বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ: ফিফার সাথে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ২১:৫৫:৫০
বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ: ফিফার সাথে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের জমজমাট ম্যাচগুলো বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচারের লক্ষ্যে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার সঙ্গে বর্তমান সরকারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সব প্রক্রিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভি (বাংলাদেশ টেলিভিশন) এবারের বিশ্বকাপের সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করার দায়িত্ব পাবে। এর ফলে বৈশ্বিক ফুটবলের এই মেগা আসর টেলিভিশনের পর্দায় দেখা নিয়ে দেশের কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের মনে যে সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকাংশেই দূর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজ বুধবার (৩ জুন) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের নির্ভরযোগ্য দুটি পৃথক সূত্র গণমাধ্যমকে এই ইতিবাচক অগ্রগতির খবর নিশ্চিত করেছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নাম প্রকাশ করে গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই বিশেষ উদ্যোগের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, জনগণের করের টাকা বা রাষ্ট্রীয় তহবিলের কোনো অর্থ (পাবলিক মানি) ব্যয় না করে দেশের সাধারণ দর্শকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ করে দিতে সব পক্ষের সাথে নিবিড় আলোচনা চালানো হচ্ছে এবং এই আলোচনার ফলাফল এখন পর্যন্ত বেশ সন্তোষজনক।

মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল সম্প্রচারস্বত্ব কোনো ধরনের বড় আর্থিক লেনদেন ছাড়া বা বিনামূল্যে পাওয়ার কৌশলগত লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ফিফার নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে কয়েক দফা ফলপ্রসূ বৈঠক ও যোগাযোগ করা হয়েছে। বিশেষ এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ার সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের শীর্ষ কর্তারা সরাসরি যুক্ত থেকে কাজ করছেন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আলোচনার বর্তমান যে ইতিবাচক মোড়, তাতে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা এবার অত্যন্ত সহজ উপায়েই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন। ফিফার সবুজ সংকেত ও আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ামাত্রই বিটিভি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্প্রচারস্বত্ব নিজেদের নামে গ্রহণ করবে।

রাষ্ট্রীয় এই চ্যানেলটি স্বত্ব পাওয়ার পর দেশের যেসব বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা ডিজিটাল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিশ্বকাপ সরাসরি দেখাতে আগ্রহী হবে, তারা নিয়ম মেনে বিটিভি থেকে ফিড বা ডাউনলিংক স্বত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এই ফুটবল সম্প্রচার সংক্রান্ত আলোচনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে আসতে পারে।

/আশিক


নেপালকে বধ করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৯:৫০:২০
নেপালকে বধ করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

সুপার সাব মোসাম্মাৎ সাগরিকার শেষ মুহূর্তের জাদুকরি গোলে নেপালকে পরাস্ত করে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (৩ জুন) ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে নেপালি মেয়েদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। এর আগের দুটি আসরেও এই নেপালকে পরাজিত করেই শিরোপা ঘরে তুলেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা, যার ফলে এবার দলটির সামনে রয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের এক অনন্য সুবর্ণ সুযোগ।

ম্যাচের দ্বিতীয়রীতি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুই বদলি ফুটবলার শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সাগরিকার দুর্দান্ত বোঝাপড়ায় জয়সূচক গোলটি পায় বাংলাদেশ। মাঠের ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে গোলমুখে নিখুঁত পাস বাড়ান শামসুন্নাহার, যেখানে নেপালের একজন ডিফেন্ডার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে সাগরিকো কোনো ভুল না করে বল জালে জড়িয়ে দেন।

এই গোলের সুবাদে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং ম্যাচের বাকি সময়টুকু এই লিড ধরে রেখে ফাইনালে যাওয়ার আনন্দ উল্লাসে মাতে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা। এর আগে ম্যাচের ২৩ মিনিটেই গোল হজম করে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে দেশের অন্যতম সেরা তারকা ঋতুপর্ণা চাকমার অসাধারণ কর্নার কিক থেকে সমতায় ফেরে দল। ডানপ্রান্ত থেকে নেওয়া ঋতুপর্ণার সেই জোরালো শট নেপালি গোলরক্ষক হাত দিয়ে স্পর্শ করলেও বলের গতি থামাতে পারেননি, ফলে বল সরাসরি জালে জড়ায়।

এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে দিপা শাহীর কর্নার কিক বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারলে ফাঁকায় থাকা গিতা রানা সুযোগ বুঝে বল জালে পাঠিয়ে নেপালকে প্রথম লিড এনে দিয়েছিলেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রীতি রানীর একটি শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে ক্রসবারে প্রতিহত হলে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ, যার ফলে ১-১ সমতা নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ হয়।

দলের আক্রমণের ধার বাড়াতে কোচ পিটার বাটলার ম্যাচের ৪০ মিনিটেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন; সুরভী আকন্দ প্রীতির বদলে শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং উমেহলা মারমার জায়গায় তহুরা খাতুনকে মাঠে নামান। ম্যাচের শেষভাগে আনিকাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় সাগরিকাকে, আর কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েই দলকে ফাইনালে তোলেন এই স্ট্রাইকার।

ম্যাচের দ্বিতীয়োর্ধেও বেশ কিছু রোমাঞ্চকর মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ৪৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে নেপালের রেখা পাউদেল শট নিলেও তা পোস্টে লেগে ফিরে আসলে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। আবার ৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা সাগরিকার একটি নিশ্চিত গোলের শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা।

ভুটানের রেফারি নির্ধারিত ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়কে টেনে প্রায় ১৩ মিনিট পর্যন্ত খেলা পরিচালনা করলেও শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেপালের বিপক্ষে টানা তৃতীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে খেলেছেন মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন (মনিকা চাকমা, ৪৬ মিনিট), মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী (সাগরিকা), উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

/আশিক


পরবর্তী মহাতারকা কে? বিশ্বকাপে নজর থাকবে যে ১০ তরুণের ওপর

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১০:৩৩:২৭
পরবর্তী মহাতারকা কে? বিশ্বকাপে নজর থাকবে যে ১০ তরুণের ওপর
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্ব এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে ষষ্ঠবারের মতো এবং সম্ভবত শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে লড়বেন দুই কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে একসঙ্গে অভিষেক হওয়া এই দুই মহাতারকার বিদায়ের মঞ্চ প্রস্তুত। রোনালদোর বয়স এখন ৪১ আর মেসির বয়স আগামী ২৪ জুন পূর্ণ হবে ৩৯।

এই দুই কিংবদন্তির বিদায়ের লগ্নে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে ধরবেন আগামী দিনের হাল? কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এবারের বিশ্বকাপের সেরা ১০ উদীয়মান ফুটবলারের তালিকা, যারা বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

কেনান ইলদিজ (তুরস্ক)

জুভেন্টাসের ২১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার কাম উইঙ্গার এখন তুরস্কের ৫ কোটি ফুটবল ভক্তের বড় আশার প্রতীক। তুরস্ক শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছিল ২০০২ সালে, যখন ইলদিজের জন্মও হয়নি। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া জুভেন্টাসের এই নতুন ‘১০ নম্বর’ তারকা ২০২৩-২৪ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে কোপা ইতালিয়া জিতেছেন এবং সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ১১ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করে সেরি এ-র সেরা উদীয়মান তারকার পুরস্কার জিতেছেন। সতীর্থ আর্দা গুলারের সাথে জুটি বেঁধে এবার বিশ্বকাপে তুরস্ককে বহুদূর নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ ইলদিজের সামনে।

নিকো পাজ (আর্জেন্টিনা)

২১ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে আর্জেন্টিনার ফুটবল মহলে অনেকেই লিওনেল মেসির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। ইতালিয়ান সেরি এ-তে কোমোর হয়ে এই মৌসুমে ১২টি গোল এবং ৭টি অ্যাসিস্ট করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি। বার্সেলোনা ও চেলসির সাবেক কিংবদন্তি এবং বর্তমান কোমো কোচ সেস্ক ফাব্রেগাসের এই প্রিয় শিষ্য মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত বল জোগান দেওয়ার পাশাপাশি গোল করার ক্ষেত্রেও সমান পারদর্শী।

রায়ান (ব্রাজিল)

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বোর্নমাউথের ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের নতুন বিস্ময়। সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি গত মার্চেই এই তরুণকে জাতীয় দলে ডেকে চমকে দেন। সম্প্রতি পানামার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলও করেছেন তিনি। গত বছর ভাস্কো দা গামার হয়ে দারুণ পারফরম্যান্সের পর বোর্নমাউথে যোগ দিয়ে ক্লাবটিকে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ফুটবলে কোয়ালিফাই করতে অবিশ্বাস্য ভূমিকা রেখেছেন রায়ান।

গিলবার্তো মোরা (মেক্সিকো)

মেক্সিকোর ক্লাব তিহুয়ানার এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ২০২৪ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেক্সিকান লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়ে রেকর্ড বই ওলটপালট করে দেন। গত বছরের জুলাইয়ে কনকাকাফ গোল্ড কাপ জয়ে মেক্সিকো জাতীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বিজয়ীর অনন্য রেকর্ড গড়েন এই বিস্ময় বালক।

ইয়ান দিওমান্দে (আইভরি কোস্ট)

জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাব আরবি লাইপজিগের এই ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার সদ্য সমাপ্ত মরসুমে ১২টি গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করে পুরো ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছেন। লাইপজিগ ইতিমধ্যেই এই আফ্রিকান তরুণের বাজারমূল্য ১০ কোটি ইউরো বা ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি নির্ধারণ করেছে। এই মৌসুমে তিনি বুন্দেসলিগার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন।

নিকো ও'রিলি (ইংল্যান্ড)

ম্যানচেস্টার সিটির বিশ্বখ্যাত একাডেমি থেকে উঠে আসা ২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার লেফট-ব্যাক এবং অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার—উভয় পজিশনেই সমান দক্ষ। সিটি বস পেপ গার্দিওলার অধীনে এই মৌসুমে ৫০টিরও বেশি ম্যাচ খেলে নিজেকে চেলসি ও আর্সেনালের বিপক্ষে প্রমাণ করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ও'রিলির এই বহুমুখী প্রতিভা বড় অস্ত্র হতে যাচ্ছে।

লেনার্ট কার্ল (জার্মানি)

বায়ার্ন মিউনিখের ১৮ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান উইঙ্গার বায়ার্নের মূল দলের হয়ে নিজের প্রথম মৌসুমেই ৯টি গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। উইং ধরে তাঁর ক্ষিপ্র গতি এবং দারুণ ড্রিবলিং কৌশলের কারণে জার্মানির প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের বিশ্বকাপ কৌশলে তিনি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন।

লুকা ভুসকোভিচ (ক্রোয়েশিয়া)

ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে ধারে জার্মান ক্লাব হামবুর্গারে খেলা এই ১৯ বছর বয়সী সেন্টার ব্যাককে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী বলা হচ্ছে। ১.৯৩ মিটার বা প্রায় ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই ডিফেন্ডার যেমন রক্ষণ সামলাতে দক্ষ, তেমনই সেট পিসে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বুন্দেসলিগায় রক্ষণ সামলেও ইতোমধ্যে ৬টি গোল করেছেন।

কেইসুকে গোতো (জাপান)

২০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার ব্লু সামুরাই তথা জাপানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সবচেয়ে তরুণ সদস্য। বেলজিয়ামের ক্লাব সিন্ত-ট্রুইডেনসিতে খেলা ১.৯১ মিটার উচ্চতার এই স্ট্রাইকার চলতি মৌসুমে ১৩টি গোল করেছেন। জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু গোল খরা কাটাতে এবার এই তরুণ তুর্কির ওপর গভীর আস্থা রাখছেন।

আলি জাসিম (ইরাক)

২২ বছর বয়সী এই ইরাকি উইঙ্গার দুই বছর আগে অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাজমায় খেলা জাসিম এবার বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর কাঁধে ভর করেই এশিয়ার সিংহ ইরাক দীর্ঘ ৪০ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপে ফিরল।

সূত্র: আল জাজিরা


গ্রুপ ‘জে’ তে থাকা দলগুলোর চূড়ান্ত স্কোয়াড ও শক্তি বিশ্লেষণ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ২২:০৮:৪৬
গ্রুপ ‘জে’ তে থাকা দলগুলোর চূড়ান্ত স্কোয়াড ও শক্তি বিশ্লেষণ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত মঞ্চে লড়াই করতে যাওয়া ৪৮টি দেশই তাদের অফিসিয়াল স্কোয়াড ঘোষণা সম্পন্ন করেছে। এরই মধ্যে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চকর সূচিও প্রকাশ করেছে। আগামী ১১ জুন রাতে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে এই মহোৎসবের। এরপর টানা লড়াই শেষে আগামী ২৮ জুন শেষ হবে প্রথম পর্ব বা গ্রুপ পর্বের খেলা এবং একই দিন থেকেই শুরু হয়ে যাবে টুর্নামেন্টের হাই-ভোল্টেজ নকআউট পর্ব।

বিশ্বকাপের মহোৎসবে অংশ নিতে যাওয়া অন্যতম প্রধান ফেভারিট ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড নিচে দেওয়া হলো:

আর্জেন্টিনা স্কোয়াড

বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার মিশনে লিওনেল মেসির নেতৃত্বেই মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। কোচ লিওনেল স্কালোনির স্কোয়াডে চোট কাটিয়ে ফিরেছেন বেশ কয়েকজন নিয়মিত তারকা।

গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো।

ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মোলিনা, গনসালো মন্টিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনার্দো বালের্দি, নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, ফাকুন্দো মেদিনা।

মিডফিল্ডার: লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, রদ্রিগো দে পল, জিওভানি লো সেলসো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, এনজো ফার্নান্দেস, ভ্যালেন্তিন বার্কো।

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, থিয়াগো আলমাদা, নিকোলাস পাজ, নিকোলাস গনসালেস, জুলিয়ানো সিমিওনে, হোসে ম্যানুয়েল লোপেস।

আলজেরিয়া স্কোয়াড

আফ্রিকান পরাশক্তি আলজেরিয়া রিয়াদ মাহরেজের অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে বিশ্বকাপে বড় চমক দেখানোর লক্ষ্য নিয়ে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।

গোলরক্ষক: ওসামা বেনবট, মেলভিন মাস্টিল, লুকা জিদান।

ডিফেন্ডার: আশরাফ আবাদা, রায়ান আইত-নুরি, জিনেদ্দিন বেলাইদ, রাফিক বেলঘালি, রামিベンসেবাইনি, সামির শেরগুই, জাওয়েন হাদজাম, আইসা মান্দি, মোহামেদ তুগাই।

মিডফিল্ডার: হৌসেম আওয়ার, নাবিল বেনতালেব, হিচাম বুদাউই, ফারেস শাইবি, ইব্রাহিম মাজা, ইয়াসিন তিত্রাউই, রামিজ জেরুকি।

ফরোয়ার্ড: মোহামেদ আমুরা, নাধির বেনবুয়ালি, আদিল বুলবিনা, ফারেস ঘেদজেমিস, আমিন গুইরি, রিয়াদ মাহরেজ, আনিস হাজ মুসা।

অস্ট্রিয়া স্কোয়াড

ইউরোপের অন্যতম সুসংগঠিত দল অস্ট্রিয়া তাদের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবাকে দলে রেখেই বিশ্বকাপের শক্তিশালী স্কোয়াড সাজিয়েছে।

