হাদির খুনিদের বাঁচাতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছিল, মমতার মন্তব্যে নতুন মোড়

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিত করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জির দেওয়া একটি বিস্ফোরক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের আইনি সুরক্ষা বা প্রোটেকশন দেওয়ার পেছনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল—মমতা ব্যানার্জির এমন দাবিতে মুহূর্তের মধ্যে সর্বত্র হইচই পড়ে গেছে। কলকাতার এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর করা মন্তব্য, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সবটাই জানি...” যেন চলমান এই তদন্তের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া এই আলোচিত বক্তব্যটি বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়ে (টক অব দ্য কান্ট্রি) পরিণত হয়েছে। এই বক্তব্যের রেশ পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দ ছাড়িয়ে এখন ঢাকার প্রশাসনেও বড় ধরনের উত্তাপ ছড়িয়েছে, যার ফলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও রীতিমতো হতচকিত হয়ে পড়েছেন।
যদিও বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে কথা বলছে, তবে সাধারণ জনমনে এই নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। হাদি হত্যার প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বা নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী আসলে কে বা কারা এবং এর পেছনে ভিন্ন কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বা গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেই স্পর্শকাতর বিষয়টি এখন তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে জনগণের সামনে স্পষ্ট করার জোর দাবি উঠছে।
কলকাতার ধর্মতলার ওই জনসভায় মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি বহুল আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামি ভারতের মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে বেআইনিভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর সেখানকার পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তবে সে সময় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘দেশের বৃহত্তর স্বার্থের’ কথা উল্লেখ করে স্বয়ং মমতা ব্যানার্জিকে এই বিষয়ে মুখ না খুলতে বা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন।
জনসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে আমাদের এসটিএফ (স্পেশাল টাস্ক ফোর্স) গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক ‘রেভল্যুশন’ হয়েছিল। সে মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে এবং আমাদের পুলিশ তাকে ধরে। তারপর হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে মুখ খুলতে নিষেধ করেন। এতদিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি; কিন্তু আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন। আমি এখনো ভদ্রতা করে নামটা বলছি না, কারণ নাম বললে বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আর আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি।”
মমতা ব্যানার্জির এই বিস্ফোরক বক্তব্যের পর বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে গণমাধ্যমকে বলেন, হাদি হত্যার যেসব আসামি বর্তমানে ভারতে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি ভারত সরকারের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, একজন পরাজিত রাজনৈতিক নেতা ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে কী বলেছেন, তা নিয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিক আলোচনার কোনো অবকাশ নেই; তবে ভারত সরকার যদি এই বিষয়ে ঢাকাকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়, তবে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তা খতিয়ে দেখবে।
অন্যদিকে, চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই মামলাটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে এবং বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ভারতের কাছে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স’ চুক্তির আওতায় চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি। এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এই শীর্ষ কর্মকর্তা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে সিআইডি পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়ে ভাবছে, কারণ তিনি তাঁর বক্তব্যে যে সুদূরপ্রসারী ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাংলাদেশের তদন্ত দল এখনো সুনির্দিষ্টভাবে সেই তথ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। দেশের বাইরে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষেত্রে যেসব আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা রয়েছে, তা দূর করে সিআইডি এই পথেই এগোবে বলে তিনি জানান।
তবে এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, মমতা ব্যানার্জির এই স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে এটি এখন সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, শহীদ ওসমান হাদি খুনের সঙ্গে ভারত এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। একই মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা দাবি করেন, মমতার এই বক্তব্যে তদন্তে এক নতুন রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
তাঁর মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড, যার মূল পরিকল্পনাকারীরা অপরাধ সম্পন্ন করার পর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভারতে পালিয়ে যায় এবং ভারত সরকার তাদের প্রত্যক্ষ মদদ দেওয়ায় খুনিদের সহজে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে চাইছে না। হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার মাত্র ২০ ঘণ্টার মাথায় ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে প্রকাশ্য জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। একটি মোটরবাইকে আসা দুই আরোহী অত্যন্ত নিখুঁত নিশানায় হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর এই তরুণ নেতার মৃত্যু হয়।
তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রামপুরা এলাকার অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক এবং পরবর্তী সময়ে দেশের ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের এক সোচ্চার কণ্ঠস্বর ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর অল্প সময়ে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করাটাই মহলবিশেষের জন্য তীব্র রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডটি কোনো সাধারণ অপরাধ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক পূর্বপরিকল্পিত খুন। হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে হাদিসহ আরও তিনজনকে হত্যার নীলনকশা করা হয়। সে সময় একটি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার গুপ্তচর এই বিষয়ে হাদিকে ‘আপনারা সাবধান হয়ে যান’ বলে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
বর্তমানে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) দেশটিতে গ্রেপ্তার হওয়া মূল শুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল, তার সহযোগী আলমগীর শেখ এবং তাদের আশ্রয়দাতা ফিলিপ সাংমাকে দিল্লি নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যদিও ভারতের পুলিশ বাংলাদেশের তদন্ত টিমের কাছে অনেক তথ্যই গোপন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই মধ্যে গত ২ জুন রাতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে কর্মরত হাদির বড় ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি ফেসবুকে দুটি মারাত্মক বিস্ফোরক পোস্ট দিয়ে বসেন। একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত।’ অপর পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, হাদিকে ঢাকা-৮ আসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য জামায়াতের আমিরের একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তাদের ওপর ব্যাপক মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
একজন দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তাঁর এই ঝুঁকিপূর্ণ পোস্টের পেছনে মূলত হাদির পরিবারের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং মামলার চার্জশিট ও অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন বারবার (১২ বার) পেছানোর চরম হতাশা কাজ করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
সিআইডি সূত্র মারফত জানা গেছে, এই মামলার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করতে গিয়ে ২১৮ কোটি টাকার একটি স্বাক্ষরিত চেকের হদিস পাওয়া গেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিশাল আন্তর্জাতিক অর্থায়নের দিকে ইঙ্গিত করে। এছাড়া চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুল এবং সাভারের হেলালকে রিমান্ডে নিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি সীমান্ত পার হয়ে আসার পর পাঁচ হাত বদল হয়ে মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের কাছে পৌঁছায়। এই সুনির্দিষ্ট মিশন সফল করতেই মাজেদুলের মাধ্যমে অস্ত্রটি ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে বিশেষ তদবীরে কারাগার থেকে জামিনে বের করা হয়েছিল।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম চার্জশিট দিলেও মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি আবেদন দেওয়ায় আদালত মামলাটি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে সিআইডির অধীনে থাকা এই মামলায় ভারতে ৩ জন এবং বাংলাদেশে ১১ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস বিপ্লব এবং আদাবর ছাত্রলীগ সেক্রেটারি কামরুজ্জামানের নামও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাবেক একজন মুখ্যমন্ত্রী যখন সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জড়িত থাকার বা ধামাচাপা দেওয়ার ইঙ্গিত দেন, তখন তা ভারতের ‘প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায়’ এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেই সন্দেহকে আরও প্রবল করে তোলে। সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা এই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি জানান, দুই দেশের অপরাধী হস্তান্তর চুক্তি অনুযায়ী আইনি জটিলতা দূর করে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের উচিত গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের অবিলম্বে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা।
হাদি মূলত ভারতবিরোধী রাজনীতির অন্যতম অগ্রনায়ক থাকায় এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত আন্তর্জাতিক সত্য এবং এর আসল মাস্টারমাইন্ডের নাম অবিলম্বে জনসমক্ষে উন্মোচন করা দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
/আশিক
লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর আমন্ত্রণে বিশেষ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা, বিরোধী এমপি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মঙ্গলবার এক বিশেষ চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইনস্টাগ্রামে নিজের ভেরিফায়েড হ্যান্ডলে দেওয়া ওই পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, আজ তিনি তাঁর বাসভবনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতা, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য, ছাত্রসংগঠন ও সুশীল সমাজের বন্ধুদের চা পানের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গণতন্ত্র রক্ষার এই অবিরাম গণআন্দোলনে তারা সবাই সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ আছেন এবং এই লড়াই সর্বতোভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। চা চক্রের এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমন্ত্রিত নেতারা গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মুখোমুখি কথা বলবেন বলে জানা গেছে।
মূলত বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মাঝেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। গত কিছু সময় ধরে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে।
ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মূলত এই পদত্যাগের দাবি তুলেছে বিরোধীরা। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, গত বছর বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) অভিযান পরিচালনার সময় নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারদের অনেক কিছু জানানোই হয়নি। শুধু তা-ই নয়, দুই নির্বাচন কমিশনার নাকি বারবার এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
/আশিক
দিল্লিতে আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ দমনের সময় আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের গাড়িতে তোলার পর নারী পুলিশ সদস্যরা তাদের শারীরিক নির্যাতন করেছেন। এমনকি তাদের গলা চেপে ধরা, বুক ও সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম ‘স্ক্রল ডট ইন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নরিন নামের এক নারী বিক্ষোভকারী এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার একজন সদস্য। তার বর্ণনা অনুযায়ী, গত রোববার মধ্য দিল্লিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এমন সময় পুলিশ এসে সেখান থেকে ১৬ জনকে জোরপূর্বক আটক করে একটি ভ্যানে তোলে। আটককৃতদের মধ্যে ১৫ জনই নারী ছিলেন বলে তিনি জানান।
নওরিন অভিযোগ করেন, ভ্যানে তোলার পরপরই নারী পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর শুরু করেন। ‘দিশা স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন’-এর সদস্য শারন্যাকে ভ্যানের মেঝেতে ফেলে এক নারী পুলিশ সদস্য তার গলা চেপে ধরেন বলে তিনি জানান। এ সময় কনুই দিয়েও শারন্যাকে আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও নিয়ে যায় বলে নওরিন উল্লেখ করেন।
শুধু তাই নয়, ভ্যানে থাকা অন্যান্য নারী বিক্ষোভকারীদের বুকে ও যৌনাঙ্গেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আকস্মিক এই পুলিশি অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোনও বলপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়।
তবে নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর এই শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) কার্যক্রম ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত শনিবার ও রবিবার ককরোচ জনতা পার্টিসহ বিভিন্ন ছাত্র ও প্রতিবাদী সংগঠন দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আন্দোলনকারীরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
/আশিক
দিল্লিতে ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনী আরও এক মাস রাখার সিদ্ধান্ত
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া' ও বিভিন্ন সংগঠনের চলমান বিক্ষোভ এবং আসন্ন উৎসবের মৌসুমকে সামনে রেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে দিল্লিতে মোতায়েন করা প্রায় ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যকে অন্তত আরও এক মাস রাজধানীতেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত উৎসবের মৌসুমে বাজার ও জনসমাগমস্থলগুলোতে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় বাড়ায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে চলমান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দিল্লির নতুন করে তিনটি নির্দিষ্ট স্থানকে প্রতিবাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানগুলো হলো—রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দান। তবে এতদিন ধরে রাজনৈতিক বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত অতি সুরক্ষিত যন্তর মন্তর এলাকাটিকে নতুন এই তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের বিস্তারিত পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিতে সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে লংমার্চ বা মিছিল করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিক্ষোভের জেরে অননুমোদিত জমায়েত রোধ এবং যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লির প্রবেশদ্বার, বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের প্রতিটি প্রবেশপথে যানবাহনে নিয়মিত ও কঠোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে হোটেল, গেস্টহাউস, লজ ও ধর্মশালাগুলোতে宿泊কারীদের পরিচয় যাচাই করার জন্য বিশেষ অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।
আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের হাজার হাজার সদস্যও মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে নয়াদিল্লি জেলাকে মোট ২০টি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করে মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যুগ্ম কমিশনার, উপকমিশনার (ডিসিপি) এবং অতিরিক্ত উপকমিশনার পদমর্যাদার শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে থেকে পুরো নিরাপত্তা পরিস্থিতি তদারকি করছেন।
অন্যদিকে, এই আন্দোলনকে কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে একটি বৃহত্তর ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধী জোট। এজন্য সাধারণ শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার জন্য নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) কার্যক্রম এবং নির্বাচন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে মোদি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।
/আশিক
কত পুলিশ আনবেন আনুন, ভয় পাই না: অমিত শাহকে রাহুল গান্ধীর কড়া বার্তা
ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়ম ও বিতর্কের জেরে ভারতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রতিবাদে দিল্লির সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার দিল্লিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো হাজার হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ায় শহরজুড়ে যান চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলতি মাসজুড়ে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। বিরোধীদের মূল অভিযোগ, এই বিতর্কিত তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা 'ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া' (ইসিআই) এসব অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়া এন্ট্রি, মৃত ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ধাতব ব্যারিকেড বসিয়েছে। আন্দোলন চলাকালে ইতোমধ্যেই হাজারো মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের এমন গণ-আটক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে বিরোধী নেতারা বলছেন, সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠ ও গণআন্দোলন চেপে রাখার চেষ্টা করছে। এমনক সিজেপির সমর্থকদের ওপরও পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস জানান, বিক্ষোভকালে পুলিশ তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং ধস্তাধস্তি করে। এই ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক অধিকার ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, প্রেস কার্ড দেখানোর পরেও বহু সাংবাদিককে আটক করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থা 'রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস' জানিয়েছে, অন্তত ১৬ জন সাংবাদিককে কাজ করার সময় নির্মমভাবে আটক করা হয়, যা পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একদমই অগ্রহণযোগ্য।
এমন পরিস্থিতির মাঝেই রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারীদের সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার জোর আহ্বান জানান। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় রাহুল জানান, ১০ হাজার কিংবা ৪০ হাজার—যত পুলিশ বা বিজেপি-আরএসএসের লোকই পাঠানো হোক না কেন, তারা ভয় পাওয়ার পাত্র নন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধী সিজেপি ও মিত্র দলগুলো।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টানা ১২ বছরের শাসনামলে এই ভোটার তালিকা বিতর্ক অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সংশোধনের ফলে প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা গেছে। সমালোচকদের বড় একটি অংশ মনে করছে, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
পারমাণবিক হুমকির কাছে মাথা নোয়াবে না ভারত: জাতিসংঘে কড়া বার্তা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম কমিটির বৈঠকে পাকিস্তানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির ফার্স্ট সেক্রেটারি অনমল শের সিং বেদি ‘রাইট অব রিপ্লাই’ বা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পারমাণবিক হুমকির কাছে নয়াদিল্লি মাথা নোয়াবে না। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক শক্তির ভয় দেখিয়ে হামলার দায় এড়ানোর যে কৌশল নেওয়া হয়, তার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
বৈঠকে পেহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে ভারতীয় কূটনীতিক জানান, গত বছরের মে মাসে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত যে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল তা ছিল সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। এটি কোনো বড় ধরনের যুদ্ধের সূচনা করার উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পন্থায় সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা করার জন্যই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারতের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার দেশের রয়েছে।
পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে বেদি আরও বলেন, শান্তি ও সংযমের কথা বললেও সংকট সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্ট দেশকেই নিতে হবে। সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা এবং হামলার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভারত। এছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে অবৈধ দখলে থাকা ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে ওই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। ফলে কোনো রাষ্ট্র সেই আস্থার ভিত্তি দুর্বল করে কেবল চুক্তি থেকে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো একতরফাভাবে ভোগ করার দাবি করতে পারে না। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং পাকিস্তানি বিজ্ঞানী এ কিউ খানের পরমাণু প্রসার নেটওয়ার্কের ইতিহাস তুলে ধরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেন তিনি।
/আশিক
দিল্লিতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি: মোদি-শাহকে নিয়ে যা বলল সিজেপি
দিল্লিতে চলমান নজিরবিহীন কড়াকড়ি ও দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেছেন, দেশের পরিস্থিতিকে এক প্রকার ‘যুদ্ধাবস্থার’ দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লজ্জিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন যেকোনো মূল্যে চালিয়ে যাওয়ার দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও প্রিন্টের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, সরকার নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা নির্দিষ্ট স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও প্রশাসন চাইলে আলোচনার জন্য তাদের কোনো প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাতে পারত।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, নির্বিচারে ট্রেন বাতিল করা, বিক্ষোভে বাধা দেওয়া এবং সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের পাইকারি হারে আটকের মাধ্যমে মোদি সরকার কার্যত দেশে এক অঘোষিত জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বেআইনিভাবে আটক করার পর অনেককে ছেড়ে দেওয়ার সময় ‘আগামী এক বছর শান্তি বজায় রাখার’ শর্ত দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তারা মন্তব্য করেন যে, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমাররাই মূলত দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।
এর আগে শনিবার দিল্লির প্রতিবাদ কর্মসূচি ভেস্তে দিতে প্রশাসন নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে। এ সময় হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হলেও রোববার তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও কড়াকড়ির প্রেক্ষাপটে বন্ধ রাখা মেট্রো পরিষেবা এবং ইন্টারনেট সংযোগ অবিলম্বে চালুর জন্য রোববার সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা কড়াকড়ি আরোপের ক্ষেত্রে অবশ্যই সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী জনশৃঙ্খলার শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
এদিকে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও রোববার বিক্ষুদ্ধ বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুনরায় রাজপথে নেমে আসে। কনট প্লেসের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ আন্দোলনকর্মী ও শিক্ষার্থী নেহা বোরাকে আটকের চেষ্টা চালায়। এ সময় তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও বিকেল তিনটার দিকে এইচ ব্লকের আশপাশ থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
/আশিক
দিল্লিতে আটক তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে থানায় অনশন-ধরনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আটক হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ককে সাথে নিয়ে দ্বারকা নর্থ থানায় অবস্থান ধরনায় বসেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আটক বিধায়কদের প্রিজন ভ্যানে তুলে প্রায় দুই ঘণ্টা শহরজুড়ে ঘোরানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদে আগামী সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলেও শামিল হওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চিত করেন যে, বিকেল চারটার দিকে বিধায়কদের সাথে নিয়ে থানার ভেতরেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার রাতে তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা থাকলেও উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দিল্লিতে অবস্থান করেই এই প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
নিজের ধারণ করা ভিডিও বার্তায় মমতা জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরের দিকে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দিল্লি পুলিশ তাঁদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেয়। পরবর্তীকালে বাসস্ট্যান্ডের কাছে ব্যানার নিয়ে বসে প্রতিবাদ জানাতে গেলে পুলিশ ব্যানার সরাতে বলে। তাঁদের নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলার পরও পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তুলে অপরাধীদের মতো প্রায় দুই ঘণ্টা ঘুরিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।
কোনো ধরনের আইন ভঙ্গ না করা সত্ত্বেও রাজ্য বিধায়কদের সাথে এমন অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে এই থানার ভেতরই জলস্পর্শ না করে অনড় অবস্থান বজায় রাখার ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রতিমা মণ্ডল, দোলা সেন, সাকেত ও শ্যামল ইসলাম।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে মমতা স্পষ্ট করেন যে, তিনি সাধারণ পুলিশ সদস্যদের দায়ী করছেন না। বরং ওপর মহলের রাজনৈতিক নির্দেশ পালন করতেই পুলিশ এমন কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থী, কৃষক ও নারীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রের ভূমিকাকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। প্রতিবাদের তাগিদে দরকার পড়লে টানা ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা এই অনশন ও ধরনা চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরের দিকে এগোতে থাকা সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি) সমর্থিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার পর্যন্ত অন্তত এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আগাম আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, কর্মসূচির কোনো অনুমতি না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সময় মুম্বাই থেকে দিল্লিতে এসে পৌঁছানো সিজেপি কর্মী অভিজিৎ দীপকেও রানওয়ে এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
‘যত খুশি পুলিশ মোতায়েন করুন, আমরা পিছু হটব না’: মোদিকে রাহুল গান্ধীর চরম চ্যালেঞ্জ
ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী তরুণ সমাজকে আন্দোলন ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আন্দোলন দমনে যত পুলিশই মোতায়েন করা হোক বা যত নেতাকর্মীকেই আটক করা হোক না কেন, কংগ্রেস বা আন্দোলনকারীরা কোনোভাবেই পিছু হটবে না।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় রাহুল গান্ধী নিজের এই কঠোর মনোভাব তুলে ধরেন। নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে তিনি লেখেন, মোদি যেন তাঁর ইচ্ছামতো পদক্ষেপ নেন। সরকার চাইলে ১০ হাজার, ২০ হাজার কিংবা ৫০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করতে পারে এবং সব নেতা ও তরুণদের গ্রেপ্তার করতে পারে। এমনকি বিরোধীদের সবাইকে গ্রেপ্তার করলেও আন্দোলন থামবে না বলে তিনি জানান।
বার্তায় রাহুল গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার আলোকেই প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চাল ও কর্মকৌশল সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ও গভীর ধারণা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কংগ্রেসের এই প্রভাবশালী নেতা অভিযোগ তোলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক ভীতি কাজ করছে। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল রাজনৈতিকভাবে চরম চাপে রয়েছেন। বিরোধীদের নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের ফলেই তাঁদের প্রভাব ও কার্যক্রম দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
/আশিক
পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক আচরণ ও পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তাঁর সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে—এমন মন্তব্য করেছেন নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে আয়োজিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তীব্র আক্রমণ শানান।
সংবাদ সম্মেলনে কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যৌথভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের এই কৌশল সরকারের শেষ রক্ষা করতে পারবে না এবং এটিই তাদের পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন যে, মোদি সরকার বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভয় পায়; আর সেই ভয়ের কারণেই রাজধানী দিল্লি ও মুম্বাইসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা এবং নির্বিচারে আটকের মতো দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জনগণের সাংবিধানিক ভোটাধিকার রক্ষা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবিতে আগামী সোমবার দিল্লিতে একটি বৃহৎ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। এর অংশ হিসেবে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যেই ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, আগামী সোমবার এই দাবির সপক্ষে দেশের প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) সঙ্গেও তাদের সাক্ষাতের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নির্বাচন ব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর এই আন্দোলন সর্বস্তরে অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।
সূত্র: রেডিফ
পাঠকের মতামত:
- সীমান্ত এলাকায় মাদক নিয়ে লেখালেখির জেরে সাংবাদিক খুন
- আসন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ শিবির নিয়ে বড় আপডেট
- ২১টি ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এল টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন
- পর্যটকদের জন্য অবশেষে উন্মুক্ত হলো সাজেক ভ্যালি
- বৈশ্বিক এক মঞ্চে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন রূপরেখা তুলে ধরল ঢাকা
- অস্ট্রেলিয়ান টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার সুসংবাদ পেলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটার
- দীর্ঘ কর্মঘণ্টা যেভাবে নিঃশব্দে ক্ষতি করছে আপনার হৃদযন্ত্রের
- আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশে আসছে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘স্ট্রিট ফাইটার’
- দেবিদ্বারে জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজে নবীনবরণ ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
- দেবিদ্বারে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক: তদন্তের দাবি ও বিএনপির বিক্ষোভ
- ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা: জেনে নিন ৮টি বর্জনীয় শর্ত
- জাহাজে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি
- শেখ হাসিনা ও বেনজীর আহমেদের বিষয়ে যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম অব্যাহত
- একটি চক্র সরকার ও দেশের ভাবমুর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রুহুল কবির রিজভী
- সিকা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠন সরকারের
- সিরিয়ার দারা প্রদেশে বাড়ি ও গুদামে ইসরায়েলি সেনাদের অগ্নিসংযোগ
- সৌদিগামী প্রবাসীদের জন্য বিকল্প যাত্রাপথের ব্যবস্থা করল বিমান কর্তৃপক্ষ
- নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা
- দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
- নানিয়ারচর জোন কর্তৃক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত
- টিকটকের মোহে নতুন জীবনের খোঁজে ঘর ছেড়েছিল চার স্কুলছাত্রী
- সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
- সাভারের হেমায়েতপুরে মাদানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ আগুন
- সৌদি বিমানবন্দরে হামলার জেরে ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট বাতিল
- আগামীকাল আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- ভিডিওর জন্য ঘরে বসেই এআই দিয়ে ভয়েসওভার তৈরির সহজ উপায়
- বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমল স্বর্ণের দাম
- মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে ইরান
- ইরানে নতুন করে হামলা চালানো এখন উপযুক্ত নয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- প্রথম মাসে ফ্রিতে ব্যবহার করুন বাংলালিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্ক
- সরকারি চাকরি ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টকে কেন্দ্র করে সারজিস-ফারুকের তীব্র বাকযুদ্ধ
- জ্বালানি সংকট নিরসনে জিটুজি চুক্তিতে ৯ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার
- ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে জনপ্রিয় ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’
- অপারেশন ক্লিন হার্ট বা বিশেষ কোনো যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর আমন্ত্রণে বিশেষ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা
- ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান
- বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা ও সহিংসতার বিচার চেয়ে সাদপন্থিদের ৬ দফা দাবি
- জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার পর ড. ইউনূসকে নিয়ে বড় আপডেট দিলেন লামিয়া মোর্শেদ
- সানায় আক্রমণের পাল্টা জবাবে সৌদির ৩ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার হুশিয়ারি
- আত্মপ্রকাশের দুই বছরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি
- বোলারদের ব্যর্থতা ও ক্যাচ মিসে জয় হাতছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তদের
- প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে ফলগুলো ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মেটায়
- ২০২৭ সালে কবে শুরু রোজা? সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত
- জনমতের আশঙ্কায় ইসরায়েলি সহায়তা নিতে নারাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
- আর কখনো ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে চুয়েট ছাড়লেন নতুন উপাচার্য
- রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা
- আবহাওয়ার নতুন বার্তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস
- দিল্লিতে আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
- মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
- মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যে জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য সময়
- ভোটাধিকার রক্ষায় দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিল ইন্ডিয়া জোট
- হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন
- রাজশাহীর পুঠিয়ায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে
- ‘মোদির পতন দেখার অপেক্ষায় আছি’: মোদির বিদায় নিয়ে আসিফ নজরুলের পোস্ট
- দিল্লিতে আটক তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে থানায় অনশন-ধরনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
- সাজেক পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা প্রশাসনের
- রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
- পর্দার পেছনের অভিনব কায়দা নিয়ে এল নতুন প্ল্যাটফর্ম
- পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি
- ‘যত খুশি পুলিশ মোতায়েন করুন, আমরা পিছু হটব না’: মোদিকে রাহুল গান্ধীর চরম চ্যালেঞ্জ
- নরেন্দ্র মোদি জরুরি অবস্থাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন: অভিজিৎ দীপ
- রোমান সম্রাটের নতিস্বীকারের ইতিহাস টেনে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের
- জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি বেইমানি করেছে: আল্লামা মামুনুল হক








