মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা ও মার্কিন সুদের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় ধস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৫ ১৫:৫৮:১৯
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা ও মার্কিন সুদের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় ধস

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও নিম্নমুখী হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট ঘিরে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশায় পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে শুধু দৈনিক নয়, পুরো সপ্তাহজুড়েই উল্লেখযোগ্য লোকসানের মুখে পড়েছে মূল্যবান এই ধাতু।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৪৫.৫১ ডলারে নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সাপ্তাহিক পতন।

একই সময়ে আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৭১.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে স্পট ও ফিউচার উভয় বাজারেই স্বর্ণের ওপর বিক্রির চাপ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের দাম কমার পেছনে দুটি বড় কারণ কাজ করছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা দুর্বল হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে এমন ধারণা শক্তিশালী হচ্ছে।

এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্রাপেল বলেন, ইরান-সংক্রান্ত সংকটকে কেন্দ্র করে বাজারে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর মুদ্রানীতির সম্ভাবনা স্বর্ণের বাজারকে চাপে ফেলছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণ সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু সুদের হার বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারীরা সুদবাহী সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে স্বর্ণের মতো অনুৎপাদনশীল সম্পদের চাহিদা কমে যায় এবং দাম নিম্নমুখী হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সর্বশেষ তথ্যের দিকে। বিশেষ করে মে মাসের ‘নন-ফার্ম পে-রোল’ বা কৃষিখাতের বাইরে কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এই তথ্য থেকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদনীতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এখন প্রায় ৫১ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সুদের হার বাড়ানো হতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ছিল মন্দাভাব। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২.৩৬ ডলারে নেমে এসেছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১,৮৮০.৪০ ডলারে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,২৯৮.৪৯ ডলারে নেমে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচকগুলোও নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছেন। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বর্ণবাজারের দিকনির্দেশনা অনেকটাই নির্ভর করবে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

স্বর্ণবাজারে এই দরপতন বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ডলার বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশীয় বাজারে তার প্রতিফলন কতটা হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

-শিবলী_৮৮৭৬


সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান, প্রকাশ্যে নতুন ডিজিটাল টুলস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ২০:০৯:২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান, প্রকাশ্যে নতুন ডিজিটাল টুলস
ছবি : সংগৃহীত

পে স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বকেয়া বা 'এরিয়ার' বাবদ প্রাপ্ত অর্থের হিসাব নিয়ে যে জটিলতা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, তার সমাধানে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ এইচটিএমএল ভিত্তিক ‘পে স্কেল বকেয়া ক্যালকুলেটর’। এই ডিজিটাল সরঞ্জামটির সাহায্যে যেকোনো সরকারি কর্মচারী তাদের নতুন মূল বেতন, বাড়ি ভাড়ার পার্থক্য, বিশেষ সুবিধার সমন্বয় এবং ৩ মাসের মোট প্রাপ্ত নিট বকেয়ার সঠিক হিসাব চোখের পলকেই জেনে নিতে পারছেন।

এই ক্যালকুলেটরটি ব্যবহারের নিয়ম অত্যন্ত সহজ এবং ফাইলটি যেকোনো কম্পিউটার কিংবা অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের মোবাইল ব্রাউজারে অফলাইনে সরাসরি কাজ করে। ব্যবহারকারীকে প্রিন্ট সুবিধার জন্য প্রথমে নাম, পদবি ও কার্যালয়ের নাম লিখতে হবে। এরপর ২০১৫ সালের স্কেল অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩০ জুনের গ্রেড এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ও ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের ইনক্রিমেন্টসহ তোলা বেতনের তথ্য প্রদান করতে হবে। একই সাথে কর্মস্থল নির্বাচন করলে এলাকা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি বাড়ি ভাড়ার হার হিসাবভুক্ত হবে। সাধারণ ক্ষেত্রে বকেয়ার সময়সীমা ৩ মাস (জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) ডিফল্ট হিসেবে থাকলেও ব্যবহারকারী তা প্রয়োজনমতো ১ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সমন্বয় করতে পারবেন।

তথ্যগুলো পূরণ করার সাথে সাথেই পে স্কেলের সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ৫০ শতাংশ এবং ১ থেকে ৯মনীত গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রথম ধাপ অনুযায়ী নতুন মূল বেতন ও বাড়ি ভাড়ার হিসাব স্ক্রিনে ফুটে উঠবে। একই সাথে বিলুপ্ত হওয়া বিশেষ সুবিধা (১০% বা ১৫%) বিয়োগ করে নিট মাসিক বকেয়া এবং সর্বমোট পাওনার পরিমাণ স্পষ্ট দেখা যাবে। বিবরণীটি এ৪ সাইজের কাগজে প্রিন্ট বা সরাসরি পিডিএফ হিসেবে সংরক্ষণের সুব্যবস্থাও রয়েছে। তবে চূড়ান্ত ব্যবহারের পূর্বে অফিশিয়াল গেজেটের (এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬) স্কেল টেবিলের সাথে তথ্যগুলো একবার মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রস্তুতকারকরা।

/আশিক


সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে অনিশ্চয়তা ও দরপতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৭:৪০:৪৬
সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে অনিশ্চয়তা ও দরপতন
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার আবারও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও দরপতনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে সুদের হার ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সুদমুক্ত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণ বিক্রি করে লাভজনক বন্ডের দিকে হাত বাড়ান। এর ফলে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৫ ডলার ১২ সেন্টে নেমে আসে, যা এক সপ্তাহে প্রায় ০.৭ শতাংশ পতন। তবে একই সময়ে ডিসেম্বরে সরবরাহের ফিউচার বাজারে দাম সামান্য বেড়ে ৪ হাজার ১৯৮ ডলার ২০ সেন্টে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয় পর্যায়েই মূল্যস্ফীতি সাড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, ডিসেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।

উচ্চ সুদের হার বজায় থাকলে বিশ্ববাজারে ডলার আরও শক্তিশালী হবে, যা অন্যান্য দেশের মুদ্রায় স্বর্ণ ক্রয়কে ব্যয়বহুল করে তুলে বৈশ্বিক চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে স্বল্পমেয়াদে ক্যাপিটাল ইকোনমিকস ও টিডি সিকিউরিটিজের বিশেষজ্ঞরা দরপতনের ইঙ্গিত দিলেও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে স্বর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ হওয়ায় ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই এর চূড়ান্ত গতিপথ নির্ভর করছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী প্রভাবের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম এক লাফে অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে। নতুন সমন্বিত দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকায় নেমে এসেছে।

/আশিক


বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৯:০৫:৩৮
বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় কার্যদিবসেও মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে পতন লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রবণতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূলত স্বর্ণের বাজারে এই দরপতন দেখা দিয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তের স্পষ্ট ইঙ্গিত পেতেই মূলত বাজারসংশ্লিষ্টরা এখন অর্থনীতির এসব নতুন তথ্যের দিকে গভীর নজর রাখছেন।

এদিন বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দরও শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ৮০ ডলারে এসে ঠেকেছে।

ফরেক্স ডটকমের খ্যাতিমান বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, আজকের দিনে পরে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) প্রতিবেদনের অপেক্ষায় অনেক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী বর্তমানে লেনদেন থেকে কিছুটা বিরত রয়েছেন। মূলত এই অর্থনৈতিক প্রতিবেদনটি মার্কিন ডলারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এবং ডলারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত অন্যান্য সম্পদের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটি গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর ঠিক পরের দিনই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে দেশটির উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) এবং খুচরা বিক্রির অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাত্ত।

এদিকে জ্বালানি বাজারের তথ্যে দেখা গেছে, বুধবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, জলপথের ওই জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে নতুন কিছু কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চড়া রাখা এবং আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর প্রভাব বিস্তার করার একটি সুদূরপ্রসারী চেষ্টা হিসেবে তেহরান এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মার্কিন ডলারের লাগাতার ঊর্ধ্বগতি একসময় থমকে যাওয়ার পর এমন একটি সময় আসতে পারে যখন ডলারের দাম তার সর্বোচ্চ সীমার চূড়ায় পৌঁছে যাবে। আর ঠিক সেই মুহূর্তে স্বর্ণের বাজার আরও বেশি আকর্ষণীয় ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তাঁর ধারণা অনুযায়ী, চলতি বছরের পরবর্তী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঘুরে দাঁড়িয়ে পুনরায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ ডলারের দিকে এবং অনুকূল পরিস্থিতিতে তা ৪ হাজার ৭০০ ডলারেও গিয়ে পৌঁছাতে পারে।

সাধারণত বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি ও পতন থেকে সুরক্ষার অন্যতম সেরা মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে গণ্য করা হয়। তবে একটা বিষয় লক্ষণীয় যে, স্বর্ণের হোল্ডিং থেকে কোনো ধরনের নিয়মিত সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সুদের হার বেড়ে গেলে সাধারণত স্বর্ণের মতো আয়হীন সম্পদে বিনিয়োগ করার প্রবণতা ও আকর্ষণ কিছুটা হলেও কমে যায়।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস এক বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য চলতি বছর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার আরও একবার বাড়াতে হতে পারে। এদিকে শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ বলে জোরালো ধারণা করছেন বাজারের অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই সামগ্রিক প্রভাবের পাশাপাশি বুধবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বেশ মিশ্র প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫৭ ডলারে নেমে এসেছে এবং প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫৩ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিপরীতে প্যালাডিয়ামের বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থেকে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৩২ দশমিক ৭০ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার এই প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/আশিক


জ্বালানি সংকট নিরসনে জিটুজি চুক্তিতে ৯ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৭:২৫:৪৮
জ্বালানি সংকট নিরসনে জিটুজি চুক্তিতে ৯ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ২ লাখ ৩৭ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি দেশের বাজার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ১০ হাজার টন চিনি কেনার একটি প্রস্তাবও সরকারের অনুমোদন লাভ করেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই আমদানিসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোতে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়।

বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক খ্যাতনামা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা পিটিই ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে মোট ৯ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে ট্রাফিগুরাকে সরবরাহকারী হিসেবে নির্দিষ্ট করে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল। এটি সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে আমদানি করা হবে এবং দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে প্রয়োজনানুসারে এলএনজি কার্গোর পরিমাণ বাড়োনো বা কমানো সম্ভব হবে।

কৃষি উৎপাদনে সরবরাহ বজায় রাখতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সর্বমোট ২ লাখ ৩৭ হাজার টন সার আমদানির সবুজ সংকেত দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিশাল পরিমাণ সার আমদানির উৎস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও কানাডাকে। আমদানিকৃত চালানের মধ্যে ৮২ হাজার টন ইউরিয়া, ৪০ হাজার টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং অবশিষ্ট অংশে এমওপি সার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অন্যদিকে, স্থানীয় চাহিদা মেটাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ১০ হাজার টন চিনি কেনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দুইটি পৃথক চালানে এই চিনি সংগ্রহ করতে সরকারের খরচ হবে ১০০ কোটি টাকার বেশি।

/আশিক


রাশিয়ার ডিজেল চুক্তির পরও আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৯:০১:৪৩
রাশিয়ার ডিজেল চুক্তির পরও আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিজেল কেনার ঘোষণার সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিগত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, জ্বালানির অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি লাগাম টেনে ধরতেই তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ডিজেল আমদানির বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই দেশের বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

তবে রাশিয়ার থেকে জ্বালানি ক্রয়ের এমন পদক্ষেপ বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মস্কোর জ্বালানি রপ্তানির আয় কমিয়ে আনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের অর্থের জোগান সীমিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যে ভূরাজনৈতিক নীতি রয়েছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তার উল্টো বার্তা দেয়।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার দুই দলের ছয়জন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিলের জোর তাগিদ দিয়েছেন।

রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক এই টানাপোড়েনের মধ্যে সোমবার বাজারের শুরুতেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সঙ্গে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের ওপর গিয়ে ঠেকেছে।

সূত্র : সিবিএস নিউজ


সিপিআই রিপোর্টের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দামে নতুন অস্থিরতা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৭:৪৪:৩৭
সিপিআই রিপোর্টের অপেক্ষায় বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দামে নতুন অস্থিরতা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের অতি সতর্ক অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন ঘটেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যবান ধাতুটির দাম কমেছে, যদিও দিনের শুরুতে দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছিল।

সংবাদসংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সোমবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার ১৩ সেন্টে নেমে এসেছে। তবে দিনের প্রাথমিকভাগে ধাতুটির দর গত ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৯ ডলার ৭০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম এলে তা স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কমার পাশাপাশি প্রকৃত সুদের হারের চাপও কমবে। দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক স্বর্ণ ক্রয়, তেলের দরপতন এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে আসার সম্ভাবনা স্বর্ণের জন্য একটি সুসংহত পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। অন্যদিকে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান বজায় থাকায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারে বেচাকেনা হওয়া স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, যা দরপতনে ভূমিকা রাখছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমে যায়। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা বুধবারের মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবারের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন, যা থেকে ফেড-এর পরবর্তী পদক্ষেপের আভাস পাওয়া যাবে।

এদিকে স্বর্ণের বাজারে মন্দাভাব থাকলেও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ ডলার ৯৫ সেন্টে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০১ ডলার ১৮ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৫৯ ডলার ৬২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৭:৩২:৪২
ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট
ছবি : সংগৃহীত

ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানির প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর) দেশব্যাপী তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এর ফলে এই দুই দিন সাধারণ গ্রাহকদের সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি সেলিম খান এই ধর্মঘট ও এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং এর প্রতিবাদেই তাদের এই কঠোর কর্মসূচি।

এদিকে গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দেশের বাজারে এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ করেছিল। সেই নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ঠিক এই সময়ে ব্যবসায়ীদের দুই দিনব্যাপী বিক্রি বন্ধের এই ঘোষণায় দেশের এলপিজি বাজার পরিস্থিতি ও সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে এই বন্ধের সময়ে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ বা বিকল্প ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

/আশিক


এলপিজি আমদানিতে ফ্রেইট চার্জের নাটকীয়তা: বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বিপিসি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৯:৫১:৪৬
এলপিজি আমদানিতে ফ্রেইট চার্জের নাটকীয়তা: বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বিপিসি
ছবি : সংগৃহীত

এলপিজির বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামানো এবং বাজারে অবাধ প্রতিযোগিতা ফেরানোর উদ্দেশ্যে সরকারিভাবে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত সাত মাসে এক কেজি এলপিজিও আমদানি করতে পারেনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ সময়ের মধ্যে সংস্থাটি পাঁচ দফায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেও কোনো উপযোগী সরবরাহকারী চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সরকারের এই দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যর্থতার সুযোগে দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোটাই বেসরকারি আমদানিকারকদের দখলে রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দরপত্রে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল ফ্রেইট চার্জ বা অস্বাভাবিক জাহাজ ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টনে জাহাজ ভাড়া ছিল ২০০ ডলারের কম, সেখানে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী দরদাতারা প্রায় ২৭০ ডলার ফ্রেইট চার্জ দাবি করে। পরবর্তীতে সরাসরি ক্রয়নীতির (ডিপিএম) আওতায় স্পিড মার্কেটিং করপোরেশনকে মাত্র ৯৭ ডলারের অস্বাভাবিক কম দরপ্রস্তাবে ৫ হাজার টন এলপিজি সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হলেও সংস্থাটি চুক্তির মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও কোনো সরবরাহ করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাস্তবসম্মত বাজারদর যাচাই না করে সময়ক্ষেপণ করায় বিপিসির সদিচ্ছা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন এলপিজির বার্ষিক চাহিদার বিপরীতে সরকারি খাতের এলপিজি গ্যাস লিমিটেডের অবদান মাত্র ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাজারের প্রায় ৬৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র চারটি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, মেঘনা ও যমুনা স্পেসটেক। বর্তমানে বিইআরসি প্রতি মাসে দর নির্ধারণ করলেও বিপিসির নিজস্ব মজুত ও বাজার সরবরাহ বৃদ্ধি না পাওয়ায় ভোক্তারা নিয়মিতই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া মোংলা, এলেঙ্গা ও কাট্টলীতে মজুত ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং মাতারবাড়ীতে বড় জাহাজে পণ্য খালাসের প্রকল্পগুলোতে চরম ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিইআরসি ও সাধারণ গ্রাহকরা বলছেন, বিপিসি দ্রুত আমদানি শুরু না করলে এলপিজি খাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

/আশিক


জ্বালানি খাতে বিইআরসির নতুন দর পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৯:০৫:১৬
জ্বালানি খাতে বিইআরসির নতুন দর পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম বাড়াল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৬৫ টাকা ১৯৬৫ পয়সা থেকে ১৭ টাকা ৬ পয়সা বাড়িয়ে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা করা হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য লিটারপ্রতি দাম ১.০৭৭০ ডলার থেকে বৃদ্ধি করে ১.১৮৮২ ডলারে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিইআরসির এক বার্তায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১-এর গড় প্ল্যাটস রেট এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি স্টেটমেন্টে থাকা ডলারের বিনিময় হার বিশ্লেষণ করে এই দর সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এ দাম ৭ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

জ্বালানি খাতে মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি মূলত কয়েকদিন আগে শুরু হওয়া ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির অংশ। এর আগে গত ৪ অক্টোবর বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১,৭৯৩ টাকা করা হয়েছিল, যা আগে ছিল ১,৫৪১ টাকা। পাশাপাশি অক্টোবরের জন্য কেজিপ্রতি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করে কমিশন, যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় কেজিতে প্রায় ২০ টাকা ৯৮ পয়সা বেশি। জ্বালানি খাতের এই সমন্বয়ের অংশ হিসেবে গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ফলে পুরো পরিবহন ও জ্বালানি খাতেই নতুন করে ব্যয়ের চাপ তৈরি হলো।

/আশিক

পাঠকের মতামত: