হাদির খুনিদের বাঁচাতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছিল, মমতার মন্তব্যে নতুন মোড়

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিত করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জির দেওয়া একটি বিস্ফোরক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের আইনি সুরক্ষা বা প্রোটেকশন দেওয়ার পেছনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল—মমতা ব্যানার্জির এমন দাবিতে মুহূর্তের মধ্যে সর্বত্র হইচই পড়ে গেছে। কলকাতার এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর করা মন্তব্য, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সবটাই জানি...” যেন চলমান এই তদন্তের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া এই আলোচিত বক্তব্যটি বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়ে (টক অব দ্য কান্ট্রি) পরিণত হয়েছে। এই বক্তব্যের রেশ পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দ ছাড়িয়ে এখন ঢাকার প্রশাসনেও বড় ধরনের উত্তাপ ছড়িয়েছে, যার ফলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও রীতিমতো হতচকিত হয়ে পড়েছেন।
যদিও বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে কথা বলছে, তবে সাধারণ জনমনে এই নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। হাদি হত্যার প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বা নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী আসলে কে বা কারা এবং এর পেছনে ভিন্ন কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বা গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেই স্পর্শকাতর বিষয়টি এখন তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে জনগণের সামনে স্পষ্ট করার জোর দাবি উঠছে।
কলকাতার ধর্মতলার ওই জনসভায় মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি বহুল আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামি ভারতের মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে বেআইনিভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর সেখানকার পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তবে সে সময় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘দেশের বৃহত্তর স্বার্থের’ কথা উল্লেখ করে স্বয়ং মমতা ব্যানার্জিকে এই বিষয়ে মুখ না খুলতে বা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন।
জনসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে আমাদের এসটিএফ (স্পেশাল টাস্ক ফোর্স) গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক ‘রেভল্যুশন’ হয়েছিল। সে মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে এবং আমাদের পুলিশ তাকে ধরে। তারপর হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে মুখ খুলতে নিষেধ করেন। এতদিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি; কিন্তু আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন। আমি এখনো ভদ্রতা করে নামটা বলছি না, কারণ নাম বললে বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আর আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি।”
মমতা ব্যানার্জির এই বিস্ফোরক বক্তব্যের পর বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে গণমাধ্যমকে বলেন, হাদি হত্যার যেসব আসামি বর্তমানে ভারতে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি ভারত সরকারের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, একজন পরাজিত রাজনৈতিক নেতা ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে কী বলেছেন, তা নিয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিক আলোচনার কোনো অবকাশ নেই; তবে ভারত সরকার যদি এই বিষয়ে ঢাকাকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়, তবে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তা খতিয়ে দেখবে।
অন্যদিকে, চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই মামলাটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে এবং বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ভারতের কাছে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স’ চুক্তির আওতায় চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি। এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এই শীর্ষ কর্মকর্তা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে সিআইডি পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়ে ভাবছে, কারণ তিনি তাঁর বক্তব্যে যে সুদূরপ্রসারী ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাংলাদেশের তদন্ত দল এখনো সুনির্দিষ্টভাবে সেই তথ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। দেশের বাইরে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষেত্রে যেসব আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা রয়েছে, তা দূর করে সিআইডি এই পথেই এগোবে বলে তিনি জানান।
তবে এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, মমতা ব্যানার্জির এই স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে এটি এখন সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, শহীদ ওসমান হাদি খুনের সঙ্গে ভারত এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। একই মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা দাবি করেন, মমতার এই বক্তব্যে তদন্তে এক নতুন রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
তাঁর মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড, যার মূল পরিকল্পনাকারীরা অপরাধ সম্পন্ন করার পর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভারতে পালিয়ে যায় এবং ভারত সরকার তাদের প্রত্যক্ষ মদদ দেওয়ায় খুনিদের সহজে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে চাইছে না। হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার মাত্র ২০ ঘণ্টার মাথায় ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে প্রকাশ্য জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। একটি মোটরবাইকে আসা দুই আরোহী অত্যন্ত নিখুঁত নিশানায় হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর এই তরুণ নেতার মৃত্যু হয়।
তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রামপুরা এলাকার অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক এবং পরবর্তী সময়ে দেশের ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের এক সোচ্চার কণ্ঠস্বর ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর অল্প সময়ে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করাটাই মহলবিশেষের জন্য তীব্র রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডটি কোনো সাধারণ অপরাধ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক পূর্বপরিকল্পিত খুন। হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে হাদিসহ আরও তিনজনকে হত্যার নীলনকশা করা হয়। সে সময় একটি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার গুপ্তচর এই বিষয়ে হাদিকে ‘আপনারা সাবধান হয়ে যান’ বলে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
বর্তমানে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) দেশটিতে গ্রেপ্তার হওয়া মূল শুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল, তার সহযোগী আলমগীর শেখ এবং তাদের আশ্রয়দাতা ফিলিপ সাংমাকে দিল্লি নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যদিও ভারতের পুলিশ বাংলাদেশের তদন্ত টিমের কাছে অনেক তথ্যই গোপন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই মধ্যে গত ২ জুন রাতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে কর্মরত হাদির বড় ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি ফেসবুকে দুটি মারাত্মক বিস্ফোরক পোস্ট দিয়ে বসেন। একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত।’ অপর পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, হাদিকে ঢাকা-৮ আসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য জামায়াতের আমিরের একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তাদের ওপর ব্যাপক মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
একজন দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তাঁর এই ঝুঁকিপূর্ণ পোস্টের পেছনে মূলত হাদির পরিবারের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং মামলার চার্জশিট ও অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন বারবার (১২ বার) পেছানোর চরম হতাশা কাজ করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
সিআইডি সূত্র মারফত জানা গেছে, এই মামলার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করতে গিয়ে ২১৮ কোটি টাকার একটি স্বাক্ষরিত চেকের হদিস পাওয়া গেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিশাল আন্তর্জাতিক অর্থায়নের দিকে ইঙ্গিত করে। এছাড়া চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুল এবং সাভারের হেলালকে রিমান্ডে নিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি সীমান্ত পার হয়ে আসার পর পাঁচ হাত বদল হয়ে মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের কাছে পৌঁছায়। এই সুনির্দিষ্ট মিশন সফল করতেই মাজেদুলের মাধ্যমে অস্ত্রটি ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে বিশেষ তদবীরে কারাগার থেকে জামিনে বের করা হয়েছিল।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম চার্জশিট দিলেও মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি আবেদন দেওয়ায় আদালত মামলাটি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে সিআইডির অধীনে থাকা এই মামলায় ভারতে ৩ জন এবং বাংলাদেশে ১১ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস বিপ্লব এবং আদাবর ছাত্রলীগ সেক্রেটারি কামরুজ্জামানের নামও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাবেক একজন মুখ্যমন্ত্রী যখন সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জড়িত থাকার বা ধামাচাপা দেওয়ার ইঙ্গিত দেন, তখন তা ভারতের ‘প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায়’ এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেই সন্দেহকে আরও প্রবল করে তোলে। সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা এই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি জানান, দুই দেশের অপরাধী হস্তান্তর চুক্তি অনুযায়ী আইনি জটিলতা দূর করে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের উচিত গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের অবিলম্বে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা।
হাদি মূলত ভারতবিরোধী রাজনীতির অন্যতম অগ্রনায়ক থাকায় এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত আন্তর্জাতিক সত্য এবং এর আসল মাস্টারমাইন্ডের নাম অবিলম্বে জনসমক্ষে উন্মোচন করা দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
/আশিক
ধর্মতলায় মমতার আমরণ অনশন: লড়ব না হয় মরব বলে বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি
বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার রাজপথের লড়াইয়ে নামলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের পর প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় আমরণ অনশন শুরু করেছেন তিনি। অনশন মঞ্চ থেকেই তিনি কেন্দ্রের ও রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং পেশিশক্তি ও অর্থ দিয়ে দল ভাঙার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ধর্মতলার অনশন মঞ্চ থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুংকার দিয়ে বলেন, “লড়ব, না হলে মরব। বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো পর্যন্ত আমি থামব না।” তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট কারচুপির মাধ্যমেই কেবল বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। এখন ক্ষমতা ধরে রাখতে ও তৃণমূলকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করতে ভয়ভীতি ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ প্রয়োগ করে দল দুর্বল করার নোংরা খেলায় মেতেছে তারা। এ সময় মমতা তাঁর ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন।
তবে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাইপ্রোফাইল এই কর্মসূচিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কঙ্কালসার চেহারাই যেন প্রকাশ পেয়ে গেছে। দলের সর্বময় নেত্রীর আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচিতেও নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল নজিরবিহীনভাবে কম। তৃণমূলের টিকে থাকা ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র পাঁচজন এবং দলের মাত্র তিনজন সাংসদ এই অনশন মঞ্চে অংশ নেন। দলের এই চরম উদাসীনতা ও শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অনীহা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ তীব্র সংকট ও দলটির সম্ভাব্য এক মহাবিভক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।
অনশনে অংশ নেওয়া হাতেগোনা পাঁচ বিধায়কের মধ্যে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব ও অসীমা পাত্র। আর সাংসদদের মধ্যে কেবল দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মঞ্চে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে দলটির অন্দরে যে তীব্র অস্থিরতা চলছে, তার প্রমাণ মিলছে বিভিন্ন গোপন বৈঠক থেকে। জানা গেছে, সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত ও বিক্ষুব্ধ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা বর্তমান তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে দফায় দফায় গোপন বৈঠক করেছেন। এর পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে দলের ভেতরেই। এমনকি এর আগে মমতার ডাকা জরুরি সাংগঠনিক বৈঠকেও অধিকাংশ বিধায়ক ও সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন অস্তিত্ব সংকটের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। এমন ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে মমতার এই অনশন কর্মসূচি একদিকে যেমন বিজেপির বিরুদ্ধে একার রাজনৈতিক লড়াইয়ের মরিয়া বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে দলের ভেতরের চরম সমন্বয়হীনতা, কোন্দল ও দুর্বলতাকে পুরোপুরি রাজপথে এনে আছাড় মেরেছে।
/আশিক
৫৪ বছরে প্রথম: মুসলিম প্রতিনিধি ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দীর্ঘ ৫৪ বছরের ইতিহাস ভেঙে এই প্রথম কোনো মুসলিম প্রতিনিধি ছাড়াই গঠিত হলো নতুন সরকার। গতকাল সোমবার (১ জুন) রাজভবনে আরও ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। তবে নজিরবিহীনভাবে এই ৪১ জন মন্ত্রীর সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু)। ফলে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর কোনো মুসলিম মুখহীন মন্ত্রিসভা দেখল পশ্চিমবঙ্গ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি একজন মুসলিম প্রার্থীকেও টিকিট দেয়নি। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণায় দলের কোনো কোনো শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন যে, জয়লাভের জন্য সংখ্যালঘু ভোটের কোনো প্রয়োজন তাদের নেই। যদিও ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিধায়ক (MLA) না হয়েও ৬ মাসের জন্য মন্ত্রী হতে পারেন, যদি তিনি এই সময়ের মধ্যে উপ-নির্বাচনে জিতে আসেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী সেই পথও মাড়াননি।
এর ফলে রাজ্যে এমন এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর দায়িত্বও পেতে যাচ্ছেন একজন অ-সংখ্যালঘু (হিন্দু) নেতা। আগামী বুধবার মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবারের জমকালো অনুষ্ঠানে ১৩ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২২ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন, যাদের মধ্যে ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত। তারা গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর সঙ্গে শপথ নেওয়া অপর ৫ মন্ত্রীর সাথে যুক্ত হলেন।
পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৩০ শতাংশ) মুসলিম। ফলে দেশভাগের পর থেকে রাজ্যের প্রতিটি সরকারেই সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব রাখা একটি অলিখিত রাজনৈতিক প্রথায় পরিণত হয়েছিল। এর একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল স্বাধীনতার ঠিক পরে গঠিত প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের প্রথম স্বল্পস্থায়ী সরকার। এরপর ১৯৫২ সালের নির্বাচনে জিতে কালীগঞ্জ থেকে এস এম ফজলুর রহমান বিধানচন্দ্র রায়ের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার পর থেকে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব স্থায়ী রূপ নেয়।
১৯৭১ সালের পর ১৯৭২ সালে গঠিত সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের কংগ্রেস সরকার থেকে শুরু করে বামফ্রন্টের ৩৪ বছর এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের জমানার প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভায় একাধিক প্রভাবশালী মুসলিম মন্ত্রী ও স্পিকার ছিলেন। বাম জমানার আবদুর রাজ্জাক মোল্লা, মোহাম্মদ আমিন কিংবা মমতার আমলের ফিরহাদ হাকিম, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীরা ছিলেন সরকারের অন্যতম নীতিনির্ধারক। এবার শুভেন্দুর হাত ধরে সেই ধারার অবসান ঘটল।
৪১ সদস্যের এই বিশাল মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র ১৭ শতাংশ (৭ জন)। একমাত্র পূর্ণ নারী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আসানসোলের নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। বাকি ৬ জন কলিতা মাজি, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, মালতী রাভা রায়, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, সুমনা সরকার এবং গার্গী ঘোষ দাস প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
এদিকে, মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে বিজেপির অন্দরেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক গুঞ্জন। দলের দুই বিশিষ্ট তারকা মুখ রূপা গাঙ্গুলি ও রুদ্রনীল ঘোষকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল—পানিহাটি আসন থেকে বিজয়ী আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নৃশংসতার শিকার সেই নারী চিকিৎসকের মায়ের মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া।
মমতার পতন ও বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে তাঁর জয়কে ‘জনরোষের প্রতীক’ হিসেবে দেখা হলেও, দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আবেগের চেয়ে অভিজ্ঞ ও পোড়খাওয়া নেতাদেরই প্রশাসনে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কলকাতাভিত্তিক বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী শুভময় মৈত্র মনে করেন, এই মন্ত্রিসভা বিজেপির কট্টর হিন্দুত্ববাদী নির্বাচনী মেরুকরণেরই প্রতিফলন, তবে ভবিষ্যতে দলের ভেতরের উদারপন্থী শক্তির চাপে এই সমীকরণ বদলাতেও পারে।
/আশিক
পাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির ১০ বছরের নীতি ব্যর্থ ও বুমেরাং: আল-জাজিরা
ইসলামী বিশ্ব ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ভারতের একঘরে করার নীতির অকার্যকারিতা নিয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান ও ঘোষিত লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পূর্ণ একঘরে বা ‘ডিপ্লোম্যাটিক আইসোলেশন’-এ ফেলা। বিশেষ করে ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর এবং ২০১৬ সালের উরি হামলার পর থেকে দিল্লির এই আক্রমণাত্মক নীতি আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দিল্লির কৌশল ছিল বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে “সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্র” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করে দেওয়া।
তবে আল-জাজিরার সাম্প্রতিক এক গভীর বিশ্লেষণ বলছে, মোদি সরকারের গত এক দশকের এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি ভারতের জন্য উল্টো ফল বা ‘বুমেরাং’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়ে উল্টো বিশ্বমঞ্চে নতুন নতুন শক্তিশালী অংশীদারিত্ব ও কূটনৈতিক জোট গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
ভারত শুরু থেকেই চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক বড় বড় ফোরামে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে। জাতিসংঘ (UN), জি-টোয়েন্টি (G20), সার্কসহ (SAARC) বিভিন্ন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক-এর কার্যক্রম বর্তমানে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ২০১৬ সালের পর ভারত ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বর্জন করলে এই আঞ্চলিক সংগঠনটির মেরুদণ্ড আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
দিল্লির পাকিস্তান-কেন্দ্রিক কৌশলের মূল তিনটি দিক ছিল—প্রথমত, পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা; দ্বিতীয়ত, পরাশক্তিগুলোর কাছে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে আনা; এবং তৃতীয়ত, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনৈতিক কাঠামোয় ভারতের একক প্রভাব বৃদ্ধি করা। শুরুতে এই কৌশল অনেকটাই কার্যকর মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়।
আল-জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের এই নীতি ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হলো চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের অভাবনীয় গভীরতা ও মেগা বিনিয়োগ। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এর অংশ হিসেবে ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর’ (CPEC) প্রকল্প পাকিস্তানের অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দেয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জ্বালানি, শক্তি খাত এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো যোগাযোগ ব্যবস্থায় পাকিস্তান ব্যাপক উন্নয়ন সহযোগিতা পায়। ফলে ইসলামাবাদের জন্য বেইজিংয়ের ভেটো ও সমর্থন আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ঢাল হিসেবে কাজ করছে।
অন্যদিকে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রও ভূ-রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানকে পুরোপুরি উপেক্ষা বা অবহেলা করতে পারেনি। আফগানিস্তানের জটিল পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার কারণে ওয়াশিংটনকে সবসময়ই ইসলামের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়েছে। আল-জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল সবসময় ভারসাম্যপূর্ণ ছিল—ভারতকে কৌশলগত মূল অংশীদার হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হলেও পাকিস্তানকে তারা কখনোই পুরোপুরি ফেলে দেয়নি।
এই বৈশ্বিক মেরুকরণের মধ্যেই পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ও প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবং কাতারের মতো ধনী দেশগুলোর সঙ্গে বিশাল অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজার-ভিত্তিক অংশীদারিত্ব ইসলামাবাদের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি রেমিট্যান্স যোদ্ধা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত থাকায় এই সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে রূপ নিয়েছে। আল-জাজিরা স্পষ্ট করেছে যে—চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই তিনটি বড় আন্তর্জাতিক সংযোগই পাকিস্তানকে একটি “পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র” হওয়া থেকে রক্ষা করেছে।
ভারতের কৌশল ব্যর্থ হওয়ার আরেকটি বড় তাত্ত্বিক কারণ হলো বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন। আজকের আন্তর্জাতিক বিশ্ব আর এককেন্দ্রিক (Unipolar) নয়; বরং এটি বহুকেন্দ্রিক বা মাল্টিপোলার (Multipolar) হয়ে উঠছে। ফলে আধুনিক বিশ্বে কোনো একটি দেশের পক্ষে অন্য কোনো সার্বভৌম দেশকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এখন নিখাদ স্বার্থ এবং ‘চয়েস বেসড অ্যালায়েন্স’ বা সুবিধাভিত্তিক জোটের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে দেশগুলো কোনো একক ব্লকে না থেকে একাধিক পক্ষের সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক বজায় রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত পাকিস্তানকে একঘরে করতে গিয়ে আঞ্চলিক কূটনীতিতে কিছুটা একক বা আইসোলেটেড অবস্থানে চলে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত ভারতের নিজের কূটনৈতিক নমনীয়তা (Diplomatic Flexibility) অনেক কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো ভেঙে পড়ায় ভারতের নিজের চারপাশেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোও এখন বহুমাত্রিক কূটনীতি পছন্দ করছে।
২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা এবং পরবর্তী সময়ে বালাকোট বিমান হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে পৌঁছালেও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এই পরিস্থিতিতে সরাসরি ভারতের পক্ষ না নিয়ে বরং উভয় পক্ষকে সংযম ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ভারতের এই পাকিস্তান নীতি অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফায়দা ও বার্তা তৈরির দিকে বেশি ঝুঁকেছিল।
আল-জাজিরা উপসংহারে বলেছে, মোদির এই নীতি পাকিস্তানকে দুর্বল করার বদলে তাকে নতুন কূটনৈতিক স্পেস ও সুযোগ তৈরি করতে পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে। চীন, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পাকিস্তানকে একটি বহুমাত্রিক কূটনৈতিক অবস্থানে নিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি কোনো সংঘাত বা একঘরে করার নীতিতে নয়, বরং সংলাপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপরই নির্ভর করবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
তাড়াতাড়ি পালাও: অবৈধ বাংলাদেশিদের রাজ্য ছাড়ার কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর
পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত তথাকথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ দ্রুত রাজ্য ত্যাগ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাকিমপুর সীমান্ত এলাকার একটি ঘটনা টেলিভিশন খবরের মাধ্যমে জানতে পেরে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুপ্রবেশকারীদের অবিলম্বে ভারত ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত।
গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার অন্তর্গত হাকিমপুর চেকপয়েন্টে বিপুল সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করেই তিনি সীমান্তে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশে সরাসরি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। হিন্দি ভাষায় দেওয়া সেই বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, অনুপ্রবেশকারীরা যদি অনতিবিলম্বে সীমানা পার না হয়, তবে রাজ্য সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যেন সীমান্তে অবস্থানরত এই ব্যক্তিদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কোনো অনুপ্রবেশকারীকে ভারতের কারাগারে রেখে সরকারি খরচে লালন-পালন করার কোনো পরিকল্পনা তার সরকারের নেই। জনগণের ট্যাক্সের টাকা এই খাতে অপচয় করার কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না তিনি। তার মতে, বহিরাগতদের এই উপস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে অতীতে আইন প্রয়োগে শিথিলতা দেখানো হলেও, বর্তমান সরকার দেশ ও রাজ্যের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বা সিএএ কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর।
নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে কল্যাণীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সীমান্ত পয়েন্টে যারা জড়ো হয়েছেন তারা মূলত নিজেদের ইচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ খাদ্য, বস্ত্র কিংবা বাসস্থানের অধিকার কেন বহিরাগতদের দেওয়া হবে।
কল্যাণীর ওই প্রশাসনিক সভায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি বাতলে দেন। তিনি জানান, অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো বা কারাগারে বন্দি রাখার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ দেশের সংবিধানে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পুলিশ সরাসরি তাদের আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করবে, যেন তাদের পুশ-ব্যাক করা যায়। দেশের অর্থ খরচ করে তাদের পেছনে চিকিৎসা কিংবা পোশাকের জোগান দেওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসার পরপরই পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিত সিএএ আইন পুরোপুরি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় থেকেই তিনি ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং দ্রুত বিতাড়নের নীতি অনুসরণের জন্য রাজ্য পুলিশ ও সীমান্ত বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়ে আসছেন।
/আশিক
জলদি জলদি ভাগো, জামাই নাকি! সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ
পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী ও অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বিতর্কিত ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির চালুর ঘোষণা ও ক্র্যাকডাউনের পর ভারতের হাকিমপুর সীমান্তে নিজ দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে শত শত মানুষের উপচে পড়া ভিড় ও চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন ও কঠোর এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) সকাল থেকে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর থানার অন্তর্গত বিঠারি হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আন্তর্জাতিক চেকপয়েন্টে দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
নদীয়া জেলার কল্যাণীতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সভায় যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্তে মানুষের এই মেগা ভিড় এবং গণ-পলায়ন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত কড়া ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "হাকিমপুরের সীমান্ত পরিস্থিতি আমি টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি। আমি শুধু একটাই কথা বলব— ‘তাড়াতাড়ি পালাও, তাড়াতাড়ি পালাও’।
আমাদের রাজ্যের মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের অংশ ওদের কেন দিতে যাব আমরা?" শুভেন্দু অধিকারী জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো নতুন আইন নয়, ভারতে আগে থেকেই এই আইন বিদ্যমান রয়েছে এবং এসব অবৈধ লোকদের যত দ্রুত সম্ভব চলে যাওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক। তিনি আরও যোগ করেন, "অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নিয়েছে ওদিকের (বাংলাদেশ) সরকার।
আমরা আমাদের রাজ্য পুলিশকে পরিষ্কার নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি—কাউকে ধরে আর জেলে পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ আমাদের আইনে তা নেই। পুলিশ সরাসরি এদের আটক করবে এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) হাতে তুলে দেবে। আমাদের দেশের মানুষের ট্যাক্সের পয়সায় ওরা এখানে বসে খাবে, সরকারি ফ্রি ওষুধ নেবে, জামাকাপড় পরবে— কেন? ওরা কি আমাদের জামাই নাকি! জলদি জলদি ভাগো।"
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের এই আকস্মিক ও কঠোর অবস্থানের সূত্রপাত মূলত গত রবিবার। সেদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দেন যে, রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে রাখার জন্য অবিলম্বে প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা ডিটেনশন ক্যাম্প চালু করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ামাত্রই মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গত সোমবারের মধ্যে রাজ্যের জেলায় জেলায় এই হোল্ডিং সেন্টারগুলো সচল করা হয় এবং প্রথম দিনই ১২ জন বাংলাদেশিকে আটক করে সেখানে বন্দি করা হয়।
এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজ্য পুলিশের গ্রেফতারি ও আটক শিবিরে যাওয়ার আতঙ্কে কয়েকশো মানুষ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক বা ফেরত আসার জন্য হাকিমপুর চেকপয়েন্টে এসে ভিড় জমাচ্ছেন, যার ফলে সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
/আশিক
ভারতের উত্তর প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা
ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আসন্ন ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ) উদ্যাপন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে কড়া নির্দেশনা জারি করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই জনসমক্ষে বা উন্মুক্ত স্থানে পশু কোরবানি করা যাবে না। একই সঙ্গে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ পশুকে কোরবানির দেওয়ার চেষ্টার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অবলম্বন করবে। আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই কড়া নির্দেশনার তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা ও আগামী উৎসবগুলোর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আজ সোমবার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সেখান থেকেই তিনি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারদের এই কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, পশু কোরবানি কেবল আগে থেকে নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট ঘেরা স্থানেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে কোনো ধরনের নতুন প্রথা বা নিয়মের সূচনা করা যাবে না।
রাস্তায় নামাজ আদায়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ বলেন, ঈদের মূল জামাত ও নামাজ কেবল ঈদগাহ বা নির্ধারিত ধর্মীয় স্থানেই আদায় করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বা কোনো অজুহাতে নামাজের জন্য সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা অবরোধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। রাস্তা বন্ধ করে নামাজ পড়া সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়াও, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কোরবানির পরপরই দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, পশুর রক্ত সরাসরি ড্রেনে না ফেলা, বাজারে অবৈধভাবে মাংস বিক্রি বন্ধ এবং লাইসেন্সবিহীন বেআইনি কসাইখানার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, অনুমোদিত ও বৈধ কসাইখানাগুলোকে তাদের নির্ধারিত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পশু না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের দিনগুলোতে রাজ্যজুড়ে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আদেশ দিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পুলিশকে নিয়মিত ‘ফ্ল্যাগ মার্চ’ করতে হবে এবং উপাসনালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক পায়ে হেঁটে টহল (Foot Patrolling) জোরদার করতে হবে।
/আশিক
বিজেপি সরকারের একের পর এক মেগা সিদ্ধান্ত: রেস্তোরাঁগুলোর মেনু থেকে উধাও হচ্ছে বিফ
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে সেখানকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতে। সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই কলকাতার একাধিক নামী ও জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ তাদের মেনু থেকে গরুর মাংসের (বিফ) তৈরি সব ধরনের খাবার স্থায়ী বা সাময়িকভাবে বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। নতুন প্রশাসনের কড়া নজরদারি, গরুর মাংসের তীব্র সরবরাহ সংকট এবং সম্ভাব্য সামাজিক উত্তেজনার আশঙ্কায় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এর ফলে কলকাতার বিখ্যাত বিফ স্টেক, চপ, কাটলেট কিংবা বিফ বিরিয়ানির মতো জনপ্রিয় খাবারগুলো এখন আর ভোজনরসিকদের পাতে উঠছে না।
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ও পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ 'শেখস' জানিয়েছে, বাজার থেকে বিফের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা তাদের মেনু থেকে স্থায়ীভাবে গরুর মাংসের পদগুলো বাদ দিয়েছে। অন্যদিকে বিখ্যাত 'মোকাম্বো' রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মেনু কার্ডে খাবারের নাম থাকলেও পর্যাপ্ত ও বৈধ সরবরাহ না থাকায় তারা গ্রাহকদের তা পরিবেশন করতে পারছে না।
এছাড়া শহরের তরুণদের পছন্দের খাবারের দোকান 'দ্য বার্গার শপ' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তাদের দীর্ঘদিনের চেনা মেনু পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের আউটলেটে এখন থেকে আর কোনো বিফ বার্গার বা আইটেম পাওয়া যাবে না। রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠনগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল ব্যবসায়িক কারণে নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক শান্তি রক্ষা ও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা এড়াতে এক প্রকার বাধ্য হয়েই নিতে হচ্ছে।
খাদ্যতালিকায় এই পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে রাজ্য সরকারের নতুন আইনি কড়াকড়ি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার (কোরবানির ঈদ) ঠিক আগমুহূর্তে নতুন সরকার জনসমক্ষে বা প্রকাশ্যে গরু, ষাঁড় ও মহিষ জবাই নিষিদ্ধ করে পুরোনো একটি আইনি ধারা কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো পশুকে জবাই করতে হলে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সনদ বা সার্টিফিকেট নিতে হবে, যেখানে পশুর সুনির্দিষ্ট বয়স বা কর্মক্ষমতা যাচাই করা হবে।
এই কড়া নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের পশু বাজার ও খামারিদের মধ্যে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বড় খামারি গোপাল দাস জানান, নতুন নীতিমালার কারণে গবাদিপশু পরিবহন ও লালন-পালন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে; বাজারে বিক্রির সুযোগ কমে যাওয়ায় প্রতিদিন পশুর পেছনে খরচ বাড়লেও তাঁরা তা বিক্রি করতে পারছেন না, ফলে সাধারণ খামারিরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন।
ভারতে হিন্দুধর্মে গরুকে অত্যন্ত পবিত্র ও পূজনীয় মনে করা হলেও পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতায় মুসলিম, খ্রিস্টান, দলিত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু মানুষের প্রধান খাদ্যতালিকায় গরুর মাংস একটি অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজ্যের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ সম্ভাব্য আইনি হয়রানি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এড়াতে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং সরকারি নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, কেবল খাদ্যসংস্কৃতিই নয়, পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উত্তরপ্রদেশের আদলে 'বুলডোজার অভিযান', শহরের সরকারি ভবন ও কাঠামোর চেনা রঙ পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক দপ্তর স্থানান্তরের মতো একাধিক বড় ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে, যা নিয়ে পুরো রাজ্যজুড়ে এখন তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা চলছে।
/আশিক
তেলাপোকা’র আতঙ্কে মোদী সরকার, টুইটারের পর বন্ধ হলো সিজেপির ওয়েবসাইট
ডিজিটাল ও মিম কালচারের মাধ্যমে ভারতের মোদী সরকারের ভিত্তি নাড়িয়ে দেওয়া এবং মাত্র এক সপ্তাহে অবিশ্বাস্যভাবে ২ কোটি ২০ লাখ (২২ মিলিয়ন) ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের মেগা রেকর্ড গড়া ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র (CJP) অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণ বন্ধ বা সেন্সর করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের মূল প্রতিষ্ঠাতা ও পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দীপকে আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সরাসরি দাবি করেছেন যে, ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারের স্বৈরাচারী ও আগ্রাসী ডিজিটাল পদক্ষেপের কারণেই তাদের আইকনিক ওয়েবসাইটটি ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে পুরোপুরি ডাউন করে দেওয়া হয়েছে।
ওয়েবসাইট বন্ধের এই মেগা ধাক্কার আগে, গত বৃহস্পতিবারই ভারত সরকারের বিশেষ অনুরোধে সিজেপি-র অফিশিয়াল ‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্টটি দেশটিতে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা ব্লক করে দেয় এক্স কর্তৃপক্ষ। এখানেই শেষ নয়, আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা মূল মাস্টারমাইন্ড অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ তুলেছেন যে, ভারত সরকারের আইটি সেলের পক্ষ থেকে বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি বারবার হ্যাক করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আজ শনিবার বিকেলে এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে দীপকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, তরুণদের ভাষা কেড়ে নিতে তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি রাষ্ট্রীয়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নয়াদিল্লির তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বা মোদী সরকারের পক্ষ থেকে এই ডিজিটাল সেন্সরশিপের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অফিশিয়াল বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করার বিতর্কিত মন্তব্যের পর ক্ষোভ থেকে এই প্যারোডি দলের জন্ম হলেও, বর্তমানে ভারতে চলমান মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) ব্যাপক প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও তরুণদের চলমান গণবিক্ষোভ সিজেপি-র জনপ্রিয়তাকে দাবানলের মতো বাড়িয়ে দিয়েছে।
দীপকে দাবি করেছেন, গত মাত্র ৭ দিনে ভারতের প্রায় ১০ লাখ তরুণ বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিতে এই আন্দোলনে যুক্ত হতে অফিশিয়াল নিবন্ধন করেছেন এবং মেডিকেল প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ভারতের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবিতে সিজেপি-র অনলাইন পিটিশনে মাত্র কয়েক দিনে রেকর্ড ৬ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
মাত্র ৯০ লাখ ফলোয়ার থাকা ভারতের মূল ধারার শাসক দল বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে ২ কোটি ২০ লাখ ফলোয়ার নিয়ে যোজন যোজন পেছনে ফেলে দেওয়া সিজেপি-র এই মেগা ডিজিটাল উত্থান এবং তার বিপরীতে সরকারের এই কঠোর সেন্সরশিপ ভারতের মোদী জমানায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার হননের বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্কের মুখে ফেলেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই, ভারতে আত্মপ্রকাশ করল তেলাপোকা জনতা পার্টি
ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্য এবং দেশটির কোটি কোটি বেকার ও হতাশ জেন-জি (Gen-Z) তরুণের তীব্র ক্ষোভের ওপর ভর করে ওয়ান-ক্লিক ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতীয় রাজনীতিতে এক অবিশ্বাস্য ও পৈশাচিক চরিত্র নিয়ে আবির্ভাব ঘটেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP)।
এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি বা ১০ মিলিয়ন ফলোয়ারের মেগা মাইলফলক স্পর্শ করে এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনটি খোদ ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি-র (৮.৭ মিলিয়ন ফলোয়ার) অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টকে একচেটিয়াভাবে টেক্কা দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ব্যঙ্গবিদ্রূপের উত্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC) এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপি কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি ভারতের বর্তমান নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ভিন্নমতাবলম্বী তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত ‘ডিজিটাল থিয়েটার আন্দোলন’। এই প্যারোডি দলের সদস্যপদের জন্য রসিকতায় মোড়ানো কিছু অদ্ভুত শর্ত দেওয়া হয়েছে; যেমন—আবেদনকারীকে অবশ্যই অলস, বেকার, সারাক্ষণ অনলাইনে সক্রিয় এবং যেকোনো জাতীয় ইস্যুতে উচ্চস্বরে ঘ্যান ঘ্যান করা বা ‘র্যান্ট’ (Rant) করার ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে।
মূলত বোস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও সাবেক আম আদমি পার্টির (AAP) পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটিজিস্ট অভিজিৎ দীপকে সম্পূর্ণ মজার ছলে গুগল ফর্মের মাধ্যমে এই আন্দোলন শুরু করেছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এটি জেন-জি তরুণদের মাঝে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #ম্যায়ভিককরোচ (#MeTooককরোচ) হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিংয়ে রূপ নেয়।
এমনকি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মতো ভারতের শীর্ষ বিরোধী নেতারাও এই প্ল্যাটফর্মের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিজেপি বনাম সিজেপি’ ন্যারেটিভ তৈরি করেছেন। তবে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে এক ‘আইনি দাবির’ প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে ২ লাখ ফলোয়ার থাকা সিজেপি-র মূল অ্যাকাউন্টটি স্থগিত বা সেন্সর করা হয়েছে।
এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে গত সপ্তাহে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের এক চরম অবমাননাকর মন্তব্য। দিল্লি হাইকোর্টের বিরুদ্ধে এক আইনজীবীর আদালত অবমাননার মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি তীব্র অসন্তুষ্ট হয়ে মন্তব্য করেন, “সমাজে কিছু যুবক আছেন যারা কর্মসংস্থানের অভাব এবং নিজেদের পেশায় জায়গা করে নিতে না পারার কারণে তেলাপোকার মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং সিস্টেমকে আক্রমণ করছে।”
পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি এটি ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারী’ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন বলে ব্যাখ্যা দিলেও ততক্ষণে ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে থাকা ৩০ বছরের নিচের প্রায় ৫০ শতাংশ অসন্তুষ্ট যুবসমাজের মাঝে এই ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যটি তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সেই হতাশা থেকেই জন্ম নেয় সিজেপি, যারা নিজেদের ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘জিরো স্পন্সরড’ বা স্বাধীন ঝাঁক হিসেবে দাবি করে।
বিবিসি তাদের বিশ্লেষণে দেখিয়েছে, শ্রীলঙ্কা, নেপাল বা বাংলাদেশে ২০২৪-২০২৫ সালে তরুণদের হাত ধরে যেভাবে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতন হয়েছে, ভারতের তরুণরা ঠিক সেই লাইনে না গিয়ে ২০২৬ সালের ডিজিটাল যুগে মিমস (Memes), পোকা-মাকড়ের ম্যাসকট এবং ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে এক অহিংস অথচ তীক্ষ্ণ ডিজিটাল ফ্রন্ট গড়ে তুলেছে।
সূত্র: বিবিসি
পাঠকের মতামত:
- হাদির খুনিদের বাঁচাতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছিল, মমতার মন্তব্যে নতুন মোড়
- আজ যুক্তিতর্ক শেষেই জানা যাবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের দিন
- জেনে নিন আজ বৃহস্পতিবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়
- বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ: ফিফার সাথে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে
- ঢাকার শেয়ার বাজারে বড় লাফ, ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড
- দেশের ৯ অঞ্চলে আজ রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
- ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় সবার আগে আমি বুক পেতে দেবো: জামায়াত আমির
- শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে বড় ভাই ওমর হাদির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে
- প্রয়োজনে রাজপথে নামলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ রাজাকার মুক্ত করা হবে: ইশরাক হোসেন
- আমি না থাকলে আজকের ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- নেপালকে বধ করে টানা তৃতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- জুড়ীতে ভয়াবহ বজ্রপাত: ১৩টি গরু ও ১টি মহিষের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু
- জমি বিরোধের জেরে সাতক্ষীরার ঝায়ামারীতে গৃহবধূকে পথরোধ করে বর্বর হামলা
- দেবিদ্বারে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর উদ্যোগে বিএনপি নেতার পদপ্রাপ্তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ
- ভারত খুনি রাষ্ট্র, বিএসএফ খুনি বাহিনী, বেনাপোলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম? আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি
- ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যের আহ্বান আমিরাতের
- সাতক্ষীরার বসন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি গুরুতর আহত
- পাইকারি ও গ্রাহক উভয় পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম, কার্যকর নতুন মূল্য তালিকা
- ৩ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- তীব্র তাপদাহের পর অবশেষে মিলতে পারে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা
- পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা ও কূটনীতির স্থবিরতায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
- তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় যেসব পরিবর্তন জরুরি
- জেনে নিন আজ কোন দেশের মুদ্রায় কত টাকা মিলছে
- আওয়ামী লীগ নেতাকে পালাতে ৪ কোটির চুক্তি! এমপি মাসউদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য
- ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ: শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে বসছে অতিরিক্ত শুল্ক
- জামায়াত আমিরের পিএস-এর দিকেও আঙুল: হাদি হত্যা নিয়ে ওমর হাদির স্ট্যাটাসে চাঞ্চল্য
- পরবর্তী মহাতারকা কে? বিশ্বকাপে নজর থাকবে যে ১০ তরুণের ওপর
- ঈদের আমেজ কাটতেই ‘কারেন্ট’ শক: আজই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম
- কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মেগা ড্রোন হামলা
- তারল্য সংকটে আমানতকারীদের হাহাকার: খেলাপি ঋণের করাল গ্রাসে দেশের ৬১ ব্যাংক
- দেখে নিন ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে
- জেনে নিন আজকের ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- বুধবার ঢাকার কোন শপিংমল বন্ধ? দেখুন তালিকা
- বৃদ্ধ মায়ের অবহেলা, ইসলাম কী শিক্ষা দেয়?
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, এক লাফে কমল স্বর্ণের দাম
- গ্রুপ ‘জে’ তে থাকা দলগুলোর চূড়ান্ত স্কোয়াড ও শক্তি বিশ্লেষণ
- ইয়ামালের ১৯ বনাম ওলমোর ১০: জার্সি নম্বরে বড় চমক দিয়ে বিশ্বকাপের দল সাজাল স্পেন
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- আত্মসমর্পণই হজ: জীবনের বড় শিক্ষা পেলেন দুরেফিশান
- বুড়িচংয়ে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন: ব্যবসায়ীদের ৮টি কক্ষ পুড়ে ছাই
- ষড়ঋতুর পালাবদলে নতুন সাজে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
- বায়োটেক গবেষণায় আন্তর্জাতিক সাফল্য, জাপানের সম্মাননা পেলেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস
- কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাজীবকে বিদায় সংবর্ধনা
- ধর্মতলায় মমতার আমরণ অনশন: লড়ব না হয় মরব বলে বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি
- জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর চরম জুলুম: জামায়াত আমির
- ভারতের পুশইন চেষ্টার বিরুদ্ধে মাঠে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৩ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, এক লাফে কমল স্বর্ণের দাম
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- জমি বিরোধের জেরে সাতক্ষীরার ঝায়ামারীতে গৃহবধূকে পথরোধ করে বর্বর হামলা
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচের সূচি প্রকাশ: প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ড