গোলরক্ষক: প্যাট্রিক পেনৎস, আলেকজান্ডার শ্লাগার, ফ্লোরিয়ান উইগেলে।

ডিফেন্ডার: ডেভিড আফেনগ্রুবার, ডেভিড আলাবা, কেভিন ডানসো, মার্কো ফ্রিডল, ফিলিপ লিনহার্ট, ফিলিপ মভেনে, স্টেফান পসখ, আলেকজান্ডার প্রাস, মাইকেল সভোবোদা।

মিডফিল্ডার: ক্রিস্টফ বাউমগার্টনার, কার্নি চুকুয়েমেকা, ফ্লোরিয়ান গ্রিলিচ, কনরাড লাইমার, মার্সেল সাবিৎসার, জাভের শ্লাগার, রোমানো শ্মিড, আলেসান্দ্রো শপফ, নিকোলাস সাইভাল্ড, পল ভানার, প্যাট্রিক ভিমার।

ফরোয়ার্ড: মার্কো আরনাউটোভিচ, মাইকেল গ্রেগোরিচ, সাশা কালাইডজিচ।

জর্ডান স্কোয়াড

এশিয়ান ফুটবলের উদীয়মান শক্তি জর্ডান তাদের সেরা তারকা মুসা আল তামারির ওপর ভরসা রেখে বিশ্বকাপের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ দল ঘোষণা করেছে।

গোলরক্ষক: ইয়াজিদ আবুলাইলাহ, আবদুল্লাহ আল ফাখুরি, আহমাদ আল জুয়াইদি, নূর বানী আত্তিয়া।

ডিফেন্ডার: মোহাম্মাদ আবু আলনাদি, ইউসুফ আবু আল জাজার, হুসাম আবু দাহাব, মোহাম্মাদ আবু হাশিশ, মোহান্নাদ আবু তাহা, ইয়াজান আল আরব, সাঈদ আল রোসান, আহমাদ আসসাফ, আনাস বাদাউই, আবদুল্লাহ নাসিব, ইহসান হাদ্দাদ, সালীম ওবাইদ, মোহাম্মাদ তাহা।

মিডফিল্ডার: মোহাম্মাদ আল দাউদ, নিযার আল রাশদান, নূর আল রাওয়াবদেহ, রাজাই আয়েদ, আমের জামুস, ইউসুফ কাশী, ইব্রাহিম সাদেহ।

ফরোয়ার্ড: মোহাম্মাদ আবু জুরাইক, মুসা আল তামারি, আলি আজাইজা, ওদেহ ফাখুরি, আলি ওলওয়ান, ইব্রাহিম সাবরা।

/আশিক


ইয়ামালের ১৯ বনাম ওলমোর ১০: জার্সি নম্বরে বড় চমক দিয়ে বিশ্বকাপের দল সাজাল স্পেন

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ২২:০৪:৫৭
ইয়ামালের ১৯ বনাম ওলমোর ১০: জার্সি নম্বরে বড় চমক দিয়ে বিশ্বকাপের দল সাজাল স্পেন
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত স্কোয়াড ও জার্সি নম্বর ঘোষণা করেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল ক্লাব ও ইউরোর মতো জাতীয় দলেও তাঁর পরিচিত ১৯ নম্বর জার্সিটিই ধরে রেখেছেন। তবে স্প্যানিশ শিবিরে সবচেয়ে বড় চমক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে বার্সার তরুণ মিডফিল্ডার গাভিকে ঐতিহ্যবাহী ‘৯ নম্বর’ জার্সি দেওয়ার সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, দলের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার দানি ওলমোর পিঠে উঠেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘১০ নম্বর’ জার্সি।

ফুটবলীয় সংস্কৃতিতে ‘৯ নম্বর’ জার্সিটি সাধারণত দলের প্রধান স্ট্রাইকার বা ফরোয়ার্ডদের জন্য বরাদ্দ থাকে। অতীতে স্পেনের হয়ে এই জার্সি পরে মাঠ কাঁপিয়েছেন ফার্নান্দো তোরেস ও আলভারো মোরাতার মতো কিংবদন্তি গোলশিকারিরা। ফলে একজন নিখাদ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের হাতে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ৯ নম্বর জার্সি তুলে দেওয়ার এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

দানি ওলমোকে ১০ নম্বর দেওয়া ছাড়াও দলের অন্যতম প্রধান দুই তারকা উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস খেলবেন ১৭ নম্বরে এবং মিকেল ওইয়ারসাবালকে দেওয়া হয়েছে ২১ নম্বর জার্সি। এছাড়া প্রথম সারির গোলরক্ষকদের মধ্যে ডেভিড রায়া পেয়েছেন ১ নম্বর জার্সি, আর উনাই সিমনের ভাগ্যে জুটেছে ২৩ নম্বর। স্পেনের এই জার্সি নম্বর বণ্টনকে অনেকেই ‘অপ্রচলিত’ বা অদ্ভুত বলে মন্তব্য করেছেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দলে মূল একাদশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন এমন কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে ঐতিহ্যগত ১ থেকে ১১ নম্বরের বাইরে রাখা হয়েছে।

ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের মতোই ফেভারিট স্পেন

জার্সি নম্বর ঘোষণার পাশাপাশি বিশ্বজয়ের ব্যাপারে নিজের শক্ত অবস্থান ও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে অতি-আত্মবিশ্বাসী না হয়ে শিষ্যদের সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যদিও আমরা ফেভারিটদের মধ্যে আছি। তবে আমাদের অবশ্যই বাস্তবতার মাটিতে পা রাখতে হবে। আমি এটা বলতে দ্বিধা করি না যে আমরা বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার। তবে আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে ইংল্যান্ড কিংবা ফ্রান্সও সমানভাবে ফেভারিট।”

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে ইরাক ও পেরুর বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে ‘লা রোহা’রা। এরপরই শুরু হবে তাদের আসল বিশ্বকাপ অভিযান। এবারের আসরে গ্রুপ ‘এইচ’-এ স্পেনের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে, সৌদি আরব ও উরুগুয়ে।

এক নজরে স্পেনের সম্পূর্ণ বিশ্বকাপ স্কোয়াড ও জার্সি নম্বর

ডেভিড রায়া (১), মার্ক পুবিল (২), আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো (৩), এরিক গার্সিয়া (৪), মার্কোস ইয়োরেন্তে (৫), মিকেল মেরিনো (৬), ফেরান তোরেস (৭), ফাবিয়ান রুইজ (৮), গাভি (৯), দানি ওলমো (১০), ইয়েরেমি পিনো (১১), পেদ্রো পোরো (১২), জোয়ান গার্সিয়া (১৩), আইমেরিক লাপোর্তে (১৪), আলেক্স বায়েনা (১৫), রদ্রি (১৬), নিকো উইলিয়ামস (১৭), মার্টিন সুবিমেন্দি (১৮), লামিনে ইয়ামাল (১৯), পেদ্রি (২০), মিকেল ওইয়ারসাবাল (২১), পাও কুবার্সি (২২), উনাই সিমন (২৩), মার্ক কুকুরেয়া (২৪), ভিক্টর মুনিয়োজ (২৫) এবং বোরহা ইগলেসিয়াস (২৬)।

/আশিক


মূল একাদশের চেয়ে কি ব্রাজিলের রিজার্ভ বেঞ্চ বেশি শক্তিশালী?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১২:১৫:০৭
মূল একাদশের চেয়ে কি ব্রাজিলের রিজার্ভ বেঞ্চ বেশি শক্তিশালী?
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের ঠিক ১২ দিন আগে ঘরের মাঠ মারাকানায় গোল উৎসব করল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গত রোববার সন্ধ্যায় কানায় কানায় পূর্ণ জ্যামপ্যাক্ট মারাকানা স্টেডিয়ামে পানামাকে ৬-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে কার্লো আনচেলত্তির দল সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী করে তুলেছে।

ব্রাজিলের হয়ে গোল উৎসবে মাতেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ক্যাসেমিরো, রায়ান, লুকাস পাকেতা, ইগর থিয়াগো ও দানিলো। তবে এই বড় জয়ের রাতেও প্রথমার্ধের মলিন পারফরম্যান্স কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কোচের। অন্যদিকে, বিরতির পর ১০টি পরিবর্তন এনে ব্রাজিলের চেনা ছন্দে ফেরার ঘটনাটি একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—সেলেকাওদের মূল একাদশের চেয়ে কি তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ বেশি কার্যকর?

দীর্ঘ ৯ মাস পর ঘরের মাঠে প্রিয় দলের খেলা দেখতে মারাকানায় জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ৭২ হাজার ব্রাজিল সমর্থক। দোরগোড়ায় বিশ্বকাপ থাকায় গ্যালারিজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। সমর্থকদের সেই উন্মাদনার রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের মাত্র দেড় মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে নেন পোস্টার বয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে ম্যাচের ১৪তম মিনিটে ভাগ্যের ছোঁয়ায় সমতা ফেরায় পানামা; একটি ফ্রি-কিক দেয়ালে দাঁড়ানো ম্যাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ব্রাজিলের জালে জড়ায়। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ভিনিসিয়ুসের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে ক্যাসেমিরো গোল করলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেলেকাওরা।

লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করলেও মাঠের ফুটবল মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। পুঁচকে পানামার বিপক্ষে ছড়ি ঘোরানো তো দূরের কথা, বল পজেশনেও (৫২ শতাংশ) পিছিয়ে ছিল আনচেলত্তির দল। মাঝমাঠে দুই নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেস পানামার প্রেসিংয়ের মুখে পুরোপুরি বোতলবন্দী ছিলেন, ফলে নিচ থেকে কোনো আক্রমণই দানা বাঁধছিল না।

আনচেলত্তি প্রথমার্ধে আক্রমণে ৪-২-৪ ও রক্ষণে ৪-৪-২ ফরমেশন ব্যবহার করেন, যা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। উইংয়ে ভিনিসিয়ুস কিছুটা আলো ছড়ালেও 'নম্বর নাইন' পজিশনে খেলা ম্যাথিউস কুনহা এবং তাঁর পেছনে থাকা রাফিনহা ও রাইট উইঙ্গার লুইজ হেনরিকে ছিলেন চরম ছন্দহীন। বক্স ছেড়ে কুনহার বারবার নিচে নেমে আসা ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে ভোঁতা করে দিয়েছিল।

লড়াকু প্রথমার্ধ দেখার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জুয়া খেলেন মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি। সেন্টার ব্যাক লিও পেরেরা ছাড়া গোলরক্ষকসহ দলের বাকি ১০ জন খেলোয়াড়কেই একসঙ্গে বদলে ফেলেন তিনি। একই সাথে ফরমেশন বদলে ৪-৩-৩ এ দল সাজাতেই আমূল বদলে যায় ব্রাজিলের ফুটবল। বেঞ্চ থেকে আসা তরুণ ফুটবলারদের গতি ও চনমনে ফুটবলের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মেলাতে পারেনি পানামা। মাঝমাঠে ফ্যাবিনহোর সঙ্গে লুকাস পাকেতা ও দানিলোর দারুণ বোঝাপড়ায় ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে আসে সেলেকাওদের হাতে। বিশেষ করে ১৯ বছর বয়সী তরুণ রায়ানের গতি এবং পাকেতার সৃষ্টিশীল পাসিং নজর কেড়েছে। দ্বিতীয়ার্ধেই আসে ম্যাচের বাকি ৪টি গোল।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলার কারণে এই ম্যাচে ছিলেন না দুই মূল সেন্টার ব্যাক মার্কুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহাস। তারা ফিরলে রক্ষণভাগের শক্তি বাড়ার পাশাপাশি একজন স্ট্রাইকার কমিয়ে মাঝমাঠে ফুটবলার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন আনচেলত্তি।

এদিকে, চোটের কারণে ম্যাচটি খেলতে না পারলেও গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন নেইমার জুনিয়র। পুরো স্টেডিয়াম করতালির মাধ্যমে এই তারকাকে বরণ করে নেয়। ম্যাচ শেষে ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত ছুটি দেওয়া হয়েছিল। ছুটি কাটিয়ে সোমবার বিকেলেই পুরো স্কোয়াড যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে। সেখানেই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন হাঙ্গেরি থেকে আসা মার্কুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহাস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিরা।

/আশিক


১০ জন নিয়ে পাকিস্তানকে রুখে দিল বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ২১:৫৪:১৮
১০ জন নিয়ে পাকিস্তানকে রুখে দিল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত চার জাতির ফুটবল টুর্নামেন্টে ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলার চরম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শক্তিশালী পাকিস্তানকে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আজ সোমবার (১ জুন) মালদ্বীপের মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যকার ম্যাচটি গোলশূন্য (০-০) ড্রতে শেষ হয়েছে। পুরো ম্যাচে বল দখল ও আক্রমণে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও, লাল-সবুজের রক্ষণের দৃঢ়তা ও গোলরক্ষকের বীরত্বে মাঠ ছেড়েছে ১ পয়েন্ট নিয়ে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা জমে ওঠে। প্রথমার্ধেই লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় গোল পাওয়া হয়নি। এবারের টুর্নামেন্টে পাকিস্তানি স্কোয়াডে ইউরোপ ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসী ফুটবলারদের আধিক্য থাকায় শারীরিক গঠন ও টেকনিক্যাল দিক থেকে তারা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। তবে মাঠের লড়াইয়ে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ দল তাদের সমানে সমানে টক্কর দিয়েছে।

ম্যাচে ১ পয়েন্ট পাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ঝুলিতে এসেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। পুরো ম্যাচে পাকিস্তানের নিশ্চিত কয়েকটি গোল একাই নসাৎ করে দিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। বিশেষ করে ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ডের একটি বুলেট গতির দূরপাল্লার শট বাঁ দিকে শূন্যে ঝাঁপিয়ে আংশিক সেভ করেন তিনি, যা পরে সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর পাকিস্তানি স্ট্রাইকারের বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া একটি বিপজ্জনক ড্রপ ভলি অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দিয়ে জাল অক্ষত রাখেন এই বাজপাখি।

ম্যাচের ৬২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ডিফেন্ডার মঞ্জুরুর রহমানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান ম্যাচ রেফারি। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, ফাউলের ঘটনার সঙ্গে মঞ্জুরুর মোটেও সম্পৃক্ত ছিলেন না। রেফারির এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ফুটবলাররা তীব্র প্রতিবাদ জানালেও লাভ হয়নি। উল্টো মাঠের উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানের গোলরক্ষককে বাংলাদেশের এক ফুটবলারকে আঘাত করতে দেখা গেলেও রেফারি সেখানে নীরব ছিলেন।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও দমে যায়নি বাংলাদেশ। উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে পাকিস্তানের ডিফেন্স কাঁপিয়ে দেয় লাল-সবুজরা। ম্যাচের শেষভাগে ফরোয়ার্ড আবদুল্লাহ ওমর গোল করার দুটি দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ম্যাচটি ড্র হলেও ১০ জন নিয়ে মাঠের এই লড়াইকে জয়ের সমতুল্যই মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

/আশিক


মায়ামি থেকে ব্যক্তিগত বিমানে কানসাসে মেসি; ফুটবল জাদুকরের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশন শুরু

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০১ ২১:৪৯:৩৭
মায়ামি থেকে ব্যক্তিগত বিমানে কানসাসে মেসি; ফুটবল জাদুকরের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশন শুরু
ছবি : সংগৃহীত

আরেকটি বিশ্বকাপ, আরেকটি নতুন স্বপ্ন। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে নিজেদের চতুর্থ ট্রফি জয়ের মহাকাব্যিক মিশন শুরু করে দিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গতকাল রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে এসে পৌঁছেছেন বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মহানায়ক ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মায়ামি থেকে একটি ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে তাঁর ছায়াসঙ্গী ও সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলকে সঙ্গে নিয়ে আর্জেন্টিনা শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনি। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ রাঙাতে ফুটবল জাদুকর যে পুরোপুরি প্রস্তুত, তা তাঁর শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট।

মেসি ও ডি পল শেষ দিকে যোগ দিলেও আর্জেন্টিনা দলের মূল বহরটি বুয়েনস আইরেস থেকে রওনা হয়ে রোববার দুপুরেই কানসাসে পৌঁছায়। যে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে চড়ে হুলিয়ান আলভারেস, এনসো ফার্নান্দেস, নিকোলাস ওতামেন্দিরা এসেছেন, সেটির নম্বর ছিল ‘এআর১৯৭৮’ (AR1978)। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সোনালি স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেওয়া এই নম্বরটি যেন দলের চতুর্থ ট্রফি জয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকেই পুনর্ব্যক্ত করছে। মূল স্কোয়াডের ১৮ জন ফুটবলারের পাশাপাশি মূল অনুশীলনে সহায়তার জন্য বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়কেও সঙ্গে এনেছেন দূরদর্শী কোচ লিওনেল স্কালনি।

এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা রক্ষণভাগের তারকা লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও বাজপাখি খ্যাত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসও ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের হাতে সম্পূর্ণ ব্যান্ডেজ দেখা যাওয়ায় ভক্তদের মনে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, তাঁর খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। দলের সঙ্গে এখনো যোগ দিতে পারেননি এএফএ (AFA) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। চ্যাম্পিয়নস লিগের মেগা ফাইনাল দেখতে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অবস্থান করায় পরবর্তীতে সরাসরি কানসাসে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি।

বর্তমানে কানসাস সিটির নবনির্মিত অভিজাত ‘অরিজিন হোটেল’-এ অবস্থান করছে আলবিসেলেস্তেরা। টুর্নামেন্ট চলাকালীন এটিই হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের মূল ঘাঁটি। হোটেল থেকে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত অত্যাধুনিক ‘স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টার’-এ আজ সোমবার ভোর থেকেই শুরু হয়েছে স্কালোনির শিষ্যদের কড়া অনুশীলন। তবে বছরের এই সময়ে কানসাসের আবহাওয়া বেশ পরিবর্তনশীল। তীব্র গরম, অতিরিক্ত আর্দ্রতা আর আকস্মিক ঝড়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই নতুন কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ফুটবলাররা।

মেসি সম্প্রতি ইন্টার মিয়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে খেলার সময় বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে কিছুটা চোট পেয়েছিলেন। তবে আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী ক্রীড়া দৈনিক ‘ক্লারিন’ নিশ্চিত করেছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই সম্পূর্ণ ফিট হয়ে উঠবেন এলএম১০ (LM10)। বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে দুটি প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচ খেলবে স্কালোনির দল। আগামী ৭ জুন টেক্সাসে হন্ডুরাসের বিপক্ষে এবং ১০ জুন আলাবামায় আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

/আশিক


বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ২২:০১:৫০
বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের শক্তি ও কৌশল ঝালিয়ে নিতে আজ রাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি আজ তাদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে উত্তর আমেরিকার দল পানামার। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক রিও ডি জেনেরিওর মারাকানা স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ম্যাচটি শুরু হবে, যা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আজ রোববার দিবাগত রাত (১লা জুন, সোমবার) সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে।

ব্রাজিলিয়ান প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে থাকা ফুটবল ভক্তদের জন্য ম্যাচটি জি (Ge) টিভির অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ফলে বাংলাদেশের ব্রাজিল সমর্থকরা কোনো ধরনের বাড়তি ঝামেলা বা ভোগান্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ম্যাচটি উপভোগ করতে পারবেন।

পানামার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য নিজেদের রণকৌশল ও চূড়ান্ত একাদশ এক সংবাদ সম্মেলনেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আজ ব্রাজিলের একাদশে বড় চমক হিসেবে লুইজ হেনরিকে ও লিও পেরেইরার মতো ফর্মে থাকা তারকারা জায়গা করে নিয়েছেন।

আজ পানামা ম্যাচে ব্রাজিলের চূড়ান্ত একাদশ

আলিসন বেকার (গোলরক্ষক); ওয়েসলি, ব্রেমার, লিও পেরেইরা, অ্যালেক্স সান্দ্রো; কাসেমিরো, ব্রুনো ফার্নান্দেস, লুইজ হেনরিকে; ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনিয়া ও রাফিনিয়া।

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে সেলেসাওরা আগামী ৭ই জুন তাদের দ্বিতীয় তথা শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে মোহামেদ সালাহর শক্তিশালী মিশরের। এরপরই শুরু হবে বহুল কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ মিশন। আগামী ১৪ই জুন ‘সি’ গ্রুপে থাকা ব্রাজিলের অফিশিয়াল বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২০শে জুন দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হাইতি এবং ২৫শে জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের লড়তে হবে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কোচ আনচেলত্তি ২৬ সদস্যের যে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন, তাতে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা নেইমার জুনিয়রের পাশাপাশি তরুণ তুর্কি এন্দ্রিক ও ভিনিসিয়ুসদের মতো একঝাঁক তারকা ফুটবলার রয়েছেন।

/আশিক


আরব সাগরের তীরে ভারতকে হারিয়ে আজও কি উৎসব করবে বাংলাদেশ?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১৮:১৬:৩৪
আরব সাগরের তীরে ভারতকে হারিয়ে আজও কি উৎসব করবে বাংলাদেশ?
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরাশক্তি বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ভারত। নারী ফুটবলের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিপক্ষে দীর্ঘদিনের হারের বৃত্ত ভেঙে ২০২২ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এরপর ২০২৪ সালের সাফেও গ্রুপ পর্বে ভারতকে স্তব্ধ করে জয়ের ধারা বজায় রাখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এ যাবৎ দুই দেশের মোট ১২ বারের মুখোমুখি দেখায় বাংলাদেশের জয় ওই দুটিই, একটি ম্যাচ ড্র হলেও বাকি ৯টি ম্যাচেই হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে ভারত।

আজ রবিবার (৩১ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ঠিক ৮টায় ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে গ্রুপ সেরা হওয়ার রাজকীয় লড়াইয়ে নামবে এই দুই দল। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ভারত—উভয়েরই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবাদে আজ ম্যাচটি কেবল ড্র করলেই ভারত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, যার অর্থ গ্রুপ সেরা হতে হলে বাংলাদেশের সামনে জয় ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।

গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার শিউলি আজিম বলেন, ভারত নিঃসন্দেহে অত্যন্ত শক্তিশালী দল। ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক বেশি কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে প্রতিটি দলেরই যেমন নিজস্ব শক্তি থাকে, তেমনি কিছু দুর্বলতাও থাকে। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, এই দলের সামর্থ্য আছে ভারতকে মাঠে ভোগান্তিতে ফেলার। কোচ যেভাবে রণকৌশল সাজাবেন, সেটাই দলের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক হবে।

এদিকে গত ম্যাচে বুকে তীব্র গ্যাস্ট্রিক ব্যথার কারণে খেলতে না পারা শিউলি আজিম ও মাঝমাঠের চালিকাশক্তি মনিকা চাকমা আজ ভারতের বিপক্ষে একাদশে ফিরছেন, যা দলের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের ব্রিটিশ প্রধান কোচ পিটার বাটলার প্রতিপক্ষকে পূর্ণ সমীহ জানিয়েও নিজের দলের ওপর অগাধ আস্থা প্রকাশ করেছেন। মালদ্বীপের বিপক্ষে আগের ম্যাচে কষ্টের জয়ের পর খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে বাটলার বলেন, আমার মনে হয় না মেয়েরা খুব বেশি হতাশ ছিল। ৮০ শতাংশ বল পজেশন রেখে যে ম্যাচটি আমাদের বিশাল ব্যবধানে জেতা উচিত ছিল, সেখানে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারায় কিছুটা আক্ষেপ ছিল। ঋতু খাতুনের মতো তারকা উইঙ্গারের দিনটা গত ম্যাচে ভালো যায়নি, তবে সে এই অঞ্চলের অন্যতম সেরা প্রতিভা এবং দলের জন্য এক দমকা সতেজ হাওয়া।

আসন্ন ম্যাচটি নিয়ে রোমাঞ্চিত বাটলার আরও বলেন, এটা এমন একটা ম্যাচ যার জন্য যেকোনো ফুটবলার খেলতে মুখিয়ে থাকবে। মালদ্বীপের চেয়ে ভারতের মতো অঞ্চলের সেরা দলের বিপক্ষে নিজেদের পরীক্ষা করার সুযোগ অনেক বেশি কাঙ্ক্ষিত। আমাদের দলে প্রীতি, সাগরিকা, মৌমিতা ও অর্পিতার মতো দুর্দান্ত সব তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা সিনিয়রদের ওপর ভালো খেলার চাপ তৈরি করছে। ভারত সম্প্রতি এশিয়া কাপে খেলে আসা শক্তিশালী দল হলেও আমরা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। আমাদের রক্ষণ ও আক্রমণ উভয় বিভাগেই ম্যাচ উইনার রয়েছে। আনিকা খেলায় সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে। আসল ব্যাপার হলো মাঠে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো নিখুঁতভাবে কাজে লাগানো।

আজ গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের নিচে যখন লাল-সবুজের মেয়েরা বল পায়ে ছুটবেন, তখন তাদের চোখে আর কোনো পুরোনো ভয় বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ থাকবে না। বরং সাম্প্রতিক দুই আসরের ভারতের বিপক্ষে জয়ের সুখস্মৃতিকে সঙ্গী করে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে দুইবারের সাফ চ্যাম্পিয়নরা। আরব সাগরের তীরে আজ বাংলাদেশের মেয়েরা আরেকটি সোনালী রূপকথা লিখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের কোটি ফুটবল–ভক্তের।

/আশিক

পাঠকের মতামত: