আল-জাজিরা বিশ্লেষণ
ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: ট্রাম্পকে কি সত্যিই ঠেকানো যাবে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ চতুর্থ মাসে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে বুধবার এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শান্তি আলোচনা চললেও দুই পক্ষ এখনো কার্যকর ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে বিরল প্রকাশ্য ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে সিনেটেও পাস হতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট চাইলে এতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেশ কঠিন।
বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে যুদ্ধ ক্ষমতা আইন বা War Powers Act প্রয়োগের প্রস্তাব তোলা হয়। এই আইনের লক্ষ্য হলো, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে যুক্ত হলে কংগ্রেস যেন সেই সংঘাত বন্ধে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ১৯৭৩ সালে কার্যকর হওয়া এই আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাৎক্ষণিক হামলার ঝুঁকি না থাকলে প্রেসিডেন্ট এককভাবে যুদ্ধ শুরু করতে পারেন না। জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন করা হলেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হয় এবং কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করলে ৬০ দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করতে হয়।
ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক হামলার হুমকি ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই আগে হামলা চালিয়েছে। তাঁদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন, যার সামরিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক পরিণতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। ৬০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি সরে আসেনি বলে সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন।
ভোটাভুটিতে ২১৫ জন প্রতিনিধি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ সীমিত করার পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন ২০৮ জন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, চারজন রিপাবলিকান সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। তাঁরা হলেন মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন, কেন্টাকির থমাস ম্যাসি এবং পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক। এর আগেও তিনজন রিপাবলিকান একই ধরনের ভোটে দলীয় অবস্থান ভেঙেছিলেন; এবার তাঁদের সঙ্গে আরও একজন যুক্ত হন। এটি ইঙ্গিত করছে যে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও অস্বস্তি বাড়ছে।
যুদ্ধের শুরুতে রিপাবলিকানদের বড় অংশ প্রকাশ্যে ট্রাম্পের পাশে থাকলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যবস্থা এবং মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ট্রাম্প স্থায়ী সমঝোতা আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে তাঁর জনপ্রিয়তাও চাপে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রতিনিধি পরিষদের ভোট কেবল ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান নয়; রিপাবলিকান দলের ভেতরেও ক্রমবর্ধমান সংশয়ের প্রতিফলন।
তবু এই ভোটকে এখনই কার্যকর বাঁধা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ সিনেটে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সিনেট ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে কয়েক দফা ভোটের চেষ্টা করলেও রিপাবলিকানরা এখনো তা ঠেকিয়ে রেখেছেন। সর্বশেষ ভোটে ৫০-৪৭ ব্যবধানে প্রস্তাব এগোয়নি। যদিও সেখানে চারজন রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন, তবুও তা যথেষ্ট ছিল না। এর ফলে বোঝা যায়, যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে অস্বস্তি থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এখনো প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে প্রস্তুত নয়।
আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র আদৌ এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আছে কি না। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১ মে দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির ফলে “শত্রুতা শেষ” হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও কংগ্রেসে শুনানির সময় বলেন, “ইরান যুদ্ধ শেষ।” প্রশাসনের যুক্তি হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে War Powers Act-এর আওতায় বর্তমান পরিস্থিতিকে সক্রিয় যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে তেহরানও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত রেখেছে। সিনেটর জিন শাহিন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে যথাযথ তথ্য না দিয়ে যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, প্রশাসন যখন বলছে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় শত্রুতায় নেই, তখনও বাস্তবে সামরিক সংঘাত ও প্রতিরোধমূলক হামলা চলেছে।
এই বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্যে। তিনি মে মাসে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট চাইলে ইরানে হামলা আবার শুরু করতে পারেন এবং প্রশাসনের হাতে তা করার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা রয়েছে। তাঁর যুক্তি, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি War Powers Act-এর ৬০ দিনের সময়সীমা নতুন করে শুরু করেছে। অর্থাৎ প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আবারও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন।
এই অবস্থান সমালোচকদের আরও উদ্বিগ্ন করেছে। কারণ এর অর্থ দাঁড়ায়, যুদ্ধবিরতি ব্যবহার করে প্রশাসন সময়সীমা পুনর্গণনা করতে পারে এবং কার্যত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নতুন হামলার পথ খোলা রাখতে পারে। এতে মার্কিন সংবিধানের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও আধুনিক মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই সামরিক ক্ষমতা বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করেছেন। ইরান যুদ্ধ সেই দীর্ঘ বিতর্কের নতুন অধ্যায়।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন করদাতাদের অর্থ একটি “বেপরোয়া পছন্দের যুদ্ধে” ব্যয় করছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয়। যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধের দাবি এখন শুধু নৈতিক বা সাংবিধানিক প্রশ্ন নয়; এটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন দাবি করছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, “আত্মরক্ষা”র এই বিস্তৃত ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে নতুন সামরিক অভিযানের পথ খুলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিলেও তা এখনো যুদ্ধ থামানোর কার্যকর আইনি হাতিয়ার হয়ে ওঠেনি। এটি কংগ্রেসের একাংশের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, রিপাবলিকানদের ভেতরে ফাটলের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ককে সামনে এনেছে। কিন্তু ট্রাম্পের হাতে এখনো ভেটো ক্ষমতা আছে, সিনেটে রিপাবলিকান প্রভাব রয়েছে এবং প্রশাসন যুদ্ধবিরতির ব্যাখ্যা ব্যবহার করে নিজের সামরিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে চাইছে।
তাই প্রশ্নটি এখন শুধু প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে সীমাবদ্ধ নয়। আসল প্রশ্ন হলো, মার্কিন কংগ্রেস কি সত্যিই প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? নাকি ইরান যুদ্ধও সেই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হবে, যেখানে কংগ্রেস আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টই সামরিক নীতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন? আপাতত প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা, কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা নয়।
হরমুজ প্রণালি কি আবার খুলে যাচ্ছে? শর্ত সাপেক্ষে তেহরানের নতুন বার্তা
বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান লাইফলাইন এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নতুন কূটনৈতিক শর্ত ও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরাকের বাগদাদে এক ধর্মীয় সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া শর্ত ও কথা মেনে চললে মাত্র ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যেই এই জলপথ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব। গত সেপ্টেম্বরে দুই পক্ষের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের কাছে এই বিশেষ প্রস্তাব পেশ করেছিল তেহরান।
মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি ওই প্রস্তাবের জবাবে কিছু মতামত পাঠালেও মূল আলোচনা মূলত হোয়াইট হাউসের পূর্বশর্তের কারণে থমকে রয়েছে। ইরানের স্পষ্ট দাবি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে ইরানি বন্দর ও তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত মার্কিন একতরফা অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থান থেকে সরে এসে আগে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে গত আট মাস ধরে চলা এই সংকটের অবসান ঘটাতে হলে ইরানকে পারমাণবিক বিষয়ে বড় ছাড় দিতে হবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি করেছে। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের দাবি মেনে নিলে প্রস্তাবিত ৭ দিনের সময়সীমার মধ্যেই জলপথ সচল করা এবং পরের দিনই বৈঠকে বসা সম্ভব, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পরাশক্তির অনড় অবস্থানের কারণে অচলাবস্থা কাটেনি।
সূত্র: রয়টার্স
ইউরোপজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ: মিলানে সংঘর্ষ, লিসবনে তাঁবু ফেলে বিক্ষোভ
ফ্রান্স ও স্পেনে শুরু হওয়া জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় ও আবাসন সংকটের তীব্র ক্ষোভের উত্তাপ এবার দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ইতালি ও পর্তুগালেও। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী খরচ ও লাগামহীন বাসা ভাড়ার প্রতিবাদে শনিবার ইতালির মিলানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে, অন্যদিকে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে তাঁবু গেড়ে অবরুদ্ধ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন হাজার হাজার ক্ষুব্ধ নাগরিক।
মিলানের রাজপথে শনিবার অনুষ্ঠিত একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা হঠাৎই সহিংস রূপ নেয়, যখন মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং রাস্তার পাশের বারের টেবিল দিয়ে ব্যারিকেড গড়ে তুলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও প্রচুর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘লাপ্রেস’-এর তথ্যমতে, এই সংঘর্ষে অন্তত দুজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, "বিক্ষোভ করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
এদিকে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বিখ্যাত ‘রসিও স্কয়ারে’ তীব্র আবাসন সংকট সমাধানের দাবিতে প্রতীকী তাঁবু শিবির স্থাপন করেছেন আন্দোলনকারীরা। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে আবাসন ও বাসা ভাড়া খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১২৪ শতাংশে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গড় বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। সরকারের নেওয়া ভাড়ানীতি সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলেছে অভিযোগ তুলে পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন লিসবনবাসী। পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্টিনিগ্রো জানান, তিনি জনগণের কষ্ট বুঝতে পারছেন, তবে ফ্রান্সের উগ্র বিক্ষোভের মতো কোনো বাহ্যিক শক্তি যেন দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
/আশিক
পুতিনের পক্ষ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ভুল করবে: সতর্ক করলেন জেলেনস্কি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ নিলে যুক্তরাষ্ট্র এক চরম ঐতিহাসিক ভুল করবে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই কঠিন বার্তা দিলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজেদের অন্যতম বড় মিত্র হিসেবেই বিবেচনা করেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজের বিখ্যাত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার প্রদানকালে জেলেনস্কি বলেন, "আমরা এখনও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্বাস করতে চাই।" ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রপ্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব শিগগিরই তাঁর নেওয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো পরিবর্তন করবেন, কারণ ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ ইউক্রেন বা যুক্তরাষ্ট্র কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া রাশিয়াবিরোধী নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সাময়িক ছাড় দিয়েছেন ট্রাম্প, যাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল বলে উল্লেখ করেন। তা ছাড়া, বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রচুর পরিমাণ রুশ ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ার পথ সুগম করেছেন ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় রাশিয়ার ছোড়া প্রাণঘাতী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আগাম সতর্কতা পেতে ব্যর্থ হয় ইউক্রেন। যদিও বর্তমানে গোয়েন্দা সহযোগিতা পুনরায় চালু করা হয়েছে, তবুও ইলন মাস্কের মালিকানাধীন উপগ্রহ যোগাযোগব্যবস্থা ‘স্টারলিংক’ ও ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ এখনো পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি।
এর পেছনে ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক উভয়ের হাত থাকতে পারে বলে ধারণা জেলেনস্কির। ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার পক্ষ গ্রহণ করলে ইউক্রেনের জন্য টিকি থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে স্বীকার করে নিয়ে জেলেনস্কি জানান, ভুল বোঝাবুঝি অবসানে রোববারের শেষভাগে মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলবেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈঠকে বসার জন্য কিয়েভ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
হুথি হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিশর: প্রেসিডেন্ট সিসি
ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিশর। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে কায়রোর আল-ইত্তিহাদিয়া প্রাসাদে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠক শেষে মিশরের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোর সুরক্ষায় কায়রো পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে রিয়াদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংঘাত নিরসনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা জোরদারের তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি রিয়াদের পক্ষ থেকে সামরিক সমর্থনের সুনির্দিষ্ট অনুরোধ আসলে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে মিশর প্রস্তুত রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট সিসিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন বা প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা অনুমোদনের বিশেষ এখতিয়ার দিতে দেশের পার্লামেন্টে একটি বিশেষ জরুরি অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে।
ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে হুথিদের লড়াই নতুন মাত্রা নিয়েছে। সম্প্রতি রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা ‘সৌদি আরামকো’র শোধনাগার লক্ষ্য করে হুথিদের একের পর এক আক্রমণের প্রেক্ষাপটে মিশরীয় প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে সৌদি রাজা সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে যৌথ পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মূলত লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথ ও সুয়েজ খালের অর্থনৈতিক রাজস্ব রক্ষা কায়রোর জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে লোহিত সাগরে তেহরান সমর্থিত হুথিদের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে কায়রো এই প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নিয়েছে, যদিও ইরানের পক্ষ থেকে হুথি হামলায় ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপটে দুই মিত্র দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপড়েন
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে বড় ধরনের টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ বা সীমিত করার হুমকির পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা এবং মস্কো থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের এসব নীতিগত পরিবর্তনে ইউক্রেন শিবিরে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় মার্কিন সাহায্য সংকুচিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত করেছে।
জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার ও অভ্যন্তরীণ উচ্চমূল্যের জন্য ইউক্রেন কর্তৃক রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে চালানো আক্রমণকে আংশিকভাবে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ নিয়ে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তীব্র সমালোচনাও করেন। জবাবে জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে জানান যে, রাশিয়া অবিরাম আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ায় কিয়েভ তাদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করবে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল অবস্থান গ্রহণ করছে এবং মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষর ইউক্রেনের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণার শামিল।
এদিকে ওয়াশিংটনের নতুন পদক্ষেপের কারণে কিয়েভের সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মার্কিন উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা 'স্টারশিল্ড' নেটওয়ার্কে হঠাৎ বিধিনিষেধ ও ধীরগতি তৈরি হওয়ায় এবং গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ সীমিত করার আশঙ্কায় কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ড্যানিয়েল ফ্রিডের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে। তবে সব উত্তেজনার মধ্যেও ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের সুতা টিকিয়ে রাখতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কিয়েভের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
সূত্র: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনি বিতর্ক
মসজিদে ‘অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের পরিবার কিংবা বাংলাদেশ দূতাবাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানোয় দেশটি কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ‘ভিয়েনা সনদ’ লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে ওই দুই বাংলাদেশির আটক, বিচারিক প্রক্রিয়া কিংবা চরম দণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কতৃপক্ষ পূর্বাহ্নে দূতাবাসকে কোনো তথ্য জানায়নি। বিষয়টি তারা প্রথম জানতে পারে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যমের সংবাদের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক কনস্যুলার আইন (ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ) অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক অন্য কোনো দেশে আটক বা অভিযুক্ত হলে তাঁকে কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাঁর সম্মতিক্রমে নিজ দেশের দূতাবাসকে অবিলম্বে জানানোর সুস্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। তবে সৌদি আরব তাঁদের অভ্যন্তরীণ শরিয়াহ বিচারব্যবস্থার আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশকে আগে থেকে অবহিত করার বিষয়ে তাঁরা কতটা বাধ্য ছিল, তা নিয়ে কূটনৈতিকদের মধ্যে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, বিচার কার্যক্রম সৌদি আরবের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর অধীনে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নাও হতে পারে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তাঁরা জবাব দিতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. রায়হান রশীদ মনে করেন, দীর্ঘ বিচারিক ও আপিল প্রক্রিয়া শেষে যেহেতু রাজকীয় আদেশে এই রায় কার্যকর হয়েছে, সেহেতু এটি এক দিনে ঘটা বিষয় নয়। ফলে দূতাবাস বা ভিকটিম পরিবারকে বারবার কনস্যুলার সুবিধার কথা অবহিত করা সৌদি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল এবং এ ক্ষেত্রে বিষয়টি দূতাবাসের নজর এড়ানো বা না জানতে পারাটাও একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন তৈরি করে।
উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের বরাতে জানা যায়, মক্কার একটি মসজিদে পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করে অশালীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ (বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি) বিধানে বিচারিক আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন, যা পরবর্তীতে উচ্চতর আদালত ও রাজকীয় নির্দেশে বহাল থেকে গত বুধবারে কার্যকর করা হয়। বর্তমানে তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হবে—তা নিয়ে প্রক্রিয়াগত জটিলতা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
ইসরায়েলের সহায়তা প্রস্তাব সৌদি আরবের নেওয়া উচিত: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় ইসরায়েলের দেওয়া সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবের গ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইসরায়েলের এই সহায়তার মনোভাবকে ‘অত্যন্ত সাহায্যকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নিকট ভবিষ্যতে রিয়াদ ও জেরুজালেমের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া নতুন করে বেগবান হতে পারে।
গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জর্জিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সৌদি আরবের ইসরায়েলি সহায়তা নেওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় ইসরায়েল সৌদি আরবকে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করতে সক্ষম।
একই সঙ্গে ২০২০ সালের ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম চুক্তি’তে সৌদি আরবের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সৌদি আরব ইসরায়েল ও আমেরিকার সমর্থন পেয়ে সন্তুষ্ট এবং চুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এখন আগের চেয়েও অনেক বেশি। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি দেশই এখন নানা প্রয়োজনে তাদের কাছে সাহায্য চাইছে।
চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকেই হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো, তেল ট্যাংকার এবং বিমানবন্দরে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকা কায়রোগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন।
ওদিকে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন যে সৌদি জোট সানা, হোদেইদা, মারিবসহ বিভিন্ন স্থানে দুই হাজার চার শরও বেশি বিমান হামলা চালিয়ে সাধারণ বেসামরিক মানুষদের হতাহত করেছে। সৌদি আরবে উদ্ভূত এই টানা সংঘাতের কারণে সেদেশে মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের জন্য আকাশসীমা বন্ধ ও ভ্রমণ সতর্কবার্তা জারি করেছে।
তবে হুথি বাহিনীদের পরিচালিত এই হামলাগুলোতে ইরানের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও সমর্থন রয়েছে বলে রিয়াদ যে অভিযোগ তুলেছে, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন যে দীর্ঘদিনের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ ও অবরোধ কোনো টেকসই সমাধান আনতে পারেনি। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সিদ্ধান্তেই সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, সংঘাত থামানোর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো রাজি থাকলে ইরান যেকোনো ধরনের মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
/আশিক
জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ফ্রান্স
ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম এবং সরকারি পরিষেবার মান অবনতির প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন। গত শনিবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য, বিভিন্ন পেশার শ্রমিক এবং সুপরিচিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। উন্নত ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা, পর্যাপ্ত উচ্চ মজুরি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম কমানো এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নের দাবিতে মূলত সাধারণ মানুষ একত্রিত হন, যা বর্তমান সরকারের ওপর সামাজিক অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজধানী প্যারিসে কয়েক শ বিক্ষোভকারী, যাদের অধিকাংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গার দু নরড রেলস্টেশনের নিকটবর্তী এলাকায় জড়ো হয়ে প্রধান সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলে, অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে এবং প্লাস দ্য লা রিপাবলিকসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলের আশপাশের বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধদের একাংশ একটি স্মৃতিস্তম্ভে উঠে পড়ে এবং পুলিশের দিকে জ্বলন্ত ফ্লেয়ার বা অগ্নিসঙ্কেত ছুড়ে মারলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়েও মুখোশধারী বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে একই ধরনের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালের মধ্যেই প্যারিস থেকে অন্তত ৪০ জনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচালিত তল্লাশির সময় কাছে অস্ত্র বা নিষিদ্ধ সুরক্ষাসামগ্রী রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। দেশজুড়ে চলমান এই ব্যাপক বিক্ষোভ মূলত দেশের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং শিক্ষা খাতের দীর্ঘস্থায়ী বিভিন্ন সমস্যার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ‘ইউনিয়ন সাঁদিকাল লিসেয়েন’-এর মতো বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন বেশ কিছুদিন ধরেই শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ জনাকীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং স্কুলগুলোর জরাজীর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।
শিক্ষার্থীদের এই স্থানীয় আন্দোলন পরবর্তীতে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ও চড়া জ্বালানি মূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। ফলে এতে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এবং ২০১৮ সালে ফরাসি ভূখণ্ডে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে ইচ্ছুক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীও সমর্থন জুগিয়েছে। চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভকারীদের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কড়া তাগিদ দেন।
ওদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সংঘটিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মন্তব্য করেন যে, এই অস্থিরতাকে কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হিসেবে দেখা ভুল হবে, বরং এটি অনেকাংশেই একধরনের শহুরে সহিংসতা। এ সময় তিনি বামপন্থী রাজনৈতিক দল ‘লা ফ্রঁস ইনসুমিজ’ এবং দলটির শীর্ষ নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এই পুঞ্জীভূত অসন্তোষকে নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করার জোরালো অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অবিলম্বে সব ধরনের সহিংসতা ও ভাঙচুর বন্ধের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল দাবি ও উদ্বেগগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিরসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন করেন। অন্যদিকে, অতি ডানপন্থী ‘ন্যাশনাল র্যালি’ দলের নেতা জর্দান বারদেলা সামগ্রিক বিক্ষোভের এই অবনতিশীল পরিস্থিতি এবং বামপন্থী নেতা মেলঁশোঁর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সবমিলিয়ে বহুমুখী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখে ফরাসি সরকারের ওপর এই তীব্র গণবিক্ষোভ বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। যদিও সরকার আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং জনজীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে আসছে, তবুও বিক্ষোভকারীরা পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মান বাড়ানোর দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
সূত্র: বিবিসি
হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করল ইরানের আইআরজিসি
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযোগকারী অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। সাম্প্রতিক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে একের পর এক তেলবাহী ট্যাংকারে রহস্যজনক হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশটির সামরিক বাহিনী এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) আইআরজিসির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো দেশেরই কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যদি কোনো জলযান প্রণালি অতিক্রম করার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের অত্যন্ত কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষা বা সহায়তার ওপর ভরসা করে এই নৌপথ পাড়ি দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা হবে এবং এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
এর আগে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির পানির নিচে পেতে রাখা মাইনের আঘাতে একটি বিশালাকার তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন ধরে যাওয়ার সংবাদ বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। ঠিক তার পরের দিনই সৌদি আরবের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকায় আরও অন্তত দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। পরপর সংঘটিত এই বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সামগ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস বিশ্ববাজারে পরিবাহিত হয়। ফলে এই কৌশলগত নৌপথে জাহাজ চলাচল আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- হরমুজ প্রণালি কি আবার খুলে যাচ্ছে? শর্ত সাপেক্ষে তেহরানের নতুন বার্তা
- অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে রাতের আকাশে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি ও হান্টার্স মুনের মেলা
- ইউরোপজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ: মিলানে সংঘর্ষ, লিসবনে তাঁবু ফেলে বিক্ষোভ
- পুতিনের পক্ষ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ভুল করবে: সতর্ক করলেন জেলেনস্কি
- সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান, প্রকাশ্যে নতুন ডিজিটাল টুলস
- রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক মানচিত্রে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের বড় সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়
- মেধা বিকাশে নতুন উদ্যোগ: এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেবে সরকার
- মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে সাইমা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- হুথি হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিশর: প্রেসিডেন্ট সিসি
- এআই ভুয়া আইডি ও গুজব রুখতে সাধারণদের জন্য বিনামূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ আনছে ফেসবুক
- জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিএনপি: জামায়াত আমির
- বাংলাদেশে ৩৯০ কোটি টাকার অনুদান ও নতুন বিনিয়োগ ঘোষণা করল কানাডা
- পাকিস্তানে প্রতি ৩ জন প্রাপ্তবয়স্কের ১ জন মানসিক রোগে আক্রান্ত: ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল
- আওয়ামী লীগকে জামায়াতই মাফ করে দিতে চেয়েছিল, বিএনপি নয়: রুহুল কবির রিজভী
- বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপটে দুই মিত্র দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপড়েন
- তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার সতর্কবার্তা
- সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে অনিশ্চয়তা ও দরপতন
- এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে মাইক নিয়ে ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী ধাওয়া
- সংযুক্ত আরব আমিরাতে আন্তর্জাতিক সিরিজের প্রথম ম্যাচে টানটান উত্তেজনা
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৩ দফা দাবি জানাল জাতীয় নাগরিক পার্টি
- মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনি বিতর্ক
- ইসরায়েলের সহায়তা প্রস্তাব সৌদি আরবের নেওয়া উচিত: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- দিল্লিতে নতুন মুচলেকায় স্বাক্ষর করে শর্তসাপেক্ষ জামিন পেলেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে
- বিদেশের ঘরোয়া লিগে বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডারের নতুন গন্তব্য
- ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষা করতে হবে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতে বড় ধরনের ধাক্কা খেল টাইগাররা
- ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- মহাকাশে সবুজ ও গোলাপি রঙের ব্যতিক্রমী শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা
- নারায়ণগঞ্জের বন্দরে তুলার গুদামে ভয়াবহ আগুন
- জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ফ্রান্স
- হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করল ইরানের আইআরজিসি
- দেশের পর্যটন কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় বড় ক্ষয়ক্ষতি
- মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- সীমান্ত এলাকায় মাদক নিয়ে লেখালেখির জেরে সাংবাদিক খুন
- আসন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ শিবির নিয়ে বড় আপডেট
- ২১টি ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এল টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন
- পর্যটকদের জন্য অবশেষে উন্মুক্ত হলো সাজেক ভ্যালি
- বৈশ্বিক এক মঞ্চে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন রূপরেখা তুলে ধরল ঢাকা
- অস্ট্রেলিয়ান টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার সুসংবাদ পেলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটার
- দীর্ঘ কর্মঘণ্টা যেভাবে নিঃশব্দে ক্ষতি করছে আপনার হৃদযন্ত্রের
- আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশে আসছে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘স্ট্রিট ফাইটার’
- দেবিদ্বারে জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজে নবীনবরণ ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
- দেবিদ্বারে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক: তদন্তের দাবি ও বিএনপির বিক্ষোভ
- ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা: জেনে নিন ৮টি বর্জনীয় শর্ত
- জাহাজে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি
- শেখ হাসিনা ও বেনজীর আহমেদের বিষয়ে যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম অব্যাহত
- একটি চক্র সরকার ও দেশের ভাবমুর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রুহুল কবির রিজভী
- সিকা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠন সরকারের
- ২০২৭ সালে কবে শুরু রোজা? সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত
- রাশিয়ার ডিজেল চুক্তির পরও আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম
- জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
- হামলার পূর্বভাস কেন দেওয়া হলো না? সৌদি সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
- বোলারদের ব্যর্থতা ও ক্যাচ মিসে জয় হাতছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তদের
- নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা
- ওজন ও ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু তিন ধরনের সালাদ
- ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলা হলে সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি কমান্ডারের
- আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
- কত পুলিশ আনবেন আনুন, ভয় পাই না: অমিত শাহকে রাহুল গান্ধীর কড়া বার্তা
- মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা
- বিচ্ছেদের পরও সাবেক স্ত্রীর নতুন জীবনের পাশে স্পাইডার-ম্যান
- আর কখনো ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে চুয়েট ছাড়লেন নতুন উপাচার্য
- বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমল স্বর্ণের দাম








