জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

বৈশ্বিক কূটনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের জন্য এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক গৌরব বয়ে আনলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিশ্বের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি (PGA) পদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের গোপন ব্যালটের এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটাভুটিতে তিনি জয়ী হন। আগামী এক বছর তিনি বিশ্বমঞ্চের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্যালটের চুলচেরা লড়াইয়ে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস। নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ১৯০টি ভোটের মধ্যে ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন। ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসকে হারিয়ে বিশ্ব কূটনীতির এই শীর্ষ মুকুট ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ।
বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনীতিতে বাংলাদেশের এই বিজয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ চার দশক বা প্রায় ৪০ বছর পর বাংলাদেশ আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হতে পারল। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার বছর আগে প্রাথমিকভাবে এই পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হলেও অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক-কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা ঘোষণা ও প্রত্যাহারের পর আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশ দ্রুত পরিবর্তিত হয়। কারণ ফিলিস্তিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে মুসলিম দেশগুলোর ভোট বিভক্ত হওয়ার একটা বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই জটিলতা কাটার পর বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নতুন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এই পদের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়, যা আজ এক মহাবিজয়ে রূপ নিল।
জাতিসংঘের এই নতুন সভাপতি ড. খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি মেধার অনন্য স্বাক্ষর রেখে এসেছেন। ড. রহমান ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়মিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে দেশজুড়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সার্ভিসে (বিসিএস পররাষ্ট্র) যোগ দেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখান থেকে তিনি ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ড. খলিলুর রহমান ১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় (অর্থনৈতিক ও আর্থিক) কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) গ্লোবাল মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কাকতালীয়ভাবে ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী যখন ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন, তখন ড. রহমান তাঁর বিশেষ সহকারী হিসেবেও কাজ করেছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)-এ জেনেভায় বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী ২৫ বছর তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপদে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেন এবং জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ও ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনাগুলোর প্রধান লেখক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ড. রহমান ঢাকায় অবস্থিত ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই কন্যা ও চারজন নাতি-নাতনির জনক।
/আশিক
বাজেটের মূল দর্শন অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ: বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’ (ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি), যাতে দেশের সব মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ পায়। অতীতের বাজেটগুলোতে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে, তাই আসন্ন বাজেটে দরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও গৃহিণীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত দুটি সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণ করে এত স্বল্প সময়ে বাজেট প্রণয়ন করা সরকারের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রান্তিক মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। নতুন বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে, যেখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেট কাটার সুযোগ থাকবে না। এছাড়া দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রান্তিক চাষিদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন করে ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, দেশের মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। এ কারণে সরকার ‘ইউনিভার্সাল ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার’ সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে এবং এই লক্ষ্যে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকেও যুক্ত করা হবে। শুধু বড় শিল্প-কারখানা নয়, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কারুশিল্পও অর্থনীতিতে অবদান রাখে। তাই কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক জটলা ও লাইসেন্স রাজ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী জানান, এখন থেকে ব্যবসার বিভিন্ন অনুমোদন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দিতে হবে এবং বিনিয়োগের পথ সুগম করতে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি’ গড়ে তোলা হচ্ছে। বাজেট ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে একটি কেন্দ্রীয় ‘ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
একই সাথে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দ্রুত পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং শিগগিরই পেশাদার ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিশন গঠন করা হবে, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।
/আশিক
মেলেনি তৃতীয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা: রামিসা হত্যা মামলার রায় এখন সময়ের অপেক্ষা
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় কোনো তৃতীয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আজ একই দিনে চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে রেকর্ড ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব পুরোপুরি শেষ হয়েছে। মাত্র একদিনের মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের এই ঘটনা দেশের বিচারিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আগামী আগামীকাল বুধবার (৩ জুন) ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ সকালে রামিসার পিতা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লার অশ্রুসিক্ত জবানবন্দির মাধ্যমে এই ঝটিকা সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে রামিসার মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুফু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, ভবনের চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন আদালতে জবানবন্দি দেন।
নাগরিক সাক্ষীদের পর সরকারি ও টেকনিক্যাল সাক্ষীদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। একে একে আদালতে দাঁড়ান কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, আলামত জব্দকারী কর্মকর্তা এসআই রাশেদুল ইসলাম এবং সবশেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষের এই সব সাক্ষীদের কাঠগড়ায় জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ।
এর আগে আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় মামলার প্রধান আসামি নরপিশাচ সোহেল রানাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী ও মূল সহযোগী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে পুরান ঢাকার আদালত চত্বরে আনা হয়। প্রথমে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হলেও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। গতকাল সোমবার এই দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের পর আজই মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য নিয়ে ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে নিয়ে এলো।
/আশিক
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু: এজলাসে দাঁড়িয়ে বাবার প্রথম সাক্ষ্য
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে প্রথম সাক্ষী হিসেবে নিহতের পিতা ও মামলার বাদী হান্নান মোল্লা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁর সাক্ষ্য দেন। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।
বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ দিনভর এই মামলার আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেবেন। এই তালিকায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, ডিএনএ এবং ক্রাইম সিনের আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় প্রতিবেশীরা।
এর আগে আজ সকাল পৌনে ৯টায় কড়া পুলিশি পাহারায় মামলার প্রধান আসামি নরপিশাচ সোহেল রানাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে সরাসরি পুরান ঢাকার আদালত চত্বরে আনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শুরুর আগে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সেন্ট্রাল হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।
মাত্র একদিন আগে, গতকাল সোমবার (১ জুন) আদালত এই দুই আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং একই দিন বিকেলে বাদীসহ মোট ১৭ জন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য জরুরি সমন জারি করা হয়েছিল।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশু রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজের ফ্ল্যাট থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে ফুসলিয়ে ও কৌশলে তাদের রুমে ডেকে নেয়। এরপর স্বপ্নার স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতো জোড়া দেখতে পান তিনি।
সন্দেহ হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই তারা শিউরে ওঠেন; শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়ে ছিল রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং বিচ্ছিন্ন মাথাটি রাখা ছিল ঘরের কোণে একটি বড় প্লাস্টিকের বালতির ভেতরে। তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দেওয়া হলে পল্লবী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর লুকিয়ে থাকা ঘাতকের স্ত্রী স্বপ্নাকে আলামতসহ আটক করে।
পরে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা ও খুনি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরদিন, ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার দ্রুততম বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চলমান।
/আশিক
তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর শুরু হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া দিয়ে। সংশ্লিষ্ট এক নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ২১ ও ২২ জুন তিনি এই দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক ভিভিআইপি বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে দুই দেশের সরকারপ্রধান শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন।
জানা গেছে, নতুন বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (Bangladesh First) নীতির আলোকে এই সফরে প্রবাসী কল্যাণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, শ্রমবাজারের সংকট নিরসন ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ জোরদার করার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় কর্মরত ৯ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং সিন্ডিকেট ও শোষণমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), হালাল ফুড সার্টিফিকেশন, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আম রপ্তানির নতুন বাজার খোঁজার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিকের প্রায় ৩৭ শতাংশই বাংলাদেশি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
এদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে। আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে তিনি সেখান থেকেই সরাসরি সরকারি সফরে ভারত অথবা চীনে যেতে পারেন। তিনি আগে নয়াদিল্লি যাবেন নাকি বেইজিং—তা এখনও চূড়ান্ত না হলেও, এই সফরটিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিগত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ভারতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাতিল করে সেখানে চীন ও তুরস্কের সহায়তায় সামরিক জোনে রূপান্তরের সিদ্ধান্তে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও জনকেন্দ্রিক করার উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরের মাঠ প্রস্তুত করে এসেছেন।
অন্যদিকে, পরাশক্তি চীনও বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিংয়ে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীন আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি সফরে পেতে চায়। তারেক রহমান যদি চীন সফরে যান, তবে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (TRCMRP), জ্বালানি খাত, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বড় অঙ্কের বাণিজ্য-বিনিয়োগ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। ইতিমধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম বিদেশ সফরটি বিএনপি সরকারের বাস্তববাদী ও অর্থনৈতিককেন্দ্রিক পররাষ্ট্র নীতির এক বড় পরীক্ষা। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সমান্তরাল ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা নতুন সরকারের জন্য যেমন বড় প্রত্যাশার, তেমনি ভূ-কৌশলগত অবস্থানের কারণে এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনে দেশে মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
/আশিক
রাস্তার আন্দোলনে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—কোনো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই রাস্তার আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, বাইরের অহেতুক চাপ বা রাস্তার আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং আমানতকারীদের স্বার্থ ও ব্যাংক কোম্পানি আইনের কঠোর বিধান অনুসারেই সব সিদ্ধান্ত নেবে।
আজ সোমবার (১ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মুখপাত্র বলেন, ‘দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো ইস্যুতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও নিজস্ব মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে ব্যাংকের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত হবে আইন অনুযায়ী।’
ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরিফ হোসেন খান বলেন, বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো চিহ্নিত ঋণখেলাপি ব্যক্তি কোনো অবস্থাতেই ব্যাংকের পরিচালক পদে আসীন হতে পারেন না। সম্প্রতি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে একজন বিশেষ ব্যক্তির নামে প্রায় তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব বিশেষ পরিদর্শনে উঠে আসা অনিয়মগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও কোনো ব্যাংকের পরিচালক পদে থাকার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সম্ভাব্য বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভাটি সশরীরে না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম তথা জুম (Zoom) অ্যাপের মাধ্যমে আয়োজনের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র। তিনি উল্লেখ করেন, ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গ্রাহকদের আমানতের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
মুখপাত্র আরও যোগ করেন, বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর—কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা দেশের কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা মাস্তানি বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক বা অদৃশ্য চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে; এমন পরিস্থিতিতে গভর্নর নিজেই বিষয়টি শক্ত হাতে মোকাবিলা করবেন।
কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা মোটেও সঠিক নয় উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, কোনো ব্যাংক যদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য সবচেয়ে বড় আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোনো ব্যাংকই দেশের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না এবং এই ধরনের কুৎসিত রাজনৈতিক পরিচয় একটি ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ‘লাল সংকেত’।
/আশিক
আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার: আদালতে রামিসার খুনির বিস্ফোরক দাবি
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক নতুন এবং রহস্যময় মোড় এসেছে। মামলার চার্জগঠন শুনানির জন্য আজ সোমবার (১ জুন) সকালে আদালতে তোলার সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা চিৎকার করে সংবাদমাধ্যমকে জানায়, এই খুনের পেছনে ‘ডলার’ নামের মিরপুরের এক প্রভাবশালী অর্থশালী ব্যক্তি জড়িত এবং সেই তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিল।
আজ সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় মূল আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। এরপর সকাল ১১টার পর তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলা হলে আদালত চত্বরে এক হট্টগোল ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আদালতে ওঠার সময় প্রিজন ভ্যান ও বারান্দায় দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে প্রধান আসামি সোহেল রানা চিৎকার করে বলতে থাকে,
"আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই। সব দোষ ডলারের! আমি ধর্ষণ করছি সত্য, কিন্তু রামিসাকে মারছে ডলার। এই কাজের জন্য ডলার আমাকে দুই লাখ টাকা দিছে।"
এ সময় সে পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করে, তার কোনো ডিএনএ (DNA) টেস্ট না নিয়েই চার্জশিটে অটোমেটিক মনগড়া তথ্য লেখা হয়েছে। মামলার এজাহার বা চার্জশিটে না থাকা এই নতুন চরিত্র ‘ডলার’-এর পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা জানায়, "ডলার হলো মিরপুর ১১ নম্বর লাইনের অনেক বড় টাকাওয়ালা লোক।" তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা রাষ্ট্রপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ এনে ১৮ জনকে সাক্ষী করে আদালতে নিখুঁত চার্জশিট জমা দেন। অভিযোগপত্র দাখিলের দিনই মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়। এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা আদালতে আমলে নেওয়ার প্রধান চারটি ধাপ সফলভাবে শেষ হয়েছে।
মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্র নিযুক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, "মামলাটি যেন দ্রুততম সময়ে শেষ হয়, সে বিষয়ে আমি আইনগত দায়িত্ব পালন করব। বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নেবেন।" প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই জানান, নিম্ন আদালতে বিচার দ্রুত শেষ হলেও মূলত উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জটলায় রায় কার্যকর থমকে যায়। কারাগারের জেলার এবং প্রধান বিচারপতির বিশেষ হস্তক্ষেপ থাকলে তবেই এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি দ্রুত সম্ভব।
মামলার লোমহর্ষক বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং বাথরুমের বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
/আশিক
পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা; দুই আসামির চার্জ গঠন শুনানি আজ
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আজ সোমবার (১ জুন) অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই মেগা মামলার আনুষ্ঠানিক ও আইনি বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্রটি (চার্জশিট) আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নিয়ে আজ ১ জুন শুনানির জন্য সুনির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করেছিলেন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ আমলে নিয়ে আজই বিচার শুরু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন আদালত।
পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া দীর্ঘ তদন্ত শেষে মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে যৌথভাবে অভিযুক্ত করে আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই চার্জশিটটি গ্রহণ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মামলাটি শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ (DNA) টেস্টের ফরেনসিক প্রতিবেদন, শিশুটির ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নানামুখী অকাট্য আলামতের ভিত্তিতেই এই নিখুঁত অভিযোগপত্রটি প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এতে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধের আলামত গোপন ও সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বরের একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসার খণ্ডিত ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরদিন ২০ মে নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রথমে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর থেকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত ও খুনি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোমধ্যে ঘাতক সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
/আশিক
শহীদ জিয়ার কালজয়ী আদর্শেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত দেশপ্রেম ও কালজয়ী আদর্শ ধারণ করেই বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (৩১ মে) বিকেলে শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন এক মহান নেতা, যার সততা ও কর্মনিষ্ঠার কারণে বিদেশের মানুষ এক নামে বাংলাদেশকে চিনতো। প্রবাদ আছে, যে গাছ ফল দেয়, সেই গাছেই মানুষ ঢিল মারে; শহীদ জিয়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তবে তিনি যেভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, আমরা এখন ঠিক সেভাবেই দেশের শাসনভার ও রাষ্ট্রীয় খাতগুলো পরিচালনা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’
টুইন টাওয়ার বা বহুতল ভবনের রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়ে বিএনপির সামনে অত্যন্ত কঠিন, সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে বলে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ক্রান্তিকালে দলের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সর্বোচ্চ সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে; অন্যথায় দেশ এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান মনে করিয়ে দেন যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মানুষের কল্যাণে বিএনপির একটি সুনির্দিষ্ট ইশতেহার ছিল। নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর এখন সেই ইশতেহারে প্রতিফলিত দেশের ৫২ শতাংশ মানুষের পবিত্র রায় ও আকাঙ্ক্ষা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি, সর্বজনীন শিক্ষা এবং শিল্প বিপ্লবের মতো যুগান্তকারী বিষয়গুলো আমাদের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং বর্তমান সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সেই কাজগুলোই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাতীয় বেতন কাঠামো সংস্কার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি খাতকে এগিয়ে নিতে জিয়াউর রহমান যে দূরদর্শী পথনির্দেশিকা রেখে গেছেন, তা অনুসরণ করেই বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। তবে সরকারের এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘সরকারের গৃহীত সঠিক ও কল্যাণমুখী কাজগুলোতে সাধারণ মানুষ এবং নেতা-কর্মীরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলেই কেবল এই সরকার সফল হবে।
শুধু আমরা ওপর থেকে কাজ করলেই হবে না; বরং কেন্দ্র থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সব নেতাকর্মীকে সরকারের লক্ষ্যগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বর্তমান প্রশাসনকে জনগণের চোখে একটি শতভাগ সফল, জবাবদিহিমূলক ও আদর্শ সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
/আশিক
রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখালে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী আস্তানা সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যে বা যারাই দেখাক না কেন, তাদের আস্তানা পুরোপুরি নির্মূল করা হবে। আজ রবিবার (৩১ মে) চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন শেষে বিকেলে নগরের সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক পরিস্থিতি, অবৈধ দখল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে চট্টগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম ‘হাই-লেভেল মিটিং’ বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই মেগা সমন্বয় সভায় পার্বত্য বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের সব সংসদ সদস্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী ফকির হোসেন এবং বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, তা যেকোনো মূল্যে নির্মূল করতে হবে। সন্ত্রাসীরা অতীতে যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, আমরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করবো। তাদের আশ্রয়স্থল যেখানেই হোক এবং পর্দার আড়াল থেকে যারাই তাদের প্রশ্রয় বা রাজনৈতিক ইন্ধন দিক না কেন, সবকিছু নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জঙ্গল সলিমপুর, সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার সাধারণ ও সাধারণ খাস জমিতে থাকা বাসিন্দাদের উচ্ছেদের আশঙ্কার বিষয়ে আবারও আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সাধারণ বা নিরীহ বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হবে না। যারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে সেখানে বিভিন্নভাবে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক বিবেচনায় তাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে ওই অঞ্চলের আধুনিক ও পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও একাডেমি গড়ে তোলার জন্য ম্যাপ (মানচিত্র) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণের কাজ পুরোদমে চলছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা মেগা প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে নতুন কারাগারের জন্য প্রস্তাবিত খাস জায়গাটি আজই উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে সরজমিনে ভিজিট করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তর ও আইজি প্রিজন খুব দ্রুত জায়গাটি সম্পূর্ণ নিজেদের আইনি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেখানে পরবর্তী আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
পাহাড়ে চলমান যৌথ অভিযানের সক্ষমতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে এখন আর শুধু প্রথাগত বা সাধারণ পুলিশিং ব্যবস্থা নয়; বরং পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ প্রায় ৪ হাজার চৌকস সদস্যের একটি বিশাল যৌথবাহিনী হেলিকপ্টার সহায়তায় অত্যন্ত নিখুঁত ও সফল অভিযান পরিচালনা করছে। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে সব বাহিনী এক হয়ে কাজ করছে।
জঙ্গল সলিমপুর ছাড়াও চট্টগ্রামের অন্যান্য অপরাধপ্রবণ এলাকা যেমন—রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালীর মতো উপজেলাগুলোতেও সন্ত্রাস দমনে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলার এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি গণমাধ্যম ও চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে, আজ রবিবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে চট্টগ্রামের লিংক রোডের পাশে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি সরজমিনে আরও নিখুঁতভাবে যাচাই করতে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন তিনি।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- আত্মসমর্পণই হজ: জীবনের বড় শিক্ষা পেলেন দুরেফিশান
- বুড়িচংয়ে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন: ব্যবসায়ীদের ৮টি কক্ষ পুড়ে ছাই
- ষড়ঋতুর পালাবদলে নতুন সাজে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
- বায়োটেক গবেষণায় আন্তর্জাতিক সাফল্য, জাপানের সম্মাননা পেলেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস
- কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাজীবকে বিদায় সংবর্ধনা
- ধর্মতলায় মমতার আমরণ অনশন: লড়ব না হয় মরব বলে বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি
- জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর চরম জুলুম: জামায়াত আমির
- ভারতের পুশইন চেষ্টার বিরুদ্ধে মাঠে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন
- বাজেটের মূল দর্শন অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ: বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- হিজবুল্লাহর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: কী কথা হলো দুই পক্ষের মধ্যে?
- মেলেনি তৃতীয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা: রামিসা হত্যা মামলার রায় এখন সময়ের অপেক্ষা
- জুলাই থেকেই ভাগ্যবদল: নবম পে স্কেলে যুক্ত হচ্ছে নতুন যেসব সুযোগ-সুবিধা
- এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমাল সরকার
- ২ জুন: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- মিরপুরের পর এবার নজর হবিগঞ্জের মামলায়: কারামুক্তির আশায় সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার সুমন
- আজ মঙ্গলবার ডলার ও ইউরোর দাম কত? জেনে নিন আজকের টাকার রেট
- মূল একাদশের চেয়ে কি ব্রাজিলের রিজার্ভ বেঞ্চ বেশি শক্তিশালী?
- বন্ধুত্বে ফাটল! নেতানিয়াহুকে বদ্ধ উন্মাদ ও অকৃতজ্ঞ বলে ট্রাম্পের তোপ
- ৫৪ বছরে প্রথম: মুসলিম প্রতিনিধি ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা
- চট্টগ্রাম হালিশহরের বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: নিয়ন্ত্রণে লড়ছে ফায়ার সার্ভিস
- পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু: এজলাসে দাঁড়িয়ে বাবার প্রথম সাক্ষ্য
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- রুপার বাজারও আজ আকাশচুম্বী: চার মানের রুপার সর্বশেষ রেট এক নজরে
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার শপিংমল ও কাঁচাবাজার বন্ধ থাকবে
- ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি
- ২ জুন ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে ফল ভোগ করবে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী: ইরান
- তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
- ১০ জন নিয়ে পাকিস্তানকে রুখে দিল বাংলাদেশ
- মায়ামি থেকে ব্যক্তিগত বিমানে কানসাসে মেসি; ফুটবল জাদুকরের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশন শুরু
- মধ্যরাতের মধ্যে ৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- আসিফ ও হাসনাতকে চিটার-বাটপাড় ও অমানুষ আখ্যা দিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ফজলুর রহমান
- কালিগঞ্জে বৃদ্ধাকে মারধর ও জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ
- কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ
- দ্রুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত, বৈশ্বিক বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
- সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ, যে ব্যাখ্যা দিল বিদ্যুৎ বিভাগ
- যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে: গালিবাফ
- বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই দেশে অপরাধ বাড়ছে: জামায়াত আমির
- হয় শক্তিতে এগোব, নয়তো শহীদ হব: পেজেশকিয়ান
- রাস্তার আন্দোলনে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক
- জেলা পরিষদের ১০ কোটি নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে যে ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
- এক নজরে সোমবারের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্লক মার্কেটের শীর্ষ লেনদেনের তালিকা
- ১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইউটিউবে আসছে বড় পরিবর্তন: এআই ভিডিও এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে অ্যালগরিদম
- আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার: আদালতে রামিসার খুনির বিস্ফোরক দাবি
- আমার সন্তান হারানোর জন্য বিজয় আন্নাই দায়ী: তামিল অভিনেত্রী জুলি
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- গরম বনাম ভারী বৃষ্টি: আর কত দিন চলবে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা?
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- কালিগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি ও মৎস্য ঘের দখলে থানায় অভিযোগ
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট








