আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুতে অবহেলা স্পষ্ট, আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৭:২৪:৩০
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুতে অবহেলা স্পষ্ট, আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, হাসপাতালের একটি বন্ধ কক্ষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকার কারণেই (অক্সিজেন সংকট) এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই বর্বরোচিত অবহেলার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন গ্রহণ করার পর আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর আগে গত বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গঠিত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছে। একই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটিও আজ বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই লোমহর্ষক ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের ত্রুটি অনুসন্ধানের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

এর মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পৃথক ৩ সদস্যের আরেকটি কমিটি করা হয়। এছাড়া আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অভ্যন্তরীণ কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে নিজস্ব একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, যার প্রতিবেদনও ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে। তদন্তে অবহেলার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট হওয়ায় এখন দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি উঠছে।

/আশিক


ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হাম: আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় বাবা-মায়েদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৭:১১:২৬
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হাম: আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় বাবা-মায়েদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ছবি : সংগৃহীত

দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করা হাম রোগের প্রকোপে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে এক শিশু এবং হামের তীব্র উপসর্গে বাকি তিন শিশু মারা গেছে। একই সময়ের ব্যবধানে সারা দেশে হাম এবং এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২০৫টি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে মোট ৬০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৩৬টি শিশু সন্দেহভাজন হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময়ের পরিসংখ্যানসহ দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৭০৮ জনে।

এর পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী (কনফার্মড কেস) হিসেবে শনাক্ত হয়েছে আরও ৬৯টি শিশু। এই নতুন শনাক্তের ফলে দেশে এখন পর্যন্ত ল্যাব টেস্টে প্রমাণিত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯ হাজার ২৬০ জন।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হয়েছিল মোট ৬১ হাজার ১৯৪ জন শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা ও সেবা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে ৫৭ হাজার ১৪২ জন। স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্যমতে, সামগ্রিক মৃতের সংখ্যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ল্যাব টেস্ট ছাড়া কেবল তীব্র উপসর্গ বা সন্দেহজনক হামে মারা গেছে ৫১৪ জন এবং ল্যাব টেস্টে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৯১টি শিশু।

/আশিক


আজ যুক্তিতর্ক শেষেই জানা যাবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১০:৩১:৪৫
আজ যুক্তিতর্ক শেষেই জানা যাবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের দিন
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায়ের চূড়ান্ত তারিখ আজই ঘোষণা হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার (৪৪ জুন) সকালে মামলাটির উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। আইনি প্রক্রিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি শেষ হওয়ার পরপরই আদালতের পক্ষ থেকে রায়ের দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আইনি সূত্রে জানা গেছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী এই মামলায় আসামিদের জন্য সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতেই মামলার রায় প্রকাশ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এর আগে গত কার্যদিবসে এই মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করে বিচারকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রধান আসামি সোহেল রানা। এ সময় সে নিজের স্ত্রী স্বপ্নার বিষয়ে আদালতকে বলে, ‘আমার বউটা একদম নির্দোষ স্যার।’ তবে তার এই বক্তব্যের মাঝেই বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে সহ-আসামি স্বপ্নার কাছে জানতে চান তার নিজের কোনো বক্তব্য আছে কি না। জবাবে স্বপ্নাও আদালতের সামনে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে।

অবশ্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতে, বিচার প্রক্রিয়ার শেষ মুহূর্তে আসামিদের এই ধরনের আবেগঘন বক্তব্য মূলত আইনি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও বিলম্বিত করার একটি অপকৌশল মাত্র। অন্যদিকে, রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য আসামিপক্ষ থেকে নতুন করে কোনো সাফাই সাক্ষী আদালতের সামনে হাজির করা হবে না।

বিগত মঙ্গলবার এই ট্রাইব্যুনালে টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। ওই দিন শুনানিতে নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তারসহ অন্যান্য সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তার এক লোমহর্ষক চিত্র ফুটে ওঠে। মামলার সরকারি নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল শিশু রামিসা আক্তার। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে ফুসলিয়ে নিজেদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে আসামির বন্ধ ঘরের দরজার সামনে শিশু রামিসার একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তার মা। তখন ঘরে ডাকাডাকি করে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা মিলে জোরপূর্বক দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকে তারা সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে শিশু রামিসার রক্তাক্ত মস্তকবিহীন দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতরের একটি বড় বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।

এই নৃশংস ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্বপ্নাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করার পর ২০ মে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল আসামি সোহেল রানা।

/আশিক


প্রয়োজনে রাজপথে নামলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ রাজাকার মুক্ত করা হবে: ইশরাক হোসেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ২০:১৫:৫১
প্রয়োজনে রাজপথে নামলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ রাজাকার মুক্ত করা হবে: ইশরাক হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

দেশের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার নান্দিয়াপাড়ায় অবস্থিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন জাদুঘর’ পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর চাটখিল উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একক কৃতিত্ব যেমন একটি রাজনৈতিক দল জোরপূর্বক নিজেদের দাবি করেছিল, ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্বও আরেকটি দল নিজেদের পকেটস্থ করতে চেয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের একক কৃতিত্ব দাবিদার দলটি দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি মনগড়া তালিকা প্রস্তুত করেছিল, যা দেশবাসীর কাছে সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত।

ইশরাক হোসেন আরও উল্লেখ করেন, অন্যদিকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নিতে চাওয়া এই নতুন দলটি এখন দেশের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং একাত্তরের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের বিতর্কিত ভূমিকা পালন করে চলেছে। এই গোষ্ঠীটি বর্তমানে দেশের ভেতরে নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি অত্যন্ত কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় যদি আবারও রাজপথে নামার প্রয়োজন হয়, তবে মাঠপর্যায়ের জনতাকে সাথে নিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুরো দেশকে রাজাকার মুক্ত করা সম্ভব হবে।

চাটখিল উপজেলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই মর্যাদাপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন।

এছাড়া বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (এসপি সার্কেল) মনিষ দাস, চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ, আমেরিকা প্রবাসী বিএনপি নেতা পরান চৌধুরী, চাটখিল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, চাটখিল পৌরসভার সাবেক সভাপতি দেওয়ান সামছুল আরেফিন শামীম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান রানা, এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন টিপু ও আলাউদ্দিন ভূইয়া প্রমুখ।

/আশিক


মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম? আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৭:৫৮:২৭
মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম? আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগটির বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৭ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তবে এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হামের সংক্রমণে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আজ বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে।

সরকারি সবশেষ হিসাব ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হাম এবং এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৬০১ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ের মোট মৃত্যুর তালিকায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯০ জন এবং রোগটির বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে বাকি ৫১১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশজুড়ে নতুন করে আরও ৫৫ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৯ হাজার ১৯১ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও ১ হাজার ২১০ জন শিশুর শরীরে হামের সদৃশ উপসর্গ বা লক্ষণ শনাক্ত করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে মহামারি শুরুর পর থেকে এই পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ৫৭২ জনে পৌঁছেছে।

ভয়াবহ এই সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার কার্যকরভাবে রোধ করার জন্য শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো আক্রান্ত শিশুকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য জরুরি পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

/আশিক


পাইকারি ও গ্রাহক উভয় পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম, কার্যকর নতুন মূল্য তালিকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৭:১৩:২৯
পাইকারি ও গ্রাহক উভয় পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম, কার্যকর নতুন মূল্য তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

ভোক্তা ও উৎপাদন উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা, সঞ্চালন চার্জ ৮ পয়সা এবং খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। শতাংশের হিসাবে বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জের ক্ষেত্রে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের এই নতুন মূল্য তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা ও গণশুনানি শেষে বিদ্যুতের উৎপাদন ও ক্রয় ব্যয়, আমদানি খরচ, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতের ব্যয় এবং পাইকারি পর্যায়ে সরকারের দেওয়া ভর্তুকির পরিমাণ বিবেচনা করে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই আদেশের ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম আগের ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বেড়ে এখন ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি ইউনিট সঞ্চালন চার্জ দশমিক ৩১৩৫ টাকা থেকে দশমিক ০৭৫১ টাকা বাড়িয়ে দশমিক ৩৮৮৬ টাকা করা হয়েছে, যার অর্থ দাঁড়ায় ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন চার্জ ৩১ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯ পয়সায় পৌঁছাবে।

একই সাথে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ১১ টাকা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন থেকে গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হারে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নতুন করে এই দাম বাড়ানোর পরেও বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে আরও প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

/আশিক


তীব্র তাপদাহের পর অবশেষে মিলতে পারে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১২:৫৯:৪২
তীব্র তাপদাহের পর অবশেষে মিলতে পারে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বিগত কয়েকদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে চলায় তীব্র ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাজধানী ঢাকায় পারদ এখনো অতীতের সব রেকর্ড না ভাঙলেও গরমের তীব্রতায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদদের মতে, অস্বস্তিকর এই আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যার পর দেশের বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, থার্মোমিটারে বর্তমান তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে অবস্থান করলেও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মানুষের শরীরে তা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রার মতো অনুভূত হচ্ছে। বাইরে বের হলেই প্রখর উত্তাপ শরীরে এসে লাগছে এবং অনবরত ঘাম হওয়ার পরেও কোনো স্বস্তি মিলছে না, যার ফলে সামান্য ঠান্ডা বাতাস কিংবা ছায়ার খোঁজ পাওয়াও নগরবাসীর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ বুধবার (৩ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের পূর্বাভাসে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা প্রকাশ করেছে, যেখানে কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকাসহ দেশের বড় অংশ জুড়ে যে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে, তা আরও এক-দুইদিন একই রকম থাকতে পারে এবং এরপর তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করবে। এই সময়ের মধ্যে কিছু এলাকায় হালকা ও ক্ষণস্থায়ী বৃষ্টি হলেও আগামী দুই-একদিনের মধ্যে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা গরম কমাতে সাহায্য করবে। তবে ৫ জুনের আগে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমার সম্ভাবনা কম এবং ঢাকার আবহাওয়াও ৫ জুন পর্যন্ত প্রায় অপরিবর্তিত থেকে এরপর থেকে ধীরে ধীরে শীতল হতে পারে বলে এই আবহাওয়াবিদ জানান।

আজ ভোর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যার ফলে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাস অনুযায়ী ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনাসহ দেশের বড় একটি অংশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বর্তমান মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকবে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

/আশিক


পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১২:৫৫:৫৭
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আইনি প্রক্রিয়াটির এই ধাপ শেষে আদালত পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন। আদালতের সামগ্রিক খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আজ সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়। এরপর সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানাকে এবং ১০টা ৫৭ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে আদালতের হাজতখানা থেকে সরাসরি এজলাসে তোলা হয়।

বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানার সামনে এই মামলার সমস্ত সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান এবং তার কোনো বক্তব্য আছে কি না তা জানতে চান। জবাবে আসামি সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অপরাধের সাথে ডলার নামের অন্য এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে এবং নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ে তার ছোট সন্তান ও স্ত্রীর মুক্তির আবেদন জানায়। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও আদালতের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন।

শুনানি চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন এবং বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের এই শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু এবং এ সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১ জুন মামলার বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় গতকাল পর্যন্ত ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আসামি দম্পতিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিলে তা আমলে নিয়ে বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছিল।

/আশিক


জামায়াত আমিরের পিএস-এর দিকেও আঙুল: হাদি হত্যা নিয়ে ওমর হাদির স্ট্যাটাসে চাঞ্চল্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১০:৪১:৩০
জামায়াত আমিরের পিএস-এর দিকেও আঙুল: হাদি হত্যা নিয়ে ওমর হাদির স্ট্যাটাসে চাঞ্চল্য
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির বর্তমান সরকারের একাধিক উপদেষ্টা, মন্ত্রী-এমপি এবং জামায়াতের আমিরের পিএস সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বড় ভাই ওমর বিন হাদি। যুক্তরাজ্যে কর্মরত এই বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তার এমন পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে তিনি পরপর দুটি স্ট্যাটাস দেন, যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে দেশের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রথম পোস্টে ওমর হাদি লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে ইন্টেরিম সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করুন। হাদি হত্যার বিচার না করলে আপনাকেও এরা হত্যা করবে। যেভাবে আপনার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। হাদি হত্যার বিচার আপনি না করলে আপনাকে হত্যা করলেও কেউ বিচার করবে না। হাদি হত্যার বিচার বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য রেড লাইন। হাদি হত্যার বিচার করুন।’

এর ঠিক পরক্ষণেই দেওয়া দ্বিতীয় আরেকটি পোস্টে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে ওমর হাদি উল্লেখ করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরিতে আমিরে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জড়িত। হাদিকে ঢাকা-০৮ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রেসার দিছে আমাদের।’

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে ‘দ্বিতীয় সচিব’ পদে চুক্তিভিত্তিক কর্মরত রয়েছেন ওমর বিন হাদি। একজন স্পর্শকাতর কূটনৈতিক দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা হয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের জড়িয়ে এভাবে প্রকাশ্য ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় তাঁর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক ও নেটিজেন বলছেন, তিনি এর মাধ্যমে সরাসরি সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি মাঠ পর্যায়ের বা কূটনৈতিক কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত অথবা পেশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়—এমন বিষয়ে ফেসবুকে ছবি দেওয়া বা কোনো কিছু লিখতে পারবেন না। কর্মকর্তারা শুধু উদ্ভাবনমূলক ও সরকারি কাজের ইতিবাচক দিকগুলোই প্রচার ও শেয়ার করার অনুমতি রয়েছে।

এদিকে এই দুই ফেসবুক পোস্টের পর ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্পর্শকাতর এই পোস্টগুলো আসলেই ওমর হাদি নিজে দিয়েছেন নাকি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড হয়েছে বা অন্য কারও নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, তা নিয়ে খোদ নেটিজেন ও তাঁর পরিচিত মহলের মধ্যে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

/আশিক


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ২২:০১:৪০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক কূটনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের জন্য এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক গৌরব বয়ে আনলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিশ্বের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি (PGA) পদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের গোপন ব্যালটের এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটাভুটিতে তিনি জয়ী হন। আগামী এক বছর তিনি বিশ্বমঞ্চের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পালন করবেন।

ব্যালটের চুলচেরা লড়াইয়ে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস। নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ১৯০টি ভোটের মধ্যে ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন। ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসকে হারিয়ে বিশ্ব কূটনীতির এই শীর্ষ মুকুট ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ।

বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনীতিতে বাংলাদেশের এই বিজয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ চার দশক বা প্রায় ৪০ বছর পর বাংলাদেশ আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হতে পারল। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার বছর আগে প্রাথমিকভাবে এই পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হলেও অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক-কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা ঘোষণা ও প্রত্যাহারের পর আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশ দ্রুত পরিবর্তিত হয়। কারণ ফিলিস্তিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে মুসলিম দেশগুলোর ভোট বিভক্ত হওয়ার একটা বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই জটিলতা কাটার পর বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নতুন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এই পদের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়, যা আজ এক মহাবিজয়ে রূপ নিল।

জাতিসংঘের এই নতুন সভাপতি ড. খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি মেধার অনন্য স্বাক্ষর রেখে এসেছেন। ড. রহমান ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়মিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে দেশজুড়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সার্ভিসে (বিসিএস পররাষ্ট্র) যোগ দেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখান থেকে তিনি ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. খলিলুর রহমান ১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় (অর্থনৈতিক ও আর্থিক) কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) গ্লোবাল মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কাকতালীয়ভাবে ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী যখন ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন, তখন ড. রহমান তাঁর বিশেষ সহকারী হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)-এ জেনেভায় বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী ২৫ বছর তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপদে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেন এবং জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ও ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনাগুলোর প্রধান লেখক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ড. রহমান ঢাকায় অবস্থিত ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই কন্যা ও চারজন নাতি-নাতনির জনক।

/আশিক

পাঠকের মতামত: