আল-জাজিরা বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: ট্রাম্পকে কি সত্যিই ঠেকানো যাবে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৫ ০৯:০৬:৪৮
ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: ট্রাম্পকে কি সত্যিই ঠেকানো যাবে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ চতুর্থ মাসে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে বুধবার এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শান্তি আলোচনা চললেও দুই পক্ষ এখনো কার্যকর ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে বিরল প্রকাশ্য ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে সিনেটেও পাস হতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট চাইলে এতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেশ কঠিন।

বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে যুদ্ধ ক্ষমতা আইন বা War Powers Act প্রয়োগের প্রস্তাব তোলা হয়। এই আইনের লক্ষ্য হলো, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে যুক্ত হলে কংগ্রেস যেন সেই সংঘাত বন্ধে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ১৯৭৩ সালে কার্যকর হওয়া এই আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাৎক্ষণিক হামলার ঝুঁকি না থাকলে প্রেসিডেন্ট এককভাবে যুদ্ধ শুরু করতে পারেন না। জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন করা হলেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হয় এবং কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করলে ৬০ দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করতে হয়।

ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক হামলার হুমকি ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই আগে হামলা চালিয়েছে। তাঁদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন, যার সামরিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক পরিণতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। ৬০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি সরে আসেনি বলে সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন।

ভোটাভুটিতে ২১৫ জন প্রতিনিধি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ সীমিত করার পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন ২০৮ জন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, চারজন রিপাবলিকান সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। তাঁরা হলেন মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন, কেন্টাকির থমাস ম্যাসি এবং পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক। এর আগেও তিনজন রিপাবলিকান একই ধরনের ভোটে দলীয় অবস্থান ভেঙেছিলেন; এবার তাঁদের সঙ্গে আরও একজন যুক্ত হন। এটি ইঙ্গিত করছে যে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও অস্বস্তি বাড়ছে।

যুদ্ধের শুরুতে রিপাবলিকানদের বড় অংশ প্রকাশ্যে ট্রাম্পের পাশে থাকলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যবস্থা এবং মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ট্রাম্প স্থায়ী সমঝোতা আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে তাঁর জনপ্রিয়তাও চাপে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রতিনিধি পরিষদের ভোট কেবল ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান নয়; রিপাবলিকান দলের ভেতরেও ক্রমবর্ধমান সংশয়ের প্রতিফলন।

তবু এই ভোটকে এখনই কার্যকর বাঁধা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ সিনেটে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সিনেট ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে কয়েক দফা ভোটের চেষ্টা করলেও রিপাবলিকানরা এখনো তা ঠেকিয়ে রেখেছেন। সর্বশেষ ভোটে ৫০-৪৭ ব্যবধানে প্রস্তাব এগোয়নি। যদিও সেখানে চারজন রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন, তবুও তা যথেষ্ট ছিল না। এর ফলে বোঝা যায়, যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে অস্বস্তি থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এখনো প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে প্রস্তুত নয়।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র আদৌ এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আছে কি না। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১ মে দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির ফলে “শত্রুতা শেষ” হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও কংগ্রেসে শুনানির সময় বলেন, “ইরান যুদ্ধ শেষ।” প্রশাসনের যুক্তি হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে War Powers Act-এর আওতায় বর্তমান পরিস্থিতিকে সক্রিয় যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে তেহরানও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত রেখেছে। সিনেটর জিন শাহিন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে যথাযথ তথ্য না দিয়ে যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, প্রশাসন যখন বলছে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় শত্রুতায় নেই, তখনও বাস্তবে সামরিক সংঘাত ও প্রতিরোধমূলক হামলা চলেছে।

এই বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্যে। তিনি মে মাসে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট চাইলে ইরানে হামলা আবার শুরু করতে পারেন এবং প্রশাসনের হাতে তা করার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা রয়েছে। তাঁর যুক্তি, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি War Powers Act-এর ৬০ দিনের সময়সীমা নতুন করে শুরু করেছে। অর্থাৎ প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আবারও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন।

এই অবস্থান সমালোচকদের আরও উদ্বিগ্ন করেছে। কারণ এর অর্থ দাঁড়ায়, যুদ্ধবিরতি ব্যবহার করে প্রশাসন সময়সীমা পুনর্গণনা করতে পারে এবং কার্যত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নতুন হামলার পথ খোলা রাখতে পারে। এতে মার্কিন সংবিধানের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও আধুনিক মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই সামরিক ক্ষমতা বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করেছেন। ইরান যুদ্ধ সেই দীর্ঘ বিতর্কের নতুন অধ্যায়।

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন করদাতাদের অর্থ একটি “বেপরোয়া পছন্দের যুদ্ধে” ব্যয় করছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয়। যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধের দাবি এখন শুধু নৈতিক বা সাংবিধানিক প্রশ্ন নয়; এটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন দাবি করছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, “আত্মরক্ষা”র এই বিস্তৃত ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে নতুন সামরিক অভিযানের পথ খুলে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিলেও তা এখনো যুদ্ধ থামানোর কার্যকর আইনি হাতিয়ার হয়ে ওঠেনি। এটি কংগ্রেসের একাংশের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, রিপাবলিকানদের ভেতরে ফাটলের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ককে সামনে এনেছে। কিন্তু ট্রাম্পের হাতে এখনো ভেটো ক্ষমতা আছে, সিনেটে রিপাবলিকান প্রভাব রয়েছে এবং প্রশাসন যুদ্ধবিরতির ব্যাখ্যা ব্যবহার করে নিজের সামরিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে চাইছে।

তাই প্রশ্নটি এখন শুধু প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে সীমাবদ্ধ নয়। আসল প্রশ্ন হলো, মার্কিন কংগ্রেস কি সত্যিই প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? নাকি ইরান যুদ্ধও সেই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হবে, যেখানে কংগ্রেস আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টই সামরিক নীতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন? আপাতত প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা, কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা নয়।


কুয়েতে ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৮:১২:৫০
কুয়েতে ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এবার কুয়েতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুয়েতের সেনাবাহিনী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তেহরান থেকে ধেয়ে আসা একাধিক আগ্রাসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

হামলার ঘটনার পরপরই কুয়েত কর্তৃপক্ষ দেশটির সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন অঞ্চলে যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা মূলত কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কর্তৃক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বিপজ্জনক রূপ নিল।

কুয়েতে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের মাত্র এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সংঘাত খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি মনে করেন না এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হবে। সেই সঙ্গে তেহরান আর কতটা বৈরী পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার ইরানে পরিচালিত মার্কিন হামলাকে অত্যন্ত ব্যাপক আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যে ওয়াশিংটন যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে ওই হামলার পর ইরান তাৎক্ষণিক তীব্র পাল্টা আঘাত হানে, যার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র জর্ডান ও বাহরাইন।

এদিকে রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে এই সামরিক বিরোধ যাতে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা ভেতরে ভেতরে কাজ করছেন। অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার সঙ্গে যুক্ত চারজন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই সংঘাতকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই কৌশলের অন্যতম মূল কারণ হলো যুদ্ধাবস্থার কারণে যেন রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী ক্ষতি না হয়, কেননা ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে খোদ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেই অসন্তোষ ও বিরূপ মনোভাব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

/আশিক


ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ২১:৩৬:২৮
ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ইরানকে রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মস্কোর এই অনড় অবস্থান তুলে ধরেন। ইউক্রেন সংকট নিরসনে কোনো সম্ভাব্য সমঝোতা বা শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফরের পরপরই উইটকফ ও কুশনারকে নিয়ে মন্তব্য করলেন পুতিন। সিআইএ প্রধান তাঁর বিরল ওই সফরে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সংঘাত বন্ধের পক্ষে ওয়াশিংটনের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। র‍্যাটক্লিফের সফর নিয়ে পুতিন উল্লেখ করেন, চরম স্নায়ুযুদ্ধের সময়েও দুই পরাশক্তির শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধানদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল, যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা কিছুটা থমকে আছে। তবে ট্রাম্পের দুই দূতের ওপর আস্থা প্রকাশ করে পুতিন বলেন, পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করতে কোনো দ্বিধা নেই, বিশেষ করে যেহেতু তাঁরা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে সক্ষম।

বিশকেক সম্মেলনের এই সময়ে ইউক্রেন সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে এবং উভয় পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। পুতিন জানান, ইউক্রেনের জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালাতে রুশ বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কিয়েভের খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটি মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোনের কারণে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বেসামরিক বিমান চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়বে বলে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সেটিকে সরাসরি ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিন সাফ জানিয়ে দেন, একদিকে তারা আলোচনার টেবিলে বসার অনুরোধ জানাচ্ছে, অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদী হুমকি দিচ্ছে; আর মস্কোর নীতি অনুযায়ী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হতে পারে না। এছাড়া রুশ পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর দেশটিতে নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনা সমাবেশের যে গুঞ্জন রয়েছে, সেটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন তিনি।

এদিকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পুতিন। সেখানে তিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরানি নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে মস্কোর ধারাবাহিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপট থেকেই ইরানকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাশে রেখেছে ক্রেমলিন।

পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি ক্যাস্পিয়ান সাগর হয়ে ড্রোন তৈরির অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রাংশ পাঠিয়ে তেহরানকে সহযোগিতা করে আসছে মস্কো। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়া প্রসঙ্গে পুতিন পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের চাহিদা অনুযায়ী সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা সরবরাহ করছে রাশিয়া।

পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্য বিস্তারকারী নীতির কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, সোভিয়েত যুগে পাশ্চাত্যকে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ বলে আখ্যা দেওয়া হতো। কেউ যদি খাদ্যশৃঙ্খলের নিয়ম ভেঙে রাশিয়াকে নিচে নামিয়ে দিতে বা গ্রাস করতে চায়, তবে তারা চূড়ান্ত জবাব পাবে। এসব আধিপত্যকামী শক্তির ক্ষুধা ও আক্রমণের প্রবণতা যতই বাড়ুক না কেন, যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ রুখে দিয়ে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য মস্কো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

/আশিক


ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু:  শাহবাজ শরিফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ২০:১৬:০৮
ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু:  শাহবাজ শরিফ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যে তীব্র অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে, তা নিরসনের একমাত্র টেকসই উপায় কূটনীতি বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান সর্বদা শান্তির পক্ষে অবস্থান নেয় এবং বর্তমান সংকট উত্তরণে গঠনমূলক মধ্যস্থতা ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে ইসলামাবাদ। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসসিও সদস্যরাষ্ট্র ইরান চলতি বছরের শুরুর দিকে সরাসরি হামলার মুখে পড়েছে, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক সংকট ডেকে এনেছে। সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌ ও পরিবহন পথ বন্ধ বা বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানসহ বিশ্বের বহু দেশ এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক শিকার হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শাহবাজ শরিফ স্পষ্টভাবে জানান, সামরিক সংঘাত নয়, বরং কূটনৈতিক সংলাপই পারে এই গভীর খাদ থেকে উত্তরণ ঘটাতে। পাশাপাশি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সংকট সমাধানে পাকিস্তান যেকোনো আন্তরিক আলোচনার মধ্যস্থতায় সক্রিয় থাকতে প্রস্তুত।

সম্প্রতি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া বহুল আলোচিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে আত্মরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি। কোনো ধরনের সংঘাত উসকে দেওয়া কিংবা নতুন বিভাজন তৈরির কোনো উদ্দেশ্য এতে নেই।

এছাড়া ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরের মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাহবাজ শরিফ। তিনি অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের পাশে দাঁড়াতে এবং নিজেদের বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

/আশিক


দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৮:১৫:১২
দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া

দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ৭৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইরানি কর্তৃপক্ষের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমগুলো এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হামলায় সবচেয়ে বড় ধরনের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে হরমুজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির উপকূলীয় কুহেস্তাক এলাকায়। সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ওই একক ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং আরও ৬৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে।

অন্যদিকে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, আহভাজ ও আগাজারি এলাকার তিনটি পৃথক স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এসব হামলায় সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আটজন।

ইরানি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এছাড়া বন্দর আব্বাস, কেশম, জাস্ক এবং চাবাহার ও কোনারাকের আশপাশের এলাকাগুলোতেও মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তবে সেসব এলাকায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় দেশজুড়ে মোট হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ এজেন্সি


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ২১:৪৩:৪৮
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ
ছবি : সংগৃহীত

ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক দ্রুত গতিতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শত্রুপক্ষের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সামর্থ্য এখন আর কোনো প্রতিপক্ষের নেই।

ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স-কে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতে প্রতিটি যুদ্ধ ও সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আরও নতুন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠেছে এবং প্রতিবারই আগের চেয়ে উন্নত পারদর্শিতা দেখিয়েছে।

ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে গালিবাফ আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী যেকোনো লড়াইয়ে অস্ত্রের গুণগত মান এবং পরিমাণ—উভয় দিক থেকেই ইরান শত্রুপক্ষের চেয়ে বহুলাংশে এগিয়ে থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রকৃত সামরিক শক্তি উপলব্ধি করতে পেরে শত্রুরাও এখন এটি স্বীকার করে নিতে বাধ্য হচ্ছে যে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ ঠেকানোর সক্ষমতা তাদের নেই।

সূত্র: আল-জাজিরা।


বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ২১:১১:৫৯
বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় প্রতিরক্ষা আইনে যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী সংশোধন এনেছে চীন। সংশোধিত এই আইনের ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি বা জাতীয় জরুরি সংকটে বেইজিং প্রশাসনকে আর কেবল নিয়মিত সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হবে না। নতুন বিধিমালার আওতায় রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সাধারণ নাগরিক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য জাতীয় সম্পদ ব্যবহারের পূর্ণ কর্তৃত্ব পেল দেশটির সরকার। গত ২৮ আগস্ট চীনের সংসদ এই আইনি সংশোধনী অনুমোদন করে এবং ১ অক্টোবর থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন আইনি কাঠামো অনুযায়ী, সংকটকালে সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ ব্যবহার করার পাশাপাশি প্রয়োজনে তা সরাসরি বাজেয়াপ্তও করতে পারবে। সরকারের এই পদক্ষেপে কেউ যদি কোনো ধরনের বাধা তৈরি করে বা কার্যক্রমে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ঘটায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। ২০১০ সালের পর চীনের প্রতিরক্ষা নীতিতে এটিই সবচেয়ে বড় কাঠামোগত পরিবর্তন, যেখানে ১৪টি অধ্যায় ও ৮২টি স্বতন্ত্র ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

আইনটির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বেইজিং উল্লেখ করেছে, যেকোনো বহিরাগত বা অভ্যন্তরীণ হুমকি দেখা দিলে যেন অত্যন্ত দ্রুত দেশকে যুদ্ধাবস্থায় রূপান্তর করা যায়। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে সরাসরি জাতীয় প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সুরক্ষার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, ঐক্য ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়টিকেও এই আইনে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

সংকটকালীন সময়ে বেসামরিক খাতের ওপর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে নতুন এই আইনে। পরিবহন ব্যবস্থা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা, ওষুধ এবং খাদ্যশস্য সরবরাহ থেকে শুরু করে প্রকৌশল খাতকে যেকোনো মুহূর্তে প্রতিরক্ষা দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট খাত ও আঞ্চলিক ইউনিটগুলোকে বিশেষ দল গঠন করে জরুরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাইবার সক্ষমতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে চীন সরকার।

এমনকি চীনের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে বসবাসরত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এই প্রতিরক্ষা আইনের নির্দিষ্ট কিছু ধারা কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে। এর ফলে বিদেশে অবস্থানকালীন গৃহীত পদক্ষেপও চীনা আইনের আওতাভুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেইজিংয়ের এই নতুন আইনকে তাদের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রাসেলস-ভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর রাশিয়া ইউরোপ এশিয়া স্টাডিজ’-এর পরিচালক থেরেসা ফ্যালন এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের শঙ্কা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এমন সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।

/আশিক


থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ২১:৩৮:৪৬
থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

