আল-জাজিরা বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: ট্রাম্পকে কি সত্যিই ঠেকানো যাবে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৫ ০৯:০৬:৪৮
ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: ট্রাম্পকে কি সত্যিই ঠেকানো যাবে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ চতুর্থ মাসে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে বুধবার এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শান্তি আলোচনা চললেও দুই পক্ষ এখনো কার্যকর ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে বিরল প্রকাশ্য ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে সিনেটেও পাস হতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট চাইলে এতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেশ কঠিন।

বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে যুদ্ধ ক্ষমতা আইন বা War Powers Act প্রয়োগের প্রস্তাব তোলা হয়। এই আইনের লক্ষ্য হলো, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে যুক্ত হলে কংগ্রেস যেন সেই সংঘাত বন্ধে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ১৯৭৩ সালে কার্যকর হওয়া এই আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাৎক্ষণিক হামলার ঝুঁকি না থাকলে প্রেসিডেন্ট এককভাবে যুদ্ধ শুরু করতে পারেন না। জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন করা হলেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হয় এবং কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করলে ৬০ দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করতে হয়।

ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক হামলার হুমকি ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই আগে হামলা চালিয়েছে। তাঁদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন, যার সামরিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক পরিণতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। ৬০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি সরে আসেনি বলে সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন।

ভোটাভুটিতে ২১৫ জন প্রতিনিধি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ সীমিত করার পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন ২০৮ জন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, চারজন রিপাবলিকান সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। তাঁরা হলেন মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন, কেন্টাকির থমাস ম্যাসি এবং পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক। এর আগেও তিনজন রিপাবলিকান একই ধরনের ভোটে দলীয় অবস্থান ভেঙেছিলেন; এবার তাঁদের সঙ্গে আরও একজন যুক্ত হন। এটি ইঙ্গিত করছে যে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও অস্বস্তি বাড়ছে।

যুদ্ধের শুরুতে রিপাবলিকানদের বড় অংশ প্রকাশ্যে ট্রাম্পের পাশে থাকলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যবস্থা এবং মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ট্রাম্প স্থায়ী সমঝোতা আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে তাঁর জনপ্রিয়তাও চাপে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রতিনিধি পরিষদের ভোট কেবল ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান নয়; রিপাবলিকান দলের ভেতরেও ক্রমবর্ধমান সংশয়ের প্রতিফলন।

তবু এই ভোটকে এখনই কার্যকর বাঁধা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ সিনেটে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সিনেট ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে কয়েক দফা ভোটের চেষ্টা করলেও রিপাবলিকানরা এখনো তা ঠেকিয়ে রেখেছেন। সর্বশেষ ভোটে ৫০-৪৭ ব্যবধানে প্রস্তাব এগোয়নি। যদিও সেখানে চারজন রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন, তবুও তা যথেষ্ট ছিল না। এর ফলে বোঝা যায়, যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে অস্বস্তি থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এখনো প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে প্রস্তুত নয়।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র আদৌ এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আছে কি না। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১ মে দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির ফলে “শত্রুতা শেষ” হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও কংগ্রেসে শুনানির সময় বলেন, “ইরান যুদ্ধ শেষ।” প্রশাসনের যুক্তি হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে War Powers Act-এর আওতায় বর্তমান পরিস্থিতিকে সক্রিয় যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে তেহরানও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত রেখেছে। সিনেটর জিন শাহিন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে যথাযথ তথ্য না দিয়ে যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, প্রশাসন যখন বলছে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় শত্রুতায় নেই, তখনও বাস্তবে সামরিক সংঘাত ও প্রতিরোধমূলক হামলা চলেছে।

এই বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্যে। তিনি মে মাসে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট চাইলে ইরানে হামলা আবার শুরু করতে পারেন এবং প্রশাসনের হাতে তা করার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা রয়েছে। তাঁর যুক্তি, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি War Powers Act-এর ৬০ দিনের সময়সীমা নতুন করে শুরু করেছে। অর্থাৎ প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আবারও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন।

এই অবস্থান সমালোচকদের আরও উদ্বিগ্ন করেছে। কারণ এর অর্থ দাঁড়ায়, যুদ্ধবিরতি ব্যবহার করে প্রশাসন সময়সীমা পুনর্গণনা করতে পারে এবং কার্যত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নতুন হামলার পথ খোলা রাখতে পারে। এতে মার্কিন সংবিধানের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও আধুনিক মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই সামরিক ক্ষমতা বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করেছেন। ইরান যুদ্ধ সেই দীর্ঘ বিতর্কের নতুন অধ্যায়।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন করদাতাদের অর্থ একটি “বেপরোয়া পছন্দের যুদ্ধে” ব্যয় করছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয়। যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধের দাবি এখন শুধু নৈতিক বা সাংবিধানিক প্রশ্ন নয়; এটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন দাবি করছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, “আত্মরক্ষা”র এই বিস্তৃত ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে নতুন সামরিক অভিযানের পথ খুলে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিলেও তা এখনো যুদ্ধ থামানোর কার্যকর আইনি হাতিয়ার হয়ে ওঠেনি। এটি কংগ্রেসের একাংশের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, রিপাবলিকানদের ভেতরে ফাটলের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ককে সামনে এনেছে। কিন্তু ট্রাম্পের হাতে এখনো ভেটো ক্ষমতা আছে, সিনেটে রিপাবলিকান প্রভাব রয়েছে এবং প্রশাসন যুদ্ধবিরতির ব্যাখ্যা ব্যবহার করে নিজের সামরিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে চাইছে।

তাই প্রশ্নটি এখন শুধু প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে সীমাবদ্ধ নয়। আসল প্রশ্ন হলো, মার্কিন কংগ্রেস কি সত্যিই প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? নাকি ইরান যুদ্ধও সেই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হবে, যেখানে কংগ্রেস আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টই সামরিক নীতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন? আপাতত প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা, কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা নয়।


ইরানি ৪টি বিধ্বংসী ড্রোন আকাশে উড়িয়ে দিল জর্ডানের যুদ্ধবিমান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১৮:৫১:৫৪
ইরানি ৪টি বিধ্বংসী ড্রোন আকাশে উড়িয়ে দিল জর্ডানের যুদ্ধবিমান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির ক্রমাবনতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান থেকে জর্ডানের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা চারটি বিধ্বংসী একমুখী (কামিকাজে) হামলাকারী ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে জর্ডানের রয়্যাল এয়ার ফোর্স। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জর্ডান সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ সূত্রটি জানিয়েছে, নিজস্ব এয়ারস্পেস ও আকাশসীমা সুরক্ষা দিতে যুদ্ধবিমান টহল জোরদার রাখা হয়েছিল। ইরানের দিক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে আসা ড্রোন চারটিকে চিহ্নিত করার পরপরই ক্ষিপ্র গতির যুদ্ধবিমান দিয়ে আকাশেই সেগুলো ইন্টারসেপ্ট ও ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার হতাহত কিংবা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ড্রোনগুলোর ধ্বংসাবশেষ জর্ডানের যেসকল নির্জন এলাকায় পড়েছে, সেগুলোতে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের বিশেষ দল পাঠিয় এলাকাগুলো সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখার কথা জানিয়ে সামরিক সূত্রটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, “জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমগ্র আকাশসীমার ওপর নিবিড় ও ২৪ ঘণ্টা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা বা দেশের নাগরিকদের সামান্যতম ঝুঁকিতে ফেলার মতো যেকোনো বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলায় আমাদের সামরিক শক্তি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”

/আশিক


সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১০:১৬:০৮
সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই চুক্তি আগামী তিন দশক ধরে দুই দেশের পারমাণবিক সহযোগিতার কাঠামো নির্ধারণ করবে এবং সৌদির জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Uranium Enrichment)-এর সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে। যদিও এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য শান্তিপূর্ণ বেসামরিক প্রয়োজনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার, তবুও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ একই প্রযুক্তি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।

চুক্তিটি কয়েক হাজার কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণে মার্কিন প্রযুক্তি ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যাতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীরা এই বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অংশগ্রহণ এবং তদারকি থাকলে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করবে এবং এর অপব্যবহারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তাঁদের মতে, সরাসরি মার্কিন সম্পৃক্ততা থাকলে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সহজ হবে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সৌদি আরবের পারমাণবিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ ও কারিগরি নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে যেন কর্মসূচিটি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের দিকে না যায় এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

তবে এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং পারমাণবিক বিস্তাররোধ (Non-Proliferation) বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা দেওয়া ভবিষ্যতে আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। দেশটির যুক্তি, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য। তবে সমালোচকদের মতে, অঞ্চলটিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদির এই সক্ষমতা ভবিষ্যতে নতুন ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হতে পারে। সেখানে এটি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় চুক্তির বিভিন্ন শর্ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক বিস্তাররোধসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক পারমাণবিক নীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে গাজায় আবার ইসরায়েলি হামলা, মা ও ৩ মেয়ে নিহত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১৮:৪২:১১
যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে গাজায় আবার ইসরায়েলি হামলা, মা ও ৩ মেয়ে নিহত
ছবি : সংগৃহীত

গাজাজুড়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতি চলমান থাকা সত্ত্বেও তা চরমভাবে লঙ্ঘন করে গাজা সিটির একটি আবাসিক বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক নিরীহ ফিলিস্তিনি নারী ও তাঁর তিন কন্যা সন্তান নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’ (WAFA)-র বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) তুর্কি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আনাদোলু এজেন্সি’ এই শোকাবহ ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আল থালাথিনি স্ট্রিটের এক ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এই আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তীব্র অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে এ ধরনের সামরিক হামলা চালানো হচ্ছে।

ইসরায়েলি সরকারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যখন যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তখন গাজার পুরো ভূখণ্ডের প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (IDF) দখলে বা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চুক্তি অমান্য করে এলাকা সম্প্রসারণ ও অভিযানের ফলে বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ নিজেদের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অনবরত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ফলে চালানো এসব বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ১৫৮ জন বেসামরিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৭৫৬ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও জানানো হয়, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত ও সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে মোট ৭৩ হাজার ২৫০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫১ জনে। এ ছাড়া দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অবিরাম ধ্বংসযজ্ঞের ফলে গাজার মোট বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশই সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে ইরানের আবার ভয়াবহ হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১৮:১৪:৩৮
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে ইরানের আবার ভয়াবহ হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতের জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনা খাতে। দেশটির প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং পানি শোধন প্ল্যান্টে (Desalination Plant) আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান। টানা আক্রমণের মুখে রাষ্ট্রের এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অবকাঠামোর ব্যাপক ও অভূতপূর্ব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে কুয়েত সরকার।

কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) প্রকাশিত এক জরুরি সরকারি বিবৃতিতে জানায়, দেশের মূল বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ অবকাঠামোগুলোকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পরপর চার দিন ধরে এ ধরনের বিধ্বংসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানি সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবারের শেষ হামলায় কেন্দ্রগুলোর বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর ইউনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে, হামলার পরপরই কুয়েতি জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপে কেন্দ্রগুলোর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দলগুলোর মাধ্যমে হামলায় হওয়া সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ চলছে। এর পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে দিনরাত মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন পর্যায়ে, বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১০:১২:১০
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন পর্যায়ে, বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা দশম রাতের মতো চালানো সর্বশেষ অভিযানে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটির পাশাপাশি একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানকে ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক জবাব দেবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে হামলা বা নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হলে যুক্তরাষ্ট্র তা সহ্য করবে না। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি ট্রাম্পের আগের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এখন তাঁর প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সামরিক অভিযান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভিন্ন কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে, চলমান সংঘাতের মধ্যেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালিতে কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুমকি এবং চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগের জবাব দিতেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও পড়তে পারে।

এই সামরিক অভিযানের পেছনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহান্তে ইরানের হামলায় একাধিক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি মার্কিন সেনার প্রাণহানির জন্য তেহরানকে ‘বহুগুণ বেশি মূল্য’ দিতে হবে। এরপর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।

-রফিক


ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের নতুন তথ্য প্রকাশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ০৯:৩৩:৫১
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের নতুন তথ্য প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। একই সময়ে সংঘাতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই হতাহতের তথ্য প্রকাশে বিলম্ব এবং আহত সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা জনসমক্ষে আনতে দেরি করায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ৭ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের প্রায় ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে পুনরায় দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন।

পারনেল বলেন, অধিকাংশ সেনাই মৃদু কনকাশন (হালকা মস্তিষ্কে আঘাত) বা তুলনামূলক কম গুরুতর আঘাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দ্রুত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তারা আবারও সক্রিয় দায়িত্বে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আহত সেনাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে কার্যকর বলে উল্লেখ করেন।

পেন্টাগনের এই ব্যাখ্যা এসেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে আহত মার্কিন সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশে প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্বাভাবিক বিলম্ব করেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, কয়েক ডজন আহত সেনার তথ্য দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, যা সরকারের তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অন্যদিকে সিএনএন-এর সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত সেনাদের সংখ্যা প্রকাশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ধীরগতিতে এগিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেনাসদস্যদের নিরাপত্তা, চলমান সামরিক অভিযান এবং অপারেশনাল সংবেদনশীলতার বিষয় বিবেচনা করেই তথ্য প্রকাশে সময় নেওয়া হয়েছিল।

তবে এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন সমালোচকরা। তাঁদের মতে, যুদ্ধকালীন হতাহত ও আহতের তথ্য প্রকাশে বিলম্ব জনসাধারণের জানার অধিকারকে সীমিত করে এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে সামরিক অভিযানের প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সময়মতো তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

-রফিক


চোখের বদলে চোখ নীতিতে সৌদির ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল হুতিরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ২০:১৮:০৬
চোখের বদলে চোখ নীতিতে সৌদির ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল হুতিরা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার প্রতিবেশী ও প্রধান প্রতিপক্ষ দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ সামুদ্রিক অবরোধের (Naval Blockade) ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) হুতিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই একপাক্ষিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গাল্ফ নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে লোহিত সাগর ও সীমান্ত এলাকায় সৌদি আরব এবং হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর পরই এই বড় ধরনের রণকৌশলগত ঘোষণাটি সামনে এলো।

হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান সামরিক মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহইয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা কঠোরভাবে “চোখের বদলে চোখ” নীতির ভিত্তিতে আমাদের প্রধান সৌদি শত্রুর বিরুদ্ধে এই সামরিক সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা করছি।’ তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই বিশেষ বিবৃতি ও সামরিক আদেশটি গণমাধ্যমে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত নৌপথে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের এই আকস্মিক সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে, যা প্রকারান্তরে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারকে আরও বেশি অস্থির ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত: প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ১৮:৩৩:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত: প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার সামরিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের মুখে দেশের বিদ্যমান অবস্থান স্পষ্ট করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এক অনমনীয় ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। দেশের চলমান এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণকে বাস্তববাদী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এই দীর্ঘ লড়াই ও প্রতিরোধের যেকোনো স্বাভাবিক পরিণতি মেনে নিতে দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) ইরানের প্রেসিডেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বক্তব্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।

সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রধান কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতির নির্মম বাস্তবতা হলো, আজ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সর্বাত্মক ও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের কোনো ধরনের কাল্পনিক জগতে না থেকে কঠোরভাবে বাস্তববাদী হতে হবে এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এই অনড় প্রতিরোধের ফলে সামনে আসা যেকোনো স্বাভাবিক বা কঠিন পরিণতি অত্যন্ত সাহসের সাথে মেনে নিতে হবে।’

বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU)-র অভ্যন্তরীণ নানা শর্ত ও সমীকরণ নিয়ে প্রথমবার মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চুক্তিটি নিয়ে নানা নেতিবাচক আলোচনা হলেও, এটি মূলত ইরানের ভূরাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষেই সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক ও লাভজনক ছিল।

চুক্তির আইনি ও কৌশলগত দিক ব্যাখ্যা করে পেজেশকিয়ান অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘উক্ত সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত মোট ১৪টি ধারার কোনো একটিতেও আমরা আমাদের সার্বভৌম অধিকার, দীর্ঘদিনের অনুসৃত রাষ্ট্রীয় নীতি, সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থ, মূল বিপ্লবী মূল্যবোধ কিংবা ইসলামী বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসিনি বা কোনো ছাড় দিইনি।’ তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক সমঝোতার সিংহভাগ বড় বড় অর্জন সম্পূর্ণভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অনুকূলেই এসেছে। চুক্তির দলিলে এমন কোনো একক ধারা কার্যত ও আইনগতভাবে রাখা হয়নি, যা একতরফাভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি কোনো কৌশলগত সুবিধা বা প্রিভিলেজ সৃষ্টি করেছে।’

এখানে বিশেষভাবে স্মরণ করা যেতে পারে যে, গত জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কায়েম করা। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস পার হতে না হতেই চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আবারও ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা শুরু হয়েছে।

/আশিক


‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ১০:০৩:৪২
‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের দারখোভিন অঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। হামলার পর ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’, ‘বর্বরোচিত আগ্রাসন’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাব হবে ‘চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী’।

ইরানের রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি সংস্থা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, একটি বেসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী। সংস্থাটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে সামরিক শক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং সর্বশেষ হামলাও তারই ধারাবাহিকতা।

আল জাজিরা প্রকাশিত বিবৃতির উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সন্ত্রাসী ও অপরাধী সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ওয়াশিংটনের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাহ্য করে পরিচালিত একটি ‘আগ্রাসী ও বর্বরোচিত’ সামরিক অভিযান। সংস্থাটির দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করছে।

এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, দারখোভিনের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। সংস্থাটি হামলার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং সম্ভাব্য সামরিক ঝুঁকি মোকাবিলা করা।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, শনিবার রাতের অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর বিরুদ্ধে জবাবমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

মার্কিন হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা বর্বরোচিত হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে ‘চূড়ান্ত, কঠোর এবং বিধ্বংসী’।

-রফিক

পাঠকের মতামত: