জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ২২:০১:৪০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক কূটনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের জন্য এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক গৌরব বয়ে আনলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিশ্বের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি (PGA) পদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের গোপন ব্যালটের এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটাভুটিতে তিনি জয়ী হন। আগামী এক বছর তিনি বিশ্বমঞ্চের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পালন করবেন।

ব্যালটের চুলচেরা লড়াইয়ে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস। নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ১৯০টি ভোটের মধ্যে ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন। ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসকে হারিয়ে বিশ্ব কূটনীতির এই শীর্ষ মুকুট ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ।

বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনীতিতে বাংলাদেশের এই বিজয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ চার দশক বা প্রায় ৪০ বছর পর বাংলাদেশ আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হতে পারল। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার বছর আগে প্রাথমিকভাবে এই পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হলেও অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক-কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা ঘোষণা ও প্রত্যাহারের পর আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশ দ্রুত পরিবর্তিত হয়। কারণ ফিলিস্তিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে মুসলিম দেশগুলোর ভোট বিভক্ত হওয়ার একটা বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই জটিলতা কাটার পর বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নতুন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এই পদের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়, যা আজ এক মহাবিজয়ে রূপ নিল।

জাতিসংঘের এই নতুন সভাপতি ড. খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি মেধার অনন্য স্বাক্ষর রেখে এসেছেন। ড. রহমান ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়মিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে দেশজুড়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সার্ভিসে (বিসিএস পররাষ্ট্র) যোগ দেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখান থেকে তিনি ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. খলিলুর রহমান ১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় (অর্থনৈতিক ও আর্থিক) কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) গ্লোবাল মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কাকতালীয়ভাবে ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী যখন ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন, তখন ড. রহমান তাঁর বিশেষ সহকারী হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)-এ জেনেভায় বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী ২৫ বছর তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপদে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেন এবং জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ও ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনাগুলোর প্রধান লেখক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ড. রহমান ঢাকায় অবস্থিত ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই কন্যা ও চারজন নাতি-নাতনির জনক।

/আশিক


'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৭ ১৬:৫৬:৩৩
'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি- সংগৃহীত।

‘জুলাই সনদের’ প্রতিটি অক্ষর বর্তমান সরকারই বাস্তবায়ন করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সাথে তিনি বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলনকে শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 'প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টার' এই সভার আয়োজন করে।

বিরোধীদের রাজপথের হুমকির জবাব

স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিরোধী দলের সাম্প্রতিক আন্দোলনের হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "বিরোধী দল থেকে বলা হচ্ছে—'জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি, সংস্কার আদায় না হলে রাজপথে ফায়সালা হবে'। অথচ এই জুলাই সনদে আমরা সবাই একসাথেই স্বাক্ষর করেছি। যে দলগুলো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, তারা সবাই মিলেই এটি তৈরি করেছি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা বারবার বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব। কিন্তু বিরোধী দল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়। আমরা চাই না জুলাই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।"

গণভোট ও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দ্বিমত

সংবিধান ও নির্বাচনী সংস্কারের নানা বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। গণভোট ও উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "গণভোটের একটা অংশ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। বিশেষ করে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। অথচ এখন সেখানেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।"

সংস্কার কমিশনের কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আমাদের সম্মতি ছাড়াই সেদিন সংস্কার কমিশন যেভাবে বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসেছিল, তা নিয়ে আমি নিজেই স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম যে—এটি জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।"

'সংস্কার নয়, আমরা সংবিধান সংশোধন চাই'

দলীয় ইশতেহার ও জুলাই সনদের সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "জুলাই সনদের মূল বইটা পড়লে দেখা যাবে, সেখানে স্পষ্ট বলা আছে—যে ম্যানিফেস্টো (ইশতেহার) দিয়ে দলগুলো নির্বাচিত হবে, প্রতিটি দল তাদের সেই ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়ন করবে। আমরা আমাদের ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড, ঠিক তেমনিভাবে জুলাই সনদেও কমিটেড। কিন্তু সেটা আমরা আমাদের নিজস্ব রূপরেখা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে চাই। এখানে বিরোধীরা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।"

রাজনীতিতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সুযোগ নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "বিরোধী দলের অনেকে এখন বিভিন্ন মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দেশের জনগণ সবচেয়ে ভালো বোঝেন এবং তারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের যে ম্যানিফেস্টোকে জয়ী করেছে, সেই টু-থার্ড (দুই-তৃতীয়াংশ) মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।"

জুলাই আন্দোলন ১৮ বছরের লড়াইয়ের ফসল

জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, "জুলাইয়ের আন্দোলন হঠাৎ করে হওয়া কোনো আন্দোলন নয়। এটি হলো দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ বছর ধরে চলা নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ের একটি চূড়ান্ত পরিণতি।"

স্মরণসভায় মরহুম অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, "মরহুম এমাজউদ্দীন স্যার ছিলেন আমাদের লিবারেল ডেমোক্রেসির বাতিঘর। কোনো প্রাপ্তির আশা ছাড়াই তিনি আজীবন গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে পথ দেখিয়েছেন। ১৯৭১ ও ২০২৪-এর চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই হবে তার প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।"

স্মরণসভার অন্যান্য বক্তা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি ও আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আবুল কাশেম হায়দার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ মাসুম।


জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ২১:৩৭:৫২
জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনের দীর্ঘ ৪৫ বছরের অন্তরালের জীবনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্বরোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর মোজাফফর তাঁর দীর্ঘ আত্মগোপন জীবনের সিংহভাগ সময়ই প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতে কাটিয়েছেন।

একপর্যায়ে তিনি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ছদ্মনাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যাতায়াতও করতেন। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলার পর অবশেষে বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম ঐতিহাসিক এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে জানান, মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বিভিন্ন কৌশলে আইনের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ডিএমপির বিশেষ সূত্র মারফত জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরবর্তী সামরিক আইন অনুযায়ী কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি করার উদ্দেশ্যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইতিহাসের পাতায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল পথভ্রষ্ট সেনা কর্মকর্তার গুলিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নৃশংসভাবে শাহাদাতবরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সেনা বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং কিলিং স্কোয়াডের সামনের সারির সদস্য ছিলেন এই মেজর মোজাফফর। এমনকি সার্কিট হাউসের অন্ধকার কক্ষে তিনিই প্রথম জিয়াউর রহমানকে সরাসরি শনাক্ত করেন এবং অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করেছিলেন।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরপরই সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ বেশ কয়েকজন জড়িত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্রোহ ও হত্যার দায়ে গঠিত সামরিক আদালতে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল এবং অন্য অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে ওই সময় মোজাফফর হোসেন সুকৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান, যার ফলে তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ডিবির জালে ধরা পড়লেন ইতিহাসের এই পলাতক খুনি।

/আশিক


জিয়াউর রহমান হত্যার ৪৫ বছর পর ডিওএইচএস থেকে খুনি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ১৮:২৫:৩৫
জিয়াউর রহমান হত্যার ৪৫ বছর পর ডিওএইচএস থেকে খুনি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বিভিন্ন ছদ্মনাম ও কৌশলে পলাতক ছিলেন। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী সামরিক কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি করার জন্য মোজাফফরকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান নৃশংসভাবে নিহত হন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে এসেছিলেন মূলত দলের স্থানীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে।

অভিযোগ রয়েছে, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি কিলিং স্কোয়াডে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই মোজাফফর হোসেন। এমনকি সার্কিট হাউসের অন্ধকার ঘরে তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে সরাসরি ব্রাশফায়ার করেন।

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর সেনাবাহিনীর ত্বরিত অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তৎকালীন চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি পরবর্তীতে নিহত হন। এই সেনা বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে গঠিত সামরিক আদালতের বিচারে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরপরই মোজাফফর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। সে সময় তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন ভারতে ছদ্মনাম ব্যবহার করে আত্মগোপনে ছিলেন এবং একপর্যায়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ যাতায়াতও করতেন। অবশেষে গোয়েন্দা নজরদারির জালে আটকা পড়ে ডিওএইচএস এলাকা থেকে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেন এই মোস্তফা কামালের মতো দীর্ঘমেয়াদী পলাতক খুনি।

/আশিক


বেনজীর ও হাদী হত্যার আসামিদের দ্রুত ফেরত চায় বাংলাদেশ, আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ১৮:১৮:২৩
বেনজীর ও হাদী হত্যার আসামিদের দ্রুত ফেরত চায় বাংলাদেশ, আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ এবং ভারতে আটক শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া আশা করছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং ভারত থেকে হাদী হত্যা মামলার তিন সন্দেহভাজনকে প্রত্যর্পণের (Extradition) জন্য আমাদের পক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, উভয় দেশের সরকারের কাছ থেকে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক ও চূড়ান্ত সাড়া পাব।’

ব্রিফিংয়ে সাবেক আইজিপির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ইউএই কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বাংলাদেশ অত্যন্ত দ্রুততা দেখিয়েছে। প্রত্যর্পণের নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও, বাংলাদেশ মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব আইনি ও দাপ্তরিক নথি ইউএই প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে।

অন্যদিকে, শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সব ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নথি পাঠানো হয়েছে। ওই তিন সন্দেহভাজন বর্তমানে ভারতে স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে আইনি কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থাতেও বিশেষ বিবেচনায় তাদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার সুযোগ রয়েছে। সরকার সেই আইনি পথেই এগোচ্ছে।

/আশিক


দেশ স্বাধীনের পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ২১:৪৫:০৪
দেশ স্বাধীনের পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশ স্বাধীনের পর প্রকৃত শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের যাদের দায়িত্ব ছিল, তারা তা সঠিকভাবে না করে সম্পূর্ণ বিষয়টিকে ‘রাজনীতিকরণ’ করেছেন বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই ঐতিহাসিক ও নীতিনির্ধারণী অবস্থান স্পষ্ট করেন। এর আগে বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়, যার প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। নির্ধারিত সময়ে প্রধানমন্ত্রী ৩টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও তৎসংশ্লিষ্ট সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

সংসদে ১৯৭১ সালের শহীদ পরিবার ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না—ময়মনসিংহ-৮ আসনের (প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কুড়িগ্রাম ও পিরোজপুরের প্রশ্নকর্তাদের জবাবে) সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বস্তুনিষ্ঠ তালিকা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিরপেক্ষভাবে তা না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করেছেন।

এই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে দেশের খ্যাতনামা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা অন্যতম।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার হওয়া সব শহীদের একটি নির্ভুল ও সর্বজনগ্রাহ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পরবর্তীতে দলীয়করণমুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যিনি সরাসরি মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শুধু তাই নয়, তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।’

সরকারপ্রধান দৃঢ়তার সাথে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের দ্বারা গঠিত দল হিসেবে বিএনপি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে, দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের একটি পবিত্র রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই অতীতে বিভিন্ন সময়ে এই তালিকা তৈরিতে যে নানাবিধ সমস্যা ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা দূর করতে বদ্ধপরিকর। দেশবরেণ্য ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ, নির্ভুল ও নিখুঁত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে সরকার বর্তমানে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

/আশিক


দুর্যোগে বাদ পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৮:৪৮:৩৮
দুর্যোগে বাদ পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কোনো কারণে যেসব পরীক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ পুনর্বিবেচনায় আবারও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সাথে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এই বিশেষ পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

শিক্ষামন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে বলেন, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশজুড়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি, বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচটি জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের বাইরেও ঢাকা ও দেশের অন্যান্য কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু পরীক্ষার্থী অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও নানাবিধ অনিবার্য কারণে নির্দিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এইচএসসি পরীক্ষা যেহেতু একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ, তাই সাধারণ পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিশেষ বিবেচনায় তাদের এই পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো।

পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিতর্কিত ওই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের সাথে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তিনি পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র বিষয়ের প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে প্রায়োগিক ভুল ছিল, তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরীক্ষার্থীকে ওই দুটি প্রশ্নের নির্ধারিত পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে।

/আশিক


শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৮:৩৭:০১
শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: কালবেলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির স্থায়ী অবসান এবং অপরাধীদের আইনানুগ বিচারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনি আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাঁকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা হবে। আর তাঁর ক্ষেত্রে কোনো আপিলের আইনি সুযোগ অবশিষ্ট আছে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে দেশের আইন ও আদালত নির্ধারণ করবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানে বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের যে কথা বলছেন, সরকারও তাঁর সেই প্রত্যাবর্তন চায়। তবে তা হবে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় এবং দেশে ফেরামাত্রই আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার ও শাস্তি কার্যকর করা হবে।

বিদেশে পলাতক অন্যান্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দেশে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে যারা বিদেশে রাজনৈতিক বা অবৈধ আশ্রয় নিয়েছেন, সেই সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের (Interpol) মাধ্যমে রেড নোটিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এই ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বিদেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং খুব শিগগিরই তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের বিচার ও দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার কোনো প্রকার নির্বাহী বা প্রশাসনিক আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয়। বরং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সামগ্রিক দায়-দায়িত্ব ও শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।

তিনি সংসদকে ও জনগণকে অবহিত করেন যে, ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি অপরাধীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হবে এবং এ বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে।

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, দেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার করার পূর্ণ আইনি সুযোগ রয়েছে। যেহেতু শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বে বিগত সরকার পরিচালিত হয়েছে, তাই সেই সরকারের বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড ও গণহত্যার সাংগঠনিক দায় সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকেও বহন করতে হবে।

তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সরাসরি এই নৃশংস গণহত্যায় জড়িত ছিলেন এবং দল হিসেবে তারা এই জঘন্য ঘটনার জন্য এখনো পর্যন্ত ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা প্রকাশ বা জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। উল্টো তারা জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া বীর ছাত্র-জনতা ও সাধারণ ব্যক্তিদেরই অপরাধী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আদেশে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, তাই এটি অবশ্যই স্বচ্ছ বিচারিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হতে হবে, যাতে দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির চিরতরে অবসান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির পুরো ইতিহাস মূলত গণতন্ত্র ধ্বংস করা, একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম, বিরোধী মতের ওপর দমনপীড়ন ও সহিংসতার ইতিহাস। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান না ঘটে, সেজন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের ইতিহাস সবসময়ই গৌরব ও ত্যাগের। কিন্তু বিগত দিনগুলোতে একটি নির্দিষ্ট ‘মাফিয়া ছাত্রসংগঠন’ তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিয়ে সেই সোনালী ইতিহাসকে মারাত্মকভাবে কলঙ্কিত করেছে। সরকার ছাত্রসমাজকে সেই কলঙ্কের হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুস্থ ধারার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জাতীয় গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষভাগে বলেন, জুলাইয়ের এই মহান বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা একক কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পদ বা অর্জিত সম্পত্তি নয়। এটি দল-মত নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশের অধিকারবঞ্চিত মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের এক যৌথ প্রতীক। তাই এই পবিত্র চেতনাকে নিজেদের রাজনৈতিক ব্যবসার হাতিয়ার বানানো কারও উচিত নয়। জুলাইয়ের মূল শক্তি ও চেতনাকে বুকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সরকার জনগণের ওপর চড়াও হওয়ার বা ফ্যাসিবাদী আচরণ করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে।

/আশিক


পার্ক ও খেলার মাঠের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১৮:২৫:৩৮
পার্ক ও খেলার মাঠের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের খেলার মাঠ ও পার্কগুলোর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নিশ্চিত করতে এই অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সংসদে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিএনসিসির আওতায় বর্তমানে মোট ১৮৯টি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি স্থাপনা ডিএনসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন, যার মধ্যে রয়েছে ২৪টি পার্ক, ৬টি খেলার মাঠ, ৪টি শিশু পার্ক ও ৪টি ঈদগাহ। সাধারণ মানুষের বিনোদন ও শিশুদের খেলাধুলার এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো এবং স্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠসহ মোট ২৮টি স্থাপনার আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। বাকি ১৫১টি স্থান—যা রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে রয়েছে—সেগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

একই সাথে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ডিএসসিসি এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন মোট ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ফুটপাত এবং শিশুদের খেলার মাঠ থেকে যেকোনো ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসি সর্বদা তৎপর ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্তান), ওসমানী উদ্যান, নবাবগঞ্জ পার্ক ও বাসাবো খেলার মাঠসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সেখানে বর্তমানে উন্মুক্ত মাঠের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও, নতুন মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী গাজীপুরের ৮টি জোনে ৮টি এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি আধুনিক খেলার মাঠ তৈরি করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর বাইরে ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও পার্ক ও মাঠ দখলমুক্ত করার বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশে খেলাধুলার মান ও পরিবেশের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত খোলা জায়গায় খেলাধুলা করে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত মাঠ নিশ্চিত করা হবে। জনস্বার্থে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

/আশিক


নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা, কারা পাবেন বেশি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১২:২২:২৭
নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বেতন-ভাতা, কারা পাবেন বেশি
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। বৈঠকে নতুন বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বিভিন্ন ভাতা এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সচিবালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বৈঠক শেষে সুপারিশমালা দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরাই নতুন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারের পে-স্কেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কেবল গ্রেডভিত্তিক নয়, বরং মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রকৃত আয়ক্ষমতা বিবেচনায় বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা। অর্থাৎ পূর্বের মতো সবার জন্য প্রায় একই হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে প্রয়োজন ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার ভিত্তিতে ভিন্ন হার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীরা গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন প্রস্তাবে ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত এই হার বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, আইনি যাচাই, প্রজ্ঞাপন জারি এবং সফটওয়্যার হালনাগাদের মতো আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে বর্ধিত বেতন এবং সম্ভাব্য বকেয়া একসঙ্গে হাতে পেতে পারেন।

জানা গেছে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। শুরুতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও বর্তমানে দুই ধাপে কার্যকর করার সম্ভাবনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে সরকার একটি বড় পরিসরের মতামত জরিপ পরিচালনা করেছে। এতে অংশ নেন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। বিপরীতে প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশগ্রহণকারী জীবনযাত্রার ব্যয়কে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের ভিত্তি করার সুপারিশ করেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫-এর তথ্যও নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। শহরাঞ্চলে এই ব্যয় প্রায় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে গড় ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকায় পৌঁছেছে। এসব তথ্যই নতুন বেতন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব থাকলেও সচিব কমিটিতে প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত বর্তমান ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৭.৫ করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সেই আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

শুধু মূল বেতন নয়, যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই, ঝুঁকিভাতা এবং অন্যান্য ভাতাও পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব কর্মচারী এসব ভাতার ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: