চিকিৎসা সহায়তায় প্রস্তুত সরকার, বিদেশি চিকিৎসক আনার চিন্তা: ড. আসিফ নজরুল

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় জাতীয় শোক ও গভীর বেদনায় মুহ্যমান হয়ে উঠেছে দেশ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৭০ জন দগ্ধ ও আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী, অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সোমবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় বার্ন ইউনিট পরিদর্শনে গিয়ে সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, আহতদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না। প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক আনা হবে, এমনকি চিকিৎসার জন্য আহতদের বিদেশেও পাঠানো হতে পারে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আজ জাতির জীবনে এক গভীর ট্র্যাজেডির দিন। এত বড় বিয়োগান্তিক ঘটনা আমাদের ইতিহাসে বিরল। এ শোক ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।” তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টাসহ ছয়জন উপদেষ্টা দলের পক্ষ থেকে আহতদের খোঁজখবর নিতে বার্ন ইউনিটে উপস্থিত হন এবং আরও কয়েকজন সরাসরি মাইলস্টোন স্কুল পরিদর্শন করেন।
তিনি আরও বলেন, “যা হারিয়েছি, তা কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র ও সরকার দায়বদ্ধভাবে কাজ করছে। চিকিৎসার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় পুরো রাষ্ট্র শোকাহত।”
চিকিৎসার বিষয়ে ড. নজরুল জানান, “জাতীয় বার্ন ইউনিটে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে দগ্ধদের মধ্যে যাদের চিকিৎসা বিশেষায়িত প্রযুক্তি ও দক্ষতার দাবি রাখে, তাদের জন্য বিদেশি চিকিৎসক আনতে আমরা প্রস্তুত। একইসঙ্গে, প্রয়োজনে দগ্ধ রোগীদের বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।”
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আগামীকাল জাতীয়ভাবে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আজ দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ৭০ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দগ্ধদের বেশিরভাগের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে, যাদের মধ্যে অনেকেই কোমায় রয়েছেন।
নবম পে-স্কেল ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক: সুযোগ না কি নতুন বৈষম্যের শঙ্কা?
নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর সুফল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও শঙ্কায় রয়েছেন দেশের কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতন বৈষম্যের শিকার হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূল বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পে কমিশনের সদস্যদের সূত্র অনুযায়ী, সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় যারা বেতন পান, নতুন পে-স্কেল অনুমোদিত হলে তাদের সবারই সুযোগ-সুবিধা বাড়ার কথা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরাসরি সরকারি কর্মচারী না হলেও তারা সরকারের নির্দিষ্ট গ্রেড অনুযায়ী বেতন পান। যদিও এই বেতনটি 'অনুদান' হিসেবে দেওয়া হয়, তবুও নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ার কথা। মূল বেতন বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বৈশাখী ভাতা ও উৎসব ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার বৈষম্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলেও দীর্ঘদিনের বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার বৈষম্য ঘোচার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের মাত্র ১৫ শতাংশ পাবেন। যেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। একইভাবে চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও ব্যাপক ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষকরা মাসে মাত্র ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই ভাতা ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিতই থাকছেন।
ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টিফিন ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান না। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময় পর পর মূল বেতনের সমপরিমাণ বিনোদন ভাতা পেলেও শিক্ষকদের জন্য এমন কোনো ভাতার ব্যবস্থা নেই। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য দেখা গেছে শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রে। সরকারি চাকরিজীবীরা বর্তমানে দুই সন্তানের জন্য মাসিক এক হাজার টাকা করে শিক্ষা ভাতা পান, যা নতুন পে-স্কেলে দুই হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য এমন কোনো শিক্ষা ভাতার ব্যবস্থা বিদ্যমান নেই।
সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার আশঙ্কায় হতাশায় ভুগছেন সারা দেশের শিক্ষক সমাজ।
১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুইবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এর ঠিক ১৭ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে ৫ দশমিক ২ মাত্রার দ্বিতীয় দফা ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৬৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন এই কম্পনের প্রভাবে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একই দিনে তিন দফা কম্পন ও অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি মঙ্গলবার কেবল রাতেই নয়, বরং ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটেও সাতক্ষীরা অঞ্চলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। গত বছরের ২১ নভেম্বর ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর থেকে গত দুই মাসে ঘনঘন এমন কম্পন জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন আর কেবল প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকম্পের প্রবারে কাঁপছে না, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ ফল্ট লাইনগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠছে। সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদী, সাভার ও বাড্ডা এলাকায় হওয়া ভূমিকম্পগুলো সেই বিপদেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
টেকটোনিক প্লেটের চাপ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয় প্লেট, ইউরেশীয় প্লেট এবং বার্মা মাইক্রোপ্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। জিপিএস পরিমাপ অনুযায়ী, এসব ফল্ট লাইন প্রতি বছর কয়েক মিলিমিটার করে সরে যাচ্ছে, যার ফলে ভূ-অভ্যন্তরে বিশাল শক্তি জমা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের ডাউকি ফল্ট, ঢাকা-টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্ট এবং চট্টগ্রাম-মিয়ানমার সীমানা এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিহাস বলছে, ১৭৬২ সালে চট্টগ্রাম-আরাকান ভূমিকম্পে ঢাকায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল ভূমিকম্প ও ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
ঢাকার মাটির গঠন ও লিকুইফ্যাকশন ঝুঁকি রাজধানী ঢাকার ঝুঁকি সমতলের চেয়ে অনেক বেশি। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার নরম পলিমাটির কারণে এখানে ‘সাইট অ্যামপ্লিফিকেশন’ প্রক্রিয়া ঘটে, ফলে মাঝারি মাত্রার কম্পনও বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে অনুভূত হয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে কিছু এলাকায় মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা ‘লিকুইফ্যাকশন’ বা ভূমিকম্পের সময় মাটি তরলের মতো আচরণ করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির জানান, ভারতীয় প্লেটের ওপর অবস্থানের কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সচেতনতা ও যন্ত্রপাতির সংকট ভূ-দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ মোহন কুমার দাস বলেন, দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির এখনও ঘাটতি রয়েছে। ভূমিকম্পের সময় সাধারণ মানুষের করণীয় কী, সেই বিষয়ে জনসচেতনতার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন।
অপরাধীরা বাধা দিলেও ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেই: সেনাপ্রধান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন আয়োজনে সম্মিলিত সক্ষমতা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, সেনাপ্রধান বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা আমাদের আছে। নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী—সবাই আগ্রহী। এখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।” তিনি জানান, একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য ভোট উপহার দিতে রাষ্ট্রীয় সকল বাহিনী এখন একযোগে কাজ করছে।
সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কিছু আর্থিক লেনদেন হতে পারে, যা রোধে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া কিছু অপরাধী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে এই ধরনের অপতৎপরতা রুখে দেওয়া হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ভোটের দিন মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
তিন বাহিনী প্রধানের গাজীপুর সফর নির্বাচনী প্রস্তুতির মাঠপর্যায় পর্যবেক্ষণে সেনাপ্রধানের এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিন বাহিনীর প্রধানেরা যৌথভাবে গাজীপুর জেলা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।
প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক চুক্তি
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকা ও টোকিও’র মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ সুগম হলো।
প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য ও রূপরেখা জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে দেশটির রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এই চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তির অধীনে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বিনিময় করা হবে।
নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ চুক্তিতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হস্তান্তরিত সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি যাতে তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে না যায় এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে চুক্তিতে সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও যাচাই-বাছাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এটি কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই জোরদার করবে না, বরং এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হঠ্যাৎ কী কারণে বদলে যাচ্ছে র্যাবের নাম
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, বহুল আলোচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী Rapid Action Battalion–এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তা প্রশাসনে বড় ধরনের নীতিগত রদবদল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, র্যাবের নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’। প্রধান উপদেষ্টা এই নাম অনুমোদন দিয়েছেন এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি হলে নতুন নামে বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, শুধু নাম পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এই উদ্যোগ। নতুন নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাহিনীর পোশাক ও বাহ্যিক পরিচিতিতেও পরিবর্তন আনা হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই রূপান্তরের লক্ষ্য হলো বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও পেশাদার, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
উল্লেখযোগ্য যে, এই বাহিনীর নামকরণ নিয়ে অতীতেও পরিবর্তন এসেছে। প্রাথমিকভাবে বাহিনীটির নাম ছিল ‘র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট)’। পরে ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)’ নামে বাহিনীটি গঠিত হয় এবং দ্রুতই এটি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী বিশেষ বাহিনীতে পরিণত হয়।
তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই র্যাবের বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছে। এসব অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং বাহিনীটির সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে জারি করে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার ফলে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সময় সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে United Nations Office of the High Commissioner for Human Rights একটি তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সরকারের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch দীর্ঘদিন ধরেই র্যাব বিলুপ্ত বা মৌলিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংস্থাটি তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে র্যাবের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘র্যাব’ থেকে ‘এসআইএফ’ নামকরণ কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; বরং এটি সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মহল ও দেশের জনগণের কাছে একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক বার্তা। এখন দেখার বিষয়, নাম ও পোশাক পরিবর্তনের পাশাপাশি বাহিনীর কার্যক্রম, জবাবদিহি ও আইনি কাঠামোয় কতটা বাস্তব সংস্কার আসে।
-রফিক
নির্বাচনি ব্যয়ের লাগাম টানার লড়াই: কালো টাকা রুখতে বিএফআইইউ-র কড়াকড়ি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। তবে এই উৎসবের আমেজ ছাপিয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনি ব্যয় ও কালো টাকার প্রভাব। প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও পর্দার অন্তরালে নগদ টাকার প্রবাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা উদ্বেগ। বিশেষ করে গত দুই মাসে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন।
নির্বাচনি ব্যয়ের নির্ধারিত সীমা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রার্থী ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা অথবা এককালীন ২৫ লাখ টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি হবে, তা ব্যয় করতে পারবেন। সেই হিসেবে গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩০ টাকা এবং ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা; প্রচারণার ধরণ দেখে অনেক ক্ষেত্রেই এই সীমার তোয়াক্কা না করার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যাংক থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন নির্বাচনি খরচ মেটাতে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন যে, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাসেই ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। নভেম্বরে যেখানে ব্যাংকের বাইরে ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘ কয়েক মাস মানুষের হাতে নগদ টাকা কমার ধারাবাহিকতা থাকলেও নির্বাচনের প্রাক্কালে এই নাটকীয় উল্লম্ফন সরাসরি নির্বাচনি ব্যয়ের সাথে সম্পৃক্ত বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কালো টাকা রোধে বিএফআইইউ ও ইসির কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচনে অর্থের অপব্যবহার রুখতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বেশ কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে
কোনো হিসাবে দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউ-কে জানাতে হবে। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি প্রতিটি একক লেনদেন ১ হাজার টাকার বেশি করা যাবে না।
নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যক্তিগত এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে (P2P) ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ থাকবে।
রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন ও বিশেষজ্ঞ অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদল সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি রাজনীতিকে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করায় কালো টাকার এই আধিপত্য বাড়ছে। এরা জনসেবার চেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লুটপাটের মাধ্যমে খরচের টাকা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলতে চায়। এই দুষ্টচক্র ভাঙতে না পারলে গণতন্ত্রের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল প্রযুক্তিগত কড়াকড়ি নয়, বরং ভোটারদের সচেতনতা এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর প্রয়োগই পারে নির্বাচনের এই ‘টাকার খেলা’ বন্ধ করতে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির নতুন ধাক্কা: আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হচ্ছে বাড়তি দাম
ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও এক দফা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা থেকেই সারা দেশে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।
বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন এই দাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকো ঘোষিত ‘সৌদি সিপি’ (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা করা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে তা আরও ৫০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর রান্নার খরচ আরও বেড়ে গেল।
এলপিজির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও। ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এতে মুসকসহ অটোগ্যাসের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা, যা গত মাসে ছিল ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা। চলতি বছরের শুরু থেকেই টানা দুবার গ্যাসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।
বাড়ছে না কমছে? সিলিন্ডার গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা আজ
ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৩টায় ঘোষণা করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিইআরসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বিইআরসি’র বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকো ঘোষিত ফেব্রুয়ারি মাসের ‘সৌদি সিপি’ (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির দাম সমন্বয় করা হবে। নতুন এই মূল্যের ওপর ভিত্তি করে আজ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার এবং যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে।
সবশেষ গত ৪ জানুয়ারি এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়। শীতের এই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং ডলারের বর্তমান বিনিময় হার বিবেচনায় আজ দাম বাড়া বা কমার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের আগ্রহ এখন প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। তিনি প্রত্যাশা করেছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘নির্বাচন কূটনীতি’ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের পরিবেশ, আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন। প্রতিবেদনের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো
নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের আগ্রহ বা কথাবার্তা বলা এখন একটি গতানুগতিক ধারায় পরিণত হয়েছে এবং এ দেশের সাধারণ মানুষও চায় একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। তিনি জানান, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা ইতোমধ্যে বিদেশি কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
ভোটের হার নিয়ে প্রত্যাশা অতীতের উদাহরণ টেনে উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মতো এবারও ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই তিনি ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মানুষ নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসবে।
উপদেষ্টাদের পাসপোর্ট ও প্রধান উপদেষ্টার সফর সরকারি কার্যক্রম ও বিদেশ ভ্রমণের সুবিধার্থে উপদেষ্টাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, কোনো কোনো উপদেষ্টা দ্রুত ভিসা পাওয়ার সুবিধার্থে সাধারণ পাসপোর্ট সংগ্রহের লক্ষ্যে এরই মধ্যে তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এখনো তাঁর পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি বলে জানান।
এছাড়া, নির্বাচনের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্ভাব্য জাপান সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা থাকলেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, এই সফর সম্পর্কে এখনো মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
পাঠকের মতামত:
- বাংলাদেশে নতুন জালেমের আবির্ভাব ঘটেছে: বরিশালে তারেক রহমান
- ব্যবহৃত ফোন হস্তান্তরের আগে জানুন ডি-রেজিস্ট্রেশন নিয়ম
- এক বছরে ১ কোটি চাকরি, ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড চালু করবে বিএনপি
- নবজাতকের চুল কবে কাটবেন? জেনে নিন ইসলামি বিধান ও হাদিসের নির্দেশনা
- আজকের টাকার রেট: জেনে নিন বিদেশি মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
- শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যু: স্থগিত হলো সংসদ নির্বাচন
- চাঁদ জয় কি তবে স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে? নাসার ঐতিহাসিক মিশনে আবারও বড় বাধা
- মাত্র ৯ কোটির মোস্তাফিজের কারণে ৬ হাজার কোটির ক্ষতি!
- নির্বাচনের আগে উত্তরের পথে শফিকুর রহমান: উত্তরের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ
- নবম পে-স্কেল ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক: সুযোগ না কি নতুন বৈষম্যের শঙ্কা?
- ৯ দিন পর প্রধানমন্ত্রী হবেন ডা. শফিকুর রহমান: আমির হামজা
- দিল্লি-কলকাতায় গোপন বৈঠক: ভারত থেকেই দল গোছাচ্ছেন শেখ হাসিনা
- আজ কেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া? জেনে নিন সকালের পূর্বাভাস
- বাজুসের নতুন রেকর্ড: ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম
- দুই দশক পর বরিশালে বিএনপির রাজকীয় শোডাউন: জনসমুদ্রে রূপ নিচ্ছে বেলস পার্ক
- আজ ঢাকায় যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকান বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত
- ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?
- আজ টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র ও নগদ অর্থ প্রদান
- ঢাকাসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
- অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
- অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
- বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট
- অপরাধীরা বাধা দিলেও ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেই: সেনাপ্রধান
- প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক চুক্তি
- ক্রিকেট বিশ্ব যখন টালমাটাল, তখন ভারতকে নতুন আঘাত দিল পাকিস্তান
- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল জামায়াত
- গায়ক নোবেল ও তাঁর মাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
- আমিও আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম: নুর
- বিটিআরসির নতুন বার্তা: পুরোনো মোবাইল ফোন বিক্রির আগে সাবধান!
- শেষ চমক দেখাতে কাল দক্ষিণে তারেক রহমান
- মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভাড়া’ করে সাইনবোর্ড দেখাচ্ছে জামায়াত: সালাহউদ্দিন আহমদ
- পাচারকারীদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির
- অচল চট্টগ্রাম বন্দর: আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন কাণ্ড! ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বাড়ল দাম
- আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- আজকের শীর্ষ দরপতনকারী ১০ শেয়ার
- আজকের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
- হঠ্যাৎ কী কারণে বদলে যাচ্ছে র্যাবের নাম
- ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি? যা জানা গেল
- কোন সবজিতে কী পুষ্টি, জানুন বিস্তারিত
- শিক্ষাবৃত্তির আবেদন নিয়ে নতুন ঘোষণা, জানাল বোর্ড
- শবে বরাতের মহিমান্বিত রাতে ক্ষমা ও রহমত কামনায় তারেক রহমানের বার্তা
- আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা: জামায়াত আমির
- ফ্রিজে সবজি পচে যাওয়ার বড় কারণগুলো, জানুন সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি
- প্রথম শিকারকে যেভাবে ফাঁদে ফেলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও তার প্রেমিকা
- মাদকসম্রাট ও হাসনাত আব্দুল্লাহ একসাথে থাকতে পারে না: দেবিদ্বারে হুঙ্কার
- চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী পালে নতুন হাওয়া: ভোটের মাঠে ফিরলেন দুই হেভিওয়েট
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ট্রাম্পের ঘোষণায় স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা
- তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন: ‘Bangladesh’s Prodigal Son’
- বিশ্ববাজারে রেকর্ড দরপতন; দেশেও কমল স্বর্ণের দাম
- স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- বাজুসের নতুন রেকর্ড: ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম
- তিন দিনে ভরিতে বাড়ল ২৮ হাজার, স্বর্ণে রেকর্ড
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে একাধিক এলাকা
- রুপার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ, ভরি ছাড়াল যত
- কালিগঞ্জে জমি বিরোধে সংঘবদ্ধ হামলা, চারজন গুরুতর আহত
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- আজ প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র: জেনে নিন প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সহজ নিয়ম
- রেকর্ড ভেঙে ছুটছে স্বর্ণ ও রুপা: নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা
- রিয়েল এস্টেটে বড় স্বস্তি, ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে বিরাট সুখবর
- কুখ্যাত জেফ্রি অ্যাপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতার নাম