টানা দুই শতাধিক দিন সমুদ্রে দায়িত্ব পালন শেষে মার্কিন নৌবাহিনীর পারমাণবিক শক্তিচালিত বিশাল যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ প্রায় পাঁচ হাজার সেনাসদস্য নিয়ে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পাতায়ায় নোঙর করতে আসছে। দীর্ঘ সময় পর নাবিক ও সেনাদের অবকাশ ও মানসিক ক্লান্তি দূর করতেই পাতায়ার উপকূলে এই যাত্রাবিরতি দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক মন্দার কারণে স্থানীয় পর্যটন ও বাণিজ্যিক খাতে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, মার্কিন সেনাদের আগমনে তাতে সাময়িক চাঙ্গাভাব আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পাতায়ার মেয়রের হিসাব অনুযায়ী, সফরে আসা প্রতিটি মার্কিন সেনা প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৯১ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারেন, যা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তবে বিপুলসংখ্যক সেনার একসঙ্গে শহরে প্রবেশের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও সামাজিক শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যৌন নিপীড়ন, বিশৃঙ্খলা ও রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। থাইল্যান্ডের আইনে পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও পাতায়ায় এর প্রভাব থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে পুলিশি নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এমনকি সেনাদের নামার আগেই পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করা এই বিমানবাহী রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সময় সাগরে যুদ্ধপ্রস্তুতিতে অবস্থান করতে হয়েছিল। ফলে একটানা দায়িত্ব পালনের মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে সেনাদের জন্য পাতায়ার এই যাত্রাবিরতি বেশ স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক


ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ২০:১২:৩৭
ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ‘আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যর্থ’ ও একটি ‘মৃত রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে গণহত্যার অভিযোগ এনে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব কড়া মন্তব্য করেন।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ১ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প লেখেন, নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতার দায়ে ইরানের নেতৃত্বকে মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি করা উচিত।

ইরানকে একটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটির শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছে এবং তারা আন্তর্জাতিকভাবে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করার সমস্ত বৈধতা ও সক্ষমতা হারিয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের কাছে বর্তমানে কার্যকর কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই এবং দেশটির নিজস্ব মুদ্রা সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। এমনকি দেশটির সেনা ও পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানে মূল্যস্ফীতি বর্তমানে প্রায় ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে সার্বিক পতনের মুখে ইরানের নেতৃত্বের কাছে এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো এবং নিজ দেশের নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

সূত্র : আল জাজিরা


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৯:৪০:৪৪
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত

ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বা ত্রিপক্ষীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে আরও অন্তত ছয় থেকে সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। বর্তমানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশ তিনটির শীর্ষ কূটনীতিকদের বৈঠকের প্রাক্কালে এ তথ্য জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যে দেওয়া এক বক্তব্যে ইসহাক দার উল্লেখ করেন, নতুন আগ্রহী দেশগুলোর অন্তর্ভুক্তি সহজ ও নিয়মতান্ত্রিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে একটি খসড়া চুক্তি কাঠামো (অ্যাগ্রিমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক) তৈরির কাজ করছেন; যদিও তিনি এখনই সম্ভাব্য দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মূল ধারা অনুযায়ী—জোটভুক্ত তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর কোনো সশস্ত্র বা সামরিক আক্রমণ চালানো হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং যৌথভাবে তা প্রতিহত করা হবে। এই কৌশলগত চুক্তিতে যোগদানে আগ্রহ দেখানো সর্বশেষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও জানিয়েছিলেন, মিসরসহ আঞ্চলিক অন্যান্য দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে এই পারস্পরিক সামরিক ও প্রতিরক্ষা জোট আরও সম্প্রসারিত করা হতে পারে।

ব্লুমবার্গ আরও জানায়, মক্কা চুক্তির আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে যোগ দিতে বর্তমানে ইস্তাম্বুলে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যৌথ সামরিক মহড়া ও বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে; পাশাপাশি নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী সচিবালয়ের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে মুসলিম দেশগুলোর আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বহুমুখী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত প্রশমনে পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: