হাদির খুনিদের বাঁচাতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছিল, মমতার মন্তব্যে নতুন মোড়

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিত করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জির দেওয়া একটি বিস্ফোরক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের আইনি সুরক্ষা বা প্রোটেকশন দেওয়ার পেছনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল—মমতা ব্যানার্জির এমন দাবিতে মুহূর্তের মধ্যে সর্বত্র হইচই পড়ে গেছে। কলকাতার এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর করা মন্তব্য, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সবটাই জানি...” যেন চলমান এই তদন্তের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া এই আলোচিত বক্তব্যটি বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়ে (টক অব দ্য কান্ট্রি) পরিণত হয়েছে। এই বক্তব্যের রেশ পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দ ছাড়িয়ে এখন ঢাকার প্রশাসনেও বড় ধরনের উত্তাপ ছড়িয়েছে, যার ফলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও রীতিমতো হতচকিত হয়ে পড়েছেন।
যদিও বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে কথা বলছে, তবে সাধারণ জনমনে এই নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। হাদি হত্যার প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বা নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী আসলে কে বা কারা এবং এর পেছনে ভিন্ন কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বা গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেই স্পর্শকাতর বিষয়টি এখন তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে জনগণের সামনে স্পষ্ট করার জোর দাবি উঠছে।
কলকাতার ধর্মতলার ওই জনসভায় মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি বহুল আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামি ভারতের মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে বেআইনিভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর সেখানকার পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তবে সে সময় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘দেশের বৃহত্তর স্বার্থের’ কথা উল্লেখ করে স্বয়ং মমতা ব্যানার্জিকে এই বিষয়ে মুখ না খুলতে বা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন।
জনসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে আমাদের এসটিএফ (স্পেশাল টাস্ক ফোর্স) গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক ‘রেভল্যুশন’ হয়েছিল। সে মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে এবং আমাদের পুলিশ তাকে ধরে। তারপর হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে মুখ খুলতে নিষেধ করেন। এতদিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি; কিন্তু আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন। আমি এখনো ভদ্রতা করে নামটা বলছি না, কারণ নাম বললে বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আর আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি।”
মমতা ব্যানার্জির এই বিস্ফোরক বক্তব্যের পর বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে গণমাধ্যমকে বলেন, হাদি হত্যার যেসব আসামি বর্তমানে ভারতে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি ভারত সরকারের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, একজন পরাজিত রাজনৈতিক নেতা ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে কী বলেছেন, তা নিয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিক আলোচনার কোনো অবকাশ নেই; তবে ভারত সরকার যদি এই বিষয়ে ঢাকাকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়, তবে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তা খতিয়ে দেখবে।
অন্যদিকে, চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই মামলাটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে এবং বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ভারতের কাছে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স’ চুক্তির আওতায় চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি। এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এই শীর্ষ কর্মকর্তা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে সিআইডি পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়ে ভাবছে, কারণ তিনি তাঁর বক্তব্যে যে সুদূরপ্রসারী ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাংলাদেশের তদন্ত দল এখনো সুনির্দিষ্টভাবে সেই তথ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। দেশের বাইরে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষেত্রে যেসব আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা রয়েছে, তা দূর করে সিআইডি এই পথেই এগোবে বলে তিনি জানান।
তবে এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, মমতা ব্যানার্জির এই স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে এটি এখন সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, শহীদ ওসমান হাদি খুনের সঙ্গে ভারত এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। একই মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা দাবি করেন, মমতার এই বক্তব্যে তদন্তে এক নতুন রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
তাঁর মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড, যার মূল পরিকল্পনাকারীরা অপরাধ সম্পন্ন করার পর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভারতে পালিয়ে যায় এবং ভারত সরকার তাদের প্রত্যক্ষ মদদ দেওয়ায় খুনিদের সহজে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে চাইছে না। হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার মাত্র ২০ ঘণ্টার মাথায় ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে প্রকাশ্য জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। একটি মোটরবাইকে আসা দুই আরোহী অত্যন্ত নিখুঁত নিশানায় হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর এই তরুণ নেতার মৃত্যু হয়।
তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রামপুরা এলাকার অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক এবং পরবর্তী সময়ে দেশের ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের এক সোচ্চার কণ্ঠস্বর ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর অল্প সময়ে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করাটাই মহলবিশেষের জন্য তীব্র রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডটি কোনো সাধারণ অপরাধ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক পূর্বপরিকল্পিত খুন। হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে হাদিসহ আরও তিনজনকে হত্যার নীলনকশা করা হয়। সে সময় একটি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার গুপ্তচর এই বিষয়ে হাদিকে ‘আপনারা সাবধান হয়ে যান’ বলে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
বর্তমানে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) দেশটিতে গ্রেপ্তার হওয়া মূল শুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল, তার সহযোগী আলমগীর শেখ এবং তাদের আশ্রয়দাতা ফিলিপ সাংমাকে দিল্লি নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যদিও ভারতের পুলিশ বাংলাদেশের তদন্ত টিমের কাছে অনেক তথ্যই গোপন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই মধ্যে গত ২ জুন রাতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে কর্মরত হাদির বড় ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি ফেসবুকে দুটি মারাত্মক বিস্ফোরক পোস্ট দিয়ে বসেন। একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত।’ অপর পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, হাদিকে ঢাকা-৮ আসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য জামায়াতের আমিরের একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তাদের ওপর ব্যাপক মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
একজন দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তাঁর এই ঝুঁকিপূর্ণ পোস্টের পেছনে মূলত হাদির পরিবারের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং মামলার চার্জশিট ও অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন বারবার (১২ বার) পেছানোর চরম হতাশা কাজ করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
সিআইডি সূত্র মারফত জানা গেছে, এই মামলার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করতে গিয়ে ২১৮ কোটি টাকার একটি স্বাক্ষরিত চেকের হদিস পাওয়া গেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিশাল আন্তর্জাতিক অর্থায়নের দিকে ইঙ্গিত করে। এছাড়া চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুল এবং সাভারের হেলালকে রিমান্ডে নিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি সীমান্ত পার হয়ে আসার পর পাঁচ হাত বদল হয়ে মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের কাছে পৌঁছায়। এই সুনির্দিষ্ট মিশন সফল করতেই মাজেদুলের মাধ্যমে অস্ত্রটি ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে বিশেষ তদবীরে কারাগার থেকে জামিনে বের করা হয়েছিল।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম চার্জশিট দিলেও মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি আবেদন দেওয়ায় আদালত মামলাটি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে সিআইডির অধীনে থাকা এই মামলায় ভারতে ৩ জন এবং বাংলাদেশে ১১ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস বিপ্লব এবং আদাবর ছাত্রলীগ সেক্রেটারি কামরুজ্জামানের নামও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাবেক একজন মুখ্যমন্ত্রী যখন সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জড়িত থাকার বা ধামাচাপা দেওয়ার ইঙ্গিত দেন, তখন তা ভারতের ‘প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায়’ এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেই সন্দেহকে আরও প্রবল করে তোলে। সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা এই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি জানান, দুই দেশের অপরাধী হস্তান্তর চুক্তি অনুযায়ী আইনি জটিলতা দূর করে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের উচিত গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের অবিলম্বে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা।
হাদি মূলত ভারতবিরোধী রাজনীতির অন্যতম অগ্রনায়ক থাকায় এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত আন্তর্জাতিক সত্য এবং এর আসল মাস্টারমাইন্ডের নাম অবিলম্বে জনসমক্ষে উন্মোচন করা দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
/আশিক
দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি, ১৫টি বিমান ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ
টানা ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের কারণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় দিল্লির বিভিন্ন অঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোর থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টিপাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার বড় প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। দৃশ্যমানতা হ্রাস এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী অন্তত ১৫টি উড়োজাহাজ জরুরি ভিত্তিতে জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনৌ বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে (ডাইভার্ট) দেওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতার ফলে সঙ্গম বিহারের কাছে এমবি রোড, বিমানবন্দরমুখী প্রধান সড়ক এবং সাকেত কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ১৮ থেকে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে দিল্লির ছতরপুর অঞ্চলে। সারা দিন রাজধানীতে বজ্রসহ মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ এবং দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদ অঞ্চলের জন্যও ‘কমলা সতর্কতা’ (অরেঞ্জ অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু-শিখ-জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ধর্মীয় নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় আবেদন করা শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যেই ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে অমিত শাহ স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব লাভ করবেন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় রাজ্য প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ক্ষমতাও অর্পণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সিএএ-এর অধীনে জমা পড়া যোগ্য আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা সংগ্রাহকদের বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সাথে আবেদনকারী সকল শরণার্থীকে পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে নাগরিকত্ব প্রদানের নিশ্চয়তা দেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা সংগ্রাহকদের সিএএ সংক্রান্ত বিচারাধীন আবেদনগুলো সরাসরি যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির কর্তৃত্ব প্রদান করে। পূর্বে এই আবেদনগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের শুমারি বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও দলটির নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের অবস্থানের সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, অতীতে যখন এই আইন আনা হয়েছিল, তখন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা বাস্তবায়ন হতে না দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বিরোধিতার কারণে তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে এবং বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার দায়িত্বে রয়েছে। এর পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজ্য থেকে সব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়িত করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের
ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় সফর ছাড়াও ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে বর্তমানে নতুন কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই এবং কোনো অগ্রগতি হলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।
একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের দেওয়া চিঠি এবং অতিরিক্ত জ্বালানি চাহিদার আবেদন ভারত খতিয়ে দেখছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে মুখপাত্র উল্লেখ করেন, ডিজেল সরবরাহের বিদ্যমান চুক্তিটি অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন করে অতিরিক্ত সরবরাহের বিষয়টি ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ চাহিদা, তেল শোধন সক্ষমতা এবং সার্বিক প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যালোচনা করা হবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই সফরের জন্য উপযুক্ত ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া জরুরি, যা ভারতকে স্পষ্টভাবে অবহিত করা হয়েছে। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের কারণে সফরের অনুকূল পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে বলে ঢাকা মনে করে। ফলে সফরের পরবর্তী পদক্ষেপে পারস্পরিক আস্থাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার চর্চা না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি মেনে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখবে সরকার। প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
/আশিক
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়া দিল্লির ইতিবাচক পদক্ষেপ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকের পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ পাঠায় দিল্লি। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ বর্তমানে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় আগামী সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশন’-এ অংশগ্রহণের জন্য তাকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের মধ্যকার বৈঠককে গঠনমূলক ও ইতিবাচক অভিহিত করে জয়সওয়াল উল্লেখ করেন যে, আলোচনায় দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্রিকসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের প্রধানদের এই সম্মেলনে আমন্ত্রণের অংশ হিসেবেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেক সভাপতি হিসেবে তারেক রহমানকে এই আমন্ত্রণ জানান। গত ১৪ জুলাই ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তরিত হয়।
/আশিক
হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে ইট-পাথর নিক্ষেপ, প্রাণরক্ষার দাবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার হালিশহর এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়লে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ইট ও পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, পুলিশের হেফাজতে মারা যাওয়া দলীয় এক কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে যাচ্ছিলেন তিনি।
হালিশহরে পৌঁছানোর পর বিক্ষোভকারীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে ধরে এবং ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় গাড়িতে কাদা ছোড়ার পাশাপাশি জুতা ও পানির বোতল নিক্ষেপ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মমতা বলেন, গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে ইট ও পাথরের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে মারাত্মক অঘটন ঘটতে পারত। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই বাইরে থেকে আসা কিছু সমাজবিরোধী উপাদান তাঁর গাড়িতে পাথর ছুড়েছে এবং পুলিশ তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাড়িতে থাকা তৃণমূলের লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, পুলিশের সহায়তায় বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি পরিচালনা করছেন।
তবে এই হামলার ঘটনায় দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তাঁদের দল এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নয়। একই সঙ্গে ঘটনাটির তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
ভারত সরকারের আলটিমেটামের মুখে নতিস্বীকার, ভুল স্বীকার করল মেটা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট প্রচার ও অন্যান্য পরিচালনাগত ত্রুটির দায়ে ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। বুধবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করে।
সংবাদটির তথ্যমতে, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে মুছে দেয় মেটা। এই ঘটনার পরপরই মেটা কর্তৃপক্ষকে জরুরি তলব করে ভারত সরকার। সরকারের এই তলবের পেক্ষিতে মেটার একটি বৈশ্বিক প্রতিনিধি দল ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তাঁর মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে জাকারবার্গের ক্ষমা প্রার্থনার বার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
সূত্র থেকে জানা গেছে, উক্ত বৈঠকে মেটা প্রতিনিধি দলকে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কিছু কঠোর দিক মনে করিয়ে দেওয়া হয়। ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানায় যে, মেটা কেবল একটি 'মধ্যস্থতাকারী' (Intermediary) প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না, কারণ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কোন কনটেন্ট কে দেখবে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সেই কারণে তারা আইটি আইনের 'সেইফ হারবার' বা আইনি সুরক্ষার সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না।
আলোচনাকালে মেটার কর্মকর্তারা স্বীকার করেন যে, বেশ কিছু বিতর্কিত ও নির্দিষ্ট কনটেন্টের প্রচার বাড়াতে প্রমোশন বা বুস্টিংয়ের কাজে বিপুল অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বেআইনি ও অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট প্রচারে নিজেদের গাফিলতি ও ভুল প্রকাশ্যে মেনে নিয়েছে মেটা।
তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না, মেটার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরবর্তীতে পুনরায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তলব করা হবে বলে জানিয়েছে সূত্রের খবর। এর পূর্বে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও মুছে ফেলার ইস্যুতে জাকারবার্গকে তিন দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ভারত সরকার; এবং ওই সময়ের মধ্যে ক্ষমা চাওয়া অথবা দায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।
/আশিক
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের আয়োজনে সম্পৃক্ততা নেই দিল্লির: রণধীর জয়সোয়াল
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বেসরকারি সংগঠন ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া)-এর একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্য প্রদান প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, এই উদ্যোগটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব আয়োজন এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিল্লিতে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, উক্ত ফোরামে ব্যক্ত করা কোনো মতামত বা রাজনৈতিক বক্তব্যকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।
অন্যদিকে, একই দিনে সকালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছেন, বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের নির্দেশ মেনে কোনো দেশীয় গণমাধ্যম যেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার না করে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কোনো গণমাধ্যম যদি শেখ হাসিনার বক্তব্যের আগাম প্রচার বা পরবর্তীতে অডিও-ভিডিও সম্প্রচার করে, তবে তা আদালতের অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আরও যোগ করেন, বিচারালয়ের রায় বা নির্দেশনা কার্যকর রাখা প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কোনো পক্ষ যদি আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চান, তবে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে; তবে স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় তা অমান্য করার সুযোগ নেই।
/আশিক
প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে সহিংসতার পেছনে জামায়াত ও বিদেশি শক্তির হাত: শুভেন্দু অধিকারী
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলন ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর ইন্ধন ও সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বড় অংশই কোনো শিক্ষার্থী নন; বরং তারা জামায়াতপন্থি মৌলবাদী চক্রের সদস্য। এসব নাশকতাকারীর পেছনে কোনো প্রভাবশালী বিদেশি শক্তির সমর্থন বা অর্থায়ন ছিল কি না, তা দেশটির তদন্তকারী সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রোববার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সহিংসতায় লিপ্ত হওয়া এই ব্যক্তিদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কোনোভাবেই শিক্ষার্থী নন, তারা মূলত জামায়াতি মৌলবাদী। তাদের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির প্রত্যক্ষ মদদ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।”
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিতর্কিত 'নিট' (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একপর্যায়ে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের পর সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের সদ্য প্রণীত কঠোর ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা রাজপথে এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও আজীবন মনে রাখবে।”
এর আগে বিধানসভার অধিবেশনেও তিনি দাবি করেছিলেন যে, সহিংস বিক্ষোভস্থল থেকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জন ব্যক্তির কেউই প্রকৃত শিক্ষার্থী নন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী মূল আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো যোগসূত্র নেই।
শুভেন্দু অধিকারীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনাবলী বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত আইন জোরদার করা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েই একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই সহিংসতা উসকে দিয়ে থাকতে পারে।
বিক্ষোভ চলাকালীন পেশাগত দায়িত্ব পালনরত এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করা হয়েছিল এবং এমনকি তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান ছাত্র অসন্তোষের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের জোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এই প্রস্তাবিত আইনে পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতির দ্রুত বিচারের স্বার্থে প্রতিটি রাজ্যে ডেডিকেটেড ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ আদালত গঠন, নির্ধারিত দুই মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা এবং দোষীদের ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
সরকার পক্ষ জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে তরুণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেই এই আইনি সংশোধনী আনা হচ্ছে। তবে আন্দোলন পরিচালনাকারী দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শনিবার তাদের টানা ৩৬ দিনের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা প্রদান এবং তাদের অন্যান্য যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার কারণেই তারা আন্দোলন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর এবার দিল্লিতে সরকার পতনের ডাক
ভারতে চলমান পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দেশটির নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার সময় এসে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বিক্ষোভের তোপের মুখে শনিবার (২৫ জুলাই) পদত্যাগপত্র জমা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
শনিবার সকালে নয়াদিল্লিতে ১০ জনপথের নিজস্ব বাসভবনে আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে কুশল বিনিময় ও বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সংবিধান, গণতন্ত্র ও নিজেদের ক্যারিয়ার সুরক্ষায় রাজপথে নামা সব তরুণ শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানান। রাহুলের মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাটি দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এক বিশাল সাফল্য।
শিক্ষামন্ত্রী সরে দাঁড়ালেও মূল আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি দাবি করে রাহুল গান্ধী জানান, তাদের প্রধান দুটি দাবি এখনো অপূরণীয়। প্রথমত, দেশটির সার্বিক ভবিষ্যৎ ও ছাত্রসমাজের সম্মানার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর যে ধরনের সহিংসতা চালানো হয়েছে, তাতে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমাজের অবহেলিত কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নবিত্তদের উদ্দেশে তিনি সংবিধানে দেওয়া অধিকারে অটল থাকার আহ্বান জানান এবং বর্তমান সরকারকে অপসারণের সময় এসেছে উল্লেখ করে কাউকে ভয় না পাওয়ার বার্তা দেন।
অন্য দিকে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে শনিবার এক্সে নিজের পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, দেশের কোটি তরুণের ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং যন্তর মন্তরের বিদ্যমান উত্তাল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠী যাতে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার পরদিনই পদত্যাগের এই ঘোষণা এল।
শিক্ষামন্ত্রীর বিদায়ের পর যন্তর মন্তরের প্রতিবাদী মঞ্চ থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানান সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনি শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তরুণদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা থেকেই এই গণআন্দোলনের সূচনা হয়। প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে স্পষ্ট করেছিলেন যে তার বক্তব্যটি ভুয়া আইনি ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ্যে ছিল এবং গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নজিরবিহীন ছাত্র অসন্তোষের জন্ম দেয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।
পাঠকের মতামত:
- ক্রিকেটের নতুন বিশ্বমঞ্চের দায়িত্ব পেল ভারত
- ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
- ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ
- লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
- তদন্ত শুরুর আগেই সত্যতা পাওয়ার দাবিতে মানহানি হয়েছে: আসিফ মাহমুদ
- ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু: শাহবাজ শরিফ
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের ধাক্কা লাগল বিশ্ববাজারে
- লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
- প্রযুক্তিপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় চমক আনতে পারে অ্যাপল
- দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাস গড়ে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশি ব্যাটার
- আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুতের দৃশ্যমান উন্নতি হবে: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- বিশ্ববাজারের ধাক্কায় মূল্যবান ধাতুর দামে বড় পতন
- জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- এলপিজির দামে এলো নতুন সমন্বয়, কার্যকর আজ সন্ধ্যা থেকেই
- দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
- আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ দুদকের
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
- বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ
- দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ব্যবসায়ী সংগঠনের আপত্তিতে কর নীতিতে পিছু হটলো এনবিআর
- আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন: রয়টার্স
- মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগের মতো থাকবে না: জোসে মরিনিও
- মধ্যরাত পর্যন্ত ১১ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- বিপিএলে দুর্নীতির থাবা, সাবেক পরিচালকসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বার্তা, দ্রুতই সরাসরি বৈঠকের আভাস
- বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা
- ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ট্রেজারি বন্ড ও বৈশ্বিক প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা
- অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা
- টুর্নামেন্টের মাঝপথে ক্যারিবীয় লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার
- দেশের ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা
- জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী
- এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মহাতারকা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে টানাপোড়েন, সামনে বড় ওঠানামার আভাস
- ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
- পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
- ৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝোড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে সতর্কতা
- সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ভারত সিরিজ নিয়ে মুখ খুললেন বোর্ডপ্রধান, জানালেন সর্বশেষ পরিস্থিতি
- ২১ বছরের পুরোনো মায়া কাটিয়ে নতুন স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশি মিডফিল্ডার
- আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ড্রোন হামলা
- দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক
- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
- নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
- জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
- এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ: চূড়ান্ত হলো গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ
- ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ঘিরে নতুন জটিলতা: বড় তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
- দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী








