিল না।
এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড এবং দেশীয় সংস্কৃতির সুন্দর মেলবন্ধনে আগামী সংসদ অধিবেশনেই একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ পাস করতে যাচ্ছে। এই নতুন আইনে গুমের বিভিন্ন স্তর, অপরাধের সুনির্দিষ্ট সাজা এবং বিচারিক এখতিয়ার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা থাকবে। একই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মানবাধিকার কমিশনের প্রচলিত আইনকেও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার আইনের সংস্কারের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মীয় অনুভুতি, সামাজিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় সংহতির বিষয়টিকে কঠোরভাবে বিবেচনা করা হবে, যাতে এলজিবিটিকিউ (LGBTQ)-এর মতো সমাজ-স্বীকৃত নয় এমন কোনো পশ্চিমা সংস্কৃতি দেশের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া না যায়।
বক্তব্যের শুরুতে দেশের সাম্প্রতিক মব জাস্টিস বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার কড়া সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উন্মত্ত জনতা কোনোদিন কোনো অবস্থাতেই ন্যায়বিচার বা জাস্টিস প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। এটি একটি অত্যন্ত জঘন্য অপকালচার। বিগত দিনে দেশে আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ না থাকার কারণেই সমাজে এই মব কালচারের সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রশাসন এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের হাত ধরেই সমাজে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতের অনেক বিচারক এখনো প্রথাগত রাজনৈতিক বিবেচনা ও মানসিকতা নিয়ে চেয়ারে বসে আছেন, যার কারণে সাধারণ মানুষ মাঠপর্যায়ে চরম অবিচারের শিকার হচ্ছেন।
বিগত প্রহসনের নির্বাচনগুলো এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের সময় বিচার বিভাগের একটি অংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন কায়েম করতে হলে একটি সমন্বিত ও যৌথ পদক্ষেপ প্রয়োজন। রাষ্ট্রকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে তাদের রাজনৈতিক জোটের ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফাতেই একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন গঠনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাড়াহুড়ো করে জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিতর্কিত অল্প কয়েকটি বাদে বাকি সব অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ায় পাস করে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করেছে। তবে রাষ্ট্রের স্থায়ী কাঠামো সংস্কারের জন্য সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক সংশোধনী আনা জরুরি।
দেশের সংবিধানকে একটি পরিবর্তনশীল ও জীবন্ত দলিল হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানে ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধানটি আবার ফিরে এসেছে। তাই সংবিধানের প্রস্তাবনা কিংবা কোনো মৌলিক অনুচ্ছেদ পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হলে কেবল রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বৈধ গণভোটের আয়োজন করতে হবে, তবে বিগত ১৭ ফেব্রুয়ারির ত্রুটিপূর্ণ গণভোটটি সেই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে না।
বিগত রাজপথের আন্দোলনের ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে দলের লাখ লাখ নেতাকর্মী রাজপথে অবিরাম আন্দোলন ও সংগ্রাম করে গেছেন। পরবর্তীতে সেই আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আবু সাঈদের মতো অসংখ্য ছাত্র-জনতার বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়েছে।
বিগত ১৯ জুলাইয়ের দিনটিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ শহীদ হয়েছিলেন—তা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, যারা আজ কেবল সরকারের মন্ত্রী কিংবা উপদেষ্টা হওয়ার জন্য জুলাইয়ের মহান চেতনাকে সস্তা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন, তাদের পুরাতন ব্যবস্থার আদলে পর্দার আড়ালে আওয়ামী লীগের দোসর কিংবা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ ও লবিং অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
দেশের রাজনীতিতে ‘দায় ও দরদের রাজনীতি’ কিংবা ‘নতুন বন্দোবস্ত’-এর মতো ভারী ও তাত্ত্বিক শব্দ ব্যবহারকারী এক শ্রেণির সুশীল বুদ্ধিজীবীদের কড়া সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এত বেশি বাক্যবিশারদ বা কথার জাদুকর হওয়া দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। আপনাদের এই তথাকথিত নতুন বন্দোবস্তের ভেতরের আসল রূপ কী, তা দয়া করে রাখঢাক না করে দেশের জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরুন।
দেশের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজেদের হীন ও সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কখনো ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে সামনে আনা, আবার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে কেবল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে এককভাবে ব্যবহার করার দ্বিমুখী রাজনীতি এ দেশে আর চলবে না। দেশে ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের পুনরুত্থান শক্ত হাতে ঠেকাতে এবং স্বৈরাচারের ফেরার সব পথ চিরতরে বন্ধ করতে দেশের গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতি এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যকে আরও বেশি শক্তিশালী ও মজবুত করার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান মন্ত্রী।
/আশিক
আগাম ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঘোরা যাবে বিশ্বের ৩৬টি দেশ
যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক স্বনামধন্য বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও আবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স' প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করে থাকে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সূচকটি মূলত বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের কার্যকারিতা, সক্ষমতা এবং নাগরিকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ স্বাধীনতার একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
২০২৬ সালের প্রকাশিত সর্বশেষ বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাসপোর্ট বর্তমানে বিশ্বের ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে। এই নতুন রেঙ্কিং অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারী নাগরিকরা পৃথিবীর মোট ৩৬টি স্বাধীন দেশ ও বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কোনো প্রকার আগাম বা পূর্ব ভিসা ছাড়াই সরাসরি ভ্রমণের বিশেষ সুবিধা উপভোগ করছেন।
বাংলাদেশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক এই ভিসা সুবিধার আওতায় রয়েছে সম্পূর্ণ ভিসা ছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশে প্রবেশের সুযোগ, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ই-ভিসা সুবিধা। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের সুবিধার্থে আগাম ভিসা ছাড়া যাতায়াতযোগ্য ৩৬টি দেশের ভৌগোলিক অঞ্চলভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলো:
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশি দক্ষিণ এশিয়ার ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দর্শনীয় দুই দেশ কম্বোডিয়া এবং তিমুর লিস্তে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা মিলবে।
অপরূপ সৌন্দর্যের ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের মোট ১১টি দেশ ও দ্বীপাঞ্চলে বাংলাদেশিরা আগাম ভিসা ছাড়া যেতে পারবেন। এই তালিকায় রয়েছে বাহামাস, বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।
আফ্রিকা মহাদেশের লড়াকু ও বৈচিত্র্যময় দেশগুলোর মধ্যে বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কোমোরো আইল্যান্ডস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা, সিচিলিস, সিয়েরা লিওন এবং গাম্বিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই আগাম ভিসা মুক্ত সুবিধা কার্যকর রয়েছে।
সবশেষে ওশেনিয়া বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, নিউই, সামোয়া, টুভ্যালু এবং ভানুয়াতু রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে আগে থেকে ভিসার আবেদন করার কোনো প্রয়োজন নেই।
তবে যেকোনো আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা সরকারি ইমিগ্রেশন পোর্টাল থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়া শ্রেয়। যেহেতু বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ভিসা নীতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভ্রমণের ঠিক পূর্বে সরকারি ওয়েবসাইট অথবা নির্দিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যটি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া প্রতিটি ভ্রমণকারীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।
/আশিক
তথ্য বিকৃত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
দেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য বিকৃত করে ট্রল ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এই ধরনের ছড়ানো অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা একটি জ্ঞানভিত্তিক, সুন্দর ও শিক্ষিত জাতি গঠনের অগ্রযাত্রায় বড় অন্তরায় বা বাধা হিসেবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই সব কথা বলেন।
ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সরকারের এই উন্নয়নমুখী প্রচেষ্টাকে ব্যাহত ও বাধাগ্রস্ত করতে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়াচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলা।
শিক্ষামন্ত্রী আরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, সমাজে গুজব ও বিকৃত তথ্যের নেতিবাচক চর্চা বন্ধ করে তার বিপরীতে সত্য ও ইতিবাচক তথ্যের চর্চা ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুদৃঢ় ও শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমাজের সব স্তরের মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
নওগাঁর এই অনুষ্ঠানটির মূল পর্বে যাওয়ার আগে মন্ত্রী শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় অবস্থিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পৌঁছান এবং সেখানে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত গ্রন্থাগার এবং কম্পিউটার ল্যাব সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
উচ্চপর্যায়ের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাবিদ ও সরকারের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
এ ছাড়াও ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
১৫০ দিনেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে সরকার: মাহদী আমিন
বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পাঁচ মাসে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। বর্তমান সরকারের ক্ষমতাসীনের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র উল্লেখ করেন, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১৫০ দিনের মধ্যে বর্তমান সরকার দেশের আপামর জনগণের কাছে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য আইনি কাঠামো তৈরি করে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলের অনিয়ম দূর করতে বিভিন্ন স্তরে কাজ চলছে।
ড. মাহদী আমিন বিগত সরকারের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে জানান, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভারত সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ দেশে ফেরত আনার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে বিশ্বের ১০টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
দেশের স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও শূন্যপদগুলো পূরণের লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। অন্যদিকে প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য দীর্ঘ সময় সঠিক উপায়ে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে ২ হাজারটি আধুনিক মিনি কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের একটি বড় পরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছে।
দেশের আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি দূর করতে এবং আর্থিক তারল্য বজায় রাখতে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংস্কার, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গত ৫ মাসে বর্তমান প্রশাসন যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে।
সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা প্রসঙ্গে ড. মাহদী আমিন বলেন, চট্টগ্রামে বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বহুমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা, আর্থিক অনুদান এবং পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ নানা ধরনের পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম বর্তমানে মাঠপর্যায়ে চলমান রয়েছে।
সরকারের মূল লক্ষ্য তুলে ধরে মুখপাত্র স্পষ্ট করেন যে, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে বাক স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের আর্তনাদকে ধারণ করে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কার্যকর করতে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে সব দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আইনগত বিচার নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে, সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে মূল্যায়ন করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না।
সবশেষে সাম্প্রতিক এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী তৃতীয় পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, বরং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সম্পূর্ণ অভিভাবকসুলভ আচরণ করা হবে।
/আশিক
ঢাকার দূষণ ও যানজট রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ
রাজধানী ঢাকার বায়ু ও শব্দদূষণ রোধ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী সব ধরনের যানবাহন দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মহানগরের যানজট ও যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে আরও অন্তত ৫০টি পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সংকেত বা অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম চালুর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাজধানীসহ দেশের সামগ্রিক পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বিশেষ করে বায়ু ও শব্দদূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়াকে চিহ্নিত করে তা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে বিকল্প ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, দূষণকারী চিরাচরিত ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও বৈঠকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সড়কগুলোতে যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত হর্ন বাজানোর প্রবণতা বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। হর্ন বাজানোর শাস্তিমূলক বিধানগুলো মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সড়কে শব্দদূষণ ও হর্ন বাজানোর প্রবণতা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বর্তমানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে, ঠিক একইভাবে অননুমোদিত ও অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারকারী যানবাহন শনাক্তে এই এআই প্রযুক্তিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তার একটি কার্যকর রূপরেখা তৈরির বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সেবা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
‘জুলাই সনদের’ প্রতিটি অক্ষর বর্তমান সরকারই বাস্তবায়ন করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সাথে তিনি বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলনকে শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 'প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টার' এই সভার আয়োজন করে।
বিরোধীদের রাজপথের হুমকির জবাব
স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিরোধী দলের সাম্প্রতিক আন্দোলনের হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "বিরোধী দল থেকে বলা হচ্ছে—'জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি, সংস্কার আদায় না হলে রাজপথে ফায়সালা হবে'। অথচ এই জুলাই সনদে আমরা সবাই একসাথেই স্বাক্ষর করেছি। যে দলগুলো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, তারা সবাই মিলেই এটি তৈরি করেছি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা বারবার বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব। কিন্তু বিরোধী দল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়। আমরা চাই না জুলাই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।"
গণভোট ও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দ্বিমত
সংবিধান ও নির্বাচনী সংস্কারের নানা বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। গণভোট ও উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "গণভোটের একটা অংশ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। বিশেষ করে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। অথচ এখন সেখানেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।"
সংস্কার কমিশনের কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আমাদের সম্মতি ছাড়াই সেদিন সংস্কার কমিশন যেভাবে বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসেছিল, তা নিয়ে আমি নিজেই স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম যে—এটি জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।"
'সংস্কার নয়, আমরা সংবিধান সংশোধন চাই'
দলীয় ইশতেহার ও জুলাই সনদের সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "জুলাই সনদের মূল বইটা পড়লে দেখা যাবে, সেখানে স্পষ্ট বলা আছে—যে ম্যানিফেস্টো (ইশতেহার) দিয়ে দলগুলো নির্বাচিত হবে, প্রতিটি দল তাদের সেই ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়ন করবে। আমরা আমাদের ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড, ঠিক তেমনিভাবে জুলাই সনদেও কমিটেড। কিন্তু সেটা আমরা আমাদের নিজস্ব রূপরেখা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে চাই। এখানে বিরোধীরা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।"
রাজনীতিতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সুযোগ নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "বিরোধী দলের অনেকে এখন বিভিন্ন মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দেশের জনগণ সবচেয়ে ভালো বোঝেন এবং তারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের যে ম্যানিফেস্টোকে জয়ী করেছে, সেই টু-থার্ড (দুই-তৃতীয়াংশ) মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।"
জুলাই আন্দোলন ১৮ বছরের লড়াইয়ের ফসল
জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, "জুলাইয়ের আন্দোলন হঠাৎ করে হওয়া কোনো আন্দোলন নয়। এটি হলো দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ বছর ধরে চলা নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ের একটি চূড়ান্ত পরিণতি।"
স্মরণসভায় মরহুম অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, "মরহুম এমাজউদ্দীন স্যার ছিলেন আমাদের লিবারেল ডেমোক্রেসির বাতিঘর। কোনো প্রাপ্তির আশা ছাড়াই তিনি আজীবন গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে পথ দেখিয়েছেন। ১৯৭১ ও ২০২৪-এর চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই হবে তার প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।"
স্মরণসভার অন্যান্য বক্তা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি ও আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আবুল কাশেম হায়দার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ মাসুম।
জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনের দীর্ঘ ৪৫ বছরের অন্তরালের জীবনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্বরোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর মোজাফফর তাঁর দীর্ঘ আত্মগোপন জীবনের সিংহভাগ সময়ই প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতে কাটিয়েছেন।
একপর্যায়ে তিনি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ছদ্মনাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যাতায়াতও করতেন। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলার পর অবশেষে বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম ঐতিহাসিক এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে জানান, মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বিভিন্ন কৌশলে আইনের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ডিএমপির বিশেষ সূত্র মারফত জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরবর্তী সামরিক আইন অনুযায়ী কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি করার উদ্দেশ্যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইতিহাসের পাতায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল পথভ্রষ্ট সেনা কর্মকর্তার গুলিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নৃশংসভাবে শাহাদাতবরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সেনা বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং কিলিং স্কোয়াডের সামনের সারির সদস্য ছিলেন এই মেজর মোজাফফর। এমনকি সার্কিট হাউসের অন্ধকার কক্ষে তিনিই প্রথম জিয়াউর রহমানকে সরাসরি শনাক্ত করেন এবং অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করেছিলেন।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরপরই সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ বেশ কয়েকজন জড়িত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্রোহ ও হত্যার দায়ে গঠিত সামরিক আদালতে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল এবং অন্য অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে ওই সময় মোজাফফর হোসেন সুকৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান, যার ফলে তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ডিবির জালে ধরা পড়লেন ইতিহাসের এই পলাতক খুনি।
/আশিক
জিয়াউর রহমান হত্যার ৪৫ বছর পর ডিওএইচএস থেকে খুনি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বিভিন্ন ছদ্মনাম ও কৌশলে পলাতক ছিলেন। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী সামরিক কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি করার জন্য মোজাফফরকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান নৃশংসভাবে নিহত হন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে এসেছিলেন মূলত দলের স্থানীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে।
অভিযোগ রয়েছে, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি কিলিং স্কোয়াডে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই মোজাফফর হোসেন। এমনকি সার্কিট হাউসের অন্ধকার ঘরে তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে সরাসরি ব্রাশফায়ার করেন।
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর সেনাবাহিনীর ত্বরিত অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তৎকালীন চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি পরবর্তীতে নিহত হন। এই সেনা বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে গঠিত সামরিক আদালতের বিচারে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরপরই মোজাফফর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। সে সময় তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন ভারতে ছদ্মনাম ব্যবহার করে আত্মগোপনে ছিলেন এবং একপর্যায়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ যাতায়াতও করতেন। অবশেষে গোয়েন্দা নজরদারির জালে আটকা পড়ে ডিওএইচএস এলাকা থেকে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেন এই মোস্তফা কামালের মতো দীর্ঘমেয়াদী পলাতক খুনি।
/আশিক
বেনজীর ও হাদী হত্যার আসামিদের দ্রুত ফেরত চায় বাংলাদেশ, আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ এবং ভারতে আটক শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া আশা করছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং ভারত থেকে হাদী হত্যা মামলার তিন সন্দেহভাজনকে প্রত্যর্পণের (Extradition) জন্য আমাদের পক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, উভয় দেশের সরকারের কাছ থেকে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক ও চূড়ান্ত সাড়া পাব।’
ব্রিফিংয়ে সাবেক আইজিপির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ইউএই কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বাংলাদেশ অত্যন্ত দ্রুততা দেখিয়েছে। প্রত্যর্পণের নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও, বাংলাদেশ মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব আইনি ও দাপ্তরিক নথি ইউএই প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে।
অন্যদিকে, শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সব ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নথি পাঠানো হয়েছে। ওই তিন সন্দেহভাজন বর্তমানে ভারতে স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে আইনি কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থাতেও বিশেষ বিবেচনায় তাদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার সুযোগ রয়েছে। সরকার সেই আইনি পথেই এগোচ্ছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ টেনিস কোর্টে, স্পেনের জয় নিয়ে আশাবাদী নাদাল
- ঘরে বসে যেভাবে সরাসরি স্মার্টফোনে দেখবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ
- গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- ১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আগাম ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঘোরা যাবে বিশ্বের ৩৬টি দেশ
- সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে সরকার ভাঙার আন্দোলন: ডা. শফিকুর রহমান
- যুক্তরাষ্ট্রকে কখনো ভুলতে না পারার মতো শিক্ষা দেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির
- ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
- ১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন
- ১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা
- ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'
- ১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম, ফ্রান্সের দুঃস্বপ্নের রাত
- আজ বের হওয়ার আগে দেখে নিন কোন মার্কেট বন্ধ
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে দেখে নিন আজকের দাম
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা
- কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার
- ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক
- ইয়ামালকে থামানোর উপায় কী? স্কালোনি বললেন ‘রুমে তালা মেরে রাখা’
- ৮ গোলে মেসি-এমবাপ্পের সমতা, গোল্ডেন বুটের ফয়সালা হবে যেভাবে
- সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিল ইরান
- কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে বিশ্লেষকদের রেকর্ড ভাঙা ভবিষ্যৎবাণী
- জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসির বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম
- তথ্য বিকৃত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
- ১৫০ দিনেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে সরকার: মাহদী আমিন
- ঢাকার দূষণ ও যানজট রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ
- ইরানে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প, ইসরায়েলে ধেয়ে আসছে আরও ডজনখানেক মার্কিন যুদ্ধবিমান
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- শনিবার বন্ধ রাজধানীর বহু মার্কেট, দেখুন তালিকা
- দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?
- 'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
- কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: সীমান্তে জ্বলছে আগুন, নেপথ্যে কী?
- হরমুজের সেতু উড়িয়ে দিল মার্কিন মিসাইল: ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?
- শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই বিপ্লবের ইমাম ও রূহানী নেতৃত্ব: নাহিদ ইসলাম
- ঢাকার দোরগোড়ায় ৭.৫ মাত্রার মহা-ভূমিকম্পের শঙ্কা, ৩-৫ শত বছরের চক্র এখন পূর্ণ
- হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট
- জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে
- ম্যাচ হেরে মাঠেই মেজাজ হারালেন বেলিংহাম, আর্জেন্টিনার বারকোর মাথায় চড়!
- কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৬৫% বেশি প্রাইজমানি নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিশ্বকাপ
- রাত ১টার মধ্যে ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
- মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’








